১১ দলীয় ঐক্যের সাফ কথা
গণভোটের ম্যান্ডেট পাশ কাটিয়ে সংস্কার নয়
সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে গণভোটে জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেটকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। জোটটি বলেছে, গণভোটে অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্কার প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে বিকল্প কোনো উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে এসব দাবি তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জোটের পক্ষ থেকে সংবিধান সংস্কারে সাত দফা প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা গঠন ও ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করা।
- দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ও ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠন
- রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য
- প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণসহ সাত দফা দাবি
এ ছাড়া একই ব্যক্তির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপ, নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং বিচারব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণসহ অন্যান্য সাংবিধানিক সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে।
সাত দফায় যেসব সংস্কারের দাবি
১১ দলীয় ঐক্যের প্রস্তাবিত সাত দফা হলো—১. সংবিধান সংস্কার। ২. দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা এবং ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠন। ৩. রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ। ৪. একই ব্যক্তির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপ। ৫. নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার। ৬. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। ৭. বিচারব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংস্কার।
‘সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন নয়’
জোটের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, প্রস্তাবিত সংস্কারগুলোর অনেকগুলোই রাষ্ট্রের ক্ষমতার কাঠামো, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক এবং শাসনব্যবস্থার মৌলিক বিন্যাসের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে সাধারণ সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে এসব পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হলে সাংবিধানিক প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তাদের দাবি, জাতীয় সংসদ সংবিধান দ্বারা সৃষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে জনগণই চূড়ান্ত সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস।
গণভোটের রায়কে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ শুধু নির্দিষ্ট কিছু সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে মত দেননি; এসব সংস্কার কোন প্রক্রিয়ায় এবং কোন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়েও মতামত দিয়েছেন। এ কারণে গণভোটে অনুমোদিত প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য।
‘গণরায়কে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার অধীন করা যায় না’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের সরাসরি গণভোটে প্রকাশিত সর্বোচ্চ ইচ্ছাকে সাধারণ সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার রাজনৈতিক ইচ্ছার অধীন করা যায় না। গণতন্ত্রের মৌলিক দাবি হলো গণরায়ের প্রতি সম্মান দেখানো। এ সময় ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিষদকে কার্যকর করার দাবি জানানো হয়।
জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের দাবি
সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্য জানায়, গণভোটে অনুমোদিত প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ তারা প্রত্যাখ্যান করছে।
একই সঙ্গে জনগণের সার্বভৌমত্ব ও গাঠনিক ক্ষমতার মর্যাদা রক্ষা এবং জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের ম্যান্ডেট অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়নের দাবিতে রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কথাও জানায় জোটটি।
কালের আলো/এম/এএইচ

আপনার মতামত লিখুন
Array