খুঁজুন
                               
, ,
           

ঝড়ে উড়ে গেছে চাল, ভাঙা পা নিয়ে স্বামীকে আগলে হালেখা

শ্রীপুর(গাজীপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫১ অপরাহ্ণ
ঝড়ে উড়ে গেছে চাল, ভাঙা পা নিয়ে স্বামীকে আগলে হালেখা

ভাঙা পায়ে ঠিকমতো হাঁটতে পারেন না হালেখা খাতুন। বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে শরীর। নিজের চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই, ঘরে নিয়মিত খাবারও জোটে না। মাথার ওপর নিরাপদ ছাউনিও নেই। এর মধ্যেই প্রায় দুই বছর ধরে শয্যাশায়ী ৮৫ বছর বয়সী স্বামী রুস্তম। স্বামীর দেখাশোনার পাশাপাশি দুমুঠো খাবারের জোগান দিতে প্রতিদিন শুকনো ডাল, খরকুটো ও লাকড়ি সংগ্রহ করে বিক্রি করেন হালেখা।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ গাজীপুর গ্রামের জাবেদ আলী মোড় এলাকায় একটি জীর্ণ ঘরে বসবাস করেন হালেখা ও রুস্তম দম্পতি। মাত্র ১০ ফুট লম্বা ও ৮ ফুট চওড়া ঘরটির অর্ধেক টিনের চাল গত বৈশাখ মাসে কালবৈশাখী ঝড়ে উড়ে যায়। এরপর প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও নতুন করে চাল দেওয়ার সামর্থ্য হয়নি তাদের।

বৃষ্টি নামলেই ঘরের ভেতর পানি পড়ে। তখন অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে পাশের একটি দোকানের বারান্দায় আশ্রয় নিতে হয় হালেখাকে। বৃষ্টিভেজা মেঝে, ঠান্ডা বাতাস আর পোকামাকড়ের ভয় নিয়েই কাটে তাদের রাত।

হালেখা জানান, তাদের নিজেদের কোনো জায়গা-জমি নেই। ভাই মানবিক বিবেচনায় কয়েক ফুট জায়গা দেওয়ায় পুরোনো টিন দিয়ে সেখানে ছোট একটি ঘর তৈরি করেছিলেন। সেই ঘরটিই ছিল তাদের একমাত্র আশ্রয়। ঝড়ে চাল উড়ে যাওয়ার পর সেটিও এখন অনিরাপদ হয়ে পড়েছে।

প্রায় ১০ বছর ধরে কোনো কাজ করতে পারেন না রুস্তম। হাঁপানি, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে ভুগছেন তিনি। প্রায় দুই বছর ধরে শয্যাশায়ী। একসময় স্বামীকে দেখাশোনার পাশাপাশি দৈনিক হাজিরাভিত্তিক শ্রমিকের কাজ করতেন হালেখা।

তবে প্রায় দুই বছর আগে গরুর দড়িতে পা পেঁচিয়ে পড়ে গিয়ে তার একটি পা ভেঙে যায়। অর্থের অভাবে যথাযথ চিকিৎসা করাতে পারেননি। ফলে সেই ভাঙা পা নিয়েই এখনও কষ্ট করে চলাফেরা করতে হয় তাকে।

বর্তমানে প্রতিদিন শুকনো ডাল, খরকুটো ও লাকড়ি সংগ্রহ করে স্থানীয় চায়ের দোকান ও প্রতিবেশীদের কাছে বিক্রি করেন হালেখা। এতে প্রতিদিন আয় হয় মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। এই সামান্য আয় দিয়েই কোনো দিন তিন বেলা, আবার কোনো দিন এক বেলা খাবার জোটে তাদের।

কথা বলার সময় দীর্ঘদিনের কষ্ট ফুটে ওঠে হালেখার চোখেমুখে। তিনি বলেন, জন্মের পর থেকেই দুঃখ-কষ্টে জীবন কেটেছে। সুখ কী, তা যেন তার কপালে নেই। স্বামীর ওষুধ কিনতে না পারা কিংবা কখনো না খেয়ে থাকার কষ্টের চেয়েও বৃষ্টির সময় মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকাই তার কাছে বড় সমস্যা।

শয্যাশায়ী রুস্তম বলেন, তিনি আর কাজ করতে পারেন না। এমনকি তার স্ত্রীও এখন তাকে ঠিকমতো টেনে নিতে পারেন না। তাদের এক ছেলে থাকলেও তার শারীরিক অবস্থাও ভালো নয়। অন্যের রিকশা ভাড়া নিয়ে চালিয়ে নিজের সংসার চালাতেই তাকে হিমশিম খেতে হয়। ফলে বৃদ্ধ মা-বাবার জন্য আলাদাভাবে প্রয়োজনীয় খরচ বহন করা তার পক্ষেও সম্ভব হচ্ছে না।

গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহবুব আলম বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কালের আলো/এমএসআইপি 

হাম কেড়ে নিচ্ছে সঞ্চয়, জমজ সন্তান নিয়ে দিশেহারা মা-বাবা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
হাম কেড়ে নিচ্ছে সঞ্চয়, জমজ সন্তান নিয়ে দিশেহারা মা-বাবা

চট্টগ্রামে হামে আক্রান্ত জমজ দুই সন্তানকে নিয়ে দেড় মাস ধরে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটছেন এক দম্পতি। সন্তানদের চিকিৎসায় ইতোমধ্যে প্রায় সাত লাখ টাকা খরচ হয়েছে। জমানো টাকা শেষ হওয়ার পাশাপাশি গয়না বিক্রি এবং স্বজনদের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা ধার করেও চিকিৎসা চালিয়েছেন তারা। এখন হাতে কোনো টাকা না থাকায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে সন্তানদের নিয়ে দিশেহারা বাবা-মা।

চট্টগ্রাম নগরীর কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকার গার্মেন্টসকর্মী মিজানুর রহমান ও ইয়াসমিন বেগম দম্পতির জমজ দুই ছেলে ইয়াসিন ও ইয়ামিনের জন্ম চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি। জন্মের পর সাত মাস মোটামুটি সুস্থই ছিল তারা। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে দুই শিশুর জ্বর ও শ্বাসকষ্ট শুরু হলে শুরু হয় হাসপাতালে ছোটাছুটি।

প্রথমে ইয়াসিনকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার কয়েক দিন পর আবারও ১০৪ ডিগ্রি জ্বর, মুখে ঘা ও চোখে সংক্রমণ দেখা দেয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার শরীরে হাম শনাক্ত হয়। পরে শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে তাকে আবার আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

এদিকে হাসপাতালে থাকা ইয়াসিনের জমজ ভাই ইয়ামিনও হামে আক্রান্ত হয়। সম্প্রতি চমেক হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ইয়াসিন ৯ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে অন্য একটি শিশুর সঙ্গে একই শয্যায় চিকিৎসা নিচ্ছে। আর ইয়ামিন চিকিৎসাধীন রয়েছে হাম ওয়ার্ডে।

ইয়াসমিন বেগম বলেন, দেড় মাস ধরে তিনি হাসপাতালে রয়েছেন। মাঝখানে মাত্র এক রাত বাসায় থাকতে পেরেছেন। সন্তানদের চিকিৎসায় প্রায় সাত লাখ টাকা খরচ হয়েছে। গায়ের সব অলংকার বিক্রি করেছেন এবং বোন ও বোনের জামাইয়ের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা ধার করেছেন। এখন আর কোনো টাকা নেই।

তিনি জানান, তার স্বামী একটি পোশাক কারখানায় মাসে সাড়ে ১২ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করেন। সন্তানদের চিকিৎসার জন্য দেড় মাস ধরে হাসপাতালে থাকায় তিনিও নিয়মিত কর্মস্থলে যেতে পারছেন না।

চট্টগ্রামে বাড়ছে হামের সংক্রমণ

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলা ও মহানগর মিলিয়ে সন্দেহজনক হাম আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ১২২ জন। এর মধ্যে নগরীতে আক্রান্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৭৫২ জন এবং জেলার ১৫ উপজেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭০ জন।

বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ২৭৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত ৭৪৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। নিশ্চিত হামে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

চমেকের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও হাম গবেষক ডা. কামরুন নাহার বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে ১২ থেকে ১৫ জনের মধ্যে রোগটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই আক্রান্ত রোগীকে আইসোলেশনে রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি।

তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকটের কারণে একই শয্যায় একাধিক শিশুকে চিকিৎসা দেওয়ায় হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে।

চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা মিয়া বলেন, হাম শনাক্ত হওয়ার আগেই অনেক রোগী বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসা নেন। এতে তাদের সংস্পর্শে এসে অন্য রোগীরাও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। আক্রান্ত রোগীদের জন্য আলাদা হাসপাতালের ব্যবস্থা করা গেলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি চিকিৎসাও সহজ হবে।

কালের আলো/এম/এসআইপি 

রিয়াদে হামলার সতর্কতার পরপরই বিকট বিস্ফোরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১৩ অপরাহ্ণ
রিয়াদে হামলার সতর্কতার পরপরই বিকট বিস্ফোরণ

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে একাধিক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রাজধানীতে বিমান হামলার সতর্কবার্তা জারির পরপরই বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন এএফপির সাংবাদিকেরা। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

রাত ৩টার কিছু আগে রিয়াদের বাসিন্দাদের মুঠোফোনে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। এতে পুরো এলাকা শত্রুপক্ষের বিমান, ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকিতে রয়েছে জানিয়ে নাগরিকদের ঘরের ভেতরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সতর্কবার্তা জারির কিছুক্ষণ পর এএফপির সাংবাদিকেরা দুটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। প্রায় ৩০ মিনিট পর হামলার ঝুঁকি কমে গেলে জরুরি সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী বর্তমানে সৌদি আরবে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে। তবে জুলাইয়ে ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর এবারই প্রথম সৌদি রাজধানী সরাসরি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি মাসে হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নিতে অভিযান জোরদার করেছে। এর ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হয়েছে।

হুতিদের নৌ অবরোধের কারণে সৌদি আরবের জ্বালানি তেল রপ্তানিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সামুদ্রিক জাহাজ চলাচলের তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের হিসাবে, গত জুলাই থেকে বাব আল-মানদেব দিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে গত সপ্তাহেও তেলবাহী পাঁচটি জাহাজ ওই জলপথ অতিক্রম করেছে।

এদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের কারণে ইয়েমেনে ১ লাখ ১২ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আরও প্রায় ৩ হাজার মানুষ সমুদ্রপথে পার্শ্ববর্তী জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছেন।

হুতিরা অবশ্য দাবি করে আসছে, সৌদি আরবের জাহাজ ছাড়া অন্য দেশের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য আন্তর্জাতিক এই জলপথ উন্মুক্ত ও নিরাপদ থাকবে।

সূত্রঃএএফপি

কালের আলো/এসএ

এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলারের ফি আরও এক বছর বাড়াল ট্রাম্প প্রশাসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলারের ফি আরও এক বছর বাড়াল ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসার নির্দিষ্ট আবেদনে ১ লাখ ডলারের অর্থ প্রদানের শর্ত আরও এক বছর বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর নতুন ঘোষণা দিয়ে এ বিধিনিষেধ ২০২৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বহাল রাখার কথা জানানো হয়েছে।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম চালু হওয়া এই নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা কোনো বিদেশি কর্মীর জন্য নির্দিষ্ট এইচ-১বি আবেদন করা হলে নিয়োগদাতাকে ১ লাখ ডলার দিতে হয়। তবে জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা খাতকে এ শর্ত থেকে ছাড় দেওয়ার ক্ষমতা মার্কিন প্রশাসনের রয়েছে।

এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো প্রযুক্তি, প্রকৌশলসহ বিশেষায়িত পেশায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে পারে। ভারত ও চীনসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীদের জন্য এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, কিছু নিয়োগদাতা তুলনামূলক কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন কর্মীদের ওপর চাপ তৈরি করছে। প্রশাসনের ভাষ্য, বড় অঙ্কের অর্থ প্রদানের শর্ত কম বেতন ও কম দক্ষতার কর্মী নিয়োগ নিরুৎসাহিত করবে এবং উচ্চ দক্ষতার কর্মীদের নিয়োগকে উৎসাহিত করবে।

তবে এই নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আইনি বিরোধ চলছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোস্টনের একটি ফেডারেল আদালত ১ লাখ ডলারের ফি আরোপকে বেআইনি বলেছিল। ট্রাম্প প্রশাসন ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। ইউএস চেম্বার অব কমার্সও পৃথকভাবে এই ফি চ্যালেঞ্জ করেছে। বিষয়গুলো এখন আদালতে বিচারাধীন।

কার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়

নতুন ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা নির্দিষ্ট এইচ-১বি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই অর্থ প্রদানের শর্ত বহাল থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত শিক্ষার্থী যারা পরবর্তীতে এইচ-১বি মর্যাদায় যাচ্ছেন এবং বিদ্যমান এইচ-১বি ভিসা নবায়নের ক্ষেত্রে এ বিধিনিষেধ প্রযোজ্য নয়।

হোয়াইট হাউসের ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের নীতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ৭০০টির বেশি এইচ-১বি আবেদনের সঙ্গে ১ লাখ ডলারের অর্থ প্রদান করা হয়েছে।

আবেদন যাচাই হবে আরও কঠোরভাবে

একই দিনে ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি আবেদন যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও নতুন নির্দেশনা দিয়েছে। কোনো নিয়োগদাতা সম্প্রতি একই ধরনের মার্কিন কর্মী ছাঁটাই করেছে কি না বা ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে কি না, আবেদন পর্যালোচনার সময় তা বিবেচনায় নেওয়া হবে। এ ছাড়া মজুরি, শিল্পখাতের পরিস্থিতি ও চাকরির ধরনসংক্রান্ত তথ্যও আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ের মাধ্যমে বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফলে নতুন সিদ্ধান্তে শুধু এইচ-১বি ভিসার নির্দিষ্ট আবেদনে বড় অঙ্কের অর্থ প্রদানের শর্তই বহাল থাকছে না, একই সঙ্গে বিদেশি কর্মী নিয়োগে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর সাম্প্রতিক কর্মী ছাঁটাইয়ের তথ্যও আরও গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হবে।

কালের আলো/এসএ