খুঁজুন
                               
, ,
           

১৩৪ বছর পরও অমীমাংসিত লিজি বোর্ডেনের রহস্য

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
১৩৪ বছর পরও অমীমাংসিত লিজি বোর্ডেনের রহস্য

১৮৯২ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের ফল রিভারে নিজ বাড়িতে খুন হন অ্যান্ড্রু বোর্ডেন ও তাঁর স্ত্রী অ্যাবি বোর্ডেন। হত্যাকাণ্ডের সন্দেহ গিয়ে পড়ে অ্যান্ড্রুর মেয়ে লিজি বোর্ডেনের ওপর। গ্রেপ্তার হন তিনি, আদালতে বিচারও হয়। কিন্তু ১৮৯৩ সালে সব অভিযোগ থেকে খালাস পান লিজি।

তাহলে কি সত্যিই বাবা ও সৎমাকে হত্যা করেছিলেন লিজি? ১৩৪ বছর পরও সেই প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর মেলেনি। আদালতের রায়ে তিনি নির্দোষ; অন্যদিকে মামলার বিভিন্ন পরিস্থিতিগত প্রমাণ, অসংগতি ও পরবর্তী জল্পনা তাঁকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে।

এই পুরোনো হত্যাকাণ্ডই নতুন করে আলোচনায় এসেছে নেটফ্লিক্সের সিরিজ ‘মনস্টার: দ্য লিজি বোর্ডেন স্টোরি’-তে। ১৭ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাওয়া ছয় পর্বের এই সিরিজটি নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় ‘মনস্টার’ অ্যানথোলজির চতুর্থ কিস্তি। এবারই প্রথম এই অ্যানথোলজির কেন্দ্রীয় চরিত্র একজন নারী।

লিজির চরিত্রে এলা বিটি

সিরিজটির নির্মাতা রায়ান মারফি ও ইয়ান ব্রেনান। ব্রেনান শোরানার ও নির্বাহী প্রযোজক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ছয়টি পর্ব পরিচালনা করেছেন ম্যাক্স উইঙ্কলার এবং দুটি পর্ব পরিচালনা করেছেন সারা অ্যাডিনা স্মিথ।

লিজি বোর্ডেনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন এলা বিটি। গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য চরিত্রে আছেন ভিকি ক্রিপস, চার্লি হানাম, রেবেকা হল, বিলি লর্ড, জেসিকা বার্ডেন ও সারা পলসন। ভিকি ক্রিপস অভিনয় করেছেন বোর্ডেন পরিবারের গৃহকর্মী ব্রিজেট ‘ম্যাগি’ সুলিভানের চরিত্রে। চার্লি হানাম অ্যান্ড্রু বোর্ডেন এবং রেবেকা হল অ্যাবি বোর্ডেনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। লিজির বড় বোন এমার ভূমিকায় আছেন বিলি লর্ড।

এলা বিটির জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। কারণ, ‘মনস্টার’ অ্যানথোলজির প্রথম নারীকেন্দ্রিক গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্রে তিনিই অভিনয় করেছেন।

১৮৯২ সালের সেই হত্যাকাণ্ড

১৮৯২ সালের ৪ আগস্ট ফল রিভারের বোর্ডেন পরিবারের বাড়িতে অ্যান্ড্রু ও অ্যাবির মরদেহ পাওয়া যায়। দুজনকেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছিল।

বাড়িতে তখন ছিলেন লিজি ও পরিবারের গৃহকর্মী ব্রিজেট সুলিভান। ফলে তদন্তের শুরু থেকেই লিজিকে সন্দেহ করা হয়। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ১৮৯৩ সালে শুরু হয় বিচার।

তবে প্রসিকিউশনের হাতে ছিল মূলত পরিস্থিতিগত প্রমাণ। কোনো প্রত্যক্ষদর্শী লিজিকে হত্যাকাণ্ড ঘটাতে দেখেননি। শেষ পর্যন্ত ২০ জুন ১৮৯৩ সালে জুরি তাঁকে সব অভিযোগ থেকে খালাস দেয়।

আইনিভাবে মামলার সেখানেই সমাপ্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লিজি বোর্ডেনের গল্প থেমে থাকেনি।

কেন আজও সন্দেহের কেন্দ্রে লিজি?

লিজির বিরুদ্ধে সন্দেহের পেছনে ছিল বেশ কিছু ঘটনা। তদন্তে তাঁর বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরিবারের সম্পত্তি ও পারিবারিক সম্পর্ক নিয়েও নানা আলোচনা ছিল। হত্যাকাণ্ডের আগে বিষাক্ত প্রুশিক অ্যাসিড সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন লিজি—এমন তথ্যও মামলায় উঠে আসে। তবে সেটি বাবা ও সৎমাকে হত্যার পরিকল্পনার অংশ ছিল—এমন প্রমাণ আদালতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

লিজিকে ঘিরে সবচেয়ে পরিচিত বিষয়গুলোর একটি হলো একটি পুরোনো ছড়া। সেখানে বলা হয়, কুঠার দিয়ে সৎমাকে ৪০ বার এবং বাবাকে ৪১ বার আঘাত করেছিলেন লিজি। কিন্তু ঐতিহাসিক নথির সঙ্গে এই সংখ্যার মিল নেই। ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, অ্যাবি বোর্ডেনকে ১৯ বার এবং অ্যান্ড্রু বোর্ডেনকে ১১ বার আঘাত করা হয়েছিল।

সিরিজে প্রেমের গল্প, ইতিহাসে প্রমাণ নেই

নতুন সিরিজের অন্যতম আলোচিত বিষয় লিজি ও ব্রিজেট সুলিভানের সম্পর্ক। গল্পে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়ে পরে তা প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। এই সম্পর্ককে লিজির জীবনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

বাস্তবে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল—এমন নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। ব্রিজেট ছিলেন বাস্তব চরিত্র এবং বোর্ডেন পরিবারের গৃহকর্মী। হত্যাকাণ্ডের দিন তিনিও বাড়িতে ছিলেন। তবে লিজির সঙ্গে মিলে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন—এমন প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

ইতিহাসের ফাঁক পূরণ করেছে নির্মাতাদের কল্পনা

পরিচালক ম্যাক্স উইঙ্কলার জানিয়েছেন, সিরিজটি কেবল পুরোনো হত্যাকাণ্ড পুনর্নির্মাণ করতে চায়নি। লিজির গল্পের মধ্য দিয়ে নারীর ওপর সামাজিক বিধিনিষেধ, দমিয়ে রাখা আকাঙ্ক্ষা ও ক্ষোভের মতো বিষয়ও তুলে ধরতে চেয়েছেন নির্মাতারা।

তাই সিরিজটি পুরোপুরি গম্ভীর ঐতিহাসিক নাটক নয়; এতে কালো রসিকতারও ব্যবহার রয়েছে। নির্মাতারা সে সময়ের পরিবেশ ও পোশাক-আশাকের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক বাস্তবতার প্রতি যতটা সম্ভব বিশ্বস্ত থাকার চেষ্টা করলেও, যেসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই, সেসব জায়গায় নিজেদের গল্প নির্মাণ করেছেন।

ফলে ‘মনস্টার: দ্য লিজি বোর্ডেন স্টোরি’কে সরাসরি ইতিহাসের পুনর্নির্মাণের চেয়ে সত্য ঘটনার ওপর নির্মিত একটি নাটকীয় ব্যাখ্যা হিসেবে দেখাই প্রাসঙ্গিক।

তাহলে মা–বাবাকে কি সত্যিই হত্যা করেছিলেন লিজি?

নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। লিজির বিরুদ্ধে পরিস্থিতিগত প্রমাণ ছিল, কিন্তু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁকে চূড়ান্তভাবে যুক্ত করার মতো প্রমাণ আদালতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ১৮৯৩ সালের বিচারে তিনি খালাস পান।

পরবর্তী ১৩৪ বছরে বই, সিনেমা, টেলিভিশন ও নানা কল্পকাহিনিতে লিজিকে কখনো খুনি, কখনো নিপীড়িত নারী, আবার কখনো বিদ্রোহী তরুণী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। নতুন নেটফ্লিক্স সিরিজ সেই দীর্ঘ সাংস্কৃতিক আগ্রহেরই আরেকটি অধ্যায়।

তাই সিরিজটি দেখার সময় একটি বিষয় আলাদা করে মনে রাখা দরকার—পর্দায় দেখানো সব ঘটনা ইতিহাসে প্রমাণিত নয়। ১৮৯২ সালের সেই বাড়িতে ঠিক কী ঘটেছিল, তার চূড়ান্ত উত্তর হয়তো আর কখনো জানা যাবে না।

আইনের বিচারে লিজি বোর্ডেন খালাস পেয়েছিলেন। আর ইতিহাসেও আজ পর্যন্ত এমন চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যার ভিত্তিতে তাঁকে হত্যাকারী বলা যায়। রহস্যটা সেখানেই—আর সেই রহস্যই ১৩৪ বছর পরও লিজি বোর্ডেনকে নতুন গল্পের কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনছে।

কালের আলো/এসএ

বঙ্গোপসাগর ঘিরে নীল সমৃদ্ধির নতুন দুয়ার, টেকসই উন্নয়নে অভিজ্ঞতার বাস্তব প্রয়োগে জোর নৌবাহিনী প্রধানের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৪ অপরাহ্ণ
বঙ্গোপসাগর ঘিরে নীল সমৃদ্ধির নতুন দুয়ার, টেকসই উন্নয়নে অভিজ্ঞতার বাস্তব প্রয়োগে জোর নৌবাহিনী প্রধানের

বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশিতে লুকিয়ে আছে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও আঞ্চলিক উন্নয়নের বিপুল সম্ভাবনা। সেই সম্ভাবনাকে টেকসই অগ্রগতিতে রূপ দিতে প্রয়োজন সামুদ্রিক সম্পদের পরিকল্পিত ব্যবহার, কার্যকর সমুদ্র শাসনব্যবস্থা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা। তবে সম্ভাবনাকে বাস্তব অর্জনে পরিণত করার জন্য জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার কার্যকর প্রয়োগও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়টিই গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম।

তিনি বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস ফেলোশিপ বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে।’ একই সঙ্গে অর্জিত জ্ঞান ও পেশাগত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সামুদ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই নীল অর্থনীতি বিকাশে অবদান রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

  • বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা
  • অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সামুদ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও টেকসই নীল অর্থনীতি বিকাশে ফেলোদের প্রতি আহ্বান

রোববার (১১ অক্টোবর) ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মেরিটাইম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিমরাড) সেমিনার হলে অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস ফেলোশিপ ২০২৬-এর আওতায় ‘বঙ্গোপসাগরে টেকসই নীল অর্থনীতির বিকাশ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নৌবাহিনী প্রধান। তিনি পদাধিকারবলে বিমরাডের প্রধান পৃষ্ঠপোষকও।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার উপ-হাইকমিশনার ক্লিনটন পব। এ ছাড়া বিমরাডের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল ড. খোন্দকার আখতার হোসেন, অস্ট্রেলিয়ার উলংগং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় বিভিন্ন দেশের ১৫ জন ফেলো অংশ নেন।

জ্ঞান বিনিময় থেকে বাস্তব প্রয়োগ, নৌবাহিনী প্রধানের বিশেষ গুরুত্বারোপ
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম জ্ঞান বিনিময় এবং অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তবক্ষেত্রে প্রয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি এই মূল্যবান সুযোগ লাভের জন্য ফেলোদের অভিনন্দন জানান। নৌবাহিনী প্রধাব বলেন, এ ফেলোশিপ বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ফেলোদের অর্জিত জ্ঞান ও পেশাগত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাস্তবসম্মত সামুদ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই নীল অর্থনীতি বিকাশে অবদান রাখার আহ্বান জানান।

নৌবাহিনী প্রধানের বক্তব্যে দুটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে—অর্জিত জ্ঞানের বাস্তব প্রয়োগ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার সম্প্রসারণ। তাঁর বক্তব্যের তাৎপর্য হলো, ফেলোশিপের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও পেশাগত অভিজ্ঞতা সামুদ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই নীল অর্থনীতি বিকাশে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি অভিজ্ঞতা বিনিময়ের গুরুত্বও সামনে এনেছেন।

সম্পদ আহরণ নয়, টেকসই সমৃদ্ধিই লক্ষ্য
বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের মৎস্যসম্পদ, সামুদ্রিক বাণিজ্য, নৌপরিবহন ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এই সমুদ্রের সম্পদের পরিকল্পিত ব্যবহার অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং খাদ্যনিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ সম্ভাবনার পূর্ণ সুফল পেতে হলে সম্পদ আহরণের পাশাপাশি সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

নীল অর্থনীতির প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে সমুদ্রের সম্পদকে কতটা দায়িত্বশীলভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে তার ওপর। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা গেলে বঙ্গোপসাগর বর্তমান প্রজন্মের সমৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও সম্ভাবনার ভান্ডার হয়ে থাকবে। কর্মশালায় সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ এই লক্ষ্য অর্জনের প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরেছে।

বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার সহযোগিতায় নতুন দিগন্ত
বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক পরিবেশ, সম্পদ ও নিরাপত্তার সঙ্গে একাধিক দেশের স্বার্থ জড়িত। ফলে এই অঞ্চলের সম্ভাবনাকে টেকসই উন্নয়নে রূপ দিতে একক উদ্যোগের পাশাপাশি প্রয়োজন পারস্পরিক সহযোগিতা, তথ্য বিনিময় এবং সমন্বিত গবেষণা। বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে পেশাগত যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় জোরদার হলে সামুদ্রিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে।

কর্মশালায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের ১৫ জন ফেলো সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সমুদ্র শাসনব্যবস্থা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। পাশাপাশি যৌথ গবেষণা, নীতিনির্ধারণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র চিহ্নিত করার সুযোগ পান। এই ধরনের পেশাগত যোগাযোগ ভবিষ্যতে আঞ্চলিক অংশীদারত্ব সুসংহত করার ভিত্তি তৈরি করতে পারে। তবে সহযোগিতার সম্ভাবনাকে বাস্তব অর্জনে রূপ দিতে ধারাবাহিক যোগাযোগ, জ্ঞান বিনিময় এবং বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ প্রয়োজন। নৌবাহিনী প্রধানের বক্তব্যে অর্জিত জ্ঞান ও পেশাগত অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর যে আহ্বান এসেছে, তা এই ধরনের সহযোগিতাকে ফলপ্রসূ করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় বাড়বে সামুদ্রিক সক্ষমতা
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যবিষয়ক বিভাগের পরিচালনায় এ ফেলোশিপের আয়োজন করেছে দেশটির উলংগং বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্ট্রেলীয় জাতীয় সমুদ্রসম্পদ ও নিরাপত্তা কেন্দ্র। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা, গবেষণা ও নীতিনির্ধারণে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের সুযোগ পান।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাকে দেশীয় বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে সামুদ্রিক গবেষণা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও নীতিনির্ধারণের মানোন্নয়নে তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। পেশাজীবীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হলে গবেষণার ফল বিনিময়, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের সুযোগও সম্প্রসারিত হতে পারে। এর ফলে সামুদ্রিক সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে ইতিবাচক অগ্রগতির ক্ষেত্র তৈরি হবে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (অপারেশন্স) রিয়ার এডমিরাল গোলাম সাদেকসহ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জ্ঞান, সহযোগিতা ও বাস্তব উদ্যোগেই টেকসই অগ্রগতি
বঙ্গোপসাগরের বিপুল সম্পদ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে টেকসই সমৃদ্ধিতে রূপান্তরের জন্য প্রয়োজন দূরদর্শী পরিকল্পনা, দক্ষ জনবল, বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ধারাবাহিকতা। এ ক্ষেত্রে নৌবাহিনী প্রধানের বক্তব্যে জ্ঞান বিনিময় ও বাস্তব প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ কর্মশালার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

ফেলোশিপে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা গবেষণা, নীতিনির্ধারণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে কার্যকরভাবে যুক্ত করা গেলে সামুদ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইতিবাচক ফল পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে পেশাগত যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হলে বঙ্গোপসাগরের সম্ভাবনাকে টেকসই উন্নয়নে রূপ দেওয়ার পথও প্রসারিত হবে।

নৌবাহিনী প্রধানের আহ্বানের মূল কথা
এই কর্মশালা বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক সম্পদকে দায়িত্বশীলভাবে কাজে লাগানো এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের ক্ষেত্রে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। নৌবাহিনী প্রধানের আহ্বানের মূল কথা—অর্জিত জ্ঞান ও পেশাগত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাস্তবসম্মত সামুদ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই নীল অর্থনীতি বিকাশে অবদান রাখা। এই আহ্বান বাস্তব উদ্যোগে প্রতিফলিত হলে বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী ভিত্তি পেতে পারে।

কালের আলো/এমএএএমকে

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে ১০৮ পদে চাকরি

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে ১০৮ পদে চাকরি

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে চিকিৎসক ও কর্মচারী পদে ১০৮ জনকে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত ভিত্তিতে এসব জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত আবেদন ফরম পূরণ করে ১৭ অক্টোবরের মধ্যে আবেদন করতে হবে।

প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চিকিৎসক ও কর্মচারী—এই দুই শ্রেণিতে নিয়োগ দেওয়া হবে। চিকিৎসক পদে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার এবং কর্মচারী পদে ওয়ার্ড বয়/আয়া, পিয়ন ও অ্যাটেনডেন্ট নিয়োগ দেওয়া হবে। পদভেদে শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, বয়সসীমা ও আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

চিকিৎসক পদে নিয়োগ

চিকিৎসক ক্যাটাগরিতে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার পদে মোট ৫০ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে শিশু মেডিসিন বিভাগে ৩৫টি, শিশু সার্জারি বিভাগে ৯টি, শিশু অ্যানেসথেসিয়া বিভাগে ৫টি এবং ইএনটি বিভাগে ১টি পদ রয়েছে। এসব পদ নবম গ্রেডের। বেতন স্কেল ৪৪ হাজার থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা।

আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীকে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) স্বীকৃত ও নিবন্ধিত মেডিক্যাল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে এবং এমবিবিএস ডিগ্রি থাকতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) বা বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) স্বীকৃত অন্তত এক বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

শিশু মেডিসিন, শিশু সার্জারি, শিশু অ্যানেসথেসিয়া ও ইএনটি—যে বিভাগে আবেদন করা হবে, সেই বিভাগের সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হবে।

চিকিৎসক পদে আবেদনকারীদের বয়স সর্বোচ্চ ৩৫ বছর হতে হবে। তবে ডিএইচসি, এমডি, এমএস ও এফসিপিএসের মতো উচ্চতর যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা দুই বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিকিৎসক পদে আবেদন করতে পরিচালক, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অনুকূলে যেকোনো তফসিলি ব্যাংক থেকে ২ হাজার টাকার অফেরতযোগ্য পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট জমা দিতে হবে।

কর্মচারী পদে নিয়োগ

কর্মচারী ক্যাটাগরিতে মোট ৬৮ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ওয়ার্ড বয়/আয়া পদে ৩৩ জন, পিয়ন বা অফিস সহায়ক পদে ১০ জন এবং অ্যাটেনডেন্ট পদে ২৫ জন নেওয়া হবে। অ্যাটেনডেন্ট পদগুলো ওটি, এক্স-রে, ল্যাব ও কার্ডিয়াক বিভাগে।

এসব পদ ২০তম গ্রেডের। বেতন স্কেল ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা।

ওয়ার্ড বয়/আয়া ও পিয়ন পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীদের এসএসসি পাস হতে হবে। ওয়ার্ড বয়/আয়া পদে সমপদে বা সংশ্লিষ্ট কাজে অন্তত এক বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। অন্যদিকে, পিয়ন বা অফিস সহায়ক পদে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কিংবা প্রকল্পে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রার্থীরা অগ্রাধিকার পাবেন।

অ্যাটেনডেন্ট পদে এসএসসি পাসের পাশাপাশি সমপদে বা সংশ্লিষ্ট কাজে অন্তত দুই বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে এ ক্ষেত্রেও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

কর্মচারী পদে আবেদনকারীদের বয়স সর্বোচ্চ ৩২ বছর হতে হবে। এ শ্রেণির পদে আবেদনের জন্য পরিচালক, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অনুকূলে যেকোনো তফসিলি ব্যাংক থেকে ৫০০ টাকার অফেরতযোগ্য পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট জমা দিতে হবে।

যেভাবে আবেদন করবেন

আগ্রহী প্রার্থীদের বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে নির্ধারিত আবেদন ফরম ডাউনলোড করে পূরণ করতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, অভিজ্ঞতার সনদ, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিএমডিসি নিবন্ধনের প্রমাণ, জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্মনিবন্ধন সনদ, নাগরিকত্ব সনদ, তিন কপি ল্যাব প্রিন্ট পাসপোর্ট সাইজের সত্যায়িত ছবি এবং নির্ধারিত আবেদন ফির পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট সংযুক্ত করতে হবে।

পূর্ণাঙ্গ আবেদনপত্র আগামী ১৭ অক্টোবরের মধ্যে অফিস চলাকালীন সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টার মধ্যে সরাসরি অথবা ডাকযোগে পাঠাতে হবে। আবেদনপত্র পাঠানোর ঠিকানা: পরিচালক, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা-১২০৭। খামের ওপর আবেদন করা পদের নাম স্পষ্টভাবে লিখতে হবে।

নিয়োগ পরীক্ষা

প্রার্থীদের প্রথমে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে। আবেদন করার আগে প্রার্থীদের নিজ নিজ পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, বয়সসীমা এবং আবেদন ফি সম্পর্কে মূল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি থেকে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করে নেওয়া উচিত।

কালের আলো/এসএ

সৌদি আরবে এক সপ্তাহে গ্রেপ্তার প্রায় ১৪ হাজার, ফেরত ১০ হাজারের বেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
সৌদি আরবে এক সপ্তাহে গ্রেপ্তার প্রায় ১৪ হাজার, ফেরত ১০ হাজারের বেশি

সৌদি আরবে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৪ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। একই সময়ে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে ১০ হাজার ৪৩১ জন প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্যের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে গালফ নিউজ।

এক সপ্তাহে গ্রেপ্তার ১৩ হাজার ৮৮৯ জন

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে নিরাপত্তা বাহিনী। এ সময় মোট ১৩ হাজার ৮৮৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ হাজার ৭৮৫ জনের বিরুদ্ধে আবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ৩ হাজার ৭১০ জন সীমান্ত সুরক্ষা আইন এবং ৩ হাজার ৩৯৪ জন শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক হয়েছেন।

সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের চেষ্টায় আটক ১ হাজার ৩৩৮ জন

সৌদি আরবে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টার সময় সীমান্ত এলাকা থেকে আরও ১ হাজার ৩৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৬ শতাংশ ইথিওপীয়, ৩৩ শতাংশ ইয়েমেনি এবং বাকি ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। এ ছাড়া অবৈধভাবে সৌদি আরব ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টার সময় আরও ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

১০ হাজার ৪৩১ প্রবাসীকে দেশে ফেরত

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর ১০ হাজার ৪৩১ জন প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে কোন কোন দেশের কতজন নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।

এদিকে, আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনকারীদের যাতায়াত, বাসস্থান কিংবা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার অভিযোগে ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ।

সহায়তাকারীদের জন্য কঠোর শাস্তির সতর্কতা

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশে সহায়তা করা, নথিপত্রহীন ব্যক্তিদের পরিবহন করা, আশ্রয় দেওয়া কিংবা অন্য কোনোভাবে সহযোগিতা করলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে।

এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসীদের বৈধ আবাসন ও কাজের অনুমতি বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট আইন মেনে চলার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে এই অভিযান।

কালের আলো/এসএ