খুঁজুন
                               
, ,
           

সাইবার অপরাধ ঠেকাতে পুলিশের নতুন প্রস্তুতি

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
সাইবার অপরাধ ঠেকাতে  পুলিশের নতুন প্রস্তুতি

অপরাধের ধরন যখন দ্রুত বদলে যাচ্ছে, তখন সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুলিশের সক্ষমতার কাঠামোও ঢেলে সাজানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সাইবার অপরাধ, ডিজিটাল ফরেনসিক, আর্থিক অপরাধ ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি বিশেষায়িত দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ পুলিশ স্টাফ কলেজের (পিএসসি) পরিচালনা বোর্ডের ২১তম সভায় উঠে এসেছে এমনই একটি সমন্বিত পরিকল্পনার চিত্র।

রাজধানীর মিরপুরে পিএসসির বোর্ডরুমে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সভায় সাইবার নিরাপত্তায় স্থায়ী কাঠামো গড়ে তোলা থেকে শুরু করে পুলিশ সদস্যদের আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও উদ্ভাবন, উচ্চশিক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা-বিস্তৃত পরিসরে আলোচনা হয়। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পিএসসির ভূমিকা কেবল প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে সীমিত না থেকে পুলিশিংয়ের জ্ঞান, গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রূপ নিতে পারে।

সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট প্রতিষ্ঠা, গবেষণা ও উদ্ভাবন সেন্টার চালু, উচ্চশিক্ষার নতুন কোর্স, আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা-সব মিলিয়ে পিএসসিকে কেন্দ্র করে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি বিস্তৃত রূপরেখা পাওয়া যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীকে সাইবার স্পেসসহ যেকোনো ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুত থাকতে হবে। সেই লক্ষ্যেই প্রয়োজনীয় আধুনিক সুবিধা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

একটি পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট
বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার ইউনিট এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল অপরাধের তদন্ত ও ফরেনসিক অ্যানালাইসিস পরিচালনা করছে। কিন্তু প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিস্তৃতি ও জটিলতা বাড়ায় এসব সক্ষমতাকে আরও সমন্বিত করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। সভাপতির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশ বাহিনীতে প্রকৌশল, আইটি ও কম্পিউটার সায়েন্সের ব্যাকগ্রাউন্ডসম্পন্ন অনেক সদস্য রয়েছেন। তাঁদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে একটি পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা চলছে।

এই পরিকল্পনার গুরুত্ব শুধু একটি নতুন ইউনিট গঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা প্রযুক্তিগত দক্ষতা, তদন্ত সক্ষমতা ও ফরেনসিক অবকাঠামোকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থায় আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর ফলে ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ, সাইবার অপরাধ শনাক্তকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তে সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি ও সক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

পুলিশের সক্ষমতা ও মনোবল বৃদ্ধিতে গুরুত্ব
সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর পাশাপাশি দক্ষ জনবলকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ কারণে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকেও নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার তাগিদ এসেছে সভায়। মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুলিশের সক্ষমতা ও মনোবল বৃদ্ধিতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে মাস্টার ট্রেইনার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও কার্যকরভাবে দক্ষ করে তুলতে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।

প্রয়োজনে বিদেশ থেকে প্রশিক্ষক এনে কিংবা আধুনিক সুযোগ-সুবিধা গড়ে তুলে কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির কথাও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, ভবিষ্যতের পুলিশিংয়ে প্রযুক্তিগত জ্ঞানকে অতিরিক্ত দক্ষতা হিসেবে নয়, বরং অপরাধ মোকাবিলার মৌলিক সক্ষমতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য রয়েছে।

পদোন্নতি ও পদায়নের অগ্রাধিকার শর্ত
সভায় বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণগুলোকে পদোন্নতি ও পদায়নের অগ্রাধিকার শর্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও আলোচিত হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রশিক্ষণকে চাকরিজীবনের নিয়মিত আনুষ্ঠানিকতার পরিবর্তে পেশাগত অগ্রগতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার একটি কাঠামো তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের বৈদেশিক অংশে প্রশিক্ষণের জন্য অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি আলোচনায় আসে। যার অর্থাৎ দাঁড়াচ্ছে দেশের ভেতরের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিদেশি অভিজ্ঞতা ও আধুনিক পদ্ধতির সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তাদের পরিচিত করার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র গবেষণা ও উদ্ভাবন সেন্টার
পিএসসির অধীনে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র গবেষণা ও উদ্ভাবন সেন্টার প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব সভায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। পুলিশের বাস্তব অভিজ্ঞতা, অপরাধের পরিবর্তিত প্রবণতা এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনকে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রশিক্ষণ ও নীতিনির্ধারণে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। একই ধারায় মাস্টার্স ইন ফরেনসিক সায়েন্স এবং মাস্টার্স ইন ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম অ্যান্ড গভর্ন্যান্স কোর্স চালুর পরিকল্পনাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। ফরেনসিক বিজ্ঞান ও আর্থিক অপরাধ এখন আধুনিক আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দুটি ক্ষেত্র। ফলে এসব বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হলে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি গবেষণাভিত্তিক দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হবে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় প্রশিক্ষণের পরিধি
আন্তর্জাতিক পুলিশ একাডেমি সংস্থার (ইন্টারপা) সদস্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশে প্রশিক্ষণ আয়োজন এবং বিদেশে প্রশিক্ষণার্থী পাঠানোর জন্য কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ও সভায় আলোচিত হয়েছে। পাশাপাশি সার্ক দেশগুলোর জন্য প্রশিক্ষণ আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশিক্ষণ বিনিময় শুধু কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াবে না। বিভিন্ন দেশের পুলিশিং পদ্ধতি, অপরাধ মোকাবিলার কৌশল এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের প্রশিক্ষণ কাঠামোয় যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করবে। বিশেষ করে সাইবার অপরাধের মতো সীমান্ত অতিক্রমকারী অপরাধের ক্ষেত্রে এ ধরনের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ কার্যকর হতে পারে।

অবকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে নীতিগত সংস্কার
সভায় পিএসসির অবকাঠামো উন্নয়ন, কলেজের বিধিসমূহের সরকারি অনুমোদন এবং ভূমি ব্যবহারের জন্য এমআরটির প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি পিএসসির রজত জয়ন্তী উদযাপনের বিষয়টি সামনে আসে। সভার শুরুতে ২০তম পরিচালনা বোর্ড সভার কার্যবিবরণী উপস্থাপন করা হয় এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন সাপেক্ষে তা অনুমোদন দেওয়া হয়। আগের সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। ফলে এবারের সভায় শুধু নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ নয়, আগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অবস্থাও মূল্যায়নের আওতায় এসেছে।

পরিচালনা বোর্ডের ২১তম সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও পরিচালনা বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ কামরুজ্জামান চৌধুরী, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, বিপিএটিসির রেক্টর সাঈদ মাহবুব খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ হাসানুল মতিন, আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোঃ খাদেম উল কায়েস এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ শামীম সোহেলসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ স্টাফ কলেজের ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন।

এমএএএমকে

টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার

সরকারি ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির জন্য ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে প্রায় ৭৭ কোটি টাকা বা ৭৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র (জাতীয়) পদ্ধতিতে এ মসুর ডাল কেনা হবে। বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে রয়েছে টিসিবি।

টিসিবি ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করলে তিনটি দরপত্র জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে তিনটি দরপ্রস্তাবই কারিগরিভাবে রেসপনসিভ বিবেচিত হয়।

দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির (টিইসি) সুপারিশ অনুযায়ী রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান জয়তুন অটো রাইস অ্যান্ড ডাল মিলস লিমিটেড, খুলনা থেকে মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে টিসিবির গুদাম পর্যন্ত পরিবহন খরচসহ প্রতি কেজি ৭৬ টাকা ৭৯ পয়সা দরে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনা হবে। এতে মোট ব্যয় হবে ৭৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এ অর্থের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাউন্টার গ্যারান্টি থাকবে।

প্রস্তাবে বলা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে টিসিবির মসুর ডাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১৭ হাজার ৫২৮ মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনা হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ
সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন (+১০ শতাংশ) বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে ১৯৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭২০ টাকা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) মাধ্যমে এ সার আমদানি করা হবে। আমদানির ব্যয় কৃষি ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ বাজেট থেকে পরিশোধ করা হবে।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সরকার ২০০৭ সাল থেকে জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের সাবিক থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করে আসছে। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানির সঙ্গে মোট ৮ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন চুক্তির আওতায় এবং জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত ৫ লাখ মেট্রিক টন আমদানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

চুক্তিতে নির্ধারিত প্রাইসিং ফর্মুলা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারদর বিবেচনায় পঞ্চম লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন (+১০ শতাংশ) বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব করা হয়। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৬৬ হাজার ৪০০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৯৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭২০ টাকা। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের দাম পড়বে ৩৯১ দশমিক ৬৬ মার্কিন ডলার।

সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের ফলে এখন নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সৌদি আরবের সাবিক থেকে এ লটের ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ভুটানের উন্নয়ন প্রকল্পে বাংলাদেশের জনশক্তি দেওয়ার প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
ভুটানের উন্নয়ন প্রকল্পে বাংলাদেশের জনশক্তি দেওয়ার প্রস্তাব

ভুটানের জেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি (জিএমসি) উন্নয়ন কার্যক্রমে দক্ষ, আধা-দক্ষ ও পেশাজীবী মানবসম্পদ দিয়ে সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাশো কর্মা হামু দর্জি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হয়।

সাক্ষাতে ভুটানের রাষ্ট্রদূত নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।

বৈঠকে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ ভুটানের জেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটির উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে আগ্রহী। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পেশাজীবী, দক্ষ ও আধা-দক্ষ মানবসম্পদ দিয়ে বাংলাদেশ সহযোগিতা করতে পারে।

এ সময় দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) পুনরুজ্জীবনের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আঞ্চলিক সহযোগিতার চিন্তার কথা স্মরণ করে সার্ককে আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রে ভুটানের সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি বলেন, সার্ক পুনরুজ্জীবিত হলে এ অঞ্চলের দেশ ও জনগণ উপকৃত হবে।

অন্যদিকে, গত ২৬ আগস্ট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভুটানের রাজাকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির উষ্ণ অভ্যর্থনার কথা উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ভুটানের রাষ্ট্রদূত। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতার জন্যও তিনি ধন্যবাদ জানান।

কালের আলো/এমএসআইপি