খুঁজুন
                               
, ,
           

বদলাচ্ছে পারিবারিক বাজেট, ছোট হচ্ছে সঞ্চয়ের সুযোগ

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ
বদলাচ্ছে পারিবারিক বাজেট, ছোট হচ্ছে সঞ্চয়ের সুযোগ

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের সঙ্গে তাল মেলাতে সংসারের বাজেট নতুন করে সাজাতে হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে। চাল, ডাল, তেল, সবজি ও মাছ-মাংসের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যে আয়ের বড় অংশ ব্যয় হওয়ায় শিক্ষা, চিকিৎসা, যাতায়াত ও সঞ্চয়ের মতো অন্যান্য খাতে খরচের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হচ্ছে অনেককে। মূল্যস্ফীতির ওঠানামার মধ্যেও বাজারে পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার প্রত্যাশা বাড়ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতির প্রভাব শুধু বাজারের কেনাকাটায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিবারের সামগ্রিক ব্যয় পরিকল্পনা ও জীবনযাত্রার ওপরও প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে যেসব পরিবারের আয়ের বড় অংশ খাদ্যপণ্যে ব্যয় হয়, তাদের ক্ষেত্রে নিত্যপণ্যের দামের পরিবর্তনও মাসিক বাজেটে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

  • মজুরি বৃদ্ধির চেয়ে মূল্যস্ফীতি বেশি
  • আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সমন্বয়ে সতর্ক নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা
  • মাসিক বাজেটে গুরুত্ব পাচ্ছে প্রয়োজনীয় খাত

ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক চাকরিজীবী জানান, কয়েক মাস আগেও মাসের বাজার করতে আট থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হতো। এখন একই ধরনের কেনাকাটায় ব্যয় হচ্ছে ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকা। অথচ গত দুই বছরে বেতন বাড়েনি। এর সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে যাতায়াত ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে সংসারের প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে প্রতি মাসেই নতুন করে হিসাব করতে হচ্ছে।

শহরের পাশাপাশি গ্রামেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় নিয়ে ভাবতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে। আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখতে অনেকেই কেনাকাটার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করছেন। একই সঙ্গে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়ের সুযোগ ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মূল্যস্ফীতির হারে ওঠানামা
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে দেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.১৬ শতাংশ। জুলাইয়ে তা কমে ৮.৩২ শতাংশ এবং আগস্টে ৮.২৬ শতাংশে দাঁড়ায়। সেপ্টেম্বরে আবার সামান্য বেড়ে হয় ৮.৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ, আগের দুই মাসে মূল্যস্ফীতির হার কমার পর সেপ্টেম্বরে তাতে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।

খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। বিবিএসের তথ্যমতে, আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭.০২ শতাংশ, সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭.২২ শতাংশে। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি আগস্টের ৯.৩২ শতাংশ থেকে কমে সেপ্টেম্বরে ৯.৩০ শতাংশ হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতির হার কমার অর্থ বাজারে পণ্যের দাম আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া নয়। বরং দাম বাড়ার গতি কমলেও পণ্যের মূল্য আগের তুলনায় বেশি থাকতে পারে। ফলে মূল্যস্ফীতি কমার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকাও সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

মজুরি বৃদ্ধির সঙ্গে ব্যয়ের সমন্বয়
বিবিএসের তথ্যানুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সাধারণ মজুরি সূচকের বার্ষিক বৃদ্ধির হার ছিল ৭.৯০ শতাংশ। আগের মাসে তা ছিল ৮.০৫ শতাংশ এবং জুলাইয়ে ৮.২২ শতাংশ। একই সময়ে সেপ্টেম্বরে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ, মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে ০.৪৪ শতাংশীয় পয়েন্ট কম ছিল।

এই ব্যবধান পরিবারের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। আয় যে হারে বাড়ছে, তার তুলনায় পণ্য ও সেবার ব্যয় বেশি বাড়লে একই আয় দিয়ে আগের মতো কেনাকাটা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ব্যয় পরিকল্পনা করতে হচ্ছে। জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ও পণ্যের দামের সঙ্গে সম্পর্কিত। পরিবহন ব্যয় বাড়লে কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য বাজারে পৌঁছানোর খরচ বাড়তে পারে। পাশাপাশি উৎপাদন, সংরক্ষণ ও সরবরাহব্যবস্থার ব্যয় এবং আমদানি পণ্যের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়হার ও বন্দর ব্যয়ও বাজারদরে প্রভাব ফেলতে পারে।

সঞ্চয় ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ
মূল্যস্ফীতির প্রভাবে পরিবারের নিয়মিত ব্যয়ের পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা এবং ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য সঞ্চয় ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে মাসিক খরচ বাড়লে সঞ্চয়ের সুযোগ সংকুচিত হতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে মূল্যস্ফীতি মজুরি বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে গেলে মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা চাপে পড়তে পারে। তাই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষার সুযোগ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।

সামগ্রিকভাবে, মূল্যস্ফীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবারের বাজেট ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বাজারে পণ্যের নিয়মিত সরবরাহ ও মূল্যস্থিতির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি হলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যয় পরিকল্পনা সহজ হবে এবং শিক্ষা, চিকিৎসা ও সঞ্চয়ের মতো প্রয়োজনীয় খাতে অর্থ বরাদ্দের সুযোগ বাড়তে পারে।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

তারেক রহমানকে ঘিরে ৪১০টি অপতথ্য, ৯৭ শতাংশই বিএনপিকে নিয়ে ছড়ানো অপতথ্য নেতিবাচক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২০ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানকে ঘিরে ৪১০টি অপতথ্য, ৯৭ শতাংশই বিএনপিকে নিয়ে ছড়ানো অপতথ্য নেতিবাচক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে অন্তত ৪১০টি অপতথ্য শনাক্ত করেছে ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানার। এসব অপতথ্যের প্রায় ৮৭ শতাংশই ছিল তাঁর জন্য নেতিবাচক। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত ফ্যাক্টচেক ও বিভিন্ন প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

রিউমার স্ক্যানারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে রাজনৈতিক অপতথ্য ছড়ানোর প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—তৃতীয় প্রান্তিকে বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়া ১ হাজার ১৮৯টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি।

শনাক্ত হওয়া এসব ভুল তথ্যের প্রায় ৬১ শতাংশই ছিল রাজনৈতিক। সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে দেশে ছড়িয়ে পড়া ৪ হাজার ৩৯৯টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে রিউমার স্ক্যানার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি।

বিএনপিকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি অপতথ্য

রিউমার স্ক্যানারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি অপতথ্যের শিকার হয়েছে বিএনপি। দলটি, এর সহযোগী সংগঠন এবং নেতাকর্মীদের ঘিরে মোট ১ হাজার ১৫৮টি অপতথ্য শনাক্ত করা হয়েছে। এসব অপতথ্যের প্রায় ৯৭ শতাংশই ছিল নেতিবাচক।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ৪১০টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। তাঁর সম্পর্কে ছড়ানো অপতথ্যসংবলিত কনটেন্ট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এর প্রায় ৮৭ শতাংশই ছিল নেতিবাচক।

বিএনপি সরকারকে ঘিরে ৪৯১টি অপতথ্য

রিউমার স্ক্যানারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি সরকারকে জড়িয়ে প্রথম তিন প্রান্তিকে মোট ৪৯১টি অপতথ্য শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে সরকার, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যক্তি এবং সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে ১৮৬টি অপতথ্য শনাক্ত হয়। আগের দুই প্রান্তিকে এ সংখ্যা ছিল ৩০৫।

সরকারকে ঘিরে শনাক্ত হওয়া এসব অপতথ্যের প্রায় ৯২ দশমিক ৫ শতাংশই ছিল নেতিবাচক।

ফটোকার্ড ব্যবহার করে অপপ্রচার

রিউমার স্ক্যানার জানিয়েছে, গণমাধ্যমের নাম, লোগো ও শিরোনাম ব্যবহার করে ভুল তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে গণমাধ্যমের ফটোকার্ড ব্যবহার করে অপপ্রচার ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর ভিত্তিতে এসব পরিসংখ্যান তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

গুজব, ভুয়া খবর ও অপতথ্য শনাক্ত করার পাশাপাশি জনসাধারণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে কাজ করছে রিউমার স্ক্যানার। প্রতিষ্ঠানটির এসব পরিসংখ্যান দেশে রাজনৈতিক তথ্যপ্রবাহ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ছড়ানোর প্রবণতা সম্পর্কে একটি চিত্র তুলে ধরেছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

টেস্ট ক্রিকেটে ইতিহাস গড়লেন লিটন, ভাঙলেন ৬০ বছরের রেকর্ড

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১১ অপরাহ্ণ
টেস্ট ক্রিকেটে ইতিহাস গড়লেন লিটন, ভাঙলেন ৬০ বছরের রেকর্ড

আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টে ব্যাট ও গ্লাভস হাতে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন দাস। একই টেস্টে এক ইনিংসে সেঞ্চুরি, অন্য ইনিংসে ফিফটি করার পাশাপাশি উইকেটের পেছনে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯টি ডিসমিসাল করে ইতিহাস গড়েছেন তিনি।

ম্যাচের প্রথম ইনিংসে লিটনের ব্যাট থেকে আসে ৫৩ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেন ১০২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। ব্যাট হাতে দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি উইকেটকিপিংয়েও ছিলেন দুর্দান্ত। দুই ইনিংস মিলিয়ে ক্যাচ ও স্টাম্পিংয়ের মাধ্যমে মোট ৯টি ডিসমিসাল করেন এই বাংলাদেশি ক্রিকেটার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে একই ম্যাচে দুই ইনিংসে অন্তত একটি ফিফটি ও একটি সেঞ্চুরি করার পাশাপাশি ৯টি ডিসমিসালের এমন নজির আগে কোনো উইকেটরক্ষকের ছিল না।

এর আগে এই ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৮টি ডিসমিসালের রেকর্ড ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটরক্ষক ডেনিস লিন্ডসের। ১৯৬৬ সালে তিনি এই কীর্তি গড়েছিলেন। লিটনের অসাধারণ পারফরম্যান্সে সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাস।

বাংলাদেশের ক্রিকেটেও লিটনের এই অর্জন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০০৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে পেশোয়ার টেস্টে খালেদ মাসুদ পাইলট এক ম্যাচে ৮টি ডিসমিসাল করে বাংলাদেশের হয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে অক্ষুণ্ণ থাকা সেই রেকর্ডও এবার ছাড়িয়ে গেলেন লিটন।

ব্যাটিং ও উইকেটকিপিং—দুই বিভাগেই এমন অসাধারণ পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্যের আরেকটি উজ্জ্বল স্বাক্ষর রাখলেন বাংলাদেশের এই তারকা ক্রিকেটার। তাঁর এই কীর্তি বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও গর্বের এক অর্জন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

পুড়ে ছাই মনসুর খান প্লাজা, অনিশ্চয়তায় শত ব্যবসায়ীর ভবিষ্যৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৫ অপরাহ্ণ
পুড়ে ছাই মনসুর খান প্লাজা, অনিশ্চয়তায় শত ব্যবসায়ীর ভবিষ্যৎ

পুরান ঢাকার চকবাজারের ছোট কাটারা গলিতে অবস্থিত মনসুর খান প্লাজায় এক দিন আগেও ছিল বেচাকেনার ব্যস্ততা। ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও ক্রেতাদের আনাগোনায় মুখর থাকা মার্কেটটি এখন পরিণত হয়েছে পোড়া ধ্বংসস্তূপে। আগুনে ভবনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে পুড়ে যাওয়া মালামাল। দীর্ঘদিনের ব্যবসা, পুঁজি ও জীবিকার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত মার্কেটের চারপাশ নিরাপত্তাবেষ্টনী দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। বাইরে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পোড়া মালামাল থেকে এখনো ধোঁয়ার গন্ধ ভেসে আসছে। কোথাও পড়ে আছে পুড়ে যাওয়া পণ্য, কোথাও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান ও গুদামের ধ্বংসাবশেষ।

ফায়ার সার্ভিসের প্রায় সাড়ে ১২ ঘণ্টার অভিযান শেষে মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও পুরোপুরি নির্বাপণের কাজ শেষ হয়নি। ভবনের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ধোঁয়া ও তাপের কারণে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে উদ্ধারকর্মীদের।

এক রাতেই বদলে গেল মার্কেটের চিত্র

মনসুর খান প্লাজায় আগের দিনও স্বাভাবিক বেচাকেনা চলছিল। কিন্তু ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। যে দোকানগুলোতে পণ্য বিক্রি নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটত, সেসব দোকানের অনেকগুলো এখন আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত। ব্যবসায়ীদের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁদের পণ্যের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং সামনে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত দোকান ও গুদামের অবস্থা দেখতে মার্কেটে আসতে শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। তবে অনেকেই তাৎক্ষণিকভাবে হিসাব করতে পারছেন না, আগুনে কত টাকার পণ্য নষ্ট হয়েছে। পোড়া মালামালের মধ্যে নিজেদের শেষ সম্বল খুঁজছেন কেউ কেউ।

মার্কেটের একটি ব্যাগের দোকানের কর্মচারী সাজিদ জানান, সেখানে তাঁর মালিকের ব্যাগের দোকান রয়েছে। আগের দিনও দোকানে বেচাকেনা হয়েছে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সবকিছু বদলে গেছে।

সেহজাদ নামে এক ব্যবসায়ী জানান, সকালে ষষ্ঠতলায় উঠে চারপাশে পোড়া মালামাল পড়ে থাকতে দেখেছেন। দীর্ঘদিন ধরে গড়ে তোলা ব্যবসা এভাবে অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে, তা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ষষ্ঠতলা

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, মনসুর খান প্লাজার পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায় বিভিন্ন ধরনের পণ্যের গুদাম ছিল। বিশেষ করে ষষ্ঠতলার গুদামগুলোতে বিপুল পরিমাণ মালামাল মজুত থাকায় আগুন পুরোপুরি নেভানোর কাজ জটিল হয়ে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ঢাকা বিভাগের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান জানান, ষষ্ঠতলায় ১২ থেকে ১৪টি বড় গুদাম রয়েছে। এর মধ্যে সাত থেকে আটটিতে আগুন লাগে। এসব গুদামে ছাতা, কসমেটিকস, আতরের বোতল ও আতরসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য মজুত ছিল।

গুদামগুলো পণ্যে পরিপূর্ণ থাকায় আগুন নেভানোর কাজ সহজ ছিল না বলে জানান তিনি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরও গুদামের ভেতরে থাকা মালামাল সরানো এবং বিভিন্ন স্থানে পানি দেওয়ার কাজ চলতে থাকে।

মালামালের নিচে জমে থাকা তাপ নিয়ে শঙ্কা

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, গুদামে স্তূপ করে রাখা পণ্যের নিচে তাপ জমে থাকতে পারে। এ কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরও পুনরায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুদামগুলো পরীক্ষা করে পানি দেওয়ার পাশাপাশি পণ্য সরানোর কাজ চলছে।

ভবনের ভেতরে জমে থাকা ধোঁয়া ও তাপও উদ্ধারকাজকে জটিল করে তুলেছে। ফলে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ এবং ভবনের বিভিন্ন অংশ নিরাপদ কি না, তা নিশ্চিত করতে সময় লাগছে।

সরু রাস্তা ও পানির সংকটে ব্যাহত হয় অভিযান

অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসকে বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। সরু রাস্তার কারণে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছাতে দেরি হয়। ভবনের ভেতরে ধোঁয়া বের হওয়ার পর্যাপ্ত পথ না থাকা এবং দোকানের শাটার ভাঙতে বেগ পেতেও আগুন নেভানোর কাজে বাধা সৃষ্টি হয়।

এ ছাড়া পানির উৎস সীমিত থাকায় অভিযান পরিচালনায় বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এসব প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের মতে, ভবনের ভেতরে বিপুল পরিমাণ দাহ্য ও অন্যান্য পণ্য মজুত থাকায় আগুন নেভানোর কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

অন্য তলাতেও সতর্কতা, মালামাল সরাচ্ছেন কর্মচারীরা

অগ্নিকাণ্ডের পর ভবনের অন্যান্য তলাতেও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে বিভিন্ন দোকান থেকে মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন কর্মচারীরা। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কেট ও আশপাশের দোকানগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ করছেন ডেসকোর কর্মীরা।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান জানান, মানুষের আশঙ্কা অনুযায়ী পুরো মার্কেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। ভবনের ষষ্ঠতলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আর সপ্তম তলায় ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলক কম। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের প্রচেষ্টায় আশপাশের মার্কেটগুলোকে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আগুনের কারণ এখনো অজানা

মনসুর খান প্লাজায় আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভবনে বিদ্যুতের সংযোগ থাকায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না ফায়ার সার্ভিস। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।

কাজী নজমুজ্জামান জানান, আগুন নির্বাপণের কার্যক্রম চলমান থাকায় অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনই বলা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের পর আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে জানা যাবে।

ব্যবসায়ীদের সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

মনসুর খান প্লাজার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি। কত দোকান ও গুদামের পণ্য নষ্ট হয়েছে, কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং ব্যবসায়ীরা কবে নাগাদ স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে পারবেন—এসব প্রশ্নের উত্তরও এখনো স্পষ্ট নয়।

দীর্ঘদিনের পুঁজি ও ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল ব্যবসায়ী এবং কর্মচারীদের জন্য এই অগ্নিকাণ্ড বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর প্রকৃত অবস্থা, ক্ষতির পরিমাণ এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণ নির্ধারণে তদন্ত ও পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে তাকিয়ে আছেন তাঁরা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি