খুঁজুন
                               
, ,
           

মুষ্টির শক্তিতে শ্রেষ্ঠত্ব, চ্যাম্পিয়ন ২৪ পদাতিক ডিভিশন

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩৮ অপরাহ্ণ
মুষ্টির শক্তিতে শ্রেষ্ঠত্ব, চ্যাম্পিয়ন ২৪ পদাতিক ডিভিশন

বক্সিং—একদিকে আত্মরক্ষার কৌশল, অন্যদিকে শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা ও কৌশলগত বুদ্ধিমত্তার কঠিন পরীক্ষা। বিশ্বের বহু দেশে এই খেলা পেশাদার ক্রীড়ার অন্যতম আকর্ষণ হলেও বাংলাদেশে এখনো বক্সিংয়ের বিস্তার তুলনামূলক সীমিত। তবে সেই বাস্তবতায় ধীরে ধীরে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। আর এই পরিবর্তনের অগ্রভাগে রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

সেনাবাহিনীর নিয়মিত মুষ্টিযুদ্ধ প্রতিযোগিতা শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়; বরং সম্ভাবনাময় বক্সারদের খুঁজে বের করা, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করা এবং বক্সিংকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠছে। এবারের প্রতিযোগিতায় ২৪ পদাতিক ডিভিশনের চ্যাম্পিয়ন হওয়া সেই ধারাবাহিকতারই নতুন সংযোজন।

যশোর সেনানিবাসে ৫৫ পদাতিক ডিভিশন সদর দপ্তরের আয়োজনে সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মুষ্টিযুদ্ধ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন অঞ্চলের মোট ১৪টি দল। গত ২২ আগস্ট শুরু হওয়া প্রতিযোগিতার পর্দা নামে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।

  • সেনাবাহিনীর মুষ্টিযুদ্ধে ১৪ দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা
  • সেনাবাহিনীর বক্সিং প্রতিযোগিতায় নতুন প্রতিভার উত্থান
  • পেশাদার অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বপ্ন

প্রতিযোগিতার ফাইনাল ফলাফলে ২৪ পদাতিক ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন এবং ৬৬ পদাতিক ডিভিশন রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। অর্থাৎ রিংয়ের লড়াইয়ে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট উঠেছে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের মাথায়। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমান। তিনি বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

শুধু শিরোপা নয়, নজর নতুন প্রতিভায়
এবারের প্রতিযোগিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ব্যক্তিগত সাফল্য। ১৯ পদাতিক ডিভিশনের ল্যান্স কর্পোরাল মো. হোসেন আলী নির্বাচিত হয়েছেন শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়। অন্যদিকে ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের এনসি(ই) শান্ত সাহেব অর্জন করেছেন শ্রেষ্ঠ নবীন খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি। এই স্বীকৃতিগুলো দেখিয়ে দেয়, প্রতিযোগিতার লক্ষ্য কেবল দলীয় চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণে সীমাবদ্ধ নয়। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত দক্ষতা, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য উপযুক্ত বক্সারদেরও সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে। বক্সিংয়ে একজন খেলোয়াড়ের সাফল্য শুধু শক্তিশালী ঘুষির ওপর নির্ভর করে না।

প্রয়োজন গতি, ফুটওয়ার্ক, প্রতিপক্ষের কৌশল বুঝে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, শারীরিক সহনশীলতা এবং চাপের মধ্যে স্থির থাকার মানসিক শক্তি। ফলে সেনাবাহিনীর মতো শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশে নিয়মিত প্রশিক্ষণ একজন বক্সারকে প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা তৈরি করতে পারে।

পেশাদার বক্সিংয়ের সম্ভাবনার দরজা
বাংলাদেশে বক্সিংয়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো ধারাবাহিক প্রতিযোগিতা ও পেশাদার ক্যারিয়ারের সুযোগের সীমাবদ্ধতা। প্রতিভা থাকলেও অনেক তরুণের কাছে বক্সিংকে দীর্ঘমেয়াদি পেশা হিসেবে নেওয়ার পথ এখনো স্পষ্ট নয়। এই জায়গাতেই সেনাবাহিনীর আয়োজনগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

নিয়মিত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে খেলোয়াড়রা প্রতিযোগিতামূলক অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতার ঘাটতি চিহ্নিত করার সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে সম্ভাবনাময় বক্সার বাছাই এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরির সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশ যদি বক্সিংকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও শক্ত অবস্থানে নিতে চায়, তাহলে শুধু প্রতিভাবান খেলোয়াড় থাকলেই হবে না; প্রয়োজন নিয়মিত প্রতিযোগিতা, আধুনিক প্রশিক্ষণ, দক্ষ কোচিং, স্পোর্টস সায়েন্স, পুষ্টি ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতা। সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতাগুলো সেই বৃহত্তর কাঠামো তৈরির একটি কার্যকর ধাপ হতে পারে।

রিং থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চ—চ্যালেঞ্জও কম নয়
তবে সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক সাফল্যে রূপ দিতে হলে পরবর্তী ধাপটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সেরা বক্সারদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করে তুলতে নিয়মিত বিদেশি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ, আন্তর্জাতিক মানের প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াই এবং আধুনিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতির সঙ্গে তাদের পরিচিত করা জরুরি। কারণ জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব আর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পদক জয়—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন পরীক্ষা। আন্তর্জাতিক রিংয়ে প্রতিপক্ষের গতি, কৌশল ও অভিজ্ঞতা মোকাবিলায় প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি।

সেই অর্থে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের এবারের চ্যাম্পিয়ন হওয়া শুধু একটি ট্রফি জয়ের ঘটনা নয়। এটি সেনাবাহিনীর বক্সিং চর্চার ধারাবাহিকতা, প্রতিযোগিতার গভীরতা এবং নতুন প্রতিভা তৈরির সম্ভাবনারও একটি প্রতিচ্ছবি।

১৪ দলের লড়াই, সামনে আরও বড় স্বপ্ন
৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও যশোরের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. হাফিজুর রহমানসহ সেনাসদর ও যশোর এরিয়ার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ১৪টি দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা শেষ হয়েছে, কিন্তু বক্সিংয়ে সেনাবাহিনীর পথচলা এখানেই শেষ নয়।

বরং প্রতিটি প্রতিযোগিতা যদি নতুন বক্সার তৈরি করে, তাদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাঠানোর সুযোগ তৈরি করে এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের আওতায় আনা যায়, তাহলে বাংলাদেশের বক্সিংয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা সম্ভব। রিংয়ে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জয় তাই এক দিনের সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি হতে পারে আরও বড় একটি স্বপ্নের সূচনা—যেখানে সেনাবাহিনীর রিং থেকে উঠে আসা বক্সাররা একদিন আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে ফিরবেন, এমন প্রত্যাশাই এখন তৈরি হচ্ছে।

এমএএএমকে

সড়কজুড়ে গর্ত আর কাদা, দুর্ভোগে শিক্ষার্থী-রোগীসহ ৫০ হাজার বাসিন্দা

সীতাকুণ্ড সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২২ অপরাহ্ণ
সড়কজুড়ে গর্ত আর কাদা, দুর্ভোগে শিক্ষার্থী-রোগীসহ ৫০ হাজার বাসিন্দা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের যাতায়াতের প্রধান সড়ক সোনাইছড়ি। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির অধিকাংশ স্থানে পিচ ও ইট উঠে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে জমে কাদাপানি। এতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, রোগী, প্রবীণ ও কর্মজীবী মানুষকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে গর্ত ও কাদার কারণে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় যুবকেরা নিজ উদ্যোগে ইটের সুরকি ও খোয়া দিয়ে গর্ত ভরাটের চেষ্টা করলেও ভারী যানবাহন চলাচল ও বৃষ্টির কারণে তা স্থায়ী হচ্ছে না। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের গর্তে পানি জমে রাস্তা ও পাশের ড্রেন একাকার হয়ে যায়। এতে যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি পথচারীদেরও দুর্ভোগ বাড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে প্রায়ই রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু, শিক্ষার্থী ও প্রবীণ ব্যক্তিরা।

শিক্ষার্থী ও রোগীদের ভোগান্তি বেশি

সড়কটির কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী, বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা জানান, স্কুলে যাতায়াতের সময় শিক্ষার্থীরা কাদাপানিতে পিছলে পড়ে জামাকাপড় ও বইখাতা নষ্ট করছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় লতিফপুর আলহাজ আব্দুল জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ জানে আলম বলেন, ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা এই জরাজীর্ণ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করায় সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তগুলো কাদাপানিতে ভরে যায়। প্রায়ই শিক্ষার্থীদের পিছলে পড়ে জামাকাপড় ও বইখাতা নষ্ট হতে দেখা যায়। গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কারহীন পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক।

স্থানীয় গৃহিণী রোকেয়া বেগম বলেন, সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। সড়ক ভাঙাচোরা হওয়ায় রিকশা বা সিএনজি সহজে পাওয়া যায় না। পাওয়া গেলেও চালকেরা দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করেন। জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

বাড়তি ভাড়ায় নাকাল যাত্রীরা

সড়কের বেহাল দশায় যানবাহন চলাচলেও সংকট তৈরি হয়েছে। স্থানীয় রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরা এই পথে চলাচলে অনীহা দেখাচ্ছেন। তাঁদের দাবি, খানাখন্দে ভরা রাস্তায় গাড়ি চালালে প্রায়ই যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়। ফলে মেরামতের পেছনে আয়ের বড় অংশ ব্যয় করতে হচ্ছে। এ কারণে কোনো কোনো চালক বাড়তি ভাড়া দাবি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

স্থানীয় সিএনজিচালক মো. করিম বলেন, সোনাইছড়ি সড়কে গাড়ি চালালে প্রায়ই বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়। এ কারণে চালকেরা এই পথে ট্রিপ নিতে চান না। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা না হলে তাঁদের আয়-রোজগারেও প্রভাব পড়বে।

সড়কের দুরবস্থায় কর্মজীবী মানুষেরও ভোগান্তি বেড়েছে। বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা মো. রিদোয়ান জানান, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে হয়। কিন্তু ভাঙাচোরা সড়কে চলাচল করতে গিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা শওকত মামুন বলেন, জরুরি কাজে বের হলেও সড়কের কারণে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। বৃষ্টি হলে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটে চলাও দুরূহ হয়ে যায়।

সংস্কারের দাবিতে এলাকাবাসী

৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, প্রতিদিন হাজারো মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে এই সড়কে চলাচল করতে হয়। সামান্য বৃষ্টিতে গর্তে পানি জমে রাস্তা ও ড্রেন একাকার হয়ে যায়। সুস্থ-সবল মানুষও হাঁটতে গিয়ে পড়ে যাচ্ছেন। প্রবীণদের চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের মতে, সড়কটির বেহাল অবস্থার প্রভাব পড়ছে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে। পণ্য পরিবহন ও কর্মস্থলে যাতায়াতে সময় ও ব্যয় দুটোই বাড়ছে।

দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে। তাঁদের দাবি, সোনাইছড়ি সড়কটি শুধু একটি যোগাযোগপথ নয়; এটি এলাকার প্রায় ৫০ হাজার মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন।

এ অবস্থায় জনদুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট সড়ক কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, সাময়িক মেরামতের পরিবর্তে সড়কটি টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার করা হোক, যাতে নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত হয়।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

তিন দিনেও দেখা মেলেনি কাঞ্চনজঙ্ঘার, মন খারাপ নিয়ে ফিরছেন পর্যটকরা

পঞ্চগড় সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
তিন দিনেও দেখা মেলেনি কাঞ্চনজঙ্ঘার, মন খারাপ নিয়ে ফিরছেন পর্যটকরা

দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটির অবসরে হিমালয়ের বরফশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ভিড় করেছিলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শত শত পর্যটক। তবে টানা তিন দিন ধরে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ও কুয়াশাচ্ছন্ন থাকায় দেখা মেলেনি বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গটির। কাঙ্ক্ষিত দৃশ্য দেখতে না পেয়ে হতাশা নিয়েই তেঁতুলিয়া ছাড়ছেন অনেকে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) পর্যন্ত কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা না মেলায় পর্যটকদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তবে পাহাড় দেখতে না পেলেও তেঁতুলিয়ার অন্যান্য দর্শনীয় স্থান ঘুরে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরেছেন অনেকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ ডাকবাংলো, সীমান্তঘেঁষা মাগুরমারী ও বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে খালি চোখে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ তৈরি হয়। এ সময় বরফে ঢাকা পর্বতশৃঙ্গের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত মেঘ ও কুয়াশার কারণে এবার কাঙ্ক্ষিত দৃশ্য দেখা যায়নি।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা শামীমা আক্তার এবং রাজশাহী থেকে আসা শাহরিয়ারসহ অনেক পর্যটক কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার আশা নিয়ে তেঁতুলিয়ায় এসেছিলেন। কিন্তু আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় তাঁদের সেই আশা পূরণ হয়নি।

তবে হতাশা সত্ত্বেও তাঁরা তেঁতুলিয়ার অন্যান্য পর্যটনস্থল ঘুরে দেখেছেন। সমতলের চা-বাগান, মহানন্দা নদী, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, মহারাজার দিঘী ও রক্স মিউজিয়াম ঘুরে শনিবারই নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন অনেকে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত তিন দিন কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়নি। চলতি অক্টোবর মাসের বাকি দিনগুলোতেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকার সম্ভাবনা কম। ফলে এ সময় পর্বতশৃঙ্গটি দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনাও কম।

তবে নভেম্বরের শুরুতে আকাশ পরিষ্কার ও মেঘমুক্ত হলে টানা কয়েক দিন কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্য দেখা যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে পর্যটন মৌসুমে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে। তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসাইন জানান, দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা যাতে নিরাপদে অবস্থান করতে পারেন এবং কোনো ধরনের হয়রানি বা প্রতারণার শিকার না হন, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা না মিললেও তেঁতুলিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও অন্যান্য দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখছেন পর্যটকেরা। এখন তাঁদের আশা, নভেম্বরের শুরুতে আকাশ পরিষ্কার হলে আবারও ধরা দেবে হিমালয়ের বরফশুভ্র শৃঙ্গ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্পে ৩২৯ কোটি টাকা পেল ইউনিয়ন পরিষদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৮ অপরাহ্ণ
সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্পে ৩২৯ কোটি টাকা পেল ইউনিয়ন পরিষদ

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পরিবহন উন্নয়ন সহায়তা খাতে সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দেশের ৩ হাজার ২৫৩টি ইউনিয়ন পরিষদের অনুকূলে ৩২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় দেওয়া এ অর্থ নির্ধারিত উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করতে হবে। অর্থ ছাড়, উত্তোলন ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ এবং বরাদ্দের অর্থের যথাযথ হিসাব সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা পরিষদ-২ শাখা থেকে গত ১৩ অক্টোবর জারি করা এক চিঠিতে এ বরাদ্দের তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের অর্থ ছাড় এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্পে ব্যয় হবে অর্থ

স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় পরিবহন উন্নয়ন সহায়তা খাতে বরাদ্দ দেওয়া ৩২৯ কোটি টাকা সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা, ২০২১, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০০৮ এবং প্রযোজ্য আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। বরাদ্দের অর্থ নির্ধারিত উদ্দেশ্যের বাইরে ব্যয় করা যাবে না। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি আর্থিক নিয়ম অনুসরণ এবং ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও নির্দেশনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

যেভাবে ছাড় হবে বরাদ্দের অর্থ

চিঠিতে বলা হয়েছে, বরাদ্দের অর্থ ছাড়ের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) প্রতিস্বাক্ষরসহ বিল উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কাছে দাখিল করতে হবে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রচলিত আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থ উত্তোলন ও ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করবেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা যৌথভাবে। ফলে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন থেকে শুরু করে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

অনিয়ম হলে দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে

বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে কোনো অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট বিল পরিশোধকারী কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ বরাদ্দের অর্থ ছাড় ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিধিবিধান লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ওপর দায় বর্তাবে। এ ছাড়া প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত নিয়মে অর্থ ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অব্যয়িত অর্থ ফেরত দিতে হবে ৩০ জুনের মধ্যে

বরাদ্দের অর্থের কোনো অংশ ব্যয় না হলে তা আগামী ৩০ জুন ২০২৭ তারিখের মধ্যে সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশনার মাধ্যমে বরাদ্দ ব্যবস্থাপনায় আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থ ছাড় ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব আতিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিটি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি