খুঁজুন
                               
, ,
           

জামায়াত আমিরের এক দফার হুঁশিয়ারি, সরকারকে দাবি মানার আহ্বান

বিশেষ/গাজীপুর/টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, সন্ধানী বার্তা:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪০ অপরাহ্ণ
জামায়াত আমিরের এক দফার হুঁশিয়ারি, সরকারকে দাবি মানার আহ্বান

আট দফা দাবি আদায়ে রাজপথে নেমে এবার প্রয়োজনে এক দফার আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের প্রয়োজন হলে দাবি আরও বাড়তে পারে, আবার জনগণের প্রয়োজনে আট দফা বিলুপ্ত করে এক দফা ঘোষণা করারও প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যতে ঢাকামুখী লংমার্চের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে শুরু হওয়া ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের পথে গাজীপুর ও টাঙ্গাইলে আয়োজিত পথসভায় এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান। প্রায় সাড়ে চার শ গাড়ির বহর নিয়ে উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে যাত্রা করা এই লংমার্চের ৪৩০ থেকে ৪৫০টি গাড়ি যমুনা সেতু পার হয়েছে বলে সেতুর টোল প্লাজা সূত্র জানিয়েছে।

  • ৪৫০ গাড়ির বহরে রংপুরের পথে ১১ দল
  • সরকারকে সতর্কবার্তা, ঢাকামুখী পরবর্তী লংমার্চের ইঙ্গিত

সকাল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা সরকারের প্রতি জনগণের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁদের বক্তব্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সাংবিধানিক সংস্কার, জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট, দ্রব্যমূল্য, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

‘আট দফা এক দফায় পরিণত হতে পারে’
টাঙ্গাইল শহর বাইপাস সড়কের নগর জলফৈ মোড়ে আয়োজিত পথসভায় ডা.শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ছয় দফা আট দফায় পরিণত হয়েছে। জনগণের প্রয়োজনে দফা বাড়তে পারে, আবার জনগণের প্রয়োজনে সব দফা বিলুপ্ত করে এক দফা ঘোষণা করার প্রয়োজন হতে পারে।’ এরপর নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আজকের লংমার্চ আপনাদের দিকে। আগামীর লংমার্চ এখান থেকে ঢাকার দিকে। প্রস্তুত থাকবেন ইনশা আল্লাহ।’

তিনি বলেন, নব্য স্বৈরশাসন থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য তাঁরা রাজপথে নেমেছেন। এই লড়াই কোনো দলের জন্য নয়, ১৮ কোটি মানুষের জন্য। জনগণের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনে কোনো বিশ্রাম বা বিরতি নেই বলেও জানান তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনাদের দাবি আদায় করে ঘরে ফিরব ইনশা আল্লাহ। এর মাঝখানে আর কোনো বিশ্রাম নাই, বিরতি নাই।’

‘৭০ শতাংশ মানুষের ভোটের রায় কেন সম্মান করলেন না’
টাঙ্গাইলের পথসভায় বিএনপি সরকারের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘৭০ শতাংশ মানুষের ভোটের রায়কে কেন আপনারা সম্মান করলেন না?’ তিনি অভিযোগ করেন, কোনো জায়গায় অনির্বাচিত কাউকে দিয়ে শাসন করতে দেওয়া হবে না—এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসক বসানো হয়েছে। তাঁর ভাষায়, সরকার জাতির সঙ্গে দেওয়া কথা রক্ষা করেনি।

তিনি আরও বলেন, জনগণ বিভিন্ন ‘কার্ড’ চায়নি; জনগণ যে বিষয়গুলো চেয়েছিল, সেগুলোই সরকার দিতে পারেনি। এর আগে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাসের পথসভায় শফিকুর রহমান বলেন, আট দফা দাবি যেকোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে। জনগণের দাবির বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলনের কর্মসূচি আরও কঠোর হতে পারে—এমন বার্তাও দেন তিনি।

‘১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি’
ভোগরা বাইপাসের পথসভায় শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনাদের দাবিতে আমরা রাস্তায় নেমেছি। কোনো দলীয় নয়, ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে নেমেছি।’ তিনি বলেন, শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিবিজড়িত রংপুরের উদ্দেশে তাঁদের লংমার্চ শুরু হয়েছে। জনগণের ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছে দেওয়া, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, রাস্তাঘাট ও হাটবাজারে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার দাবিতে এই কর্মসূচি।

একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলেছিল, কিন্তু সরকার সেই রায় অগ্রাহ্য করেছে। তাঁর দাবি, জনগণের রায়ের বাস্তবায়ন শেষ পর্যন্ত করতেই হবে।

তারেক রহমানকে ‘যাওয়ার পথ’ বেছে নেওয়ার কথা বললেন নাহিদ ইসলাম
লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে জনগণের অধিকার হরণ এবং গণতন্ত্র ধ্বংস করছে। অতীতে যারা গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে, তাদের স্থান ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনি কীভাবে ক্ষমতা থেকে চলে যাবেন, সেই সিদ্ধান্ত তাঁকেই নিতে হবে। তাঁর ভাষায়, ‘তিনি কি হেলিকপ্টারে করে দেশ থেকে পালিয়ে যাবেন, নাকি সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করবেন, সে সিদ্ধান্ত তাঁকে নিতে হবে।’

এরশাদের পদত্যাগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন এনসিপির এই নেতা। নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, সরকার গুম ও মানবাধিকারসংক্রান্ত আইনসহ বিভিন্ন আইন ও প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে জনগণের অধিকার হরণের প্রেক্ষাপট তৈরি করছে। লংমার্চের পথে ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলারও অভিযোগ করেন তিনি।

টাঙ্গাইলে যারা ছিলেন
টাঙ্গাইলের নগর জলফৈ মোড়ের পথসভায় শফিকুর রহমানের সঙ্গে বক্তব্য দেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। পথসভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের আমির আহসান হাবিব মাসুদ। এ সময় বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আবুল কাশেম কাশেমী, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে যাত্রা
এর আগে সকাল ৭টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ শুরু হয়। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় এবং ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদের উদ্বোধনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়।

উদ্বোধনী সমাবেশে ডা.শফিকুর রহমান ও নাহিদ ইসলাম ছাড়াও এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

আট দফায় যা আছে
১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের ঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল গঠন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সারসংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চে ছয় দফা দাবি সামনে রেখেছিল ১১ দলীয় ঐক্য। রংপুরের কর্মসূচিতে এর সঙ্গে দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি যুক্ত হয়েছে।

যমুনা সেতু পার ৪৩০–৪৫০ গাড়ি
টাঙ্গাইলের পথসভা শেষে লংমার্চের গাড়িবহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। যমুনা সেতু টোল প্লাজা সূত্র জানায়, দুপুর ১২টা ৩২ মিনিটে মূল বহরটি সেতুর পূর্ব প্রান্তের টোল প্লাজায় পৌঁছায়। এরপর বিভিন্ন লেন দিয়ে গাড়িগুলো সেতু পার হতে থাকে। দুপুর ১২টা ৪৭ মিনিট পর্যন্ত মূল বহরের গাড়িগুলো উত্তরবঙ্গের দিকে চলে যায়। মূল বহরের আগে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি গাড়ি এবং মূল বহর চলে যাওয়ার পরও লংমার্চের স্টিকারযুক্ত কিছু গাড়ি সেতু পার হয়। সব মিলিয়ে ৪৩০ থেকে ৪৫০টি গাড়ি যমুনা সেতু পার হয়েছে বলে টোল প্লাজা সূত্র জানিয়েছে।

এম/এএইচ

সড়কজুড়ে গর্ত আর কাদা, দুর্ভোগে শিক্ষার্থী-রোগীসহ ৫০ হাজার বাসিন্দা

সীতাকুণ্ড সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২২ অপরাহ্ণ
সড়কজুড়ে গর্ত আর কাদা, দুর্ভোগে শিক্ষার্থী-রোগীসহ ৫০ হাজার বাসিন্দা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের যাতায়াতের প্রধান সড়ক সোনাইছড়ি। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির অধিকাংশ স্থানে পিচ ও ইট উঠে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে জমে কাদাপানি। এতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, রোগী, প্রবীণ ও কর্মজীবী মানুষকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে গর্ত ও কাদার কারণে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় যুবকেরা নিজ উদ্যোগে ইটের সুরকি ও খোয়া দিয়ে গর্ত ভরাটের চেষ্টা করলেও ভারী যানবাহন চলাচল ও বৃষ্টির কারণে তা স্থায়ী হচ্ছে না। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের গর্তে পানি জমে রাস্তা ও পাশের ড্রেন একাকার হয়ে যায়। এতে যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি পথচারীদেরও দুর্ভোগ বাড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে প্রায়ই রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু, শিক্ষার্থী ও প্রবীণ ব্যক্তিরা।

শিক্ষার্থী ও রোগীদের ভোগান্তি বেশি

সড়কটির কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী, বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা জানান, স্কুলে যাতায়াতের সময় শিক্ষার্থীরা কাদাপানিতে পিছলে পড়ে জামাকাপড় ও বইখাতা নষ্ট করছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় লতিফপুর আলহাজ আব্দুল জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ জানে আলম বলেন, ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা এই জরাজীর্ণ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করায় সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তগুলো কাদাপানিতে ভরে যায়। প্রায়ই শিক্ষার্থীদের পিছলে পড়ে জামাকাপড় ও বইখাতা নষ্ট হতে দেখা যায়। গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কারহীন পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক।

স্থানীয় গৃহিণী রোকেয়া বেগম বলেন, সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। সড়ক ভাঙাচোরা হওয়ায় রিকশা বা সিএনজি সহজে পাওয়া যায় না। পাওয়া গেলেও চালকেরা দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করেন। জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

বাড়তি ভাড়ায় নাকাল যাত্রীরা

সড়কের বেহাল দশায় যানবাহন চলাচলেও সংকট তৈরি হয়েছে। স্থানীয় রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরা এই পথে চলাচলে অনীহা দেখাচ্ছেন। তাঁদের দাবি, খানাখন্দে ভরা রাস্তায় গাড়ি চালালে প্রায়ই যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়। ফলে মেরামতের পেছনে আয়ের বড় অংশ ব্যয় করতে হচ্ছে। এ কারণে কোনো কোনো চালক বাড়তি ভাড়া দাবি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

স্থানীয় সিএনজিচালক মো. করিম বলেন, সোনাইছড়ি সড়কে গাড়ি চালালে প্রায়ই বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়। এ কারণে চালকেরা এই পথে ট্রিপ নিতে চান না। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা না হলে তাঁদের আয়-রোজগারেও প্রভাব পড়বে।

সড়কের দুরবস্থায় কর্মজীবী মানুষেরও ভোগান্তি বেড়েছে। বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা মো. রিদোয়ান জানান, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে হয়। কিন্তু ভাঙাচোরা সড়কে চলাচল করতে গিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা শওকত মামুন বলেন, জরুরি কাজে বের হলেও সড়কের কারণে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। বৃষ্টি হলে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটে চলাও দুরূহ হয়ে যায়।

সংস্কারের দাবিতে এলাকাবাসী

৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, প্রতিদিন হাজারো মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে এই সড়কে চলাচল করতে হয়। সামান্য বৃষ্টিতে গর্তে পানি জমে রাস্তা ও ড্রেন একাকার হয়ে যায়। সুস্থ-সবল মানুষও হাঁটতে গিয়ে পড়ে যাচ্ছেন। প্রবীণদের চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের মতে, সড়কটির বেহাল অবস্থার প্রভাব পড়ছে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে। পণ্য পরিবহন ও কর্মস্থলে যাতায়াতে সময় ও ব্যয় দুটোই বাড়ছে।

দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে। তাঁদের দাবি, সোনাইছড়ি সড়কটি শুধু একটি যোগাযোগপথ নয়; এটি এলাকার প্রায় ৫০ হাজার মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন।

এ অবস্থায় জনদুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট সড়ক কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, সাময়িক মেরামতের পরিবর্তে সড়কটি টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার করা হোক, যাতে নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত হয়।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

তিন দিনেও দেখা মেলেনি কাঞ্চনজঙ্ঘার, মন খারাপ নিয়ে ফিরছেন পর্যটকরা

পঞ্চগড় সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
তিন দিনেও দেখা মেলেনি কাঞ্চনজঙ্ঘার, মন খারাপ নিয়ে ফিরছেন পর্যটকরা

দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটির অবসরে হিমালয়ের বরফশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ভিড় করেছিলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শত শত পর্যটক। তবে টানা তিন দিন ধরে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ও কুয়াশাচ্ছন্ন থাকায় দেখা মেলেনি বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গটির। কাঙ্ক্ষিত দৃশ্য দেখতে না পেয়ে হতাশা নিয়েই তেঁতুলিয়া ছাড়ছেন অনেকে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) পর্যন্ত কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা না মেলায় পর্যটকদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তবে পাহাড় দেখতে না পেলেও তেঁতুলিয়ার অন্যান্য দর্শনীয় স্থান ঘুরে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরেছেন অনেকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ ডাকবাংলো, সীমান্তঘেঁষা মাগুরমারী ও বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে খালি চোখে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ তৈরি হয়। এ সময় বরফে ঢাকা পর্বতশৃঙ্গের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত মেঘ ও কুয়াশার কারণে এবার কাঙ্ক্ষিত দৃশ্য দেখা যায়নি।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা শামীমা আক্তার এবং রাজশাহী থেকে আসা শাহরিয়ারসহ অনেক পর্যটক কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার আশা নিয়ে তেঁতুলিয়ায় এসেছিলেন। কিন্তু আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় তাঁদের সেই আশা পূরণ হয়নি।

তবে হতাশা সত্ত্বেও তাঁরা তেঁতুলিয়ার অন্যান্য পর্যটনস্থল ঘুরে দেখেছেন। সমতলের চা-বাগান, মহানন্দা নদী, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, মহারাজার দিঘী ও রক্স মিউজিয়াম ঘুরে শনিবারই নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন অনেকে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত তিন দিন কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়নি। চলতি অক্টোবর মাসের বাকি দিনগুলোতেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকার সম্ভাবনা কম। ফলে এ সময় পর্বতশৃঙ্গটি দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনাও কম।

তবে নভেম্বরের শুরুতে আকাশ পরিষ্কার ও মেঘমুক্ত হলে টানা কয়েক দিন কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্য দেখা যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে পর্যটন মৌসুমে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে। তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসাইন জানান, দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা যাতে নিরাপদে অবস্থান করতে পারেন এবং কোনো ধরনের হয়রানি বা প্রতারণার শিকার না হন, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা না মিললেও তেঁতুলিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও অন্যান্য দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখছেন পর্যটকেরা। এখন তাঁদের আশা, নভেম্বরের শুরুতে আকাশ পরিষ্কার হলে আবারও ধরা দেবে হিমালয়ের বরফশুভ্র শৃঙ্গ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্পে ৩২৯ কোটি টাকা পেল ইউনিয়ন পরিষদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৮ অপরাহ্ণ
সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্পে ৩২৯ কোটি টাকা পেল ইউনিয়ন পরিষদ

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পরিবহন উন্নয়ন সহায়তা খাতে সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দেশের ৩ হাজার ২৫৩টি ইউনিয়ন পরিষদের অনুকূলে ৩২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় দেওয়া এ অর্থ নির্ধারিত উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করতে হবে। অর্থ ছাড়, উত্তোলন ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ এবং বরাদ্দের অর্থের যথাযথ হিসাব সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা পরিষদ-২ শাখা থেকে গত ১৩ অক্টোবর জারি করা এক চিঠিতে এ বরাদ্দের তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের অর্থ ছাড় এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্পে ব্যয় হবে অর্থ

স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় পরিবহন উন্নয়ন সহায়তা খাতে বরাদ্দ দেওয়া ৩২৯ কোটি টাকা সংসদ সদস্যদের মনোনীত প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা, ২০২১, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০০৮ এবং প্রযোজ্য আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। বরাদ্দের অর্থ নির্ধারিত উদ্দেশ্যের বাইরে ব্যয় করা যাবে না। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি আর্থিক নিয়ম অনুসরণ এবং ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও নির্দেশনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

যেভাবে ছাড় হবে বরাদ্দের অর্থ

চিঠিতে বলা হয়েছে, বরাদ্দের অর্থ ছাড়ের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) প্রতিস্বাক্ষরসহ বিল উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কাছে দাখিল করতে হবে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রচলিত আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থ উত্তোলন ও ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করবেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা যৌথভাবে। ফলে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন থেকে শুরু করে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

অনিয়ম হলে দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে

বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে কোনো অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট বিল পরিশোধকারী কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ বরাদ্দের অর্থ ছাড় ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিধিবিধান লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ওপর দায় বর্তাবে। এ ছাড়া প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত নিয়মে অর্থ ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অব্যয়িত অর্থ ফেরত দিতে হবে ৩০ জুনের মধ্যে

বরাদ্দের অর্থের কোনো অংশ ব্যয় না হলে তা আগামী ৩০ জুন ২০২৭ তারিখের মধ্যে সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশনার মাধ্যমে বরাদ্দ ব্যবস্থাপনায় আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থ ছাড় ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব আতিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিটি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি