খুঁজুন
                               
, ,
           

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, বরিশালে যাত্রা শুরু মহিলা পলিটেকনিকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৯ অপরাহ্ণ
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, বরিশালে যাত্রা শুরু মহিলা পলিটেকনিকে

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বরিশালে যাত্রা শুরু করেছে বিভাগের প্রথম সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ প্রতিষ্ঠানে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হয়েছে গত রোববার (১১ অক্টোবর)। শুরুতে আর্কিটেকচার টেকনোলজি এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি—এই দুটি বিভাগে পাঠদান কার্যক্রম চালু হয়েছে। প্রথম ব্যাচে ভর্তি হয়েছেন ৪৭ জন ছাত্রী।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, নারীদের জন্য বিশেষায়িত এই কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দক্ষিণাঞ্চলের মেয়েদের দক্ষতা অর্জন, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি করবে। কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু চাকরির বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতিই নেবেন না, ভবিষ্যতে উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন।

৫৫ কোটি টাকার প্রকল্পে আধুনিক ক্যাম্পাস

বরিশাল নগরীর আলেকান্দায় পরেশ সাগর মাঠের প্রবেশদ্বারের উত্তর পাশে ৩ একর ১৮ শতাংশ জমির ওপর গড়ে উঠেছে সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটটি। ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৫ কোটি টাকা।

প্রতিষ্ঠানটির ক্যাম্পাসে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন প্রবেশপথ, ছয়তলা প্রশাসনিক ভবন, উত্তর পাশে ছয়তলা অ্যাকাডেমিক ভবন এবং দক্ষিণ পাশে ছয়তলা অ্যাকাডেমিক ওয়ার্কশপ ভবন। ভবন তিনটিতেই লিফটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য রয়েছে চারতলা বিশিষ্ট ২০০ আসনের ছাত্রীনিবাস। শিক্ষকদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে পাঁচতলা বিশিষ্ট ২০ ইউনিটের ডরমেটরি। পাশাপাশি রয়েছে তিনতলা বিশিষ্ট ছয় ইউনিটের স্টাফ কোয়ার্টার এবং একতলা অধ্যক্ষের বাসভবন।

ক্যাম্পাসে নিজস্ব বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন ও অভ্যন্তরীণ সড়কব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পরিকল্পিত অবকাঠামো ও আবাসিক সুবিধার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উপযোগী শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দুটি বিভাগে ১০০ আসন, প্রথম ব্যাচে ৪৭ ছাত্রী

বর্তমানে ইনস্টিটিউটটিতে দুটি বিভাগে পাঠদান চলছে—আর্কিটেকচার টেকনোলজি এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। দুই বিভাগ মিলিয়ে মোট আসনসংখ্যা ১০০টি। প্রথম ব্যাচে ৪৭ জন ছাত্রী নিয়ে শুরু হয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম।

প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রথম পর্যায়ে রয়েছেন ১১ জন শিক্ষক। তাঁদের মধ্যে অধ্যক্ষ, ইন্সট্রাক্টর, সহকারী ইন্সট্রাক্টর ও ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পাশাপাশি রয়েছেন ছয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারী।

কারিগরি শিক্ষার এ দুটি শাখায় শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে স্থাপত্যবিষয়ক প্রযুক্তিগত কাজ এবং কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পেশায় প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ ধরনের শিক্ষা নারীদের কর্মজীবনে প্রবেশের পথ আরও প্রসারিত করবে।

আগামী শিক্ষাবর্ষে আরও দুটি কোর্স চালুর পরিকল্পনা

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের উপাধ্যক্ষ এস এম সামচুন নাহার। তিনি জানান, অ্যাকাডেমিক ওয়ার্কশপ, বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন ও শহিদ মিনারের নির্মাণকাজ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ, সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র ইতোমধ্যে পৌঁছেছে।

তিনি আরও জানান, আগামী ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে নতুন করে দুটি কোর্স চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আরও ১০০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাবেন।

প্রতিষ্ঠানটির সম্প্রসারণ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আরও বেশি ছাত্রী কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবেন। বিশেষ করে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও প্রত্যন্ত এলাকার মেয়েদের জন্য এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ

এস এম সামচুন নাহার বলেন, বর্তমান সরকার নারীমুখী ও শিক্ষাবান্ধব। কারিগরি শিক্ষায় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেরা স্বাবলম্বী হতে পারবেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবেন।

কর্মমুখী শিক্ষার ক্ষেত্রে তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ। সে বিবেচনায় অ্যাকাডেমিক ভবনের পাশাপাশি ওয়ার্কশপ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং আধুনিক অবকাঠামোর ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখার সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে এ সম্ভাবনাকে কার্যকর করতে নিয়মিত পাঠদান, পর্যাপ্ত শিক্ষক, আধুনিক ল্যাব ও ওয়ার্কশপের ব্যবহার এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নির্মাণকাজ শেষ হবে ডিসেম্বরের মধ্যে

বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহীদুল ইসলাম জানান, বিভাগের মধ্যে এই প্রথম শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট নির্মিত হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পের আওতায় ছয়টি বহুতল ভবন, একটি একতলা ভবন, শহিদ মিনার, বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, ড্রেন, দুটি অত্যাধুনিক প্রবেশগেট এবং বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

অবকাঠামোগত কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে ওয়ার্কশপ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা সম্পূর্ণভাবে চালু হলে কারিগরি শিক্ষার ব্যবহারিক দিক আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।

নতুন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে উচ্ছ্বসিত ছাত্রীরা

নতুন এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পেরে আনন্দিত শিক্ষার্থীরা। আর্কিটেকচার টেকনোলজি বিভাগে ভর্তি হওয়া বানারীপাড়ার শিক্ষার্থী আয়শা আক্তার বলেন, ক্যাম্পাসের মনোরম পরিবেশ এবং শিক্ষকদের আন্তরিকতা তাঁকে মুগ্ধ করেছে। এ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী মরিয়মের বাড়ি বাউফলে। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের পর থেকেই তাঁর মধ্যে অন্যরকম আনন্দ ও উচ্ছ্বাস কাজ করছে।

শিক্ষার্থীদের এ প্রত্যাশা পূরণে মানসম্মত পাঠদান, প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক শিক্ষা এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতায় কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব

শিক্ষাবিদ মহসিন উল ইসলাম হাবুল বলেন, নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে। সাধারণ প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রির তুলনায় এ ধরনের শিক্ষায় সরাসরি কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থাকে।

তিনি মনে করেন, কারিগরি শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে নারীরা শুধু চাকরিই করতে পারবেন না; সফল উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। তাঁদের উদ্যোগের মাধ্যমে অন্যদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নারীদের আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক মর্যাদা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

মহসিন উল ইসলাম হাবুলের মতে, বৈষম্যহীন ও উন্নত দেশ গড়তে নারীদের কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ করে তোলা সময়ের দাবি।

দক্ষিণাঞ্চলের মেয়েদের জন্য নতুন সম্ভাবনা

বরিশালে বিভাগের প্রথম সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট চালু হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের মেয়েদের কারিগরি শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষায়িত এ প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিনির্ভর পেশায় প্রবেশের প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

তবে এ উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করবে শিক্ষার মান, পর্যাপ্ত শিক্ষক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, আধুনিক সরঞ্জামের কার্যকর ব্যবহার এবং কর্মবাজারের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগের ওপর। পাশাপাশি নতুন কোর্স চালু ও আসনসংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আরও বেশি ছাত্রী উপকৃত হতে পারেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ডাক বিভাগে বিনিয়োগে আগ্রহী বিদেশিরা, জানালেন মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫১ অপরাহ্ণ
ডাক বিভাগে বিনিয়োগে আগ্রহী বিদেশিরা, জানালেন মন্ত্রী

ডাক বিভাগকে আধুনিক, জনবান্ধব ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেছেন, ডাকসেবার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে এবং পার্সেল সেবায় ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। এই অগ্রগতি ধরে রাখতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ডাক ভবনে বিশ্ব ডাক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্তকরণ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

ডাক বিভাগকে লাভজনক করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার তাগিদ

মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ডাক বিভাগকে আধুনিক ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের আয় ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি জানান, ডাক বিভাগে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। এ বিষয়টি ডাক বিভাগের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে ডাক বিভাগের সেবার মান, আয় ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরও বাড়বে। সময়োপযোগী সেবা, কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহকবান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে ডাক বিভাগকে আরও গতিশীল প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

‘নগদ’ বিক্রির পরিকল্পনা নেই

মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বিক্রির কোনো পরিকল্পনা সরকারের এই মুহূর্তে নেই। বরং ‘নগদ’কে আরও আধুনিক ও লাভজনক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ডিজিটাল আর্থিক সেবার বিস্তারের সময়ে ‘নগদ’-এর কার্যক্রম আরও আধুনিক করা এবং প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করতে চলছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, প্রকল্পটি চালুর লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের প্রকল্প চালুর ক্ষেত্রে কারিগরি প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে হবে। সব প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করার পর বিদ্যুৎ সরবরাহের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

‘সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’

এ বছর বিশ্ব ডাক দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’। গত ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডাক দিবস উদযাপনের ধারাবাহিকতায় ৯ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী ডাকসেবা সপ্তাহ পালন করা হচ্ছে।

বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ বছরের প্রতিপাদ্যের ওপর একটি স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করা হয়। ডাকসেবার ঐতিহ্য, গুরুত্ব এবং পরিবর্তিত প্রযুক্তিনির্ভর পরিবেশে এর সম্ভাবনা তুলে ধরতে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মিজ বিলকিস জাহান রিমি।

২৯ জনকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান

বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মোট ২৯ জনকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

সম্মাননাপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী পাঁচ শিক্ষার্থী এবং ৫৫তম আন্তর্জাতিক পত্রলিখন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী তিনজন। এ ছাড়া পোস্টাল ব্যালট কার্যক্রমে অসাধারণ অবদানের জন্য চার কর্মচারী, লেটার পোস্ট সেবায় অবদানের জন্য ছয় কর্মচারী এবং ডাকসেবায় অসাধারণ অবদানের জন্য পাঁচ কর্মকর্তাকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

পাশাপাশি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর ডিস্ট্রিবিউটর, এজেন্ট ও নগদ সেবা ক্যাটাগরিতে অসাধারণ অবদানের জন্য ছয় প্রতিনিধিকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

ডাকসেবার উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার প্রত্যাশা

ডাকসেবা সপ্তাহের আয়োজন এবং বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্তকরণ ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ডাক বিভাগের সেবার মান উন্নয়ন এবং কর্মীদের উৎসাহিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

৬০ বছরে বাবা হওয়ার ইচ্ছা সালমানের? ‘কফি উইথ করণ’ ঘিরে জল্পনা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
৬০ বছরে বাবা হওয়ার ইচ্ছা সালমানের? ‘কফি উইথ করণ’ ঘিরে জল্পনা
বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের বয়স ৬০ বছর। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দিলেও তাঁর ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই ভক্তদের কৌতূহলের কেন্দ্রে। বিশেষ করে বিয়ে ও সংসার নিয়ে নানা সময়ে আলোচনা হলেও এখনো নিজের পরিবার গড়েননি এই অভিনেতা। এবার তাঁর বাবা হওয়ার ইচ্ছা নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

ভারতীয় বিনোদনমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযোজক ও পরিচালক করণ জোহরের জনপ্রিয় চ্যাট শো ‘কফি উইথ করণ’-এর নবম সিজনে অতিথি হয়ে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন সালমান খান। সেখানে নিজের সন্তান চাওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে অভিনেতার সরাসরি বক্তব্য বা অনুষ্ঠানটির পূর্ণাঙ্গ পর্বের তথ্য ছাড়া বিষয়টিকে নিশ্চিত ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

সন্তান চাওয়ার ইচ্ছা নিয়ে আলোচনা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে সালমানের কাছে জানতে চাওয়া হয়, নিজের সন্তান না থাকার অভাব তিনি অনুভব করেন কি না। উত্তরে তিনি সন্তান চাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবার, মানসিক নির্ভরতা এবং জীবনে জীবনসঙ্গীর গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা করেছেন অভিনেতা।

সালমানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভক্তদের আগ্রহ রয়েছে। পর্দায় নানা চরিত্রে দেখা গেলেও বাস্তব জীবনে বিয়ে কিংবা সন্তান নিয়ে তাঁর পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি খুব বেশি কথা বলেননি। ফলে বাবা হওয়ার ইচ্ছা নিয়ে এমন খবর প্রকাশিত হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

তবে বাবা হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করা এবং বাস্তবে সন্তান নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া এক বিষয় নয়। সালমানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তাঁর নিজের বক্তব্যের অপেক্ষা করতে হবে।

ইউলিয়া ভান্তুরের সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন

সালমান খানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনার আরেকটি বড় বিষয় রুমানীয় গায়িকা ও অভিনেত্রী ইউলিয়া ভান্তুরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক। দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন রয়েছে। বিভিন্ন পারিবারিক অনুষ্ঠান ও আয়োজনে তাঁদের একসঙ্গে দেখা যাওয়ায় এই আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

তবে সম্পর্কের বিষয়ে সালমান বা ইউলিয়া কেউই প্রকাশ্যে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা দেননি। ফলে তাঁদের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থান কিংবা বিয়ে নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

সালমানের জীবনে পরিবার ও কাছের মানুষদের ভূমিকা নিয়ে আগেও নানা আলোচনা হয়েছে। কিন্তু বাবা হওয়ার ইচ্ছা নিয়ে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের সঙ্গে ইউলিয়ার সম্পর্কের কোনো সরাসরি যোগসূত্র নিশ্চিত করা হয়নি।

করণ জোহরের প্রশ্নে হাস্যরস

‘কফি উইথ করণ’-এর নতুন সিজন ঘিরে প্রকাশিত প্রচারসামগ্রীতে সালমান ও করণ জোহরের কথোপকথনের কিছু মজার মুহূর্ত দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে সালমানকে রসিকতা করে বলতে শোনা যায়, ‘কফি উইথ করণ-এর পরে হবে কফি উইথ সালমান।’ তাঁর এ মন্তব্যে হেসে ওঠেন করণ।

অনুষ্ঠানে করণ সালমানকে ব্যক্তিগত একটি প্রশ্নও করেন—তিনি এখনো কুমার কি না। প্রশ্নের উত্তরে মজার ছলে সালমান বলেন, ‘সংযত হও ভাই, সংযত হও।’ দুই তারকার কথোপকথনে হাস্যরসের পাশাপাশি পুরোনো দিনের স্মৃতিও উঠে আসে বলে জানানো হয়েছে।

এর আগে ‘কফি উইথ করণ’-এর একটি সিজনে সালমান নিজেকে কুমার বলে উল্লেখ করেছিলেন। এবারের কথোপকথনে সেই পুরোনো প্রসঙ্গ ফিরে আসায় দর্শকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে।

‘এবার নিজের পরামর্শ নিজেকেই মানতে হবে’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, করণ জোহর মন্তব্য করেন, আগের তুলনায় সালমান এখন অনেক বেশি শান্ত ও সংযত হয়েছেন। জবাবে অভিনেতা বলেন, ‘এত দিন অন্যদের যে পরামর্শ দিয়ে এসেছি, এবার নিজের সেই পরামর্শ মেনে চলার সময় এসেছে।’

তাঁর এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে ব্যক্তিগত জীবন ও অভিজ্ঞতা নিয়ে কিছুটা আত্মবিশ্লেষণের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, এর সঙ্গে বাবা হওয়ার সিদ্ধান্তের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

সালমানের মতো জনপ্রিয় তারকার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই নানা জল্পনা তৈরি হয়। তবে অনুষ্ঠানে ঠিক কী বলেছেন, তা যাচাই করতে পূর্ণাঙ্গ পর্ব বা নির্ভরযোগ্য প্রত্যক্ষ সূত্রের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।

‘কফি উইথ করণ’-এর নতুন সিজন ঘিরে আগ্রহ

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘কফি উইথ করণ’-এর নবম সিজনের প্রথম পর্বে করণ জোহরের মুখোমুখি হবেন সালমান খান। অনুষ্ঠানটির নতুন সিজন নিয়ে ভক্তদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এটিই শোটির শেষ সিজন হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

প্রায় ২২ বছর ধরে ‘কফি উইথ করণ’ বিনোদনজগতের তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন, সম্পর্ক, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও নানা অজানা ঘটনা নিয়ে আলোচনার একটি পরিচিত মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছে। তাই নতুন সিজনে সালমানের উপস্থিতি এবং তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সম্ভাব্য বক্তব্য দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ৬০ বছর বয়সে সালমান খান বাবা হতে চান—এমন খবর বিনোদনজগতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে অভিনেতার নিজের বক্তব্য এবং অনুষ্ঠানের যাচাইযোগ্য তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন।

কালের আলো/জেএন/এসএ

বিতর্কিত লালকার্ডে ক্ষুব্ধ শেফিল্ড কোচ, হারল হামজার দল

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪২ অপরাহ্ণ
বিতর্কিত লালকার্ডে ক্ষুব্ধ শেফিল্ড কোচ, হারল হামজার দল
ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে পোর্টসমাউথের বিপক্ষে ৩–২ গোলে হেরেছে শেফিল্ড ইউনাইটেড। তবে ম্যাচের ফল ছাপিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশের জাতীয় দলের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীর বিতর্কিত লালকার্ড। প্রথমার্ধের শেষ দিকে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। তাঁর বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শেফিল্ড ইউনাইটেডের কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার। রেফারি অলিভার ল্যাংফোর্ডের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি দাবি করেছেন, হামজাকে লালকার্ড দেখানো হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

৯ মিনিটের ব্যবধানে দুই হলুদ কার্ড

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে ফ্র্যাটন পার্কে পোর্টসমাউথের মাঠে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে শুরু থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল উপহার দেয় দুই দল। কিন্তু প্রথমার্ধের শেষ দিকে হামজা চৌধুরীর মাঠ ছাড়ার ঘটনায় ম্যাচের মোড় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

ম্যাচের ৪৪ মিনিটে পোর্টসমাউথের উইঙ্গার রায়ান কাভুমা-ম্যাককুইনকে ফাউল করেন হামজা। এর আগে একই খেলোয়াড়কে ফাউল করার কারণে একটি হলুদ কার্ড দেখেছিলেন বাংলাদেশের এই মিডফিল্ডার। দ্বিতীয় ফাউলের পর তাঁকে আবার হলুদ কার্ড দেখান রেফারি অলিভার ল্যাংফোর্ড। ফলে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের কারণে লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে।

এরপর বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় শেফিল্ড ইউনাইটেডকে। শেষ পর্যন্ত ৩–২ গোলের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দলটি। হামজার বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটি ম্যাচের অন্যতম আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়।

রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে ওয়াইল্ডারের প্রশ্ন

ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন শেফিল্ড কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার। তাঁর দাবি, হামজার সঙ্গে সংঘর্ষের পর রেফারি নাকি তাঁকে জানিয়েছিলেন, লালকার্ড দেখানো হবে না। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হয়।

ওয়াইল্ডারের বক্তব্য অনুযায়ী, পোর্টসমাউথের খেলোয়াড়েরা ওই ঘটনায় রেফারির কাছে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। এরপরই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে বলে তাঁর মনে হয়েছে। তবে রেফারি ঠিক কী বলেছিলেন এবং সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণ কী ছিল, সে বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রয়োজন।

ওয়াইল্ডার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হামজা মাঠে কোথায় যাবেন, সেটিই তিনি বুঝতে পারছেন না। তাঁর ভাষায়, খেলোয়াড়দের জন্য মাঠে জায়গা তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। দলের আরেক খেলোয়াড় স্যাম ম্যাককালামকেও তিন-চারবার বাধা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

পেনাল্টি বক্সে জার্সি ধরে টানার অভিযোগ

শুধু হামজার লালকার্ড নয়, ম্যাচের শেষ মুহূর্তের একটি ঘটনাও ওয়াইল্ডারের ক্ষোভের কারণ হয়ে ওঠে। শেফিল্ড কোচের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড় তাঁদের দলের একজনকে পেনাল্টি বক্সের মধ্যে ধরে টেনেছিলেন। তাঁর দাবি, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে ওই খেলোয়াড়ের জার্সি প্রায় খুলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

ওয়াইল্ডার মনে করেন, ম্যাচে তাঁর দলের প্রতি কিছুটা অবিচার করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ কোচের নিজস্ব বক্তব্য। সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো নিয়ে রেফারির ব্যাখ্যা বা ম্যাচ কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হতে পারে।

ফুটবলে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে ফাউল করা, রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানানো কিংবা প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরির মতো ঘটনা খেলার অংশ হলেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে রেফারির সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। হামজার বহিষ্কারের পর শেফিল্ডের খেলোয়াড়সংখ্যা কমে যাওয়ায় ম্যাচের বাকি অংশে দলটির কৌশলও বদলাতে হয়।

পয়েন্ট তালিকায় পিছিয়ে শেফিল্ড

চ্যাম্পিয়নশিপে চলতি মৌসুমে প্রত্যাশিত অবস্থানে নেই শেফিল্ড ইউনাইটেড। প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১০ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ১৫তম স্থানে রয়েছে দলটি। সমানসংখ্যক ম্যাচ খেলে শীর্ষে থাকা সোয়ানসি সিটির চেয়ে ১১ পয়েন্ট পিছিয়ে তারা।

এমন পরিস্থিতিতে পোর্টসমাউথের কাছে হার দলটির জন্য আরেকটি ধাক্কা। বিশেষ করে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একজন খেলোয়াড় কমে যাওয়ায় ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগও কঠিন হয়ে পড়ে।

চলতি মৌসুমে শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে তিনটি ম্যাচ খেলেছেন বাংলাদেশের হামজা চৌধুরী। এখন পর্যন্ত গোলের দেখা পাননি তিনি। তবে দলের মাঝমাঠে তাঁর ভূমিকা এবং মাঠের লড়াইয়ে সক্রিয় উপস্থিতির কারণে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছেও শেফিল্ডের ম্যাচগুলো বিশেষ আগ্রহের বিষয়।

হামজার লালকার্ড নিয়ে আলোচনা

বাংলাদেশ জাতীয় দলের এই মিডফিল্ডারের লালকার্ড এখন শেফিল্ডের হার এবং রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে। কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানালেও দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য ম্যাচের সংশ্লিষ্ট মুহূর্ত এবং রেফারির ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ।

শেফিল্ড ইউনাইটেডের জন্য এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে হামজার বহিষ্কার নিয়ে বিতর্ক কতটা বিস্তৃত হয়, তা নির্ভর করবে ঘটনাটি নিয়ে পরবর্তী প্রতিক্রিয়া ও মূল্যায়নের ওপর।

কালের আলো/জেএন/এসএ