প্রতীকবিহীন ইউপি ভোট, পুরোনো সহিংসতার ভয়
দীর্ঘ এক দশক পর দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন। রাজনৈতিক দলের প্রতীক না থাকায় ভোটের মাঠে প্রার্থী বাছাই ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধরনে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই দলের একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় ভোটের লড়াই শুধু দল বনাম দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; অনেক ক্ষেত্রে তা রূপ নিতে পারে একই দলের প্রার্থীদের মধ্যকার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। এতে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়লেও সহিংসতার ঝুঁকি কতটা কমবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি শুরু হয়ে পাঁচ ধাপে ২৭ মে পর্যন্ত চলবে ইউপি নির্বাচন। প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের প্রধান প্রত্যাশা—নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া, পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়া এবং ভোটের ফলাফলে সেই মতামতের প্রতিফলন দেখা। কিন্তু অতীতের নির্বাচনে প্রাণহানি, কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই ও প্রার্থী-সমর্থকদের সংঘর্ষের অভিজ্ঞতা সেই প্রত্যাশার পাশাপাশি উদ্বেগও তৈরি করেছে।
- বিদ্রোহী প্রার্থী ও স্থানীয় ক্ষমতার দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা নির্বাচনী মাঠ
- নিরপেক্ষ ভোট আয়োজনে বড় পরীক্ষা নির্বাচন কমিশনের
- তবু পেশিশক্তি ও সংঘাতের আশঙ্কা; সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা চান ভোটাররা
বিশেষজ্ঞদের মতে, দলীয় প্রতীক বাদ দেওয়া নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে পারে, কিন্তু সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য এটুকু যথেষ্ট নয়। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ এবং নির্বাচন কমিশনের দৃঢ় অবস্থানের ওপরই নির্ভর করবে ভোটের পরিবেশ।
প্রতীকহীন ভোটে নতুন সমীকরণ
২০১৫ সালে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের বিধান চালুর পর থেকে ইউপি নির্বাচন ক্রমেই জাতীয় রাজনীতির প্রতিদ্বন্দ্বিতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়ে পড়ে। দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীকের গুরুত্ব বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক মেরুকরণও নির্বাচনী প্রতিযোগিতাকে প্রভাবিত করে। ২০২৫ সালে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থেকে দলীয় প্রতীক বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী আইন সংশোধনের ফলে এবার প্রার্থীদের সামনে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।
দলীয় প্রতীক না থাকায় প্রার্থীরা ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, স্থানীয় যোগাযোগ, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তির ওপর বেশি নির্ভর করতে পারেন। তবে একই দলের একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে দলীয় সমর্থন নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধ দেখা দেওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। দল আনুষ্ঠানিকভাবে একজনকে সমর্থন দিলেও অন্য প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠ ছাড়বেন কি না, কিংবা সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীর সঙ্গে ভোটারের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পারিবারিক পরিচয়, সামাজিক অবস্থান ও দীর্ঘদিনের বিরোধ অনেক সময় বড় ভূমিকা রাখে। ফলে জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছোট পরিসরে হলেও তার প্রভাব সরাসরি স্থানীয় সমাজে পড়ে। একই এলাকার আত্মীয়, প্রতিবেশী কিংবা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মীরা প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠলে নির্বাচনী বিরোধ সামাজিক বিরোধেও রূপ নিতে পারে। এ কারণে দলীয় প্রতীক প্রত্যাহারকে সহিংসতা বন্ধের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন ধরন বুঝে নির্বাচনী নিরাপত্তা ও বিরোধ নিষ্পত্তির কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।
অতীতের সহিংসতা কেন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতার ইতিহাস নতুন নয়। ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রাণহানি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নির্বাচন কমিশন ও সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) তথ্য অনুযায়ী, ওই নির্বাচনে ২৩৬ জন নিহত এবং আট হাজারের বেশি মানুষ আহত হন।
২০২১ সালের ইউপি নির্বাচনেও সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র দেখা যায়। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বছর ইউপি নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতায় ১১৩ জন নিহত হন। পরবর্তী ধাপের সংঘাতসহ প্রাণহানির সংখ্যা ১১৬ ছাড়িয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব ঘটনার পেছনে দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে বিরোধ, বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে মূল প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘাত, আধিপত্য বিস্তার এবং ভোটকেন্দ্র নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। কোথাও ব্যালট ছিনতাই, কোথাও কেন্দ্র দখল, আবার কোথাও প্রতিপক্ষের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
অতীতের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, নির্বাচনে সহিংসতার ঝুঁকি শুধু রাজনৈতিক দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে তৈরি হয় না। স্থানীয় ক্ষমতা, প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার আকাঙ্ক্ষাও সংঘাতের বড় কারণ হয়ে উঠতে পারে। দলীয় প্রতীক না থাকলেও এসব স্বার্থ অক্ষুণ্ন থাকলে সহিংসতার আশঙ্কা পুরোপুরি দূর হবে না।
তবে এবারের রাজনৈতিক বাস্তবতা আগের নির্বাচনগুলোর মতো নয়। তাই অতীতের ঘটনার হুবহু পুনরাবৃত্তি হবে—এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যায় না। বরং নতুন পরিস্থিতিতে সহিংসতার ধরন ও ঝুঁকি চিহ্নিত করে আগাম ব্যবস্থা নেওয়াই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
নিরপেক্ষতার পরীক্ষায় নির্বাচন কমিশন
ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা ও কঠোর আইন প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ভালো ফল অর্জনের চেষ্টা করা হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনে নিরপেক্ষতার ঘাটতি রাখা হবে না এবং সহিংসতার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনী মোতায়েন, প্রতিটি উপজেলায় ম্যাজিস্ট্রেট রাখা এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কমিশন।
তবে এসব ঘোষণা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, সেটিই বড় প্রশ্ন। নির্বাচনের আগে নিরপেক্ষতার আশ্বাস দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হলেও ভোটের দিন তার বাস্তব প্রয়োগ আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। প্রভাবশালী প্রার্থী ও সাধারণ প্রার্থীর ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রয়োগ, অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভোটকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিরপেক্ষভাবে বজায় রাখা—এসবের ওপর কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করবে।
এ ক্ষেত্রে শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নির্দেশনা যথেষ্ট নয়। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচনী কর্মকর্তা এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী অন্যান্য সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ উঠলে দ্রুত তদন্ত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে না পারলে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
সরকারের গ্রহণযোগ্যতার সঙ্গেও জড়িয়ে আছে ভোট
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ফজলে করিমের মতে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়া জরুরি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনের মান যত উন্নত হবে, সরকারের ভাবমূর্তিও তত উজ্জ্বল হবে।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুল আলীম মনে করেন, একটি ভালো নির্বাচন দিয়ে পুরো নির্বাচনব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া সম্ভব নয়। ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোতেও ধারাবাহিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক এড়ানো এবং নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কের বাইরে রাখার বিষয়ে ঐকমত্য প্রয়োজন।
তাঁর মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের দাবি নিয়েও আগে আলোচনা ছিল। বর্তমান ব্যবস্থায় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করা গেলে ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনেও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব—এমন ধারণা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। এতে সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে নির্বাচন বিতর্কমুক্ত রাখার দায়িত্ব শুধু নির্বাচন কমিশন বা সরকারের নয়। রাজনৈতিক দলগুলোকেও ফলাফল মেনে নেওয়া, কর্মীদের সংযত রাখা এবং অনিয়মের অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনসম্মত পথ অনুসরণ করার মানসিকতা দেখাতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ নিষ্পত্তির বিশ্বাসযোগ্য ব্যবস্থা না থাকলে রাজনৈতিক বিরোধ আরও তীব্র হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
সহিংসতা ঠেকাতে আগাম প্রস্তুতিই বড় চ্যালেঞ্জ
নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতা এবং প্রার্থীদের ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে সংঘাতের ঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ ছাড়া কোনো গোষ্ঠী রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির উদ্দেশ্যে সহিংসতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন ড. আব্দুল আলীম। তাঁর মতে, সহিংসতা মোকাবিলায় নির্বাচন কমিশনের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন।
এই পরিস্থিতিতে শুধু ভোটের দিন নিরাপত্তা জোরদার করলেই চলবে না। নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য সংঘাতপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করা, প্রার্থীদের মধ্যে বিরোধের ধরন বিশ্লেষণ, অবৈধ অস্ত্র ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে দেখা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখা জরুরি।
একই সঙ্গে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো প্রার্থী বা গোষ্ঠীর চাপের মুখে তাঁরা ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বিরত না থাকেন। ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ও কার্যকর সুযোগও থাকতে হবে।
নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে ভোট গণনা ও ফলাফল প্রকাশের প্রক্রিয়াও স্বচ্ছ হওয়া জরুরি। কারণ ভোটের আগে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকলেও ফলাফল নিয়ে অবিশ্বাস তৈরি হলে নির্বাচন-পরবর্তী সংঘাতের আশঙ্কা থেকেই যায়।
পাঁচ ধাপে ভোট, সামনে সময়ের পরীক্ষা
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপে ইউপি নির্বাচন শুরু হবে। দ্বিতীয় ধাপের ভোট ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপের ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপের ১৩ মে এবং পঞ্চম ধাপের ভোট ২৭ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কমিশনের হিসাবে, প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
সাধারণত ভোটগ্রহণের ৪২ থেকে ৪৫ দিন আগে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা তফসিল ঘোষণা করবেন। ফলে নির্বাচন সামনে রেখে প্রশাসনিক প্রস্তুতি, প্রার্থীদের আচরণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা পর্যবেক্ষণের সুযোগ রয়েছে।
এবারের ইউপি নির্বাচন তাই কেবল জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের আয়োজন নয়; এটি দলীয় প্রতীকবিহীন স্থানীয় নির্বাচনের কার্যকারিতা, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের সক্ষমতা যাচাইয়েরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
দলীয় প্রতীক বাদ দেওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধরন বদলাতে পারে, কিন্তু সহিংসতার মূল কারণগুলো দূর করতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, নিরপেক্ষ প্রশাসন ও কার্যকর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। ভোটাররা যদি নিরাপদ পরিবেশে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন এবং ফলাফল নিয়ে আস্থা রাখতে পারেন, তাহলেই এই নির্বাচন ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করবে। অন্যথায় প্রতীক পরিবর্তন হলেও স্থানীয় নির্বাচনের পুরোনো সংকট থেকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে।
কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

আপনার মতামত লিখুন
Array