খুঁজুন
                               
, ,
           

বাংলাদেশে সমকামিতা নিয়ে আইনে কী আছে, ৩৭৭ ধারায় শাস্তি কত

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে সমকামিতা নিয়ে আইনে কী আছে, ৩৭৭ ধারায় শাস্তি কত

বাংলাদেশে সমকামিতা নিয়ে আলোচনা হলেই সামনে আসে দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা। তবে শুরুতেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি—৩৭৭ ধারা বাংলাদেশের সংবিধানের কোনো ধারা নয়। এটি ব্রিটিশ আমলে প্রণীত দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (The Penal Code, 1860)-এর একটি ধারা।

সম্প্রতি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি আবাসিক হলে সমকামিতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, বাংলাদেশের আইনে সমকামিতা নিয়ে আসলে কী বলা আছে এবং ৩৭৭ ধারায় কী ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে।

৩৭৭ ধারায় কী বলা হয়েছে?

বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে ‘সমকামিতা’ শব্দটির আলাদা কোনো সংজ্ঞা নেই। দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারায় মূলত ‘প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে’ যৌন সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

ধারাটি অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোনো পুরুষ, নারী বা পশুর সঙ্গে প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলে তিনি শাস্তির আওতায় পড়তে পারেন।

এ ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড হতে পারে। এর সঙ্গে অর্থদণ্ডের বিধানও রয়েছে।

তাহলে সমকামিতার জন্যই কি ৩৭৭ ধারায় শাস্তি?

বিষয়টি এতটা সরল নয়। আইনজীবীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ৩৭৭ ধারায় ‘সমকামিতা’ শব্দটি সরাসরি ব্যবহার করা হয়নি। সেখানে ‘আন-ন্যাচারাল অফেন্সেস’ বা প্রকৃতির নিয়মবিরুদ্ধ অপরাধের কথা বলা হয়েছে।

অর্থাৎ, বাংলাদেশে সমকামিতাকে পৃথক কোনো অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে আলাদা আইন নেই। তবে ৩৭৭ ধারার ভাষার কারণে নির্দিষ্ট ধরনের যৌন আচরণ ওই ধারার আওতায় পড়তে পারে।

কোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে অপরাধের ধরন, প্রমাণ ও ঘটনার পরিস্থিতি বিবেচনা করে আদালত সিদ্ধান্ত নেন কোন ধারা প্রযোজ্য হবে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে কী শাস্তি দেওয়া হবে।

বাংলাদেশে ৩৭৭ ধারায় মামলা হয়েছে কি?

আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু সম্মতিসূচক সমলিঙ্গের সম্পর্কের কারণে ৩৭৭ ধারায় মামলা বা শাস্তির ঘটনা খুব স্পষ্টভাবে পাওয়া যায় না। তবে অতীতে বলাৎকার বা জোরপূর্বক যৌন সম্পর্কের মতো মামলায় ৩৭৭ ধারা ব্যবহারের নজির রয়েছে।

পরবর্তীতে বলাৎকারের বিষয়টি বিভিন্ন আইনে আলাদাভাবে সংজ্ঞায়িত হওয়ায় এ ধরনের মামলায় অন্যান্য আইনও প্রযোজ্য হতে পারে।

শাস্তি কত?

৩৭৭ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হলে—

  • যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে;
  • অথবা সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড হতে পারে;
  • একই সঙ্গে অর্থদণ্ডও হতে পারে।

তবে শুধু অভিযোগ উঠলেই এই শাস্তি কার্যকর হয় না। মামলার প্রমাণ, ঘটনার ধরন এবং আদালতের বিচারিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই শাস্তি নির্ধারিত হয়।

ঔপনিবেশিক আমলের আইন থেকে বর্তমান বাংলাদেশ

৩৭৭ ধারার ইতিহাস ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সঙ্গে যুক্ত। ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধিতে এই ধারা যুক্ত করা হয়। ব্রিটিশ শাসনামলে প্রণীত এ ধরনের আইন পরবর্তীকালে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বহাল থাকে।

