খুঁজুন
                               
, ,
           

৭ হাজার টাকার চাকরি থেকে ৯০০ কর্মীর প্রতিষ্ঠানের সিইও

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
৭ হাজার টাকার চাকরি থেকে ৯০০ কর্মীর প্রতিষ্ঠানের সিইও

রংপুরের গঙ্গাচড়ার গান্নারপাড় গ্রামের এক সাধারণ শিক্ষক পরিবারের ছেলে মুসনাদ ই আহমেদ। একসময় মাত্র ৭ হাজার টাকা বেতনে কল সেন্টারে চাকরি করতেন তিনি। রাতের শিফটে চাকরির পাশাপাশি দিনের বেলায় টিউশনি করেছেন। পরে আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করে পেয়েছেন প্রথম আন্তর্জাতিক আয়ের স্বাদ।

সেই মুসনাদই এখন স্কাইটেক সলিউশনসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। তাঁর প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৯০০-এর বেশি কর্মী কাজ করছেন। মুসনাদের লক্ষ্য, কর্মীর সংখ্যা তিন হাজারে নিয়ে যাওয়া।

সম্প্রতি চট্টগ্রামের খুলশী কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত ‘বিপিও সামিট বাংলাদেশ ২০২৬ (চট্টগ্রাম)’-এ মুসনাদ ই আহমেদের সঙ্গে দেখা হয়। পরে ঢাকার পান্থপথ ও উত্তরায় তাঁর প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ঘুরে তাঁর উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প জানা যায়।

বাবার অসুস্থতায় থমকে যায় জীবন

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মরহুম সাদেকুল ইসলামের সন্তান মুসনাদ ছোটবেলা থেকেই সততা, শৃঙ্খলা ও আত্মসম্মানের শিক্ষা পেয়েছেন। মা মোছা. কোহিনুর বেগমের স্নেহে তিন ভাই-বোনের সংসারে বেড়ে ওঠা তাঁর।

২০০২ সালে ঢাকার কুর্মিটোলার বিএএফ শাহীন কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হন মুসনাদ। গ্রামের পরিবেশ থেকে রাজধানীতে এসে নতুন জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময়ই ঘটে বড় বিপর্যয়। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার মাত্র তিন মাস আগে তাঁর বাবা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হন।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হঠাৎ শয্যাশায়ী হয়ে পড়ায় অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে পরিবার। মুসনাদের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।

ডিগ্রির পাশাপাশি দক্ষতার সন্ধান

উচ্চমাধ্যমিকের পর রয়্যাল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকায় ভর্তি হন মুসনাদ। পড়াশোনার খরচ চালাতে কখনো টিউশনি করেছেন, কখনো কোচিং সেন্টারে কাজ করেছেন। ২০০৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শেষ করেন তিনি।

এ সময় তাঁর উপলব্ধি হয়, শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা নয়, বাস্তব দক্ষতাই কর্মজীবনে এগিয়ে যাওয়ার বড় হাতিয়ার। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে কম্পিউটার ও স্পোকেন ইংলিশের প্রশিক্ষণ নেন তিনি।

ইংরেজি শেখার জন্য বাসে যাতায়াতের সময় রাস্তার পাশের সাইনবোর্ড পড়ে উচ্চারণ অনুশীলন করতেন। ছোট ছোট এসব চর্চাই পরবর্তী সময়ে তাঁর পেশাগত জীবনে কাজে আসে।

৭ হাজার টাকার চাকরি থেকে আন্তর্জাতিক আয়

২০০৮ সালে একটি কল সেন্টারে কাস্টমার সার্ভিস এজেন্ট হিসেবে মাত্র ৭ হাজার টাকা বেতনে চাকরি শুরু করেন মুসনাদ। রাতের শিফটে চাকরি এবং দিনের বেলায় টিউশনি—দুই কাজ একসঙ্গে চালিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে।

পরে আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ শুরু করেন। টেলিমার্কেটিং ও কাস্টমার সার্ভিসের কাজ করে প্রথমবার ৪০০ মার্কিন ডলার আয় করেন। সেই আয় তাঁর কাছে শুধু অর্থ নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশে বসে কাজ করার আত্মবিশ্বাসও তৈরি করে।

তিন ল্যাপটপে শুরু স্কাইটেক

২০১৩ সালে সঞ্চিত দেড় লাখ টাকা এবং ব্যাংক থেকে ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে স্কাইটেক সলিউশনস প্রতিষ্ঠা করেন মুসনাদ। দুটি ভাড়া করা কক্ষ ও তিনটি ল্যাপটপ দিয়ে শুরু হয় প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা।

শুরুতে গ্রাহক পাওয়া, দক্ষ কর্মী তৈরি করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে আস্থা অর্জন—সবকিছুই ছিল চ্যালেঞ্জের। তবে সবচেয়ে বড় সংকট আসে ২০১৬ সালে। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তনে একের পর এক প্রকল্প বন্ধ হয়ে যায়। ৪৫ কর্মীর প্রতিষ্ঠান নেমে আসে মাত্র ৯ জনে।

সে সময় নিজের জমানো ১০ লাখ টাকার এফডিআর ভেঙে আবার ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন মুসনাদ। সংকটের সময় যাঁরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন, সেই ৯ কর্মীকেও ধরে রাখেন। পরে নতুন বাজার ও গ্রাহক পাওয়ার মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ায় প্রতিষ্ঠানটি।

এখন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার গ্রাহক

বর্তমানে স্কাইটেক সলিউশনস যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য বিপিও ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা দিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের কাস্টমার সার্ভিস, লিড জেনারেশন ও ব্যাক-অফিস সাপোর্টসহ বিভিন্ন কাজ করছেন।

নিজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে মুসনাদ ই আহমেদ বলেন, ‘প্রযুক্তি নয়, মানুষের দক্ষতাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। একসময় আমি নিজে কল সেন্টারে চাকরি করতাম, এখন আমার নিজের কল সেন্টারে ৯০০ জন কাজ করে। এই সংখ্যা আমি তিন হাজারে নিয়ে যেতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমি তিস্তারপারের ছোট্ট গ্রামের ছেলে। আমার গল্প আসলে শুধু একজন উদ্যোক্তার গল্প নয়—এটি আত্মবিশ্বাসের গল্প, লড়াইয়ের গল্প, পড়ে গিয়ে আবার উঠে দাঁড়ানোর গল্প।’

বর্তমানে ৯০০-এর বেশি কর্মীর কর্মসংস্থান তৈরি করেছে স্কাইটেক সলিউশনস। ব্যবসার পাশাপাশি দেশের বিপিও খাতের উন্নয়নেও কাজ করছেন মুসনাদ ই আহমেদ।

কালের আলো/এসএ

প্রবাসী আয়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারা, ১০ দিনে এলো প্রায় ৯৯ কোটি ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
প্রবাসী আয়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারা, ১০ দিনে এলো প্রায় ৯৯ কোটি ডলার

দেশের প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ১০ দিনে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে ৯৮ কোটি ৯৫ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার ১৮১ কোটি টাকা।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ১০ পয়সা হিসাবে রেমিট্যান্সের এ পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনে দেশে ৯৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। সে হিসাবে চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট ৯৫৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৮৫৩ কোটি ডলার। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ১২ দশমিক ৩ শতাংশ।

রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকারদের মতে, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার এবং বৈধ পথে প্রবাসী আয় পাঠাতে উৎসাহিত করার উদ্যোগ এ প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

প্রবাসী আয়ের এ প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার জোগান ও সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকায় প্রবাসী আয় নিয়ে ইতিবাচক পরিস্থিতি বজায় রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

দিল্লির বিক্ষোভ নিয়ে কঙ্গনার বিস্ফোরক মন্তব্য, তুললেন ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
দিল্লির বিক্ষোভ নিয়ে কঙ্গনার বিস্ফোরক মন্তব্য, তুললেন ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কে জড়িয়েছেন অভিনেত্রী ও বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লিতে চলমান আন্দোলনের একাংশকে ‘দেশবিরোধী শক্তি’ আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন, দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার ষড়যন্ত্রের অংশ এই বিক্ষোভ।

তবে আন্দোলনকারীদের মূল দাবি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত এবং এ বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা বলেন, দেশের সাধারণ মানুষও এখন তথাকথিত দেশবিরোধী শক্তিগুলোকে চিনতে শুরু করেছেন। তার ভাষ্য, মানুষ বুঝতে পারছেন কারা দেশকে বিপদের দিকে ঠেলে দিতে চাইছে।

কঙ্গনা বলেন, ‘দেখুন, কীভাবে মানুষ এখন এই দেশবিরোধী শক্তিগুলিকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসছেন। পুলিশকে বাদ দিলেও সাধারণ মানুষ এবার তাদের ধরে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাবেন। কারণ, কারা দেশকে বিপদের দিকে ঠেলে দিতে চাইছে, তা মানুষ বুঝতে পারছেন।’

বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের অভিযান, আটক নিয়ে বিতর্ক

দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের অভিযানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কঙ্গনার এই মন্তব্য সামনে আসে। আন্দোলনকারীদের আটক করার ঘটনায় বিরোধী শিবিরের কয়েকজন নেতাও পুলিশের পদক্ষেপের মুখে পড়েন।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়ে যায়। তবে আটক ব্যক্তির সংখ্যা ও পুলিশের অভিযানের বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

বিক্ষোভকে দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করলেও নাগরিকদের দুর্ভোগ কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন কঙ্গনা। দিল্লিগামী ট্রেন বাতিল, মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং যন্তর মন্তরের আশপাশে যান চলাচলে বাধার মতো পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

আগেও আন্দোলনকারীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য

সিজেপির আন্দোলন ঘিরে এবারই প্রথম বিতর্কিত মন্তব্য করলেন না কঙ্গনা। এর আগে জুলাই মাসে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের সময় আন্দোলনকারীদের ‘নর্দমার প্রজন্ম’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন তিনি।

সে সময় আন্দোলনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও, ভাষা, পোশাক ও আচরণ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতেও এ নিয়ে সমালোচনা করেন তিনি।

সৌরভ দাসের সঙ্গে প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ

সিজেপি নেতা সৌরভ দাসের সঙ্গেও প্রকাশ্য বাকযুদ্ধে জড়িয়েছেন কঙ্গনা। সৌরভের দাবি ছিল, বিজেপিসহ কোনো রাজনৈতিক দলই কঙ্গনাকে গুরুত্ব দেয় না। তার মতে, গণতন্ত্রকে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা কঙ্গনার সংসদ সদস্য হিসেবে কাজের চেয়ে বেশি।

এর জবাবে সৌরভকে ‘অকর্মণ্য’ বলে আক্রমণ করেন কঙ্গনা। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী হিসেবে তাকে কী করতে হবে, সে বিষয়ে সৌরভের উপদেশ দেওয়ার অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে কঙ্গনার মন্তব্য রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। একদিকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলছেন বিজেপি সাংসদ, অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত ও জবাবদিহি দাবি করছেন। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ছে।

কালের আলো/জেএন

পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়কে জেতানোর সুযোগ, চালু ‘ফ্যান কাপ ভোটিং’

ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ
পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়কে জেতানোর সুযোগ, চালু ‘ফ্যান কাপ ভোটিং’

মাঠে খেলা শুরুর আগেই শুরু হয়েছে সমর্থকদের লড়াই। পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে রাখতে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিয়ে চালু হয়েছে ‘ফ্যান কাপ ভোটিং’। প্রথমবারের মতো আয়োজিত হতে যাওয়া ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’ ঘিরে দর্শক ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে এই উদ্যোগ নিয়েছে আয়োজকেরা।

রোববার (১১ অক্টোবর) থেকে আলোচনায় আসা এই ভোটিং কার্যক্রমে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নিজের পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়কে ভোট দিতে পারবেন সমর্থকেরা। ভোটগ্রহণ চলবে আগামী ১৩ নভেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

ভোট দিতে ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজের ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করে পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করতে হবে। একটি ই-মেইল ঠিকানা থেকে দেওয়া যাবে মাত্র একটি ভোট। এ ক্ষেত্রে ই-মেইল যাচাই কিংবা পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

ভোটের সর্বশেষ অবস্থান জানতে ওয়েবসাইটের ‘ফ্যান কাপ লিডারবোর্ড’ দেখার সুযোগও থাকছে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক মোট ভোট, শতকরা হার এবং প্রতিদিনের ভোটের হিসাব দেখা যাবে।

২৫ অক্টোবর শুরু মাঠের লড়াই

আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (এবিজি) চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের উদ্যোগে আয়োজিত হচ্ছে ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’। আগামী ২৫ অক্টোবর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এবিজি বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে শুরু হবে ক্রিকেট ও ফুটবলের এই প্রতিযোগিতা। ফ্লাডলাইটের আলোয় রাতে অনুষ্ঠিত হবে দুই খেলার ম্যাচগুলো।

টুর্নামেন্টে অংশ নেবে দেশের ১০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এগুলো হলো—আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি), নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি), ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব), সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ), ফেয়ারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

চ্যাম্পিয়নদের জন্য ১০ লাখ টাকা

ক্রিকেট ও ফুটবলে পৃথক প্রতিযোগিতায় শিরোপার জন্য লড়বে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দল। প্রতিটি খেলায় চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য ১০ লাখ টাকা এবং রানার্সআপ দলের জন্য ৫ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন আয়োজকেরা।

পুরস্কারের পাশাপাশি পেশাদার পরিবেশে নিজেদের প্রতিভা ও দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ পাবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আয়োজকদের লক্ষ্য, তরুণ প্রজন্মকে মাঠমুখী করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়া সংস্কৃতি গড়ে তোলা।

অধিনায়কদের নিয়ে ‘ক্যাপ্টেনস মিট অ্যান্ড গ্রিট’

টুর্নামেন্ট সামনে রেখে শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এবিজি চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয় ‘ক্যাপ্টেনস মিট অ্যান্ড গ্রিট’।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক ইমরুল হাসান, উপদেষ্টা বিদ্যুৎ কুমার ভৌমিক, টি স্পোর্টসের নির্বাহী পরিচালক তাসভির উল ইসলাম, অপারেশন্স ম্যানেজার সালমান হাসান এবং ইকরাম হোসেন রাফি। এ ছাড়া ক্রিকেট ও ফুটবলে অংশ নিতে যাওয়া ২০টি দলের অধিনায়ক ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

অংশগ্রহণকারী অধিনায়কেরা জানান, পেশাদার পরিবেশে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণের এমন সুযোগ তাঁদের জন্য গর্বের। তাঁদের মতে, এ ধরনের আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে খেলাধুলার চর্চা বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণ খেলোয়াড়দের প্রতিভা বিকাশেও ভূমিকা রাখবে।

দেশের ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ক্রীড়া পরিবেশ তৈরির ধারাবাহিকতায় এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। আয়োজকদের প্রত্যাশা, মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি ‘ফ্যান কাপ ভোটিং’ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থী ও সমর্থকদের মধ্যেও তৈরি করবে বাড়তি উন্মাদনা।

কালের আলো/জেএন