মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে স্টারলিংকের সংযোগে আকস্মিকভাবে নতুন গতিসীমা কার্যকর হওয়ার পর ইউক্রেনের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, উচ্চগতিতে চলা ড্রোন ও অন্যান্য সামরিক প্ল্যাটফর্মে স্টারলিংকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় যুদ্ধক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও অভিযান পরিচালনায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। পরদিন বুধবার (১৪ অক্টোবর) সংযোগ কিছুটা স্বাভাবিক করা হলেও ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বিধিনিষেধ পুরোপুরি তুলে নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে গেলেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন
স্টারলিংকের নতুন নিয়মের মূল বিষয় হলো, নির্ধারিত সীমার বেশি গতিতে চলা কোনো ডিভাইসের ইন্টারনেট সংযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন পরিচালনা, লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা এবং বিভিন্ন অভিযানে যোগাযোগ বজায় রাখতে স্টারলিংকের ওপর নির্ভর করে। ফলে দ্রুতগতির সামরিক ড্রোন ও অস্ত্রের ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইউক্রেনের সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত কিছু ড্রোন ও অস্ত্র লক্ষ্যবস্তুর দিকে যাওয়ার সময় ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটারের বেশি গতি অর্জন করতে পারে। এমন অবস্থায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে দূর থেকে ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ, প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদান কিংবা অভিযানের মাঝপথে নির্দেশনা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে সব অস্ত্র সংযোগ হারিয়েছে বা প্রতিটি অভিযান সরাসরি ব্যর্থ হয়েছে—এমন কোনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইউক্রেনের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ স্টারলিংকের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক দেশটির এমন অনেক এলাকায় যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করেছে, যেখানে প্রচলিত টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামরিক ইউনিটগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন জরুরি যোগাযোগব্যবস্থাতেও এই নেটওয়ার্কের ব্যবহার রয়েছে। ফলে সংযোগের নিয়মে আকস্মিক পরিবর্তন হলে তার প্রভাব কেবল একটি প্রযুক্তিগত সেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; সামরিক পরিকল্পনা ও যোগাযোগের ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।
বিধিনিষেধের পেছনে মার্কিন সরকারের ভূমিকা?
স্টারলিংকের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে এর নীতিনির্ধারণী কর্তৃত্বকে ঘিরে। ইলন মাস্কের বক্তব্য অনুযায়ী, স্টারশিল্ডের মতো সামরিক ও সরকারি ব্যবহারের ব্যবস্থাগুলোর ওপর মার্কিন সরকারের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এসব ব্যবস্থার ব্যবহার ও বিধিনিষেধের বিষয়ে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ এবং শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (১৪ অক্টোবর) দেওয়া বক্তব্যে মাস্ক বলেন, স্টারশিল্ড ব্যবস্থার ব্যবহারসংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে। তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, সামরিক প্রয়োজনে ব্যবহৃত স্যাটেলাইট যোগাযোগের ওপর আরোপিত সব সীমাবদ্ধতার সিদ্ধান্ত স্পেসএক্স এককভাবে নেয় না।
তবে স্টারলিংকের নির্দিষ্ট গতিসীমা আরোপের সিদ্ধান্তে মার্কিন সরকার সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত করার মতো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ইউক্রেনের অস্ত্রে নতুন এই বিধিনিষেধের পেছনে প্রযুক্তিগত, নিরাপত্তাসংক্রান্ত নাকি রাজনৈতিক কারণ কাজ করেছে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
স্টারলিংক ও স্টারশিল্ডের কাজ আলাদা
ইলন মাস্কের মহাকাশবিষয়ক প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের অধীনে পরিচালিত স্টারলিংক ও স্টারশিল্ড একই ধরনের সেবা নয়। স্টারলিংক মূলত স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ সরবরাহ করে। দুর্গম অঞ্চল, যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা কিংবা প্রচলিত যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল এমন স্থানে এই সেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে, স্টারশিল্ড বিশেষভাবে সরকারি ও সামরিক ব্যবহারের জন্য তৈরি একটি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে নিরাপদ যোগাযোগ ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এই দুই ব্যবস্থার ব্যবহার, গ্রাহক এবং নিয়ন্ত্রণের কাঠামো আলাদা হওয়ায় স্টারলিংকের সাধারণ সেবা এবং সামরিক ব্যবহারের বিধিনিষেধকে একই বিষয় হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
মাস্কের বক্তব্যে স্টারশিল্ডের ওপর মার্কিন সরকারের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি উঠে এলেও ইউক্রেনের সামরিক অভিযানে স্টারলিংকের ব্যবহার এবং নতুন গতিসীমার বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে আরও তথ্য প্রয়োজন। বিশেষ করে কোন ধরনের ডিভাইসে এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে, কতগুলো ডিভাইস সংযোগ হারিয়েছে এবং বিধিনিষেধের আওতা কতটা বিস্তৃত—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
সংযোগ স্বাভাবিক করার অনুরোধ ইউক্রেনের
নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পর ইউক্রেনের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা স্টারলিংকের সংযোগ স্বাভাবিক করার জন্য ইলন মাস্কের কাছে একের পর এক অনুরোধ জানান। এক্সে প্রকাশিত এসব বার্তায় যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ব্রিটিশ সাংবাদিক পিয়ার্স মরগানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সমস্যাটি ভুলবশত ঘটতে পারে অথবা এর পেছনে বড় কোনো কারিগরি জটিলতা থাকতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন। একই সঙ্গে তিনি স্টারলিংকের সংযোগ আবার চালু করার অনুরোধ জানান।
জেলেনস্কির বক্তব্যে শুরুতে বিষয়টিকে প্রযুক্তিগত সমস্যা হিসেবে দেখার সম্ভাবনা তুলে ধরা হলেও ইউক্রেনের অন্য কর্মকর্তাদের বক্তব্যে রাজনৈতিক সংশয়ের বিষয়টি সামনে আসে। তাঁদের মতে, যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সামরিক যোগাযোগব্যবস্থায় এমন বিধিনিষেধ আরোপের প্রভাব গভীরভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার দাবি ফেদোরোভের
ইউক্রেনের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরোভ জানান, বুধবার সন্ধ্যার দিকে (১৪ অক্টোবর) স্টারলিংকের ইন্টারনেট সংযোগ কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এরপর এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখার স্বার্থে স্টারশিল্ডের ওপর গতিসীমাসংক্রান্ত কড়াকড়ি পুরোপুরি তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান।
সংযোগ কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় ফেদোরোভ ইলন মাস্ককে ধন্যবাদও জানান। একই সঙ্গে তিনি এই সমর্থন অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, ইউক্রেনের সামরিক যোগাযোগব্যবস্থায় স্টারলিংকের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং বিধিনিষেধের কারণে দেশটি কতটা উদ্বিগ্ন।
ফেদোরোভের পোস্টের প্রায় এক ঘণ্টা পর মাস্ক সেখানে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি ইউক্রেন যুদ্ধে তাঁর প্রতিষ্ঠানের অবস্থান ও সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে সামরিক ও সরকারি ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার বিষয়টি আবারও সামনে আসে।
তবে বুধবার সংযোগ আংশিকভাবে স্বাভাবিক হওয়ার অর্থ এই নয় যে সব ধরনের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। কোন কোন ডিভাইসে সংযোগ ফিরেছে এবং উচ্চগতির সামরিক প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রে আগের সীমাবদ্ধতা বহাল রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন।
একই সময়ে রাশিয়ার বড় হামলা, বাড়ে সন্দেহ
স্টারলিংকের নতুন গতিসীমা কার্যকর হওয়ার সময়েই ইউক্রেনের ওপর বড় ধরনের হামলা চালায় রাশিয়া। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের দাবি, হামলায় রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন এলাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। রুশ বাহিনীর হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও।
জেলেনস্কি রাশিয়ার এই হামলাকে বড় আকারের আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার পাঠানো ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোনের একটি বড় অংশ ইউক্রেনের প্রতিরক্ষাবাহিনী আকাশেই ধ্বংস করে দেয়। তবে কিছু ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়।
হামলার ফলে ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়। দেশটির কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ছয় লাখ মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, ড্রোন আঘাত হানার আগে তাঁদের এলাকায় সতর্কসংকেত বা সাইরেন শোনা যায়নি।
যুদ্ধের এমন পরিস্থিতিতে সামরিক যোগাযোগব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ড্রোন শনাক্ত করা, প্রতিরক্ষা ইউনিটের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে যোগাযোগব্যবস্থা কার্যকর থাকা প্রয়োজন। এ কারণে স্টারলিংকের সংযোগে সীমাবদ্ধতা ইউক্রেনের সামরিক পরিকল্পনার ওপর কী প্রভাব ফেলেছে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কাকতালীয় নয়, রাজনৈতিক যোগসূত্র দেখছে কিয়েভ
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা সের্হি বেসক্রেস্টনভ বুধবার সকালে (১৪ অক্টোবর) টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় স্টারলিংকের গতিসীমা এবং রাশিয়ার বড় হামলার সময়গত মিল নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যোগাযোগব্যবস্থায় বিধিনিষেধ আরোপ এবং একই সময়ে রাশিয়ার বড় ধরনের হামলা—এই দুটি ঘটনাকে আলাদা করে দেখার সুযোগ সীমিত।
বেসক্রেস্টনভের বক্তব্যে কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের বিষয়টিও উঠে আসে। তবে তাঁর সন্দেহের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। একই সময়ে দুটি ঘটনা ঘটেছে বলেই তাদের মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য আরও তথ্য ও প্রমাণ প্রয়োজন।
ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, সামরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাইরের কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা যুদ্ধের সময় কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের নীতিমালা বা প্রবেশাধিকার পরিবর্তিত হলে তা দ্রুত সামরিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।
ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির টানাপোড়েন
স্টারলিংকের বিধিনিষেধ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের রাজনৈতিক সম্পর্কও আলোচনায় এসেছে। রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অসন্তুষ্ট বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জেলেনস্কির অভিযোগ, ট্রাম্পের দেওয়া জ্বালানিসংক্রান্ত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মত না হলে ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধ করার হুমকি দিয়েছিল ওয়াশিংটন। তবে ট্রাম্প মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এই দাবি নাকচ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
যুদ্ধের ময়দানে গোয়েন্দা তথ্য, স্যাটেলাইট যোগাযোগ এবং সামরিক সহায়তা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব সহায়তার ধরন বা পরিমাণে পরিবর্তন এলে দেশটির সামরিক পরিকল্পনায় প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে স্টারলিংকের নতুন বিধিনিষেধকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক শুধু প্রযুক্তিগত বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকছে না; এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থান এবং ইউক্রেনকে সহায়তার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
যুক্তরাজ্য সফরে জেলেনস্কি, সামনে জ্বালানি ইস্যু
এদিকে বুধবার (১৪ অক্টোবর) এক সংক্ষিপ্ত সফরে যুক্তরাজ্যে যান জেলেনস্কি। সেখানে রাশিয়ার কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তিন লাখ টন ডিজেল আমদানি চুক্তির বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন তিনি। যুদ্ধের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ, নিষেধাজ্ঞা এবং রাশিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ইউক্রেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে রয়েছে।
জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা, যুদ্ধবিরতির শর্ত এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের অবস্থানের পার্থক্য দুই দেশের সম্পর্ককে জটিল করে তুলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে স্টারলিংকের নতুন বিধিনিষেধ নিয়ে কিয়েভের উদ্বেগ আরও গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্ত, নাকি বৃহত্তর কৌশলের অংশ?
ইউক্রেনের অস্ত্রে স্টারলিংকের গতিসীমা আরোপের ঘটনা যুদ্ধের সময় বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। একটি স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক কীভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগ, ড্রোন পরিচালনা ও প্রতিরক্ষা কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে, তা এই ঘটনা আবারও সামনে এনেছে।
ইলন মাস্কের বক্তব্যে সামরিক ব্যবস্থার ওপর মার্কিন সরকারের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি উঠে এলেও নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ আরোপের পেছনে কী সিদ্ধান্তপ্রক্রিয়া কাজ করেছে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। একইভাবে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা রাজনৈতিক যোগসূত্রের সন্দেহ প্রকাশ করলেও এ বিষয়ে নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।
এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, স্টারলিংকের সংযোগসংক্রান্ত বিধিনিষেধ পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে কি না, ইউক্রেনের দ্রুতগতির ড্রোনগুলো আগের মতো সংযোগ পাবে কি না এবং ভবিষ্যতে যুদ্ধক্ষেত্রে এই নেটওয়ার্ক ব্যবহারের জন্য নতুন কোনো শর্ত আরোপ করা হবে কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে স্পেসএক্স, মার্কিন প্রশাসন এবং ইউক্রেনের পক্ষ থেকে পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত তথ্য ও সিদ্ধান্তের ওপর।
আপনার মতামত লিখুন
Array