খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রথম চালানে ১৮ কোচ পাঠাল ভারত, নতুন দুই আন্তনগর ট্রেন চালুর উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
প্রথম চালানে ১৮ কোচ পাঠাল ভারত, নতুন দুই আন্তনগর ট্রেন চালুর উদ্যোগ

বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে ভারত থেকে ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। এরই মধ্যে প্রথম চালানে ১৮টি কোচ বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠিয়েছে ভারতীয় রেলওয়ে। নতুন কোচগুলো দেশে আসার পর ঢাকা-পাবনা ও ঢাকা-খুলনা ব্রডগেজ রুটে দুটি নতুন আন্তনগর ট্রেন চালুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এসব ট্রেন চালু হলে দেশের পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর রেল যোগাযোগ আরও সম্প্রসারিত হতে পারে এবং যাত্রীদের যাতায়াত সহজ হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

গত ১২ অক্টোবর ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ ফ্যাক্টরি থেকে কোচগুলো বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়। বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রেল ইন্ডিয়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক সার্ভিসেস লিমিটেডের (রাইটস) করা চুক্তির আওতায় এসব কোচ সরবরাহ করা হচ্ছে।

প্রথম চালানে ১৮ কোচ, রয়েছে এসি-নন-এসি সুবিধা

প্রথম চালানে পাঠানো ১৮টি কোচের মধ্যে ১১টি নন-এসি শোভন চেয়ার কার, তিনটি এসি চেয়ার কার, দুটি এসি স্লিপার কার এবং দুটি এসি পাওয়ার কার রয়েছে। পাওয়ার কার দুটিতে গার্ডের কক্ষ ও মালপত্র রাখার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কোচগুলো ভারত-বাংলাদেশের গেদে-দর্শনা আন্তদেশীয় রেল সংযোগ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। পরে বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে কোচগুলোর প্রস্তুতি ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানো হতে পারে।

এ জন্য ভারতীয় রেলওয়ের একটি কারিগরি দল সৈয়দপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপে কাজ করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে কোচগুলোর চূড়ান্ত পরীক্ষণ, পরিচালন উপযোগিতা নিশ্চিত করা এবং যাত্রী পরিবহনে যুক্ত করার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরই এগুলো ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

২০২৭ সালের অক্টোবরের মধ্যে সরবরাহ শেষ করার লক্ষ্য

বাংলাদেশ রেলওয়েকে ২০০টি লিংকে-হফম্যান-বুশ (এলএইচবি) ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহের জন্য ২০২৪ সালের ২০ মে রাইটসের সঙ্গে চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৯ অক্টোবরের মধ্যে কোচগুলোর সরবরাহ, পরীক্ষণ ও চালুর কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

ভারতের কাপুরথালার রেল কোচ ফ্যাক্টরিতে তৈরি এসব কোচ বাংলাদেশের রেলওয়ের পরিচালনব্যবস্থা এবং যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে একাধিক অবস্থানে হেলানো যায় এমন বিশেষ আসন, স্টেইনলেস স্টিলের হাতল এবং পায়ের বিশ্রামের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে।

কোচগুলোর কাঠামোতে স্টেইনলেস স্টিল ব্যবহার করা হয়েছে। নকশা অনুযায়ী, এগুলো ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬০ কিলোমিটার গতিতে চলার উপযোগী। তবে এই সক্ষমতা থাকলেই বাংলাদেশের বিদ্যমান রেলপথে একই গতিতে চলবে—এমন নয়; বাস্তবে গতি নির্ভর করবে রেলপথের অবস্থা, অবকাঠামো, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও পরিচালনসংক্রান্ত অনুমোদনের ওপর।

নিরাপত্তায় অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ও সিসিটিভি

নতুন কোচগুলোতে যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়াতে বিভিন্ন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার অভিঘাত মোকাবিলায় বিশেষ কাঠামোগত ব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তার সরঞ্জাম এবং সিসিটিভি নজরদারির সুবিধা রয়েছে এসব কোচে।

এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব বায়ো-টয়লেটের পাশাপাশি ইলেকট্রো-নিউম্যাটিক চাপযুক্ত ফ্লাশিং ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। এসব সুবিধা যাত্রীসেবা উন্নত করা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে সহায়ক হতে পারে। আধুনিক কোচগুলো রেলবহরে যুক্ত হলে যাত্রীদের আসন ও সেবার ধরনেও পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে এসি চেয়ার ও স্লিপার কার যুক্ত হওয়ায় বিভিন্ন শ্রেণির যাত্রীদের জন্য ভ্রমণের বিকল্প বাড়বে।

ঢাকা-পাবনা ও ঢাকা-খুলনা রুটে নতুন ট্রেনের উদ্যোগ

নতুন কোচ সরবরাহের ভিত্তিতে ঢাকা-পাবনা ও ঢাকা-খুলনা ব্রডগেজ রুটে দুটি নতুন আন্তনগর ট্রেন চালুর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে বলে রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে। তবে ট্রেন দুটির নাম, নির্দিষ্ট সময়সূচি, স্টপেজ এবং চালুর তারিখ এখনো নিশ্চিত নয়।

সম্প্রতি সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন, সেতু ও রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, একটি প্রকল্পের আওতায় ভারত থেকে ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। কোচগুলো দেশে আসার পর নতুন ট্রেনের রুট নির্ধারণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

রেলওয়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ঢাকা থেকে পাবনা ও খুলনাগামী যাত্রীদের জন্য নতুন আন্তনগর সেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার যাত্রীদের রাজধানীমুখী যাতায়াতের চাপ সামলাতে রেল যোগাযোগের সক্ষমতাও বাড়তে পারে।

কোচ সংকটে নতুন রেলসেবা সম্প্রসারণে বাধা

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে যমুনা সেতু-পাবনা, ঢাকা-পদ্মা সেতু এবং খুলনা-মোংলা রেলপথসহ বেশ কয়েকটি রেলপথ চালু হয়েছে। তবে ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচের সীমাবদ্ধতার কারণে এসব পথে প্রত্যাশা অনুযায়ী ট্রেন চালু করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

রেলপথ তৈরি বা চালু হলেই সেখানে পর্যাপ্ত যাত্রীবাহী ট্রেন পরিচালনা করা যায় না। এর জন্য প্রয়োজনীয় কোচ, লোকোমোটিভ, জনবল, রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা এবং কার্যকর সময়সূচিও নিশ্চিত করতে হয়। ফলে নতুন রেলপথের সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পর্যাপ্ত কোচের জোগান গুরুত্বপূর্ণ।

ভারত থেকে চুক্তির আওতায় ২০০টি কোচ সরবরাহ সম্পন্ন হলে বিদ্যমান ব্রডগেজ কোচের সংকট কিছুটা কমতে পারে। একই সঙ্গে নতুন ট্রেন চালু এবং যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে কোন রুটে কতটি কোচ বরাদ্দ করা হবে এবং নতুন ট্রেনগুলো কবে থেকে চলবে, তা নির্ভর করবে সরবরাহ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রেলওয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।

রাইটসের সঙ্গে বাংলাদেশের আগের চুক্তিও রয়েছে

বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে রাইটসের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে ৩০টি এবং ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর আরও ১০টি ব্রডগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সরবরাহ করে। পরে ২০১৮ সালের ১ জুন সরবরাহ করা হয় ১২০টি এলএইচবি ব্রডগেজ কোচ। এসব লোকোমোটিভ ও কোচ ভারত সরকারের ঋণসহায়তার আওতায় বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছিল। নতুন ২০০ কোচ সরবরাহের প্রকল্পও দুই দেশের রেল খাতের সহযোগিতার ধারাবাহিক অংশ।

সূত্র: কালের কণ্ঠ

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

ভুলে যাওয়া ক্যান-ক্যামেরায় ৮ বছরের সূর্যের বিরল দৃশ্য

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
ভুলে যাওয়া ক্যান-ক্যামেরায় ৮ বছরের সূর্যের বিরল দৃশ্য
একটি সাধারণ পানীয়ের ক্যান, সামান্য ফটোগ্রাফিক কাগজ আর সূর্যের আলো—এই তিনের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে বিজ্ঞানের জগতে বিস্ময় জাগানো এক ছবি। কোনো আধুনিক ক্যামেরা কিংবা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নয়, বরং ভুলে পড়ে থাকা একটি ক্যান-ক্যামেরা টানা আট বছরেরও বেশি সময় ধরে ধারণ করেছে আকাশে সূর্যের চলার পথ। ছবিটিতে সূর্যের ২ হাজার ৯৫৩টি আলাদা আলোর রেখা দেখা গেছে, যা পৃথিবীর ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সূর্যের অবস্থানের পরিবর্তনকে তুলে ধরে।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ারের বেফোর্ডবেরি অবজারভেটরিতে ঘটে এই ব্যতিক্রমী ঘটনা। আলোকচিত্রী রেজিনা ভালকেনবর্গ ২০১২ সালে সেখানে একটি সাধারণ পানীয়ের ক্যান দিয়ে তৈরি পিনহোল ক্যামেরা স্থাপন করেছিলেন। কিন্তু ক্যামেরাটি যে এত দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যের গতিপথের ছবি ধারণ করবে, তা তাঁর পরিকল্পনায় ছিল না।

কীভাবে তৈরি হলো আট বছরের ছবি?

২০১২ সালে অবজারভেটরিতে ক্যান দিয়ে তৈরি ক্যামেরাটি স্থাপন করেন রেজিনা ভালকেনবর্গ। ক্যামেরাটির ভেতরে রাখা হয়েছিল আলোকসংবেদনশীল ফটোগ্রাফিক কাগজ। ছোট একটি ছিদ্র দিয়ে আলো প্রবেশ করে সেই কাগজে ছবি তৈরি করার কথা ছিল। এই পদ্ধতিকে বলা হয় পিনহোল ফটোগ্রাফি।

তবে ক্যামেরাটি স্থাপনের পর সেটি দীর্ঘদিন সেখানেই পড়ে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটির কথা ভুলে যান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এদিকে ক্যামেরার ভেতরে থাকা ফটোগ্রাফিক কাগজে সূর্যের আলো ধীরে ধীরে জমা হতে থাকে। এভাবেই একটি সাধারণ ক্যান হয়ে ওঠে দীর্ঘমেয়াদি আলোকচিত্র ধারণের মাধ্যম।

সূর্যের গতিপথে ধরা পড়ল ঋতু পরিবর্তনের ছাপ

পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে পরিভ্রমণ করে এবং পৃথিবীর অক্ষের হেলানো অবস্থানের কারণে বছরের বিভিন্ন সময়ে আকাশে সূর্যের আপাত অবস্থান ও দৈনিক পথ বদলে যায়। গ্রীষ্মে সূর্য সাধারণত আকাশে তুলনামূলক উঁচু পথে চলে, আর শীতকালে তার পথ থাকে নিচু।

ক্যান-ক্যামেরায় ধারণ করা ছবিতে এই পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যের আলো ফটোগ্রাফিক কাগজে পড়ায় তৈরি হয় একের পর এক উজ্জ্বল রেখা। রেখাগুলোর অবস্থান ও দৈর্ঘ্যের পার্থক্য থেকে বছরের বিভিন্ন সময়ে সূর্যের আকাশপথের পরিবর্তন বোঝা যায়।

ছবিটিতে মোট ২ হাজার ৯৫৩টি আলোর রেখা শনাক্ত করা হয়েছিল বলে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু রেখার মধ্যে ফাঁকও দেখা যায়। মেঘ সূর্যের আলো আটকে দেওয়ায় এমন ফাঁক তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

২০২০ সালে খুঁজে পাওয়া গেল ভুলে যাওয়া ক্যামেরা

২০১২ সালে স্থাপন করা ক্যামেরাটি ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে আবার খুঁজে পাওয়া যায়। তখন সেটির ভেতরে তৈরি হওয়া ছবিটি পরীক্ষা করে দেখা যায়, দীর্ঘ সময়ের সূর্যপথ একটিমাত্র আলোকচিত্রে ধরা পড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যামেরাটির এক্সপোজারের সময় ছিল প্রায় আট বছর ৩০ দিন। এত দীর্ঘ সময় ধরে আলো ধারণ করার কারণে ছবিটি বিশেষ গুরুত্ব পায়। এটি শুধু একটি সুন্দর দৃশ্য নয়; দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আকাশের পরিবর্তন নথিবদ্ধ করারও এক অনন্য উদাহরণ।

ছবিটির নাম সোলারগ্রাফ

দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যের আপাত গতিপথ ধারণ করার এই বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি ছবিকে বলা হয় ‘সোলারগ্রাফ’। এতে সাধারণত একটি ছোট ছিদ্রযুক্ত ক্যামেরা ও আলোকসংবেদনশীল কাগজ ব্যবহার করা হয়। সূর্যের আলো প্রতিদিন কাগজে রেখা তৈরি করে, আর দীর্ঘ সময় ধরে সেই রেখাগুলো একত্র হয়ে একটি ছবিতে পরিণত হয়।

এই পদ্ধতির বিশেষত্ব হলো, এতে ব্যয়বহুল ক্যামেরা বা জটিল যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয় না। তবে দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যের আলো পড়তে থাকায় আলোকসংবেদনশীল কাগজের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য ও আবহাওয়ার প্রভাব ছবির ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে।

সাধারণ ক্যান থেকে অসাধারণ বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই ছবির এক্সপোজারের সময় ছিল প্রায় আট বছর ৩০ দিন। দীর্ঘতম ফটোগ্রাফিক এক্সপোজারের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে ছবিটি আলোচনায় আসে।

ঘটনাটি দেখিয়ে দেয়, বিজ্ঞান ও আলোকচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণের জন্য সব সময় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োজন হয় না। কখনো সাধারণ উপকরণ, দীর্ঘ সময় এবং প্রকৃতির নিজস্ব নিয়ম মিলেই তৈরি করতে পারে ব্যতিক্রমী ফলাফল।

যে ক্যান-ক্যামেরাটি একসময় ভুলে পড়ে ছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত আট বছরেরও বেশি সময়ের সূর্যপথকে এক ফ্রেমে ধরে রাখে। ছবিটি যেন একটি মুহূর্তের দৃশ্য নয়, বরং সময়ের সঙ্গে আকাশের পরিবর্তনের দীর্ঘ ইতিহাস—যেখানে প্রতিটি আলোর রেখা সূর্যের আরেকটি দিনের সাক্ষ্য বহন করে।

কালের আলো/এএন/এসএ

৪০০ পরিবারের এক বছরের খাবারের দায়িত্ব নিলেন রাশমিকা মান্দানা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১২ অপরাহ্ণ
৪০০ পরিবারের এক বছরের খাবারের দায়িত্ব নিলেন রাশমিকা মান্দানা
দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা এবার আলোচনায় এসেছেন ব্যতিক্রমী এক মানবিক উদ্যোগের কারণে। ৪০০টি পরিবারের এক বছরের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর খরচ বহনের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী এক বছর প্রতি তিন মাস পরপর এসব পরিবারের বাজারের খরচ জোগাবেন এই অভিনেত্রী। তাঁর আশা, এই উদ্যোগ অন্যদেরও অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের এই উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন রাশমিকা। এত দিন ব্যক্তিগত উদ্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ালেও সেসব কাজ প্রকাশ্যে আনতেন না তিনি। তবে এবার মনে হয়েছে, তাঁর কাজের কথা জানলে অন্যরাও মানবিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসতে পারেন। সেই ভাবনা থেকেই সহায়তা কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী।

‘জয়াম্মার সঙ্গে আমার মিল রয়েছে’

ইনস্টাগ্রামে নিজের উদ্যোগের কথা জানাতে গিয়ে রাশমিকা তাঁর আসন্ন সিনেমা ‘রণবালি’র চরিত্রের প্রসঙ্গ টেনেছেন। ছবিটিতে জয়াম্মা চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। এই চরিত্রের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিত্বের মিল রয়েছে বলেও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

রাশমিকা লেখেন, ‘আপনারা অনেকেই জানতে চান, জয়াম্মার সঙ্গে আমার কোনো মিল আছে কি না। আমার উত্তর—হ্যাঁ। আর এটি তার মধ্যে অন্যতম। আমি সব সময়ই এমন ছিলাম, জয়াম্মাও এমন।’

অন্যের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাকে নিজের ব্যক্তিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, মানুষের জন্য কিছু করার এই আগ্রহ নতুন নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরেই এমন কাজে যুক্ত রয়েছেন তিনি।

এক বছর সহায়তা পাবে ৪০০ পরিবার

রাশমিকার ঘোষিত কর্মসূচির আওতায় প্রথম পর্যায়ে ৪০০টি পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আগামী এক বছর প্রতি তিন মাস পরপর এসব পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারের খরচ বহন করবেন তিনি। অর্থাৎ একবার সহায়তা দিয়েই দায়িত্ব শেষ না করে নির্দিষ্ট বিরতিতে পরিবারগুলোর পাশে থাকার পরিকল্পনা করেছেন অভিনেত্রী।

নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কেনার ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়ায়। এই খাতে সহায়তা পেলে পরিবারগুলো অন্য প্রয়োজন মেটাতে কিংবা ভবিষ্যতের জন্য কিছু অর্থ সঞ্চয় করতে পারবে বলে আশা করছেন রাশমিকা।

কর্মসূচির আওতায় কী কী খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে, তার একটি তালিকাও প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে প্রতিটি পরিবারের জন্য কত টাকা ব্যয় করা হবে কিংবা পুরো কর্মসূচিতে মোট কত অর্থ খরচ হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

‘ছোট্ট একটি ভালো কাজও বদলে দিতে পারে জীবন’

নিজের উদ্যোগের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাশমিকা জানান, আগে এ ধরনের কাজের কথা সাধারণত প্রকাশ্যে আনতেন না। বিষয়গুলো তাঁর নিজের এবং দলের কয়েকজন সদস্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত। কিন্তু এবার মনে হয়েছে, উদ্যোগটি প্রকাশ্যে এলে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হতে পারেন।

অভিনেত্রীর মতে, মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সব সময় বড় কোনো উদ্যোগের প্রয়োজন নেই। সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট একটি ভালো কাজও কারও জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই যাঁদের পক্ষে সম্ভব, তাঁদের সংকটে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ভক্তদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবেও এমন উদ্যোগকে দেখছেন রাশমিকা। তাঁর আশা, নিজের কাজের কথা জানার পর অনুসারীদের কেউ কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসচ্ছল পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত হবেন।

পরিবারগুলোর মুখের হাসিই বড় প্রাপ্তি

পেশাগত জীবনে নানা চ্যালেঞ্জ, কঠোর পরিশ্রম, শারীরিক আঘাত ও মানসিক কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে রাশমিকাকে। তবে সহায়তা পাওয়া পরিবারগুলোর মুখে হাসি দেখতে পারাকে নিজের জন্য বিশেষ আনন্দের বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

রাশমিকার ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষের উপকার করতে পারার তৃপ্তি অন্য অনেক প্রাপ্তির চেয়ে আলাদা। সহায়তা পাওয়া পরিবারগুলোর আনন্দ তাঁর নিজের কষ্টকেও সার্থক করে তোলে। এই অনুভূতিই তাঁকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কাজে আরও উৎসাহিত করে।

অভিনেত্রীর এই উদ্যোগ বিনোদনজগতের তারকাদের সামাজিক দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত মানবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে কর্মসূচির বাস্তবায়ন, সহায়তার পরিমাণ এবং উপকারভোগী পরিবারগুলোর পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

মুক্তির অপেক্ষায় ‘রণবালি’

এদিকে পেশাগত জীবনেও ব্যস্ত সময় পার করছেন রাশমিকা মান্দানা। তাঁর নতুন সিনেমা ‘রণবালি’ মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। ছবিটিতে জয়াম্মা চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। চরিত্রটির সঙ্গে নিজের ব্যক্তিত্বের বিশেষ মিল রয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

সিনেমাটিতে রাশমিকার সহশিল্পী তাঁর স্বামী বিজয় দেবেরাকোন্ডা। ‘গীতা গোবিন্দম’ ও ‘ডিয়ার কমরেড’-এর পর এটি তাঁদের তৃতীয় যৌথ সিনেমা। ছবিটি পরিচালনা করেছেন রাহুল সাংকৃত্যায়ন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত ‘রণবালি’র গল্পে ১৮৭৬ থেকে ১৮৭৮ সালের ‘গ্রেট মাদ্রাজ দুর্ভিক্ষ’-এর পটভূমি তুলে ধরা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সিনেমাটি ১৬ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, রজনীকান্ত অভিনীত ‘জেলার ২’ সিনেমাটি ১৫ অক্টোবর মুক্তির কথা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

একদিকে নতুন সিনেমা নিয়ে দর্শকের আগ্রহ, অন্যদিকে ৪০০ পরিবারের খাদ্যসামগ্রীর ব্যয় বহনের উদ্যোগ—দুই কারণেই এখন আলোচনায় রাশমিকা। অভিনয়ের বাইরে মানুষের জন্য কাজ করার যে আগ্রহের কথা তিনি জানিয়েছেন, তাঁর সাম্প্রতিক উদ্যোগে সেই মানসিকতারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

কালের আলো/জেএন/এসএ

৫ দিনে বাতিল ১০৩ ফ্লাইট, ঢাকায় আটকা ১৫ হাজার ৭৭৯ যাত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৯ অপরাহ্ণ
৫ দিনে বাতিল ১০৩ ফ্লাইট, ঢাকায় আটকা ১৫ হাজার ৭৭৯ যাত্রী

নিরাপত্তাজনিত কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত পাঁচ দিনে ১০৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭৭৯ জন যাত্রী আটকা পড়েছেন। ফ্লাইট বাতিলের কারণে আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীদের যাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থা চলতে পারে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে বেবিচকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক কাওছার মাহমুদ এ তথ্য জানান।

সরাসরি ফ্লাইট বাতিল ৪২টি

বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ দিনে বাতিল হওয়া ১০৩টি ফ্লাইটের মধ্যে ৪২টি ছিল সরাসরি ফ্লাইট। এসব ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারের আটটি এবং রিয়াদ এয়ারের সাতটি ফ্লাইট রয়েছে।

সরাসরি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট রুটের যাত্রীদের যাত্রাসূচিতে বিঘ্ন ঘটেছে। বিশেষ করে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীদের জন্য পরিস্থিতি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল ৬১টি

সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি বাতিল হয়েছে ৬১টি ট্রানজিট ফ্লাইট। এর মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, সালাম এয়ারের সাতটি, ইজিপ্ট এয়ারের একটি, এমিরেটস এয়ারের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের আটটি, ফ্লাই দুবাইয়ের ছয়টি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার তিনটি ফ্লাইট রয়েছে।

ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় শুধু ঢাকা থেকে যাত্রা করা যাত্রীরাই নন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে সংযোগকারী ফ্লাইটে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীরাও সমস্যায় পড়তে পারেন। ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন হলে পরবর্তী সংযোগকারী ফ্লাইট, হোটেল বুকিং ও অন্যান্য ভ্রমণ পরিকল্পনাতেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তা

বেবিচক জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচলে এ ধরনের বিঘ্ন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।

এ অবস্থায় যাত্রীদের বিমান সংস্থা থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ সময়সূচি ও বাতিলের তথ্য জেনে বিমানবন্দরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যাঁদের ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে, তাঁদেরও সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী যাত্রার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি