খুঁজুন
                               
, ,
           

ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে কারা আলোচনায়?

পলিটিক্যাল এডিটর
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১:৫২ অপরাহ্ণ
ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে কারা আলোচনায়?

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে। সংগঠনটির নতুন নেতৃত্ব নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরে আলোচনা যেমন তুঙ্গে, তেমনি পদপ্রত্যাশীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক অপেক্ষা। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, নতুন কমিটির একটি খসড়া ইতোমধ্যে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে রয়েছে। তাঁর চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই যেকোনো সময় ঘোষণা আসতে পারে।

তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট করেনি বিএনপি। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী শুক্রবার (১৪ আগস্ট) জানিয়েছেন, ছাত্রদলের নতুন কমিটি সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা এখনো তাঁর কাছে আসেনি। ফলে কমিটি ঘোষণার সময় নিয়ে দলীয় পর্যায়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও অভ্যন্তরীণ তৎপরতা যে শেষ পর্যায়ে, তা সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট হচ্ছে।

বিদায়ী নেতৃত্বের সাক্ষাৎ, বাড়ছে জল্পনা
নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে ছাত্রদলের বর্তমান শীর্ষ পাঁচ নেতার বিদায়ী সাক্ষাৎ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সাধারণ রাজনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও এর সময়কাল এবং প্রেক্ষাপটের কারণে ঘটনাটি নতুন নেতৃত্ব ঘোষণার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।

সাক্ষাতের পর ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বিদায়ী বার্তা দেওয়ায় সেই জল্পনা আরও বেড়েছে। দলীয় সূত্র বলছে, বৈঠকে সাম্প্রতিক আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রদলের ভূমিকা, ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, নতুনদের সুযোগ দেওয়া এবং বিদায়ী নেতাদের বিএনপির মূল রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অর্থাৎ, এটি শুধু একটি বিদায়ী সাক্ষাৎ নয়; বরং ছাত্রদলের নেতৃত্ব পরিবর্তনের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

মেয়াদ শেষ, নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষা
২০২৪ সালের ১ মার্চ রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি এবং নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে একই বছরের ১৫ জুন ২৬০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

সংগঠনের খসড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সংসদের মেয়াদ দুই বছর। সেই হিসাবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ফলে সাংগঠনিক বাস্তবতায় নতুন কমিটি গঠন এখন আর কেবল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়; বরং দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর একটি স্বাভাবিক নেতৃত্ব-রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তাও তৈরি হয়েছে। এ কারণে নতুন কমিটি ঘোষণা হলে তা ছাত্রদলের সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে।

সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় একাধিক নাম
নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে বিদায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ইজাজুল কবির রুয়েল, ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খানের নাম রয়েছে আলোচনার কেন্দ্রে। এর বাইরে কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিক, রিয়াদ রহমান, আরিফুল ইসলাম আরিফ, তরিকুল ইসলাম তারিক ও মোস্তাফিজুর রহমান শুভসহ আরও কয়েকজন নেতার নামও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনায় এসেছে।

তবে এসব নামের কোনটি শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত তালিকায় থাকছে, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো ঘোষণা নেই। রাজনৈতিক সংগঠনের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব নির্বাচনে শেষ মুহূর্তে সমীকরণ বদলে যাওয়ার নজির থাকায় আলোচনায় থাকা নামগুলোকে সম্ভাব্য তালিকা হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এবার নেতৃত্ব বাছাইয়ে কোন বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ?
ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন শুধু কে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন, তা নয়; বরং কোন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক মানদণ্ডে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে—সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ। পদপ্রত্যাশীদের বক্তব্যে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে সামনে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, ত্যাগ ও পরীক্ষিত ভূমিকা। তৃণমূলের প্রত্যাশা, রাজপথের পরীক্ষিত নেতাদের পাশাপাশি নিয়মিত শিক্ষার্থী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে—এমন নেতাদেরও নেতৃত্বে আনা হবে।

নারী নেতৃত্বের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সংগঠনকে আরও কার্যকর করার দাবিও রয়েছে। ফলে নতুন কমিটি শুধু পুরোনো নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে, নাকি নতুন প্রজন্মের একটি বড় অংশকে সামনে নিয়ে আসবে—সেদিকেও নজর থাকবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

গুলশানে আ.লীগের নিষিদ্ধ মিছিল: আরও ৪০ জন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ
গুলশানে আ.লীগের নিষিদ্ধ মিছিল: আরও ৪০ জন আটক

রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলকে কেন্দ্র করে অভিযান চালিয়ে আরও ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন।

ডিএমপি জানায়, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে গুলশান এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলে সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগে ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এর আগে শুক্রবার গুলশান এলাকায় অভিযান চালিয়ে একই মিছিলে সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগে আরও ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

এ নিয়ে গুলশানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলকে কেন্দ্র করে দুই দফায় মোট ৭২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

‘বিদেশে কিছু পেলে শুধু ১০% দিয়েন’—দুদকের অভিযোগে আসিফ মাহমুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
‘বিদেশে কিছু পেলে শুধু ১০% দিয়েন’—দুদকের অভিযোগে আসিফ মাহমুদ

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারসহ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং ঢাকা ওয়াসা, এলজিইডি ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে কর্মকর্তা নিয়োগে মোট ১৮৭ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

দুদকের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও টেন্ডারে কমিশন নেওয়া এবং নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এসব অভিযোগের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ।

এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে।’

তার এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে দুদকের অভিযোগকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

বন্ধ ইউনিট চালু, জাতীয় গ্রিডে ফিরছে আদানির বিদ্যুৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
বন্ধ ইউনিট চালু, জাতীয় গ্রিডে ফিরছে আদানির বিদ্যুৎ

কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট ফের সচল হয়েছে। ফলে কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে ৭৫৬ মেগাওয়াট এবং দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ২৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ধীরে ধীরে দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন বাড়িয়ে প্রায় ৭৫০ মেগাওয়াটে নেওয়া হবে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে দুটি ইউনিট থেকে বাংলাদেশে ঘণ্টায় এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছিল। একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার পর সরবরাহ কমে প্রায় ৭৫৮ মেগাওয়াটে নেমে আসে।

এর আগে কয়লা সরবরাহ সংকটের কারণেও গোড্ডা কেন্দ্রটির উৎপাদন কমে গিয়েছিল। গত ৭ আগস্ট ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। পরে আগস্টের শেষ দিকে কয়লা সরবরাহ বাড়লে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়তে শুরু করে।

দিনের বেলায় কেন্দ্রটি প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল। একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় ওই সময় দেশের বিদ্যুৎব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছিল।

১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৮০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে। ২০১৭ সালে কেন্দ্রটির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। চাহিদা অনুযায়ী কেন্দ্রটি থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ড রয়েছে।

বর্তমানে দেশে ১৬ থেকে ১৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে পিডিবি প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে। গোড্ডা কেন্দ্রের বন্ধ ইউনিট ফের চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি