খুঁজুন
                               
, ,
           

দুর্গাপূজার আগে কটিয়াদীতে বসে ৫০০ বছরের ঢাকের হাট

কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০১ অপরাহ্ণ
দুর্গাপূজার আগে কটিয়াদীতে বসে ৫০০ বছরের ঢাকের হাট

ঢাকের গম্ভীর আওয়াজ, ঢোলের তাল, সানাইয়ের সুর আর বাঁশির মূর্ছনায় মুখর চারপাশ। কোথাও ঢাক বাজিয়ে নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরছেন বাদ্যযন্ত্রশিল্পীরা, কোথাও আবার চলছে পূজা আয়োজকদের সঙ্গে দরদাম। বাদ্যের তালে তালে জমে উঠেছে সুরের প্রতিযোগিতা। দুর্গাপূজার আগমনী আবহে এমনই এক ব্যতিক্রমী উৎসবের চেহারা নিয়েছে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর ঐতিহ্যবাহী ঢাকের হাট।

কথিত আছে, প্রায় ৫০০ বছর ধরে চলে আসছে এই হাট। দুর্গাপূজায় ঢাকঢোল বাজানোর জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকি ও বাদ্যবাদকেরা এখানে জড়ো হন। তাঁদের বাজনা শুনে পছন্দের দল বেছে নেন পূজার আয়োজকেরা। এরপর দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও দরদামের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় চুক্তিমূল্য। স্থানীয়দের দাবি, এটিই দেশের একমাত্র ঢাকের হাট।

গত মঙ্গলবার শুরু হওয়া এ বছরের হাটের পর্দা নামবে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। কয়েক দিনের এই আয়োজন ঘিরে কটিয়াদী পুরোনো বাজারে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

রাজা নবরঙ্গ রায়ের আমল থেকে ঐতিহ্যের শুরু

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ষোড়শ শতাব্দীতে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার চারিপাড়া গ্রামে স্থানীয় সামন্ত রাজা নবরঙ্গ রায় তাঁর রাজপ্রাসাদে দুর্গাপূজার আয়োজন করেন। পূজার বাদ্যযন্ত্র বাজানোর জন্য তিনি বিক্রমপুর, বর্তমান মুন্সীগঞ্জ অঞ্চল থেকে ঢাকি ও বাদ্যকরদের আমন্ত্রণ জানান।

আমন্ত্রণ পেয়ে নৌপথে অসংখ্য ঢাকি ও বাদক দল এসে পৌঁছান পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে যাত্রাঘাট নামের স্থানে। সেখানে রাজা নিজে তাঁদের বাজনা শোনেন এবং সেরা দলটি বেছে নেন। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত এই কাহিনিকেই ঢাকের হাটের সূচনাপর্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় দুর্গাপূজার আয়োজন বাড়তে থাকে। বিভিন্ন জমিদারের মধ্যে ঢাকের হাট কোথায় বসবে, তা নিয়ে দ্বন্দ্বও তৈরি হয়। একপর্যায়ে যাত্রাঘাট থেকে হাটের স্থান পরিবর্তন করে কটিয়াদী পুরোনো বাজারে নিয়ে আসা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে এই বাজারই হয়ে ওঠে ঢাকি ও বাদ্যবাদকদের মিলনস্থল।

প্রায় পাঁচ শতাব্দীর এই ঐতিহ্য এখন কেবল বাদ্যযন্ত্রশিল্পীদের হাট নয়; স্থানীয় সংস্কৃতি ও দুর্গাপূজার প্রস্তুতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এক হাটে ঢাক, ঢোল, সানাই থেকে নানা বাদ্যযন্ত্র

সরেজমিনে দেখা যায়, হাটের বিভিন্ন স্থানে দল বেঁধে বাদ্যযন্ত্র বাজাচ্ছেন শিল্পীরা। ঢাকের সঙ্গে ঢোল, ড্রাম, সানাই, কাঁসি, মন্দিরা, ঝনঝনি ও বাঁশির সুর মিলিয়ে তৈরি হয়েছে বৈচিত্র্যময় আবহ। এক দল বাজনা শুরু করলে অন্য দলও নিজেদের দক্ষতা দেখাতে তালে তালে বাজিয়ে ওঠে।

পূজা আয়োজকেরা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে ঘুরে দলগুলোর পরিবেশনা শুনছেন। কোন দলের বাজনা ভালো, কারা পূজার পুরো সময়জুড়ে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, কতজন সদস্য নিয়ে দলটি কাজ করবে—এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চলছে পছন্দ ও দরদাম।

এই হাটের বড় সুবিধা হলো, পূজা আয়োজকদের একসঙ্গে অনেক দলকে দেখার ও বাজনা যাচাই করার সুযোগ থাকে। অন্যদিকে বাদ্যবাদকেরাও বিভিন্ন এলাকার আয়োজকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। ফলে দুর্গাপূজার মৌসুমে দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি সম্পাদনের জন্য হাটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

১২ হাজার থেকে লাখ টাকা ছাড়ায় চুক্তিমূল্য

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকি ও বাদ্যবাদকদের পারিশ্রমিক নির্ভর করে তাঁদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, দলের সদস্যসংখ্যা এবং পরিবেশনার মানের ওপর। সাধারণত একটি দলের চুক্তিমূল্য ১২ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়। চাহিদা ও দরদাম অনুযায়ী তা এক লাখ টাকা ছাড়িয়েও যেতে পারে।

দোহারের নবাবগঞ্জ থেকে তিন সদস্যের একটি বাদক দলের নেতা হিসেবে হাটে এসেছেন সুজন মালাকার। তিনি জানান, এবার পূজার আয়োজন বেশি হওয়ায় বাদক দলের চাহিদাও বেড়েছে। তাঁর দলের জন্য কেউ কেউ ৪০ হাজার টাকা পারিশ্রমিক দিতে চাইলেও তাঁরা ৬০ হাজার টাকার কমে চুক্তি করতে রাজি নন।

কিশোরগঞ্জ সদর থেকে সাত সদস্যের ঢাকঢোলের দল নিয়ে এসেছেন মো. রোকন। তিনি জানান, বাদ্যযন্ত্র বাজানো তাঁর মূল পেশা নয়। শখের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের জন্য তিনি এ কাজ করেন। দুর্গাপূজার মৌসুমে হাটে এসে বিভিন্ন আয়োজকের সঙ্গে চুক্তির সুযোগ পান তাঁরা।

নরসিংদীর মনোহরদী থেকে আসা বাদক দলের নেতা ফারুক মিয়া জানান, তাঁরা এক যুগ ধরে এই হাটে আসছেন। এবার তাঁর দলের জন্য কেউ কেউ ৮০ হাজার টাকা পারিশ্রমিকের প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে তাঁদের প্রত্যাশা, এক লাখ টাকার কমে চুক্তি করবেন না।

এই দরদাম থেকেই বোঝা যায়, পূজার মৌসুমে দক্ষ বাদ্যবাদকদের চাহিদা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ভালো বাজনা ও অভিজ্ঞ দলের জন্য আয়োজকেরা তুলনামূলক বেশি পারিশ্রমিক দিতেও প্রস্তুত থাকেন।

দূরদূরান্ত থেকে আসেন পূজা আয়োজকেরা

নেত্রকোনার কেন্দুয়া থেকে বাদক দলের সঙ্গে চুক্তি করতে হাটে এসেছেন উৎপল কুমার। তিনি বলেন, এখানে একসঙ্গে শত শত ঢাকি ও বাদ্যবাদককে পাওয়া যায়। ফলে পছন্দের দল বেছে নেওয়ার পাশাপাশি সরাসরি বাজনা শুনে যাচাই করার সুযোগও থাকে।

উৎপল কুমারের ভাষ্য, এই সুবিধার কারণেই তাঁরা প্রতিবছর দুর্গাপূজার জন্য ঢাকঢোলের দল ঠিক করতে ঢাকের হাটে আসেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর, সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকি ও বাদ্যবাদকেরা জীবিকার টানে এখানে আসেন। অন্যদিকে বিভিন্ন জেলার পূজা উদযাপন কমিটির প্রতিনিধিরাও পছন্দের দল খুঁজতে ভিড় করেন। এভাবে হাটটি একদিকে শিল্পীদের মৌসুমি আয়ের সুযোগ তৈরি করে, অন্যদিকে পূজার আয়োজকদের জন্য সহজে দল বাছাইয়ের ব্যবস্থা করে।

দুর্গাপূজায় ঢাকের অপরিহার্যতা

দুর্গাপূজার সঙ্গে ঢাকের সম্পর্ক বহু পুরোনো। মহাষষ্ঠীর সূচনা থেকে পূজার বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান এবং বিসর্জন পর্যন্ত ঢাকের আওয়াজ উৎসবের আবহ তৈরি করে। ঢাকের তালে পূজামণ্ডপে ভক্তদের উপস্থিতি ও উৎসবের আমেজ যেন আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

তাই পূজার আয়োজন সম্পন্ন করতে প্রতিমা, মণ্ডপ ও অন্যান্য প্রস্তুতির পাশাপাশি ঢাকি ও বাদ্যবাদকদের দল ঠিক করাও গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কটিয়াদীর ঢাকের হাট সেই প্রয়োজন পূরণে দীর্ঘদিন ধরে ভূমিকা রেখে চলেছে।

শুধু অর্থ উপার্জন নয়, অনেক বাদ্যবাদকের কাছে এই আয়োজন পেশাগত দক্ষতা তুলে ধরা এবং ঐতিহ্য ধরে রাখারও একটি সুযোগ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাদ্যযন্ত্র বাজানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁরা হাটে আসেন। নিজেদের পরিবেশনার মাধ্যমে অন্য দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেন এবং পূজার আয়োজকদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করেন।

ঐতিহ্য রক্ষায় নিরাপত্তার প্রস্তুতি

কটিয়াদী উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি দিলীপ কুমার সাহা জানিয়েছেন, দুর্গাপূজা উদযাপনকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ধরে রেখে প্রতিবছর দুর্গাপূজার আগে এই হাট বসে। ঢাকের আওয়াজ, দরদাম আর শিল্পীদের মিলনমেলায় কটিয়াদী পুরোনো বাজার কয়েক দিনের জন্য পরিণত হয় এক সাংস্কৃতিক উৎসবস্থলে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

অঙ্কিতা ভাণ্ডারি হত্যাকাণ্ড ঘিরে ধ্রুব রাঠির বিস্ফোরক পোস্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৩ অপরাহ্ণ
অঙ্কিতা ভাণ্ডারি হত্যাকাণ্ড ঘিরে ধ্রুব রাঠির বিস্ফোরক পোস্ট
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ধ্রুব রাঠি। উত্তরাখন্ডের আলোচিত অঙ্কিতা ভাণ্ডারি হত্যাকাণ্ডে ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে তাঁর মা–বাবা পুলিশের হাতে আটক হওয়ার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি। নিজের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে মোদিকে নিশানা করে ধ্রুব রাঠি লিখেছেন, ‘নরেন্দ্র মোদি বর্বরতার সব সীমা ছাড়িয়ে গেছেন।’

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার পর দেওয়া ওই পোস্টে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইয়ের একটি ভিডিও ফুটেজ যুক্ত করেন ধ্রুব। ভিডিওটির সঙ্গে দেওয়া ক্যাপশনে তিনি অঙ্কিতা ভাণ্ডারির মা–বাবার প্রসঙ্গ তুলে ধরে অভিযোগ করেন, যে ব্যবস্থার মধ্যে তাঁদের মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে, সেই ব্যবস্থার মধ্যেই এখন তাঁর মা–বাবাকেও রেহাই দেওয়া হচ্ছে না।

ধ্রুব রাঠির এই মন্তব্য ঘিরে অঙ্কিতা হত্যাকাণ্ডের বিচার, কথিত প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচয় এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের প্রতি পুলিশের আচরণ নিয়ে বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে।

মেয়ের হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে আটক মা–বাবা

ভারতের উত্তরাখন্ড রাজ্যের ১৯ বছর বয়সী তরুণী অঙ্কিতা ভাণ্ডারি একটি রিসোর্টে রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। ২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে হত্যা করা হয়। ঘটনার চার দিন পর স্থানীয় একটি খাল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডটি সে সময় গোটা ভারতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

এ ঘটনায় রিসোর্টের মালিক পুলকিত আর্য এবং তাঁর দুই কর্মী সৌরভ ভাস্কর ও অঙ্কিত গুপ্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মামলাটি এগিয়ে যায়। ২০২৫ সালের ৩০ মে আদালত তিন আসামিকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

তবে আদালতের রায়ের পরও অঙ্কিতার পরিবারের সব প্রশ্নের অবসান হয়নি। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। অঙ্কিতার পরিবার কথিত ওই ব্যক্তির পরিচয় ও ভূমিকা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে।

সাম্প্রতিক সময়ে মেয়ের হত্যার বিচার ও কথিত ‘ভিআইপি’ ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশের দাবিতে অঙ্কিতার মা–বাবা দিল্লিতে বিক্ষোভ করেন। তাঁদের অভিযোগ ও দাবিকে কেন্দ্র করে আন্দোলন চলার মধ্যেই গত রাতে (১৪ অক্টোবর) পুলিশ তাঁদের আটক করে। পরে বৃহস্পতিবার সকালে (১৫ অক্টোবর) তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

মা–বাবাকে আটকের ঘটনাই ধ্রুব রাঠির প্রতিক্রিয়ার তাৎক্ষণিক কারণ বলে তাঁর পোস্ট থেকে বোঝা যায়। তবে তাঁদের আটকের বিষয়ে পুলিশের বিস্তারিত বক্তব্য বা আটক করার সুনির্দিষ্ট আইনি কারণ এখানে উল্লেখ করা হয়নি।

অঙ্কিতা হত্যাকাণ্ডে ‘ভিআইপি’ বিতর্ক কেন

অঙ্কিতা ভাণ্ডারি হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মামলাটি ঘিরে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্নগুলোর একটি হলো, রিসোর্টে আসা কোনো প্রভাবশালী অতিথিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য অঙ্কিতার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল কি না।

অভিযোগ উঠেছিল, রিসোর্টে আসা এক প্রভাবশালী অতিথিকে বিশেষ সুবিধা দিতে অঙ্কিতাকে চাপ দেওয়া হয়। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগ থেকেই কথিত ‘ভিআইপি’ ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

অঙ্কিতার পরিবার এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে। তাঁদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের ভূমিকা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তবে কথিত ভিআইপি ব্যক্তির পরিচয় ও হত্যাকাণ্ডে তাঁর কোনো ভূমিকা ছিল কি না, সে বিষয়ে অভিযোগ, দাবি এবং আদালতে প্রমাণিত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি।

২০২৫ সালের ৩০ মে তিন আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় মামলার বিচারিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কিন্তু পরিবারের উত্থাপিত প্রশ্ন এবং কথিত প্রভাবশালী ব্যক্তির ভূমিকা নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা পুরোপুরি থামেনি। এ কারণেই অঙ্কিতা হত্যাকাণ্ডের বিচার ও তদন্তের দাবি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হয়েছে।

মোদিকে নিশানা করে ধ্রুব রাঠির পোস্ট

ধ্রুব রাঠি তাঁর এক্স পোস্টে অঙ্কিতার মা–বাবার পরিস্থিতি তুলে ধরে ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমালোচনা করেছেন। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘উনারা হলেন অঙ্কিতা ভাণ্ডারির মা–বাবা। অঙ্কিতা এমন এক তরুণী, যাকে এই একই ব্যবস্থায় হত্যা করেছে। এখন ওরা তাঁর মা–বাবাকেও রেহাই দিচ্ছে না।’

এই বক্তব্যে ধ্রুব রাঠি অঙ্কিতা হত্যাকাণ্ড এবং তাঁর মা–বাবাকে আটকের ঘটনাকে একই বৃহত্তর ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে দেখেছেন। তাঁর পোস্টের মূল বক্তব্য হলো, মেয়ের হত্যার বিচার চাওয়া পরিবারের সদস্যদেরও যদি আন্দোলনের সময় আটক হতে হয়, তাহলে ন্যায়বিচার ও প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

তবে এটি ধ্রুব রাঠির রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত মূল্যায়ন। তাঁর মন্তব্যের পাশাপাশি মা–বাবাকে আটকের ঘটনায় পুলিশের ব্যাখ্যা, প্রশাসনের অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। এসব তথ্য ছাড়া আটকের পেছনে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক নির্দেশনা ছিল কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

ভারতের রাজনীতিতে ধ্রুব রাঠির ভূমিকা

ধ্রুব রাঠি ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবারদের একজন। রাজনৈতিক, সামাজিক ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁর ভিডিও ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ব্যাপক দর্শকের কাছে পৌঁছায়। বিশেষ করে সরকারের নীতি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে তাঁর সমালোচনামূলক বক্তব্য তাঁকে ভারতীয় অনলাইন রাজনৈতিক আলোচনার পরিচিত মুখে পরিণত করেছে।

সম্প্রতি ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে চলা আন্দোলনের প্রসঙ্গেও ধ্রুব রাঠির নাম আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক ইস্যুতে তাঁর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থন এবং সমালোচনা—দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই তৈরি করে।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাঁর সাম্প্রতিক পোস্টও সেই ধারাবাহিকতার অংশ। এখানে তিনি শুধু একটি ফৌজদারি মামলার প্রসঙ্গ তোলেননি; বরং ন্যায়বিচারের দাবি জানানো পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

বিতর্কের কেন্দ্রে ন্যায়বিচার ও প্রতিবাদের অধিকার

অঙ্কিতা ভাণ্ডারি হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়ায় তিন আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হলেও তাঁর পরিবারের উত্থাপিত কিছু প্রশ্ন জনপরিসরে আলোচনায় রয়েছে। বিশেষ করে কথিত ভিআইপি ব্যক্তির পরিচয় এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা নিয়ে পরিবারের দাবির কারণে বিষয়টি বারবার সামনে এসেছে।

মেয়ের হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে মা–বাবাকে আটকের ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও ন্যায়বিচারের দাবি জানানোর ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকা কী হওয়া উচিত। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তিকে আটকের ঘটনা এবং তার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকার অভিযোগ—দুটিকে আলাদাভাবে বিবেচনা করাও জরুরি।

ধ্রুব রাঠির পোস্ট এই বিতর্ককে আরও দৃশ্যমান করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি নিশানা করে দেওয়া তাঁর বক্তব্য ভারতের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন করে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে অঙ্কিতার পরিবারের বক্তব্য, পুলিশের ব্যাখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, অঙ্কিতা ভাণ্ডারি হত্যাকাণ্ডের বিচার, কথিত ভিআইপি বিতর্ক এবং তাঁর মা–বাবাকে আটকের ঘটনা আবারও ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায় উঠে এসেছে। ধ্রুব রাঠির তীব্র প্রতিক্রিয়া এই ঘটনাকে নতুন মাত্রা দিলেও পরিবারের উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর নিষ্পত্তি এবং আটকের কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়াই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এসএ

জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক

ভারতীয় হাইকমিশনারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, সরকারের পদক্ষেপ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৯ অপরাহ্ণ
ভারতীয় হাইকমিশনারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, সরকারের পদক্ষেপ দাবি

বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর অবাধে চলাফেরা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রবেশের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান। তাঁর দাবি, কূটনীতিকের দায়িত্বের বাইরে গিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি কার্যালয়ে প্রবেশের বিষয়টি দেশের প্রশাসনিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা সোয়া ১২টায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার প্রতিবাদ, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবাদ দমন এবং ভারতীয় হাইকমিশনারের কথিত অপতৎপরতা বন্ধের দাবিতে আয়োজিত এক বিক্ষোভ-সমাবেশে এসব কথা বলেন খোমেনী ইহসান।

হাইকমিশনারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

সমাবেশে খোমেনী ইহসান বলেন, বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর অবাধে চলাফেরা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রশাসনিক স্বাধীনতার প্রতি অবমাননাকর এবং কূটনৈতিক রীতিনীতির পরিপন্থী।

তিনি অভিযোগ করেন, কূটনীতিকের ভূমিকার পরিবর্তে দীনেশ ত্রিবেদী বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি কার্যালয়ে প্রবেশ করছেন। দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকারকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে হাইকমিশনারের চলাফেরা বা সরকারি দপ্তরে প্রবেশের বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের পক্ষে সমাবেশে বিস্তারিত প্রমাণ বা নির্দিষ্ট ঘটনার বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে কি না, তা সরবরাহ করা তথ্যে উল্লেখ নেই।

আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি

সমাবেশে আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী রাজনৈতিক দল হিসেবে চিহ্নিত করার উদ্যোগ নিতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান খোমেনী ইহসান। এ জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

খোমেনী ইহসান বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী রাজনৈতিক দল হিসেবে চিহ্নিত করার উদ্যোগ বর্তমান সরকারকে নিতে হবে। তাঁর দাবি, দলটিকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিশ্বের কোথাও স্বাভাবিকভাবে অবস্থান করতে পারবেন না এবং ব্যাংক হিসাব ব্যবহারের সুযোগও হারাবেন।

তিনি আরও বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো নোবেলজয়ী ব্যক্তিকে হেনস্তা করার সাহস যেন কেউ না পায়, সে জন্য আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে চিহ্নিত করার উদ্যোগ প্রয়োজন।

এগুলো সমাবেশে খোমেনী ইহসানের দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য ও দাবি। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক দলকে এভাবে চিহ্নিত করার সম্ভাব্য আইনি প্রক্রিয়া বা পরিণতি সম্পর্কে সমাবেশে বিস্তারিত ব্যাখ্যার তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিক্ষোভ-সমাবেশে বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা

জাতীয় বিপ্লবী পরিষয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে সংগঠনটির সদস্য সচিব ডা. নাবিল আহমদ, সহকারী সদস্য সচিব আব্দুস সালাম ও মো. সাইদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া ইসলামী ঐক্যজোটের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মীর শওকত আমীন, মহাসচিব মাওলানা আবদুল করিম এবং নবাব সলিমুল্লাহ অ্যাকাডেমির চেয়ারম্যান মো. আবদুল জব্বারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সমাবেশে অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তারা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার প্রতিবাদ জানান এবং দেশের সার্বভৌমত্ব, প্রশাসনিক স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

কূটনৈতিক সম্পর্ক ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিতর্ক

সমাবেশে ভারতীয় হাইকমিশনারের ভূমিকা নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগ এবং আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠতে পারে। তবে কোনো কূটনীতিকের কর্মকাণ্ড কূটনৈতিক রীতিনীতির পরিপন্থী কি না, তা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ঘটনা, সংশ্লিষ্ট বিধি এবং প্রাসঙ্গিক সরকারি বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

ইউক্রেনের অস্ত্রে স্টারলিংকের গতিসীমা, পেছনে কি ওয়াশিংটনের চাপ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৫ অপরাহ্ণ
ইউক্রেনের অস্ত্রে স্টারলিংকের গতিসীমা, পেছনে কি ওয়াশিংটনের চাপ?
ইউক্রেনের সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত কিছু দ্রুতগতির ড্রোন ও অস্ত্রের জন্য স্টারলিংক ইন্টারনেট সংযোগে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইলন মাস্কের মহাকাশবিষয়ক প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ঘণ্টায় ১০০ মাইল বা প্রায় ১৬০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে চলা ডিভাইসগুলো সংযোগ হারাচ্ছে। এতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনের সামরিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এই বিধিনিষেধের পেছনে মার্কিন সরকারের ভূমিকা থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক। একই সঙ্গে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা প্রশ্ন তুলেছেন, কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে স্টারলিংকের সংযোগে আকস্মিকভাবে নতুন গতিসীমা কার্যকর হওয়ার পর ইউক্রেনের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, উচ্চগতিতে চলা ড্রোন ও অন্যান্য সামরিক প্ল্যাটফর্মে স্টারলিংকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় যুদ্ধক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও অভিযান পরিচালনায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। পরদিন বুধবার (১৪ অক্টোবর) সংযোগ কিছুটা স্বাভাবিক করা হলেও ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বিধিনিষেধ পুরোপুরি তুলে নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে গেলেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন

স্টারলিংকের নতুন নিয়মের মূল বিষয় হলো, নির্ধারিত সীমার বেশি গতিতে চলা কোনো ডিভাইসের ইন্টারনেট সংযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন পরিচালনা, লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা এবং বিভিন্ন অভিযানে যোগাযোগ বজায় রাখতে স্টারলিংকের ওপর নির্ভর করে। ফলে দ্রুতগতির সামরিক ড্রোন ও অস্ত্রের ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ইউক্রেনের সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত কিছু ড্রোন ও অস্ত্র লক্ষ্যবস্তুর দিকে যাওয়ার সময় ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটারের বেশি গতি অর্জন করতে পারে। এমন অবস্থায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে দূর থেকে ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ, প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদান কিংবা অভিযানের মাঝপথে নির্দেশনা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে সব অস্ত্র সংযোগ হারিয়েছে বা প্রতিটি অভিযান সরাসরি ব্যর্থ হয়েছে—এমন কোনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ইউক্রেনের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ স্টারলিংকের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক দেশটির এমন অনেক এলাকায় যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করেছে, যেখানে প্রচলিত টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামরিক ইউনিটগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন জরুরি যোগাযোগব্যবস্থাতেও এই নেটওয়ার্কের ব্যবহার রয়েছে। ফলে সংযোগের নিয়মে আকস্মিক পরিবর্তন হলে তার প্রভাব কেবল একটি প্রযুক্তিগত সেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; সামরিক পরিকল্পনা ও যোগাযোগের ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।

বিধিনিষেধের পেছনে মার্কিন সরকারের ভূমিকা?

স্টারলিংকের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে এর নীতিনির্ধারণী কর্তৃত্বকে ঘিরে। ইলন মাস্কের বক্তব্য অনুযায়ী, স্টারশিল্ডের মতো সামরিক ও সরকারি ব্যবহারের ব্যবস্থাগুলোর ওপর মার্কিন সরকারের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এসব ব্যবস্থার ব্যবহার ও বিধিনিষেধের বিষয়ে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ এবং শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (১৪ অক্টোবর) দেওয়া বক্তব্যে মাস্ক বলেন, স্টারশিল্ড ব্যবস্থার ব্যবহারসংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে। তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, সামরিক প্রয়োজনে ব্যবহৃত স্যাটেলাইট যোগাযোগের ওপর আরোপিত সব সীমাবদ্ধতার সিদ্ধান্ত স্পেসএক্স এককভাবে নেয় না।

তবে স্টারলিংকের নির্দিষ্ট গতিসীমা আরোপের সিদ্ধান্তে মার্কিন সরকার সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত করার মতো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ইউক্রেনের অস্ত্রে নতুন এই বিধিনিষেধের পেছনে প্রযুক্তিগত, নিরাপত্তাসংক্রান্ত নাকি রাজনৈতিক কারণ কাজ করেছে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

স্টারলিংক ও স্টারশিল্ডের কাজ আলাদা

ইলন মাস্কের মহাকাশবিষয়ক প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের অধীনে পরিচালিত স্টারলিংক ও স্টারশিল্ড একই ধরনের সেবা নয়। স্টারলিংক মূলত স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ সরবরাহ করে। দুর্গম অঞ্চল, যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা কিংবা প্রচলিত যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল এমন স্থানে এই সেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্যদিকে, স্টারশিল্ড বিশেষভাবে সরকারি ও সামরিক ব্যবহারের জন্য তৈরি একটি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে নিরাপদ যোগাযোগ ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এই দুই ব্যবস্থার ব্যবহার, গ্রাহক এবং নিয়ন্ত্রণের কাঠামো আলাদা হওয়ায় স্টারলিংকের সাধারণ সেবা এবং সামরিক ব্যবহারের বিধিনিষেধকে একই বিষয় হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

মাস্কের বক্তব্যে স্টারশিল্ডের ওপর মার্কিন সরকারের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি উঠে এলেও ইউক্রেনের সামরিক অভিযানে স্টারলিংকের ব্যবহার এবং নতুন গতিসীমার বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে আরও তথ্য প্রয়োজন। বিশেষ করে কোন ধরনের ডিভাইসে এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে, কতগুলো ডিভাইস সংযোগ হারিয়েছে এবং বিধিনিষেধের আওতা কতটা বিস্তৃত—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

সংযোগ স্বাভাবিক করার অনুরোধ ইউক্রেনের

নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পর ইউক্রেনের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা স্টারলিংকের সংযোগ স্বাভাবিক করার জন্য ইলন মাস্কের কাছে একের পর এক অনুরোধ জানান। এক্সে প্রকাশিত এসব বার্তায় যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ব্রিটিশ সাংবাদিক পিয়ার্স মরগানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সমস্যাটি ভুলবশত ঘটতে পারে অথবা এর পেছনে বড় কোনো কারিগরি জটিলতা থাকতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন। একই সঙ্গে তিনি স্টারলিংকের সংযোগ আবার চালু করার অনুরোধ জানান।

জেলেনস্কির বক্তব্যে শুরুতে বিষয়টিকে প্রযুক্তিগত সমস্যা হিসেবে দেখার সম্ভাবনা তুলে ধরা হলেও ইউক্রেনের অন্য কর্মকর্তাদের বক্তব্যে রাজনৈতিক সংশয়ের বিষয়টি সামনে আসে। তাঁদের মতে, যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সামরিক যোগাযোগব্যবস্থায় এমন বিধিনিষেধ আরোপের প্রভাব গভীরভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার দাবি ফেদোরোভের

ইউক্রেনের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরোভ জানান, বুধবার সন্ধ্যার দিকে (১৪ অক্টোবর) স্টারলিংকের ইন্টারনেট সংযোগ কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এরপর এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখার স্বার্থে স্টারশিল্ডের ওপর গতিসীমাসংক্রান্ত কড়াকড়ি পুরোপুরি তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান।

সংযোগ কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় ফেদোরোভ ইলন মাস্ককে ধন্যবাদও জানান। একই সঙ্গে তিনি এই সমর্থন অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, ইউক্রেনের সামরিক যোগাযোগব্যবস্থায় স্টারলিংকের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং বিধিনিষেধের কারণে দেশটি কতটা উদ্বিগ্ন।

ফেদোরোভের পোস্টের প্রায় এক ঘণ্টা পর মাস্ক সেখানে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি ইউক্রেন যুদ্ধে তাঁর প্রতিষ্ঠানের অবস্থান ও সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে সামরিক ও সরকারি ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার বিষয়টি আবারও সামনে আসে।

তবে বুধবার সংযোগ আংশিকভাবে স্বাভাবিক হওয়ার অর্থ এই নয় যে সব ধরনের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। কোন কোন ডিভাইসে সংযোগ ফিরেছে এবং উচ্চগতির সামরিক প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রে আগের সীমাবদ্ধতা বহাল রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন।

একই সময়ে রাশিয়ার বড় হামলা, বাড়ে সন্দেহ

স্টারলিংকের নতুন গতিসীমা কার্যকর হওয়ার সময়েই ইউক্রেনের ওপর বড় ধরনের হামলা চালায় রাশিয়া। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের দাবি, হামলায় রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন এলাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। রুশ বাহিনীর হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও।

জেলেনস্কি রাশিয়ার এই হামলাকে বড় আকারের আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার পাঠানো ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোনের একটি বড় অংশ ইউক্রেনের প্রতিরক্ষাবাহিনী আকাশেই ধ্বংস করে দেয়। তবে কিছু ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়।

হামলার ফলে ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়। দেশটির কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ছয় লাখ মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, ড্রোন আঘাত হানার আগে তাঁদের এলাকায় সতর্কসংকেত বা সাইরেন শোনা যায়নি।

যুদ্ধের এমন পরিস্থিতিতে সামরিক যোগাযোগব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ড্রোন শনাক্ত করা, প্রতিরক্ষা ইউনিটের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে যোগাযোগব্যবস্থা কার্যকর থাকা প্রয়োজন। এ কারণে স্টারলিংকের সংযোগে সীমাবদ্ধতা ইউক্রেনের সামরিক পরিকল্পনার ওপর কী প্রভাব ফেলেছে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কাকতালীয় নয়, রাজনৈতিক যোগসূত্র দেখছে কিয়েভ

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা সের্হি বেসক্রেস্টনভ বুধবার সকালে (১৪ অক্টোবর) টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় স্টারলিংকের গতিসীমা এবং রাশিয়ার বড় হামলার সময়গত মিল নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যোগাযোগব্যবস্থায় বিধিনিষেধ আরোপ এবং একই সময়ে রাশিয়ার বড় ধরনের হামলা—এই দুটি ঘটনাকে আলাদা করে দেখার সুযোগ সীমিত।

বেসক্রেস্টনভের বক্তব্যে কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের বিষয়টিও উঠে আসে। তবে তাঁর সন্দেহের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। একই সময়ে দুটি ঘটনা ঘটেছে বলেই তাদের মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য আরও তথ্য ও প্রমাণ প্রয়োজন।

ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, সামরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাইরের কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা যুদ্ধের সময় কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের নীতিমালা বা প্রবেশাধিকার পরিবর্তিত হলে তা দ্রুত সামরিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।

ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির টানাপোড়েন

স্টারলিংকের বিধিনিষেধ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের রাজনৈতিক সম্পর্কও আলোচনায় এসেছে। রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অসন্তুষ্ট বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেলেনস্কির অভিযোগ, ট্রাম্পের দেওয়া জ্বালানিসংক্রান্ত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মত না হলে ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধ করার হুমকি দিয়েছিল ওয়াশিংটন। তবে ট্রাম্প মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এই দাবি নাকচ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

যুদ্ধের ময়দানে গোয়েন্দা তথ্য, স্যাটেলাইট যোগাযোগ এবং সামরিক সহায়তা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব সহায়তার ধরন বা পরিমাণে পরিবর্তন এলে দেশটির সামরিক পরিকল্পনায় প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে স্টারলিংকের নতুন বিধিনিষেধকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক শুধু প্রযুক্তিগত বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকছে না; এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থান এবং ইউক্রেনকে সহায়তার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

যুক্তরাজ্য সফরে জেলেনস্কি, সামনে জ্বালানি ইস্যু

এদিকে বুধবার (১৪ অক্টোবর) এক সংক্ষিপ্ত সফরে যুক্তরাজ্যে যান জেলেনস্কি। সেখানে রাশিয়ার কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তিন লাখ টন ডিজেল আমদানি চুক্তির বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন তিনি। যুদ্ধের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ, নিষেধাজ্ঞা এবং রাশিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ইউক্রেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে রয়েছে।

জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা, যুদ্ধবিরতির শর্ত এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের অবস্থানের পার্থক্য দুই দেশের সম্পর্ককে জটিল করে তুলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে স্টারলিংকের নতুন বিধিনিষেধ নিয়ে কিয়েভের উদ্বেগ আরও গুরুত্ব পেয়েছে।

প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্ত, নাকি বৃহত্তর কৌশলের অংশ?

ইউক্রেনের অস্ত্রে স্টারলিংকের গতিসীমা আরোপের ঘটনা যুদ্ধের সময় বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। একটি স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক কীভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগ, ড্রোন পরিচালনা ও প্রতিরক্ষা কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে, তা এই ঘটনা আবারও সামনে এনেছে।

ইলন মাস্কের বক্তব্যে সামরিক ব্যবস্থার ওপর মার্কিন সরকারের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি উঠে এলেও নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ আরোপের পেছনে কী সিদ্ধান্তপ্রক্রিয়া কাজ করেছে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। একইভাবে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা রাজনৈতিক যোগসূত্রের সন্দেহ প্রকাশ করলেও এ বিষয়ে নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।

এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, স্টারলিংকের সংযোগসংক্রান্ত বিধিনিষেধ পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে কি না, ইউক্রেনের দ্রুতগতির ড্রোনগুলো আগের মতো সংযোগ পাবে কি না এবং ভবিষ্যতে যুদ্ধক্ষেত্রে এই নেটওয়ার্ক ব্যবহারের জন্য নতুন কোনো শর্ত আরোপ করা হবে কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে স্পেসএক্স, মার্কিন প্রশাসন এবং ইউক্রেনের পক্ষ থেকে পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত তথ্য ও সিদ্ধান্তের ওপর।

কালের আলো/এসএ