সরকারি কলেজের ক্লাসরুমে অধ্যক্ষের শোবার ঘর!
রুমজুড়ে পরিপাটি খাট, তোষক, বালিশ ও বিছানার চাদর। পাশে চেয়ার-টেবিল, পোশাক রাখার আলনা এবং টেবিল ফ্যান। প্রথম দেখায় আবাসিক হোটেলের কোনো কক্ষ মনে হলেও এটি আসলে একটি শ্রেণিকক্ষ। সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে সরকারি হাজী কোরপ আলী মেমোরিয়াল কলেজের একটি ক্লাসরুমকে এভাবেই শোবার ঘর হিসেবে ব্যবহার করছেন কলেজটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে কলেজের আইসিটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় ওই কক্ষে গিয়ে এসব চিত্র দেখা যায়। এ ঘটনায় শ্রেণিকক্ষের ব্যবহার, শিক্ষার পরিবেশ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শ্রেণিকক্ষে খাট, তোষক ও ব্যক্তিগত আসবাব
কলেজের ওই কক্ষে একটি ঘুমানোর খাট, তোষক, বালিশ ও বিছানার চাদর দেখা গেছে। এ ছাড়া রয়েছে পোশাক রাখার আলনা, রিচার্জেবল টেবিল ফ্যান, চেয়ার ও টেবিল। কক্ষটি শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে আবাসিক কক্ষের মতো ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের এক শিক্ষক জানান, অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম ২০২৫ সালের এপ্রিলে কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন। এরপর থেকে তিনি ওই কক্ষে থাকছেন। আগে কক্ষটিতে শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চ ছিল এবং সেখানে পরীক্ষা নেওয়া হতো বলেও দাবি করেন ওই শিক্ষক।
ওই শিক্ষকের ভাষ্য, অধ্যক্ষ সরকারি বেতনের সঙ্গে বাড়িভাড়া বাবদ অর্থও পান। তা ছাড়া কলেজের নিজস্ব জায়গায় অধ্যক্ষের জন্য কোয়ার্টার রয়েছে। সেটি কিছুটা সংস্কার করলেই বসবাসের উপযোগী করা সম্ভব ছিল বলে মনে করেন তিনি।
অধ্যক্ষের দাবি, অতিথিদের জন্য তৈরি করা হয়েছে কক্ষ
শ্রেণিকক্ষকে শোবার ঘর হিসেবে ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘রুমটি গেস্টদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। আমি মাঝেমধ্যে একটু থাকি। আশেপাশে ভালো ভাড়া বাসা না পাওয়ায় আমাকে এখানেই থাকতে হয়। তাছাড়া আমার ফ্যামিলি বগুড়ায় থাকায় সেখান থেকে যাতায়াত করি।’
তবে কক্ষটি অতিথিদের জন্য তৈরি করা হয়েছে বলে অধ্যক্ষ দাবি করলেও সেখানে খাট ও অন্যান্য ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী থাকার বিষয়টি সরেজমিনে দেখা গেছে।
ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস শিক্ষা অধিদপ্তরের
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক নাজমুল হক জানান, সরকারি হাজী কোরপ আলী মেমোরিয়াল কলেজের শ্রেণিকক্ষে অধ্যক্ষের শোবার ঘর তৈরির বিষয়টি তাঁর জানা নেই।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাতে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শ্রেণিকক্ষের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ মূলত পাঠদান ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত। ফলে কোনো শ্রেণিকক্ষ আবাসিক কাজে ব্যবহার করা হলে তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা ও অবকাঠামো ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সে প্রশ্ন সামনে আসে।
সরকারি হাজী কোরপ আলী মেমোরিয়াল কলেজের ওই কক্ষটি কীভাবে এবং কোন অনুমোদনের ভিত্তিতে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে স্পষ্ট হতে পারে। শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এখন কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধান ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array