খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রায় ২০০ কোটি টাকায় বদলে যাচ্ছে কুয়াকাটা

পটুয়াখালী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ
প্রায় ২০০ কোটি টাকায় বদলে যাচ্ছে কুয়াকাটা

সড়ক, ড্রেনেজ, নিরাপদ পানি সরবরাহ, খাল পুনঃখনন, ফুটপাত নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধন—বিভিন্ন খাতে প্রায় ২০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছে পর্যটননগরী কুয়াকাটায়। পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়ানো এবং পৌরবাসীর নাগরিকসেবা উন্নত করতে নেওয়া হয়েছে একাধিক প্রকল্প। তবে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি রাতের নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পিত পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সমুদ্রের নীল জলরাশি, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য, রাখাইন সংস্কৃতি, লেম্বুর বন এবং কচ্ছপখালী খাল—সব মিলিয়ে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা। সময়ের সঙ্গে বাড়ছে এই পর্যটননগরীতে ভ্রমণপিপাসু মানুষের আগ্রহ। পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বাড়ছে সড়ক, নিরাপদ পানি, পরিচ্ছন্নতা, বিনোদন ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন নাগরিকসেবার চাহিদা। এ পরিস্থিতিতে কুয়াকাটা পৌরসভায় বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় চলছে উন্নয়নকাজ।

সড়ক ও ড্রেনেজে বড় বিনিয়োগ

কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক জানান, বর্তমানে পৌর এলাকায় বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় উন্নয়নকাজ চলছে। এর মধ্যে উপকূলীয় শহর জলবায়ু সহিষ্ণু প্রকল্পে ১২০ কোটি টাকা, ইউআইআইপি কুয়েত প্রকল্পে ৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, টেকসই নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ২৫ কোটি টাকা, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে ৪৮ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ রয়েছে। এসব প্রকল্পের কিছু কাজ বাস্তবায়নাধীন, অন্যগুলোর কাজ চলছে দরপত্র ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।

উপকূলীয় শহর জলবায়ু সহিষ্ণু প্রকল্পের আওতায় পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও ড্রেনেজ অবকাঠামো উন্নয়ন করা হচ্ছে। পরিবেশগত প্রশমন কার্যক্রমে ব্যয় হচ্ছে ১৪ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। ইউনিব্লক দিয়ে প্রায় পৌনে চার কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন করা হচ্ছে। রাখাইন পল্লি কেরানীপাড়ার ভেতরে ৪৮৫ মিটার আরসিসি সড়ক ও ড্রেন নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে দেড় কোটি টাকা।

এ ছাড়া ৯ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪ কিলোমিটার ২৪৫ মিটার সড়কে বিটুমিনাস কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে। প্রায় ৮০০ মিটার সড়ক আরসিসি দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। একই প্রকল্পের আওতায় ৩ কিলোমিটার ৭১০ মিটার আরসিসি ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৫ কোটি ৪৮ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। তিনটি আরসিসি আর্চ ব্রিজ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ কোটি ৪ লাখ ৮২ হাজার টাকা। পাশাপাশি দুটি আবাসন এলাকায় ৫৮৮ মিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৮০ লাখ টাকা।

এসব কাজ শেষ হলে পৌর এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ও পথচারীদের চলাচলে স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রকল্পগুলোর সুফল পেতে নির্মাণকাজের মান বজায় রাখা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

দুর্যোগ মোকাবিলায় নির্মিত হচ্ছে সাইক্লোন শেল্টার

উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় কুয়াকাটায় ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি রয়েছে। এ ঝুঁকি মোকাবিলায় দুর্যোগকালীন আশ্রয় ও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পাঞ্জুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিনতলাবিশিষ্ট সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি ২৮ লাখ ৩ হাজার ৬৭৩ টাকা। অন্যদিকে মীরাবাড়ি মাদ্রাসায় তিনতলা সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৫ কোটি ৩৭ লাখ ১১ হাজার ৫৩৯ টাকা।

এসব স্থাপনা নির্মিত হলে দুর্যোগের সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের আশ্রয়ের সুযোগ বাড়বে। পর্যটননগরী হিসেবে কুয়াকাটার গুরুত্ব বিবেচনায় স্থানীয় জনগণের পাশাপাশি পর্যটকদের জরুরি নিরাপত্তার বিষয়টিও পরিকল্পনায় রাখা প্রয়োজন।

কচ্ছপখালী খাল ঘিরে সৌন্দর্যবর্ধনের পরিকল্পনা

কুয়াকাটার অন্যতম প্রাকৃতিক আকর্ষণ কচ্ছপখালী খালকে ঘিরে রয়েছে সৌন্দর্যবর্ধনের বড় পরিকল্পনা। পৌরসভার প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক জানান, খালটির উন্নয়ন প্রকল্প ইতিমধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পৌরশহরের প্রাণ হিসেবে পরিচিত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি পুনঃখনন, পাড় সংরক্ষণ, হাঁটার পথ নির্মাণ, বেঞ্চ ও ঘাটলা স্থাপন, প্যাডল বোট সরবরাহ এবং বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে সমুদ্রসৈকতের বাইরেও পর্যটকদের জন্য নতুন বিনোদন ও অবকাশযাপনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ, পানির গুণমান ও আশপাশের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা জরুরি। সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ যেন খালের পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট না করে, সে বিষয়েও নজর দিতে হবে।

পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে লতাচাপলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের খাস পুকুরের চারপাশে হাঁটার পথ ও ঘাটলা নির্মাণসহ সৌন্দর্যবর্ধনে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৬৪ লাখ ১৩ হাজার টাকা। পশ্চিম কুয়াকাটায় ডিবিএল ল্যান্ড-সংলগ্ন খাসজমিতে শিশুপার্ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি টাকা।

এ ছাড়া দোভাষীপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত সড়কে এবং সমুদ্রবাড়ি রিসোর্ট থেকে নীলাঞ্জনা সড়ক পর্যন্ত ড্রেনের ওপর প্রশস্ত ফুটপাত নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৪২ লাখ ১০ হাজার টাকা। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শহরের সৌন্দর্য বাড়ার পাশাপাশি পর্যটকদের হাঁটাচলা ও অবসর কাটানোর সুযোগ সম্প্রসারিত হতে পারে।

নিরাপদ পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উদ্যোগ

পর্যটননগরী কুয়াকাটার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ নিরাপদ পানি সরবরাহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। পর্যটকের চাপ বাড়লে এসব সেবার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি সরবরাহ, ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কুয়াকাটা পৌরসভায় নিরাপদ পানি সরবরাহ, ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর আটটি পরীক্ষামূলক নলকূপ নির্মাণ করছে। এতে ব্যয় হচ্ছে ১৫ লাখ ১৩ হাজার ৭০০ টাকা।

এ ছাড়া চারটি উৎপাদক নলকূপ নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৯৭ লাখ ৭৬ হাজার ২৯২ টাকা এবং চারটি পাম্প হাউস নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৯৯ লাখ ১৬ হাজার ৪৬৬ টাকা। আট কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৪২ লাখ ৪৭ হাজার ২০ টাকা। পাশাপাশি এক হাজার বাড়িতে পানির সংযোগ দিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৩ লাখ ৮৯ হাজার টাকা।

অন্যদিকে একটি ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার, পানির উঁচু ট্যাংক, দুই কিলোমিটার সঞ্চালন পাইপলাইন এবং সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অবকাঠামো নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে।

এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পৌরবাসীর পাশাপাশি পর্যটকদের জন্যও নিরাপদ পানি সরবরাহের সুযোগ বাড়তে পারে। তবে অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি পানির গুণমান নিয়মিত পরীক্ষা, সরবরাহব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ এবং বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিশোধনের কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

পর্যটন বিকাশে প্রয়োজন নিরাপত্তা ও পরিকল্পিত অবকাঠামো

কুয়াকাটা হোটেল, মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব শরীফ বলেন, প্রায় ২০০ কোটি টাকার চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কুয়াকাটার অবকাঠামোতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে পর্যটননগরীর ভবিষ্যৎ বিকাশের জন্য শুধু সড়ক ও ড্রেনেজ নির্মাণ যথেষ্ট নয়। পর্যটকদের বিনোদন, হাঁটার উপযোগী পরিবেশ, রাতের নিরাপত্তা এবং পরিবেশবান্ধব যোগাযোগব্যবস্থার বিষয়েও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

কুয়াকাটা উন্নয়ন ফোরামের অন্যতম সদস্য ও কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, কুয়াকাটায় একটি দৃষ্টিনন্দন ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা যেতে পারে। পৌরসভা বাসস্ট্যান্ড থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে হাঁটার পথ তৈরি, বৃক্ষরোপণ এবং দৃষ্টিনন্দন সড়কবাতি স্থাপন প্রয়োজন। এতে পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও আকর্ষণীয় হাঁটার পরিবেশ তৈরি হবে।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার সাধারণ সম্পাদক ও পরিবেশকর্মী আসাদুজ্জামান বলেন, জিরো পয়েন্ট চৌরাস্তা থেকে লেম্বুর বনাঞ্চল-সংলগ্ন সৈকত পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ সড়ক সৌরবিদ্যুৎচালিত বাতির মাধ্যমে আলোকিত করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এ জন্য অন্তত এক মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পৌরসভার সড়কগুলোতে সৌরবাতি স্থাপন করা হলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি রাতের কুয়াকাটার সৌন্দর্যও বাড়বে।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত সড়কবাতি, নজরদারি, জরুরি সেবার সহজপ্রাপ্যতা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর সৈকত ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা গেলে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত হতে পারে।

প্রথম শ্রেণির পৌরসভা করার উদ্যোগ

পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, কুয়াকাটাকে পরিকল্পিতভাবে আধুনিক পর্যটনকেন্দ্রে উন্নীত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। কুয়াকাটা পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত করার কাজ চলছে। এ ছাড়া আধুনিক মানের ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের জন্য চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং ইতিমধ্যে জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মিত হলে পর্যটননগরীতে অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়তে পারে। হোটেল, রিসোর্ট, বাজার ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশ রক্ষার চ্যালেঞ্জ

কুয়াকাটায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পর্যটন অবকাঠামো ও নাগরিকসেবায় পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করেছে। তবে পরিকল্পিত উন্নয়নের ক্ষেত্রে সমুদ্রসৈকত, খাল, বনাঞ্চল ও উপকূলীয় পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে বর্জ্য, পানিদূষণ, যানজট ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর চাপ বাড়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

তাই নতুন অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত গণশৌচাগার, নিরাপদ পানির ধারাবাহিক সরবরাহ, হাঁটার উপযোগী সড়ক এবং কার্যকর পর্যটন ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিতে হবে। প্রকল্পগুলোর কাজ নির্ধারিত মান ও সময় অনুযায়ী শেষ করা এবং পরবর্তী সময়ে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, কুয়াকাটার পর্যটন বিকাশ এখন অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিকসেবাকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার পর্যায়ে রয়েছে। চলমান প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি ওয়াচ টাওয়ার, সৌরবিদ্যুৎচালিত সড়কবাতি, হাঁটার পথ ও পর্যটকবান্ধব বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলা গেলে কুয়াকাটাকে আরও আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও পর্যটকবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

পূজার বক্স অফিসে চার ছবির লড়াই, দেব–শুভশ্রীকে টক্কর দেবে কারা?

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
পূজার বক্স অফিসে চার ছবির লড়াই, দেব–শুভশ্রীকে টক্কর দেবে কারা?
পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপূজার উৎসব ঘিরে এবার প্রেক্ষাগৃহে জমতে যাচ্ছে বাংলা সিনেমার লড়াই। দেব–শুভশ্রীর নতুন জুটি, জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র একেনবাবুর রহস্যভেদ, ‘বহুরূপী’র নতুন পর্ব এবং সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ইতিহাসনির্ভর গল্প—সব মিলিয়ে দর্শকের সামনে থাকছে চারটি ভিন্ন স্বাদের সিনেমা। ১৫ ও ১৬ অক্টোবর থেকে ছবিগুলো প্রেক্ষাগৃহে আসতে শুরু করায় পূজার ছুটিতে কোনটি সবচেয়ে বেশি দর্শক টানবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বছরের প্রথম নয় মাসে পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পাওয়া বাংলা ছবির মধ্যে কিছু দর্শকের প্রশংসা পেয়েছে, আবার কিছু ছবি প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তবে বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য দুর্গাপূজার সময়টি বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। উৎসবের ছুটিতে মণ্ডপে ঘোরা, আড্ডা ও খাওয়াদাওয়ার পাশাপাশি সিনেমা দেখাও অনেকের পরিকল্পনার অংশ। সেই দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে টানতে এবার চারটি সিনেমা নিয়ে হাজির হচ্ছেন টালিউডের পরিচিত নির্মাতা ও তারকারা।

দেব–শুভশ্রীর প্রত্যাবর্তন, পরিচালনায়ও দেব

চারটি ছবির মধ্যে ‘দেশু৭’ ঘিরে অন্যতম বড় আকর্ষণ দেব ও শুভশ্রীর জুটি। গত বছরের আগস্টে ‘ধূমকেতু’ মুক্তির পর আবারও এই জুটিকে পর্দায় দেখার সুযোগ পাচ্ছেন দর্শকেরা। দীর্ঘ বিরতির পর তাঁদের একসঙ্গে পর্দায় ফেরার বিষয়টি ভক্তদের আগ্রহ বাড়িয়েছে।

তবে এবারের ছবিতে দেবের দায়িত্ব শুধু অভিনয়ে সীমাবদ্ধ নয়। ‘দেশু৭’ দিয়ে পরিচালক হিসেবেও অভিষেক হচ্ছে তাঁর। পাশাপাশি ছবিটির প্রযোজকও তিনি। অর্থাৎ অভিনয়, পরিচালনা ও প্রযোজনা—তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বই সামলাচ্ছেন দেব। ফলে এবারের দুর্গাপূজা তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

ছবিতে দেব ও শুভশ্রীর সঙ্গে অভিনয় করেছেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য। আরও রয়েছেন প্রিয়াঙ্কা সরকার, রজতাভ দত্ত, কাঞ্চন মল্লিক ও অপরাজিতা আঢ্য। রোমান্স ও অ্যাকশনের মিশেলে নির্মিত ছবিটি ১৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা।

দেব–শুভশ্রীর জনপ্রিয়তা এবং নতুন পরিচালক হিসেবে দেবের কাজ—দুটি বিষয়ই ছবিটির প্রতি দর্শকের আগ্রহ বাড়াতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত গল্প ও নির্মাণ কতটা দর্শককে আকৃষ্ট করতে পারে, সেটিই হবে বড় পরীক্ষা।

কেরালায় রহস্যভেদে একেনবাবু

দেব–শুভশ্রীর রোমান্স ও অ্যাকশনের বিপরীতে রহস্য আর হাস্যরসের স্বাদ নিয়ে আসছে ‘দ্য একেন: কেরালায় কুরুক্ষেত্র’। জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র একেনবাবুকে আবারও পর্দায় দেখা যাবে অনির্বাণ চক্রবর্তীর অভিনয়ে।

ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছে এক বিজ্ঞানীর অপহরণকে কেন্দ্র করে। ঘটনার রহস্য উন্মোচন করতে কেরালায় পৌঁছান একেনবাবু। তদন্তের পাশাপাশি তাঁর পরিচিত রসবোধ ও মজার পরিস্থিতিও গল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এসভিএফ প্রযোজিত এই ছবিতে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন ঋত্বিক চক্রবর্তী, সুব্রত দত্ত, অম্বরীশ ভট্টাচার্য ও কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়। রহস্যকাহিনির সঙ্গে হাস্যরসের সংমিশ্রণ এবং একেনবাবুর পরিচিত চরিত্র—দুটিই ছবিটির প্রধান আকর্ষণ।

বিশেষ করে পূজার ছুটিতে পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখতে যাওয়া দর্শকদের কাছে ছবিটি ভালো বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। পশ্চিমবঙ্গে ১৫ অক্টোবর মুক্তির কথা রয়েছে ‘দ্য একেন: কেরালায় কুরুক্ষেত্র’র। ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা পরদিন।

‘বহুরূপী’র সাফল্যের পর আরও বড় পরিসরে ‘দ্য গোল্ডেন ডাকু’

২০২৪ সালের দুর্গাপূজায় মুক্তি পাওয়া ‘বহুরূপী’ সাফল্যের পর এবার এর নতুন পর্ব নিয়ে ফিরছেন নির্মাতা নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। নতুন ছবির নাম ‘বহুরূপী দ্য গোল্ডেন ডাকু’। আগের ছবির জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে এবারও পূজার ছুটিকে মুক্তির জন্য বেছে নিয়েছেন তাঁরা।

আগের পর্বে বিক্রম প্রামাণিকের গল্প দর্শকের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছিল। নতুন ছবিতে ডাকাতির ঘটনা আরও বড় পরিসরে তুলে ধরার ইঙ্গিত দিয়েছেন নির্মাতারা। অ্যাকশন-থ্রিলারধর্মী এই ছবিতে অভিনয় করেছেন শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, সোহিনী সরকার ও কৌশানি মুখোপাধ্যায়।

ছবিটির অন্যতম আকর্ষণ যিশু সেনগুপ্ত ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মুখোমুখি অবস্থান। আগের ছবির সাফল্য নতুন পর্বের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করলেও দর্শকের প্রত্যাশাও এবার বেশি। পরিচিত গল্পের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নির্মাতারা কতটা নতুনত্ব আনতে পারেন, সেটিই হবে ছবিটির সাফল্যের অন্যতম নির্ধারক।

উইন্ডোজ প্রযোজিত ‘বহুরূপী দ্য গোল্ডেন ডাকু’ ১৫ অক্টোবর মুক্তি পাওয়ার কথা।

শরৎচন্দ্রের জীবন ও রাজনৈতিক চেতনায় সৃজিতের ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’

অ্যাকশন, রোমান্স ও গোয়েন্দা রহস্যের বাইরে ভিন্নধর্মী গল্প নিয়ে আসছেন নির্মাতা সৃজিত মুখোপাধ্যায়। তাঁর ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ ছবির কেন্দ্রে রয়েছেন বাংলা সাহিত্যের প্রভাবশালী কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। ছবিতে শরৎচন্দ্রের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন টোটা রায়চৌধুরী। তাঁর সাজপোশাক ও চরিত্রের উপস্থাপনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা হয়েছে।

নন্দী মুভিজ প্রযোজিত ছবিটিতে আরও অভিনয় করেছেন আবির চট্টোপাধ্যায় ও মিমি চক্রবর্তী। শরৎচন্দ্রের সাহিত্যিক পরিচয়ের পাশাপাশি তাঁর রাজনৈতিক চেতনা, ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং নির্ভীক ব্যক্তিত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন নির্মাতা।

ছবিটির মূল অনুপ্রেরণা শরৎচন্দ্রের উপন্যাস ‘পথের দাবী’। ব্রিটিশবিরোধী রাজনৈতিক ভাবনা ও বিপ্লবী চেতনার কারণে উপন্যাসটি তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের বিরাগভাজন হয়েছিল। ১৯২৭ সালের জানুয়ারিতে বইটি নিষিদ্ধ করা হয়।

‘পথের দাবী’ প্রকাশের শতবর্ষকে সামনে রেখে নির্মিত ছবিটি ইতিহাস ও সাহিত্যপ্রেমী দর্শকদের আগ্রহের কারণ হতে পারে। ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ ১৫ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা।

পূজার বক্স অফিসে শেষ হাসি কার?

চারটি ছবির গল্প, ঘরানা ও তারকাদের উপস্থিতি আলাদা। ‘দেশু৭’ ভরসা করছে দেব–শুভশ্রীর জনপ্রিয়তা এবং দেবের নতুন পরিচালকের পরিচয়ের ওপর। ‘দ্য একেন: কেরালায় কুরুক্ষেত্র’ এগিয়ে থাকতে পারে রহস্য ও হাস্যরসের সমন্বয়ে। ‘বহুরূপী দ্য গোল্ডেন ডাকু’ কাজে লাগাতে চাইবে আগের ছবির সাফল্য, আর ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ দর্শক টানতে পারে ইতিহাস ও সাহিত্যনির্ভর কাহিনির মাধ্যমে।

তবে তারকাখ্যাতি কিংবা আগের ছবির সাফল্যই বক্স অফিসের চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করবে না। দর্শকের মুখে মুখে প্রশংসা, গল্পের গ্রহণযোগ্যতা এবং উৎসবের দিনগুলোতে প্রেক্ষাগৃহে উপস্থিতিই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। উদ্বোধনী দিনের ভিড়ের পর কোন ছবি দর্শকের মন জয় করে এগিয়ে যায়, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।

কালের আলো/এসএ

মেরুদণ্ডে চোট, অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হওয়ার লড়াইয়ে নুসরাত ভারুচা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
মেরুদণ্ডে চোট, অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হওয়ার লড়াইয়ে নুসরাত ভারুচা

বালিতে দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ডে চোট, এরপর অস্ত্রোপচার—কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন বলিউড অভিনেত্রী নুসরাত ভারুচা। বর্তমানে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। তবে শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও মনোবল হারাননি অভিনেত্রী। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে শাহরুখ খান ও কাজল অভিনীত সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘গেরুয়া’ দেখে মুখে হাসি ফুটেছে তাঁর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই মুহূর্তের ভিডিও ভাগ করে নিজের সুস্থ হয়ে ওঠার খবরও জানিয়েছেন নুসরাত।

শাহরুখ-কাজলের গানেই ফিরল হাসি

সম্প্রতি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন নুসরাত ভারুচা। সেখানে দেখা যায়, হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে টেলিভিশনে গান দেখছেন তিনি। শাহরুখ খান ও কাজল অভিনীত ‘দিলওয়ালে’ সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘গেরুয়া’ চলছিল পর্দায়। গানটি দেখতে দেখতে অসুস্থতার মধ্যেও তাঁর মুখে ফুটে ওঠে হালকা হাসি।

ভিডিওতে হাসপাতালের কর্মীদের তাঁকে খাবার খেতে সাহায্য করতেও দেখা যায়। চিকিৎসা ও বিশ্রামের মধ্যে থাকা নুসরাতের এই ছোট্ট মুহূর্ত ভক্তদের কাছে হয়ে উঠেছে স্বস্তির খবর। শারীরিক কষ্টের মধ্যেও প্রিয় তারকাদের গান তাঁকে যে কিছুটা আনন্দ দিয়েছে, তা তাঁর অভিব্যক্তিতেই স্পষ্ট।

‘ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছি’

ভিডিওটির সঙ্গে নুসরাত লিখেছেন, ‘আর এভাবেই শাহরুখ খান ও কাজল আমার মুখে হাসি ফুটিয়ে দেন। মনে করিয়ে দেন, পরিস্থিতি ভালো হয়, ধীরে ধীরে হলেও হয়। সুস্থ হয়ে উঠছি ধীরে ধীরে, স্বপ্ন দেখছি অফুরন্ত।’

অভিনেত্রীর এই বার্তায় কঠিন সময়েও আশাবাদী থাকার চেষ্টা ফুটে উঠেছে। সুস্থ হয়ে ওঠার দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্যে ছোট ছোট আনন্দ যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তাঁর পোস্ট যেন সেই কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে।

নুসরাতের এই ভিডিও প্রকাশের পর তাঁর অনুরাগীদের মধ্যেও স্বস্তি দেখা দিয়েছে। ভক্তরা তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন। যদিও অস্ত্রোপচারের পর পুরোপুরি সুস্থ হতে আরও সময় ও চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে, তবু অভিনেত্রীর ইতিবাচক মনোভাব অনুরাগীদের আশাবাদী করছে।

সূর্যাস্তের ছবি দিয়ে দিয়েছিলেন বার্তা

এর আগেও ইনস্টাগ্রামে নিজের শারীরিক অবস্থার ইঙ্গিত দিয়ে একটি ছবি প্রকাশ করেছিলেন নুসরাত। ছবিতে জানালার পাশে হেলান দেওয়া একটি হুইলচেয়ার দেখা যায়। জানালার বাইরে ছিল সূর্যাস্তের দৃশ্য। ছবিটির সঙ্গে অভিনেত্রী লিখেছিলেন, ‘সারা জীবন সূর্যাস্তের পেছনে ছুটেছি। আর হঠাৎ করেই আমার দেখার দৃশ্যটা বদলে গেল। তবে বন্ধু, সিনেমার গল্প এখনো বাকি।’

নুসরাতের এই কথায় জীবনের আকস্মিক পরিবর্তন ও প্রতিকূলতার মধ্যেও সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় প্রকাশ পেয়েছে। কাজের ব্যস্ততায় যিনি নিয়মিত শুটিং ও সিনেমার প্রচারণায় সময় কাটান, তাঁকে এখন হাসপাতালের কক্ষে থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

বালিতে দুর্ঘটনা, মুম্বাইয়ে অস্ত্রোপচার

কাজের সূত্রে ছুটি কাটাতে বালিতে গিয়েছিলেন নুসরাত ভারুচা। সেখানেই দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। মেরুদণ্ডে চিড় ধরায় প্রথমে বালির একটি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে মুম্বাইয়ে ফিরিয়ে আনা হয়। সেখানে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।

বর্তমানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন অভিনেত্রী। মেরুদণ্ডের চোট থেকে সেরে উঠতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও নিয়মিত চিকিৎসা প্রয়োজন। এ ধরনের চোটের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সময় লাগতে পারে। তাই আপাতত নিজের শারীরিক সুস্থতাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

এখন কাজ নয়, সুস্থ হয়ে ওঠাই অগ্রাধিকার

নুসরাত ভারুচাকে সম্প্রতি বড় পর্দায় দেখা গেছে ‘উফ ইয়ে সিয়াপ্পা’ ছবিতে। সিনেমাটিতে তাঁর সঙ্গে অভিনয় করেছেন সোহম শাহ ও নোরা ফাতেহি। তবে দুর্ঘটনা ও অস্ত্রোপচারের পর আপাতত নতুন কাজের চেয়ে সুস্থ হয়ে ওঠাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

বলিউডে নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া নুসরাতের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শারীরিকভাবে পুরোপুরি সেরে ওঠা। হাসপাতালের বিছানায় বসে প্রিয় গানের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা সূর্যাস্তের ছবি ভাগ করে নেওয়া—এসব ছোট ছোট মুহূর্তের মধ্য দিয়েই তিনি কঠিন সময় পার করার চেষ্টা করছেন।

ভক্তদের প্রত্যাশা, চিকিৎসা ও বিশ্রামের মাধ্যমে দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও পর্দায় ফিরবেন নুসরাত। আপাতত তাঁর বার্তায় উঠে এসেছে ধৈর্য, আশা এবং জীবনের প্রতি নতুন করে ইতিবাচক থাকার কথা।

কালের আলো/এসএ

কারখানায় আগুন ও শ্রমিক বিক্ষোভে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে তীব্র যানজট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩০ অপরাহ্ণ
কারখানায় আগুন ও শ্রমিক বিক্ষোভে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে তীব্র যানজট

গাজীপুরের টঙ্গীতে ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কারখানায় অগ্নিকাণ্ড এবং রাজধানীর উত্তরার আজমপুরে পোশাকশ্রমিকদের সড়ক অবরোধের ঘটনায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও চালকেরা।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে আজমপুর এলাকায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। সকাল থেকেই সেখানে শ্রমিকেরা জড়ো হতে থাকেন। পরে তাঁরা মহাসড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

অন্যদিকে, টঙ্গীর চেরাগআলীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ছয়তলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল আরও ব্যাহত হয়। আগুনের খবর পেয়ে প্রথমে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরে আশপাশের বিভিন্ন স্টেশন থেকে আরও ১৭টি ইউনিট যোগ দেয়। মোট ২০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, কারখানার ভেতরে ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ থাকায় আগুনের তীব্রতা বেড়েছে। সেখানে উৎপাদনযন্ত্র, রাসায়নিক ও অন্যান্য শিল্পসামগ্রী থাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা শাহীন আলম জানান, অগ্নিকাণ্ডে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং আগুনের সূত্রপাত কীভাবে, তা আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর তদন্ত করে জানা যাবে।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরাও কাজ করছেন।

দুটি ঘটনার কারণে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি