জাপানে ইনফ্লুয়েঞ্জার দাপট, ৪৭ অঞ্চলেই সতর্কতা
জাপানজুড়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ইনফ্লুয়েঞ্জা। জ্বর ও কাশিসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে দেশটির মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এ বছর স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশ আগেই দেশটিতে ইনফ্লুয়েঞ্জার মৌসুম শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা সতর্কসীমা ছাড়িয়ে গেছে দেশের ৪৭টি প্রিফেকচারেই।
সব অঞ্চলে সতর্কসীমা ছাড়াল সংক্রমণ
জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শুক্রবার (২ অক্টোবর) জানিয়েছে, দেশটির ৪৭টি প্রশাসনিক অঞ্চলের সবগুলোতেই ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা সতর্কসীমা অতিক্রম করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে পাওয়া এই তথ্য দেশজুড়ে ইনফ্লুয়েঞ্জার দ্রুত বিস্তারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত এক সপ্তাহে জাপানের প্রায় ৩ হাজার চিকিৎসাকেন্দ্রে গড়ে প্রতি কেন্দ্রে ৭ দশমিক ১৭ জন ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর আগের সপ্তাহে এই সংখ্যা ছিল ৮ দশমিক ৪৮ জন।তবে রোগীর সংখ্যা সাময়িকভাবে কমে এলেও পরিস্থিতি নিয়ে স্বস্তির সুযোগ নেই বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। তাদের মতে, আগের বছরগুলোর সংক্রমণের প্রবণতা বিবেচনায় নিলে এই হ্রাস সাময়িক হতে পারে এবং সামনে আক্রান্তের সংখ্যা আবার বাড়তে পারে।
ওকিনাওয়ায় সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি
প্রিফেকচারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ওকিনাওয়ায়। সেখানে প্রতি চিকিৎসাকেন্দ্রে গড়ে ৪২ দশমিক ৫০ জন ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। দেশটির সতর্কতার মাত্রা ৩০ জন হওয়ায় ওকিনাওয়ার পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে।এরপর রয়েছে সাইতামা, ইবারাকি, আইচি ও গিফু। এসব অঞ্চলে প্রতি চিকিৎসাকেন্দ্রে আক্রান্ত রোগীর গড় সংখ্যা যথাক্রমে ১৪ দশমিক ১৭, ১২ দশমিক ৫০, ১২ দশমিক ৩৩ এবং ১০ দশমিক ১৮ জন। প্রতিটি অঞ্চলেই এই হার সতর্কতার মাত্রা ১০ জনের ওপরে।
স্বাভাবিক সময়ের এক মাস আগেই মৌসুম শুরু
জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৯৯৯ সাল থেকে ইনফ্লুয়েঞ্জার মৌসুমের হিসাব রাখা শুরু হওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো এত আগে দেশটিতে ফ্লু মৌসুম শুরু হলো।২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫জাপানে ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রান্তের সংখ্যা নির্ধারিত সাপ্তাহিক সীমা ছাড়িয়েছিল। তবে এবার সেই সীমা ছাড়িয়েছে প্রায় এক মাস আগেই। ফলে চলতি বছর দেশটিতে ইনফ্লুয়েঞ্জার সংক্রমণ স্বাভাবিক মৌসুমের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে আগে শুরু হয়েছে।এর আগে সবচেয়ে আগেভাগে ইনফ্লুয়েঞ্জার মৌসুম শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে। ওই বছর ১০ থেকে ১৬ আগস্ট সময়ের মধ্যে রোগীর সংখ্যা নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছিল।এদিকে ২০২৩ সালে জাপানে সারা বছরজুড়ে ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান
সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সাধারণ মানুষকে নিয়মিত হাত ধোয়া, কাশি বা হাঁচির সময় মুখ ঢেকে রাখা এবং অন্যান্য মৌলিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। দেশটির সব প্রিফেকচারে সংক্রমণ সতর্কসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় সামনে ইনফ্লুয়েঞ্জার বিস্তার কীভাবে পরিবর্তিত হয়, সেদিকে নজর রাখছে কর্তৃপক্ষ।
কালের আলো/এসএ

আপনার মতামত লিখুন
Array