খুঁজুন
                               
, ,
           

সিজেপির দুই নেতাকে ৫ দিনের জেল হেফাজত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
সিজেপির দুই নেতাকে ৫ দিনের জেল হেফাজত
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে লোহার ফটক টপকে প্রবেশ করে জাতীয় পতাকা ও স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে পাঁচ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) সকালে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার পর দিল্লি পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে দলটির আরেক নেতা অজিঙ্ক শিন্ডেকে শান্তি ভঙ্গ না করার শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সিজেপি নেতাদের আটক ও জেল হেফাজতে পাঠানোর ঘটনায় সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কারণে তরুণদের কারাগারে পাঠানোকে তিনি কাপুরুষতা বলে মন্তব্য করেছেন।

যেভাবে যন্তর মন্তরে ঢোকেন সিজেপি নেতারা

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস ও অজিঙ্ক শিন্ডে পুলিশের নজর এড়িয়ে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করেন। ওই এলাকায় প্রবেশের সড়কগুলোতে ব্যারিকেড ও পুলিশি পাহারা ছিল। এর মধ্যেই লোহার ফটক টপকে সিজেপি নেতারা তাঁদের ১০ থেকে ১২ জন সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন।

যন্তর মন্তরে প্রবেশের পর তাঁরা জাতীয় পতাকা ওড়ান এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বাতিলের দাবিতে স্লোগান দেন। এ সময় ‘ভারত মাতা কি জয়’, ‘বন্দে মাতরম’ ও ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারবিরোধী স্লোগানও দেওয়া হয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ পরে তাঁদের আটক করে। দিনভর আটক রাখার পর গভীর রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সিজেপির অভিযোগ, আটক অবস্থায় দীর্ঘ সময় নেতাদের সঙ্গে আইনজীবীদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি এবং তাঁদের মুঠোফোনও নিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

পুলিশের যুক্তি, শর্ত ভেঙেছেন নেতারা

সিজেপির আইনজীবী অভীষ্ট হেলা গণমাধ্যমকে জানান, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে দিল্লি পুলিশ অভিযোগ করেছে, নেতারা ফোন করে যন্তর মন্তরে লোকজন জড়ো করেন এবং অনুমোদিত বিক্ষোভস্থল নয়—এমন একটি এলাকায় বেআইনিভাবে প্রবেশ করেন। তাঁদের মুক্তি দেওয়া হলে ভবিষ্যতে আবারও অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও পুলিশ যুক্তি দেয়।

পুলিশের দাবি, এর আগেও ওই নেতাদের আটক করা হয়েছিল। সে সময় শান্তি ভঙ্গ না করার মুচলেকা দিয়ে তাঁরা মুক্তি পান। কিন্তু যন্তর মন্তরে প্রবেশ করে বিক্ষোভ দেখানোর মাধ্যমে তাঁরা আগের শর্ত ভঙ্গ করেছেন।

এসব যুক্তির ভিত্তিতে আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে পাঁচ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, অজিঙ্ক শিন্ডেকে শান্তি ভঙ্গ না করার শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

‘ভিন্নমত দমন করতে চাইলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করুন’

দুই নেতাকে জেল হেফাজতে পাঠানোর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। তাঁর বক্তব্য, নেতারা যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কারণে কারাবন্দী হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘ওদের কী অপরাধ? ওরা তো যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা উড়িয়েছে?’ এরপর ভিন্নমত দমনের সমালোচনা করে তিনি জরুরি অবস্থা প্রকাশ্যে ঘোষণা করার চ্যালেঞ্জ জানান এবং সরকারের বিরুদ্ধে কাপুরুষোচিত কৌশলের আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ তোলেন।

রাহুল গান্ধীর প্রতিক্রিয়া

সিজেপি নেতাদের জেল হেফাজতে পাঠানোর ঘটনায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, শান্তিপূর্ণভাবে যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয়। এ কারণে তরুণদের কারাগারে পাঠানোকে তিনি কাপুরুষতার লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

রাহুল গান্ধী আরও বলেন, ছাত্র, যুবক, সাংবাদিক কিংবা ইন্ডিয়া জোট—আন্দোলনের ব্যানার আলাদা হলেও উদ্দেশ্য অভিন্ন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নাগরিকেরা নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার দাবি করছেন। যন্তর মন্তর দেশের জনগণের জায়গা উল্লেখ করে তিনি সেটি আবারও জনগণের জন্য ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সিজেপি ও ইন্ডিয়া জোটের আন্দোলন কি এক পথে?

সিজেপি ও বিরোধী জোট ইন্ডিয়া একই ধরনের দাবিতে আন্দোলন করলেও পৃথক কর্মসূচি পালন করায় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। দুই পক্ষের মধ্যে কোনো বিরোধ রয়েছে কি না, কিংবা তারা কেন একসঙ্গে আন্দোলন করছে না—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছিল।

গত মঙ্গলবার রাহুল গান্ধী তাঁর বাসভবনে আয়োজিত চা-চক্রের আমন্ত্রণপত্র এবং পরে গণমাধ্যমের সামনে এ নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেন। বুধবারের এক্স পোস্টেও তিনি জানান, ব্যানার আলাদা হলেও আন্দোলনের উদ্দেশ্য এক।

সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। নাগপুরে দুই পক্ষের বিরোধ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিজেপি একটি স্বাধীন চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বা ‘প্রেশার গ্রুপ’। দলটি নিজস্ব স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রাখবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে তারা ইন্ডিয়া জোটের বিরোধী।

অভিজিতের অভিযোগ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার নির্বাচন চুরির মাধ্যমে নরেন্দ্র মোদিকে ক্ষমতায় থাকতে সহায়তা করছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁরা আন্দোলন করছেন বলে জানান তিনি। তবে এটি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য ও অভিযোগ; এর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট প্রমাণ ও নির্বাচন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।

ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দল হবে সিজেপি?

সিজেপি ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে। জবাবে অভিজিৎ দিপক জানান, আপাতত এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা তাঁদের নেই। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সিজেপি স্বাধীন চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবেই কাজ করতে চায়।

যন্তর মন্তরে প্রবেশের ঘটনায় দুই নেতার জেল হেফাজত, রাহুল গান্ধীর প্রতিবাদ এবং সিজেপি-ইন্ডিয়া জোটের আন্দোলন নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য—সব মিলিয়ে ভারতের বিরোধী রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।

কালের আলো/এসএ

তিন ম্যাচে ২৩৮ রান, টি-টোয়েন্টিতে নতুন রেকর্ড পাকিস্তানি ফারহানের

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩০ অপরাহ্ণ
তিন ম্যাচে ২৩৮ রান, টি-টোয়েন্টিতে নতুন রেকর্ড পাকিস্তানি ফারহানের
তিন ম্যাচের দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সাহিবজাদা ফারহান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে ২৩৮ রান করে এই কীর্তি গড়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে ভারতের তরুণ ব্যাটার অভিষেক শর্মাকে পেছনে ফেলেছেন পাকিস্তানি এই ওপেনার।

টানা তিন ম্যাচে ফারহানের হাফ সেঞ্চুরি

রাওয়ালপিন্ডিতে বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৪৭ বলে ৭৬ রানের ইনিংস খেলেন ফারহান। তাঁর ইনিংসে ছিল ধারাবাহিক ব্যাটিংয়ের ছাপ। এ ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি করার মধ্য দিয়ে সিরিজে টানা তিনটি অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি।

তবে ফারহানের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের পরও ম্যাচটি জিততে পারেনি পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কার কাছে ৮ উইকেটে হেরে সিরিজের শেষ ম্যাচ শেষ করতে হয়েছে স্বাগতিকদের। আগের দুই ম্যাচ জিতে অবশ্য সিরিজ আগেই নিজেদের করে নিয়েছিল পাকিস্তান।

পেছনে পড়লেন অভিষেক শর্মা

তিন ম্যাচের দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজে সর্বোচ্চ রানের আগের রেকর্ডটি ছিল ভারতের অভিষেক শর্মার দখলে। চলতি বছরের শুরুতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে ২২৯ রান করেছিলেন তিনি। এবার ২৩৮ রান করে সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেলেন ফারহান।

এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন নিউজিল্যান্ডের কলিন মুনরো। ২০২৩-২৪ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে ২২৩ রান করেছিলেন তিনি। এরপর রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার, যাঁর রান ২১৭। আফগানিস্তানের হযরতউল্লাহ জাজাই ২০৪ রান নিয়ে আছেন তালিকার পরের অবস্থানে।

শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার দাপুটে জয়

সিরিজের শেষ ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে পাকিস্তান ৮ উইকেটে ১৬৮ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ১৭ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা। দলটির হয়ে কুশল মেন্ডিস ৪৭ বলে ৮৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। তাঁর ব্যাটিংয়ে ভর করে ৮ উইকেটের জয় তুলে নেয় সফরকারীরা। ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতেছেন মেন্ডিস।

ফলে ব্যক্তিগত ব্যাটিংয়ে রেকর্ড গড়েও শেষ ম্যাচে জয় পাননি ফারহান। তবে তিন ম্যাচে ২৩৮ রান করে সিরিজের ইতিহাসে নিজের নাম তুলে নিয়েছেন পাকিস্তানের এই অধিনায়ক।

কালের আলো/এসএ

অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয় বন্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চান নওশাদ জমির

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৮ অপরাহ্ণ
অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয় বন্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চান নওশাদ জমির

মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধীদের বিচার এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী ও কার্যকর আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন সংসদ সদস্য মুহাম্মদ নওশাদ জমির।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ষষ্ঠ কমিটিতে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান। বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

নওশাদ জমির প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক সনদে মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তিনটি সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান। এগুলো হলো—অপরাধের আলামত সংরক্ষণ ও সাক্ষীদের সুরক্ষায় সহযোগিতা, ভুক্তভোগীদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংহতি জোরদার করা।

রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে নওশাদ জমির বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কাঠামোয় ভুক্তভোগীদের আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর ভূমিকার যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদনে ওই সময়ে শিশুসহ প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণহানির তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে কি না, তা নির্ধারণে ফৌজদারি তদন্তের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সর্বজনীন বিচারিক এখতিয়ার প্রতিষ্ঠার আহ্বান

মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরা যাতে কোনো দেশে নিরাপদ আশ্রয় না পান, সে জন্য সর্বজনীন বিচারিক এখতিয়ার প্রতিষ্ঠা, অপরাধীদের প্রত্যর্পণ এবং আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান নওশাদ জমির।

একই সঙ্গে নারী ও শিশুদের ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নে আপসের বিষয়ে সতর্ক করে নওশাদ জমির বলেন, ‘সবাইকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে সনদকে দুর্বল করা হলে তা শেষ পর্যন্ত কাউকেই সুরক্ষা দিতে পারবে না।’

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

অস্ট্রেলিয়ায় ধবলধোলাই বাংলাদেশের মেয়েরা, শেষ ওয়ানডেতেও ৮ উইকেটে হার

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
অস্ট্রেলিয়ায় ধবলধোলাই বাংলাদেশের মেয়েরা, শেষ ওয়ানডেতেও ৮ উইকেটে হার

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচেও ঘুরে দাঁড়াতে পারল না বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। শারমিন আক্তার ও স্বর্ণা আক্তারের জোড়া অর্ধশতকের পরও অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৮ উইকেটে হেরেছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। এই হারে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হলো বাংলাদেশের মেয়েরা।

এর আগে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৭ উইকেট এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ৯ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচেও ব্যাটিং বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে না পারায় সিরিজে একটি জয়ও পাওয়া হলো না টাইগ্রেসদের।

শারমিন-স্বর্ণার ফিফটি, তবু ১৭২ রানেই শেষ বাংলাদেশ

ব্রিসবেনে টস জিতে বাংলাদেশকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠায় অস্ট্রেলিয়া। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ১৮ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি।

মুর্শিদা খাতুন ১, শারমিন সুলতানা ৬ এবং অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি মাত্র ৩ রান করে ফিরে যান। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা সোবহানা মোস্তারিও এদিন নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি। ২৪ বলে ৯ রান করে আউট হন তিনি।

এক প্রান্ত আগলে রেখে দলের ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন শারমিন আক্তার। সতর্ক ব্যাটিংয়ে ৯৩ বলে ৮টি চারের সাহায্যে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। তবে ব্যক্তিগত ৫০ রানেই থেমে যায় তাঁর ইনিংস। এরপর রিতু মনি ৯ রান করে ফিরলে আরও চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

স্বর্ণার লড়াই, কাজে এল না জোড়া অর্ধশতক

১১৫ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশের ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন স্বর্ণা আক্তার। তাঁকে সঙ্গ দেওয়ার চেষ্টা করেন রাবেয়া খান। তবে ১৬ বলে ১৩ রান করে বোল্ড হয়ে ফিরতে হয় রাবেয়াকে।

এরপরও হাল ছাড়েননি স্বর্ণা। এক প্রান্ত ধরে রেখে ব্যাটিং করে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। ৭১ বলে ৪টি চারের সাহায্যে ৫৪ রান করে আউট হন এই ব্যাটার। তাঁর বিদায়ের পর বাংলাদেশের দুইশ রানে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায়।

শেষ পর্যন্ত ৪৯.৫ ওভারে ১৭২ রানেই অলআউট হয় বাংলাদেশ। দিশা বিশ্বাস ১৩ রানে অপরাজিত থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন মেগান স্কাট। মাত্র ১৬ রান খরচায় ৪টি উইকেট নেন তিনি।

পেরি-সাদারল্যান্ডের ব্যাটে সহজ জয় অস্ট্রেলিয়ার

১৭৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে ৩৮ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। এতে কিছুটা লড়াইয়ের আশা দেখেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এরপর আর কোনো সুযোগ দেয়নি স্বাগতিকরা।

অভিজ্ঞ অ্যালিসা পেরি ও এনাবেল সাদারল্যান্ডের দায়িত্বশীল অথচ আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। পেরি ৬৪ বলে ৬৫ রান করেন। অন্যদিকে সাদারল্যান্ড মাত্র ৫২ বলে ৭৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। দুজনই অপরাজিত থেকে দলকে জয় এনে দিয়ে মাঠ ছাড়েন।

শেষ পর্যন্ত ১৭ বল বাকি থাকতেই ৮ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া। ফলে সিরিজের তিন ম্যাচেই বড় ব্যবধানে হেরে অস্ট্রেলিয়া সফর শেষ করতে হলো বাংলাদেশের মেয়েদের।

ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা কাটানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

শেষ ওয়ানডেতে শারমিন ও স্বর্ণার অর্ধশতক বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক দিক হলেও দলীয় সংগ্রহ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। শুরুতে দ্রুত উইকেট হারানো এবং মাঝের ওভারে জুটি গড়তে না পারার খেসারত দিতে হয়েছে দলকে।

অন্যদিকে, লক্ষ্য তাড়ায় দুই উইকেট হারানোর পরও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা যেভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন, তাতে দুই দলের ব্যাটিংয়ের পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে। তিন ম্যাচের সিরিজে একটিও জয় না পাওয়ায় বাংলাদেশের নারী দলের সামনে ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা ও চাপ সামলানোর সক্ষমতা বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ রয়ে গেল।

কালের আলো/এসএ