খুঁজুন
                               
, ,
           

মক্কায় হামলার নিন্দা, কঠোর বার্তা মসজিদুল হারামের খতিবের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৩ অপরাহ্ণ
মক্কায় হামলার নিন্দা, কঠোর বার্তা মসজিদুল হারামের খতিবের

পবিত্র মক্কা ও মদিনাসহ ইসলামের পবিত্র স্থান, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলার নিন্দা জানিয়েছেন মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. বান্দার বিন বালিলাহ।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) মসজিদুল হারামে জুমার খুতবায় তিনি পবিত্র স্থান ও নিরাপদ শহরগুলোর মর্যাদা রক্ষা এবং সেখানে বসবাসকারী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে মুসলমানদের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অমূলক সন্দেহ ও কুধারণা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

খতিবের বক্তব্য

খুতবায় শায়খ বান্দার বালিলাহ বলেন, পবিত্র মক্কা ও মদিনা এবং অন্যান্য পবিত্র স্থানকে লক্ষ্য করা ইসলামের শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা এবং নিরাপদ মানুষকে আতঙ্কিত করা গুরুতর অপরাধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, যারা পবিত্র স্থানকে লক্ষ্য করার সাহস করে, তারা ইসলামের প্রকৃত আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করে না। খুতবায় তিনি হুথি গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গও উল্লেখ করে পবিত্র স্থান ও নিরাপদ শহরগুলোকে লক্ষ্য করার নিন্দা জানান।

খুতবার আরেক অংশে শায়খ বান্দার বালিলাহ মুসলমানদের পরস্পরের প্রতি ভালো ধারণা রাখার আহ্বান জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, অমূলক সন্দেহ মানুষকে গুপ্তচরবৃত্তি, পরনিন্দা ও শত্রুতার দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাই কোনো বিষয়ে সন্দেহ তৈরি হলে অনুমানের ওপর নির্ভর না করে প্রকৃত তথ্য যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি

এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর মক্কার দক্ষিণে একটি ড্রোন ধ্বংসের কথা জানায় সৌদি কর্তৃপক্ষ। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকির বক্তব্য অনুযায়ী, সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মক্কার দক্ষিণে একটি ড্রোন শনাক্ত করে তা পবিত্র নগরীর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করে।

সৌদি পক্ষের দাবি, ড্রোনটি হুথিদের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছিল। জোটের মুখপাত্র মক্কা ও পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তাকে ‘লাল রেখা’ হিসেবেও উল্লেখ করেন।

হুথিদের বক্তব্য

তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুথিরা। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথি কর্মকর্তারা মক্কা বা অন্য কোনো ইসলামি পবিত্র স্থানকে লক্ষ্য করার কথা অস্বীকার করেছেন। হুথি রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহ সৌদি অভিযোগকে মিথ্যা বলে দাবি করেন।

ফলে ড্রোনটি মক্কাকে লক্ষ্য করেই পাঠানো হয়েছিল কি না—এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ ও হুথিদের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। তবে রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা মক্কার দক্ষিণে একটি ড্রোন ধ্বংস করেছে—এই ঘটনাটি সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

মূল বিষয়

মসজিদুল হারামের খতিবের বক্তব্যে মূলত পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি মুসলমানদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও ভালো ধারণা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আর মক্কার দক্ষিণে ড্রোন ধ্বংসের ঘটনা নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ হুথিদের দায়ী করলেও হুথিরা সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সূত্র: রয়টার্স, সাবক (SABQ), ওকাজ (Okaz)

কালের আলো/জেএন

ইটভাটায় কাঠ পোড়ানোয় দূষণের ঝুঁকিতে পঞ্চগড়

পঞ্চগড় সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৯ অপরাহ্ণ
ইটভাটায় কাঠ পোড়ানোয় দূষণের ঝুঁকিতে পঞ্চগড়

পরিবেশ আইন ও সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার একটি ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠের খড়ি ও কাঠের গুঁড়া পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার সাকোয়া চন্দনবাড়ী এলাকায় অবস্থিত ‘এ এন্ড এ অটো ব্রিকস’ নামের ইটভাটাটিতে কয়লার সঙ্গে এসব কাঠজাত উপাদান মিশিয়ে চুল্লিতে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে আশপাশের পরিবেশ, কৃষিজমি ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়লার সংকটের অজুহাতে প্রতি রাতে ট্রাকে করে কাঠের খড়ি আনা হয়। পরে বিপুল পরিমাণ কাঠের গুঁড়ার সঙ্গে এসব খড়ি কয়লার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়। রাতের বেলায় ভাটা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় আশপাশের এলাকা দূষিত হচ্ছে বলেও দাবি তাদের।

ভাটায় মজুত কাঠের খড়ি ও গুঁড়া
ইটভাটার এক কোণে শত শত বস্তা কাঠের গুঁড়া এবং স্তূপ করে রাখা কাঠের খড়ি দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দিনের বেলায় এসব জ্বালানি কিছুটা আড়ালে রাখা হলেও গভীর রাতে চুল্লিতে ব্যবহার করা হয়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে কাঠ পোড়ানোর ফলে আশপাশের ফসলি জমি, ফলদ গাছপালা ও বসতবাড়ির পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়া ও ছাইয়ের কারণে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে ইটভাটাটিতে নিয়মিত কাঠ পোড়ানোর অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আংশিক স্বীকারোক্তি পাওয়া গেছে। এ এন্ড এ অটো ব্রিকসের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সব সময় নয়, মাঝে মাঝে কিছু কাঠের খড়ি ব্যবহার করা হয়।

বায়ুদূষণে বাড়তে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি
ইটভাটায় কাঠ ও কাঠের গুঁড়া পোড়ানোর ফলে নির্গত ধোঁয়া, সূক্ষ্ম কণা ও ছাই মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। দূষিত বাতাসে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা বাড়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং আগে থেকেই শ্বাসকষ্টে ভুগছেন এমন মানুষের ঝুঁকি বেশি।

কাঠ পোড়ানোর সময় নির্গত ধোঁয়ায় কার্বন মনোক্সাইড ও বিভিন্ন ক্ষতিকর কণা থাকতে পারে। এসব দূষক বাতাসের মান খারাপ করতে পারে এবং শ্বাসকষ্ট, কাশি ও চোখ জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। অসম্পূর্ণ দহনের ফলে কিছু ক্ষেত্রে ক্যান্সার-সংশ্লিষ্ট রাসায়নিক পদার্থও তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ছাই ও ধুলিকণা আশপাশের বসতি, গাছপালা ও কৃষিজমিতে জমতে পারে। এতে স্থানীয় পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এই নির্দিষ্ট ইটভাটার দূষণের মাত্রা ও স্বাস্থ্যগত ক্ষতি নির্ধারণে বায়ুর মান পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন জরুরি।

কাঠ পোড়ানো বন্ধের দাবি পরিবেশকর্মীদের
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) পঞ্চগড় জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম বলেন, ইটভাটায় জ্বালানি কাঠ ব্যবহার পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এর প্রভাব শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যের ওপর বিশেষভাবে পড়তে পারে। তিনি জানান, ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য আইন অনুযায়ী শাস্তির বিধান রয়েছে। পরিবেশের ক্ষতি করে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রশাসনের
পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন বলেন, পরিবেশ ধ্বংস করে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন সোচ্চার রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইটভাটার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল ইসলাম বলেন, সাকোয়ার এ এন্ড এ অটো ব্রিকসে কাঠের গুঁড়া ও কাঠের খড়ি বেআইনিভাবে পোড়ানোর বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে শিগগিরই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই বিষয়ে পঞ্চগড় পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল গফুর বলেন, জ্বালানি হিসেবে কাঠ পোড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ইটভাটায় কোনোভাবেই কাঠের গুঁড়া কিংবা খড়ি পোড়ানোর সুযোগ নেই। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

লাইসেন্স বাতিলসহ শাস্তির দাবি স্থানীয়দের
এদিকে অভিযোগের দ্রুত তদন্ত, কার্যকর ব্যবস্থা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকার ভুক্তভোগী বাসিন্দা ও সচেতন মহল। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ইটভাটার লাইসেন্স বাতিলের দাবিও জানিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের অভিযোগের সত্যতা যাচাই, ইটভাটায় ব্যবহৃত জ্বালানির ধরন পরীক্ষা এবং পরিবেশগত ক্ষতির মাত্রা নিরূপণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ এখন গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের দেওয়া আশ্বাসের পর অভিযোগের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর এলাকাবাসীর।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

৮০০ টাকায় আনারকলি চাষ, স্বপ্ন দেখছেন সোহেল

টাঙ্গাইল সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
৮০০ টাকায় আনারকলি চাষ, স্বপ্ন দেখছেন সোহেল

মাত্র ৮০০ টাকা পুঁজি নিয়ে বিদেশি ফল প্যাশন ফ্রুট বা আনারকলি চাষ শুরু করেছিলেন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল আকন্দ। বাড়ির পরিত্যক্ত আঙিনায় পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা সেই চাষে এখন গাছে গাছে ফল ধরেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ফল বিক্রি করেও পাচ্ছেন ভালো সাড়া। আর এ সাফল্যকে পুঁজি করে ভবিষ্যতে বড় পরিসরে চাষাবাদ ও চারা উৎপাদনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন ভেঙে কৃষিতে উদ্যোগ
সোহেল আকন্দ ভূঞাপুর পৌর শহরের বামনহাটা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত আবুল কালাম আকন্দের ছেলে। বিদেশে যাওয়ার আশায় এবং চাকরির পেছনে ছুটতে গিয়ে একপর্যায়ে দালালের খপ্পরে পড়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন তিনি। পরে অন্যের ওপর নির্ভর না করে নিজের উদ্যোগে কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন।

সেই ভাবনা থেকেই কৃষিকাজে আগ্রহী হয়ে ওঠেন সোহেল। প্রায় ছয় মাস আগে কক্সবাজারের চকরিয়ার এক চাষির কাছ থেকে মাত্র ৮০০ টাকায় কয়েকটি প্যাশন ফ্রুটের চারা সংগ্রহ করেন। বাড়ির পরিত্যক্ত আঙিনায় শুরু করেন পরীক্ষামূলক চাষ। শুরুর দিকে অবশ্য পথটা সহজ ছিল না। গাছে ফুল এলেও তা ঝরে পড়ত। ফলে ফল উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন তিনি। পরে বিভিন্ন মানুষের পরায়ে গামর্শ নিছের নিয়মিত পরিচর্যা শুরু করেন। ধীরে ধীরে গাছগুলোতে ফল ধরতে থাকে। বর্তমানে নিজের উদ্যোগের ফল দেখতে পাচ্ছেন সোহেল।

প্রতি কেজি ফল বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায়
সোহেলের বাগানে উৎপাদিত আনারকলি ফল আকারভেদে প্রতিটি ৩০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি কেজি ফলের দাম ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা। এক কেজিতে সাধারণত ১০ থেকে ১২টি ফল পাওয়া যায়। ফেসবুকে ফলের ছবি ও তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়তে শুরু করে। পরিচিতজন, বন্ধুবান্ধবসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ তার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। কেউ ফল কিনতে চাইছেন, আবার কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছেন চারা সংগ্রহে। স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি বাইরের এলাকা থেকেও অনেকে তার বাগান দেখতে আসছেন।

বাড়ির উঠানে শুধু প্যাশন ফ্রুট চাষই নয়, ছোট কটি এনার্সারিও গড়ে তুলেছেন সোহেল। সেখানে বিভিন্ন জাতের ফলজ ও বনজ গাছের চারা রয়েছে। ফলে ফল বিক্রির পাশাপাশি চারা উৎপাদন ও বিক্রির মাধ্যমেও আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে তার সামনে।

স্বাদ থেকেই চাষের আগ্রহ
সোহেল জানান, প্রথমে কক্সবাজারে গিয়ে প্যাশন ফ্রুটের স্বাদ নিয়েছিলেন তিনি। ফলটি ভালো লাগায় নিজের এলাকায় এর চাষ করার ইচ্ছা তৈরি হয়। তবে ভালো জাতের চারা সংগ্রহ করতে তাকে বেশ ঘুরতে হয়েছে। পরে একটি বিশ্বস্ত নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করে রোপণ করেন। তিনি বলেন, শুরুতে প্যাশন ফ্রুটের চাষাবাদ সম্পর্কে তার তেমন ধারণা ছিল না। ফুল ঝরে পড়াসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। পরে বিভিন্নজনের পরামর্শ নিয়ে গাছের যত্ন নেওয়া শুরু করেন।

সোহেল আরও বলেন, তার উৎপাদিত ফল কিনতে ফেসবুকে অনেকেই যোগাযোগ করছেন। পরিচিত বন্ধুবান্ধবেরাও ফল চাইছেন। বিভিন্ন এলাকার মানুষ বাগান দেখতে আসছেন এবং অনেকে চারা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। এলাকায় ফলটি নতুন হলেও এর চাহিদা রয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। বর্তমানে অল্প পরিসরে চাষ করলেও ভবিষ্যতে বড় পরিসরে প্যাশন ফ্রুট উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে সোহেলের। পাশাপাশি চারা উৎপাদনের কাজও সম্প্রসারণ করতে চান তিনি।

তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয়রা
সোহেলের এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভূঞাপুরের সাবেক কাউন্সিলর খন্দকার আমিন বলেন, তাদের এলাকায় আগে এই ফল তেমন দেখা যেত না। সোহেলের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তিনি শুধু ফল বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে চারা উৎপাদনেও উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে এলাকার অন্য তরুণেরাও এ ধরনের চাষে আগ্রহী হতে পারেন। খন্দকার আমিনের মতে, কৃষিতে নতুন ধরনের উদ্যোগ বেকার তরুণদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এ জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।

কৃষি বিভাগের সহযোগিতার আশ্বাস
ভূঞাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোখলেছুর রহমান জানান, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা সরেজমিনে সোহেলের আনারকলির বাগান পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাকে সহযোগিতার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এই ফলের বাগান সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও অন্যান্য সহযোগিতা দেওয়া হবে। মাত্র ৮০০ টাকা দিয়ে শুরু হওয়া সোহেলের এই উদ্যোগ এখন সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এ চাষকে লাভজনক করতে উৎপাদন বাড়ানো, গাছের পরিচর্যা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন, বাজার সম্প্রসারণ এবং নিয়মিত ক্রেতা তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ হবে। সোহেলের আশা, পরিকল্পনা অনুযায়ী চাষের পরিধি বাড়াতে পারলে কৃষিই হয়ে উঠবে তার স্বাবলম্বী হওয়ার পথ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

বায়ুদূষণে বিশ্বে তৃতীয় ঢাকা, স্কোর ১৭৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
বায়ুদূষণে বিশ্বে তৃতীয় ঢাকা, স্কোর ১৭৬

বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় আবারও ওপরের দিকে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে প্রকাশিত বায়ুমান সূচক অনুযায়ী, ১৭৬ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। এই স্কোরকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের (IQAir) সূচক থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

তালিকার শীর্ষে লাহোর, দ্বিতীয় কুচিং
আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ২০৭ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। ২০৩ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মালয়েশিয়ার কুচিং। ঢাকার বায়ুমান স্কোর ১৭৬। এ ছাড়া ১৭৩ স্কোর নিয়ে ভারতের মুম্বাই রয়েছে চতুর্থ অবস্থানে এবং ১৫৮ স্কোর নিয়ে পাকিস্তানের করাচি রয়েছে পঞ্চম স্থানে। তালিকার এই অবস্থান নির্দিষ্ট সময়ের বায়ুমান পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে। বায়ুদূষণের মাত্রা আবহাওয়া, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলাবালি ও অন্যান্য দূষণের কারণে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।

কোন স্কোরে বায়ুর মান কেমন
আইকিউএয়ারের বায়ুমান সূচক অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০ স্কোর হলে বায়ুর মান ‘ভালো’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোরকে ‘মাঝারি’ বা ‘সহনীয়’ ধরা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর হলে বায়ুর মান সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে, ১৫১ থেকে ২০০ স্কোরকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ এবং ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সে হিসাবে ঢাকার ১৭৬ স্কোরের বাতাস সবার স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদ্‌রোগে আক্রান্তদের জন্য।

দূষিত বাতাসে সতর্কতা জরুরি
বায়ুমান অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে থাকলে দীর্ঘ সময় বাইরে অবস্থান ও ভারী শারীরিক পরিশ্রম কমানো ভালো। বিশেষ করে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের বাইরে চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বায়ুদূষণ বেশি থাকলে স্থানীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ ও বায়ুমান পরিস্থিতি অনুসরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি