খুঁজুন
                               
, ,
           

চিত্রা নদীতে সেতু নেই, ৩ গ্রামের মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো

যশোর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ
চিত্রা নদীতে সেতু নেই, ৩ গ্রামের মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার তিন গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে চিত্রা নদীর ওপর সেতুর অভাব। নদী পারাপারে স্থানীয়দের ভরসা প্রায় ৫০ মিটার দীর্ঘ একটি বাঁশ-কাঠের সাঁকো। শুকনো মৌসুমে কোনোভাবে চলাচল করা গেলেও বর্ষায় পানি বাড়লে সাঁকোটি হয়ে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কৃষক ও ব্যবসায়ীসহ কয়েক হাজার মানুষকে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বাঘারপাড়ার খাজুরা বাজার থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত বন্দবিলা বিজয় চন্দ্র রায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়। আশপাশের ৭-৮টি গ্রামের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এখানে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। বড় খুদড়া, ছোট খুদড়া ও প্রেমচারা গ্রামের শতাধিক শিক্ষার্থী চিত্রা নদী পার হয়ে নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসীর আর্থিক সহায়তায় নদীর ওপর বাঁশ ও কাঠ দিয়ে প্রায় ৫০ মিটার দীর্ঘ সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের কারণে এর বিভিন্ন অংশ নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। বর্ষাকালে নদীর পানি বৃদ্ধি, কাদামাটি ও পিচ্ছিলতার কারণে সাঁকোটি পারাপারে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাইম হাসান জানায়, তার বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের দূরত্ব প্রায় আড়াই কিলোমিটার। প্রতিদিন বাইসাইকেল নিয়ে তাকে সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হয়। সাঁকো ব্যবহার করতে না পারলে প্রায় সাত কিলোমিটার পথ ঘুরে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। সম্প্রতি নদী খননের পর দুই পাড় আগের তুলনায় উঁচু হওয়ায় সাইকেল নিয়ে সাঁকোতে ওঠানামাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
বড় খুদড়া গ্রামের বাসিন্দা লিয়াকত আলী বলেন, এলাকার কৃষিপণ্য বিক্রির প্রধান বাজার খাজুরা ও পুলেরহাট। সেতু না থাকায় তাদের প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ ঘুরে বাজারে যেতে হয়। বছরের পর বছর ধরে এভাবেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, ছোট খুদড়ার ইউনুচ আলীর বন্দবিলা বাজারে কৃষি যন্ত্রপাতির দোকান রয়েছে। ব্যবসার প্রয়োজনে তাকে প্রতিদিন কয়েকবার সাঁকো পার হতে হয়। একইভাবে প্রেমচারা গ্রামের কামরুজ্জামানের বন্দবিলা বাজারে দর্জির দোকান থাকায় তাকেও দিনে একাধিকবার সাঁকো পার হতে হয়। তাদের মতে, সেতু নির্মাণ হলে বন্দবিলা বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ার পাশাপাশি আশপাশের হাট-বাজারে যাতায়াতের দূরত্বও অনেক কমে যাবে।
বন্দবিলা বিজয় চন্দ্র রায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরিতোষ কুমার মন্ডল বলেন, বর্ষা মৌসুমে বাঁশ ও কাঠের সাঁকোটি প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এ কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে যায়। প্রতি বছর সাঁকোটি মেরামতে বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করতে হয়।
বন্দবিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সবদুল হোসেন খান বলেন, প্রতি বছর সাঁকোর বাঁশ ও কাঠ পরিবর্তন করতে হয়। দীর্ঘ সাঁকোটি মেরামত করাও ব্যয়সাপেক্ষ। ইউনিয়ন পরিষদ সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করে। তবে দীর্ঘ হওয়ায় এতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। সামান্য অসাবধানতায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, সেতুটি নির্মাণ হলে শুধু শিক্ষার্থীদেরই সুবিধা হবে না; আশপাশের কয়েকটি গ্রামের দুই সহস্রাধিক মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও বাড়বে।
বাঘারপাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আশরাফুল আলম বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সমস্যার কথা শুনে তিনি সরেজমিনে সাঁকোটি পরিদর্শন করেছেন। সাঁকোর ওপরের কিছু কাঠ নতুন হলেও বেশিরভাগ খুঁটি নড়বড়ে হয়ে গেছে। দীর্ঘ সাঁকো মেরামত করে রাখা কঠিন। দীর্ঘদিনের দাবি হলেও সেতু নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভুপালী সরকার বলেন, সেতুর অভাবে স্থানীয়দের দুর্ভোগের কথা শুনে তিনি সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সেখানে অন্তত ৫০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু প্রয়োজন। মানুষের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের আলো/এম/এসআইপি

বরিশালে অনুষ্ঠিত হলো কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব

সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩৯ অপরাহ্ণ
বরিশালে অনুষ্ঠিত হলো কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব

‘ভক্ত কবীর জাতে জোলা, প্রেমভক্তিতে মাতোয়ালা, ধরেছে সে ব্রজের কালা দিয়ে সর্বস্ব ধন তাই’—ফকির লালন শাহের এই গানের বাণীকে সামনে রেখে বরিশালে অনুষ্ঠিত হয়েছে কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে লালন বিশ্ব সংঘের আয়োজনে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন আর রশীদ।

লালন বিশ্বসংঘের প্রধান নির্বাহী ও কবীর-লালন গবেষক আবদেল মাননানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস জান্নাত শিরীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপিকা ফয়জুন নাহার শেলী। বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় উৎসবটির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে কবীর ও লালনের দর্শন এবং তাঁদের ভাবধারা নিয়ে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করেন বক্তারা। তাঁরা বলেন, লালনের দর্শন আজ বিশ্ব দর্শনে পরিণত হয়েছে। তাঁর বাণী মানুষের মধ্যে বিভেদ ভুলে ঐক্য ও মানবতার চেতনা জাগায়। পাশাপাশি সন্ত কবীরের জীবন ও দর্শনও মানুষকে আলোকিত করে।

উৎসবের দ্বিতীয় পর্বে ঢাকা থেকে আগত কবীর-লালন মিউজিক্যাল মিশনের শিল্পীরা কবীরের ১০টি এবং লালনের ১০টি সংগীত পরিবেশন করেন। তাঁদের পরিবেশনায় উৎসবে ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়।

কালের আলো/এসএ

আইপিওর আগে নতুন এআই মডেল আনতে পারে অ্যানথ্রপিক

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৬ অপরাহ্ণ
আইপিওর আগে নতুন এআই মডেল আনতে পারে অ্যানথ্রপিক

শেয়ারবাজারে আসার প্রস্তুতির মধ্যেই নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল বাজারে আনার কথা ভাবছে অ্যানথ্রপিক। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, সম্ভাব্য নতুন মডেলটির প্রকাশের সময় এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। নিরাপত্তা যাচাইসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

অ্যানথ্রপিকের ওপর প্রতিযোগিতামূলক চাপ বাড়ছে। চলতি মাসে ওপেনএআই তাদের নতুন মডেল জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা উন্মোচনের পর ব্যবসায়িক গ্রাহকদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অ্যানথ্রপিক এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দারিও আমোদেই এআই উন্নয়নের গতি কিছুটা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ১২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক লেখায় তিনি বলেন, এআই মডেলের সক্ষমতা যে গতিতে বাড়ছে, নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা যাতে সেই গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারে, সে জন্য উন্নয়নের গতি ধীর করা প্রয়োজন।

তবে ব্যবসায়িক এআইয়ের বাজারে অ্যানথ্রপিক এখনো উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক হিসাবে হিসাব করা আয়ের হার ৬৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে ওপেনএআইয়ের এ হার ছিল ৪০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

অ্যানথ্রপিক ২০২৮ সালে ১৯০ থেকে ২০০ বিলিয়ন ডলার আয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে এটি পূর্ণ বছরের প্রকৃত আয় নয়; বর্তমান আয়ের গতির ভিত্তিতে করা হিসাব ও পূর্বাভাস।

নতুন মডেল তৈরিতে বড় বিনিয়োগের পাশাপাশি লাভজনক হওয়ার চাপও বাড়ছে অ্যানথ্রপিকের ওপর। উচ্চ সুদের হার এবং চীনের তুলনামূলক সস্তা ও উন্মুক্ত-ওজনভিত্তিক এআই মডেলের প্রতিযোগিতার কারণে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর টেকসই মুনাফা অর্জনের সক্ষমতার দিকেও।

এদিকে অ্যানথ্রপিকের সম্ভাব্য আইপিও নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে বলে দুটি সূত্র জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

কালের আলো/এসএ

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই মিলল কুবি শিক্ষকের নিখোঁজ ছেলের মরদেহ

কুমিল্লা প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৩ অপরাহ্ণ
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই মিলল কুবি শিক্ষকের নিখোঁজ ছেলের মরদেহ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষক ড. নাহিদার ১৩ বছরের নিখোঁজ ছেলে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের পাশের ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