ভারতে ২০১৮ সালে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট প্রাপ্তবয়স্কদের পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যক্তিগত সমলিঙ্গের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ৩৭৭ ধারার প্রয়োগ বাতিল করে।

বাংলাদেশে অবশ্য দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা এখনো কার্যকর রয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ধারাটিতে ‘সমকামিতা’র কোনো পৃথক সংজ্ঞা নেই। ফলে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনায় ৩৭৭ ধারা প্রযোজ্য হবে কি না, তা ঘটনার ধরন, প্রমাণ এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে।

সূত্র: বিবিসি

কালের আলো/এসএ

জগন্নাথ হলের পাশে দুটি, টিএসসিতে একটি ককটেল বিস্ফোরণ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
জগন্নাথ হলের পাশে দুটি, টিএসসিতে একটি ককটেল বিস্ফোরণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় দুটি স্থানে পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১১টার দিকে জগন্নাথ হলের পাশে দুটি এবং টিএসসি এলাকায় একটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের পাশে পরপর দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর কিছুক্ষণ পর টিএসসি এলাকায় আরও একটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। এতে ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিক্ষোভের ডাক ছাত্রদলের

ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার পর রাতেই তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের উপস্থিতিতে এ বিক্ষোভ মিছিল হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে কারা বা কী উদ্দেশ্যে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চান মির্জা ফয়সাল আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চান মির্জা ফয়সাল আমিন

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হতে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই ও ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে তার পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়। একই আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে ফরম নিয়েছেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী এবং জেলা বিএনপির আরেক সহ-সভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ।

দলীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিতরণ করা হয়। সংগ্রহ করা ফরম বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

মির্জা ফয়সাল আমিনের পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী। এ সময় তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও সংগঠক হিসেবে মির্জা ফয়সাল আমিন তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে অত্যন্ত আস্থাভাজন। দল তাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিলে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ফরম জমা দেওয়ার পর আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড বা স্থায়ী কমিটির সভায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনে চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় তার নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২৯ অক্টোবর এ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

রামেক হাসপাতালে এক সপ্তাহে চার ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু

রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
রামেক হাসপাতালে এক সপ্তাহে চার ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গত এক সপ্তাহে হাসপাতালটিতে নতুন করে ১২৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন চারজন। চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯৪ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৯৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসমা খাতুন (৩৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার বালুবাগানের বাসিন্দা।

রামেক হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৬৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর এ সংখ্যা ছিল ৬৪ জন করে। ১২ সেপ্টেম্বর রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৪ জনে। এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর ৮০ জন, ১৪ সেপ্টেম্বর ৮২ জন এবং সর্বশেষ ১৫ সেপ্টেম্বর ৯৫ জনে পৌঁছেছে।

হাসপাতালের দৈনিক হিসাব বলছে, ৯ সেপ্টেম্বর ২০ জন, ১০ সেপ্টেম্বর ২০ জন, ১১ সেপ্টেম্বর ১৪ জন, ১২ সেপ্টেম্বর ১২ জন, ১৩ সেপ্টেম্বর ২১ জন, ১৪ সেপ্টেম্বর ২১ জন এবং ১৫ সেপ্টেম্বর ১৭ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। সব মিলিয়ে সাত দিনে ভর্তি হয়েছেন ১২৫ জন।

এদিকে, এক সপ্তাহে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন চারজন। ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় পাবনার বেড়া এলাকার বাসিন্দা ইমরুল কায়েস হৃদয় (২৬), ৯ সেপ্টেম্বর নাটোরের বনপাড়ার বাসিন্দা জিত সরকার (২২), ১৪ সেপ্টেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটের বাসিন্দা হৃদয় (২৪) এবং ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বালুবাগানের বাসিন্দা আসমা খাতুন (৩৫) মারা যান।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শেখ শামিম আহমেদ জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে ১৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং তিনজন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৯৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি