খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে আসছে নতুন কাঠামো

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৩ অপরাহ্ণ
প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে আসছে নতুন কাঠামো

প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে শিক্ষক প্রশিক্ষণের মেয়াদ আড়াই থেকে তিন বছর করার পরিকল্পনা করছে সরকার। পাশাপাশি, প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় ছয় গুণ বাড়িয়ে বছরে ৪২ হাজারে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এসব পরিকল্পনার কথা জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বাসসের বরাতে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে তিনি শিক্ষক প্রশিক্ষণ, নিয়োগ ও পদোন্নতি, শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, নতুন প্রশিক্ষণ কাঠামো অনুযায়ী শিক্ষকেরা প্রথমে পিটিআইতে দুই মাসের আবাসিক প্রশিক্ষণ নেবেন। এরপর শ্রেণিকক্ষে ফিরে গিয়ে নির্ধারিত সিলেবাস ও মডিউল অনুযায়ী বাকি প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষা পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করবেন। পুরো প্রক্রিয়া আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে বর্তমানে নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের জন্য এক বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরির কাজ চূড়ান্ত করেছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)। এই মডিউল অনুযায়ী, প্রথম দুই মাস পিটিআইতে প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষকেরা শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু করবেন। বাকি ১০ মাসের প্রশিক্ষণ অনলাইন ও অফলাইনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমানে পিটিআইগুলোর বার্ষিক প্রশিক্ষণ সক্ষমতা প্রায় সাত হাজার। তা বাড়িয়ে ৪২ হাজারে নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। প্রয়োজনে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিভাগগুলোকে এ কার্যক্রমে যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শিক্ষককে স্থায়ীভাবে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের দায়িত্বে রাখা হবে না।

২০২৭ সালের মধ্যে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিলের লক্ষ্য

শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়াতে আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল চালুর লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ১৫০টি উপজেলায় এ কর্মসূচি চালু আছে। অন্য উপজেলাগুলোতে কার্যক্রম সম্প্রসারণে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব তৈরির কাজ চলছে।

শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ

‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ ও স্মার্ট ক্লাসরুম উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, গুগলসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

দুর্গম এলাকার যেসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ নেই, সেখানে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সৌরবিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করার কাজও চলছে।

প্রধান শিক্ষক পদোন্নতি ও নতুন নিয়োগ

প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে প্রায় ৩৬ হাজার ৯৬০টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। আদালতের রায়ের চূড়ান্ত সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পদোন্নতি কার্যক্রম। এ বিষয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। চূড়ান্ত কপি পাওয়া গেলে পদোন্নতি প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পথও উন্মুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত বইয়ের চাপ কমানো, গল্পের মাধ্যমে শেখানো এবং গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের মতো কার্যক্রম যুক্ত করতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে (এনসিটিবি) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

হাওর, চর ও দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে শিক্ষকদের উৎসাহিত করতে বিশেষ ভাতা এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের অসুবিধা কমাতে আবাসিক বিদ্যালয় চালুর বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

পূজার বক্স অফিসে চার ছবির লড়াই, দেব–শুভশ্রীকে টক্কর দেবে কারা?

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
পূজার বক্স অফিসে চার ছবির লড়াই, দেব–শুভশ্রীকে টক্কর দেবে কারা?
পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপূজার উৎসব ঘিরে এবার প্রেক্ষাগৃহে জমতে যাচ্ছে বাংলা সিনেমার লড়াই। দেব–শুভশ্রীর নতুন জুটি, জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র একেনবাবুর রহস্যভেদ, ‘বহুরূপী’র নতুন পর্ব এবং সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ইতিহাসনির্ভর গল্প—সব মিলিয়ে দর্শকের সামনে থাকছে চারটি ভিন্ন স্বাদের সিনেমা। ১৫ ও ১৬ অক্টোবর থেকে ছবিগুলো প্রেক্ষাগৃহে আসতে শুরু করায় পূজার ছুটিতে কোনটি সবচেয়ে বেশি দর্শক টানবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বছরের প্রথম নয় মাসে পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পাওয়া বাংলা ছবির মধ্যে কিছু দর্শকের প্রশংসা পেয়েছে, আবার কিছু ছবি প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তবে বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য দুর্গাপূজার সময়টি বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। উৎসবের ছুটিতে মণ্ডপে ঘোরা, আড্ডা ও খাওয়াদাওয়ার পাশাপাশি সিনেমা দেখাও অনেকের পরিকল্পনার অংশ। সেই দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে টানতে এবার চারটি সিনেমা নিয়ে হাজির হচ্ছেন টালিউডের পরিচিত নির্মাতা ও তারকারা।

দেব–শুভশ্রীর প্রত্যাবর্তন, পরিচালনায়ও দেব

চারটি ছবির মধ্যে ‘দেশু৭’ ঘিরে অন্যতম বড় আকর্ষণ দেব ও শুভশ্রীর জুটি। গত বছরের আগস্টে ‘ধূমকেতু’ মুক্তির পর আবারও এই জুটিকে পর্দায় দেখার সুযোগ পাচ্ছেন দর্শকেরা। দীর্ঘ বিরতির পর তাঁদের একসঙ্গে পর্দায় ফেরার বিষয়টি ভক্তদের আগ্রহ বাড়িয়েছে।

তবে এবারের ছবিতে দেবের দায়িত্ব শুধু অভিনয়ে সীমাবদ্ধ নয়। ‘দেশু৭’ দিয়ে পরিচালক হিসেবেও অভিষেক হচ্ছে তাঁর। পাশাপাশি ছবিটির প্রযোজকও তিনি। অর্থাৎ অভিনয়, পরিচালনা ও প্রযোজনা—তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বই সামলাচ্ছেন দেব। ফলে এবারের দুর্গাপূজা তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

ছবিতে দেব ও শুভশ্রীর সঙ্গে অভিনয় করেছেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য। আরও রয়েছেন প্রিয়াঙ্কা সরকার, রজতাভ দত্ত, কাঞ্চন মল্লিক ও অপরাজিতা আঢ্য। রোমান্স ও অ্যাকশনের মিশেলে নির্মিত ছবিটি ১৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা।

দেব–শুভশ্রীর জনপ্রিয়তা এবং নতুন পরিচালক হিসেবে দেবের কাজ—দুটি বিষয়ই ছবিটির প্রতি দর্শকের আগ্রহ বাড়াতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত গল্প ও নির্মাণ কতটা দর্শককে আকৃষ্ট করতে পারে, সেটিই হবে বড় পরীক্ষা।

কেরালায় রহস্যভেদে একেনবাবু

দেব–শুভশ্রীর রোমান্স ও অ্যাকশনের বিপরীতে রহস্য আর হাস্যরসের স্বাদ নিয়ে আসছে ‘দ্য একেন: কেরালায় কুরুক্ষেত্র’। জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র একেনবাবুকে আবারও পর্দায় দেখা যাবে অনির্বাণ চক্রবর্তীর অভিনয়ে।

ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছে এক বিজ্ঞানীর অপহরণকে কেন্দ্র করে। ঘটনার রহস্য উন্মোচন করতে কেরালায় পৌঁছান একেনবাবু। তদন্তের পাশাপাশি তাঁর পরিচিত রসবোধ ও মজার পরিস্থিতিও গল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এসভিএফ প্রযোজিত এই ছবিতে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন ঋত্বিক চক্রবর্তী, সুব্রত দত্ত, অম্বরীশ ভট্টাচার্য ও কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়। রহস্যকাহিনির সঙ্গে হাস্যরসের সংমিশ্রণ এবং একেনবাবুর পরিচিত চরিত্র—দুটিই ছবিটির প্রধান আকর্ষণ।

বিশেষ করে পূজার ছুটিতে পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখতে যাওয়া দর্শকদের কাছে ছবিটি ভালো বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। পশ্চিমবঙ্গে ১৫ অক্টোবর মুক্তির কথা রয়েছে ‘দ্য একেন: কেরালায় কুরুক্ষেত্র’র। ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা পরদিন।

‘বহুরূপী’র সাফল্যের পর আরও বড় পরিসরে ‘দ্য গোল্ডেন ডাকু’

২০২৪ সালের দুর্গাপূজায় মুক্তি পাওয়া ‘বহুরূপী’ সাফল্যের পর এবার এর নতুন পর্ব নিয়ে ফিরছেন নির্মাতা নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। নতুন ছবির নাম ‘বহুরূপী দ্য গোল্ডেন ডাকু’। আগের ছবির জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে এবারও পূজার ছুটিকে মুক্তির জন্য বেছে নিয়েছেন তাঁরা।

আগের পর্বে বিক্রম প্রামাণিকের গল্প দর্শকের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছিল। নতুন ছবিতে ডাকাতির ঘটনা আরও বড় পরিসরে তুলে ধরার ইঙ্গিত দিয়েছেন নির্মাতারা। অ্যাকশন-থ্রিলারধর্মী এই ছবিতে অভিনয় করেছেন শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, সোহিনী সরকার ও কৌশানি মুখোপাধ্যায়।

ছবিটির অন্যতম আকর্ষণ যিশু সেনগুপ্ত ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মুখোমুখি অবস্থান। আগের ছবির সাফল্য নতুন পর্বের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করলেও দর্শকের প্রত্যাশাও এবার বেশি। পরিচিত গল্পের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নির্মাতারা কতটা নতুনত্ব আনতে পারেন, সেটিই হবে ছবিটির সাফল্যের অন্যতম নির্ধারক।

উইন্ডোজ প্রযোজিত ‘বহুরূপী দ্য গোল্ডেন ডাকু’ ১৫ অক্টোবর মুক্তি পাওয়ার কথা।

শরৎচন্দ্রের জীবন ও রাজনৈতিক চেতনায় সৃজিতের ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’

অ্যাকশন, রোমান্স ও গোয়েন্দা রহস্যের বাইরে ভিন্নধর্মী গল্প নিয়ে আসছেন নির্মাতা সৃজিত মুখোপাধ্যায়। তাঁর ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ ছবির কেন্দ্রে রয়েছেন বাংলা সাহিত্যের প্রভাবশালী কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। ছবিতে শরৎচন্দ্রের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন টোটা রায়চৌধুরী। তাঁর সাজপোশাক ও চরিত্রের উপস্থাপনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা হয়েছে।

নন্দী মুভিজ প্রযোজিত ছবিটিতে আরও অভিনয় করেছেন আবির চট্টোপাধ্যায় ও মিমি চক্রবর্তী। শরৎচন্দ্রের সাহিত্যিক পরিচয়ের পাশাপাশি তাঁর রাজনৈতিক চেতনা, ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং নির্ভীক ব্যক্তিত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন নির্মাতা।

ছবিটির মূল অনুপ্রেরণা শরৎচন্দ্রের উপন্যাস ‘পথের দাবী’। ব্রিটিশবিরোধী রাজনৈতিক ভাবনা ও বিপ্লবী চেতনার কারণে উপন্যাসটি তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের বিরাগভাজন হয়েছিল। ১৯২৭ সালের জানুয়ারিতে বইটি নিষিদ্ধ করা হয়।

‘পথের দাবী’ প্রকাশের শতবর্ষকে সামনে রেখে নির্মিত ছবিটি ইতিহাস ও সাহিত্যপ্রেমী দর্শকদের আগ্রহের কারণ হতে পারে। ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ ১৫ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা।

পূজার বক্স অফিসে শেষ হাসি কার?

চারটি ছবির গল্প, ঘরানা ও তারকাদের উপস্থিতি আলাদা। ‘দেশু৭’ ভরসা করছে দেব–শুভশ্রীর জনপ্রিয়তা এবং দেবের নতুন পরিচালকের পরিচয়ের ওপর। ‘দ্য একেন: কেরালায় কুরুক্ষেত্র’ এগিয়ে থাকতে পারে রহস্য ও হাস্যরসের সমন্বয়ে। ‘বহুরূপী দ্য গোল্ডেন ডাকু’ কাজে লাগাতে চাইবে আগের ছবির সাফল্য, আর ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ দর্শক টানতে পারে ইতিহাস ও সাহিত্যনির্ভর কাহিনির মাধ্যমে।

তবে তারকাখ্যাতি কিংবা আগের ছবির সাফল্যই বক্স অফিসের চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করবে না। দর্শকের মুখে মুখে প্রশংসা, গল্পের গ্রহণযোগ্যতা এবং উৎসবের দিনগুলোতে প্রেক্ষাগৃহে উপস্থিতিই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। উদ্বোধনী দিনের ভিড়ের পর কোন ছবি দর্শকের মন জয় করে এগিয়ে যায়, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।

কালের আলো/এসএ

মেরুদণ্ডে চোট, অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হওয়ার লড়াইয়ে নুসরাত ভারুচা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
মেরুদণ্ডে চোট, অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হওয়ার লড়াইয়ে নুসরাত ভারুচা

বালিতে দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ডে চোট, এরপর অস্ত্রোপচার—কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন বলিউড অভিনেত্রী নুসরাত ভারুচা। বর্তমানে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। তবে শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও মনোবল হারাননি অভিনেত্রী। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে শাহরুখ খান ও কাজল অভিনীত সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘গেরুয়া’ দেখে মুখে হাসি ফুটেছে তাঁর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই মুহূর্তের ভিডিও ভাগ করে নিজের সুস্থ হয়ে ওঠার খবরও জানিয়েছেন নুসরাত।

শাহরুখ-কাজলের গানেই ফিরল হাসি

সম্প্রতি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন নুসরাত ভারুচা। সেখানে দেখা যায়, হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে টেলিভিশনে গান দেখছেন তিনি। শাহরুখ খান ও কাজল অভিনীত ‘দিলওয়ালে’ সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘গেরুয়া’ চলছিল পর্দায়। গানটি দেখতে দেখতে অসুস্থতার মধ্যেও তাঁর মুখে ফুটে ওঠে হালকা হাসি।

ভিডিওতে হাসপাতালের কর্মীদের তাঁকে খাবার খেতে সাহায্য করতেও দেখা যায়। চিকিৎসা ও বিশ্রামের মধ্যে থাকা নুসরাতের এই ছোট্ট মুহূর্ত ভক্তদের কাছে হয়ে উঠেছে স্বস্তির খবর। শারীরিক কষ্টের মধ্যেও প্রিয় তারকাদের গান তাঁকে যে কিছুটা আনন্দ দিয়েছে, তা তাঁর অভিব্যক্তিতেই স্পষ্ট।

‘ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছি’

ভিডিওটির সঙ্গে নুসরাত লিখেছেন, ‘আর এভাবেই শাহরুখ খান ও কাজল আমার মুখে হাসি ফুটিয়ে দেন। মনে করিয়ে দেন, পরিস্থিতি ভালো হয়, ধীরে ধীরে হলেও হয়। সুস্থ হয়ে উঠছি ধীরে ধীরে, স্বপ্ন দেখছি অফুরন্ত।’

অভিনেত্রীর এই বার্তায় কঠিন সময়েও আশাবাদী থাকার চেষ্টা ফুটে উঠেছে। সুস্থ হয়ে ওঠার দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্যে ছোট ছোট আনন্দ যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তাঁর পোস্ট যেন সেই কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে।

নুসরাতের এই ভিডিও প্রকাশের পর তাঁর অনুরাগীদের মধ্যেও স্বস্তি দেখা দিয়েছে। ভক্তরা তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন। যদিও অস্ত্রোপচারের পর পুরোপুরি সুস্থ হতে আরও সময় ও চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে, তবু অভিনেত্রীর ইতিবাচক মনোভাব অনুরাগীদের আশাবাদী করছে।

সূর্যাস্তের ছবি দিয়ে দিয়েছিলেন বার্তা

এর আগেও ইনস্টাগ্রামে নিজের শারীরিক অবস্থার ইঙ্গিত দিয়ে একটি ছবি প্রকাশ করেছিলেন নুসরাত। ছবিতে জানালার পাশে হেলান দেওয়া একটি হুইলচেয়ার দেখা যায়। জানালার বাইরে ছিল সূর্যাস্তের দৃশ্য। ছবিটির সঙ্গে অভিনেত্রী লিখেছিলেন, ‘সারা জীবন সূর্যাস্তের পেছনে ছুটেছি। আর হঠাৎ করেই আমার দেখার দৃশ্যটা বদলে গেল। তবে বন্ধু, সিনেমার গল্প এখনো বাকি।’

নুসরাতের এই কথায় জীবনের আকস্মিক পরিবর্তন ও প্রতিকূলতার মধ্যেও সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় প্রকাশ পেয়েছে। কাজের ব্যস্ততায় যিনি নিয়মিত শুটিং ও সিনেমার প্রচারণায় সময় কাটান, তাঁকে এখন হাসপাতালের কক্ষে থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

বালিতে দুর্ঘটনা, মুম্বাইয়ে অস্ত্রোপচার

কাজের সূত্রে ছুটি কাটাতে বালিতে গিয়েছিলেন নুসরাত ভারুচা। সেখানেই দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। মেরুদণ্ডে চিড় ধরায় প্রথমে বালির একটি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে মুম্বাইয়ে ফিরিয়ে আনা হয়। সেখানে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।

বর্তমানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন অভিনেত্রী। মেরুদণ্ডের চোট থেকে সেরে উঠতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও নিয়মিত চিকিৎসা প্রয়োজন। এ ধরনের চোটের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সময় লাগতে পারে। তাই আপাতত নিজের শারীরিক সুস্থতাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

এখন কাজ নয়, সুস্থ হয়ে ওঠাই অগ্রাধিকার

নুসরাত ভারুচাকে সম্প্রতি বড় পর্দায় দেখা গেছে ‘উফ ইয়ে সিয়াপ্পা’ ছবিতে। সিনেমাটিতে তাঁর সঙ্গে অভিনয় করেছেন সোহম শাহ ও নোরা ফাতেহি। তবে দুর্ঘটনা ও অস্ত্রোপচারের পর আপাতত নতুন কাজের চেয়ে সুস্থ হয়ে ওঠাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

বলিউডে নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া নুসরাতের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শারীরিকভাবে পুরোপুরি সেরে ওঠা। হাসপাতালের বিছানায় বসে প্রিয় গানের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা সূর্যাস্তের ছবি ভাগ করে নেওয়া—এসব ছোট ছোট মুহূর্তের মধ্য দিয়েই তিনি কঠিন সময় পার করার চেষ্টা করছেন।

ভক্তদের প্রত্যাশা, চিকিৎসা ও বিশ্রামের মাধ্যমে দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও পর্দায় ফিরবেন নুসরাত। আপাতত তাঁর বার্তায় উঠে এসেছে ধৈর্য, আশা এবং জীবনের প্রতি নতুন করে ইতিবাচক থাকার কথা।

কালের আলো/এসএ

কারখানায় আগুন ও শ্রমিক বিক্ষোভে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে তীব্র যানজট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩০ অপরাহ্ণ
কারখানায় আগুন ও শ্রমিক বিক্ষোভে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে তীব্র যানজট

গাজীপুরের টঙ্গীতে ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কারখানায় অগ্নিকাণ্ড এবং রাজধানীর উত্তরার আজমপুরে পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধের ঘটনায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও চালকেরা।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে আজমপুর এলাকায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। সকাল থেকেই সেখানে শ্রমিকেরা জড়ো হতে থাকেন। পরে তাঁরা মহাসড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

অন্যদিকে, টঙ্গীর চেরাগআলীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ছয়তলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল আরও ব্যাহত হয়। আগুনের খবর পেয়ে প্রথমে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরে আশপাশের বিভিন্ন স্টেশন থেকে আরও ১৭টি ইউনিট যোগ দেয়। মোট ২০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, কারখানার ভেতরে ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ থাকায় আগুনের তীব্রতা বেড়েছে। সেখানে উৎপাদনযন্ত্র, রাসায়নিক ও অন্যান্য শিল্পসামগ্রী থাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা শাহীন আলম জানান, অগ্নিকাণ্ডে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং আগুনের সূত্রপাত কীভাবে, তা আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর তদন্ত করে জানা যাবে।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরাও কাজ করছেন।

দুটি ঘটনার কারণে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি