খুঁজুন
                               
, ,
           

২৫ হাজার টাকার জন্য স্ত্রীর গহনা বন্ধক রেখেছিলেন কাজী হায়াৎ

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
২৫ হাজার টাকার জন্য স্ত্রীর গহনা বন্ধক রেখেছিলেন কাজী হায়াৎ

১৯৭৯ সাল থেকে চলচ্চিত্র পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত বর্ষীয়ান নির্মাতা ও অভিনেতা কাজী হায়াৎ। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ৫২টি সিনেমা নির্মাণ করেছেন তিনি। পরিচালক ও লেখক হিসেবে পেয়েছেন ৯টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। নিজের পরিচালিত প্রতিটি সিনেমার চিত্রনাট্যও তিনি নিজেই লিখেছেন।

সম্প্রতি জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’-তে অতিথি হয়ে নিজের চলচ্চিত্রজীবনের নানা অজানা গল্প জানিয়েছেন কাজী হায়াৎ।

রুম্মান রশীদ খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটির এই পর্ব প্রচার হবে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টায় মাছরাঙা টেলিভিশন ও রেডিও দিনরাত ৯৩.৬ এফএম-এ।

পডকাস্টে কাজী হায়াৎ জানান, ১৯৭৯ সালে মাত্র ২৫ হাজার টাকার জন্য তাঁর প্রথম সিনেমা মুক্তি দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত স্ত্রীর গহনা বন্ধক রেখে প্রযোজককে টাকা দেন তিনি। পরে মুক্তি পায় তাঁর সিনেমা ‘দ্য ফাদার’, যা এখনো দর্শকদের কাছে স্মরণীয়।

নিজের সিনেমায় অভিনয় করা শিল্পীদের মধ্যে নায়ক আলমগীরকে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন কাজী হায়াৎ। অভিনেতা হিসেবে আলমগীরকে তিনি দিয়েছেন ১০-এর মধ্যে ১০।

শৈশবের স্মৃতিও পডকাস্টে তুলে ধরেন এই নির্মাতা। তাঁর মা তালপাতা কেটে সিদ্ধ করে তার ওপর অক্ষর এঁকে পেরেক দিয়ে দিতেন। সেই তালপাতার ওপর বাঁশের কঞ্চির কলম দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বর্ণমালা শিখেছেন তিনি।

ক্লাস ফোরে মামার সঙ্গে উত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেন অভিনীত ‘সাগরিকা’ সিনেমা দেখেছিলেন কাজী হায়াৎ। সেই সময় থেকেই চলচ্চিত্রের প্রতি তাঁর ভালোবাসা তৈরি হয় বলে জানান তিনি।

‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’ প্রযোজনা করছেন জেড আই ফয়সাল।

কালের আলো/এসএ

এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলারের ফি আরও এক বছর বাড়াল ট্রাম্প প্রশাসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলারের ফি আরও এক বছর বাড়াল ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসার নির্দিষ্ট আবেদনে ১ লাখ ডলারের অর্থ প্রদানের শর্ত আরও এক বছর বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর নতুন ঘোষণা দিয়ে এ বিধিনিষেধ ২০২৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বহাল রাখার কথা জানানো হয়েছে।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম চালু হওয়া এই নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা কোনো বিদেশি কর্মীর জন্য নির্দিষ্ট এইচ-১বি আবেদন করা হলে নিয়োগদাতাকে ১ লাখ ডলার দিতে হয়। তবে জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা খাতকে এ শর্ত থেকে ছাড় দেওয়ার ক্ষমতা মার্কিন প্রশাসনের রয়েছে।

এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো প্রযুক্তি, প্রকৌশলসহ বিশেষায়িত পেশায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে পারে। ভারত ও চীনসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীদের জন্য এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, কিছু নিয়োগদাতা তুলনামূলক কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন কর্মীদের ওপর চাপ তৈরি করছে। প্রশাসনের ভাষ্য, বড় অঙ্কের অর্থ প্রদানের শর্ত কম বেতন ও কম দক্ষতার কর্মী নিয়োগ নিরুৎসাহিত করবে এবং উচ্চ দক্ষতার কর্মীদের নিয়োগকে উৎসাহিত করবে।

তবে এই নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আইনি বিরোধ চলছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোস্টনের একটি ফেডারেল আদালত ১ লাখ ডলারের ফি আরোপকে বেআইনি বলেছিল। ট্রাম্প প্রশাসন ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। ইউএস চেম্বার অব কমার্সও পৃথকভাবে এই ফি চ্যালেঞ্জ করেছে। বিষয়গুলো এখন আদালতে বিচারাধীন।

কার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়

নতুন ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা নির্দিষ্ট এইচ-১বি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই অর্থ প্রদানের শর্ত বহাল থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত শিক্ষার্থী যারা পরবর্তীতে এইচ-১বি মর্যাদায় যাচ্ছেন এবং বিদ্যমান এইচ-১বি ভিসা নবায়নের ক্ষেত্রে এ বিধিনিষেধ প্রযোজ্য নয়।

হোয়াইট হাউসের ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের নীতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ৭০০টির বেশি এইচ-১বি আবেদনের সঙ্গে ১ লাখ ডলারের অর্থ প্রদান করা হয়েছে।

আবেদন যাচাই হবে আরও কঠোরভাবে

একই দিনে ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি আবেদন যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও নতুন নির্দেশনা দিয়েছে। কোনো নিয়োগদাতা সম্প্রতি একই ধরনের মার্কিন কর্মী ছাঁটাই করেছে কি না বা ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে কি না, আবেদন পর্যালোচনার সময় তা বিবেচনায় নেওয়া হবে। এ ছাড়া মজুরি, শিল্পখাতের পরিস্থিতি ও চাকরির ধরনসংক্রান্ত তথ্যও আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ের মাধ্যমে বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফলে নতুন সিদ্ধান্তে শুধু এইচ-১বি ভিসার নির্দিষ্ট আবেদনে বড় অঙ্কের অর্থ প্রদানের শর্তই বহাল থাকছে না, একই সঙ্গে বিদেশি কর্মী নিয়োগে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর সাম্প্রতিক কর্মী ছাঁটাইয়ের তথ্যও আরও গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হবে।

কালের আলো/এসএ

সৌদি আরবে হুথি হামলার নিন্দা নিরাপত্তা পরিষদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৭ অপরাহ্ণ
সৌদি আরবে হুথি হামলার নিন্দা নিরাপত্তা পরিষদের

সৌদি আরবের বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামোয় ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে নিরাপত্তা পরিষদ সৌদি আরবে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলারও নিন্দা জানায়। জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদ হুথিদের বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনায় হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনে বেসামরিক হতাহত ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তারা।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় বিষয়ক কার্যালয় (ওসিএইচএ)-এর তথ্যের বরাত দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে ইয়েমেনে অন্তত ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। নিরাপত্তা পরিষদ সতর্ক করেছে, সংঘাত আরও বাড়লে দেশটির ইতিমধ্যে ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে পূর্ণ, নিরাপদ, দ্রুত ও অবাধ সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। একই সঙ্গে জাতিসংঘের ৭৩ কর্মীসহ বিভিন্ন এনজিও, সুশীল সমাজ ও কূটনৈতিক মিশনের আটক কর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

কালের আলো/এসএ

ঝড়ে উড়ে গেছে চাল, ভাঙা পা নিয়ে স্বামীকে আগলে হালেখা

শ্রীপুর(গাজীপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫১ অপরাহ্ণ
ঝড়ে উড়ে গেছে চাল, ভাঙা পা নিয়ে স্বামীকে আগলে হালেখা

ভাঙা পায়ে ঠিকমতো হাঁটতে পারেন না হালেখা খাতুন। বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে শরীর। নিজের চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই, ঘরে নিয়মিত খাবারও জোটে না। মাথার ওপর নিরাপদ ছাউনিও নেই। এর মধ্যেই প্রায় দুই বছর ধরে শয্যাশায়ী ৮৫ বছর বয়সী স্বামী রুস্তম। স্বামীর দেখাশোনার পাশাপাশি দুমুঠো খাবারের জোগান দিতে প্রতিদিন শুকনো ডাল, খরকুটো ও লাকড়ি সংগ্রহ করে বিক্রি করেন হালেখা।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ গাজীপুর গ্রামের জাবেদ আলী মোড় এলাকায় একটি জীর্ণ ঘরে বসবাস করেন হালেখা ও রুস্তম দম্পতি। মাত্র ১০ ফুট লম্বা ও ৮ ফুট চওড়া ঘরটির অর্ধেক টিনের চাল গত বৈশাখ মাসে কালবৈশাখী ঝড়ে উড়ে যায়। এরপর প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও নতুন করে চাল দেওয়ার সামর্থ্য হয়নি তাদের।

বৃষ্টি নামলেই ঘরের ভেতর পানি পড়ে। তখন অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে পাশের একটি দোকানের বারান্দায় আশ্রয় নিতে হয় হালেখাকে। বৃষ্টিভেজা মেঝে, ঠান্ডা বাতাস আর পোকামাকড়ের ভয় নিয়েই কাটে তাদের রাত।

হালেখা জানান, তাদের নিজেদের কোনো জায়গা-জমি নেই। ভাই মানবিক বিবেচনায় কয়েক ফুট জায়গা দেওয়ায় পুরোনো টিন দিয়ে সেখানে ছোট একটি ঘর তৈরি করেছিলেন। সেই ঘরটিই ছিল তাদের একমাত্র আশ্রয়। ঝড়ে চাল উড়ে যাওয়ার পর সেটিও এখন অনিরাপদ হয়ে পড়েছে।

প্রায় ১০ বছর ধরে কোনো কাজ করতে পারেন না রুস্তম। হাঁপানি, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে ভুগছেন তিনি। প্রায় দুই বছর ধরে শয্যাশায়ী। একসময় স্বামীকে দেখাশোনার পাশাপাশি দৈনিক হাজিরাভিত্তিক শ্রমিকের কাজ করতেন হালেখা।

তবে প্রায় দুই বছর আগে গরুর দড়িতে পা পেঁচিয়ে পড়ে গিয়ে তার একটি পা ভেঙে যায়। অর্থের অভাবে যথাযথ চিকিৎসা করাতে পারেননি। ফলে সেই ভাঙা পা নিয়েই এখনও কষ্ট করে চলাফেরা করতে হয় তাকে।

বর্তমানে প্রতিদিন শুকনো ডাল, খরকুটো ও লাকড়ি সংগ্রহ করে স্থানীয় চায়ের দোকান ও প্রতিবেশীদের কাছে বিক্রি করেন হালেখা। এতে প্রতিদিন আয় হয় মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। এই সামান্য আয় দিয়েই কোনো দিন তিন বেলা, আবার কোনো দিন এক বেলা খাবার জোটে তাদের।

কথা বলার সময় দীর্ঘদিনের কষ্ট ফুটে ওঠে হালেখার চোখেমুখে। তিনি বলেন, জন্মের পর থেকেই দুঃখ-কষ্টে জীবন কেটেছে। সুখ কী, তা যেন তার কপালে নেই। স্বামীর ওষুধ কিনতে না পারা কিংবা কখনো না খেয়ে থাকার কষ্টের চেয়েও বৃষ্টির সময় মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকাই তার কাছে বড় সমস্যা।

শয্যাশায়ী রুস্তম বলেন, তিনি আর কাজ করতে পারেন না। এমনকি তার স্ত্রীও এখন তাকে ঠিকমতো টেনে নিতে পারেন না। তাদের এক ছেলে থাকলেও তার শারীরিক অবস্থাও ভালো নয়। অন্যের রিকশা ভাড়া নিয়ে চালিয়ে নিজের সংসার চালাতেই তাকে হিমশিম খেতে হয়। ফলে বৃদ্ধ মা-বাবার জন্য আলাদাভাবে প্রয়োজনীয় খরচ বহন করা তার পক্ষেও সম্ভব হচ্ছে না।

গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহবুব আলম বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কালের আলো/এমএসআইপি