খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ৩ বছর, পিটিআইয়ের সক্ষমতা বাড়বে ৬ গুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ৩ বছর, পিটিআইয়ের সক্ষমতা বাড়বে ৬ গুণ
দেশের প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে শিক্ষক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রশিক্ষণের মেয়াদ আড়াই থেকে তিন বছর পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) বার্ষিক প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বর্তমানের প্রায় ৭ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৪২ হাজারে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এসব পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, শিক্ষকদের আধুনিক শিখনপদ্ধতিতে দক্ষ করে তোলা, প্রযুক্তিনির্ভর শ্রেণিকক্ষ গড়ে তোলা এবং প্রাথমিক শিক্ষার সামগ্রিক মান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে।

সাক্ষাৎকারে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ, মিড-ডে মিল, ডিজিটাল শিক্ষা এবং দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগের বিষয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রশিক্ষণের মেয়াদ বাড়ানোর পরিকল্পনা

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণব্যবস্থার নতুন কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানান, শিক্ষকদের দীর্ঘ সময় অপ্রশিক্ষিত অবস্থায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করার বর্তমান ধারায় পরিবর্তন আনতে চায় সরকার।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষকরা প্রথমে পিটিআইতে দুই মাসের আবাসিক বা ক্যাম্পাসভিত্তিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করবেন। এরপর শ্রেণিকক্ষে ফিরে পাঠদান শুরু করবেন। বাকি প্রশিক্ষণ নির্ধারিত সিলেবাস ও মডিউল অনুযায়ী অনলাইন ও অফলাইন পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে হবে।

প্রশিক্ষণের মডিউল ও পরীক্ষাগুলো পর্যায়ক্রমে শেষ করার জন্য আড়াই থেকে তিন বছর পর্যন্ত সময় নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তবে নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের জন্য এক বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরির কাজও এগিয়েছে। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) এ মডিউল তৈরির কাজ চূড়ান্ত করেছে বলে জানান তিনি। এ ব্যবস্থায় প্রথম দুই মাস পিটিআইতে সরাসরি প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর বাকি ১০ মাস অনলাইন ও অফলাইন পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হবে।

অর্থাৎ, একদিকে নতুন শিক্ষকদের জন্য এক বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণ মডিউল চালুর প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ কাঠামো আড়াই থেকে তিন বছর পর্যন্ত সম্প্রসারণের বিষয়টিও বিবেচনা করছে সরকার।

পিটিআইয়ের সক্ষমতা বাড়বে ছয় গুণ

বর্তমানে দেশের পিটিআইগুলোতে বছরে প্রায় ৭ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। এই সক্ষমতা বাড়িয়ে ৪২ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে বর্তমান সক্ষমতার তুলনায় ছয় গুণ বেশি শিক্ষককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণে শুধু পিটিআইয়ের ওপর নির্ভর করা হবে না। প্রয়োজনে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিভাগকেও এ কাজে যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষকদের আধুনিক শিক্ষণপদ্ধতি, শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা এবং শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক পাঠদানে দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়তে পারে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, নীতিগতভাবে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শিক্ষককে স্থায়ীভাবে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে নিয়োজিত রাখা যাবে না।

২০২৭ সালের মধ্যে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিলের লক্ষ্য

শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো, ঝরে পড়া কমানো এবং শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মিড-ডে মিল কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বর্তমানে দেশের ১৫০টি উপজেলায় এ কর্মসূচি চালু রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানান, বাকি উপজেলাগুলোতেও কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর কাজ শুরু হয়েছে। এ জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরির কাজ চলছে।

সরকারের লক্ষ্য, ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ শিশুর জন্য পুষ্টিকর দুপুরের খাবার নিশ্চিত করা।

কর্মসূচিটি দেশব্যাপী সম্প্রসারিত হলে বিদ্যালয়ে শিশুদের উপস্থিতি ধরে রাখা এবং পুষ্টির ঘাটতি মোকাবিলায় সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। তবে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, খাবারের মান নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ ও স্মার্ট ক্লাসরুম

প্রাথমিক শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ এবং ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি শুধু শিক্ষকদের হাতে ডিজিটাল ডিভাইস তুলে দেওয়ার প্রকল্প নয়; বরং শ্রেণিকক্ষের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ।

ববি হাজ্জাজ জানান, গুগলসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে শিক্ষকদের হাতে ট্যাব পৌঁছে দেওয়া হবে।

প্রযুক্তিনির্ভর এ ব্যবস্থার মাধ্যমে পাঠদানকে আরও আকর্ষণীয় করা, ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার এবং শিক্ষকদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি। প্রতিমন্ত্রী জানান, যেসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ নেই, সেসব প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন এবং ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ নিশ্চিত করার কাজ চলছে।

৩৬ হাজার ৯৬০ প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য, পদোন্নতির অপেক্ষা

দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ৩৬ হাজার ৯৬০টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকার বিষয়টিও সাক্ষাৎকারে উঠে আসে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির আইনি প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন আদালতের রায়ের চূড়ান্ত সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার অপেক্ষা রয়েছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে আগেই আলোচনা শুরু হয়েছে। রায়ের চূড়ান্ত কপি হাতে পাওয়ার পর প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নতুন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পথও উন্মুক্ত হবে। তখন বিপুলসংখ্যক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্রধান শিক্ষক পদে দীর্ঘদিনের শূন্যতা পূরণ করা গেলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম, শিক্ষক ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বইয়ের বোঝা কমিয়ে আনন্দদায়ক শিক্ষা

শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত বইয়ের চাপ কমিয়ে পাঠদানকে আনন্দদায়ক করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে (এনসিটিবি) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

পরিকল্পনায় গল্প বলার মাধ্যমে শেখানো এবং গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের মতো কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এর মাধ্যমে মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্রাথমিক স্তরে শিশুদের শেখার আগ্রহ তৈরি এবং শ্রেণিকক্ষে সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ানোকে এ উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হাওর, চর ও পাহাড়ে শিক্ষকদের জন্য বিশেষ সুবিধার ভাবনা

দেশের দুর্গম অঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক ধরে রাখা এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করাও সরকারের পরিকল্পনার অংশ। হাওর, চর ও দুর্গম পার্বত্য এলাকার শিক্ষকদের উৎসাহিত করতে বিশেষ ভাতা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

একই সঙ্গে এসব এলাকার শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সমস্যা কমাতে প্রয়োজনে আবাসিক বা রেসিডেন্সিয়াল স্কুল প্রতিষ্ঠা করা যায় কি না, তা নিয়েও নীতিগতভাবে ভাবছে সরকার।

দুর্গম এলাকার অনেক শিক্ষার্থীর জন্য বিদ্যালয়ে যাতায়াত বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। আবার যোগাযোগব্যবস্থা ও বসবাসের অসুবিধার কারণে এসব অঞ্চলে শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনও কঠিন হয়। বিশেষ ভাতা ও আবাসিক শিক্ষাব্যবস্থার মতো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।

বাস্তবায়নই হবে বড় চ্যালেঞ্জ

শিক্ষক প্রশিক্ষণের মেয়াদ ও সক্ষমতা বাড়ানো, সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল চালু, প্রযুক্তিনির্ভর শ্রেণিকক্ষ গড়ে তোলা এবং শিক্ষকস্বল্পতা কমানোর পরিকল্পনা প্রাথমিক শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তবে এসব উদ্যোগের সুফল পেতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত অর্থায়ন, প্রশিক্ষিত জনবল, মানসম্মত খাবার সরবরাহ, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং কার্যকর তদারকি। বিশেষ করে দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়গুলোকে সমান সুযোগের আওতায় আনা এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদের বাস্তব দক্ষতা বাড়ানো হবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সরকারের পরিকল্পনাগুলো নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়িত হলে প্রাথমিক শিক্ষার পরিবেশ ও পাঠদানের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। এখন এসব উদ্যোগের বাস্তবায়ন, অগ্রগতি এবং শিক্ষার্থীদের শেখার মানে এর প্রভাব কতটা পড়ে, সেদিকেই নজর থাকবে।

কালের আলো/এসএ

চিনি খাওয়া কমছে বাংলাদেশে, স্বাস্থ্যসচেতনতা নাকি ক্রয়ক্ষমতার সংকট?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
চিনি খাওয়া কমছে বাংলাদেশে, স্বাস্থ্যসচেতনতা নাকি ক্রয়ক্ষমতার সংকট?
বাংলাদেশে চিনির ব্যবহার ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেশে চিনির ব্যবহার কমেছে প্রায় ৩৩ শতাংশ। এই পরিবর্তনের পেছনে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, চিনির দাম এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো একাধিক কারণ কাজ করতে পারে। তবে চিনির ব্যবহার কমে যাওয়াকে সরাসরি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের বিস্তার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মানুষের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও এ প্রবণতার গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) হিসাব অনুযায়ী, ২০২১-২২ বিপণন মৌসুমে বাংলাদেশে চিনির ব্যবহার ছিল ২৭ লাখ ৬৭ হাজার টন। পরের মৌসুমে, অর্থাৎ ২০২২-২৩ সালে তা কমে দাঁড়ায় ২২ লাখ ৩৭ হাজার টনে। ২০২৩-২৪ মৌসুমে ব্যবহার আরও কমে ২০ লাখ ৪৫ হাজার টনে নেমে আসে। ২০২৪-২৫ মৌসুমে তা দাঁড়ায় ১৮ লাখ ৯০ হাজার টনে। আর ২০২৫-২৬ মৌসুমে চিনির ব্যবহার ১৮ লাখ ৬৩ হাজার টন হতে পারে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।

এই পরিসংখ্যান দেশের চিনির বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তবে মোট ব্যবহার কমার অর্থ এই নয় যে দেশের প্রত্যেক মানুষ আগের তুলনায় কম চিনি খাচ্ছেন। জনসংখ্যা, শিল্পকারখানায় চিনির ব্যবহার, খাদ্যপণ্যের উৎপাদন এবং বাজার পরিস্থিতিও সামগ্রিক চাহিদাকে প্রভাবিত করতে পারে।

ডায়াবেটিস ও অন্যান্য অসংক্রামক রোগ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

দেশে চিনির ব্যবহার কমার প্রবণতার পাশাপাশি ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের বিস্তার জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ২০১১ সালের প্রায় ৮৪ লাখ থেকে ২০২৪ সালে বেড়ে আনুমানিক ১ কোটি ৪০ লাখে পৌঁছেছে। অর্থাৎ এ সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ।

২০ থেকে ৭৯ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ডায়াবেটিসের হার ১৩ দশমিক ২ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আক্রান্তদের ৩৯ দশমিক ১ শতাংশের রোগ শনাক্ত হয়নি, সংখ্যায় যা প্রায় ৫৪ লাখ ২৬ হাজার। ফলে অনেক মানুষ রোগ সম্পর্কে না জেনেই দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন চালিয়ে যেতে পারেন।

উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ২০১১ সালে দেশে উচ্চ রক্তচাপের হার ছিল ২৬ শতাংশ, যা ২০১৭-১৮ সালের জরিপে বেড়ে ৪০ শতাংশে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, বাংলাদেশ হেপাটোলজি সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রতি তিনজনের একজন ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১ কোটি মানুষ সিরোসিসের ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও ফ্যাটি লিভারের বিস্তারের সঙ্গে চিনির ব্যবহার কমা বা বাড়ার সরাসরি সম্পর্ক নির্ধারণ করতে হলে আরও বিস্তারিত গবেষণা প্রয়োজন। এসব রোগের ঝুঁকিতে খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, বংশগত বৈশিষ্ট্য ও অন্যান্য জীবনযাপনসংক্রান্ত বিষয়ও ভূমিকা রাখে।

চায়ে চিনি কমালেই কি কমবে স্বাস্থ্যঝুঁকি?

চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ স্থূলতা ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ এবং খাদ্যাভ্যাসের সামগ্রিক ভারসাম্যহীনতা ফ্যাটি লিভার ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকির সঙ্গেও সম্পর্কিত। এ কারণে দৈনন্দিন খাবারে বাড়তি চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে অনেকের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে চা একটি নিয়মিত অনুষঙ্গ। চায়ে চিনি কমানো বা ধীরে ধীরে চিনি ছাড়া চা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা বাড়তি চিনি গ্রহণ কমানোর একটি উপায় হতে পারে। তবে শুধু চায়ের চিনির দিকে নজর দিলেই চলবে না। বিস্কুট, কেক, বেকারি পণ্য, কোমল পানীয়, মিষ্টি ও বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবারেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে চিনি থাকতে পারে।

খাদ্যপণ্যের লেবেল পড়ে চিনি বা যুক্ত চিনির পরিমাণ যাচাই করা, কোমল পানীয়ের পরিবর্তে পানি পান করা এবং সুষম খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তোলাও জরুরি। একই সঙ্গে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

চিনির দাম ও ক্রয়ক্ষমতার চাপও কি বড় কারণ?

চিনির ব্যবহার কমে যাওয়ার পেছনে স্বাস্থ্যসচেতনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক বাস্তবতাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। মূল্যস্ফীতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, খাবার ও অন্যান্য ব্যয় বেড়ে গেলে পরিবারগুলো খাদ্য কেনার ক্ষেত্রে নতুন করে হিসাব করতে বাধ্য হয়। সে ক্ষেত্রে চিনি ও চিনিযুক্ত খাবারের ব্যবহার কমে যেতে পারে।

তবে ব্যবহার কমার কতটা অংশ স্বাস্থ্যসচেতনতার কারণে এবং কতটা অংশ মূল্যস্ফীতি বা ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের কারণে ঘটেছে, তা নির্দিষ্টভাবে বলতে হলে ভোক্তাদের খাদ্যাভ্যাস, আয়, বাজারদর ও কেনাকাটার ধরন নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন। শুধু জাতীয় পর্যায়ের মোট ব্যবহার থেকে মানুষের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কারণ নিশ্চিত করা যায় না।

এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যসচেতনতার কারণে চিনি কমানো জনস্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। কিন্তু অর্থনৈতিক সংকটে মানুষ প্রয়োজনীয় খাবার বা পুষ্টিকর বিকল্প থেকেও বঞ্চিত হলে সেটিকে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের উন্নতি বলা যাবে না।

রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলের উৎপাদনেও বড় পরিবর্তন

দেশের চিনির বাজারে পরিবর্তনের আরেকটি দিক হলো রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোর উৎপাদন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ মৌসুমে এসব চিনিকলে উৎপাদন ছিল ৮২ হাজার টনের বেশি। ২০২২-২৩ মৌসুমে তা কমে মাত্র ২১ হাজার ৩১৪ টনে নেমে আসে। পরে ২০২৫-২৬ মৌসুমে নয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলে উৎপাদন দাঁড়ায় ৪৩ হাজার ৩২৬ টনে।

উৎপাদনের এই ওঠানামা চিনিশিল্পের সক্ষমতা, কাঁচামালের প্রাপ্যতা, উৎপাদন ব্যয় এবং বাজারের চাহিদা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করে। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলের উৎপাদন কমা এবং দেশের মোট চিনির ব্যবহার কমে যাওয়াকে একই ঘটনা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। দেশে চিনির সরবরাহে বেসরকারি খাত ও আমদানিরও ভূমিকা রয়েছে।

চিনির ব্যবহার কমা কি সত্যিই সুসংবাদ?

বাংলাদেশে চিনির ব্যবহার কমার প্রবণতা জনস্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে, যদি এর পেছনে থাকে সচেতনভাবে বাড়তি চিনি কমানো ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা। কিন্তু একই প্রবণতা যদি মূলত উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বাজারদর বৃদ্ধি ও ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার ফল হয়, তাহলে বিষয়টি ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।

তাই চিনির ব্যবহার কমার প্রকৃত কারণ বুঝতে বাজারের পরিসংখ্যানের পাশাপাশি মানুষের আয়, খাদ্যব্যয়, চিনিযুক্ত পণ্যের বিক্রি এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও ফ্যাটি লিভারের মতো রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে উৎসাহ দেওয়া জরুরি।

সব মিলিয়ে, দেশে চিনির ব্যবহার কমার পেছনে স্বাস্থ্যসচেতনতা ও অর্থনৈতিক চাপ—দুই কারণই ভূমিকা রাখতে পারে। কোনটির প্রভাব বেশি, তা নিশ্চিত করতে আরও তথ্য ও গবেষণা প্রয়োজন।

কালের আলো/এসএ

বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত সালাহউদ্দিন আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৫ অপরাহ্ণ
বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত সালাহউদ্দিন আহমেদ

দলীয় নেতাকর্মী, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় শেষ বিদায় জানানো হয়েছে বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদকে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর জুরাইন কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।

দাফনের পর তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় তাঁর ছেলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন সবার কাছে বাবার জন্য দোয়া চান।

বুধবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

প্রথম জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ নেওয়া হয় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজায় দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর, বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে সেখানে জড়ো হন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। জানাজাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। জানাজা শেষে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা ও উপস্থিত নেতাকর্মীরা সাবেক এই সংসদ সদস্যের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।

নয়াপল্টনে দ্বিতীয় জানাজা শেষে সালাহউদ্দিন আহমেদের মরদেহ নেওয়া হয় তাঁর নিজ এলাকা রাজধানীর শ্যামপুরের লাল মসজিদে। সেখানে বিকেল ৩টায় তাঁর তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় জুরাইন কবরস্থানে। বিকেল সাড়ে ৪টায় বাবার কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়। দাফন শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়।

নয়াপল্টনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জানাজায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, আব্দুস সালাম আজাদ ও হাবিব উন নবী খান সোহেল।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সহসম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, সমাজকল্যাণবিষয়ক সহসম্পাদক কাজী আবুল বাশার, শ্রমিক দলের সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মজনু, যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক গোলাম মওলা শাহীনসহ সহস্রাধিক নেতাকর্মী।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ৮টা ১০ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। তাঁর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা শোক প্রকাশ করেন।

মঙ্গলবার রাতে হাসপাতাল থেকে তাঁর মরদেহ রাজধানীর শ্যামপুরের বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে যান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ওয়ার্ল্ডশেফসের সদস্যপদ পেল বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
ওয়ার্ল্ডশেফসের সদস্যপদ পেল বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশন
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেফ ও রন্ধনশিল্পের পেশাজীবীদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব শেফস সোসাইটিসের (ওয়ার্ল্ডশেফস) ন্যাশনাল মেম্বারশিপ পেয়েছে বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশন (বিসিএফ)। এই সদস্যপদ অর্জনের ফলে বাংলাদেশের শেফ ও রন্ধনশিল্পের পেশাজীবীদের আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ, রন্ধন প্রতিযোগিতা এবং পেশাগত নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে দেশের রন্ধনশিল্পের বিকাশ এবং শেফদের দক্ষতা উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিসিএফের ওয়ার্ল্ডশেফসের ন্যাশনাল মেম্বারশিপ অর্জনের বিষয়টি ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ডশেফসের সনদপ্রাপ্ত মাস্টার শেফ ও বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা নাজিম খান।

এ সময় সংগঠনটির সভাপতি শহীদ শাহীন, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ মোশারফ এবং অর্থ সম্পাদক বায়েজিদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ

সংবাদ সম্মেলনে বিসিএফের প্রতিনিধিরা জানান, ওয়ার্ল্ডশেফসের সদস্যপদ বাংলাদেশের রন্ধনশিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে দেশের শেফরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেফদের সঙ্গে পেশাগত যোগাযোগ গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক রন্ধন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও বাড়বে।

রন্ধনশিল্পে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জন, নতুন কৌশল সম্পর্কে জ্ঞান লাভ এবং বৈশ্বিক পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রে এ সদস্যপদ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংগঠনটির প্রতিনিধিরা।

দক্ষ শেফ তৈরিতে উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের পরিকল্পনা

দেশের রন্ধনশিল্পের অগ্রগতি এবং শেফদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশন। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের দক্ষ রন্ধনশিল্পী তৈরি এবং এ পেশায় যুক্ত ব্যক্তিদের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও কাজ করবে সংগঠনটি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের পেশাগত নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের শেফরা নিজেদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ করতে পারবেন। এর ফলে দেশের রন্ধনশিল্পের মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পথও সুগম হতে পারে।

বিশ্বজুড়ে শেফদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ওয়ার্ল্ডশেফস

ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব শেফস সোসাইটিস বা ওয়ার্ল্ডশেফস বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেফ ও রন্ধনশিল্পের পেশাজীবীদের নিয়ে কাজ করা একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন। শেফদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পেশাগত উন্নয়নে সংগঠনটি ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশ কুলিনারি ফাউন্ডেশনের এই সদস্যপদ দেশের রন্ধনশিল্পের সঙ্গে যুক্ত পেশাজীবীদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। এখন প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত কার্যক্রমের মাধ্যমে এই সুযোগ কতটা কাজে লাগানো যায়, সেটিই হবে দেশের রন্ধনশিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

কালের আলো/এসএ