খুঁজুন
                               
, ,
           

হারিয়ে যাচ্ছে শহরের কাক, নীরব হচ্ছে চেনা নগরজীবন

ফিচার ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৭ অপরাহ্ণ
হারিয়ে যাচ্ছে শহরের কাক, নীরব হচ্ছে চেনা নগরজীবন

একসময় ভোরের ঘুম ভাঙত কাকের ডাকে। ছাদের কার্নিশে, বৈদ্যুতিক তারে, পুরোনো গাছের ডালে কিংবা বাড়ির উঠানে দেখা মিলত কালো পালকের চিরচেনা পাখিটির। দুপুরের নিস্তব্ধতা ভেঙে ভেসে আসত ‘কা-কা’ শব্দ। কখনো বিরক্তির কারণ, কখনো নিঃসঙ্গ দুপুরের সঙ্গী—কাক ছিল শহুরে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অথচ সেই পরিচিত দৃশ্য ও শব্দ এখন অনেক জায়গাতেই যেন অতীতের স্মৃতি। কংক্রিটের বিস্তারে বদলে যাওয়া শহরে প্রশ্ন উঠছে, কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে কাকেরা?

এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে শুধু একটি পাখির অনুপস্থিতি নয়, বরং বদলে যাওয়া নগরজীবন, সংকুচিত সবুজ, আবাসস্থলের সংকট এবং মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির ক্রমশ দূরত্ব তৈরি হওয়ার চিত্র সামনে আসে। যে শহর একসময় কাকের সঙ্গে সহাবস্থানে অভ্যস্ত ছিল, সেই শহরেই এখন পাখিটির অস্তিত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।

কাকের ডাকে জড়িয়ে ছিল শৈশবের শহর
শহরের পুরোনো দিনের স্মৃতিতে কাকের উপস্থিতি ছিল অনিবার্য। সকালে স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি, ছুটির দিনের অলস দুপুর, ছাদের রোদে শুকাতে দেওয়া কাপড় কিংবা বাড়ির আঙিনায় পড়ে থাকা খাবার—সবকিছুর সঙ্গেই কোনো না কোনোভাবে জড়িয়ে ছিল কাক।

মা যখন ঘুম থেকে ডেকে তুলতেন, বাইরে তখন কাকের ডাক শোনা যেত। স্কুল থেকে ফিরে জানালা দিয়ে তাকালে দেখা মিলত ছাদের কার্নিশে বসে থাকা কয়েকটি কাকের। বাড়ির কেউ খাবার ফেললে মুহূর্তেই সেখানে হাজির হতো তারা। কখনো কাপড়ের ওপর বসে বিরক্ত করত, কখনো আবার দল বেঁধে উড়ে যেত এক ছাদ থেকে অন্য ছাদে। এসব দৃশ্যের মধ্যে আলাদা কোনো বিস্ময় ছিল না। কারণ, কাক ছিল শহরের স্বাভাবিক বাসিন্দা। তাদের উপস্থিতি এতটাই পরিচিত ছিল যে অনুপস্থিতি নিয়ে ভাবার প্রয়োজন পড়ত না।

কিন্তু সময় বদলেছে। বদলেছে বাড়িঘর, মানুষের জীবনযাপন ও শহরের শব্দ। সেই পরিবর্তনের ভিড়ে কাকের ডাকও যেন ধীরে ধীরে পেছনে পড়ে যাচ্ছে। কোথাও এখনো তাদের দেখা মেলে, তবে অনেকের স্মৃতিতে থাকা সেই সর্বত্র উপস্থিতির দৃশ্য আর আগের মতো চোখে পড়ে না।

গাছ কমেছে, সংকুচিত হয়েছে পাখির আবাস
শহরে কাকের উপস্থিতি কমে যাওয়ার সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো আবাসস্থলের পরিবর্তন। একসময় পাড়া-মহল্লায় ছিল বড় বড় গাছ, পুরোনো বাড়ির কার্নিশ, খোলা ছাদ এবং পাখির বাসা তৈরির উপযোগী নানা জায়গা। নগরায়ণের বিস্তারে এসব জায়গার অনেকগুলোই হারিয়ে যাচ্ছে। একতলা কিংবা দোতলা বাড়ির জায়গায় তৈরি হচ্ছে বহুতল ভবন। বাড়ছে সড়ক, পার্কিংয়ের জায়গা ও বাণিজ্যিক স্থাপনা। উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজনে অনেক এলাকায় গাছপালাও কমে যাচ্ছে। ফলে পাখিদের আশ্রয়, বিশ্রাম এবং বাসা তৈরির উপযোগী জায়গা সংকুচিত হচ্ছে।

কাক তুলনামূলকভাবে অভিযোজনক্ষম পাখি। মানুষের বসতির কাছাকাছি থেকেও তারা খাবার সংগ্রহ করতে পারে, গাছ কিংবা ভবনের বিভিন্ন অংশে আশ্রয় নিতে পারে। তবে অভিযোজনক্ষমতা থাকলেই যে সব ধরনের নগর পরিবর্তনের সঙ্গে সহজে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব, তা নয়। নিরাপদ বাসা, উপযুক্ত খাদ্য এবং বিশ্রামের জায়গার অভাব তাদের বসতি বদলে দিতে পারে। শহরের গাছ কমে যাওয়ার অর্থ তাই শুধু ছায়া হারানো নয়; এর সঙ্গে হারিয়ে যায় অসংখ্য পাখি ও ক্ষুদ্র প্রাণীর আবাসের সুযোগও।

পরিচ্ছন্ন শহর, কিন্তু খাবার কোথায়?
কাকের জীবনযাপনের সঙ্গে মানুষের ফেলে দেওয়া খাবারের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বাসাবাড়ি, বাজার, খাবারের দোকান এবং উন্মুক্ত বর্জ্যস্থল থেকে তারা খাবার সংগ্রহ করে। এ কারণে কাককে শহরের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ পাখি হিসেবেও দেখা হয়।

কিন্তু নগর ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এলে তাদের খাদ্য সংগ্রহের সুযোগও বদলে যেতে পারে। আবর্জনা ঢেকে রাখা, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য সংরক্ষণ এবং দ্রুত বর্জ্য অপসারণের ফলে কাকের জন্য সহজলভ্য খাবার কমে যেতে পারে। এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—পরিচ্ছন্নতা অবশ্যই জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য প্রয়োজনীয়। শহরকে অপরিচ্ছন্ন রেখে পাখিদের খাবারের ব্যবস্থা করার কোনো যুক্তি নেই। বরং প্রয়োজন এমন নগর ব্যবস্থাপনা, যেখানে বর্জ্য সঠিকভাবে নিষ্পত্তি হবে, একই সঙ্গে গাছপালা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক আবাসও সংরক্ষিত থাকবে।

খাদ্যের সহজলভ্যতা কমে গেলে কাক অন্য এলাকায় চলে যেতে পারে কিংবা বিকল্প খাদ্যের সন্ধানে তাদের আচরণ বদলাতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট শহরে কাক কমে যাওয়ার পেছনে খাদ্যসংকট কতটা দায়ী, তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা প্রয়োজন।

শব্দের শহরে হারিয়ে যায় পাখির ডাক
শহরের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো অবিরাম শব্দ। যানবাহনের হর্ন, নির্মাণকাজ, জেনারেটর, শিল্পকারখানা ও মানুষের কোলাহল মিলিয়ে নগরজীবনে শব্দের বিরাম খুব কম। পাখিদের যোগাযোগ, সঙ্গী খোঁজা এবং বিপদের সংকেত দেওয়ার ক্ষেত্রে ডাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অতিরিক্ত শব্দ তাদের যোগাযোগে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। শব্দদূষণ বিভিন্ন পাখির আচরণ ও আবাস নির্বাচনের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

কাকের ক্ষেত্রেও নগরের শব্দের প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তবে শুধু শব্দদূষণের কারণেই শহর থেকে কাক হারিয়ে যাচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য নির্দিষ্ট তথ্য প্রয়োজন। আবাসস্থল, খাদ্যের প্রাপ্যতা, প্রজননের সাফল্য এবং পরিবেশগত অন্যান্য পরিবর্তনের সঙ্গে বিষয়টি মিলিয়ে দেখতে হবে। শহর যত বেশি যান্ত্রিক হয়ে উঠছে, ততই প্রকৃতির স্বাভাবিক শব্দগুলো যেন চাপা পড়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তন মানুষের অনুভূতিতেও প্রভাব ফেলে। একসময় যে শব্দকে বিরক্তিকর মনে হতো, তার অনুপস্থিতিই এখন কারও কারও মনে শূন্যতা তৈরি করছে।

কাক কমে যাওয়া কি পরিবেশের সতর্কবার্তা?
কাক কেবল পরিচিত একটি পাখি নয়; নগর বাস্তুতন্ত্রেও তাদের ভূমিকা রয়েছে। তারা বিভিন্ন ধরনের খাদ্য গ্রহণ করে এবং মৃত প্রাণী ও জৈব বর্জ্য খেয়ে পরিবেশে পচনশীল উপাদান অপসারণে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে তারা খাদ্যজালেরও অংশ। তবে কাকের সংখ্যা কমে গেলে পুরো বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে—এমন দাবি করার আগে প্রমাণ প্রয়োজন। কোনো এলাকায় কাকের প্রকৃত সংখ্যা কমেছে কি না, নাকি তাদের চলাচলের স্থান পরিবর্তিত হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত পাখি গণনা, বাসা ও প্রজননের তথ্য সংগ্রহ এবং খাদ্য ও আবাসস্থলের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব। পরিবেশবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সমন্বিত উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে। কাকের উপস্থিতি নিয়ে মানুষের স্মৃতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও স্মৃতি দিয়ে একা কোনো প্রজাতির সংখ্যা নির্ধারণ করা যায় না। প্রয়োজন পর্যবেক্ষণ, তথ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা।

কাক ফিরিয়ে আনতে শহরকে কি নতুন করে ভাবতে হবে?
নগর উন্নয়ন থামিয়ে দেওয়া নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শহর গড়ে তোলাই হতে পারে কার্যকর পথ। পুরোনো গাছ সংরক্ষণ, নতুন গাছ লাগানো, ছাদবাগান ও সবুজ জায়গা বাড়ানো এবং পাখির নিরাপদ আবাস বজায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে হবে, যাতে খাবারের উচ্ছিষ্ট যত্রতত্র পড়ে না থাকে এবং পরিবেশও দূষিত না হয়। কীটনাশক ও অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার কমানো এবং পাখিদের প্রজননস্থল সংরক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

শহরের কোন এলাকায় কাকের উপস্থিতি কমছে, কোথায় তারা এখনো নিয়মিত আসে এবং কী ধরনের পরিবেশে তাদের দেখা বেশি মেলে—এসব তথ্য সংগ্রহ করা গেলে পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হবে। নাগরিকদেরও পাখি পর্যবেক্ষণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে যুক্ত করা যেতে পারে। কাককে ভালোবাসতেই হবে, এমন কোনো কথা নেই। কিন্তু মানুষের সঙ্গে সহাবস্থানকারী একটি প্রজাতির জন্য শহরে উপযুক্ত পরিবেশ রাখা প্রকৃতি সংরক্ষণেরই অংশ।

কাকের ডাক কি ফিরবে শহরে?
শহর বদলাবে, নতুন ভবন উঠবে, সড়ক বাড়বে, মানুষের জীবনযাপনও পরিবর্তিত হবে। কিন্তু সেই পরিবর্তনের মধ্যে প্রকৃতির জন্য কতটুকু জায়গা থাকবে, সেটিই বড় প্রশ্ন। কাকের ডাক হয়তো একসময় অনেকের কাছে ছিল বিরক্তির, আবার কারও কাছে ছিল শৈশবের পরিচিত শব্দ। আজ সেই ডাক কম শোনা গেলে স্মৃতির পাশাপাশি সামনে আসে পরিবেশের প্রশ্নও। যে শহর একসময় পাখির সঙ্গে নিজের দৈনন্দিন জীবন ভাগ করে নিত, সেখানে পাখিদের জায়গা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে কি না, তা ভেবে দেখার সময় এসেছে।

কাকেরা কি সত্যিই শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছে, নাকি শহরের ভেতরেই তাদের পরিচিত আবাস ও খাদ্য সংগ্রহের জায়গা বদলে যাচ্ছে? নিশ্চিত উত্তর পেতে প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধান। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—শহরকে শুধু মানুষের বসবাসের উপযোগী করলেই চলবে না, সেখানে অন্য প্রাণীর অস্তিত্বের সুযোগও রাখতে হবে। হয়তো কোনো এক ভোরে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আবার শোনা যাবে সেই পরিচিত ‘কা-কা’ ডাক। তখন সেটি শুধু একটি পাখির শব্দ থাকবে না; মনে করিয়ে দেবে, কংক্রিটের শহরেও প্রকৃতির জন্য জায়গা রাখা সম্ভব।

কারণ, শহর শুধু ভবন, সড়ক আর মানুষের সমষ্টি নয়। শহরের প্রাণ আছে তার গাছপালা, পাখি, আলো-বাতাস এবং মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সহাবস্থানে। কাকের অনুপস্থিতি সেই সহাবস্থান নিয়ে নতুন করে ভাবারই একটি উপলক্ষ।

কালের আলো/জেএন/এসএ

নবম পে-স্কেলে বেতন নির্ধারণ শেষ, বকেয়া পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
নবম পে-স্কেলে বেতন নির্ধারণ শেষ, বকেয়া পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা

নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন মূল বেতন নির্ধারণ বা ‘পে-ফিক্সেশন’ কার্যক্রম শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এর ফলে অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা পাওয়ার আশা করছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

গত ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন মূল বেতন, আগের বেতনের সঙ্গে পার্থক্য এবং বকেয়া পাওনার হিসাব চূড়ান্ত করা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, আইবাস প্লাস প্লাস (iBAS++) ব্যবস্থায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন নির্ধারণের কার্যক্রম সম্পন্ন করার কথা ছিল। তবে প্রতিরক্ষা ও জুডিশিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আইবাস প্লাস প্লাসের পাইলটিং কার্যক্রমের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ অনুসারে জুন ২০২৬ মাসের বেতন-ভাতা উত্তোলন এবং জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেতন-ভাতার বিল সাবমিট করার পর জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করা যাবে। অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে আগের তিন মাসের বকেয়া অর্থও পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে কর্মচারীদের গ্রেড, আগের মূল বেতন, নতুন নির্ধারিত বেতন ও কার্যকর হওয়ার সময়ের ভিত্তিতে বকেয়ার পরিমাণে পার্থক্য হবে।

দীর্ঘদিন নতুন বেতনকাঠামো না থাকায় মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও বেতনবৈষম্য নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। এ পরিস্থিতিতে গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম জাতীয় বেতনস্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে ১৯ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগ থেকে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ প্রকাশ করা হয়। আদেশটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর বলে গণ্য করা হয়েছে।

নতুন বেতনকাঠামোয় প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন দ্বিগুণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১২তম থেকে ২০তম গ্রেডেও তুলনামূলক বেশি হারে বেতন বাড়ানো হয়েছে। সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে বর্ধিত বেতন একবারে পুরোপুরি কার্যকর না করে ধাপে ধাপে দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তারা পুরোনো ও নতুন মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ পাবেন।

দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত প্রথম থেকে নবম গ্রেডের ক্ষেত্রে এ হার হবে ৭০ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ। তৃতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টসহ নতুন মূল বেতনের শতভাগ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে, গত ১৯ অক্টোবর অর্থ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মূল বেতনের শতাংশের ভিত্তিতে দেওয়া প্রচলিত ভাতাগুলো ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত মূল বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারণ ও প্রদান করতে হবে।

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের এই প্রক্রিয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি ও বকেয়া পরিশোধের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে ব্যক্তিভেদে প্রাপ্য অর্থের পরিমাণ নির্ধারিত হবে সংশ্লিষ্ট গ্রেড ও বেতন হিসাবের ভিত্তিতে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

পক্ষপাতমূলক আম্পায়ারিং ঠেকাতে ঢাকার ক্রিকেটে ড্রোন

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪১ অপরাহ্ণ
পক্ষপাতমূলক আম্পায়ারিং ঠেকাতে ঢাকার ক্রিকেটে ড্রোন

ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে আম্পায়ারদের পক্ষপাতমূলক আচরণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক এবার প্রযুক্তির মাধ্যমে মোকাবিলার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মাঠে আম্পায়ারিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক এড়াতে ক্যামেরা ব্যবহারের পাশাপাশি ড্রোন ক্যামেরা কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম)। চলতি মৌসুমেই এক থেকে দেড় লাখ টাকা মূল্যের কয়েকটি ড্রোন কেনার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির। এসব ড্রোন দিয়ে ম্যাচ চলাকালে মাঠের বিভিন্ন ঘটনা ধারণ করা হবে। কোনো বিতর্ক তৈরি হলে ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রানআউটের সিদ্ধান্ত ঘিরে মাঠ ছাড়ল দল
ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে আম্পায়ারিং নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। প্রিমিয়ার লিগ থেকে শুরু করে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ—বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় আম্পায়ারদের পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে একাধিকবার। অতীতে এসব বিতর্ক বন্ধে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও সমস্যাটি পুরোপুরি দূর হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে তৃতীয় বিভাগ বাছাই ক্রিকেটে বসুন্ধরা ক্রিকেট একাডেমি ও মিরপুর ওয়ারিয়র্সের মধ্যকার ম্যাচে ঘটে এমনই একটি ঘটনা। রানআউটের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে মাঠ ছেড়ে উঠে যায় মিরপুর ওয়ারিয়র্স। মিরপুর ওয়ারিয়র্স আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ না করলেও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আম্পায়ারিং প্রভাবিত করার অনানুষ্ঠানিক অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনার পর ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট আম্পায়ারকে তৃতীয় বিভাগ বাছাইয়ের বাকি ম্যাচগুলোতে আর দায়িত্ব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।

মাঠের প্রতিটি মুহূর্ত ক্যামেরায় রাখার পরিকল্পনা
আম্পায়ারিং নিয়ে বিতর্ক কমাতে এর আগেও মাঠে ক্যামেরা স্থাপন করেছিল সিসিডিএম। এবার ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে নজরদারি আরও বাড়াতে চায় সংস্থাটি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরো ম্যাচে মাঠে কী ঘটছে, তা ড্রোনের সাহায্যে ধারণ করা হবে। সিসিডিএমপ্রধান মঈন উদ্দীন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা চাই, মাঠের সব মুহূর্তই যেন ক্যামেরাবন্দী থাকে, যাতে সব ধরনের বিতর্ক এড়ানো যায়। এ জন্য আমরা কয়েকটা ড্রোন কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেগুলো পুরো ম্যাচে মাঠে কী কী ঘটনা ঘটে, সেসব ক্যামেরায় ধারণ করবে।’ ড্রোনের ফুটেজ সংরক্ষণ ও প্রয়োজনে তা পর্যালোচনার মাধ্যমে বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সিসিডিএমের। ঢাকার সব ধরনের ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় এসব ড্রোন ব্যবহার করা হবে বলে জানা গেছে।

প্রথম বিভাগ লিগের আগেই ড্রোন কেনার লক্ষ্য
আগামী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের পরবর্তী আসর আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে তৃতীয় বিভাগ বাছাই শেষ হওয়ার পর ১৫ নভেম্বর শুরু হবে ঢাকা প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ। তার আগেই ড্রোন ক্যামেরাগুলো কেনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিসিবি। ড্রোন ব্যবহারের পাশাপাশি প্রিমিয়ার লিগের আসন্ন মৌসুমে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার জন্য এডিআরএস (অ্যাডিশনাল ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম) চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে বিসিবির। এই ব্যবস্থা চালু হলে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি থাকলে ক্রিকেটারদের তা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ তৈরি হবে।

প্রযুক্তিতে কমবে কি আম্পায়ারিং বিতর্ক?
ক্রিকেট মাঠে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে ভিডিও ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে রানআউট, মাঠের ভেতরে খেলোয়াড়দের আচরণ কিংবা কোনো ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ক্যামেরার ধারণ করা দৃশ্য সহায়ক হতে পারে। তবে ড্রোনের ফুটেজ ব্যবহারের পাশাপাশি সঠিক আম্পায়ার নিয়োগ, নিরপেক্ষ ম্যাচ পরিচালনা এবং অভিযোগ তদন্তের কার্যকর ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তার ওপর নির্ভর করবে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে আম্পায়ারিং নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক কমাতে এই উদ্যোগ কতটা ভূমিকা রাখতে পারে।

কালের আলো/এমএএইচ/এসএ

মেসির নামে ছয় প্রজাতি গিনেস রেকর্ডে নতুন স্বীকৃতি

ক্রীড়া ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ণ
মেসির নামে ছয় প্রজাতি গিনেস রেকর্ডে নতুন স্বীকৃতি

ফুটবল মাঠে অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। এবার বিজ্ঞানের জগতেও তাঁর নামের পাশে যুক্ত হলো নতুন এক স্বীকৃতি। পেরুর আন্দিজ পর্বতমালায় আবিষ্কৃত একটি নতুন উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম রাখা হয়েছে ‘সালভিয়া মেসি’ (Salvia messii)। এর ফলে মেসির নামে নামকরণ করা প্রজাতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয়ে। একই সঙ্গে আরও সমৃদ্ধ হয়েছে তাঁর গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড।

মেসির নামে ছয় প্রজাতি, বৈচিত্র্যও বিস্তৃত
নতুন উদ্ভিদটি আবিষ্কারের আগে মেসির নামে পাঁচটি প্রজাতির নামকরণ করা হয়েছিল। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি টিকটিকি, একটি মাকড়সা, দুটি জীবাশ্ম প্রজাতি এবং একটি ছত্রাক। এবার তালিকায় যুক্ত হলো উদ্ভিদও। ফলে জীবিত প্রাণী থেকে শুরু করে প্রাগৈতিহাসিক জীবাশ্ম এবং উদ্ভিদ—বিভিন্ন ধরনের প্রজাতির বৈজ্ঞানিক নামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মেসির পদবি। ২০২৪ সালের মে মাসে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস মেসিকে সেই ফুটবলার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, যার নামে সবচেয়ে বেশি প্রজাতির নামকরণ করা হয়েছে। তখন তাঁর নামে নামকরণ করা প্রজাতির সংখ্যা ছিল পাঁচ। ২০২৬ সালে ‘সালভিয়া মেসি’ যুক্ত হওয়ায় সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ছয়।

কী এই ‘সালভিয়া মেসি’ উদ্ভিদ?
‘সালভিয়া মেসি’ একধরনের সেজ বা ঔষধি উদ্ভিদ। এটি পেরুর মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের আন্দিজ পর্বতমালায় প্রাকৃতিকভাবে জন্মায়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৪০০ মিটার উচ্চতায় পাথুরে ও শুষ্ক ঢালু এলাকায় উদ্ভিদটির দেখা মেলে। উদ্ভিদটি মিন্ট বা পুদিনা পরিবারের সদস্য। এ পরিবারের কিছু উদ্ভিদ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, প্রদাহবিরোধী ও জীবাণুনাশক বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। নতুন প্রজাতিটি প্রায় দেড় মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এর ফুলের রং হালকা নীল ও সাদা। ফুলের এই রঙের সঙ্গে আর্জেন্টিনার জাতীয় রঙের মিল রয়েছে। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিত্ব করা মেসির নামে উদ্ভিদটির নামকরণে এই মিল বিশেষ তাৎপর্য যোগ করেছে। যদিও উদ্ভিদটি আর্জেন্টিনায় নয়, পেরুর আন্দিজ পর্বতমালায় জন্মায়।

বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত উদ্ভিদটি
মেসির নামে উদ্ভিদটির নামকরণ যেমন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনি এর সংরক্ষণ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। গবেষকেরা ‘সালভিয়া মেসি’কে বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছেন। অর্থাৎ, উদ্ভিদটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এর প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় জন্মানো এই উদ্ভিদের আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ফলে আবিষ্কারটি শুধু মেসির নামে নতুন একটি প্রজাতির নামকরণের ঘটনা নয়, বরং প্রকৃতিতে বিদ্যমান জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে এনেছে।

গবেষণায় যেভাবে এলো মেসির নাম
ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সান মার্কোসের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের পল গনজালেসের নেতৃত্বে গবেষকেরা উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক বর্ণনা দেন। এ গবেষণায় তাঁর সঙ্গে ছিলেন আর্জেন্টিনার গবেষক রোলান্দো উরিয়া এবং হুয়ারাঙ্গো নেচারের জীববিজ্ঞানী জ্যঁ কাপচা-রামোস। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে উদ্ভিদবিষয়ক সাময়িকী Phytotaxa-এর অক্টোবর সংখ্যায়। বৈজ্ঞানিক নামকরণের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে সম্মান জানাতে অনেক সময় তাঁর পদবি লাতিন রূপে ব্যবহার করে নতুন প্রজাতির নাম রাখা হয়। ‘মেসি’ পদবির সঙ্গে ‘i’ যুক্ত করে ‘Salvia messii’ নামটি তৈরি করা হয়েছে। এর অর্থ দাঁড়ায় ‘মেসির সেজ’।

মেসির নামে নামকরণ করা ছয়টি প্রজাতি
মেসির নামে নামকরণ করা প্রজাতিগুলোর তালিকায় রয়েছে প্রাণী, জীবাশ্ম, ছত্রাক ও উদ্ভিদ। সেগুলো হলো— Liolaemus messii — ইগুয়ানিয়ান গোত্রের টিকটিকি; আর্জেন্টিনার রোজারিও দে লেরমা; ২০২১ সালে নামকরণ, Acanthogonatus messii — মাটির গর্তে বসবাসকারী মাকড়সা; আর্জেন্টিনার প্যাটাগোনিয়া; ২০২৩ সালে নামকরণ, Discinisca messi — জীবাশ্ম ব্র্যাকিওপড; আর্জেন্টিনার মায়োসিন যুগের জীবাশ্ম; ২০২৩ সালে নামকরণ,Vultur messii — জীবাশ্ম কনডর; আর্জেন্টিনার প্লায়োসিন যুগের জীবাশ্ম; ২০২৩ সালে নামকরণ,Cercopemyces messii — ছত্রাক; আর্জেন্টিনার সালতা প্রদেশের আন্দিজের মেঘবন; ২০২৪ সালে নামকরণ, Salvia messii — সেজ বা ঔষধি উদ্ভিদ; পেরুর আন্দিজ পর্বতমালা; ২০২৬ সালে নামকরণ। দেখা যায়, মেসির নাম শুধু বর্তমানে জীবিত প্রাণী কিংবা উদ্ভিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। প্রাগৈতিহাসিক যুগের জীবাশ্ম প্রজাতির বৈজ্ঞানিক নামেও তাঁর পদবি যুক্ত হয়েছে। জীবাশ্ম ব্র্যাকিওপড ও কনডর এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

ফুটবল মাঠের সাফল্যেও সমৃদ্ধ মেসির ক্যারিয়ার
বিজ্ঞানের জগতে এই স্বীকৃতির পাশাপাশি ফুটবল মাঠেও মেসির অর্জনের তালিকা দীর্ঘ। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট হাঙ্গেরির বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জার্সিতে সিনিয়র পর্যায়ে অভিষেক হয় তাঁর। ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সাময়িক অবসরের ঘোষণা দিলেও পরে জাতীয় দলে ফিরে আসেন তিনি। মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা ২০২১ ও ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতে। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের শিরোপাও জয় করে দলটি। আটবার ব্যালন ডি’অর জয়ের কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর। জাতীয় দলের হয়ে মেসির গোল ও ম্যাচসংক্রান্ত পরিসংখ্যান এবং সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ম্যাচের তথ্য সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তবে ফুটবলে তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ার যে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি তৈরি করেছে, বিভিন্ন সময়ে তাঁর নামে প্রজাতির নামকরণ সেই পরিচিতিরই একটি ব্যতিক্রমী প্রতিফলন।

মেসি ছাড়াও বিজ্ঞানের জগতে জায়গা পেয়েছেন ফুটবলাররা
বিভিন্ন প্রজাতির নামকরণে ফুটবলারদের সম্মান জানানোর ঘটনা নতুন নয়। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে গবেষকেরা ব্রাজিলের ১৯৫৮ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্যদের নামে নতুন শনাক্ত করা ১২টি মাইক্রোক্যাডিসফ্লাই প্রজাতির নাম রাখেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কিংবদন্তি পেলে। তাঁর নাম অনুসারে একটি প্রজাতির নাম রাখা হয় Neotrichia pelei। আর্জেন্টিনার আরেক কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার নামেও একাধিক জীবের নামকরণ হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি জীবাশ্ম ড্যামসেলফ্লাই, একটি পরজীবী ফ্লুক এবং একটি সামুদ্রিক শামুক। ম্যারাডোনার নামে নামকরণ করা Anaphes maradonae নামের একটি পরী-বোলতার কথাও উল্লেখযোগ্য। তবে পরবর্তী সময়ে গবেষকেরা দেখতে পান, এটি আগে নামকরণ করা অন্য একটি বোলতা প্রজাতিরই সমতুল্য। ফলে এটিকে আর স্বতন্ত্র বৈধ প্রজাতি হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। মেসির নামে ছয়টি প্রজাতির নামকরণ তাঁকে বিজ্ঞানের জগতেও ব্যতিক্রমী পরিচিতি দিয়েছে। তবে ‘সালভিয়া মেসি’র ক্ষেত্রে এই স্বীকৃতির গুরুত্ব শুধু রেকর্ডে সীমাবদ্ধ নয়। বিপন্ন এই উদ্ভিদের নাম বিশ্বজুড়ে পরিচিত একজন ফুটবলারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এসএ