খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রতীকবিহীন ইউপি ভোট, পুরোনো সহিংসতার ভয়

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৯ অপরাহ্ণ
প্রতীকবিহীন ইউপি ভোট, পুরোনো সহিংসতার ভয়

দীর্ঘ এক দশক পর দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন। রাজনৈতিক দলের প্রতীক না থাকায় ভোটের মাঠে প্রার্থী বাছাই ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধরনে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই দলের একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় ভোটের লড়াই শুধু দল বনাম দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; অনেক ক্ষেত্রে তা রূপ নিতে পারে একই দলের প্রার্থীদের মধ্যকার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। এতে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়লেও সহিংসতার ঝুঁকি কতটা কমবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি শুরু হয়ে পাঁচ ধাপে ২৭ মে পর্যন্ত চলবে ইউপি নির্বাচন। প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের প্রধান প্রত্যাশা—নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া, পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়া এবং ভোটের ফলাফলে সেই মতামতের প্রতিফলন দেখা। কিন্তু অতীতের নির্বাচনে প্রাণহানি, কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই ও প্রার্থী-সমর্থকদের সংঘর্ষের অভিজ্ঞতা সেই প্রত্যাশার পাশাপাশি উদ্বেগও তৈরি করেছে।

  • বিদ্রোহী প্রার্থী ও স্থানীয় ক্ষমতার দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা নির্বাচনী মাঠ
  • নিরপেক্ষ ভোট আয়োজনে বড় পরীক্ষা নির্বাচন কমিশনের
  • তবু পেশিশক্তি ও সংঘাতের আশঙ্কা; সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা চান ভোটাররা

বিশেষজ্ঞদের মতে, দলীয় প্রতীক বাদ দেওয়া নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে পারে, কিন্তু সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য এটুকু যথেষ্ট নয়। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ এবং নির্বাচন কমিশনের দৃঢ় অবস্থানের ওপরই নির্ভর করবে ভোটের পরিবেশ।

প্রতীকহীন ভোটে নতুন সমীকরণ
২০১৫ সালে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের বিধান চালুর পর থেকে ইউপি নির্বাচন ক্রমেই জাতীয় রাজনীতির প্রতিদ্বন্দ্বিতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়ে পড়ে। দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীকের গুরুত্ব বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক মেরুকরণও নির্বাচনী প্রতিযোগিতাকে প্রভাবিত করে। ২০২৫ সালে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থেকে দলীয় প্রতীক বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী আইন সংশোধনের ফলে এবার প্রার্থীদের সামনে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।

দলীয় প্রতীক না থাকায় প্রার্থীরা ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, স্থানীয় যোগাযোগ, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তির ওপর বেশি নির্ভর করতে পারেন। তবে একই দলের একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে দলীয় সমর্থন নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধ দেখা দেওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। দল আনুষ্ঠানিকভাবে একজনকে সমর্থন দিলেও অন্য প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠ ছাড়বেন কি না, কিংবা সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীর সঙ্গে ভোটারের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পারিবারিক পরিচয়, সামাজিক অবস্থান ও দীর্ঘদিনের বিরোধ অনেক সময় বড় ভূমিকা রাখে। ফলে জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছোট পরিসরে হলেও তার প্রভাব সরাসরি স্থানীয় সমাজে পড়ে। একই এলাকার আত্মীয়, প্রতিবেশী কিংবা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মীরা প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠলে নির্বাচনী বিরোধ সামাজিক বিরোধেও রূপ নিতে পারে। এ কারণে দলীয় প্রতীক প্রত্যাহারকে সহিংসতা বন্ধের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন ধরন বুঝে নির্বাচনী নিরাপত্তা ও বিরোধ নিষ্পত্তির কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।

অতীতের সহিংসতা কেন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতার ইতিহাস নতুন নয়। ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রাণহানি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নির্বাচন কমিশন ও সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) তথ্য অনুযায়ী, ওই নির্বাচনে ২৩৬ জন নিহত এবং আট হাজারের বেশি মানুষ আহত হন।

২০২১ সালের ইউপি নির্বাচনেও সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র দেখা যায়। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বছর ইউপি নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতায় ১১৩ জন নিহত হন। পরবর্তী ধাপের সংঘাতসহ প্রাণহানির সংখ্যা ১১৬ ছাড়িয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব ঘটনার পেছনে দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে বিরোধ, বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে মূল প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘাত, আধিপত্য বিস্তার এবং ভোটকেন্দ্র নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। কোথাও ব্যালট ছিনতাই, কোথাও কেন্দ্র দখল, আবার কোথাও প্রতিপক্ষের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

অতীতের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, নির্বাচনে সহিংসতার ঝুঁকি শুধু রাজনৈতিক দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে তৈরি হয় না। স্থানীয় ক্ষমতা, প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার আকাঙ্ক্ষাও সংঘাতের বড় কারণ হয়ে উঠতে পারে। দলীয় প্রতীক না থাকলেও এসব স্বার্থ অক্ষুণ্ন থাকলে সহিংসতার আশঙ্কা পুরোপুরি দূর হবে না।

তবে এবারের রাজনৈতিক বাস্তবতা আগের নির্বাচনগুলোর মতো নয়। তাই অতীতের ঘটনার হুবহু পুনরাবৃত্তি হবে—এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যায় না। বরং নতুন পরিস্থিতিতে সহিংসতার ধরন ও ঝুঁকি চিহ্নিত করে আগাম ব্যবস্থা নেওয়াই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

নিরপেক্ষতার পরীক্ষায় নির্বাচন কমিশন
ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা ও কঠোর আইন প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ভালো ফল অর্জনের চেষ্টা করা হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনে নিরপেক্ষতার ঘাটতি রাখা হবে না এবং সহিংসতার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনী মোতায়েন, প্রতিটি উপজেলায় ম্যাজিস্ট্রেট রাখা এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কমিশন।

তবে এসব ঘোষণা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, সেটিই বড় প্রশ্ন। নির্বাচনের আগে নিরপেক্ষতার আশ্বাস দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হলেও ভোটের দিন তার বাস্তব প্রয়োগ আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। প্রভাবশালী প্রার্থী ও সাধারণ প্রার্থীর ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রয়োগ, অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভোটকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিরপেক্ষভাবে বজায় রাখা—এসবের ওপর কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করবে।

এ ক্ষেত্রে শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নির্দেশনা যথেষ্ট নয়। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচনী কর্মকর্তা এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী অন্যান্য সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ উঠলে দ্রুত তদন্ত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে না পারলে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

সরকারের গ্রহণযোগ্যতার সঙ্গেও জড়িয়ে আছে ভোট
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ফজলে করিমের মতে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়া জরুরি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনের মান যত উন্নত হবে, সরকারের ভাবমূর্তিও তত উজ্জ্বল হবে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুল আলীম মনে করেন, একটি ভালো নির্বাচন দিয়ে পুরো নির্বাচনব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া সম্ভব নয়। ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোতেও ধারাবাহিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক এড়ানো এবং নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কের বাইরে রাখার বিষয়ে ঐকমত্য প্রয়োজন।

তাঁর মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের দাবি নিয়েও আগে আলোচনা ছিল। বর্তমান ব্যবস্থায় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করা গেলে ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনেও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব—এমন ধারণা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। এতে সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তবে নির্বাচন বিতর্কমুক্ত রাখার দায়িত্ব শুধু নির্বাচন কমিশন বা সরকারের নয়। রাজনৈতিক দলগুলোকেও ফলাফল মেনে নেওয়া, কর্মীদের সংযত রাখা এবং অনিয়মের অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনসম্মত পথ অনুসরণ করার মানসিকতা দেখাতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ নিষ্পত্তির বিশ্বাসযোগ্য ব্যবস্থা না থাকলে রাজনৈতিক বিরোধ আরও তীব্র হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

সহিংসতা ঠেকাতে আগাম প্রস্তুতিই বড় চ্যালেঞ্জ
নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতা এবং প্রার্থীদের ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে সংঘাতের ঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ ছাড়া কোনো গোষ্ঠী রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির উদ্দেশ্যে সহিংসতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন ড. আব্দুল আলীম। তাঁর মতে, সহিংসতা মোকাবিলায় নির্বাচন কমিশনের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন।

এই পরিস্থিতিতে শুধু ভোটের দিন নিরাপত্তা জোরদার করলেই চলবে না। নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য সংঘাতপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করা, প্রার্থীদের মধ্যে বিরোধের ধরন বিশ্লেষণ, অবৈধ অস্ত্র ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে দেখা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখা জরুরি।

একই সঙ্গে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো প্রার্থী বা গোষ্ঠীর চাপের মুখে তাঁরা ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বিরত না থাকেন। ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ও কার্যকর সুযোগও থাকতে হবে।

নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে ভোট গণনা ও ফলাফল প্রকাশের প্রক্রিয়াও স্বচ্ছ হওয়া জরুরি। কারণ ভোটের আগে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকলেও ফলাফল নিয়ে অবিশ্বাস তৈরি হলে নির্বাচন-পরবর্তী সংঘাতের আশঙ্কা থেকেই যায়।

পাঁচ ধাপে ভোট, সামনে সময়ের পরীক্ষা
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপে ইউপি নির্বাচন শুরু হবে। দ্বিতীয় ধাপের ভোট ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপের ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপের ১৩ মে এবং পঞ্চম ধাপের ভোট ২৭ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কমিশনের হিসাবে, প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

সাধারণত ভোটগ্রহণের ৪২ থেকে ৪৫ দিন আগে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা তফসিল ঘোষণা করবেন। ফলে নির্বাচন সামনে রেখে প্রশাসনিক প্রস্তুতি, প্রার্থীদের আচরণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা পর্যবেক্ষণের সুযোগ রয়েছে।

এবারের ইউপি নির্বাচন তাই কেবল জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের আয়োজন নয়; এটি দলীয় প্রতীকবিহীন স্থানীয় নির্বাচনের কার্যকারিতা, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের সক্ষমতা যাচাইয়েরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

দলীয় প্রতীক বাদ দেওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধরন বদলাতে পারে, কিন্তু সহিংসতার মূল কারণগুলো দূর করতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, নিরপেক্ষ প্রশাসন ও কার্যকর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। ভোটাররা যদি নিরাপদ পরিবেশে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন এবং ফলাফল নিয়ে আস্থা রাখতে পারেন, তাহলেই এই নির্বাচন ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করবে। অন্যথায় প্রতীক পরিবর্তন হলেও স্থানীয় নির্বাচনের পুরোনো সংকট থেকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

ভুলে যাওয়া ক্যান-ক্যামেরায় ৮ বছরের সূর্যের বিরল দৃশ্য

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
ভুলে যাওয়া ক্যান-ক্যামেরায় ৮ বছরের সূর্যের বিরল দৃশ্য
একটি সাধারণ পানীয়ের ক্যান, সামান্য ফটোগ্রাফিক কাগজ আর সূর্যের আলো—এই তিনের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে বিজ্ঞানের জগতে বিস্ময় জাগানো এক ছবি। কোনো আধুনিক ক্যামেরা কিংবা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নয়, বরং ভুলে পড়ে থাকা একটি ক্যান-ক্যামেরা টানা আট বছরেরও বেশি সময় ধরে ধারণ করেছে আকাশে সূর্যের চলার পথ। ছবিটিতে সূর্যের ২ হাজার ৯৫৩টি আলাদা আলোর রেখা দেখা গেছে, যা পৃথিবীর ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সূর্যের অবস্থানের পরিবর্তনকে তুলে ধরে।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ারের বেফোর্ডবেরি অবজারভেটরিতে ঘটে এই ব্যতিক্রমী ঘটনা। আলোকচিত্রী রেজিনা ভালকেনবর্গ ২০১২ সালে সেখানে একটি সাধারণ পানীয়ের ক্যান দিয়ে তৈরি পিনহোল ক্যামেরা স্থাপন করেছিলেন। কিন্তু ক্যামেরাটি যে এত দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যের গতিপথের ছবি ধারণ করবে, তা তাঁর পরিকল্পনায় ছিল না।

কীভাবে তৈরি হলো আট বছরের ছবি?

২০১২ সালে অবজারভেটরিতে ক্যান দিয়ে তৈরি ক্যামেরাটি স্থাপন করেন রেজিনা ভালকেনবর্গ। ক্যামেরাটির ভেতরে রাখা হয়েছিল আলোকসংবেদনশীল ফটোগ্রাফিক কাগজ। ছোট একটি ছিদ্র দিয়ে আলো প্রবেশ করে সেই কাগজে ছবি তৈরি করার কথা ছিল। এই পদ্ধতিকে বলা হয় পিনহোল ফটোগ্রাফি।

তবে ক্যামেরাটি স্থাপনের পর সেটি দীর্ঘদিন সেখানেই পড়ে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটির কথা ভুলে যান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এদিকে ক্যামেরার ভেতরে থাকা ফটোগ্রাফিক কাগজে সূর্যের আলো ধীরে ধীরে জমা হতে থাকে। এভাবেই একটি সাধারণ ক্যান হয়ে ওঠে দীর্ঘমেয়াদি আলোকচিত্র ধারণের মাধ্যম।

সূর্যের গতিপথে ধরা পড়ল ঋতু পরিবর্তনের ছাপ

পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে পরিভ্রমণ করে এবং পৃথিবীর অক্ষের হেলানো অবস্থানের কারণে বছরের বিভিন্ন সময়ে আকাশে সূর্যের আপাত অবস্থান ও দৈনিক পথ বদলে যায়। গ্রীষ্মে সূর্য সাধারণত আকাশে তুলনামূলক উঁচু পথে চলে, আর শীতকালে তার পথ থাকে নিচু।

ক্যান-ক্যামেরায় ধারণ করা ছবিতে এই পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যের আলো ফটোগ্রাফিক কাগজে পড়ায় তৈরি হয় একের পর এক উজ্জ্বল রেখা। রেখাগুলোর অবস্থান ও দৈর্ঘ্যের পার্থক্য থেকে বছরের বিভিন্ন সময়ে সূর্যের আকাশপথের পরিবর্তন বোঝা যায়।

ছবিটিতে মোট ২ হাজার ৯৫৩টি আলোর রেখা শনাক্ত করা হয়েছিল বলে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু রেখার মধ্যে ফাঁকও দেখা যায়। মেঘ সূর্যের আলো আটকে দেওয়ায় এমন ফাঁক তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

২০২০ সালে খুঁজে পাওয়া গেল ভুলে যাওয়া ক্যামেরা

২০১২ সালে স্থাপন করা ক্যামেরাটি ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে আবার খুঁজে পাওয়া যায়। তখন সেটির ভেতরে তৈরি হওয়া ছবিটি পরীক্ষা করে দেখা যায়, দীর্ঘ সময়ের সূর্যপথ একটিমাত্র আলোকচিত্রে ধরা পড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যামেরাটির এক্সপোজারের সময় ছিল প্রায় আট বছর ৩০ দিন। এত দীর্ঘ সময় ধরে আলো ধারণ করার কারণে ছবিটি বিশেষ গুরুত্ব পায়। এটি শুধু একটি সুন্দর দৃশ্য নয়; দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আকাশের পরিবর্তন নথিবদ্ধ করারও এক অনন্য উদাহরণ।

ছবিটির নাম সোলারগ্রাফ

দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যের আপাত গতিপথ ধারণ করার এই বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি ছবিকে বলা হয় ‘সোলারগ্রাফ’। এতে সাধারণত একটি ছোট ছিদ্রযুক্ত ক্যামেরা ও আলোকসংবেদনশীল কাগজ ব্যবহার করা হয়। সূর্যের আলো প্রতিদিন কাগজে রেখা তৈরি করে, আর দীর্ঘ সময় ধরে সেই রেখাগুলো একত্র হয়ে একটি ছবিতে পরিণত হয়।

এই পদ্ধতির বিশেষত্ব হলো, এতে ব্যয়বহুল ক্যামেরা বা জটিল যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয় না। তবে দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যের আলো পড়তে থাকায় আলোকসংবেদনশীল কাগজের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য ও আবহাওয়ার প্রভাব ছবির ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে।

সাধারণ ক্যান থেকে অসাধারণ বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই ছবির এক্সপোজারের সময় ছিল প্রায় আট বছর ৩০ দিন। দীর্ঘতম ফটোগ্রাফিক এক্সপোজারের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে ছবিটি আলোচনায় আসে।

ঘটনাটি দেখিয়ে দেয়, বিজ্ঞান ও আলোকচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণের জন্য সব সময় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োজন হয় না। কখনো সাধারণ উপকরণ, দীর্ঘ সময় এবং প্রকৃতির নিজস্ব নিয়ম মিলেই তৈরি করতে পারে ব্যতিক্রমী ফলাফল।

যে ক্যান-ক্যামেরাটি একসময় ভুলে পড়ে ছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত আট বছরেরও বেশি সময়ের সূর্যপথকে এক ফ্রেমে ধরে রাখে। ছবিটি যেন একটি মুহূর্তের দৃশ্য নয়, বরং সময়ের সঙ্গে আকাশের পরিবর্তনের দীর্ঘ ইতিহাস—যেখানে প্রতিটি আলোর রেখা সূর্যের আরেকটি দিনের সাক্ষ্য বহন করে।

কালের আলো/এএন/এসএ

৪০০ পরিবারের এক বছরের খাবারের দায়িত্ব নিলেন রাশমিকা মান্দানা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১২ অপরাহ্ণ
৪০০ পরিবারের এক বছরের খাবারের দায়িত্ব নিলেন রাশমিকা মান্দানা
দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা এবার আলোচনায় এসেছেন ব্যতিক্রমী এক মানবিক উদ্যোগের কারণে। ৪০০টি পরিবারের এক বছরের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর খরচ বহনের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী এক বছর প্রতি তিন মাস পরপর এসব পরিবারের বাজারের খরচ জোগাবেন এই অভিনেত্রী। তাঁর আশা, এই উদ্যোগ অন্যদেরও অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের এই উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন রাশমিকা। এত দিন ব্যক্তিগত উদ্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ালেও সেসব কাজ প্রকাশ্যে আনতেন না তিনি। তবে এবার মনে হয়েছে, তাঁর কাজের কথা জানলে অন্যরাও মানবিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসতে পারেন। সেই ভাবনা থেকেই সহায়তা কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী।

‘জয়াম্মার সঙ্গে আমার মিল রয়েছে’

ইনস্টাগ্রামে নিজের উদ্যোগের কথা জানাতে গিয়ে রাশমিকা তাঁর আসন্ন সিনেমা ‘রণবালি’র চরিত্রের প্রসঙ্গ টেনেছেন। ছবিটিতে জয়াম্মা চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। এই চরিত্রের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিত্বের মিল রয়েছে বলেও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

রাশমিকা লেখেন, ‘আপনারা অনেকেই জানতে চান, জয়াম্মার সঙ্গে আমার কোনো মিল আছে কি না। আমার উত্তর—হ্যাঁ। আর এটি তার মধ্যে অন্যতম। আমি সব সময়ই এমন ছিলাম, জয়াম্মাও এমন।’

অন্যের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাকে নিজের ব্যক্তিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, মানুষের জন্য কিছু করার এই আগ্রহ নতুন নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরেই এমন কাজে যুক্ত রয়েছেন তিনি।

এক বছর সহায়তা পাবে ৪০০ পরিবার

রাশমিকার ঘোষিত কর্মসূচির আওতায় প্রথম পর্যায়ে ৪০০টি পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আগামী এক বছর প্রতি তিন মাস পরপর এসব পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারের খরচ বহন করবেন তিনি। অর্থাৎ একবার সহায়তা দিয়েই দায়িত্ব শেষ না করে নির্দিষ্ট বিরতিতে পরিবারগুলোর পাশে থাকার পরিকল্পনা করেছেন অভিনেত্রী।

নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কেনার ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়ায়। এই খাতে সহায়তা পেলে পরিবারগুলো অন্য প্রয়োজন মেটাতে কিংবা ভবিষ্যতের জন্য কিছু অর্থ সঞ্চয় করতে পারবে বলে আশা করছেন রাশমিকা।

কর্মসূচির আওতায় কী কী খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে, তার একটি তালিকাও প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে প্রতিটি পরিবারের জন্য কত টাকা ব্যয় করা হবে কিংবা পুরো কর্মসূচিতে মোট কত অর্থ খরচ হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

‘ছোট্ট একটি ভালো কাজও বদলে দিতে পারে জীবন’

নিজের উদ্যোগের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাশমিকা জানান, আগে এ ধরনের কাজের কথা সাধারণত প্রকাশ্যে আনতেন না। বিষয়গুলো তাঁর নিজের এবং দলের কয়েকজন সদস্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত। কিন্তু এবার মনে হয়েছে, উদ্যোগটি প্রকাশ্যে এলে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হতে পারেন।

অভিনেত্রীর মতে, মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সব সময় বড় কোনো উদ্যোগের প্রয়োজন নেই। সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট একটি ভালো কাজও কারও জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই যাঁদের পক্ষে সম্ভব, তাঁদের সংকটে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ভক্তদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবেও এমন উদ্যোগকে দেখছেন রাশমিকা। তাঁর আশা, নিজের কাজের কথা জানার পর অনুসারীদের কেউ কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসচ্ছল পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত হবেন।

পরিবারগুলোর মুখের হাসিই বড় প্রাপ্তি

পেশাগত জীবনে নানা চ্যালেঞ্জ, কঠোর পরিশ্রম, শারীরিক আঘাত ও মানসিক কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে রাশমিকাকে। তবে সহায়তা পাওয়া পরিবারগুলোর মুখে হাসি দেখতে পারাকে নিজের জন্য বিশেষ আনন্দের বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

রাশমিকার ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষের উপকার করতে পারার তৃপ্তি অন্য অনেক প্রাপ্তির চেয়ে আলাদা। সহায়তা পাওয়া পরিবারগুলোর আনন্দ তাঁর নিজের কষ্টকেও সার্থক করে তোলে। এই অনুভূতিই তাঁকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কাজে আরও উৎসাহিত করে।

অভিনেত্রীর এই উদ্যোগ বিনোদনজগতের তারকাদের সামাজিক দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত মানবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে কর্মসূচির বাস্তবায়ন, সহায়তার পরিমাণ এবং উপকারভোগী পরিবারগুলোর পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

মুক্তির অপেক্ষায় ‘রণবালি’

এদিকে পেশাগত জীবনেও ব্যস্ত সময় পার করছেন রাশমিকা মান্দানা। তাঁর নতুন সিনেমা ‘রণবালি’ মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। ছবিটিতে জয়াম্মা চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। চরিত্রটির সঙ্গে নিজের ব্যক্তিত্বের বিশেষ মিল রয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

সিনেমাটিতে রাশমিকার সহশিল্পী তাঁর স্বামী বিজয় দেবেরাকোন্ডা। ‘গীতা গোবিন্দম’ ও ‘ডিয়ার কমরেড’-এর পর এটি তাঁদের তৃতীয় যৌথ সিনেমা। ছবিটি পরিচালনা করেছেন রাহুল সাংকৃত্যায়ন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত ‘রণবালি’র গল্পে ১৮৭৬ থেকে ১৮৭৮ সালের ‘গ্রেট মাদ্রাজ দুর্ভিক্ষ’-এর পটভূমি তুলে ধরা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সিনেমাটি ১৬ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, রজনীকান্ত অভিনীত ‘জেলার ২’ সিনেমাটি ১৫ অক্টোবর মুক্তির কথা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

একদিকে নতুন সিনেমা নিয়ে দর্শকের আগ্রহ, অন্যদিকে ৪০০ পরিবারের খাদ্যসামগ্রীর ব্যয় বহনের উদ্যোগ—দুই কারণেই এখন আলোচনায় রাশমিকা। অভিনয়ের বাইরে মানুষের জন্য কাজ করার যে আগ্রহের কথা তিনি জানিয়েছেন, তাঁর সাম্প্রতিক উদ্যোগে সেই মানসিকতারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

কালের আলো/জেএন/এসএ

৫ দিনে বাতিল ১০৩ ফ্লাইট, ঢাকায় আটকা ১৫ হাজার ৭৭৯ যাত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৯ অপরাহ্ণ
৫ দিনে বাতিল ১০৩ ফ্লাইট, ঢাকায় আটকা ১৫ হাজার ৭৭৯ যাত্রী

নিরাপত্তাজনিত কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত পাঁচ দিনে ১০৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭৭৯ জন যাত্রী আটকা পড়েছেন। ফ্লাইট বাতিলের কারণে আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীদের যাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থা চলতে পারে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে বেবিচকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক কাওছার মাহমুদ এ তথ্য জানান।

সরাসরি ফ্লাইট বাতিল ৪২টি

বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ দিনে বাতিল হওয়া ১০৩টি ফ্লাইটের মধ্যে ৪২টি ছিল সরাসরি ফ্লাইট। এসব ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারের আটটি এবং রিয়াদ এয়ারের সাতটি ফ্লাইট রয়েছে।

সরাসরি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট রুটের যাত্রীদের যাত্রাসূচিতে বিঘ্ন ঘটেছে। বিশেষ করে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীদের জন্য পরিস্থিতি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল ৬১টি

সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি বাতিল হয়েছে ৬১টি ট্রানজিট ফ্লাইট। এর মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, সালাম এয়ারের সাতটি, ইজিপ্ট এয়ারের একটি, এমিরেটস এয়ারের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের আটটি, ফ্লাই দুবাইয়ের ছয়টি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার তিনটি ফ্লাইট রয়েছে।

ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় শুধু ঢাকা থেকে যাত্রা করা যাত্রীরাই নন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে সংযোগকারী ফ্লাইটে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীরাও সমস্যায় পড়তে পারেন। ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন হলে পরবর্তী সংযোগকারী ফ্লাইট, হোটেল বুকিং ও অন্যান্য ভ্রমণ পরিকল্পনাতেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তা

বেবিচক জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচলে এ ধরনের বিঘ্ন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।

এ অবস্থায় যাত্রীদের বিমান সংস্থা থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ সময়সূচি ও বাতিলের তথ্য জেনে বিমানবন্দরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যাঁদের ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে, তাঁদেরও সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী যাত্রার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি