মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জিরো কস্ট রিক্রুটমেন্ট পলিসি
পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে প্রতিবছর বিদেশে পাড়ি জমান বহু মানুষ। কিন্তু দালালদের খপ্পরে পড়ে অনেকের সে স্বপ্ন থমকে যায়। জমি-বাড়ি বিক্রি করে বিদেশে যাওয়ার পথ তৈরি করলেও বাস্তবে অনেকেই হয়ে পড়েছেন প্রতারিত। এমনকি বৈধপথে প্রতি বছর লাখ লাখ শ্রমিককে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর সুযোগ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে ভিসা সিন্ডিকেট, দালাল ও দুর্নীতির কারণে খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে মাথাপিছু ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত। এমন করুণ অবস্থার অবসানে এসেছে এক সুখবর।
প্রবাসী কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার সম্প্রতি ঘোষিত ‘বিনা খরচে নিয়োগ’ নীতি বা জিরো কস্ট রিক্রুটমেন্ট পলিসিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মাস দুয়েক আগে ঢাকা ও কুয়ালালামপুরের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নতুন এই ব্যবস্থায় কর্মীর অভিবাসন ব্যয় শূন্যে নেমে আসবে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) নির্দেশিত ‘নিয়োগকর্তা খরচ দেবে’ নীতি অনুযায়ী পুরো খরচ বহন করবেন মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তা।’
মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় বাংলাদেশের শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী শ্রী রামানান রামাকৃষ্ণানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর এই বিবৃতি দেওয়া হয়। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে তারা প্রশ্নও তুলেছেন।
তাদের এই উদ্বেগের কারণ হলো সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মালয়েশিয়ায় চাকরি পেতে একেকজন বাংলাদেশি কর্মীকে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে। অথচ সরকারিভাবে নির্ধারিত খরচ ছিল মাত্র ৭৯ হাজার টাকা। ওই সময়ে কর্মী পাঠানোর জন্য ১০১টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিকে দায়িত্ব দিয়েছিল মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ। ২০২৪ সালের ৩১ মে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ার আগে প্রায় সাড়ে চার লাখ বাংলাদেশি দেশটিতে গিয়েছিলেন।
মালয়েশিয়ায় শ্রম অভিবাসনবিষয়ক গবেষক মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ জানান, কুয়ালালামপুর ২০১৬-১৮ সালে ১০টি এবং ২০২২-২৪ সালে ১০১টি এজেন্সিকে ‘যোগ্য’ হিসেবে বেছে নিয়েছিল। কিন্তু এই যোগ্যতার মাপকাঠি কী ছিল, তা কখনোই পরিষ্কার করা হয়নি। গত বছর তারা রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জন্য নতুন কিছু শর্ত দিয়েছে, যা বেশ প্রশ্নবিদ্ধ। গত বছরের ২৭ অক্টোবর কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠানো এক চিঠিতে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জন্য বেশ কিছু শর্তের কথা জানায়। এর মধ্যে রয়েছে—ন্যূনতম পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা, গত তিন বছরে অন্তত ৩ হাজার কর্মী পাঠানোর রেকর্ড এবং কমপক্ষে তিনটি দেশে কর্মী পাঠানোর অভিজ্ঞতা। এ ছাড়া এজেন্সিগুলোর অন্তত ১০ হাজার বর্গফুটের নিজস্ব কার্যালয়, বৈধ লাইসেন্স ও ভালো আচরণের সনদ (ক্লিয়ারেন্স), বিদেশি নিয়োগকর্তাদের পাঁচটি রেফারেন্স এবং নিজস্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও আবাসিক ব্যবস্থা থাকতে হবে।
কালের আলো/এম/এএইচ


আপনার মতামত লিখুন
Array