খুঁজুন
                               
, ,
           

মায়ের কানের দুল বিক্রির টাকায় শুরু, আজ ১০ জনের কর্মসংস্থানের পথপ্রদর্শক মিতু

ফিচার ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৯ অপরাহ্ণ
মায়ের কানের দুল বিক্রির টাকায় শুরু, আজ ১০ জনের কর্মসংস্থানের পথপ্রদর্শক মিতু

ছবি সংগৃহীত

কোলে ছয় মাসের সন্তান, সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। সংসার ভাঙার কঠিন বাস্তবতা, আর্থিক সংকট আর সামাজিক কটূক্তি—সব মিলিয়ে জীবন তখন যেন এক অন্ধকার অধ্যায়। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন ছিল, কিন্তু ছিল না পর্যাপ্ত অর্থ, ভালো কম্পিউটার কিংবা নিশ্চিত কোনো পথ। সম্বল বলতে ভাইয়ের একটি পুরোনো, প্রায় অচল ল্যাপটপ আর ঘুরে দাঁড়ানোর প্রবল ইচ্ছাশক্তি।

সেই কঠিন সময়ে মেয়ের স্বপ্ন পূরণে নিজের কানের দুল বিক্রি করে দিয়েছিলেন মা। বলেছিলেন, ‘যেদিন আয় করবে, সেদিন আমাকে আবার বানিয়ে দিয়ো।’ মায়ের সেই বিশ্বাসকে পুঁজি করেই শুরু হয় মিতু আক্তারের নতুন পথচলা। ডিজিটাল মার্কেটিং ও সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) শেখার মধ্য দিয়ে যে যাত্রার শুরু, সময়ের ব্যবধানে তা তাঁকে নিয়ে গেছে আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিংয়ের জগতে। এখন তিনি নিজেই একটি ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি পরিচালনা করছেন, যেখানে কাজ করছেন প্রায় ১০ জন তরুণ-তরুণী।

মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার বেজগাঁও গ্রামের মিতু আক্তারের গল্প কেবল একজন ফ্রিল্যান্সারের সাফল্যের কাহিনি নয়; এটি প্রতিকূলতার মুখে দাঁড়িয়ে নিজের পরিচয় গড়ে তোলার, মায়ের ত্যাগের মর্যাদা রাখার এবং অন্যদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার গল্প।

ভাঙা ল্যাপটপেই স্বপ্নের প্রথম পাঠ
মিতু আক্তারের শৈশব কেটেছে মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের বেজগাঁও গ্রামে। বাবা মো. আবুল হোসেন শেখ পেশায় সার্ভেয়ার বা আমিন। মা শিউলি বেগম সংসারের দেখভাল করতেন। তিন ভাইয়ের একমাত্র বোন মিতুর জীবনও অন্য অনেকের মতোই এগোচ্ছিল। ২০১৬ সালের নভেম্বরে বিয়ে এবং পরের বছর ১০ অক্টোবর পুত্রসন্তান সাফাত নূর আলিফের জন্ম—জীবনে যুক্ত হয়েছিল নতুন দায়িত্ব। কিন্তু ২০১৯ সালের দিকে ব্যক্তিগত জীবনে বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি হন তিনি। পারিবারিক টানাপোড়েনের একপর্যায়ে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়। তখন ছেলের বয়স মাত্র ছয় মাস। সন্তানের দায়িত্ব, নিজের ভবিষ্যৎ এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার চাপ—সবকিছু একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছিল তাঁকে।

উচ্চশিক্ষার সনদ না থাকায় প্রচলিত চাকরির বাজারে নিজের জায়গা তৈরি করাও সহজ ছিল না। এর মধ্যে সামাজিক কটূক্তি ও নানা প্রতিকূলতা তাঁকে আরও কঠিন বাস্তবতার সামনে দাঁড় করায়। কিন্তু পরিস্থিতির কাছে হার মানার পরিবর্তে ঘরে বসে শেখা ও কাজ করার পথ খুঁজতে শুরু করেন তিনি। ২০২০ সালের শেষ দিকে ভাইয়ের একটি পুরোনো ল্যাপটপ অনেক অনুরোধ করে নেন মিতু। সেটি মেরামত করে গ্রাফিক ডিজাইনের কাজ শেখার চেষ্টা শুরু করেন। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনের মধ্যে ল্যাপটপটি আবারও নষ্ট হয়ে যায়। নতুন করে কাজ শেখার স্বপ্ন তখন প্রায় থমকে যাওয়ার উপক্রম।

মেয়ের স্বপ্নে মায়ের কানের দুল
জীবনের সেই সংকটময় সময়ে মিতুর সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে দাঁড়ান তাঁর মা শিউলি বেগম। ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার জন্য অর্থের প্রয়োজন হলে মায়ের কাছে সাহায্য চান তিনি। মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে নিজের কানের দুল বিক্রি করে সেই টাকা তাঁর হাতে তুলে দেন মা।

প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিতু আক্তার বলেন, ‘আমার আর যাওয়ার কোনো জায়গা ছিল না। কী করব, বুঝে উঠতে পারছিলাম না। মাকে বোঝালাম যে আমাকে কোনোভাবে টাকার ব্যবস্থা করে দিলে আমি ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের একটি কোর্স করব। মা আমার কথায় কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজের কানের দুল বিক্রি করে দিলেন। সেই টাকা আমার হাতে তুলে দিয়ে বললেন, “যেদিন আয় করবে, সেদিন আমাকে আবার বানিয়ে দিয়ো।” সেদিন আমার মা-ই আমার পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।’

মায়ের সেই ত্যাগ মিতুর কাছে কেবল আর্থিক সহায়তা ছিল না; ছিল নিজের সামর্থ্যের ওপর আস্থা রাখার শক্তি। সেই অর্থ দিয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি। পরে ক্রিয়েটিভ আইটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ভর্তি হয়ে ডিজিটাল মার্কেটিং ও এসইও বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যান। প্রশিক্ষণ নেওয়া থেকে শুরু করে বাস্তবে কাজ শেখা—প্রতিটি ধাপেই ছিল সীমাবদ্ধতা। কখনো প্রযুক্তিগত সমস্যা, কখনো আর্থিক অনিশ্চয়তা, আবার কখনো ব্যক্তিগত জীবনের চাপ। তবু শেখার আগ্রহ ধরে রাখেন মিতু।

প্রথম ১২০ ডলার বদলে দিল পথচলা
দক্ষতা অর্জনের পর আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ফাইভারে কাজ খুঁজতে শুরু করেন মিতু। একসময় ইতালির এক গ্রাহকের কাছ থেকে পান প্রথম কাজ। পারিশ্রমিক ছিল ১২০ ডলার। অঙ্কটি হয়তো অনেকের কাছে বড় কিছু নয়, কিন্তু মিতুর কাছে সেটিই ছিল নিজের চেষ্টায় আয় করার প্রথম বড় স্বীকৃতি। প্রথম কাজ পাওয়ার পর ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস বাড়তে থাকে তাঁর। অভিজ্ঞতার সঙ্গে বাড়ে কাজের পরিধি, তৈরি হয় গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং পেশাগত দক্ষতা। পরবর্তী সময়ে ফাইভারে লেভেল-২ পর্যায়ে পৌঁছান এবং আপওয়ার্কে টপ রেটেড ফ্রিল্যান্সার হিসেবে স্বীকৃতি পান।

মিতুর এই অগ্রযাত্রার পেছনে ছিল নিয়মিত শেখা, কাজের মান ধরে রাখা এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মতো প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্রে টিকে থাকতে শুধু প্রশিক্ষণ নয়, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও নতুন কৌশল শেখার প্রয়োজনীয়তাও উপলব্ধি করেন তিনি।

একসময় একা কাজ করার গণ্ডি পেরিয়ে একজন অংশীদারকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তোলেন ‘বি মার্কেটিং এজেন্সি’। বর্তমানে তাঁর প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১০ জন তরুণ-তরুণী দূর থেকে কাজ করছেন। এসইও, গ্রাফিক ডিজাইন ও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের বিভিন্ন সেবা দিয়ে আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের সঙ্গে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। অর্থাৎ, যে নারী একসময় নিজের কাজ শেখার জন্য একটি সচল ল্যাপটপ জোগাড় করতে হিমশিম খেয়েছেন, তিনিই এখন অন্যদের কাজের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখছেন।

থেমে থাকেনি পড়াশোনাও
জীবিকার সংগ্রামের পাশাপাশি নিজের শিক্ষাজীবনও নতুন করে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন মিতু। একসময় আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সীমাবদ্ধতা তাঁকে ভাবিয়ে তুললেও পরে সেটিকে আর বাধা হিসেবে দেখতে চাননি। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হন তিনি। বর্তমানে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ পড়ছেন। সন্তানের দায়িত্ব, পেশাগত কাজ এবং পড়াশোনা—তিনটি বিষয় একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে তাঁকে।

মিতুর এই সিদ্ধান্তের তাৎপর্য শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং জীবনের কোনো পর্যায়ে এসে নতুন করে শেখা শুরু করাও যে সম্ভব, তাঁর অভিজ্ঞতা সেটিই তুলে ধরে।

নিজের সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে মিতু বলেন, ‘আমার জীবনসংগ্রাম কতটা কঠিন ছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তবে মনের জোর আর সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা পেরিয়েই সাফল্য পাওয়া সম্ভব। আমি কেবল নিজের জীবনের অন্ধকারই দূর করিনি, সমাজের নানা ভ্রান্ত ধারণাকে উপেক্ষা করে নিজের পথ তৈরি করেছি।’

আত্মনির্ভরতার সঙ্গে ফিরেছে আত্মবিশ্বাস
মিতুর কাছে সাফল্য মানে শুধু ফ্রিল্যান্সিং থেকে আয় করা নয়; নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার সামর্থ্য অর্জনও। তিনি জানিয়েছেন, বিচ্ছেদের পর বাবার বাড়িতে ফিরে না গিয়ে নিজেই বাসা ভাড়া নিয়ে ছেলেকে সঙ্গে রেখে জীবন শুরু করেন। সন্তানের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান শক্ত করেন। নিজের উপার্জনের অর্থ দিয়ে মায়ের কানের দুল আবার তৈরি করে দিয়েছেন। কিনেছেন একটি স্কুটি, শিখেছেন গাড়ি চালানো এবং সংগ্রহ করেছেন ড্রাইভিং লাইসেন্স। পাশাপাশি নিজের সঞ্চয় থেকে জমিও কিনেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শিগগিরই নিজের বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মিতু বলেন, ‘একসময় কাজের সূত্রে প্রতারণার শিকার হয়েছিলাম, চারপাশের সবাই যখন বলেছিল “তুমি পারবে না”, ঠিক তখনই নিজের ভেতরের শক্তিকে খুঁজে পেয়েছি। আজ আমার একমাত্র সন্তান সম্পূর্ণ আমার জিম্মায় এবং তার সব দায়িত্ব এখন আমার নিজের কাঁধে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রমাণ করে দিয়েছি যে পর্দা কোনো বাধা নয়, পর্দা রক্ষা করেও সফলভাবে কাজ করা যায়। … তবে আমি মেয়েদের বলব, কেউই সবকিছু জেনে জন্মগ্রহণ করে না। সময় ও অনুশীলনের মাধ্যমে যে কেউ শিখতে পারে।’

এবার অন্য নারীদের এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে মিতু উপলব্ধি করেছেন, অনেক নারীই দক্ষতা ও আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও আর্থিক সীমাবদ্ধতা, পারিবারিক পরিস্থিতি কিংবা সামাজিক বাধার কারণে কাজ শুরু করতে পারেন না। তাঁদের জন্য সুযোগ তৈরি করতে চান তিনি।

বিশেষ করে যেসব নারী ঘরে বসে কাজ শিখে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে চান, তাঁদের মৌলিক ফ্রিল্যান্সিং দক্ষতা শেখানো ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছেন মিতু। তাঁর লক্ষ্য, নারীদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাঁদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলা, যাতে তাঁরা নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ খুঁজে নিতে পারেন।

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রেও প্রতিনিয়ত শেখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সার্চ ইঞ্জিন এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কার্যকর ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা অর্জন করলে তরুণ-তরুণীরা পেশাগতভাবে এগিয়ে যেতে পারেন বলে মনে করেন মিতু। তবে এ জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, নিয়মিত অনুশীলন, কাজের প্রতি আন্তরিকতা এবং পরিবর্তিত প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার মানসিকতা।

নিজের শেখার যাত্রায় ক্রিয়েটিভ আইটির অবদানের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর মতে, শেখার আগ্রহের পাশাপাশি উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা পেশাগত দক্ষতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

একটি কানের দুলের গল্প, অনেক দূর যাওয়ার প্রেরণা
মিতু আক্তারের জীবনের শুরুটা সহজ ছিল না। ব্যক্তিগত সংকট, আর্থিক অনিশ্চয়তা, নষ্ট ল্যাপটপ আর সামাজিক কটূক্তির মধ্যেও তিনি নিজের জন্য বিকল্প পথ খুঁজেছেন। মায়ের বিক্রি করে দেওয়া কানের দুলের অর্থ দিয়ে শেখার যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা এখন তাঁর নিজের পেশা গড়া এবং অন্যদের কাজের সুযোগ করে দেওয়ার গল্পে পরিণত হয়েছে। তবে তাঁর গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং সংকটের মধ্যেও শেখার সুযোগ খুঁজে নেওয়া এবং নিজের অর্জনকে অন্যদের কাজে লাগানোর ইচ্ছা।

একসময় যাঁর সামনে প্রশ্ন ছিল কীভাবে নিজের ও সন্তানের দায়িত্ব সামলাবেন, আজ তাঁর সামনে নতুন লক্ষ্য—আরও বেশি নারীকে দক্ষ করে তোলা, তাঁদের কাজের সুযোগ তৈরি করা এবং আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে যেতে সহায়তা করা।

মায়ের সেই কানের দুল তাই মিতুর কাছে এখন শুধু একটি স্মৃতি নয়; এটি তাঁর জীবনের এমন এক অধ্যায়ের প্রতীক, যেখানে বিশ্বাস, ত্যাগ আর অধ্যবসায় মিলে নতুন ভবিষ্যতের দরজা খুলে দিয়েছিল।

কালের আলো/এসএ/জেএন

১৯৯ রানেই চার উইকেট হারিয়ে চাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

স্পোর্টস ডেস্ক,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৮ অপরাহ্ণ
১৯৯ রানেই চার উইকেট হারিয়ে চাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাট হাতে বড় সংগ্রহ গড়ার পর বল হাতেও দাপট দেখাচ্ছে বিসিবি একাদশ। প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭১ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) একাদশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯৯ রান সংগ্রহ করেছে ক্যারিবীয়রা। শুরুতে কয়েকজন ব্যাটার রান পেলেও বড় জুটি গড়ে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না তারা। বিসিবি একাদশের বোলাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে সফরকারীদের বড় সংগ্রহের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথম দিনে ব্যাটিংয়ে নেমে ভালো সংগ্রহ গড়ে বিসিবি একাদশ। ৭ উইকেটে ৩৭১ রান তোলার পর ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকরা। ফলে বড় সংগ্রহের জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই চাপ সামলাতে হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে বাংলাদেশের দেওয়া বড় সংগ্রহের বিপরীতে সফরকারীরা এখন পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে রান তুলতে পারলেও ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিতে পারেনি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৫ রান করেছেন ওপেনার জন ক্যাম্পবেল। ৭৮ বলের ইনিংসে ৯টি চার ও ২টি ছক্কা হাঁকান তিনি। ভালো ব্যাটিংয়ের পর রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন এই ওপেনার। অন্য ওপেনার তেজনারায়ণ চন্দরপল করেন ৯০ বলে ৩১ রান। শুরুতে তাঁরা রান তুললেও পরবর্তী সময়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এ ছাড়া ব্রেন্ডন কিং ৩৫ বলে ৪০ রান করে সাজঘরে ফেরেন। অনিক দেববর্মার বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। কাভেম হজ করেন ১৩ রান এবং জশুয়া ডি সিলভার ব্যাট থেকে আসে ১১ রান। ব্যাটারদের ব্যক্তিগত কিছু ভালো ইনিংস থাকলেও বড় জুটি গড়ে ইনিংসকে এগিয়ে নিতে না পারায় চাপে রয়েছে সফরকারীরা।

বিসিবি একাদশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল মো. হোসেন। তিনি তুলে নিয়েছেন ২ উইকেট। অনিক দেববর্মা পেয়েছেন ১ উইকেট। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান তোলার গতি নিয়ন্ত্রণে রাখছেন বাংলাদেশের বোলাররা।

৫০ ওভারে ১৯৯ রান তুললেও চার উইকেট হারানোয় সফরকারীদের সামনে এখন বড় জুটি গড়ার চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে বাকি উইকেটগুলো দ্রুত তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আরও চাপে ফেলার লক্ষ্য থাকবে বিসিবি একাদশের বোলারদের। দুই দিনের এই প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশের বড় সংগ্রহের পর বোলারদের পারফরম্যান্সও আলোচনায় এসেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা রান পেলেও নিয়মিত উইকেট হারানোয় ইনিংসের ভিত মজবুত করতে পারেনি। ম্যাচের এই পর্যায়ে বাংলাদেশের বোলাররা চাপ ধরে রাখতে পারলে সফরকারীদের বড় সংগ্রহে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। তবে হাতে উইকেট থাকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগও রয়েছে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

প্রশাসনের ধাওয়া এড়িয়ে মেঘনায় ইলিশ ধরছেন জেলেরা

চাঁদপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫২ অপরাহ্ণ
প্রশাসনের ধাওয়া এড়িয়ে মেঘনায় ইলিশ ধরছেন জেলেরা

মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চললেও চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীতে বন্ধ হচ্ছে না ইলিশ শিকার। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান, জেল-জরিমানা এবং অবৈধ জাল ও নৌকা জব্দের পরও একশ্রেণির জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরছেন। অভিযানের ট্রলারের তুলনায় জেলেদের ইঞ্জিনচালিত নৌকার গতি বেশি হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে ধাওয়া করেও তাঁদের আটক করা যাচ্ছে না। ফলে নদীতে ফেলে যাওয়া জাল জব্দ করেই অভিযান শেষ করতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) মতলব উত্তরের এখলাসপুর এলাকার মেঘনা নদীতে এমন চিত্র দেখা গেছে। পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের অভিযানের ট্রলার দেখেই দ্রুতগতির ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে পালিয়ে যান জেলেরা। অভিযান পরিচালনাকারীরা সর্বোচ্চ গতিতে ধাওয়া করেও তাঁদের আটক করতে পারেননি। একপর্যায়ে জেলেরা নদীতে জাল ফেলে পালিয়ে গেলে সেগুলো জব্দ করেন মৎস্য বিভাগের কর্মীরা।

অভিযানের ট্রলার দেখলেই পালিয়ে যান জেলেরা
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মেঘনা নদীতে প্রশাসন ও জেলেদের মধ্যে যেন চোর-পুলিশ খেলা চলছে। অভিযানের ধরন ও ট্রলারের গতি সম্পর্কে ধারণা থাকায় জেলেরা দ্রুতগতির ইঞ্জিনচালিত নৌকা ব্যবহার করছেন। নদীতে অভিযানের ট্রলার দেখা গেলেই তাঁরা নৌকার গতি বাড়িয়ে পালিয়ে যান।

স্থানীয় বাসিন্দা নুরী আলম বলেন, অভিযানের ট্রলারের চেয়ে জেলেদের নৌকার গতি বেশি হওয়ায় তাঁদের আটক করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে গভীর রাতে এবং প্রশাসনের টহল শেষ হওয়ার পর নদীতে মাছ ধরার প্রবণতা বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে শুধু নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেই নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুতগতির নৌকা ব্যবহার করে জেলেরা নদীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় নজরদারি ও ধাওয়ার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

৭ অক্টোবর থেকে চলছে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা
উপজেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে গত ৭ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। এ সময়ে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত ও বিক্রি নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। নদীর বিভিন্ন এলাকায় টহল, অবৈধ জাল জব্দ এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগের মধ্যেও নদীর দুর্গম এলাকা ও শাখা নদীগুলোতে নজরদারির ঘাটতির সুযোগ নিচ্ছেন কিছু জেলে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, পেশাদার জেলেদের পাশাপাশি মৌসুমি জেলেরাও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছ ধরছেন। এতে নিয়ম মেনে নদীতে না নামা জেলেদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

৩৪ অভিযান ও পাঁচ মোবাইল কোর্টে আটক জেলে
উপজেলা মৎস্য বিভাগের তথ্যানুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে এ পর্যন্ত ৩৪টি অভিযান ও পাঁচটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে বেশ কয়েকজন জেলেকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকিরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।

অভিযানগুলোতে সাতটি নৌকা, দেড় লাখ মিটারের বেশি অবৈধ জাল এবং ২০৫ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা ভেঙে মাছ ধরার বিরুদ্ধে প্রশাসনের এসব পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলেও নদীতে অবৈধভাবে ইলিশ আহরণের ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। জব্দ করা জাল ও নৌকার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অভিযান চলাকালে জেলেরা পালিয়ে গেলে তাঁদের আটক করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং একই ধরনের অপরাধ পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি থাকে।

নিষেধাজ্ঞায় কর্মহীন জেলেদের সংসারে সংকট
নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদীতে মাছ ধরতে না পারায় অনেক জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ আর্থিক সংকটে ভুগছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সরকারি খাদ্যসহায়তা পেলেও তা দিয়ে পরিবারের সব খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ জেলেদের। একদিকে মা ইলিশ সংরক্ষণের জন্য মাছ ধরা বন্ধ রাখা জরুরি, অন্যদিকে এ সময়ে জেলেদের জীবিকা ও পরিবারের খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে জেলেদের জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে তাঁদের নিয়ম মেনে চলতে উৎসাহিত করা সহজ হতে পারে। স্থানীয়দের মতে, নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা জেলেরা যখন মাছ ধরতে পারছেন না, তখন অন্য কেউ গোপনে নদীতে মাছ ধরলে তা তাঁদের জন্য অন্যায্য পরিস্থিতি তৈরি করে। ফলে অবৈধভাবে ইলিশ শিকার বন্ধে নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি জেলেদের সহায়তা কার্যক্রমও গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

জনবল ও বাজেট সংকটে অভিযান পরিচালনা
মতলব উত্তর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সজিব চন্দ্র দে বলেন, জনবল সংকট, বাজেটের স্বল্পতাসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মা ইলিশ সংরক্ষণে সাধ্যমতো চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি জানান, সীমিত সামর্থ্যের কারণে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব না হলেও অভিযান মোটামুটি সফল হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো যৌথভাবে কাজ করছে এবং মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মেঘনা নদীতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি দুর্গম এলাকা ও শাখা নদীতে নজরদারি বাড়ানো, দ্রুতগতির নৌকা ব্যবহার করে পালিয়ে যাওয়া জেলেদের শনাক্ত করা এবং অবৈধ জাল জব্দের কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রজনন মৌসুমে ইলিশ সংরক্ষণে প্রয়োজন কার্যকর নজরদারি
মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ নিশ্চিত করা ইলিশের উৎপাদন ও ভবিষ্যৎ মৎস্যসম্পদ রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরা অব্যাহত থাকলে সংরক্ষণের লক্ষ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। মতলব উত্তরের মেঘনায় অভিযান ও জব্দ কার্যক্রম চললেও অবৈধ ইলিশ শিকার বন্ধ না হওয়ায় নিষেধাজ্ঞার বাকি সময়ে নজরদারি আরও কার্যকর করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে কর্মহীন জেলেদের সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে আইন মেনে চলার পরিবেশ তৈরিতে তা সহায়ক হতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ফেসবুকে অস্ত্র প্রদর্শন এনসিপি নেতাকে ঘিরে বিতর্ক

পাবনা সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৬ অপরাহ্ণ
ফেসবুকে অস্ত্র প্রদর্শন এনসিপি নেতাকে ঘিরে বিতর্ক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পাবনার সাঁথিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ওই নেতার নাম মুজাহিদ ফকির। তিনি এনসিপির সাঁথিয়া পৌর শাখার সদস্যসচিব। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অস্ত্রটি আসল কি না এবং সেটি প্রদর্শনের পেছনে কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ফেসবুক স্টোরিতে ভিডিওটি প্রকাশ করেন মুজাহিদ ফকির। প্রায় এক ঘণ্টা পর সেটি সরিয়ে নেওয়া হলেও এর আগেই অনেকে ভিডিওটি ডাউনলোড ও স্ক্রিনশট নিয়ে রাখেন। পরে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ওই নেতার এমন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান অনেকে।

ফেসবুক স্টোরি থেকে ছড়িয়ে পড়ে ভিডিও
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দুজন ব্যক্তির হাত ও পায়ের কিছু অংশ দেখা যায়। তাঁদের একজন মেঝেতে একটি আগ্নেয়াস্ত্র রাখেন। পরে অন্যজন সেটি হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করেন এবং প্রদর্শন করেন। তবে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের কারও মুখ কিংবা শরীরের অন্য কোনো অংশ স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি। ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই অস্ত্রটির প্রকৃতি ও প্রদর্শনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ভিডিওতে থাকা অস্ত্রটি প্রকৃত আগ্নেয়াস্ত্র কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি যাচাই করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়া হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পেজ ও আইডির মাধ্যমে সেটি ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকে একজন রাজনৈতিক নেতার এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

অস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে রাজনৈতিক নেতার সমালোচনা
এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম। তিনি বলেন, যে ধরনের অস্ত্রই হোক, এভাবে প্রদর্শনের উদ্দেশ্য জনমনে ভীতি বা আতঙ্ক সৃষ্টি করা বলে তাঁরা মনে করছেন। আব্দুল করিমের দাবি, রাজনৈতিক নেতাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা উচিত নয়। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী ভালো কাজে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করেও মন্ত্রিত্ব হারিয়েছেন। সেখানে রাজনৈতিক নেতা হয়ে মুজাহিদ ফকিরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ উঠছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা, অস্ত্র প্রদর্শনের মতো ঘটনা এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।

তবে অস্ত্র প্রদর্শনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুলিশের তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। ভিডিওতে প্রদর্শিত অস্ত্রের প্রকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনার প্রেক্ষাপট যাচাইয়ের ওপরই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করছে। ভিডিও প্রকাশের বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক এ বিষয়ে সাঁথিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. বকুল বলেন, কয়েক দিন ধরেই মুজাহিদ ফকিরের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না এবং ভিডিওটিও দেখেননি বলে জানান।

বকুল বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে শুনেছেন। খোঁজখবর নিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে পরে বিস্তারিত জানাতে পারবেন। এদিকে অভিযোগের বিষয়ে মুজাহিদ ফকিরের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে ভিডিওটি প্রকাশের কারণ কিংবা সেখানে থাকা অস্ত্র সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

আগের ভিডিও নিয়ে পুলিশের তদন্তে খেলনা পিস্তলের তথ্য
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, মুজাহিদ ফকির এর আগেও ফেসবুকে আগ্নেয়াস্ত্রের ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করেছিলেন। তবে সে সময় পুলিশের তদন্তে সেটি খেলনা পিস্তল বলে প্রমাণিত হয়েছিল। এবার ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে থাকা অস্ত্রটি প্রকৃত আগ্নেয়াস্ত্র কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান ওসি। তিনি বলেন, অস্ত্রটি আসল হলে সেটি প্রদর্শনের কোনো আইনি বৈধতা রয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ আরও তদন্ত করছে, রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল পদে থেকে জনমনে ভীতি বা আতঙ্ক সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছিল কি না। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ওসি।

অস্ত্রের সত্যতা যাচাইয়ের পর নেওয়া হবে ব্যবস্থা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র প্রদর্শনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় এখন মূলত দুটি বিষয় সামনে এসেছে—ভিডিওতে থাকা অস্ত্রটি আসল কি না এবং সেটি প্রদর্শনের পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, এসব বিষয় যাচাই করেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অস্ত্রটির প্রকৃতি বা ভিডিও প্রকাশের উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, ভিডিওর বিষয়বস্তু এবং অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ের পরই ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি