খুঁজুন
                               
, ,
           

জামায়াত আমিরের এক দফার হুঁশিয়ারি, সরকারকে দাবি মানার আহ্বান

বিশেষ/গাজীপুর/টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, সন্ধানী বার্তা:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪০ অপরাহ্ণ
জামায়াত আমিরের এক দফার হুঁশিয়ারি, সরকারকে দাবি মানার আহ্বান

আট দফা দাবি আদায়ে রাজপথে নেমে এবার প্রয়োজনে এক দফার আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের প্রয়োজন হলে দাবি আরও বাড়তে পারে, আবার জনগণের প্রয়োজনে আট দফা বিলুপ্ত করে এক দফা ঘোষণা করারও প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যতে ঢাকামুখী লংমার্চের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে শুরু হওয়া ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের পথে গাজীপুর ও টাঙ্গাইলে আয়োজিত পথসভায় এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান। প্রায় সাড়ে চার শ গাড়ির বহর নিয়ে উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে যাত্রা করা এই লংমার্চের ৪৩০ থেকে ৪৫০টি গাড়ি যমুনা সেতু পার হয়েছে বলে সেতুর টোল প্লাজা সূত্র জানিয়েছে।

  • ৪৫০ গাড়ির বহরে রংপুরের পথে ১১ দল
  • সরকারকে সতর্কবার্তা, ঢাকামুখী পরবর্তী লংমার্চের ইঙ্গিত

সকাল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা সরকারের প্রতি জনগণের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁদের বক্তব্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সাংবিধানিক সংস্কার, জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট, দ্রব্যমূল্য, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

‘আট দফা এক দফায় পরিণত হতে পারে’
টাঙ্গাইল শহর বাইপাস সড়কের নগর জলফৈ মোড়ে আয়োজিত পথসভায় ডা.শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ছয় দফা আট দফায় পরিণত হয়েছে। জনগণের প্রয়োজনে দফা বাড়তে পারে, আবার জনগণের প্রয়োজনে সব দফা বিলুপ্ত করে এক দফা ঘোষণা করার প্রয়োজন হতে পারে।’ এরপর নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আজকের লংমার্চ আপনাদের দিকে। আগামীর লংমার্চ এখান থেকে ঢাকার দিকে। প্রস্তুত থাকবেন ইনশা আল্লাহ।’

তিনি বলেন, নব্য স্বৈরশাসন থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য তাঁরা রাজপথে নেমেছেন। এই লড়াই কোনো দলের জন্য নয়, ১৮ কোটি মানুষের জন্য। জনগণের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনে কোনো বিশ্রাম বা বিরতি নেই বলেও জানান তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনাদের দাবি আদায় করে ঘরে ফিরব ইনশা আল্লাহ। এর মাঝখানে আর কোনো বিশ্রাম নাই, বিরতি নাই।’

‘৭০ শতাংশ মানুষের ভোটের রায় কেন সম্মান করলেন না’
টাঙ্গাইলের পথসভায় বিএনপি সরকারের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘৭০ শতাংশ মানুষের ভোটের রায়কে কেন আপনারা সম্মান করলেন না?’ তিনি অভিযোগ করেন, কোনো জায়গায় অনির্বাচিত কাউকে দিয়ে শাসন করতে দেওয়া হবে না—এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসক বসানো হয়েছে। তাঁর ভাষায়, সরকার জাতির সঙ্গে দেওয়া কথা রক্ষা করেনি।

তিনি আরও বলেন, জনগণ বিভিন্ন ‘কার্ড’ চায়নি; জনগণ যে বিষয়গুলো চেয়েছিল, সেগুলোই সরকার দিতে পারেনি। এর আগে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাসের পথসভায় শফিকুর রহমান বলেন, আট দফা দাবি যেকোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে। জনগণের দাবির বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলনের কর্মসূচি আরও কঠোর হতে পারে—এমন বার্তাও দেন তিনি।

‘১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি’
ভোগরা বাইপাসের পথসভায় শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনাদের দাবিতে আমরা রাস্তায় নেমেছি। কোনো দলীয় নয়, ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে নেমেছি।’ তিনি বলেন, শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিবিজড়িত রংপুরের উদ্দেশে তাঁদের লংমার্চ শুরু হয়েছে। জনগণের ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছে দেওয়া, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, রাস্তাঘাট ও হাটবাজারে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার দাবিতে এই কর্মসূচি।

একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলেছিল, কিন্তু সরকার সেই রায় অগ্রাহ্য করেছে। তাঁর দাবি, জনগণের রায়ের বাস্তবায়ন শেষ পর্যন্ত করতেই হবে।

তারেক রহমানকে ‘যাওয়ার পথ’ বেছে নেওয়ার কথা বললেন নাহিদ ইসলাম
লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে জনগণের অধিকার হরণ এবং গণতন্ত্র ধ্বংস করছে। অতীতে যারা গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে, তাদের স্থান ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনি কীভাবে ক্ষমতা থেকে চলে যাবেন, সেই সিদ্ধান্ত তাঁকেই নিতে হবে। তাঁর ভাষায়, ‘তিনি কি হেলিকপ্টারে করে দেশ থেকে পালিয়ে যাবেন, নাকি সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করবেন, সে সিদ্ধান্ত তাঁকে নিতে হবে।’

এরশাদের পদত্যাগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন এনসিপির এই নেতা। নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, সরকার গুম ও মানবাধিকারসংক্রান্ত আইনসহ বিভিন্ন আইন ও প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে জনগণের অধিকার হরণের প্রেক্ষাপট তৈরি করছে। লংমার্চের পথে ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলারও অভিযোগ করেন তিনি।

টাঙ্গাইলে যারা ছিলেন
টাঙ্গাইলের নগর জলফৈ মোড়ের পথসভায় শফিকুর রহমানের সঙ্গে বক্তব্য দেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। পথসভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের আমির আহসান হাবিব মাসুদ। এ সময় বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আবুল কাশেম কাশেমী, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে যাত্রা
এর আগে সকাল ৭টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ শুরু হয়। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় এবং ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদের উদ্বোধনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়।

উদ্বোধনী সমাবেশে ডা.শফিকুর রহমান ও নাহিদ ইসলাম ছাড়াও এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

আট দফায় যা আছে
১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের ঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল গঠন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সারসংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চে ছয় দফা দাবি সামনে রেখেছিল ১১ দলীয় ঐক্য। রংপুরের কর্মসূচিতে এর সঙ্গে দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি যুক্ত হয়েছে।

যমুনা সেতু পার ৪৩০–৪৫০ গাড়ি
টাঙ্গাইলের পথসভা শেষে লংমার্চের গাড়িবহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। যমুনা সেতু টোল প্লাজা সূত্র জানায়, দুপুর ১২টা ৩২ মিনিটে মূল বহরটি সেতুর পূর্ব প্রান্তের টোল প্লাজায় পৌঁছায়। এরপর বিভিন্ন লেন দিয়ে গাড়িগুলো সেতু পার হতে থাকে। দুপুর ১২টা ৪৭ মিনিট পর্যন্ত মূল বহরের গাড়িগুলো উত্তরবঙ্গের দিকে চলে যায়। মূল বহরের আগে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি গাড়ি এবং মূল বহর চলে যাওয়ার পরও লংমার্চের স্টিকারযুক্ত কিছু গাড়ি সেতু পার হয়। সব মিলিয়ে ৪৩০ থেকে ৪৫০টি গাড়ি যমুনা সেতু পার হয়েছে বলে টোল প্লাজা সূত্র জানিয়েছে।

এম/এএইচ

জলবায়ু অর্থায়নে কার্যকর বিনিয়োগ ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্ব মঈন খানের, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে উন্মুক্ত সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৪ অপরাহ্ণ
জলবায়ু অর্থায়নে কার্যকর বিনিয়োগ ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্ব মঈন খানের, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে উন্মুক্ত সরকার

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অর্থায়ন, পরিবেশ সুরক্ষা ও দেশের মানুষের কল্যাণকে একই উন্নয়ন কাঠামোয় যুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তাঁর মতে, উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল দীর্ঘস্থায়ী করতে অর্থের সঠিক ব্যবহার, স্বচ্ছতা এবং বাস্তবভিত্তিক নীতি প্রণয়ন গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্য অর্জনে সুশীল সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণে সরকার সম্পূর্ণ উন্মুক্ত।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে বেসরকারি সংস্থা চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ আয়োজিত ‘প্যারিস থেকে আন্তালিয়া: প্রকৃতির জন্য জলবায়ু অর্থায়নের পর্যালোচনা’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংলাপে দেশীয় জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

  • জনকল্যাণমুখী নীতি প্রণয়নে সুশীল সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ গ্রহণে সরকারের প্রস্তুতির কথা জানালেন মন্ত্রী
  • ঋণের স্বচ্ছ ব্যবহার, উন্নয়ন ও পরিবেশের সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ে জলবায়ু সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান

মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান জনগণ দ্বারা নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক সরকার সুশীল সমাজ এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও সুপারিশ গ্রহণের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। আমরা এমন একটি নীতি প্রণয়ন করতে চাই যা সত্যিই দেশের মানুষের কল্যাণে আসবে।’

জলবায়ু অর্থায়নে জনস্বার্থ ও বিশেষজ্ঞ মতামতের গুরুত্ব
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর নীতি প্রণয়ন এবং অর্থায়নের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি সংলাপে গুরুত্ব পায়। মন্ত্রীর বক্তব্যে বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান, সুশীল সমাজের সুপারিশ এবং জনস্বার্থকে নীতিনির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত করার গুরুত্ব উঠে আসে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অর্থের সংস্থান যেমন প্রয়োজন, তেমনি সেই অর্থের ব্যবহারও হতে হবে পরিকল্পিত ও জনকল্যাণমুখী। পরিবেশ সুরক্ষা, উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যকারিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুফল বিবেচনায় নিয়ে নীতি প্রণয়ন করলে জলবায়ু অর্থায়নকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়।

জলবায়ু সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দায়বদ্ধতার ওপর জোর
বৈশ্বিক জলবায়ু পদক্ষেপের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ড. মঈন খান জাতিসংঘে পরিবেশবিষয়ক তাঁর ৩৫ বছর আগের একটি ভাষণের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সে সময় পরিবেশ সুরক্ষা নিয়ে যেসব মৌলিক বিষয় আলোচনায় এসেছিল, তার মধ্যে দূষণকারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নীতিও ছিল। বিষয়টি এখনো আন্তর্জাতিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার অংশ।

তিনি বলেন, ‘মাঝে মাঝে মনে হয়, আজ আমরা অনুভব করছি যে, ৩৫ বছর আগে আমরা জাতিসংঘে যেসব পরিবেশগত শঙ্কা ও উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছিলাম, আজও আমরা সেগুলোই পুনর্ব্যক্ত করছি। বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের জন্য দায়ী ধনী দেশগুলো ঐতিহাসিকভাবে তাদের দায়ভার গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে আমাদের সামগ্রিক বৈশ্বিক পরিবেশ প্রতিনিয়ত সংকটাপন্ন হচ্ছে।’ তাঁর বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা, অর্থায়ন এবং পরিবেশগত দায়িত্ব পালনের সমন্বয় বৈশ্বিক জলবায়ু উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষার সমন্বয়ে টেকসই ভবিষ্যৎ
উন্নয়নশীল দেশগুলোর নীতিনির্ধারণী বাস্তবতা তুলে ধরে ড. মঈন খান বলেন, জনগণ রাস্তাঘাট, অবকাঠামো ও শিল্পের উন্নয়ন প্রত্যাশা করে। একই সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি জনগণের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উন্মুক্ত মনোভাবের উল্লেখ করে বলেন, ‘তাঁর উদাহরণ এ দেশের মানুষের জন্য শিক্ষণীয়।’ দেশের মানুষের কল্যাণে কার্যকর নীতি প্রণয়নে পরামর্শ গ্রহণে সরকারের উন্মুক্ত থাকার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে জলবায়ু অর্থায়ন নিয়ে অংশীজনদের মতবিনিময় ও সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

ঋণের অর্থ সঠিক খাতে বিনিয়োগই উন্নয়নের মূল বিবেচনা
জলবায়ু অর্থায়ন ও জাতীয় ঋণ প্রসঙ্গে ড. মঈন খান বলেন, ঋণ গ্রহণ নিজেই বড় সমস্যা নয়; বরং সেই অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিই মূল বিবেচ্য। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বহু বছর ধরে ঋণ নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করলেও আন্তর্জাতিকভাবে উচ্চ ঋণগ্রস্ত দরিদ্র দেশের তালিকায় পড়েনি। তাঁর মতে, ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে দেশের শক্তিশালী অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট অর্থনীতির আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, যা কোটি কোটি মানুষের জীবনযাত্রাকে সচল রাখতে সহায়তা করে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির পুনর্গঠনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করা হলে ঋণ নিয়ে উন্নয়ন করা একটি সুদূরপ্রসারী কৌশল হতে পারে, যদি তা স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যবহার করা হয়।’ এখানে উন্নয়ন অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতার গুরুত্ব উঠে এসেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর ভাষ্যে। জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং অভিযোজনমূলক উদ্যোগে অর্থের পরিকল্পিত ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদি সুফল অর্জনে সহায়ক হতে পারে।

পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা ও স্থানীয় অংশগ্রহণ
প্রকৃতি সংরক্ষণে জনসচেতনতার ভূমিকা তুলে ধরে ড. মঈন খান নেপালের একটি ঐতিহাসিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদাহরণ দেন। তিনি দেখান, জনসচেতনতা ও পরিবেশগত আন্দোলন প্রকৃতি রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে জলবায়ু আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় গোষ্ঠীগুলোকে শুধু তারকা হোটেলের বলরুমে আয়োজিত আলোচনা বা প্রচারণায় সীমাবদ্ধ না থেকে সরাসরি গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ও মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় সংলাপে ড. মঈন খানের বক্তব্যে জলবায়ু অর্থায়ন, স্বচ্ছ বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জনগণের অংশগ্রহণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নকে আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

কালের আলো/এমএএএমকে

ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রীর প্রাসাদে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ণ
ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রীর প্রাসাদে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইয়েমেনের অস্থায়ী রাজধানী এডেনের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদ লক্ষ্য করে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতি। তবে হামলার সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী শায়া মোহসেন জিনদানি ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা নিরাপদে ছিলেন বলে জানিয়েছে ইয়েমেন সরকার।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মুয়াম্মার আল-এরিয়ানি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, এডেনের আল-মাশিক প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হয়।

এর আগে প্রাসাদের কাছাকাছি এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার সংবাদদাতারা।

তবে এ হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

পঞ্চবটি–মুক্তারপুর দোতলা সড়ক নির্মাণে মান, স্থায়িত্ব ও সৌন্দর্য নিশ্চিতে কঠোর মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ণ
পঞ্চবটি–মুক্তারপুর দোতলা সড়ক নির্মাণে মান, স্থায়িত্ব ও সৌন্দর্য নিশ্চিতে কঠোর মন্ত্রী

পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৯৮.৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও নির্মাণের গুণগত মান, স্থায়িত্ব ও নান্দনিকতার প্রশ্নে কোনো ছাড় দিতে চান না সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি। আধুনিক, টেকসই ও দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো নির্মাণে কঠোর অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট করে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকল্পের চলমান নির্মাণকাজ সরেজমিনে পরিদর্শনকালে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী প্রকল্পের বিভিন্ন নির্মাণকাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন। বিশেষ করে সুরক্ষা দেয়াল ও শাটারিংয়ের কাজের মান যথাযথভাবে বজায় রাখা এবং পার্শ্ববর্তী দেয়ালের ফিনিশিং আরও সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। নির্মাণকাজে প্রকৌশলগত উৎকর্ষের পাশাপাশি স্থাপত্যশৈলী ও নান্দনিকতার সমন্বয় নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেন। তাঁর এ অবস্থান থেকে স্পষ্ট, প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি অবকাঠামোর মান, স্থায়িত্ব ও সৌন্দর্য নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

  • পরিদর্শনে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
  • দোতলা সড়কের ভৌত অগ্রগতি ৯৮.৫০ শতাংশ
  • সুরক্ষা দেয়াল, শাটারিং ও ফিনিশিংয়ের মান নিশ্চিত করার তাগিদ

‘অবকাঠামো নির্মাণে শুধু কাজ সম্পন্ন করাই যথেষ্ট নয়’
নির্মাণশৈলী, গুণগত মান ও নান্দনিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘নির্মাণশৈলী একটি দেশের সক্ষমতা ও কারিগরি দক্ষতার পরিচায়ক। তাই অবকাঠামো নির্মাণে শুধু কাজ সম্পন্ন করাই যথেষ্ট নয়; এর গুণগত মান, স্থায়িত্ব, সৌন্দর্য ও সামগ্রিক নির্মাণশৈলীও যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে হবে।’ মন্ত্রীর এই বক্তব্যে অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে মান ও সৌন্দর্যের সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি প্রকল্পের সুরক্ষা দেয়াল ও শাটারিংয়ের কাজের মান যথাযথভাবে বজায় রাখার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেয়ালের ফিনিশিং আরও সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।

এ সময় নির্ধারিত মান অনুসরণ করে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। প্রকৌশলগত উৎকর্ষের পাশাপাশি স্থাপত্যশৈলী ও নান্দনিকতার সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর তাঁর বিশেষ গুরুত্বারোপ প্রকল্পের সামগ্রিক নির্মাণমান ও দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের বিষয়টিকে সামনে এনেছে।

ভৌত অগ্রগতি ৯৮.৫০ শতাংশ, আর্থিক অগ্রগতি ৮২.৮৬ শতাংশ
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পঞ্চবটি–মুক্তারপুর সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৯৮.৫০ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৮২.৮৬ শতাংশ। প্রকল্পটির আওতায় পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত বিদ্যমান সড়ক প্রশস্তকরণের পাশাপাশি দোতলা সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে।

প্রকল্পের এই অগ্রগতি নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সড়কের সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে এ অঞ্চলে যানবাহন চলাচল আরও সহজ করা এবং যাতায়াতের সময় কমিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরিদর্শনকালে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ মন্ত্রীকে প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন নির্মাণকাজের বর্তমান অবস্থা এবং বাস্তবায়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরেন।

নারায়ণগঞ্জ–মুন্সীগঞ্জের যোগাযোগে বাড়বে গতি
পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক করিডর নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার সড়ক যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এসব এলাকার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ, নির্বিঘ্ন ও সময়সাশ্রয়ী হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যানজট হ্রাস এবং শিল্পাঞ্চলের পণ্য পরিবহনে গতিশীলতা বৃদ্ধিতেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। পণ্য পরিবহনে সময় সাশ্রয় হলে সরবরাহব্যবস্থা আরও কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ বিবেচনায় পঞ্চবটি–মুক্তারপুর সড়কের উন্নয়ন আঞ্চলিক যোগাযোগের পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

দোতলা সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে বিদ্যমান যোগাযোগ অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়ানোর এ উদ্যোগ এ অঞ্চলের পরিবহন চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে। প্রকল্পটি চালু হলে সড়ক যোগাযোগের সুবিধা বৃদ্ধি, যাতায়াতের সময় কমানো এবং শিল্পপণ্য পরিবহনে গতি সঞ্চারের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা, প্রকৌশলী, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে