খুঁজুন
                               
, ,
           

পাহাড়-টিলা কেটে গড়ে উঠছে রিসোর্ট-কটেজ, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩২ অপরাহ্ণ
পাহাড়-টিলা কেটে গড়ে উঠছে রিসোর্ট-কটেজ, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

মৌলভীবাজারের পাহাড়-টিলা ও বনাঞ্চল ঘিরে দ্রুত বাড়ছে রিসোর্ট ও কটেজের সংখ্যা। পর্যটনশিল্পের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠছে নতুন নতুন পর্যটনকেন্দ্র। কিন্তু এসব স্থাপনার অনেকগুলোর অনুমোদন ও বৈধতা নিয়ে রয়েছে অস্পষ্টতা। কোথাও পাহাড়-টিলা কেটে সমতল করা হচ্ছে, কোথাও বনাঞ্চলের গাছপালা সরিয়ে তৈরি করা হচ্ছে সড়ক ও আবাসন। এতে বিপন্ন হয়ে পড়ছে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল, স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্র ও খাদ্যের উৎস।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় রিসোর্ট ও কটেজের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২০০টিতে পৌঁছেছে। এর মধ্যে শ্রীমঙ্গলেই রয়েছে শতাধিক রিসোর্ট। শুধু শহরের রাধানগর এলাকায় ৪০ থেকে ৪৫টি রিসোর্ট রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সংখ্যা, জমির মালিকানা, নির্মাণের অনুমোদন এবং পরিবেশগত ছাড়পত্রের বিষয়ে সরকারি দপ্তরগুলোর কাছে পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

পরিবেশকর্মীদের আশঙ্কা, পর্যটন ব্যবসার নামে পাহাড় ও বনাঞ্চলে অনিয়ন্ত্রিত স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত থাকলে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ আশপাশের বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ইতিমধ্যে বন থেকে সাপ, বানর, গন্ধগোকুল ও মেছো বিড়ালের মতো প্রাণী লোকালয়ে চলে আসার ঘটনাও ঘটছে।

পর্যটনের প্রসারের সঙ্গে বাড়ছে স্থাপনা

মৌলভীবাজারের পর্যটনশিল্পে বড় বিনিয়োগের সূচনা হয় কয়েক বছর আগে। ২০০৮ সালে মৌলভীবাজারকে পর্যটন জেলা ঘোষণার পর ২০১৩ সালে শ্রীমঙ্গলে ১৩ একর জায়গাজুড়ে যাত্রা শুরু করে পাঁচ তারকা মানের গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ। এরপর পর্যায়ক্রমে জেলার বিভিন্ন এলাকায় রিসোর্ট ও কটেজ নির্মাণ বাড়তে থাকে।

শুরুতে পরিকল্পিতভাবে কিছু রিসোর্ট গড়ে উঠলেও গত পাঁচ বছরে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। এখন কোথাও বাসাবাড়ির কয়েকটি কক্ষকে রিসোর্ট হিসেবে পরিচালনা করা হচ্ছে, আবার কোথাও পাহাড়-টিলা কেটে নতুন স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে।

পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা, বিনোদন এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হলেও এসব স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণ ও আইন মানার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি ও বনাঞ্চল শুধু পর্যটনের আকর্ষণ নয়; বহু বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থলও।

লাউয়াছড়া ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া এলাকায় ১ হাজার ২৫০ হেক্টর ভূমি নিয়ে ১৯৯৬ সালে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত চিরহরিৎ বনাঞ্চল হিসেবে পরিচিত এই উদ্যান ও আশপাশের বনভূমি নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল।

কিন্তু বনাঞ্চলের কাছাকাছি রিসোর্ট-কটেজ নির্মাণ, মানুষের চলাচল বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম আলোর ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিবেশকর্মীদের মতে, পাহাড় ও জঙ্গলের প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হলে প্রাণীরা নিরাপদ আশ্রয় হারায়। একই সঙ্গে তাদের খাদ্য সংগ্রহ ও এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলাচলের পথও বাধাগ্রস্ত হয়।

স্থানীয়দের সঙ্গে অংশীদারত্বে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন কোম্পানি, ধনাঢ্য ব্যক্তি, আইনজীবী, ব্যাংক কর্মকর্তা, সরকারি কর্মকর্তা এবং জনপ্রিয় তারকাদের কেউ কেউ এসব রিসোর্টে বিনিয়োগ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে বিনিয়োগকারীদের পরিচয় বা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে পাহাড় কাটার অভিযোগের বিষয়ে পৃথকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

মূলধারার রিসোর্ট ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কিছু উদ্যোক্তা স্থানীয়দের কাছ থেকে মাত্র দুই থেকে তিন শতক জমি কিনে রিসোর্টের নামে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এতে প্রকৃত রিসোর্ট ব্যবসার সঙ্গে ছোট পরিসরের আবাসন উদ্যোগের পার্থক্য এবং অনুমোদনের বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

বন ছেড়ে লোকালয়ে বন্যপ্রাণী

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব জানান, চলতি বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে লাউয়াছড়া থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে এসেছে।

তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রাণীর মধ্যে অজগর, পদ্ম গোখরা, আইড ক্যাট স্নেক, সবুজ ফণিমনসা, গন্ধগোকুল, বানর ও মেছো বিড়াল রয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করার পর প্রাণীগুলো স্থানীয় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তাঁদের মতে, নির্বিচারে পাহাড় ও জঙ্গল কেটে ফেলা এবং প্রাণীদের আবাসস্থলে মানুষের বিচরণ বেড়ে যাওয়ায় বন্যপ্রাণী বনকে আর নিরাপদ মনে করছে না। ফলে তারা আশ্রয় ও খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসছে।

বন্যপ্রাণীর এ ধরনের বিচরণ মানুষের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে প্রাণীগুলো মানুষের হাতে আহত হওয়া, ধরা পড়া কিংবা আবাসস্থল হারানোর আশঙ্কায় পড়ে। তাই লোকালয়ে বন্যপ্রাণী চলে আসার ঘটনাকে শুধু বিচ্ছিন্ন উদ্ধার কার্যক্রম হিসেবে না দেখে বন ও আবাসস্থল সংরক্ষণের বৃহত্তর সমস্যার অংশ হিসেবে বিবেচনা করার তাগিদ দিয়েছেন পরিবেশকর্মীরা।

কৃত্রিম আলো ও মানুষের বিচরণেও ব্যাহত হচ্ছে প্রাণীর জীবন

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) জাতীয় পরিষদের সাবেক সদস্য আ.স.ম. ছালেহ সোহেল বলেন, প্রতিটি প্রাণীরই নিরাপদ আবাসস্থল প্রয়োজন। কিন্তু নির্বিচারে পাহাড় ও জঙ্গল কেটে ফেলার কারণে বন্যপ্রাণী তাদের আবাসস্থলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

তিনি বলেন, বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থলের আশপাশে অসংখ্য রিসোর্ট ও কটেজ গড়ে উঠেছে। এসব স্থাপনায় ব্যবহৃত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কৃত্রিম আলোর বিকিরণ দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এতে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এবং তাদের নিরাপদ আশ্রয় হুমকির মুখে পড়ে।

ছালেহ সোহেলের মতে, রিসোর্টের সংখ্যা ১০ থেকে ২০টির মধ্যে থাকলে পরিস্থিতি হয়তো ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু বর্তমানে এ সংখ্যা প্রায় ২০০-তে পৌঁছেছে। এর পাশাপাশি লাউয়াছড়া ও আশপাশের বনাঞ্চলে খাদ্যসংকটও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বন্যপ্রাণী সাধারণত নির্জন পরিবেশে থাকতে পছন্দ করে। কিন্তু বনাঞ্চলের নির্জনতা নষ্ট হওয়া, মানুষের আনাগোনা বেড়ে যাওয়া এবং বিকল্প নিরাপদ আবাসস্থলের অভাবে প্রাণীগুলো লোকালয়ে চলে আসতে বাধ্য হচ্ছে বলে তাঁর অভিমত।

প্রকৃত রিসোর্টের সংখ্যা নিয়ে মতভেদ

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এস কে দাশ সুমন জানান, শ্রীমঙ্গলে প্রায় ১০৩টি রিসোর্ট রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় বা অন্য কোথাও রিসোর্ট নির্মাণ করতে হলে জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তর ও ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি নিতে হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে তাঁর মতে, শ্রীমঙ্গলে পূর্ণাঙ্গ রিসোর্টের সংখ্যা ১০ থেকে ১২টির বেশি হবে না। অর্থাৎ, রিসোর্ট হিসেবে পরিচিত সব স্থাপনা প্রকৃত অর্থে পূর্ণাঙ্গ রিসোর্ট কি না, তা নিয়েও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রীমঙ্গলের এক রিসোর্ট মালিক বলেন, মৌলভীবাজারের পর্যটনশিল্পের উন্নয়নের কথা বিবেচনা করেই গ্র্যান্ড সুলতানের মতো পাঁচ তারকা মানের রিসোর্ট প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরে বিভিন্ন শ্রেণির রিসোর্ট ও কটেজ গড়ে ওঠে। তাঁর দাবি, তাঁরা সরকারি আইন মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

তবে বর্তমানে বেপরোয়াভাবে রিসোর্ট নির্মাণের প্রবণতা বাড়ায় এসব স্থাপনা কীভাবে এবং কার অনুমতিতে তৈরি হচ্ছে, তা তদারক করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

শ্রীমঙ্গলের গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী সেলিম আহমদও এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, শ্রীমঙ্গলে প্রকৃত অর্থে রিসোর্টের সংখ্যা মাত্র ১০ থেকে ১৫টি। সরকারি নিয়ম মেনে কর দিয়ে যাঁরা ব্যবসা করছেন, তাঁরা নামসর্বস্ব ও অবৈধ রিসোর্টের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

ছাড়পত্র নিয়েছে প্রায় ৫০টি রিসোর্ট

মৌলভীবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাঈদুল ইসলাম জানান, জেলার প্রায় ৫০টি রিসোর্ট পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠান ছাড়পত্র নেয়নি, তাদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও মামলা করা হয়েছে।

তিনি স্বীকার করেন, পাহাড় কেটে অনেকেই রিসোর্ট নির্মাণ করছেন। তবে আইনের ফাঁকফোকরের কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হচ্ছে।

মাঈদুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০টি বা তার বেশি কক্ষ রয়েছে—এমন রিসোর্টের পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিতে হয়। ২০টির কম কক্ষ থাকলে ছাড়পত্র নেওয়ার প্রয়োজন হয় না বলে তিনি জানান।

তবে ছাড়পত্রের সংখ্যা দিয়ে সব স্থাপনার বৈধতা নিশ্চিত করা যায় না। জমির শ্রেণি, পাহাড় বা টিলা কাটার অনুমতি, নির্মাণসংক্রান্ত বিধিবিধান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অনুমোদনও পৃথকভাবে যাচাই করা জরুরি।

পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির উদ্যোগ প্রশাসনের

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, টিলা বা পাহাড় কাটার অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রশাসন তা খতিয়ে দেখছে। শ্রীমঙ্গলে বর্তমানে কতটি হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে, সেগুলোর জমির মালিকানা কী এবং অনুমোদন ও লাইসেন্সের অবস্থা কেমন—এসব তথ্য সংগ্রহ করে পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও তথ্যভান্ডার তৈরির কাজ চলছে।

তিনি আরও জানান, জমি বা টিলার শ্রেণি পরিবর্তনের অনুমোদন না থাকলে তা করতে দেওয়া হচ্ছে না। সম্প্রতি নিয়ম অমান্য করায় দুটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের এ উদ্যোগের মাধ্যমে রিসোর্টগুলোর প্রকৃত সংখ্যা, অনুমোদনের অবস্থা এবং পরিবেশগত বিধিনিষেধ মানার বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে তালিকা তৈরির পাশাপাশি অনিয়ম শনাক্ত হলে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিয়মিত তদারকি অব্যাহত রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

পর্যটন উন্নয়ন বনাম প্রকৃতি সংরক্ষণ

মৌলভীবাজারের পর্যটনশিল্প স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ তৈরি করছে। কিন্তু সেই উন্নয়ন যদি পাহাড়-টিলা কাটা, বনাঞ্চল সংকুচিত করা এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংসের মাধ্যমে এগিয়ে যায়, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে পর্যটনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ—প্রাকৃতিক পরিবেশ—নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীরা পাহাড়-টিলা কাটা এবং পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধে জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, রিসোর্ট নির্মাণের অনুমোদন যাচাই, জমির প্রকৃত শ্রেণি নির্ধারণ, বনাঞ্চলের সুরক্ষা এবং নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

পর্যটনশিল্পের বিকাশ ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা না গেলে মৌলভীবাজারের পাহাড়, বন ও বন্যপ্রাণীর ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। তাই প্রকৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে পরিকল্পিত পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং বিদ্যমান অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সংশ্লিষ্টদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

বিমানকর্মীকে কামড়, পুলিশ-নার্সকে লাথি, নতুন মামলায় হলিউড অভিনেত্রী

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১২ অপরাহ্ণ
বিমানকর্মীকে কামড়, পুলিশ-নার্সকে লাথি, নতুন মামলায় হলিউড অভিনেত্রী

হলিউড অভিনেত্রী সেলমা ব্লেয়ারকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে নিউইয়র্কগামী ডেলটা এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজে দুই বিমানকর্মীর ওপর হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর এবার পুলিশ কর্মকর্তা ও এক নার্সকে লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে অভিনেত্রীর আইনজীবীর দাবি, ঘটনাগুলো ইচ্ছাকৃত ছিল না; গুরুতর শারীরিক সমস্যার কারণে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), সিবিএস নিউজ ও দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর রাতে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি অবতরণের পর সেলমা ব্লেয়ারকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরদিন ১২ অক্টোবর আদালতে হাজির হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের একাংশ অস্বীকার করেন ৫৪ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী।

হাসপাতালে নেওয়ার সময় পুলিশ কর্মকর্তাকে লাথি মারার অভিযোগ

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, উড়োজাহাজে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর সেলমাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় তাঁকে স্ট্রেচারে নিরাপদে রাখার চেষ্টা করেন দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা। অভিযোগ অনুযায়ী, সেলমা বাঁধন থেকে একটি পা বের করে ওই কর্মকর্তার মুখ, ঘাড় ও বুকে একাধিকবার লাথি মারেন।

হাসপাতালে পৌঁছানোর পরও একই ধরনের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানে দায়িত্ব পালন করা এক নার্সের বুকে লাথি মারার অভিযোগ রয়েছে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে।

এসব ঘটনায় নিউইয়র্কের কুইন্স আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার হামলার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। ১২ অক্টোবর রাতে আদালতে হাজির হলে তাঁর আইনজীবী শন বার্নস অভিযোগ অস্বীকার করেন।

আদালত নগদ ২০ হাজার ডলার জামিন অথবা ৬০ হাজার ডলারের বন্ডের অঙ্ক নির্ধারণ করেন। পরবর্তী শুনানির তারিখ রাখা হয়েছে আগামী জানুয়ারিতে।

উড়োজাহাজে দুই বিমানকর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ

সেলমা ব্লেয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ডেলটা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৯৩৮-এ ভ্রমণের সময় তিনি একজন বিমানকর্মীকে ঘুষি মারেন এবং আরেকজনকে কামড় দেন। এ ছাড়া উড়োজাহাজটি আকাশে থাকা অবস্থায় দরজা খোলার চেষ্টা করার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে দরজা খোলার চেষ্টার অভিযোগের বিস্তারিত স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।

ফ্লাইটটি লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে নিউইয়র্ক যাচ্ছিল। জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর রাত প্রায় ১১টার দিকে উড়োজাহাজের এক যাত্রীর আক্রমণাত্মক আচরণের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে খবর পৌঁছায়। পরে বন্দর কর্তৃপক্ষের পুলিশ সদস্যরা উড়োজাহাজটির কাছে যান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই বিমানকর্মী আহত হওয়ার কথা জানান। তাঁদের মধ্যে একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। উড়োজাহাজের পাইলটের সঙ্গে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ডিংয়েও আহত ব্যক্তিদের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। সেখানে নাক দিয়ে রক্ত পড়া ও কামড়ের দাগের কথা উল্লেখ করেন পাইলট। আহত ব্যক্তিদের পরীক্ষা করার জন্য বিমানবন্দরে চিকিৎসাকর্মী প্রস্তুত রাখার অনুরোধও জানান তিনি।

সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, উড়োজাহাজের কর্মীদের সেলমাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়েছিল। তবে ঠিক কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ফেডারেল আদালতেও চলবে আইনি প্রক্রিয়া

উড়োজাহাজের ভেতরে ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের মামলার পাশাপাশি ফেডারেল পর্যায়েও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এপির বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উড়োজাহাজে হামলার অভিযোগসংক্রান্ত নোটিশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই।

মামলাটি ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে নিষ্পত্তির কথা রয়েছে। তবে এ ঘটনায় সেলমার আদালতে হাজিরার তারিখ তখনো নির্ধারিত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে উড়োজাহাজে কথিত হামলা এবং পরে পুলিশ কর্মকর্তা ও নার্সকে লাথি মারার অভিযোগ—দুই পর্যায়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে পৃথক আইনি কার্যক্রম চলছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।

আইনজীবীর দাবি, ওষুধ বাদ পড়া ও মাথায় আঘাতে বিভ্রান্ত হয়েছিলেন

সেলমা ব্লেয়ারের আইনজীবী আদালতে দাবি করেছেন, তাঁর মক্কেলের আচরণ ইচ্ছাকৃত ছিল না। নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ ও নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনের বরাতে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, সেলমা এমন একটি ওষুধের একাধিক নির্ধারিত মাত্রা নিতে পারেননি, যা তাঁর গুরুতর স্নায়বিক উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেসে কাজের অতিরিক্ত চাপের পর উড়োজাহাজে উঠেছিলেন অভিনেত্রী। যাত্রাপথে তাঁর মাথায় আঘাতও লাগে বলে দাবি করা হয়েছে। ওষুধের মাত্রা বাদ পড়া, মাথায় আঘাত এবং উড়োজাহাজের উচ্চতার প্রভাব মিলিয়ে তিনি তীব্র বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছিলেন বলে আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়।

এর আগে সেলমার প্রতিনিধিও ভ্যারাইটিকে বলেছিলেন, তাঁর শারীরিক জরুরি অবস্থার কারণেই কথিত ঘটনাগুলো ঘটেছিল। উড়োজাহাজ অবতরণের পরপরই তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং তখন তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল ছিল বলে জানানো হয়েছিল।

তবে এসব বক্তব্য অভিনেত্রীর আইনজীবী ও প্রতিনিধির দাবি। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং অভিযোগগুলোর আইনি নিষ্পত্তি আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হবে।

২০১৮ সালে মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানান

সেলমা ব্লেয়ারের শারীরিক অবস্থার প্রসঙ্গ সামনে আসায় তাঁর দীর্ঘদিনের অসুস্থতার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। ২০১৮ সালে তিনি প্রকাশ্যে জানান, তিনি মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসে (এমএস) আক্রান্ত। এটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যা মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডের স্নায়ুর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

রোগ শনাক্ত হওয়ার কথা জানানোর পর থেকে নিজের শারীরিক অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিয়েও কাজ করেছেন তিনি।

২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকারবিষয়ক আইন প্রণয়নের বার্ষিকী উপলক্ষে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে তাঁকে দেখা যায়।

তবে সেলমার বর্তমান ঘটনায় তাঁর অসুস্থতার ভূমিকা সম্পর্কে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা আইনজীবী ও প্রতিনিধির বক্তব্য হিসেবেই বিবেচ্য। কেবল তাঁর রোগের ইতিহাসের ভিত্তিতে ঘটনার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

২০১৬ সালেও উড়োজাহাজে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন

উড়োজাহাজে ভ্রমণের সময় সেলমা ব্লেয়ারের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা এর আগেও ঘটেছিল। ২০১৬ সালে মেক্সিকোর কানকুন থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসগামী একটি ফ্লাইটে ভ্রমণের সময় অস্বাভাবিক আচরণের পর তাঁকে স্ট্রেচারে করে উড়োজাহাজ থেকে নামানো হয়। সে সময় তাঁর সঙ্গে চার বছর বয়সী ছেলে ছিল।

পরে সেলমা জানিয়েছিলেন, এক গ্লাস ওয়াইন পান করার পর ওষুধ গ্রহণ করায় তিনি নিজের আচরণের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন। ওই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি অভিজ্ঞতাটিকে ভয়াবহ ও আতঙ্কজনক বলে বর্ণনা করেছিলেন।

একজন মা হিসেবে এমন পরিস্থিতিতে পড়া তাঁর নিজের কাছেও অস্বাভাবিক ছিল বলে মন্তব্য করেছিলেন অভিনেত্রী।

‘ক্রুয়েল ইনটেনশনস’ থেকে হলিউডে পরিচিতি

১৯৯৯ সালের চলচ্চিত্র ‘ক্রুয়েল ইনটেনশনস’ এবং ২০০১ সালের ‘লিগ্যালি ব্লন্ড’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পরিচিতি পান সেলমা ব্লেয়ার। পরে ২০০৪ সালের ‘হেলবয়’ চলচ্চিত্রেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বিভিন্ন চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রযোজনায় কাজ করেছেন এই অভিনেত্রী। এবার উড়োজাহাজে কথিত হামলা এবং পরবর্তী ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আন্তর্জাতিক বিনোদনমাধ্যমের আলোচনায় এসেছে।

বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে। আইনজীবী এসব ঘটনাকে অনিচ্ছাকৃত বলে দাবি করলেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে।

কালের আলো/এসএ

বর্তমান সরকারের মেয়াদেই আগারগাঁওয়ে স্থানান্তর হবে সচিবালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৬ অপরাহ্ণ
বর্তমান সরকারের মেয়াদেই আগারগাঁওয়ে স্থানান্তর হবে সচিবালয়

বর্তমান সরকারের মেয়াদেই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরের পরিকল্পনা

গণপূর্তমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই সচিবালয় আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। রাজধানীর প্রশাসনিক অবকাঠামো স্থানান্তরের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারি দপ্তরগুলোর অবস্থান ও কার্যক্রম পরিচালনায় পরিবর্তন আসবে।

তবে সচিবালয় স্থানান্তরের নির্দিষ্ট সময়সূচি, নির্মাণকাজের অগ্রগতি, প্রকল্পের ব্যয় কিংবা স্থানান্তর প্রক্রিয়ার বিস্তারিত বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে আর কোনো তথ্য জানানো হয়েছে কি না, তা প্রাপ্ত তথ্যে উল্লেখ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যারা

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীর সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, সচিব মো. ওবায়দুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সংবাদ সম্মেলনের মূল বিষয় ছিল নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন। এ সময় সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

শুটিংয়ে ক্যামেরাসহ মুখের ওপর ডিওপি, নাকে গুরুতর আঘাত প্রিয়ন্তী উর্বীর

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫০ অপরাহ্ণ
শুটিংয়ে ক্যামেরাসহ মুখের ওপর ডিওপি, নাকে গুরুতর আঘাত প্রিয়ন্তী উর্বীর
নাটকের শুটিং করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী প্রিয়ন্তী উর্বী। হাসপাতালের বেডে শুয়ে একটি দৃশ্যের শুটিং করার সময় ভারসাম্য হারিয়ে ক্যামেরাসহ তাঁর মুখের ওপর পড়ে যান নাটকের চিত্রগ্রাহক (ডিওপি)। এতে নাকে আঘাত পান অভিনেত্রী। দুর্ঘটনার পর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে এক্স-রে করানো হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে ব্যথার ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক খাচ্ছেন তিনি।

তবে আঘাত পেয়েও শুটিং বন্ধ রাখেননি প্রিয়ন্তী। নিজের শারীরিক কষ্টের মধ্যেও কাজ শেষ করতে শরাত সোমবার ( ১২ অক্টোবর) রাত ২টা পর্যন্ত শুটিং করেছেন তিনি। এমনকি আজও শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে একটি পোস্ট দিয়েছেন প্রিয়ন্তী উর্বী। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, শুটিংয়ের সময় ঘটে যাওয়া ঘটনাটি ছিল তাঁর জন্য অত্যন্ত ভীতিকর ও কষ্টকর।

অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, একটি দৃশ্যে তাঁকে হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকতে হচ্ছিল। কয়েকজন মিলে বেডটি টেনে তাঁকে একটি কক্ষে নিয়ে যাচ্ছিলেন। দৃশ্যটির ক্লোজ শট নেওয়ার জন্য চিত্রগ্রাহক বেডের ওপর উঠে তাঁর মুখের সামনে ক্যামেরা সেট করছিলেন।

এ সময় তাঁরা মহাখালী ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে শুটিং করছিলেন। শট চলাকালে বেডটি ঝাঁকি খাওয়ায় ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন চিত্রগ্রাহক। এরপর ক্যামেরাসহ সরাসরি প্রিয়ন্তী উর্বীর মুখের ওপর পড়ে যান তিনি। আকস্মিক এই ঘটনায় মুহূর্তের জন্য কিছু দেখতে ও কথা বলতে পারছিলেন না অভিনেত্রী। অসহনীয় ব্যথায় কাতর হয়ে পড়েন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে প্রিয়ন্তী লিখেছেন, শুটিংয়ের দুর্ঘটনাটি তাঁর কাছে ছিল ভয়ংকর। ঘটনার পর হাসপাতালে গিয়ে এক্স-রে করানো হয়। বর্তমানে ওষুধ খাচ্ছেন তিনি।

‘কারও কোনো দোষ নেই, এটা দুর্ঘটনা’

দুর্ঘটনায় আহত হলেও কাউকে দায়ী করতে চান না প্রিয়ন্তী উর্বী। তাঁর মতে, শুটিংয়ের সময় সবাই নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবেই পালন করছিলেন। এটি ছিল সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা।

এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘এখানে একটা কথা পরিষ্কার করে বলতে চাই, এখানে কারও কোনো দোষ নেই। এটা একটা দুর্ঘটনা ছিল। সবাই নিজের কাজটা ঠিকভাবেই করছিলেন। কিন্তু দুর্ঘটনাটা আমার সঙ্গে ঘটেছে, আর আমি যে ব্যথার মধ্য দিয়ে গিয়েছি, সেটা একদম বাস্তব।’

অর্থাৎ, দুর্ঘটনার জন্য কাউকে দোষারোপ না করলেও সেই মুহূর্তে তাঁকে যে তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে, তা তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্যে দুর্ঘটনার আকস্মিকতা এবং ব্যথার তীব্রতা—দুটিই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

আহত হয়েও থামেনি শুটিং

দুর্ঘটনার পর শারীরিকভাবে কষ্টে থাকলেও কাজ শেষ করার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন প্রিয়ন্তী উর্বী। তিনি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার দিন রাত ২টা পর্যন্ত শুটিং করেছেন। পরদিনও শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন।

অভিনেত্রীর ভাষ্য, আর মাত্র একদিন শুটিং করলেই নাটকটির কাজ শেষ হয়ে যাবে। এ অবস্থায় নিজের কারণে পরিচালক কিংবা শুটিং টিমের অন্য সদস্যরা সমস্যায় পড়ুন, তা চাননি তিনি। সে কারণেই কষ্ট থাকা সত্ত্বেও কাজটি শেষ করে দিতে চাইছেন।

তবে আহত অবস্থায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার পেছনে তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা জানালেও শারীরিক সুস্থতা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দুর্ঘটনার পর নাকে ফোলা ও তীব্র ব্যথা থাকায় চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি নিজের শারীরিক অবস্থার প্রতিও নজর রাখতে হচ্ছে তাঁকে।

‘মনের মতো’ নাটকে অভিনয় করছেন উর্বী

জানা গেছে, প্রিয়ন্তী উর্বী বর্তমানে ‘মনের মতো’ নামের একটি নাটকের শুটিং করছেন। রাসেল আজম পরিচালিত নাটকটিতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করছেন আরশ খান।

নাটকটির শুটিং চলাকালেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি সামনে আসে। তবে ঘটনার জন্য কাউকে দায়ী না করে এটিকে দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখছেন প্রিয়ন্তী।

আঘাত ও ব্যথার মধ্যেও শুটিং চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এখন নাকের ফোলা ও ব্যথা কাটিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার অপেক্ষায় এই অভিনেত্রী।

কালের আলো/এসএ