খুঁজুন
                               
, ,
           

এনসিপিতে বড় পরিবর্তন, কে পাচ্ছেন কোন পদ?

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ণ
এনসিপিতে বড় পরিবর্তন, কে পাচ্ছেন কোন পদ?

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাংগঠনিক কাঠামোয় আসছে বড় ধরনের রদবদল। দল গঠনের দুই বছর পূর্তিকে সামনে রেখে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য প্রথম কাউন্সিলের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন পরিকল্পনায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদ বাদ দেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যসংখ্যা ১৫১ জনে নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

দলীয় সূত্রগুলোর দাবি, পুনর্গঠিত কমিটিতে শীর্ষ নেতৃত্বের দায়িত্বেও পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমান মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়ার আলোচনা রয়েছে। অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব হতে পারেন। তবে এসব পদে নিয়োগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়গুলো সম্ভাবনা হিসেবেই থাকছে।

  • প্রথম কাউন্সিল ঘিরে কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ
  • বাদ যাচ্ছে মুখপাত্রসহ চার পদ
  • সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হতে পারেন নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও হাসনাত আব্দুল্লাহ

চারটি পদ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত
এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের বৈঠকে মুখপাত্র, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও মুখ্য সমন্বয়কের পদ বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব পদ তুলে দিয়ে দায়িত্বগুলো নতুন কাঠামোর আওতায় বণ্টনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দায়িত্ব পালনের ধরনেও পরিবর্তন আসতে পারে। গত ১১ অক্টোবর রোববারের বৈঠকে কমিটি পুনর্গঠন ও নেতাদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে ১৩ অক্টোবরের মধ্যে পুনর্গঠিত কমিটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আলোচনায় শীর্ষ নেতাদের নতুন দায়িত্ব
বর্তমানে দলের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে রয়েছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। নতুন কাঠামোয় তাঁদের দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগকে কেন্দ্র করেই নেতৃত্বের সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা চলছে।

গত ১১ অক্টোবরের বৈঠকে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, আব্দুল্লাহ আল আমিন ও নুসরাত তাবাসসুম অংশ নেন। এ ছাড়া সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আরিফুল ইসলাম আদীব, সারোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদ ও সালেহউদ্দিন সিফাত উপস্থিত ছিলেন।

প্রথম কাউন্সিল ঘিরে সাংগঠনিক প্রস্তুতি
২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করে এনসিপি। শুরুতে নাহিদ ইসলামকে আহ্বায়ক এবং আখতার হোসেনকে সদস্য সচিব করে দুই শতাধিক নেতাকর্মীর সমন্বয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর প্রথম কাউন্সিলকে সামনে রেখে এবার দলটির কেন্দ্রীয় কাঠামো নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির আকার নির্ধারণ, কয়েকটি পদ বিলুপ্তি এবং শীর্ষ নেতাদের সম্ভাব্য পদোন্নতি—সব মিলিয়ে এনসিপির সাংগঠনিক বিন্যাসে পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট। তবে নতুন কমিটির চূড়ান্ত রূপ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নাম আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

কালের আলো/এএএন/এমকে

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আরও অর্থনৈতিক সহায়তা প্রত্যাশা বাংলাদেশের

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আরও অর্থনৈতিক সহায়তা প্রত্যাশা বাংলাদেশের

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি দেশটির কাছ থেকে আরও অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, দুই দেশের সম্পর্কের সাম্প্রতিক অগ্রগতির পরিপ্রেক্ষিতে এ প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রত্যাশা অনুযায়ী সহযোগিতা পায়নি বাংলাদেশ। তবে বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির ফলে সরকার আরও অর্থনৈতিক সহায়তা পাওয়ার আশা করছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়া, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ কেনার পাশাপাশি সয়াবিনসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করছে। আমদানি কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতাও সম্প্রসারণ করতে চায় বাংলাদেশ।

বৈঠকে আলোচনার বিষয়গুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য না জানালেও অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যাশা উঠে এসেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৭ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ
২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৭ শিশুর মৃত্যু

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৩২৭ জন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে পাঁচ শিশু এবং ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগে একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ১ হাজার ১৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়ার পর মারা গেছেন ১০৪ জন। বাকি ১ হাজার ৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।

সন্দেহভাজন রোগী ২ লাখ ছাড়িয়েছে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১৯৯ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে দেশে মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৫৭০ জনে।

একই সময়ে পরীক্ষাগারে নতুন করে হাম শনাক্ত হয়েছে ১২৮ জনের। এ পর্যন্ত দেশে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৮৪০ জনে।

সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ১ লাখ ৭৭ হাজারের বেশি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন ১ লাখ ৮৫ হাজার ৩৯০ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৭৭ হাজার ৬৯৮ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে হামের উপসর্গে শিশুদের মৃত্যু এবং হাসপাতালে রোগী ভর্তির ধারাবাহিকতা উঠে এসেছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

সিজেপির দুই নেতাকে ৫ দিনের জেল হেফাজত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
সিজেপির দুই নেতাকে ৫ দিনের জেল হেফাজত
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে লোহার ফটক টপকে প্রবেশ করে জাতীয় পতাকা ও স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে পাঁচ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) সকালে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার পর দিল্লি পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে দলটির আরেক নেতা অজিঙ্ক শিন্ডেকে শান্তি ভঙ্গ না করার শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সিজেপি নেতাদের আটক ও জেল হেফাজতে পাঠানোর ঘটনায় সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কারণে তরুণদের কারাগারে পাঠানোকে তিনি কাপুরুষতা বলে মন্তব্য করেছেন।

যেভাবে যন্তর মন্তরে ঢোকেন সিজেপি নেতারা

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস ও অজিঙ্ক শিন্ডে পুলিশের নজর এড়িয়ে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করেন। ওই এলাকায় প্রবেশের সড়কগুলোতে ব্যারিকেড ও পুলিশি পাহারা ছিল। এর মধ্যেই লোহার ফটক টপকে সিজেপি নেতারা তাঁদের ১০ থেকে ১২ জন সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন।

যন্তর মন্তরে প্রবেশের পর তাঁরা জাতীয় পতাকা ওড়ান এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বাতিলের দাবিতে স্লোগান দেন। এ সময় ‘ভারত মাতা কি জয়’, ‘বন্দে মাতরম’ ও ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারবিরোধী স্লোগানও দেওয়া হয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ পরে তাঁদের আটক করে। দিনভর আটক রাখার পর গভীর রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সিজেপির অভিযোগ, আটক অবস্থায় দীর্ঘ সময় নেতাদের সঙ্গে আইনজীবীদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি এবং তাঁদের মুঠোফোনও নিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

পুলিশের যুক্তি, শর্ত ভেঙেছেন নেতারা

সিজেপির আইনজীবী অভীষ্ট হেলা গণমাধ্যমকে জানান, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে দিল্লি পুলিশ অভিযোগ করেছে, নেতারা ফোন করে যন্তর মন্তরে লোকজন জড়ো করেন এবং অনুমোদিত বিক্ষোভস্থল নয়—এমন একটি এলাকায় বেআইনিভাবে প্রবেশ করেন। তাঁদের মুক্তি দেওয়া হলে ভবিষ্যতে আবারও অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও পুলিশ যুক্তি দেয়।

পুলিশের দাবি, এর আগেও ওই নেতাদের আটক করা হয়েছিল। সে সময় শান্তি ভঙ্গ না করার মুচলেকা দিয়ে তাঁরা মুক্তি পান। কিন্তু যন্তর মন্তরে প্রবেশ করে বিক্ষোভ দেখানোর মাধ্যমে তাঁরা আগের শর্ত ভঙ্গ করেছেন।

এসব যুক্তির ভিত্তিতে আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে পাঁচ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, অজিঙ্ক শিন্ডেকে শান্তি ভঙ্গ না করার শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

‘ভিন্নমত দমন করতে চাইলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করুন’

দুই নেতাকে জেল হেফাজতে পাঠানোর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। তাঁর বক্তব্য, নেতারা যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কারণে কারাবন্দী হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘ওদের কী অপরাধ? ওরা তো যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা উড়িয়েছে?’ এরপর ভিন্নমত দমনের সমালোচনা করে তিনি জরুরি অবস্থা প্রকাশ্যে ঘোষণা করার চ্যালেঞ্জ জানান এবং সরকারের বিরুদ্ধে কাপুরুষোচিত কৌশলের আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ তোলেন।

রাহুল গান্ধীর প্রতিক্রিয়া

সিজেপি নেতাদের জেল হেফাজতে পাঠানোর ঘটনায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, শান্তিপূর্ণভাবে যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয়। এ কারণে তরুণদের কারাগারে পাঠানোকে তিনি কাপুরুষতার লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

রাহুল গান্ধী আরও বলেন, ছাত্র, যুবক, সাংবাদিক কিংবা ইন্ডিয়া জোট—আন্দোলনের ব্যানার আলাদা হলেও উদ্দেশ্য অভিন্ন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নাগরিকেরা নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার দাবি করছেন। যন্তর মন্তর দেশের জনগণের জায়গা উল্লেখ করে তিনি সেটি আবারও জনগণের জন্য ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সিজেপি ও ইন্ডিয়া জোটের আন্দোলন কি এক পথে?

সিজেপি ও বিরোধী জোট ইন্ডিয়া একই ধরনের দাবিতে আন্দোলন করলেও পৃথক কর্মসূচি পালন করায় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। দুই পক্ষের মধ্যে কোনো বিরোধ রয়েছে কি না, কিংবা তারা কেন একসঙ্গে আন্দোলন করছে না—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছিল।

গত মঙ্গলবার রাহুল গান্ধী তাঁর বাসভবনে আয়োজিত চা-চক্রের আমন্ত্রণপত্র এবং পরে গণমাধ্যমের সামনে এ নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেন। বুধবারের এক্স পোস্টেও তিনি জানান, ব্যানার আলাদা হলেও আন্দোলনের উদ্দেশ্য এক।

সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। নাগপুরে দুই পক্ষের বিরোধ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিজেপি একটি স্বাধীন চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বা ‘প্রেশার গ্রুপ’। দলটি নিজস্ব স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রাখবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে তারা ইন্ডিয়া জোটের বিরোধী।

অভিজিতের অভিযোগ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার নির্বাচন চুরির মাধ্যমে নরেন্দ্র মোদিকে ক্ষমতায় থাকতে সহায়তা করছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁরা আন্দোলন করছেন বলে জানান তিনি। তবে এটি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য ও অভিযোগ; এর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট প্রমাণ ও নির্বাচন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।

ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দল হবে সিজেপি?

সিজেপি ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে। জবাবে অভিজিৎ দিপক জানান, আপাতত এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা তাঁদের নেই। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সিজেপি স্বাধীন চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবেই কাজ করতে চায়।

যন্তর মন্তরে প্রবেশের ঘটনায় দুই নেতার জেল হেফাজত, রাহুল গান্ধীর প্রতিবাদ এবং সিজেপি-ইন্ডিয়া জোটের আন্দোলন নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য—সব মিলিয়ে ভারতের বিরোধী রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।

কালের আলো/এসএ