খুঁজুন
                               
, ,
           

সাইবার অপরাধ ঠেকাতে পুলিশের নতুন প্রস্তুতি

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
সাইবার অপরাধ ঠেকাতে  পুলিশের নতুন প্রস্তুতি

অপরাধের ধরন যখন দ্রুত বদলে যাচ্ছে, তখন সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুলিশের সক্ষমতার কাঠামোও ঢেলে সাজানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সাইবার অপরাধ, ডিজিটাল ফরেনসিক, আর্থিক অপরাধ ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি বিশেষায়িত দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ পুলিশ স্টাফ কলেজের (পিএসসি) পরিচালনা বোর্ডের ২১তম সভায় উঠে এসেছে এমনই একটি সমন্বিত পরিকল্পনার চিত্র।

রাজধানীর মিরপুরে পিএসসির বোর্ডরুমে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সভায় সাইবার নিরাপত্তায় স্থায়ী কাঠামো গড়ে তোলা থেকে শুরু করে পুলিশ সদস্যদের আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও উদ্ভাবন, উচ্চশিক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা-বিস্তৃত পরিসরে আলোচনা হয়। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পিএসসির ভূমিকা কেবল প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে সীমিত না থেকে পুলিশিংয়ের জ্ঞান, গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রূপ নিতে পারে।

সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট প্রতিষ্ঠা, গবেষণা ও উদ্ভাবন সেন্টার চালু, উচ্চশিক্ষার নতুন কোর্স, আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা-সব মিলিয়ে পিএসসিকে কেন্দ্র করে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি বিস্তৃত রূপরেখা পাওয়া যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীকে সাইবার স্পেসসহ যেকোনো ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুত থাকতে হবে। সেই লক্ষ্যেই প্রয়োজনীয় আধুনিক সুবিধা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

একটি পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট
বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার ইউনিট এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল অপরাধের তদন্ত ও ফরেনসিক অ্যানালাইসিস পরিচালনা করছে। কিন্তু প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিস্তৃতি ও জটিলতা বাড়ায় এসব সক্ষমতাকে আরও সমন্বিত করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। সভাপতির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশ বাহিনীতে প্রকৌশল, আইটি ও কম্পিউটার সায়েন্সের ব্যাকগ্রাউন্ডসম্পন্ন অনেক সদস্য রয়েছেন। তাঁদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে একটি পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা চলছে।

এই পরিকল্পনার গুরুত্ব শুধু একটি নতুন ইউনিট গঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা প্রযুক্তিগত দক্ষতা, তদন্ত সক্ষমতা ও ফরেনসিক অবকাঠামোকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থায় আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর ফলে ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ, সাইবার অপরাধ শনাক্তকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তে সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি ও সক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

পুলিশের সক্ষমতা ও মনোবল বৃদ্ধিতে গুরুত্ব
সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর পাশাপাশি দক্ষ জনবলকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ কারণে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকেও নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার তাগিদ এসেছে সভায়। মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুলিশের সক্ষমতা ও মনোবল বৃদ্ধিতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে মাস্টার ট্রেইনার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও কার্যকরভাবে দক্ষ করে তুলতে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।

প্রয়োজনে বিদেশ থেকে প্রশিক্ষক এনে কিংবা আধুনিক সুযোগ-সুবিধা গড়ে তুলে কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির কথাও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, ভবিষ্যতের পুলিশিংয়ে প্রযুক্তিগত জ্ঞানকে অতিরিক্ত দক্ষতা হিসেবে নয়, বরং অপরাধ মোকাবিলার মৌলিক সক্ষমতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য রয়েছে।

পদোন্নতি ও পদায়নের অগ্রাধিকার শর্ত
সভায় বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণগুলোকে পদোন্নতি ও পদায়নের অগ্রাধিকার শর্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও আলোচিত হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রশিক্ষণকে চাকরিজীবনের নিয়মিত আনুষ্ঠানিকতার পরিবর্তে পেশাগত অগ্রগতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার একটি কাঠামো তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের বৈদেশিক অংশে প্রশিক্ষণের জন্য অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি আলোচনায় আসে। যার অর্থাৎ দাঁড়াচ্ছে দেশের ভেতরের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিদেশি অভিজ্ঞতা ও আধুনিক পদ্ধতির সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তাদের পরিচিত করার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র গবেষণা ও উদ্ভাবন সেন্টার
পিএসসির অধীনে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র গবেষণা ও উদ্ভাবন সেন্টার প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব সভায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। পুলিশের বাস্তব অভিজ্ঞতা, অপরাধের পরিবর্তিত প্রবণতা এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনকে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রশিক্ষণ ও নীতিনির্ধারণে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। একই ধারায় মাস্টার্স ইন ফরেনসিক সায়েন্স এবং মাস্টার্স ইন ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম অ্যান্ড গভর্ন্যান্স কোর্স চালুর পরিকল্পনাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। ফরেনসিক বিজ্ঞান ও আর্থিক অপরাধ এখন আধুনিক আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দুটি ক্ষেত্র। ফলে এসব বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হলে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি গবেষণাভিত্তিক দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হবে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় প্রশিক্ষণের পরিধি
আন্তর্জাতিক পুলিশ একাডেমি সংস্থার (ইন্টারপা) সদস্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশে প্রশিক্ষণ আয়োজন এবং বিদেশে প্রশিক্ষণার্থী পাঠানোর জন্য কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ও সভায় আলোচিত হয়েছে। পাশাপাশি সার্ক দেশগুলোর জন্য প্রশিক্ষণ আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশিক্ষণ বিনিময় শুধু কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াবে না। বিভিন্ন দেশের পুলিশিং পদ্ধতি, অপরাধ মোকাবিলার কৌশল এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের প্রশিক্ষণ কাঠামোয় যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করবে। বিশেষ করে সাইবার অপরাধের মতো সীমান্ত অতিক্রমকারী অপরাধের ক্ষেত্রে এ ধরনের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ কার্যকর হতে পারে।

অবকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে নীতিগত সংস্কার
সভায় পিএসসির অবকাঠামো উন্নয়ন, কলেজের বিধিসমূহের সরকারি অনুমোদন এবং ভূমি ব্যবহারের জন্য এমআরটির প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি পিএসসির রজত জয়ন্তী উদযাপনের বিষয়টি সামনে আসে। সভার শুরুতে ২০তম পরিচালনা বোর্ড সভার কার্যবিবরণী উপস্থাপন করা হয় এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন সাপেক্ষে তা অনুমোদন দেওয়া হয়। আগের সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। ফলে এবারের সভায় শুধু নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ নয়, আগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অবস্থাও মূল্যায়নের আওতায় এসেছে।

পরিচালনা বোর্ডের ২১তম সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও পরিচালনা বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ কামরুজ্জামান চৌধুরী, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, বিপিএটিসির রেক্টর সাঈদ মাহবুব খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ হাসানুল মতিন, আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোঃ খাদেম উল কায়েস এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ শামীম সোহেলসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ স্টাফ কলেজের ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন।

এমএএএমকে

শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ–আফগানিস্তান টেস্ট, পরিসংখ্যানে এগিয়ে কে?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ–আফগানিস্তান টেস্ট, পরিসংখ্যানে এগিয়ে কে?

বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যকার একমাত্র টেস্ট ম্যাচ শুরু হচ্ছে আগামীকাল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ দিয়ে প্রথমবারের মতো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট ক্রিকেট খেলতে নামবে বাংলাদেশ। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে এখন পর্যন্ত কেউ কারও চেয়ে এগিয়ে নেই।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ না হলেও ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেললেও দেশটির মাটিতে সাদা পোশাকে মাঠে নামেনি টাইগাররা।

নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে বিশ্বের ১১টি দলের। এ তালিকায় সবচেয়ে বেশি ৩৯টি টেস্ট খেলেছে পাকিস্তান। ১৯৯৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এসব ম্যাচের ১৯টিতে জয় পেয়েছে তারা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়া ১৪টি টেস্ট খেলে জিতেছে সাতটিতে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশের নাম।

টেস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের অতীত রেকর্ডও সমানে সমান। এখন পর্যন্ত দুই দল দুটি টেস্ট খেলেছে, দুটিই বাংলাদেশের মাটিতে। ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে প্রথম দেখায় বাংলাদেশকে ২২৪ রানে হারায় আফগানিস্তান। তবে ২০২৩ সালে মিরপুরে ৫৪৬ রানের বিশাল জয় তুলে নিয়ে সেই হারের জবাব দেয় বাংলাদেশ। ফলে দুই দলের জয় একটি করে।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে ব্যাট হাতে এগিয়ে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দুই ইনিংসে দুটি শতকের সাহায্যে তার সংগ্রহ ২৭০ রান। চার ইনিংসে ১৯১ রান নিয়ে পরের অবস্থানে রয়েছেন মুমিনুল হক।

বল হাতে দুই দলের লড়াইয়ে সবার ওপরে আফগানিস্তানের রশিদ খান। দুই ইনিংসে দুটি পাঁচ উইকেটের কৃতিত্বসহ তার শিকার ১১ উইকেট। বাংলাদেশের হয়ে চার ইনিংসে আট উইকেট নিয়ে তালিকায় এগিয়ে রয়েছেন তাইজুল ইসলাম।

টেস্ট শেষে সংযুক্ত আরব আমিরাতেই ব্যস্ত সূচি রয়েছে বাংলাদেশের। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের পর আবুধাবি ও শারজায় জিম্বাবুয়ে এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে টাইগাররা। টেস্টের মতো ওই সিরিজেও স্বাগতিক হিসেবে থাকবে আফগানিস্তান।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

নভেম্বরের আগে ইরানে হামলা নয়, : ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৮ পূর্বাহ্ণ
নভেম্বরের আগে ইরানে হামলা নয়, : ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা চলছে দাবি করে আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশটিতে হামলা চালানো হবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধ বন্ধ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই দেশের মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো হামলা চালানো হবে না বলেও জানান তিনি।

ট্রাম্পের এ বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি করেছে। তবে হামলা না চালানোর ঘোষণার অর্থ যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নয়। দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে—এমন কোনো তথ্যও তাঁর বক্তব্যে পাওয়া যায়নি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধ ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার চেষ্টায় থাকা রিপাবলিকানদের জন্যও পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

রয়টার্স-ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক অসন্তুষ্ট। এমনকি প্রতি চারজন রিপাবলিকানের একজনও তাঁর পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ট্রাম্প বারবার বলেছেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তেলের দাম কমে আসবে। তবে যুদ্ধ থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসা হবে, সে বিষয়ে তিনি এখনো বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি।

যুদ্ধ বন্ধ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধানের বরাতে জানিয়েছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে না তেহরান। একই সঙ্গে নিজেদের ইউরেনিয়ামের মজুতও অন্য কোনো পক্ষের কাছে হস্তান্তর করবে না বলে জানিয়েছে দেশটি।

এর কয়েক দিন আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রয়টার্সকে বলেছিলেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা অর্থবহভাবে কমাতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ করে আসছে। তবে তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা না চালানোর বিষয়ে ট্রাম্পের ঘোষণা সংঘাতের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে যুদ্ধ বন্ধের চূড়ান্ত সমঝোতা, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি না হলে সংকটের স্থায়ী সমাধান অনিশ্চিতই থেকে যাবে।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে উজবেকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ মেয়েরা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৯ পূর্বাহ্ণ
রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে উজবেকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ মেয়েরা

যোগ করা সময়ের গোলে স্বাগতিক উজবেকিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল করেছে বাংলাদেশ। তাসখন্দে বৃহস্পতিবারের ম্যাচে শেষ মুহূর্তে রুনা আক্তারের গোলে রোমাঞ্চকর জয় তুলে নেয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

দোস্তলিক স্টেডিয়ামের অনুশীলন মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সাইফুল বারী টিটুর দল। এর ফলও আসে দ্রুত। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে ফাতেমা আক্তারের বাড়ানো পাস থেকে বল পেয়ে ডান প্রান্তের পূর্ণিমা মারমা উজবেক গোলরক্ষককে পরাস্ত করে চিপ শটে বল জালে পাঠান। তাতে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

তবে বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে পারেনি সফরকারীরা। ১৭ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে গোল করেন উজবেকিস্তানের লারাঙ্গিজ লাকায়েভা। এতে ১-১ গোলে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা।

বিরতির পর দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে গোলের চেষ্টা চালায়। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে আলপি আক্তার ভালো সুযোগ তৈরি করলেও উজবেক গোলরক্ষক তা আটকে দেন। ম্যাচের শেষ দিকে স্বাগতিকরা চাপ বাড়ালেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ দৃঢ়তা দেখায়।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যখন ম্যাচটি ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আসে বাংলাদেশের জয়সূচক গোল। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে, অর্থাৎ ৯০+৩ মিনিটে, সুরভী রানির থ্রু পাস ধরে উজবেকিস্তানের বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান রুনা আক্তার। তার গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

এই হারে বাছাইপর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে উজবেকিস্তান। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ফিলিপাইনের কাছে ৪-০ গোলে হেরেছিল দলটি।

আগামী বছর চীনে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা পেতে বাছাইপর্বের আটটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হতে হবে দলগুলোকে। ‘এইচ’ গ্রুপে বাংলাদেশের পরবর্তী প্রতিপক্ষ ফিলিপাইন। আগামী রোববারের ম্যাচে জয় পেলেই মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের মেয়েদের।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি