খুঁজুন
                               
, ,
           

ইসির ভোটযাত্রায় হঠাৎ ব্রেক

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ
ইসির ভোটযাত্রায় হঠাৎ ব্রেক

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে কয়েক সপ্তাহ ধরে দৃশ্যমান প্রস্তুতি চালালেও হঠাৎ করেই সেই তৎপরতায় ছন্দপতন ঘটেছে নির্বাচন কমিশনে (ইসি)। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিলের পর এবার নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঘোষিত সংলাপও স্থগিত করেছে কমিশন। ফলে নির্বাচন আয়োজনের দৃশ্যমান প্রস্তুতি এগোলেও বাস্তবে ভোটের সময়সূচি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

  • তফসিলের আগেই দুই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি স্থগিত
  • মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
  • চূড়ান্ত সময়সূচি এখনও অনিশ্চিত

প্রস্তুতির বড় অংশ শেষ, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অধরা
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ ইতোমধ্যে এগিয়ে নিয়েছিল ইসি। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ, নতুন আচরণবিধি প্রণয়ন, বাজেট প্রস্তুত এবং ভোটের সামগ্রী কেনাকাটার মতো কার্যক্রম শেষের দিকে নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতিও ছিল সেই ধারাবাহিকতার অংশ।

গত ২৭ আগস্ট রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছিলেন, সেপ্টেম্বরে তফসিল ঘোষণা করে নভেম্বরের শেষ দিকে বা ডিসেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। পরীক্ষার সময়সূচির সঙ্গে ভোটের তারিখ সমন্বয়ের কথাও তখন জানানো হয়েছিল।

সাত ধাপে ভোটের প্রাথমিক ছক
এরপর গত ১৪ সেপ্টেম্বর কমিশনের বৈঠকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আরও নির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা সামনে আসে। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে ৮০টি উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরুর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। শেষ ধাপের ভোট গত ২৭ মে শেষ করার পরিকল্পনাও ছিল। আইনি জটিলতামুক্ত ও নির্বাচন উপযোগী ইউনিয়নগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি ৬৪ জেলায় একযোগে ভোট শুরু করার লক্ষ্যও তুলে ধরা হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিতও ছিল কমিশনের বক্তব্যে।

সরকারের বক্তব্যে প্রকাশ পেল সমন্বয়ের ঘাটতি
তবে এই পরিকল্পনার পরদিনই তৈরি হয় নতুন প্রশ্ন। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কিছু জানে না। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সিদ্ধান্ত সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই চূড়ান্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, ঘোষিত সময়সূচি ছিল প্রাথমিক। ১৭ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে আলোচনার পরই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার কথা বলা হয়।

জুনের আগেই ভোট, কিন্তু তারিখ নেই
১৭ সেপ্টেম্বরের আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সানাউল্লাহ জানান, আগামী বছরের জুনের আগেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শেষ করার বিষয়ে অংশীজনদের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে। তবে বন্যায় শিক্ষা কার্যক্রমের ক্ষতি এবং পরীক্ষার সময়সূচি বিবেচনায় নিয়ে ভোট শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ তখনও ঘোষণা করা হয়নি। এই পর্যায় থেকেই নির্বাচনী প্রস্তুতির গতি দৃশ্যত কমতে শুরু করে। ২১ সেপ্টেম্বর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নির্ধারিত সভা বাতিল করে কমিশন। এরপর ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্ধারিত তিন দিনের সংলাপও স্থগিত করা হলো।

সামনে সমন্বয় নাকি নতুন সময়সূচি?
ইসির জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো. আব্দুল মমিন সরকার জানিয়েছেন, আপাতত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ স্থগিত রয়েছে; পরবর্তী নির্দেশনা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরপর দুই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি স্থগিত হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে—কমিশন কি কেবল প্রস্তুতির সময়সূচি পুনর্বিন্যাস করছে, নাকি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পুরো পরিকল্পনাতেই পরিবর্তন আসছে? এখন পর্যন্ত কমিশনের পক্ষ থেকে এর স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। ফলে ভোটের আয়োজন নিয়ে প্রস্তুতি যতটা এগিয়েছে, চূড়ান্ত সময়সূচি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের প্রশ্নটি ততটাই অনির্ধারিত রয়ে গেছে।

কালের আলো/এএইচ/এমকে

ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায়, দুই মাস ধরে নিখোঁজ সাইদুল

মাদারীপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায়, দুই মাস ধরে নিখোঁজ সাইদুল

ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে এক যুবককে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়ার পর জিম্মি করে পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ৩৯ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এরপর গত দুই মাস ধরে ওই যুবকের সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই। এ ঘটনায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের অভিযোগে সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগীর বড় ভাই।

ভুক্তভোগী সাইদুলের পরিবারের অভিযোগ, ফরাজীর ছেলে আনোয়ার ফরাজী ২৩ লাখ টাকার চুক্তিতে সাইদুলকে ইতালি পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেন। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৫ সালের ৬ মে অগ্রিম ১২ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে একই বছরের ৯ জুন শ্রীলঙ্কা ও দুবাই হয়ে ইতালির উদ্দেশে সাইদুলকে নেওয়া হলেও তাকে লিবিয়ায় পাঠানো হয় বলে পরিবারের দাবি।

লিবিয়ায় জিম্মির অভিযোগ

স্বজনদের দাবি, লিবিয়ায় নেওয়ার পর সাইদুলকে স্থানীয় একটি চক্রের কাছে জিম্মি করা হয়। তাকে নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্টসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে আরও টাকা নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৯ লাখ টাকা দেওয়ার পরও গত দুই মাস ধরে সাইদুলের সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই।

পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাছে গিয়েও তারা কোনো সমাধান পাননি। পরে কোনো উপায় না পেয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর সাইদুলের বড় ভাই সামাদ হোসেন বাদী হয়ে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।

মামলায় দালাল আনোয়ার ফরাজী, শিল্পী আক্তার, বাদল জমাদ্দার, সাহেব আলী জমাদ্দার, মামুন বেপারী, ইভা বেগম ও ছলে বেগমকে আসামি করা হয়েছে।

টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার

তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন ওরফে আনু। তিনি বলেন, ‘আমি তাদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা নেইনি।’

অভিযুক্ত আনোয়ারের স্ত্রী শিল্পী আক্তারও পরিবারের দাবি করা টাকার পরিমাণ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তাদের কাছ থেকে ১৯ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে।’

আদালতের নির্দেশনা পেলে মামলা হবে

মাদারীপুর সদর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, সাইদুল নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবার আদালতে মামলা করেছে। আদালতের নির্দেশনা থানায় পৌঁছালে বিষয়টি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি জড়িতদের আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

তিন বছর ধরে ভাড়া বাসায় মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ
তিন বছর ধরে ভাড়া বাসায় মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র

সুনামগঞ্জে ২০ শয্যার মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে আটতলা ভবন। তবে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ভবনটির কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় নিজস্ব ভবনে চিকিৎসাসেবা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে একটি ভাড়া বাসায় সীমিত পরিসরে চলছে কেন্দ্রটির কার্যক্রম।

শহরের হাসনগর ময়নার পয়েন্টসংলগ্ন একটি আবাসিক ভবনে প্রায় তিন বছর ধরে চলছে মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের কার্যক্রম। সরেজমিনে দেখা যায়, ছোট ছোট কক্ষে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে চিকিৎসাসামগ্রী, চেয়ার-টেবিল ও নথিপত্র। একটি কক্ষে বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। অন্য কক্ষে কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মীকে একসঙ্গে বসে কাজ করতে হচ্ছে।

একটি ছোট কক্ষে দুটি শয্যা বসিয়ে স্বাভাবিক প্রসবের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আরেকটি কক্ষ ব্যবহৃত হচ্ছে লেবার রুম হিসেবে। ভবনের সিঁড়ির নিচে করা হয়েছে ডিসপেনসারি। চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত বসার জায়গাও নেই।

কেন্দ্রটির পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু হলে প্রসূতি মা, শিশু ও কিশোরীদের জন্য ২০ শয্যার চিকিৎসাসুবিধা পাওয়ার কথা। কিন্তু প্রয়োজনীয় কক্ষ, পূর্ণাঙ্গ অপারেশন থিয়েটার (ওটি), কেবিন ও অন্যান্য অবকাঠামো না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না।

শহরের ডিএস রোড এলাকায় কেন্দ্রটির নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের ৫ মে। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, সিলেটের অধীনে আটতলা ভবনটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ১৪ কোটি ১৪ লাখ ১৪ হাজার ৭৫৬ টাকা। দরপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৬ জুলাইয়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।

নির্মাণাধীন ভবনটির সাততলা পর্যন্ত ছাদ ঢালাই ও গাঁথুনির কাজ শেষ হলেও অষ্টম তলার ছাদ ও ফিনিশিংয়ের কাজ বাকি রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন তলায় পড়ে আছে বাঁশ, কাঠের তক্তাসহ নির্মাণসামগ্রী।

রোগীর স্বজন নুরুল আমিন বলেন, গুরুতর রোগী নিয়ে চিকিৎসার জন্য সিলেট ও ঢাকায় যেতে হয়। এতে দরিদ্র মানুষের অনেক ভোগান্তি হয়। নতুন কেন্দ্রটি চালু হলে সুনামগঞ্জের সাধারণ মানুষ বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারগুলো উপকৃত হতো।

মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) ডা. প্রিয়াঙ্কা পাল চৌধুরী বলেন, বর্তমান ভবনে আরও কয়েকটি কক্ষ থাকলে আলাদা ওটি, পোস্ট-অপারেটিভ সেবা ও রোগীদের জন্য পৃথক কেবিনের ব্যবস্থা করা যেত।

জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী হুসনুল করিম বলেন, একটি প্রকল্পের মাধ্যমে কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছিল। ২০২৪ সালে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কাজ অসমাপ্ত থাকে। অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে নতুন ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়ার পর টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ শেষ করা হবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

লাউয়াছড়ায় বানরের খাদ্যসংকট, পছন্দের বাইরে আনারকলি

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ
লাউয়াছড়ায় বানরের খাদ্যসংকট, পছন্দের বাইরে আনারকলি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে খাবারের সংকটে পড়েছে বানর। বনের ভেতরে পর্যাপ্ত খাবার না থাকায় লোকালয়ে গিয়ে খাবার সংগ্রহের পাশাপাশি পর্যটকদের দেওয়া খাবারের ওপরও নির্ভর করতে হচ্ছে এসব প্রাণীকে। এমনকি স্বাভাবিকভাবে অপছন্দের টক ফল আনারকলিও খেতে দেখা যাচ্ছে তাদের।

লাউয়াছড়া বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিরহরিৎ বনাঞ্চল। প্রায় ১ হাজার ২৫০ হেক্টর আয়তনের এই জাতীয় উদ্যান জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এখানে ৪৬০ প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির উভচর, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি এবং ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে।

উল্লুকের জন্য বিখ্যাত লাউয়াছড়ায় চশমাপরা হনুমান, লজ্জাবতী বানর, মুখপোড়া হনুমান, বানর, শিয়াল, মেছো বিড়াল, রাম কুকুর ও মায়া হরিণসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর দেখা মেলে। তবে বনাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বানরের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি।

কমেছে বনের প্রাকৃতিক খাদ্য

বানর মূলত ফলভোজী প্রাণী। কলাসহ বিভিন্ন মিষ্টি ও নরম ফল তাদের পছন্দ। পাশাপাশি তারা পাতা, বীজ, ফুল ও পোকামাকড়ও খেয়ে থাকে। তবে সময়ের সঙ্গে বনের অনেক ফলদ গাছ কমে যাওয়ায় তাদের প্রাকৃতিক খাদ্যের জোগানও কমেছে।

বন উজাড় ও বনাঞ্চলের পরিবর্তনের ফলে বানরের খাদ্যসংকট আরও বেড়েছে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। খাবারের সন্ধানে অনেক সময় বানরের দল লোকালয়ে চলে আসে। লাউয়াছড়ার প্রধান প্রবেশপথেও পর্যটকদের আশপাশে নিয়মিত দেখা যায় তাদের।

পর্যটকদের খাবারের ওপর নির্ভরতা

লাউয়াছড়ায় ঘুরতে আসা পর্যটকদের কাছ থেকে কলা, বাদাম, মুড়ি ও চানাচুরসহ বিভিন্ন খাবার পেয়ে থাকে বানরগুলো। অনেক সময় পর্যটকদের ফেলে যাওয়া খাবারও তারা সংগ্রহ করে খায়।

তবে ক্ষুধার তাড়নায় এখন তাদের টক জাতীয় পাহাড়ি ফল ট্যাং ফল বা আনারকলি খেতেও দেখা যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে টক ফল বানরের খুব একটা পছন্দ নয়। তারপরও খাদ্যসংকটের কারণে এসব ফল খেয়ে তাদের দিন কাটাতে হচ্ছে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের মূল গেটের সামনে একটি বানরকে প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে আনারকলি খেতে দেখা যায়। সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেন সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক।

কালের আলো/এমএসআইপি