খুঁজুন
                               
, ,
           

সরকারি হাসপাতালে ওষুধ নেই, ভরসা ফার্মেসিই

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৭ অপরাহ্ণ
সরকারি হাসপাতালে ওষুধ  নেই, ভরসা ফার্মেসিই

বিনামূল্যে চিকিৎসার আশায় সরকারি হাসপাতালে ছুটছেন মানুষ। কিন্তু চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন হাতে হাসপাতাল থেকে বেরিয়েই অনেকের সামনে খুলছে আরেকটি খরচের দরজা—ফার্মেসি। কারণ সরকারি স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রাপ্যতা গড়ে মাত্র ২২ শতাংশ। অর্থাৎ প্রয়োজনের ৭৮ শতাংশ ওষুধই রোগীকে কিনতে হচ্ছে বাইরে থেকে। এতে সরকারি চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীল নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর স্বাস্থ্যব্যয় যেমন বাড়ছে, তেমনি চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে নতুন করে দারিদ্র্যের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) গবেষণায় সরকারি হাসপাতালের ওষুধসংকটের এই চিত্র উঠে এসেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের অর্থায়নে আট বিভাগের ২২টি সরকারি স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানে নয় মাস ধরে জরিপ, সাক্ষাৎকার ও নথি পর্যালোচনার মাধ্যমে গবেষণাটি পরিচালিত হয়।

১০০ ওষুধে গড়ে মিলে ২২টি
গবেষণার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য হলো—সরকারি স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় ১০০টি ওষুধের মধ্যে গড়ে পাওয়া যায় মাত্র ২২টি। স্তরভেদে সংকট আরও প্রকট। মেডিক্যাল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় ওষুধের মজুদ মাত্র ১২ শতাংশ। জেলা হাসপাতালে ২৪ শতাংশ এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৩ শতাংশ। অর্থাৎ, যে রোগী বিনামূল্যে চিকিৎসার প্রত্যাশায় সরকারি হাসপাতালে যাচ্ছেন, চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়ার পরও তার চিকিৎসার বড় অংশ হাসপাতালের বাইরে সম্পন্ন করতে হচ্ছে। বিশেষ করে জটিল রোগের ক্ষেত্রে এই ঘাটতি রোগীর আর্থিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

একই ওষুধ, ঘুরেফিরে একই চিকিৎসা
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিত্র সংকটটির বাস্তব রূপ তুলে ধরে। সেখানে রোগীদের হাতে ঘুরেফিরে যাচ্ছে কয়েকটি সাধারণ ওষুধ। ৬০ বছর বয়সী সাহেরা খাতুন শরীরের দুর্বলতার কথা জানিয়ে পেয়েছেন প্যারাসিটামল, হিস্টাসিন ও গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ। হাসপাতাল সূত্রের ভাষ্য, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় চিকিৎসকদের অনেক সময় মজুদ থাকা ওষুধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হচ্ছে।

মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালেও সাধারণ জ্বর, ব্যথা ও গ্যাস্ট্রিকের ওষুধের বাইরে অনেক প্রয়োজনীয় ওষুধ রোগীকে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। হৃদরোগ ও সংক্রমণের মতো জটিল রোগের ওষুধ না থাকায় চিকিৎসার ব্যয় বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পাবনার জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতে আবার সমস্যা অন্য মাত্রার। সেখানে রোগীর চাপ বরাদ্দের তুলনায় প্রায় তিন গুণ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বিদ্যমান বরাদ্দে সব রোগীকে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। রোগীদের অভিযোগ, দিনের শেষভাগে প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়ার সুযোগ আরও কমে যায়।

রোগ নির্ণয় যন্ত্রের ৫২ শতাংশ অব্যবহৃত
সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতা শুধু ওষুধের কাউন্টারে থেমে নেই। পিপিআরসির গবেষণায় জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর সংকটের পাশাপাশি রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও উদ্বেগজনক চিত্র পাওয়া গেছে। জেলা, উপজেলা ও মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মিলিয়ে গবেষণার আওতাভুক্ত ২২টি প্রতিষ্ঠানে থাকা রোগ নির্ণয় যন্ত্রের ৫২ শতাংশ গত এক বছরে ব্যবহারই করা হয়নি। ফলে হাসপাতাল ভবনে যন্ত্র থাকলেও রোগীর চিকিৎসায় তার সুফল পৌঁছাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতি এবং অব্যবহৃত যন্ত্র—দুই বাস্তবতা মিলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।

সংকটের দায় শুধু বরাদ্দে নয়
সরকারি হাসপাতালগুলোর কর্তৃপক্ষ ওষুধসংকটের জন্য সীমিত বরাদ্দ এবং রোগীর অতিরিক্ত চাপকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করছে। বাস্তবতাও বলছে, রোগীর সংখ্যা বাড়লে নির্ধারিত বরাদ্দ দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে মাঠপর্যায়ের তথ্যের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আরও কিছু বিষয়—দুর্বল ব্যবস্থাপনা, চাহিদা নিরূপণে ঘাটতি, অসম বণ্টন, নজরদারির সীমাবদ্ধতা এবং অনিয়মের অভিযোগ।

এখানে সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ‘কত ওষুধ প্রয়োজন’—এই হিসাবটি কতটা বাস্তব রোগীর চাপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একটি হাসপাতালে যে পরিমাণ ওষুধ বরাদ্দ হচ্ছে, সেখানে রোগীর প্রকৃত সংখ্যা ও রোগের ধরন যদি পরিবর্তিত হয়, তাহলে পুরোনো হিসাবের ভিত্তিতে সরবরাহ স্বাভাবিকভাবেই ঘাটতি তৈরি করতে পারে।

ওষুধের দামেই ফাঁকা পকেট
সরকারি হাসপাতালের ওষুধঘাটতির প্রভাব বুঝতে দেশের সামগ্রিক চিকিৎসাব্যয়ের চিত্রটিও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতিবছর ৬১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যায়। দেশের মোট জনসংখ্যার হিসাবে এই হার ৩ দশমিক ৭ শতাংশ।

চিকিৎসা নিতে গিয়ে ৫৮ শতাংশ মানুষ ধারদেনা করেন বলে তথ্য রয়েছে। কেউ সঞ্চয় ভাঙেন, কেউ জমি বিক্রি করেন। আবার প্রায় তিন কোটি মানুষ চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পেরে চিকিৎসাসেবাই নেন না। জাতীয় স্বাস্থ্য অর্থনীতির তথ্যও একই চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দেশের মোট চিকিৎসা ব্যয়ের ৭৯ শতাংশ ব্যক্তির নিজস্ব পকেট থেকে আসে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ—৬৪ দশমিক ৬ শতাংশ—ব্যয় হয় ওষুধে। হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ১০ দশমিক ১ শতাংশ, চিকিৎসকের ব্যক্তিগত চেম্বারে ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং রোগ নির্ণয় পরীক্ষায় ১১ দশমিক ৭ শতাংশ ব্যয় হয়।

হাসপাতালভিত্তিক বাস্তব চাহিদা নির্ধারণ
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক বে-নজির আহমেদের মতে, সরকারি হাসপাতালে রোগীরা প্রেসক্রিপশন পেলেও ওষুধের ঘাটতির কারণে চিকিৎসা পূর্ণাঙ্গ হচ্ছে না। বিশেষায়িত চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ওষুধের দাম বেশি হওয়ায় অনেক রোগী চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারছেন না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এই পরিস্থিতিতে সমাধানের কেন্দ্রে থাকতে পারে হাসপাতালভিত্তিক বাস্তব চাহিদা নির্ধারণ। চিকিৎসকরা সারা বছর কোন ধরনের ওষুধ কতটা লিখছেন, রোগীর সংখ্যা ও রোগের ধরন কী—এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে বার্ষিক চাহিদা নির্ধারণ করা গেলে সরবরাহ আরও বাস্তবভিত্তিক করা সম্ভব। একই সঙ্গে কোথাও অতিরিক্ত, কোথাও ঘাটতি—এমন অসম বণ্টন ঠেকাতে নিয়মিত মজুদ পর্যালোচনা ও নজরদারি প্রয়োজন।

কারণ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা বিনামূল্যে হলেও ওষুধ যদি রোগীর নাগালের বাইরে চলে যায়, তাহলে ‘বিনামূল্যের চিকিৎসা’ আর পূর্ণাঙ্গ বিনামূল্যের থাকে না। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন, হাসপাতালের ওষুধের কাউন্টার এবং রোগীর সামর্থ্য—এই তিনটির মধ্যে সমন্বয়ই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কতটা মানুষের আর্থিক সুরক্ষা দিতে পারছে।

এম/এএইচ

শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ–আফগানিস্তান টেস্ট, পরিসংখ্যানে এগিয়ে কে?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ–আফগানিস্তান টেস্ট, পরিসংখ্যানে এগিয়ে কে?

বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যকার একমাত্র টেস্ট ম্যাচ শুরু হচ্ছে আগামীকাল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ দিয়ে প্রথমবারের মতো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট ক্রিকেট খেলতে নামবে বাংলাদেশ। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে এখন পর্যন্ত কেউ কারও চেয়ে এগিয়ে নেই।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ না হলেও ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেললেও দেশটির মাটিতে সাদা পোশাকে মাঠে নামেনি টাইগাররা।

নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে বিশ্বের ১১টি দলের। এ তালিকায় সবচেয়ে বেশি ৩৯টি টেস্ট খেলেছে পাকিস্তান। ১৯৯৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এসব ম্যাচের ১৯টিতে জয় পেয়েছে তারা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়া ১৪টি টেস্ট খেলে জিতেছে সাতটিতে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশের নাম।

টেস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের অতীত রেকর্ডও সমানে সমান। এখন পর্যন্ত দুই দল দুটি টেস্ট খেলেছে, দুটিই বাংলাদেশের মাটিতে। ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে প্রথম দেখায় বাংলাদেশকে ২২৪ রানে হারায় আফগানিস্তান। তবে ২০২৩ সালে মিরপুরে ৫৪৬ রানের বিশাল জয় তুলে নিয়ে সেই হারের জবাব দেয় বাংলাদেশ। ফলে দুই দলের জয় একটি করে।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে ব্যাট হাতে এগিয়ে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দুই ইনিংসে দুটি শতকের সাহায্যে তার সংগ্রহ ২৭০ রান। চার ইনিংসে ১৯১ রান নিয়ে পরের অবস্থানে রয়েছেন মুমিনুল হক।

বল হাতে দুই দলের লড়াইয়ে সবার ওপরে আফগানিস্তানের রশিদ খান। দুই ইনিংসে দুটি পাঁচ উইকেটের কৃতিত্বসহ তার শিকার ১১ উইকেট। বাংলাদেশের হয়ে চার ইনিংসে আট উইকেট নিয়ে তালিকায় এগিয়ে রয়েছেন তাইজুল ইসলাম।

টেস্ট শেষে সংযুক্ত আরব আমিরাতেই ব্যস্ত সূচি রয়েছে বাংলাদেশের। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের পর আবুধাবি ও শারজায় জিম্বাবুয়ে এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে টাইগাররা। টেস্টের মতো ওই সিরিজেও স্বাগতিক হিসেবে থাকবে আফগানিস্তান।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

নভেম্বরের আগে ইরানে হামলা নয়, : ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৮ পূর্বাহ্ণ
নভেম্বরের আগে ইরানে হামলা নয়, : ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা চলছে দাবি করে আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশটিতে হামলা চালানো হবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধ বন্ধ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই দেশের মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো হামলা চালানো হবে না বলেও জানান তিনি।

ট্রাম্পের এ বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি করেছে। তবে হামলা না চালানোর ঘোষণার অর্থ যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নয়। দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে—এমন কোনো তথ্যও তাঁর বক্তব্যে পাওয়া যায়নি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধ ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার চেষ্টায় থাকা রিপাবলিকানদের জন্যও পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

রয়টার্স-ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক অসন্তুষ্ট। এমনকি প্রতি চারজন রিপাবলিকানের একজনও তাঁর পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ট্রাম্প বারবার বলেছেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তেলের দাম কমে আসবে। তবে যুদ্ধ থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসা হবে, সে বিষয়ে তিনি এখনো বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি।

যুদ্ধ বন্ধ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধানের বরাতে জানিয়েছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে না তেহরান। একই সঙ্গে নিজেদের ইউরেনিয়ামের মজুতও অন্য কোনো পক্ষের কাছে হস্তান্তর করবে না বলে জানিয়েছে দেশটি।

এর কয়েক দিন আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রয়টার্সকে বলেছিলেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা অর্থবহভাবে কমাতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ করে আসছে। তবে তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা না চালানোর বিষয়ে ট্রাম্পের ঘোষণা সংঘাতের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে যুদ্ধ বন্ধের চূড়ান্ত সমঝোতা, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি না হলে সংকটের স্থায়ী সমাধান অনিশ্চিতই থেকে যাবে।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে উজবেকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ মেয়েরা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৯ পূর্বাহ্ণ
রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে উজবেকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ মেয়েরা

যোগ করা সময়ের গোলে স্বাগতিক উজবেকিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল করেছে বাংলাদেশ। তাসখন্দে বৃহস্পতিবারের ম্যাচে শেষ মুহূর্তে রুনা আক্তারের গোলে রোমাঞ্চকর জয় তুলে নেয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

দোস্তলিক স্টেডিয়ামের অনুশীলন মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সাইফুল বারী টিটুর দল। এর ফলও আসে দ্রুত। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে ফাতেমা আক্তারের বাড়ানো পাস থেকে বল পেয়ে ডান প্রান্তের পূর্ণিমা মারমা উজবেক গোলরক্ষককে পরাস্ত করে চিপ শটে বল জালে পাঠান। তাতে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

তবে বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে পারেনি সফরকারীরা। ১৭ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে গোল করেন উজবেকিস্তানের লারাঙ্গিজ লাকায়েভা। এতে ১-১ গোলে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা।

বিরতির পর দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে গোলের চেষ্টা চালায়। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে আলপি আক্তার ভালো সুযোগ তৈরি করলেও উজবেক গোলরক্ষক তা আটকে দেন। ম্যাচের শেষ দিকে স্বাগতিকরা চাপ বাড়ালেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ দৃঢ়তা দেখায়।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যখন ম্যাচটি ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আসে বাংলাদেশের জয়সূচক গোল। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে, অর্থাৎ ৯০+৩ মিনিটে, সুরভী রানির থ্রু পাস ধরে উজবেকিস্তানের বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান রুনা আক্তার। তার গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

এই হারে বাছাইপর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে উজবেকিস্তান। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ফিলিপাইনের কাছে ৪-০ গোলে হেরেছিল দলটি।

আগামী বছর চীনে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা পেতে বাছাইপর্বের আটটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হতে হবে দলগুলোকে। ‘এইচ’ গ্রুপে বাংলাদেশের পরবর্তী প্রতিপক্ষ ফিলিপাইন। আগামী রোববারের ম্যাচে জয় পেলেই মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের মেয়েদের।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি