খুঁজুন
                               
, ,
           

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জিরো কস্ট রিক্রুটমেন্ট পলিসি

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৪:০৮ অপরাহ্ণ
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জিরো কস্ট রিক্রুটমেন্ট পলিসি

পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে প্রতিবছর বিদেশে পাড়ি জমান বহু মানুষ। কিন্তু দালালদের খপ্পরে পড়ে অনেকের সে স্বপ্ন থমকে যায়। জমি-বাড়ি বিক্রি করে বিদেশে যাওয়ার পথ তৈরি করলেও বাস্তবে অনেকেই হয়ে পড়েছেন প্রতারিত। এমনকি বৈধপথে প্রতি বছর লাখ লাখ শ্রমিককে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর সুযোগ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে ভিসা সিন্ডিকেট, দালাল ও দুর্নীতির কারণে খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে মাথাপিছু ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত। এমন করুণ অবস্থার অবসানে এসেছে এক সুখবর।

প্রবাসী কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার সম্প্রতি ঘোষিত ‘বিনা খরচে নিয়োগ’ নীতি বা জিরো কস্ট রিক্রুটমেন্ট পলিসিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মাস দুয়েক আগে ঢাকা ও কুয়ালালামপুরের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নতুন এই ব্যবস্থায় কর্মীর অভিবাসন ব্যয় শূন্যে নেমে আসবে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) নির্দেশিত ‘নিয়োগকর্তা খরচ দেবে’ নীতি অনুযায়ী পুরো খরচ বহন করবেন মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তা।’

মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় বাংলাদেশের শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী শ্রী রামানান রামাকৃষ্ণানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর এই বিবৃতি দেওয়া হয়। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে তারা প্রশ্নও তুলেছেন।

তাদের এই উদ্বেগের কারণ হলো সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মালয়েশিয়ায় চাকরি পেতে একেকজন বাংলাদেশি কর্মীকে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে। অথচ সরকারিভাবে নির্ধারিত খরচ ছিল মাত্র ৭৯ হাজার টাকা। ওই সময়ে কর্মী পাঠানোর জন্য ১০১টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিকে দায়িত্ব দিয়েছিল মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ। ২০২৪ সালের ৩১ মে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ার আগে প্রায় সাড়ে চার লাখ বাংলাদেশি দেশটিতে গিয়েছিলেন।

মালয়েশিয়ায় শ্রম অভিবাসনবিষয়ক গবেষক মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ জানান, কুয়ালালামপুর ২০১৬-১৮ সালে ১০টি এবং ২০২২-২৪ সালে ১০১টি এজেন্সিকে ‘যোগ্য’ হিসেবে বেছে নিয়েছিল। কিন্তু এই যোগ্যতার মাপকাঠি কী ছিল, তা কখনোই পরিষ্কার করা হয়নি। গত বছর তারা রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জন্য নতুন কিছু শর্ত দিয়েছে, যা বেশ প্রশ্নবিদ্ধ। গত বছরের ২৭ অক্টোবর কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠানো এক চিঠিতে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জন্য বেশ কিছু শর্তের কথা জানায়। এর মধ্যে রয়েছে—ন্যূনতম পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা, গত তিন বছরে অন্তত ৩ হাজার কর্মী পাঠানোর রেকর্ড এবং কমপক্ষে তিনটি দেশে কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা। এ ছাড়া এজেন্সিগুলোর অন্তত ১০ হাজার বর্গফুটের নিজস্ব কার্যালয়, বৈধ লাইসেন্স ও ভালো আচরণের সনদ (ক্লিয়ারেন্স), বিদেশি নিয়োগকর্তাদের পাঁচটি রেফারেন্স এবং নিজস্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও আবাসিক ব্যবস্থা থাকতে হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা: রাষ্ট্রীয় ভাষায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৮ অপরাহ্ণ
‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা: রাষ্ট্রীয় ভাষায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

রাষ্ট্রপতির পদবির আগে ‘মহামান্য’ এবং প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। একই দিন থেকেই সিদ্ধান্তটি কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় কাজ ও দাপ্তরিক নথিপত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ কিংবা এ ধরনের অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ আর ব্যবহার করা যাবে না। সরকারের সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং এর অধীনস্থ দপ্তরগুলোকে অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতিতে নতুন বার্তা
দাপ্তরিক নথিতে কোনো পদবির আগে সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে ভাষাগত বা আনুষ্ঠানিকতার প্রশ্ন মনে হতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দেরই একটি সাংবিধানিক, প্রশাসনিক ও প্রতীকী তাৎপর্য রয়েছে। সে বিবেচনায় ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ শব্দ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তকে কেবল একটি ভাষাগত পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী কিংবা মন্ত্রীদের মতো সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক পদকে ব্যক্তির পরিবর্তে পদ হিসেবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত একটি নিরপেক্ষ প্রশাসনিক ভাষা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। অর্থাৎ, ব্যক্তি নয়—পদই হবে রাষ্ট্রীয় নথিপত্রে মূল পরিচয়।

রাষ্ট্রীয় পদ ও ব্যক্তিগত মর্যাদার মধ্যে পার্থক্য
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধি ও রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তারা অবশ্যই মর্যাদার অধিকারী। তবে সেই মর্যাদা ব্যক্তিকে ঘিরে অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতা তৈরির মাধ্যমে প্রকাশ করা জরুরি নয়। একজন রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী যে পদে অধিষ্ঠিত, তার সাংবিধানিক মর্যাদা পদটির মধ্যেই নিহিত।

ফলে পদবির সঙ্গে অতিরিক্ত সম্মানসূচক শব্দ যুক্ত না করেও একজন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রীর সাংবিধানিক মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব। বরং এ ধরনের ভাষাগত সরলীকরণ দাপ্তরিক যোগাযোগকে আরও নিরপেক্ষ, সংক্ষিপ্ত ও প্রাতিষ্ঠানিক করে তুলতে পারে।

প্রশাসনিক ভাষায় সরলতা ও সমতা
সরকারি নথিপত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত নির্ভুলতা, সংক্ষিপ্ততা ও নিরপেক্ষতা। সেখানে ব্যক্তিকেন্দ্রিক বিশেষণ বা অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতার পরিবর্তে দায়িত্ব ও পদকে গুরুত্ব দেওয়া হলে প্রশাসনিক ভাষা আরও প্রাতিষ্ঠানিক হয়ে ওঠে। ‘মহামান্য’ বা ‘মাননীয়’ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাই রাষ্ট্রীয় নথিতে একটি অভিন্ন ভাষাশৈলী প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। এতে একই সঙ্গে প্রশাসনিক যোগাযোগে আনুষ্ঠানিকতার ভার কমবে এবং রাষ্ট্রীয় পদকে ব্যক্তির ঊর্ধ্বে একটি প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় হিসেবে তুলে ধরা সহজ হবে।

তবে এই সিদ্ধান্তের প্রকৃত তাৎপর্য নির্ভর করবে এর বাস্তব প্রয়োগের ওপর। শুধু পরিপত্র জারি করলেই রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আসে না; মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধীনস্থ দপ্তরগুলো নিয়মটি কতটা ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করছে, সেটিই হবে মূল বিষয়। সরকারি চিঠি, প্রজ্ঞাপন, স্মারক, প্রতিবেদন, আমন্ত্রণপত্রসহ সব ধরনের দাপ্তরিক নথিতে একই নীতি অনুসরণ করা গেলে এটি প্রশাসনিক ভাষায় একটি সুস্পষ্ট পরিবর্তন আনতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় পদগুলোর ক্ষেত্রে সম্মান প্রকাশের প্রচলিত রীতিগুলো কীভাবে পরিবর্তিত হয়, সেটিও নজর দেওয়ার বিষয়। রাষ্ট্রপতির আগে ‘মহামান্য’ এবং প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের আগে ‘মাননীয়’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আপাতদৃষ্টিতে ছোট একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হলেও এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় ভাষা, প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা এবং ব্যক্তি ও পদের পার্থক্যকে গুরুত্ব দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রয়েছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

জুলাই জাদুঘরে অশ্রুসজল রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩১ অপরাহ্ণ
জুলাই জাদুঘরে অশ্রুসজল রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারিতে প্রদর্শিত শহীদদের চিঠি, স্মারক ও স্মৃতিচিহ্ন দেখার সময় তাকে অশ্রুসজল হতে দেখা যায়। পরে জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত একটি সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্যচিত্র দেখার সময়ও আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি।

  • শহীদদের চিঠি-স্মৃতিচিহ্ন দেখে আবেগাপ্লুত
  • বললেন, ‘রাষ্ট্র কখনোই শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের ঋণ শোধ করতে পারবে না’

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি, গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছি; কিন্তু এর জন্য মূল্য দিতে হয়েছে অনেক বেশি। রাষ্ট্র কখনোই শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের ঋণ শোধ করতে পারবে না। এ দেশে যেন আর কোনোদিন এ ধরনের মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ না ঘটে।’ রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আত্মত্যাগ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মূল্য এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর প্রত্যয়ের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে আসে।

টিকিট কেটে জাদুঘরে রাষ্ট্রপতি
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে পৌঁছালে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাদুঘরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান। এ সময় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমও ছিলেন। রাষ্ট্রপতি দর্শনার্থী টিকিট সংগ্রহ করে জাদুঘরে প্রবেশ করেন। এরপর ‘লংওয়াক টু ডেমোক্রেসি’ ওয়াকওয়ে দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার বিভিন্ন ধাপের ঐতিহাসিক চিত্র ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনের সময় দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনে শহীদদের স্মরণে নির্মিত মেমোরিয়াল এবং রেপ্লিকা আয়নাঘরও ঘুরে দেখেন তিনি।

এছাড়াও তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার বিভিন্ন ঐতিহাসিক চিত্র; দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনে শহীদদের স্মরণে নির্মিত মেমোরিয়াল; রেপ্লিকা আয়নাঘর; বিডিআর ম্যাসাকার ও শাপলা ম্যাসাকার সেকশন; নির্যাতনসামগ্রী; জোরপূর্বক গুমের বিভিন্ন নিদর্শন; জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের স্মারক ও স্মৃতিচিহ্ন ঘুরে দেখেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে জাদুঘর প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষরোপণ করেন রাষ্ট্রপতি।

শহীদদের চিঠিতে ভারী পরিবেশ
জাদুঘরের বিভিন্ন সেকশন ঘুরে দেখার সময় শহীদদের চিঠি, স্মারক ও স্মৃতিচিহ্নের সামনে থামেন রাষ্ট্রপতি। এসব নিদর্শন দেখার সময় তাকে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়। ইতিহাসের ঘটনাগুলো যেখানে দলিল, ছবি ও স্মারকের মাধ্যমে সংরক্ষিত হয়েছে, সেখানে ব্যক্তিগত চিঠি ও স্মৃতিচিহ্নগুলো জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মানবিক দিকটিও সামনে নিয়ে আসে। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং শিক্ষার্থী-জনতার সংগ্রামের নানা অংশ ঘুরে দেখার পর জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখেন রাষ্ট্রপতি।প্রামাণ্যচিত্রটি দেখার সময়ও তাকে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়। পরিদর্শন শেষে জাদুঘরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি।

‘গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা দায়িত্ব’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি এর চেতনা ধারণ করে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরতে এ ধরনের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং জাদুঘরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি সেই আত্মত্যাগ থেকে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের জন্য শিক্ষা নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীনতা ও মানবিকতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলাকে তিনি সবার দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরেছেন।

শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করবে জাতি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের আত্মত্যাগকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও আত্মোৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তার বক্তব্যে একই সঙ্গে উঠে আসে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞের পুনরাবৃত্তি রোধের প্রত্যাশা। ফলে জাদুঘর পরিদর্শনটি শুধু অতীতের স্মৃতি দেখার আনুষ্ঠানিকতা ছিল না; বরং শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেই ইতিহাস সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার বার্তাও এতে উঠে এসেছে। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জুলাই জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি এমপি, আবরার ইলিয়াস ও মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ। পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতিকে জাদুঘরের বিভিন্ন স্থাপনা ও দলিলপত্রের বিষয়ে ব্রিফ করেন জুলাই জাদুঘরের গবেষণা দলের সদস্য জুবায়ের ইবনে কামাল ও ফারহান মাসুদ।

কালের আলো/এম/এএইচ

কাজের অস্তিত্ব নেই, তবু সাড়ে ৬ কোটি টাকার বিল: দুদকের অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
কাজের অস্তিত্ব নেই, তবু সাড়ে ৬ কোটি টাকার বিল: দুদকের অভিযান

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্পে কাজের কোনো ভৌত অস্তিত্ব না থাকা সত্ত্বেও প্রায় ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা বিল পরিশোধের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে নিয়মবহির্ভূতভাবে প্যাকেজ বিভাজন এবং ই-জিপি টেন্ডারে কারসাজিরও প্রমাণ পেয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এ অভিযান চালায়। এ সময় বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

দুদক সূত্রে জানা যায়, ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য রেকর্ড ভবন নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ২৭৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপি ও আরডিপিপিতে একটি প্যাকেজ থাকার কথা ছিল। এর মধ্যে ডব্লিউ-১ প্যাকেজটি ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর ১৫৫ কোটি ৭০ লাখ টাকায় মেসার্স ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

তবে পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও ডিপিপির অনুমোদন ছাড়াই ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আরও আটটি পৃথক প্যাকেজ তৈরি করা হয়। ই-জিপি টেন্ডারের মাধ্যমে আটটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এসব প্যাকেজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

দুদকের তথ্যমতে, এসব প্যাকেজের বিপরীতে মোট ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে। অভিযানে দেখা যায়, আটটি প্যাকেজের মধ্যে চারটির ক্ষেত্রে কাজের কোনো ভৌত অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এসব কাজের চুক্তিপত্র কিংবা কাজের পরিমাপ বইও পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, বাকি চারটি প্যাকেজে কাজের অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেগুলো মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামানকে এসব অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়-দায়িত্ব নির্ধারণে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানের সুপারিশ করেছে এনফোর্সমেন্ট টিম। অনুসন্ধান শেষে সংশ্লিষ্টদের দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দুদক।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি