খুঁজুন
                               
, ,
           

সিটি ব্যাংকে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার পদে চাকরি

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫৯ অপরাহ্ণ
সিটি ব্যাংকে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার পদে চাকরি

সিটি ব্যাংক পিএলসি তাদের ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস ক্লায়েন্ট কভারেজ (এফআইসিসি) টিমে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার—ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস ক্লায়েন্ট কভারেজ’ পদে একজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

পদের নাম: অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার—ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস ক্লায়েন্ট কভারেজ
চাকরির ধরন: ফুলটাইম
কর্মস্থল: ঢাকা
পদসংখ্যা:

যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা

প্রার্থীকে যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা সম্মান ডিগ্রিধারী হতে হবে। ব্যাংকিং খাতে ২ থেকে ৬ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। আবেদনকারীর বয়স ২৬ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে।

ব্যাংকিং ও ট্রেড ফাইন্যান্স সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান থাকলে তা অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। পাশাপাশি ইংরেজিতে ভালো দক্ষতা, বিশেষ করে ব্যবসায়িক যোগাযোগে পারদর্শিতা, শক্তিশালী ফলোআপ ও সমন্বয় দক্ষতা এবং সম্পর্ক ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা থাকতে হবে। এমএস অফিসের এক্সেল, ওয়ার্ড ও পাওয়ার পয়েন্টে দক্ষতাও প্রয়োজন।

দায়িত্ব

নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং ট্রেড ফাইন্যান্স–সংক্রান্ত ব্যাংকিং কার্যক্রমে এফআইসিসি টিমকে সহায়তা করবেন। এলসি ইস্যুকারী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও পেশাদার সম্পর্ক বজায় রাখাও তাঁর দায়িত্বের অংশ হবে।

এ ছাড়া সিটি ব্যাংকের হংকং সাবসিডিয়ারির মাধ্যমে এলসি রুটিং, বিলের ব্যাংক স্বীকৃতি, মেয়াদ শেষে বিল নিষ্পত্তি, ট্রেড ডকুমেন্ট সংগ্রহ ও সরবরাহ এবং সুইফট–সংক্রান্ত বিষয় সমন্বয় করতে হবে। বকেয়া বিল পর্যালোচনা এবং এফআইসিসি টিম ও সিটি এইচকেতে নিয়মিত প্রতিবেদন পাঠানোর দায়িত্বও থাকবে।

গ্রাহক ও ব্যাংকের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করাও পদটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

বেতন ও আবেদন

বেতন আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারণ করা হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

আবেদনের শেষ তারিখ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

আবেদনের বিস্তারিত তথ্য ও আবেদন করতে বিডিজবসের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখুন।

কালের আলো/এসএ

বহু ভাষায় কাজ, উচ্চারণ নিয়ে ট্রল-মুখ খুললেন রাশমিকা

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫২ অপরাহ্ণ
বহু ভাষায় কাজ, উচ্চারণ নিয়ে ট্রল-মুখ খুললেন রাশমিকা

তেলেগু, কন্নড়, তামিল ও হিন্দি—ভারতের একাধিক ভাষার সিনেমায় নিয়মিত অভিনয় করছেন রাশমিকা মান্দানা। দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমা থেকে বলিউডে নিজের অবস্থান তৈরি করা এই অভিনেত্রী এখন বহুভাষিক তারকা হিসেবে পরিচিত। তবে এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় অভিনয় করতে গিয়ে তাঁর উচ্চারণ ও সংলাপ বলার ধরন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই ট্রলের শিকার হতে হয়।

এবার সেই সমালোচনা নিয়েই মুখ খুলেছেন রাশমিকা। তাঁর বক্তব্য, তিনি কোনো একটি ভাষার বিশেষজ্ঞ নন। বরং বিভিন্ন ভাষায় কাজ করতে করতে প্রতিটি ভাষার সঙ্গেই তাঁর আলাদা সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

রাশমিকার মাতৃভাষা কোদাভা টাক। ভারতের কর্ণাটকের কুর্গ অঞ্চলে এই ভাষার প্রচলন থাকলেও এ ভাষায় বড় কোনো চলচ্চিত্রশিল্প গড়ে ওঠেনি। ফলে অভিনয়জীবনের শুরু থেকেই তাঁকে অন্য ভাষায় কাজ করতে হয়েছে। ২০১৬ সালে কন্নড় সিনেমায় অভিষেকের পর তেলেগু ছবিতে জনপ্রিয়তা পান তিনি। পরে তামিল ও হিন্দি সিনেমাতেও নিজের জায়গা তৈরি করেন।

রাশমিকা মনে করেন, এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় যাওয়ার পেছনে তাঁর কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল না। কাজের সুযোগ ও দর্শকের ভালোবাসাই তাঁকে বিভিন্ন ভাষার সিনেমার দিকে নিয়ে গেছে। তিনি সব ভাষাকেই নিজের ভাষা হিসেবে দেখেন এবং যে অঞ্চলের দর্শকের জন্য কাজ করেন, তাঁদের ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করেন। তাঁর কাছে এটি শুধু ভাষা শেখার বিষয় নয়, দর্শকের প্রতি সম্মান দেখানোরও একটি উপায়।

উচ্চারণ নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে অভিনেত্রীর অবস্থানও স্পষ্ট। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, কোনো একটি ভাষাতেই তিনি ‘খুব ভালো’ নন। অনেক ভাষায় কাজ করলেও নিজেকে কোনো একটি ভাষার বিশেষজ্ঞ মনে করেন না। তাঁর মতে, একাধিক ভাষায় অভিনয় করতে গেলে প্রতিটি ভাষার উচ্চারণে সব সময় শতভাগ নিখুঁত হওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। শেখার চেষ্টা এবং দর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করাটাই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

রাশমিকার ক্যারিয়ারও বহুভাষিক পথচলার উদাহরণ। ‘গীত গোবিন্দম’, ‘ডিয়ার কমরেড’, ‘সারিলেরু নিক্কেভারু’ ও ‘পুষ্পা: দ্য রাইজ’-এর মতো তেলেগু সিনেমা তাঁকে দক্ষিণ ভারতে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। এরপর ‘গুডবাই’ দিয়ে বলিউডে অভিষেক করেন। ‘অ্যানিমেল’ ছবির পর হিন্দি সিনেমাতেও তাঁর পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয়।

তবে বহুভাষিক তারকা হওয়ার সঙ্গে বাড়তি চাপও এসেছে। একটি ভাষায় দর্শক যে উচ্চারণে অভিনেত্রীকে অভ্যস্তভাবে দেখেন, অন্য ভাষায় সামান্য পার্থক্যও তাঁদের নজরে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই পার্থক্য নিয়েই দ্রুত শুরু হয় আলোচনা ও ট্রল।

রাশমিকা অবশ্য এসব মন্তব্যকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে চান না। তাঁর কাছে সিনেমা মূলত দলগত কাজ। একজন অভিনেতা নিজের চরিত্রে ভালো করার চেষ্টা করলেও একটি সিনেমার চূড়ান্ত ফল তৈরি হয় পরিচালক, অভিনয়শিল্পী, চিত্রগ্রাহক, সংগীতশিল্পীসহ অনেকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়।

বর্তমানে রাশমিকার হাতে বেশ কয়েকটি আলোচিত প্রকল্পও রয়েছে। বিজয় দেবেরাকোন্ডার সঙ্গে তাঁর নতুন সিনেমা নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ রয়েছে। পাশাপাশি ‘মাইসা’ ছবিতে ভিন্ন ধরনের চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। এম এস সুব্বুলক্ষ্মীর জীবনভিত্তিক একটি সিনেমার সঙ্গেও যুক্ত হয়েছেন এই অভিনেত্রী।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

কালের আলো/এসএ

তিতাসের ২৮ নম্বর কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫০ অপরাহ্ণ
তিতাসের ২৮ নম্বর কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু

দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে আরও সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিতাস-২৮ নম্বর কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুরে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর তিতাস-২৮ নম্বর কূপের খননকাজ শুরু হয়। একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কূপটি খনন করা হয়েছে। প্রায় ৩ হাজার ৫২৬ মিটার গভীরতায় খনন শেষে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।

এরপর গত ১৯ জুন থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এই কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। পরীক্ষামূলক সরবরাহের সময়ে প্রায় ২০০ কোটি টাকা মূল্যের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

এখন থেকে তিতাস-২৮ নম্বর কূপ থেকে প্রতিদিন নিয়মিত ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।

বর্তমানে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৩টি কূপ উৎপাদনে রয়েছে। এসব কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে। নতুন কূপটি উৎপাদনে যুক্ত হওয়ায় দেশের গ্যাসের সরবরাহ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কালের আলো/এমএসআইপি 

১৩৪ বছর পরও অমীমাংসিত লিজি বোর্ডেনের রহস্য

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
১৩৪ বছর পরও অমীমাংসিত লিজি বোর্ডেনের রহস্য

১৮৯২ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের ফল রিভারে নিজ বাড়িতে খুন হন অ্যান্ড্রু বোর্ডেন ও তাঁর স্ত্রী অ্যাবি বোর্ডেন। হত্যাকাণ্ডের সন্দেহ গিয়ে পড়ে অ্যান্ড্রুর মেয়ে লিজি বোর্ডেনের ওপর। গ্রেপ্তার হন তিনি, আদালতে বিচারও হয়। কিন্তু ১৮৯৩ সালে সব অভিযোগ থেকে খালাস পান লিজি।

তাহলে কি সত্যিই বাবা ও সৎমাকে হত্যা করেছিলেন লিজি? ১৩৪ বছর পরও সেই প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর মেলেনি। আদালতের রায়ে তিনি নির্দোষ; অন্যদিকে মামলার বিভিন্ন পরিস্থিতিগত প্রমাণ, অসংগতি ও পরবর্তী জল্পনা তাঁকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে।

এই পুরোনো হত্যাকাণ্ডই নতুন করে আলোচনায় এসেছে নেটফ্লিক্সের সিরিজ ‘মনস্টার: দ্য লিজি বোর্ডেন স্টোরি’-তে। ১৭ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাওয়া ছয় পর্বের এই সিরিজটি নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় ‘মনস্টার’ অ্যানথোলজির চতুর্থ কিস্তি। এবারই প্রথম এই অ্যানথোলজির কেন্দ্রীয় চরিত্র একজন নারী।

লিজির চরিত্রে এলা বিটি

সিরিজটির নির্মাতা রায়ান মারফি ও ইয়ান ব্রেনান। ব্রেনান শোরানার ও নির্বাহী প্রযোজক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ছয়টি পর্ব পরিচালনা করেছেন ম্যাক্স উইঙ্কলার এবং দুটি পর্ব পরিচালনা করেছেন সারা অ্যাডিনা স্মিথ।

লিজি বোর্ডেনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন এলা বিটি। গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য চরিত্রে আছেন ভিকি ক্রিপস, চার্লি হানাম, রেবেকা হল, বিলি লর্ড, জেসিকা বার্ডেন ও সারা পলসন। ভিকি ক্রিপস অভিনয় করেছেন বোর্ডেন পরিবারের গৃহকর্মী ব্রিজেট ‘ম্যাগি’ সুলিভানের চরিত্রে। চার্লি হানাম অ্যান্ড্রু বোর্ডেন এবং রেবেকা হল অ্যাবি বোর্ডেনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। লিজির বড় বোন এমার ভূমিকায় আছেন বিলি লর্ড।

এলা বিটির জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। কারণ, ‘মনস্টার’ অ্যানথোলজির প্রথম নারীকেন্দ্রিক গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্রে তিনিই অভিনয় করেছেন।

১৮৯২ সালের সেই হত্যাকাণ্ড

১৮৯২ সালের ৪ আগস্ট ফল রিভারের বোর্ডেন পরিবারের বাড়িতে অ্যান্ড্রু ও অ্যাবির মরদেহ পাওয়া যায়। দুজনকেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছিল।

বাড়িতে তখন ছিলেন লিজি ও পরিবারের গৃহকর্মী ব্রিজেট সুলিভান। ফলে তদন্তের শুরু থেকেই লিজিকে সন্দেহ করা হয়। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ১৮৯৩ সালে শুরু হয় বিচার।

তবে প্রসিকিউশনের হাতে ছিল মূলত পরিস্থিতিগত প্রমাণ। কোনো প্রত্যক্ষদর্শী লিজিকে হত্যাকাণ্ড ঘটাতে দেখেননি। শেষ পর্যন্ত ২০ জুন ১৮৯৩ সালে জুরি তাঁকে সব অভিযোগ থেকে খালাস দেয়।

আইনিভাবে মামলার সেখানেই সমাপ্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লিজি বোর্ডেনের গল্প থেমে থাকেনি।

কেন আজও সন্দেহের কেন্দ্রে লিজি?

লিজির বিরুদ্ধে সন্দেহের পেছনে ছিল বেশ কিছু ঘটনা। তদন্তে তাঁর বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরিবারের সম্পত্তি ও পারিবারিক সম্পর্ক নিয়েও নানা আলোচনা ছিল। হত্যাকাণ্ডের আগে বিষাক্ত প্রুশিক অ্যাসিড সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন লিজি—এমন তথ্যও মামলায় উঠে আসে। তবে সেটি বাবা ও সৎমাকে হত্যার পরিকল্পনার অংশ ছিল—এমন প্রমাণ আদালতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

লিজিকে ঘিরে সবচেয়ে পরিচিত বিষয়গুলোর একটি হলো একটি পুরোনো ছড়া। সেখানে বলা হয়, কুঠার দিয়ে সৎমাকে ৪০ বার এবং বাবাকে ৪১ বার আঘাত করেছিলেন লিজি। কিন্তু ঐতিহাসিক নথির সঙ্গে এই সংখ্যার মিল নেই। ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, অ্যাবি বোর্ডেনকে ১৯ বার এবং অ্যান্ড্রু বোর্ডেনকে ১১ বার আঘাত করা হয়েছিল।

সিরিজে প্রেমের গল্প, ইতিহাসে প্রমাণ নেই

নতুন সিরিজের অন্যতম আলোচিত বিষয় লিজি ও ব্রিজেট সুলিভানের সম্পর্ক। গল্পে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়ে পরে তা প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। এই সম্পর্ককে লিজির জীবনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

বাস্তবে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল—এমন নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। ব্রিজেট ছিলেন বাস্তব চরিত্র এবং বোর্ডেন পরিবারের গৃহকর্মী। হত্যাকাণ্ডের দিন তিনিও বাড়িতে ছিলেন। তবে লিজির সঙ্গে মিলে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন—এমন প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

ইতিহাসের ফাঁক পূরণ করেছে নির্মাতাদের কল্পনা

পরিচালক ম্যাক্স উইঙ্কলার জানিয়েছেন, সিরিজটি কেবল পুরোনো হত্যাকাণ্ড পুনর্নির্মাণ করতে চায়নি। লিজির গল্পের মধ্য দিয়ে নারীর ওপর সামাজিক বিধিনিষেধ, দমিয়ে রাখা আকাঙ্ক্ষা ও ক্ষোভের মতো বিষয়ও তুলে ধরতে চেয়েছেন নির্মাতারা।

তাই সিরিজটি পুরোপুরি গম্ভীর ঐতিহাসিক নাটক নয়; এতে কালো রসিকতারও ব্যবহার রয়েছে। নির্মাতারা সে সময়ের পরিবেশ ও পোশাক-আশাকের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক বাস্তবতার প্রতি যতটা সম্ভব বিশ্বস্ত থাকার চেষ্টা করলেও, যেসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই, সেসব জায়গায় নিজেদের গল্প নির্মাণ করেছেন।

ফলে ‘মনস্টার: দ্য লিজি বোর্ডেন স্টোরি’কে সরাসরি ইতিহাসের পুনর্নির্মাণের চেয়ে সত্য ঘটনার ওপর নির্মিত একটি নাটকীয় ব্যাখ্যা হিসেবে দেখাই প্রাসঙ্গিক।

তাহলে মা–বাবাকে কি সত্যিই হত্যা করেছিলেন লিজি?

নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। লিজির বিরুদ্ধে পরিস্থিতিগত প্রমাণ ছিল, কিন্তু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁকে চূড়ান্তভাবে যুক্ত করার মতো প্রমাণ আদালতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ১৮৯৩ সালের বিচারে তিনি খালাস পান।

পরবর্তী ১৩৪ বছরে বই, সিনেমা, টেলিভিশন ও নানা কল্পকাহিনিতে লিজিকে কখনো খুনি, কখনো নিপীড়িত নারী, আবার কখনো বিদ্রোহী তরুণী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। নতুন নেটফ্লিক্স সিরিজ সেই দীর্ঘ সাংস্কৃতিক আগ্রহেরই আরেকটি অধ্যায়।

তাই সিরিজটি দেখার সময় একটি বিষয় আলাদা করে মনে রাখা দরকার—পর্দায় দেখানো সব ঘটনা ইতিহাসে প্রমাণিত নয়। ১৮৯২ সালের সেই বাড়িতে ঠিক কী ঘটেছিল, তার চূড়ান্ত উত্তর হয়তো আর কখনো জানা যাবে না।

আইনের বিচারে লিজি বোর্ডেন খালাস পেয়েছিলেন। আর ইতিহাসেও আজ পর্যন্ত এমন চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যার ভিত্তিতে তাঁকে হত্যাকারী বলা যায়। রহস্যটা সেখানেই—আর সেই রহস্যই ১৩৪ বছর পরও লিজি বোর্ডেনকে নতুন গল্পের কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনছে।

কালের আলো/এসএ