খুঁজুন
                               
, ,
           

বরিশালে অনুষ্ঠিত হলো কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব

সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩৯ অপরাহ্ণ
বরিশালে অনুষ্ঠিত হলো কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব

‘ভক্ত কবীর জাতে জোলা, প্রেমভক্তিতে মাতোয়ালা, ধরেছে সে ব্রজের কালা দিয়ে সর্বস্ব ধন তাই’—ফকির লালন শাহের এই গানের বাণীকে সামনে রেখে বরিশালে অনুষ্ঠিত হয়েছে কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে লালন বিশ্ব সংঘের আয়োজনে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন আর রশীদ।

লালন বিশ্বসংঘের প্রধান নির্বাহী ও কবীর-লালন গবেষক আবদেল মাননানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস জান্নাত শিরীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপিকা ফয়জুন নাহার শেলী। বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় উৎসবটির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে কবীর ও লালনের দর্শন এবং তাঁদের ভাবধারা নিয়ে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করেন বক্তারা। তাঁরা বলেন, লালনের দর্শন আজ বিশ্ব দর্শনে পরিণত হয়েছে। তাঁর বাণী মানুষের মধ্যে বিভেদ ভুলে ঐক্য ও মানবতার চেতনা জাগায়। পাশাপাশি সন্ত কবীরের জীবন ও দর্শনও মানুষকে আলোকিত করে।

উৎসবের দ্বিতীয় পর্বে ঢাকা থেকে আগত কবীর-লালন মিউজিক্যাল মিশনের শিল্পীরা কবীরের ১০টি এবং লালনের ১০টি সংগীত পরিবেশন করেন। তাঁদের পরিবেশনায় উৎসবে ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়।

কালের আলো/এসএ

সম্পদের চেয়ে সম্পর্ক দামি

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০০ অপরাহ্ণ
সম্পদের চেয়ে সম্পর্ক দামি

ইসলামে মানুষের জীবনে সম্পদের পাশাপাশি পারস্পরিক সম্পর্ক, আত্মীয়তার বন্ধন ও পরিবারের গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। পবিত্র কোরআনের সুরা আনফালের প্রথম আয়াতেও গনিমতের সম্পদ নিয়ে প্রশ্নের প্রসঙ্গে মুসলমানদের পারস্পরিক সম্পর্ক ঠিক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আয়াতটিতে বলা হয়েছে, গনিমতের সম্পদের বিষয়ে সিদ্ধান্তের এখতিয়ার আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের। এরপরই মুমিনদের আল্লাহকে ভয় করতে এবং নিজেদের পারস্পরিক সম্পর্ক সংশোধন করতে বলা হয়েছে। লেখকের মতে, এই আয়াতের তাৎপর্য হলো—প্রশ্ন যখন সম্পদ নিয়ে, তখনও আল্লাহ সম্পর্ক ঠিক রাখার বিষয়টিকে সামনে এনেছেন।

আজকের সমাজে সম্পদকে সাফল্যের অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে দেখা হলেও অর্থ ও সম্পদ মানুষের সব প্রয়োজন পূরণ করতে পারে না। অর্থ দিয়ে বাড়ি, চিকিৎসা কিংবা প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনা যায়; কিন্তু পরিবারের ভালোবাসা, মা-বাবার দোয়া কিংবা আপনজনের সঙ্গ কেনা যায় না।

একজন মানুষের ব্যাংকে কোটি টাকা থাকতে পারে, জমিজমা ও বড় বাড়ি থাকতে পারে; কিন্তু মা-বাবা, ভাই-বোন কিংবা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলে সেই সম্পদের মধ্যেও একাকিত্ব থেকে যেতে পারে। বিপরীতে সীমিত সম্পদের একজন মানুষ পরিবারের ভালোবাসা, আপনজনের সঙ্গ ও দোয়া নিয়ে জীবন কাটাতে পারেন।

সম্পদের আরেকটি সীমাবদ্ধতা হলো—হারানো মানুষকে তা ফিরিয়ে দিতে পারে না। একজন মা বা বাবা মারা গেলে পৃথিবীর কোনো সম্পদ তাঁকে ফিরিয়ে আনতে পারে না। প্রিয় ভাই-বোন কিংবা অন্য কোনো স্বজনকে হারালেও অর্থ তাঁদের বিকল্প তৈরি করতে পারে না।

ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকে সিলাতুর রাহিম বলা হয় এবং এ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই পরিবার ও আত্মীয়দের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখা শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, ধর্মীয়ভাবেও গুরুত্বপূর্ণ।

সুরা আনফালের প্রথম আয়াতের আলোচনায় লেখক একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন—বদর যুদ্ধের পর গনিমতের সম্পদ নিয়ে সাহাবিদের প্রশ্নের জবাবে প্রথমেই তাঁদের পারস্পরিক সম্পর্ক ঠিক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ সম্পদ কীভাবে বণ্টিত হবে, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ছিল মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব অক্ষুণ্ন রাখা।

এই দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পদ মানুষের জীবনকে স্বচ্ছল করতে পারে, কিন্তু সম্পর্ক জীবনকে অর্থবহ করে। অর্থ দিয়ে বসবাসের জন্য ঘর তৈরি করা যায়, কিন্তু ভালোবাসা ছাড়া পরিবার তৈরি করা যায় না।

তাই মা-বাবা, ভাই-বোন ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সম্পর্ককে অবহেলা না করে তাঁদের সময় দেওয়া, খোঁজ নেওয়া এবং প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানো জরুরি। সম্পদ হারালে তা আবার অর্জন করা সম্ভব হতে পারে; কিন্তু হারানো মানুষ ও ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক সব সময় ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

লেখক: মুদাররিস, জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া ও প্রিন্সিপাল, মাদরাসাতুল কুরআন লিলবানাত।

কালের আলো/এসএ

বিজিবির অভিযানে চুয়াডাঙ্গায় বিপুল মাদক ও ভারতীয় পণ্য জব্দ

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪৯ অপরাহ্ণ
বিজিবির অভিযানে চুয়াডাঙ্গায় বিপুল মাদক ও ভারতীয় পণ্য জব্দ

চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৮১ লাখ ৭০ হাজার ৬৫০ টাকা মূল্যের ভারতীয় মাদকদ্রব্য, ওষুধসহ বিভিন্ন চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানান চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান।

বিজিবি জানায়, এদিন চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধীন দর্শনা, মুন্সিপুর, বড়বলদিয়া, মুজিবনগর, বুড়িপোতা, রুদ্রনগর, জগন্নাথপুর ও ঠাকুরপুর বিওপির টহল দল সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদকদ্রব্য, ওষুধ ও অন্যান্য চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়।

জব্দ করা মালামালের মধ্যে রয়েছে ৬৮ বোতল ভারতীয় মদ, ১০৫ বোতল ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ, ৭ হাজার ৬৮০ পিস ভারতীয় ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট, ৪ হাজার ৫৯০ পিস বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় ওষুধ, ৬৩০ পিস ভারতীয় ইনজেকশন, ৩৬ পিস সাইপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট এবং ২০ পিস ভায়াক্রাম ট্যাবলেট।

এ ছাড়া ৪ কেজি ভারতীয় পেঁয়াজের বীজ, ১৩ পিস চায়না দোয়ারী জাল, ১২ পিস ভারতীয় কসমেটিকস এবং ৪ পিস ভারতীয় থ্রি-পিস জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত এসব পণ্যের আনুমানিক সর্বমোট সিজার মূল্য ৮১ লাখ ৭০ হাজার ৬৫০ টাকা।

৬ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, দেশের সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বিজিবি কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, সীমান্তকে নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত রাখতে বিজিবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/এম/এসআইপি 

আইপিওর আগে নতুন এআই মডেল আনতে পারে অ্যানথ্রপিক

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৬ অপরাহ্ণ
আইপিওর আগে নতুন এআই মডেল আনতে পারে অ্যানথ্রপিক

শেয়ারবাজারে আসার প্রস্তুতির মধ্যেই নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল বাজারে আনার কথা ভাবছে অ্যানথ্রপিক। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, সম্ভাব্য নতুন মডেলটির প্রকাশের সময় এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। নিরাপত্তা যাচাইসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

অ্যানথ্রপিকের ওপর প্রতিযোগিতামূলক চাপ বাড়ছে। চলতি মাসে ওপেনএআই তাদের নতুন মডেল জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা উন্মোচনের পর ব্যবসায়িক গ্রাহকদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অ্যানথ্রপিক এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দারিও আমোদেই এআই উন্নয়নের গতি কিছুটা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ১২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক লেখায় তিনি বলেন, এআই মডেলের সক্ষমতা যে গতিতে বাড়ছে, নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা যাতে সেই গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারে, সে জন্য উন্নয়নের গতি ধীর করা প্রয়োজন।

তবে ব্যবসায়িক এআইয়ের বাজারে অ্যানথ্রপিক এখনো উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক হিসাবে হিসাব করা আয়ের হার ৬৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে ওপেনএআইয়ের এ হার ছিল ৪০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

অ্যানথ্রপিক ২০২৮ সালে ১৯০ থেকে ২০০ বিলিয়ন ডলার আয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে এটি পূর্ণ বছরের প্রকৃত আয় নয়; বর্তমান আয়ের গতির ভিত্তিতে করা হিসাব ও পূর্বাভাস।

নতুন মডেল তৈরিতে বড় বিনিয়োগের পাশাপাশি লাভজনক হওয়ার চাপও বাড়ছে অ্যানথ্রপিকের ওপর। উচ্চ সুদের হার এবং চীনের তুলনামূলক সস্তা ও উন্মুক্ত-ওজনভিত্তিক এআই মডেলের প্রতিযোগিতার কারণে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর টেকসই মুনাফা অর্জনের সক্ষমতার দিকেও।

এদিকে অ্যানথ্রপিকের সম্ভাব্য আইপিও নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে বলে দুটি সূত্র জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

কালের আলো/এসএ