খুঁজুন
                               
, ,
           

রেমিট্যান্সে গতি, রিজার্ভে শক্তি

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
রেমিট্যান্সে গতি, রিজার্ভে শক্তি

দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ। রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের জোগান বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের রিজার্ভ শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর ফলে আমদানি ব্যয় পরিশোধ, আন্তর্জাতিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং বৈদেশিক দায় মেটানোর সক্ষমতা বাড়ছে। একই সঙ্গে বাজারে ডলারের সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য আনতে নীতিগতভাবে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট শেষে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের পরিমাণ ৩২ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে আগস্টে দেশে প্রবাস-আয় এসেছে প্রায় ২৯৭ কোটি ডলার। জুলাইয়েও রেমিট্যান্সের প্রবাহ ছিল প্রায় ২৮৬ কোটি ডলার। এই প্রবাহের ইতিবাচক প্রভাব শুধু রিজার্ভের পরিসংখ্যানেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বৈদেশিক মুদ্রার জোগান বাড়াচ্ছে, আমদানি দায় পরিশোধে সহায়তা করছে এবং বাজারে ডলারের অতিরিক্ত সংকট তৈরির ঝুঁকি কমাচ্ছে।

  • প্রবাস-আয়ের ধারাবাহিক প্রবাহে বাড়ছে ডলারের জোগান
  • রেমিট্যান্স প্রায় ৩০০ কোটি ডলার, রিজার্ভ ৩৭.৩৫ বিলিয়ন
  • বাজারের উদ্বৃত্ত বৈদেশিক মুদ্রা কিনে সঞ্চিতি শক্ত করছে বাংলাদেশ ব্যাংক

রেমিট্যান্সের ডলার যেভাবে শক্তি জোগায় অর্থনীতিকে
প্রবাসীরা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠালে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে প্রাপকের হিসাবে টাকা জমা দেয়। একই সময়ে ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার সম্পদে ডলার যুক্ত হয়। এই ডলার পরে আমদানি বিল পরিশোধ, বিদেশি সরবরাহকারীর পাওনা মেটানো কিংবা অন্য ব্যাংকের কাছে বিক্রির কাজে ব্যবহার করা হয়।

কোনো ব্যাংকের কাছে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ডলার থাকলে তা আন্তঃব্যাংক বাজারে বিক্রি করা সম্ভব। আবার বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে গেলে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার কিনে রিজার্ভ বাড়াতে পারে। বিপরীতে আমদানি ও অন্যান্য বৈদেশিক দায় পরিশোধের জন্য ডলারের চাহিদা বেড়ে গেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে ডলার সরবরাহ করে। এই ব্যবস্থার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ অর্থনীতির বিভিন্ন প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি রিজার্ভ ব্যবস্থাপনাকেও সহায়তা করে। অর্থাৎ, রেমিট্যান্সের প্রতিটি ডলার সরাসরি রিজার্ভে জমা না হলেও সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনের সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

৩৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি রিজার্ভে নতুন আস্থা
রিজার্ভের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থানে উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে মোট রিজার্ভ ছিল ৩৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালের জুন শেষে তা বেড়ে ৩৭ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। জুলাই শেষে কিছুটা কমে ৩৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলারে নামলেও আগস্ট শেষে আবার বেড়ে ৩৭ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়।

রেমিট্যান্সের প্রবাহ, রপ্তানি আয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনার সম্মিলিত প্রভাব রিজার্ভের এই অবস্থান তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। শক্তিশালী রিজার্ভ দেশের প্রয়োজনীয় আমদানি অব্যাহত রাখা, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনে সময়মতো অর্থ পরিশোধের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। তবে রিজার্ভের উন্নতি ধরে রাখতে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎসগুলোকে শক্তিশালী রাখা এবং ব্যয়ের চাপ কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনা করা জরুরি।

আমদানি ব্যয় মিটিয়েও ডলারের জোগান বাড়ছে
দেশে ডলারের চাহিদার বড় অংশ আসে আমদানি ব্যয় থেকে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে আমদানি বিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৪৪ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ১৩৭ কোটি ডলার, যা এক বছরের ব্যবধানে ৮৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে, জুলাইয়ে রপ্তানি আয় ছিল ৪৩৫ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ কম। এই পরিস্থিতিতে রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার জোগান ধরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। আমদানি ব্যয় বাড়লেও রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রাবাজারকে সহায়তা দিচ্ছে। ফলে দেশের বৈদেশিক লেনদেনের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি বাজারে ডলারের সরবরাহ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

উদ্বৃত্ত ডলার কিনে রিজার্ভ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক
বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়লে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে বৈদেশিক মুদ্রা কিনে নেয়। সম্প্রতি প্রায় তিন মাসের বিরতি শেষে ১ সেপ্টেম্বর চারটি ব্যাংক থেকে ৫ কোটি ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতি ডলারের ক্রয়মূল্য ছিল ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা উদ্বৃত্ত ডলারের একটি অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভে যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে ডলারের অতিরিক্ত সরবরাহের সময় বিনিময় হার ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বেড়ে গেলে বাজারে ডলার বিক্রি করার সক্ষমতাও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রয়েছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে ছয়টি ব্যাংকের কাছে ১ কোটি ১৫ লাখ ডলার বিক্রি করা হয়। প্রতি ডলারের দাম ছিল ১২২ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ১২৩ টাকা ৩৫ পয়সা।

ডলার কেনা ও বিক্রির এই পদক্ষেপ দেখায়, বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার জোগান নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারছে। এতে বিনিময় হারের ওপর অস্বাভাবিক চাপ সামলানো এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখার সুযোগ বাড়ে।

প্রবাস-আয় এবার উৎপাদনশীল বিনিয়োগে কাজে লাগানোর সুযোগ
অর্থনীতি-বিশ্লেষক মাজেদুল হকের মতে, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সম্পদ বাড়ায় এবং রিজার্ভকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। রিজার্ভের উন্নতি আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ ও প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের অর্থায়নে দেশের সক্ষমতা বাড়াতে পারে। আন্তর্জাতিক লেনদেনে আর্থিক সক্ষমতা দৃঢ় হলে বিদেশি অংশীদারদের কাছেও দেশের অবস্থান ইতিবাচক হয়।

তাঁর মতে, প্রবাস-আয়ের অর্থ উৎপাদনশীল খাতে প্রবাহিত করা গেলে কর্মসংস্থান, আয় ও সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে আরও বড় অবদান রাখা সম্ভব। ক্ষুদ্র উদ্যোগ, শিল্প, কৃষি ও অন্যান্য আয় সৃষ্টিকারী খাতে বিনিয়োগ বাড়লে রেমিট্যান্সের সুফল সরাসরি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ছড়িয়ে পড়বে। এ ক্ষেত্রে বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন, আর্থিক খাতের আস্থা বৃদ্ধি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/জেএন/এমকে

ভুলে যাওয়া ক্যান-ক্যামেরায় ৮ বছরের সূর্যের বিরল দৃশ্য

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
ভুলে যাওয়া ক্যান-ক্যামেরায় ৮ বছরের সূর্যের বিরল দৃশ্য
একটি সাধারণ পানীয়ের ক্যান, সামান্য ফটোগ্রাফিক কাগজ আর সূর্যের আলো—এই তিনের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে বিজ্ঞানের জগতে বিস্ময় জাগানো এক ছবি। কোনো আধুনিক ক্যামেরা কিংবা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নয়, বরং ভুলে পড়ে থাকা একটি ক্যান-ক্যামেরা টানা আট বছরেরও বেশি সময় ধরে ধারণ করেছে আকাশে সূর্যের চলার পথ। ছবিটিতে সূর্যের ২ হাজার ৯৫৩টি আলাদা আলোর রেখা দেখা গেছে, যা পৃথিবীর ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সূর্যের অবস্থানের পরিবর্তনকে তুলে ধরে।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ারের বেফোর্ডবেরি অবজারভেটরিতে ঘটে এই ব্যতিক্রমী ঘটনা। আলোকচিত্রী রেজিনা ভালকেনবর্গ ২০১২ সালে সেখানে একটি সাধারণ পানীয়ের ক্যান দিয়ে তৈরি পিনহোল ক্যামেরা স্থাপন করেছিলেন। কিন্তু ক্যামেরাটি যে এত দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যের গতিপথের ছবি ধারণ করবে, তা তাঁর পরিকল্পনায় ছিল না।

কীভাবে তৈরি হলো আট বছরের ছবি?

২০১২ সালে অবজারভেটরিতে ক্যান দিয়ে তৈরি ক্যামেরাটি স্থাপন করেন রেজিনা ভালকেনবর্গ। ক্যামেরাটির ভেতরে রাখা হয়েছিল আলোকসংবেদনশীল ফটোগ্রাফিক কাগজ। ছোট একটি ছিদ্র দিয়ে আলো প্রবেশ করে সেই কাগজে ছবি তৈরি করার কথা ছিল। এই পদ্ধতিকে বলা হয় পিনহোল ফটোগ্রাফি।

তবে ক্যামেরাটি স্থাপনের পর সেটি দীর্ঘদিন সেখানেই পড়ে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটির কথা ভুলে যান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এদিকে ক্যামেরার ভেতরে থাকা ফটোগ্রাফিক কাগজে সূর্যের আলো ধীরে ধীরে জমা হতে থাকে। এভাবেই একটি সাধারণ ক্যান হয়ে ওঠে দীর্ঘমেয়াদি আলোকচিত্র ধারণের মাধ্যম।

সূর্যের গতিপথে ধরা পড়ল ঋতু পরিবর্তনের ছাপ

পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে পরিভ্রমণ করে এবং পৃথিবীর অক্ষের হেলানো অবস্থানের কারণে বছরের বিভিন্ন সময়ে আকাশে সূর্যের আপাত অবস্থান ও দৈনিক পথ বদলে যায়। গ্রীষ্মে সূর্য সাধারণত আকাশে তুলনামূলক উঁচু পথে চলে, আর শীতকালে তার পথ থাকে নিচু।

ক্যান-ক্যামেরায় ধারণ করা ছবিতে এই পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যের আলো ফটোগ্রাফিক কাগজে পড়ায় তৈরি হয় একের পর এক উজ্জ্বল রেখা। রেখাগুলোর অবস্থান ও দৈর্ঘ্যের পার্থক্য থেকে বছরের বিভিন্ন সময়ে সূর্যের আকাশপথের পরিবর্তন বোঝা যায়।

ছবিটিতে মোট ২ হাজার ৯৫৩টি আলোর রেখা শনাক্ত করা হয়েছিল বলে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু রেখার মধ্যে ফাঁকও দেখা যায়। মেঘ সূর্যের আলো আটকে দেওয়ায় এমন ফাঁক তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

২০২০ সালে খুঁজে পাওয়া গেল ভুলে যাওয়া ক্যামেরা

২০১২ সালে স্থাপন করা ক্যামেরাটি ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে আবার খুঁজে পাওয়া যায়। তখন সেটির ভেতরে তৈরি হওয়া ছবিটি পরীক্ষা করে দেখা যায়, দীর্ঘ সময়ের সূর্যপথ একটিমাত্র আলোকচিত্রে ধরা পড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যামেরাটির এক্সপোজারের সময় ছিল প্রায় আট বছর ৩০ দিন। এত দীর্ঘ সময় ধরে আলো ধারণ করার কারণে ছবিটি বিশেষ গুরুত্ব পায়। এটি শুধু একটি সুন্দর দৃশ্য নয়; দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আকাশের পরিবর্তন নথিবদ্ধ করারও এক অনন্য উদাহরণ।

ছবিটির নাম সোলারগ্রাফ

দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যের আপাত গতিপথ ধারণ করার এই বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি ছবিকে বলা হয় ‘সোলারগ্রাফ’। এতে সাধারণত একটি ছোট ছিদ্রযুক্ত ক্যামেরা ও আলোকসংবেদনশীল কাগজ ব্যবহার করা হয়। সূর্যের আলো প্রতিদিন কাগজে রেখা তৈরি করে, আর দীর্ঘ সময় ধরে সেই রেখাগুলো একত্র হয়ে একটি ছবিতে পরিণত হয়।

এই পদ্ধতির বিশেষত্ব হলো, এতে ব্যয়বহুল ক্যামেরা বা জটিল যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয় না। তবে দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যের আলো পড়তে থাকায় আলোকসংবেদনশীল কাগজের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য ও আবহাওয়ার প্রভাব ছবির ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে।

সাধারণ ক্যান থেকে অসাধারণ বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই ছবির এক্সপোজারের সময় ছিল প্রায় আট বছর ৩০ দিন। দীর্ঘতম ফটোগ্রাফিক এক্সপোজারের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে ছবিটি আলোচনায় আসে।

ঘটনাটি দেখিয়ে দেয়, বিজ্ঞান ও আলোকচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণের জন্য সব সময় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োজন হয় না। কখনো সাধারণ উপকরণ, দীর্ঘ সময় এবং প্রকৃতির নিজস্ব নিয়ম মিলেই তৈরি করতে পারে ব্যতিক্রমী ফলাফল।

যে ক্যান-ক্যামেরাটি একসময় ভুলে পড়ে ছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত আট বছরেরও বেশি সময়ের সূর্যপথকে এক ফ্রেমে ধরে রাখে। ছবিটি যেন একটি মুহূর্তের দৃশ্য নয়, বরং সময়ের সঙ্গে আকাশের পরিবর্তনের দীর্ঘ ইতিহাস—যেখানে প্রতিটি আলোর রেখা সূর্যের আরেকটি দিনের সাক্ষ্য বহন করে।

কালের আলো/এএন/এসএ

৪০০ পরিবারের এক বছরের খাবারের দায়িত্ব নিলেন রাশমিকা মান্দানা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১২ অপরাহ্ণ
৪০০ পরিবারের এক বছরের খাবারের দায়িত্ব নিলেন রাশমিকা মান্দানা
দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা এবার আলোচনায় এসেছেন ব্যতিক্রমী এক মানবিক উদ্যোগের কারণে। ৪০০টি পরিবারের এক বছরের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর খরচ বহনের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী এক বছর প্রতি তিন মাস পরপর এসব পরিবারের বাজারের খরচ জোগাবেন এই অভিনেত্রী। তাঁর আশা, এই উদ্যোগ অন্যদেরও অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের এই উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন রাশমিকা। এত দিন ব্যক্তিগত উদ্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ালেও সেসব কাজ প্রকাশ্যে আনতেন না তিনি। তবে এবার মনে হয়েছে, তাঁর কাজের কথা জানলে অন্যরাও মানবিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসতে পারেন। সেই ভাবনা থেকেই সহায়তা কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী।

‘জয়াম্মার সঙ্গে আমার মিল রয়েছে’

ইনস্টাগ্রামে নিজের উদ্যোগের কথা জানাতে গিয়ে রাশমিকা তাঁর আসন্ন সিনেমা ‘রণবালি’র চরিত্রের প্রসঙ্গ টেনেছেন। ছবিটিতে জয়াম্মা চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। এই চরিত্রের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিত্বের মিল রয়েছে বলেও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

রাশমিকা লেখেন, ‘আপনারা অনেকেই জানতে চান, জয়াম্মার সঙ্গে আমার কোনো মিল আছে কি না। আমার উত্তর—হ্যাঁ। আর এটি তার মধ্যে অন্যতম। আমি সব সময়ই এমন ছিলাম, জয়াম্মাও এমন।’

অন্যের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাকে নিজের ব্যক্তিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, মানুষের জন্য কিছু করার এই আগ্রহ নতুন নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরেই এমন কাজে যুক্ত রয়েছেন তিনি।

এক বছর সহায়তা পাবে ৪০০ পরিবার

রাশমিকার ঘোষিত কর্মসূচির আওতায় প্রথম পর্যায়ে ৪০০টি পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আগামী এক বছর প্রতি তিন মাস পরপর এসব পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারের খরচ বহন করবেন তিনি। অর্থাৎ একবার সহায়তা দিয়েই দায়িত্ব শেষ না করে নির্দিষ্ট বিরতিতে পরিবারগুলোর পাশে থাকার পরিকল্পনা করেছেন অভিনেত্রী।

নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কেনার ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়ায়। এই খাতে সহায়তা পেলে পরিবারগুলো অন্য প্রয়োজন মেটাতে কিংবা ভবিষ্যতের জন্য কিছু অর্থ সঞ্চয় করতে পারবে বলে আশা করছেন রাশমিকা।

কর্মসূচির আওতায় কী কী খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে, তার একটি তালিকাও প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে প্রতিটি পরিবারের জন্য কত টাকা ব্যয় করা হবে কিংবা পুরো কর্মসূচিতে মোট কত অর্থ খরচ হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

‘ছোট্ট একটি ভালো কাজও বদলে দিতে পারে জীবন’

নিজের উদ্যোগের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাশমিকা জানান, আগে এ ধরনের কাজের কথা সাধারণত প্রকাশ্যে আনতেন না। বিষয়গুলো তাঁর নিজের এবং দলের কয়েকজন সদস্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত। কিন্তু এবার মনে হয়েছে, উদ্যোগটি প্রকাশ্যে এলে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হতে পারেন।

অভিনেত্রীর মতে, মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সব সময় বড় কোনো উদ্যোগের প্রয়োজন নেই। সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট একটি ভালো কাজও কারও জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই যাঁদের পক্ষে সম্ভব, তাঁদের সংকটে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ভক্তদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবেও এমন উদ্যোগকে দেখছেন রাশমিকা। তাঁর আশা, নিজের কাজের কথা জানার পর অনুসারীদের কেউ কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসচ্ছল পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত হবেন।

পরিবারগুলোর মুখের হাসিই বড় প্রাপ্তি

পেশাগত জীবনে নানা চ্যালেঞ্জ, কঠোর পরিশ্রম, শারীরিক আঘাত ও মানসিক কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে রাশমিকাকে। তবে সহায়তা পাওয়া পরিবারগুলোর মুখে হাসি দেখতে পারাকে নিজের জন্য বিশেষ আনন্দের বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

রাশমিকার ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষের উপকার করতে পারার তৃপ্তি অন্য অনেক প্রাপ্তির চেয়ে আলাদা। সহায়তা পাওয়া পরিবারগুলোর আনন্দ তাঁর নিজের কষ্টকেও সার্থক করে তোলে। এই অনুভূতিই তাঁকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কাজে আরও উৎসাহিত করে।

অভিনেত্রীর এই উদ্যোগ বিনোদনজগতের তারকাদের সামাজিক দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত মানবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে কর্মসূচির বাস্তবায়ন, সহায়তার পরিমাণ এবং উপকারভোগী পরিবারগুলোর পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

মুক্তির অপেক্ষায় ‘রণবালি’

এদিকে পেশাগত জীবনেও ব্যস্ত সময় পার করছেন রাশমিকা মান্দানা। তাঁর নতুন সিনেমা ‘রণবালি’ মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। ছবিটিতে জয়াম্মা চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। চরিত্রটির সঙ্গে নিজের ব্যক্তিত্বের বিশেষ মিল রয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

সিনেমাটিতে রাশমিকার সহশিল্পী তাঁর স্বামী বিজয় দেবেরাকোন্ডা। ‘গীতা গোবিন্দম’ ও ‘ডিয়ার কমরেড’-এর পর এটি তাঁদের তৃতীয় যৌথ সিনেমা। ছবিটি পরিচালনা করেছেন রাহুল সাংকৃত্যায়ন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত ‘রণবালি’র গল্পে ১৮৭৬ থেকে ১৮৭৮ সালের ‘গ্রেট মাদ্রাজ দুর্ভিক্ষ’-এর পটভূমি তুলে ধরা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সিনেমাটি ১৬ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, রজনীকান্ত অভিনীত ‘জেলার ২’ সিনেমাটি ১৫ অক্টোবর মুক্তির কথা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

একদিকে নতুন সিনেমা নিয়ে দর্শকের আগ্রহ, অন্যদিকে ৪০০ পরিবারের খাদ্যসামগ্রীর ব্যয় বহনের উদ্যোগ—দুই কারণেই এখন আলোচনায় রাশমিকা। অভিনয়ের বাইরে মানুষের জন্য কাজ করার যে আগ্রহের কথা তিনি জানিয়েছেন, তাঁর সাম্প্রতিক উদ্যোগে সেই মানসিকতারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

কালের আলো/জেএন/এসএ

৫ দিনে বাতিল ১০৩ ফ্লাইট, ঢাকায় আটকা ১৫ হাজার ৭৭৯ যাত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৯ অপরাহ্ণ
৫ দিনে বাতিল ১০৩ ফ্লাইট, ঢাকায় আটকা ১৫ হাজার ৭৭৯ যাত্রী

নিরাপত্তাজনিত কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত পাঁচ দিনে ১০৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭৭৯ জন যাত্রী আটকা পড়েছেন। ফ্লাইট বাতিলের কারণে আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীদের যাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থা চলতে পারে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে বেবিচকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক কাওছার মাহমুদ এ তথ্য জানান।

সরাসরি ফ্লাইট বাতিল ৪২টি

বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ দিনে বাতিল হওয়া ১০৩টি ফ্লাইটের মধ্যে ৪২টি ছিল সরাসরি ফ্লাইট। এসব ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারের আটটি এবং রিয়াদ এয়ারের সাতটি ফ্লাইট রয়েছে।

সরাসরি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট রুটের যাত্রীদের যাত্রাসূচিতে বিঘ্ন ঘটেছে। বিশেষ করে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীদের জন্য পরিস্থিতি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল ৬১টি

সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি বাতিল হয়েছে ৬১টি ট্রানজিট ফ্লাইট। এর মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, সালাম এয়ারের সাতটি, ইজিপ্ট এয়ারের একটি, এমিরেটস এয়ারের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের আটটি, ফ্লাই দুবাইয়ের ছয়টি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার তিনটি ফ্লাইট রয়েছে।

ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় শুধু ঢাকা থেকে যাত্রা করা যাত্রীরাই নন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে সংযোগকারী ফ্লাইটে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীরাও সমস্যায় পড়তে পারেন। ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন হলে পরবর্তী সংযোগকারী ফ্লাইট, হোটেল বুকিং ও অন্যান্য ভ্রমণ পরিকল্পনাতেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তা

বেবিচক জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচলে এ ধরনের বিঘ্ন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।

এ অবস্থায় যাত্রীদের বিমান সংস্থা থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ সময়সূচি ও বাতিলের তথ্য জেনে বিমানবন্দরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যাঁদের ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে, তাঁদেরও সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী যাত্রার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি