খুঁজুন
                               
, ,
           

৪.৬ ঘণ্টার স্ক্রিনে বন্দি শৈশব

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২২ অপরাহ্ণ
৪.৬ ঘণ্টার স্ক্রিনে বন্দি শৈশব

শৈশবের যে সময়টা মাঠে দৌড়ানো, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা কিংবা পরিবারের সঙ্গে গল্পে কাটার কথা, তার বড় একটি অংশ এখন আটকে যাচ্ছে ডিজিটাল পর্দায়। ঢাকার স্কুলগামী শিশুরা প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪ দশমিক ৬ ঘণ্টা সময় কাটাচ্ছে স্মার্টফোন, টেলিভিশন, ট্যাবলেট, কম্পিউটার ও গেমিং ডিভাইসে। শুধু দিনের জেগে থাকা সময়ের একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে এমন এক জগতে, যেখানে শরীরের নড়াচড়া কম, চোখের বিশ্রাম সীমিত এবং সামাজিক যোগাযোগ অনেকটাই পর্দানির্ভর।

এই প্রবণতার স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়েই উদ্বেগ তৈরি করেছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) নতুন গবেষণা। ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সি শিশুদের নিয়ে পরিচালিত গবেষণায় অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে কম ঘুম, মাথাব্যথা, চোখের সমস্যা, অতিরিক্ত ওজন এবং বিভিন্ন মানসিক ও আচরণগত সমস্যার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষণাটি আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক জার্নাল ‘জার্নাল অব মেডিকেল ইন্টারনেট রিসার্চ-হিউম্যান ফ্যাক্টরস’-এ প্রকাশিত হয়েছে।

ছয় স্কুলের ৪২০ শিশুর চিত্র
২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ঢাকার ছয়টি স্কুলের ৪২০ শিশুকে গবেষণার আওতায় আনা হয়। এর মধ্যে তিনটি বাংলা মাধ্যম এবং তিনটি ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল। গবেষকেরা শুধু শিশুরা কতক্ষণ স্ক্রিন ব্যবহার করে, তা দেখেননি; তাদের ঘুমের মান, ওজন, শারীরিক অস্বস্তি, আচরণ এবং মানসিক সুস্থতারও মূল্যায়ন করেছেন।

সরাসরি সাক্ষাৎকার ও শারীরিক পরিমাপের পাশাপাশি পিটসবার্গ স্লিপ কোয়ালিটি ইনডেক্স, স্ট্রেংথস অ্যান্ড ডিফিকাল্টিজ কোয়েশ্চেনেয়ার এবং ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ওয়েল-বিইং অ্যাসেসমেন্টের মতো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষণার গুরুত্ব এখানেই-স্ক্রিনকে শুধু বিনোদনের অভ্যাস হিসেবে না দেখে শিশুর সামগ্রিক জীবনযাপনের সঙ্গে এর সম্পর্ক খোঁজা হয়েছে।

স্ক্রিন বাড়ছে, ঘুম হারাচ্ছে শিশু
প্রতিদিন দুই ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন ব্যবহারকারী শিশুদের গড় ঘুমের সময় নেমে এসেছে ৭ দশমিক ৩ ঘণ্টায়। এই বয়সে সুস্থ শারীরিক বৃদ্ধি ও মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার তুলনায় যা স্পষ্টতই কম।

ঘুমের ক্ষেত্রে সমস্যাটি শুধু সময়ের নয়, সময়সূচিরও। রাতে দীর্ঘ সময় ফোন, ট্যাব বা অন্য ডিভাইস ব্যবহারের ফলে শিশুর ঘুমাতে যাওয়ার সময় পিছিয়ে যেতে পারে। স্ক্রিনের আলো ও ক্রমাগত উদ্দীপনা মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখায় ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ফলে একটি শিশু পরদিন ক্লাসে উপস্থিত থাকলেও তার মনোযোগ, শেখার আগ্রহ কিংবা আচরণে ঘুমের ঘাটতির প্রভাব পড়তে পারে। অর্থাৎ স্ক্রিনের অতিরিক্ত সময়ের মূল্য দিতে হচ্ছে দিনের অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোকে।

চোখে চাপ, মাথায় ব্যথা
শারীরিক অস্বস্তির ক্ষেত্রেও গবেষণার ফল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। অংশ নেওয়া এক-তৃতীয়াংশের বেশি শিশু চোখের সমস্যায় ভুগছে। আরও বড় উদ্বেগের জায়গা হলো, প্রায় ৮০ শতাংশ শিশু নিয়মিত মাথাব্যথার অভিযোগ করেছে।  দীর্ঘ সময় কাছ থেকে স্ক্রিন দেখা, চোখের পলক কম পড়া এবং বিরতি ছাড়া ডিভাইস ব্যবহারের কারণে চোখে চাপ তৈরি হতে পারে। এর সঙ্গে ঘুমের ঘাটতি যুক্ত হলে মাথাব্যথার মতো উপসর্গও বাড়তে পারে।

এ অবস্থায় গবেষকেরা ‘২০-২০-২০’ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিন ব্যবহারের পর অন্তত ২০ সেকেন্ড ২০ ফুট দূরের কোনো কিছুর দিকে তাকানো-এই অভ্যাস চোখের ওপর চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।

মাঠের বদলে পর্দা, বাড়ছে ওজন
শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য স্ক্রিন ব্যবহারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব দেখা যায় শারীরিক সক্রিয়তায়। পর্দার সামনে দীর্ঘ সময় বসে থাকা মানে শুধু স্ক্রিনে সময় বাড়ানো নয়; একই সঙ্গে বাইরে খেলাধুলা, হাঁটা কিংবা শরীরচর্চার সময় কমে যাওয়া। গবেষণায় অংশ নেওয়া শিশুদের প্রায় ১৪ শতাংশ অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় আক্রান্ত ছিল। বেশি স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে এই হারও তুলনামূলকভাবে বেশি পাওয়া গেছে।
অবশ্য স্থূলতার জন্য স্ক্রিনকেই একমাত্র দায়ী করা যায় না। খাদ্যাভ্যাস, ঘুম, শারীরিক কর্মকাণ্ড ও পারিবারিক জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ। তবে দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাস এবং খেলাধুলার সুযোগ কমে যাওয়া যে ঝুঁকি বাড়াতে পারে, গবেষণার ফল তা নতুন করে সামনে এনেছে।

শরীরের পরেই সংকেত দিচ্ছে মন
সবচেয়ে গভীর উদ্বেগের জায়গাটি সম্ভবত মানসিক স্বাস্থ্য। গবেষণায় অংশ নেওয়া প্রতি পাঁচ শিশুর মধ্যে প্রায় দুজনের এক বা একাধিক মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার লক্ষণ পাওয়া গেছে। উদ্বেগ, অতি চঞ্চলতা, আচরণগত সমস্যা ও মানসিক অস্থিরতার মতো বিষয় এতে রয়েছে। এখানে অবশ্য সতর্কতার সঙ্গে ফলাফল ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। গবেষণাটি অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারকে এসব সমস্যার একমাত্র কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে না। শিশুদের পারিবারিক পরিবেশ, পড়াশোনার চাপ, সামাজিক সম্পর্ক, ঘুম এবং শারীরিক কর্মকাণ্ড-সবই মানসিক সুস্থতার সঙ্গে জড়িত।

তবে স্ক্রিন ব্যবহারের মাত্রা যখন এতটা বেড়ে যায়, তখন সেটি শিশুর জীবনের অন্য ক্ষেত্রগুলোকে কতটা সংকুচিত করছে, সেই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। স্ক্রিনের সময় যদি খেলাধুলা, সামাজিক যোগাযোগ কিংবা পরিবারের সঙ্গে কথোপকথনের জায়গা দখল করে নেয়, তাহলে তার প্রভাব শুধু চোখ বা ঘুমে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে।

আচরণের পরিবর্তনকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই
শিশুর স্ক্রিন ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব বোঝার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে আচরণের পরিবর্তন। আইসিডিডিআর,বির সহকারী বিজ্ঞানী ও গবেষণার প্রধান গবেষক ডা. শাহরিয়া হাফিজ কাকনের মতে, দেরিতে ঘুমানো, মাথাব্যথা বা চোখে অস্বস্তি, অস্বাভাবিক রাগ, একাকীত্ব, বাইরে খেলাধুলায় অনাগ্রহ কিংবা মনোযোগের ঘাটতিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

অর্থাৎ শুধু শিশুর হাতে থাকা ডিভাইসটির দিকে তাকালে হবে না; দেখতে হবে ডিভাইসটি তার দৈনন্দিন জীবনকে কীভাবে বদলে দিচ্ছে। ঘুমের সময় পিছিয়ে যাচ্ছে কি না, খেলাধুলা কমছে কি না, পরিবার থেকে দূরে সরে যাচ্ছে কি না-এসব প্রশ্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সমাধান ডিভাইস কেড়ে নেওয়া নয়
প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে শিশুদের পুরোপুরি স্ক্রিন থেকে দূরে রাখা বাস্তবসম্মত নয়। পড়াশোনা, তথ্যপ্রাপ্তি ও যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ডিজিটাল ডিভাইসের প্রয়োজন রয়েছে। ফলে সমাধান প্রযুক্তিবিরোধী হওয়ার মধ্যে নয়। এর ব্যবহারে সীমা ও ভারসাম্য তৈরিতে। আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক ডা. তাহমীদ আহমেদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশের আলোকে শিশুদের বিনোদনমূলক স্ক্রিন টাইম দৈনিক প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি বাইরে খেলাধুলা, ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম ও ডিভাইসমুক্ত পারিবারিক সময় নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

শিশুদের বিকল্প কর্মকাণ্ডে যুক্ত করাও জরুরি। বিতর্ক, দলগত পাঠ, লাইব্রেরি ব্যবহার কিংবা গাছের যত্ন নেওয়ার মতো কার্যক্রম স্ক্রিনের বাইরে তাদের সময়কে অর্থবহ করে তুলতে পারে।

কালের আলো/এম/এএইচ

 

৭ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ে শুকরিয়া জানালেন চিফ প্রসিকিউটর

আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
৭ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ে শুকরিয়া জানালেন চিফ প্রসিকিউটর

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ে ‘শুকরিয়া আদায়’ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মামলায় প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে চারটি করে অভিযোগ ছিল। অধিকাংশ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আহত ও নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে এ রায়ে তারা শুকরিয়া আদায় করছেন।

মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

রায়ে সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি পাঁচ আসামির ৫০ শতাংশ সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আসামিদের কর্মকাণ্ডের কারণে সারা দেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ ছাত্র-জনতা নিহত এবং প্রায় ২৫ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেছেন বলে মামলার প্রেক্ষাপটে উল্লেখ করা হয়েছে।

পলাতক আসামিদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের অবস্থান সম্পর্কে এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে অবস্থান শনাক্ত করা গেলে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দেশে ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন এম হাসান ইমাম ও ইশরাত জাহান।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

ঋণ-সংকট কাটিয়ে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে ফিরছে স্বস্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
ঋণ-সংকট কাটিয়ে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে ফিরছে স্বস্তি

কয়েক বছর আগেও ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত ছিল শ্রীলঙ্কা। জ্বালানি ও খাদ্যের তীব্র সংকট, ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। একপর্যায়ে ৫১ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে খেলাপি হয় দেশটি।

সেই সংকট কাটিয়ে এখন ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্রটি। আর এই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বামপন্থি নেতা ও প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকে।

দেউলিয়াত্বের পথে যেভাবে গিয়েছিল দেশটি

শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটের পেছনে দীর্ঘদিনের ভুল নীতি, অতিরিক্ত বৈদেশিক ঋণ, ২০১৯ সালের বড় ধরনের করছাড় এবং করোনা মহামারির প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পর্যটননির্ভর অর্থনীতিতে মহামারির ধাক্কায় বৈদেশিক মুদ্রা আয় ব্যাপকভাবে কমে যায়।

এর মধ্যে কৃষিতে হঠাৎ রাসায়নিক সার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ২০২২ সালে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় শেষ হয়ে গেলে জ্বালানি, খাদ্য ও ওষুধ আমদানিতে দেখা দেয় তীব্র সংকট।

মূল্যস্ফীতি একপর্যায়ে ৭০ শতাংশের ওপরে উঠে যায়। বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং জ্বালানির জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো মানুষের দুর্ভোগ দেশটির অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের প্রতীক হয়ে ওঠে।

গণআন্দোলনে বদলে যায় রাজনীতি

অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দেশজুড়ে শুরু হয় ব্যাপক গণআন্দোলন, যা ‘আরাগলায়া’ নামে পরিচিত। বিক্ষোভের মুখে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।

এরপর রনিল বিক্রমাসিংহে দায়িত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সহায়তায় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেন। তবে কর বৃদ্ধি ও ব্যয় সংকোচনের মতো কঠোর পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে।

ফলে প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমে যায়। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ন্যাশনাল পিপলস পাওয়ার (এনপিপি)।

ক্ষমতায় এসে বাস্তববাদী অর্থনীতি

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পান এনপিপির নেতা অনুরা কুমারা দিশানায়েকে। পরে তার জোট পার্লামেন্টে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতাও অর্জন করে।

বামপন্থি ও মার্কসবাদী রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শুরুতে তার সরকার নিয়ে বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন ছিল। কিন্তু ক্ষমতায় এসে দিশানায়েকে আইএমএফের কর্মসূচি বাতিল না করে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। পাশাপাশি নিজের সরকারের সংস্কার কর্মসূচিও বাস্তবায়ন শুরু করেন।

কর প্রশাসন শক্তিশালী করা, রাজস্ব আদায় বাড়ানো, ভ্যাট ব্যবস্থায় সংস্কার এবং দুর্নীতি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর চাপ কমাতে কিছু করছাড়ও দেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতিতে ফিরছে স্বস্তি

শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে এখন বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পর্যটন খাতের পুনরুদ্ধার এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আইএমএফের হিসাবে, ২০২৫ সালে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি প্রায় ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ২০২৬ সালের মার্চের শেষে দেশটির সরকারি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

রাজস্ব আদায়েও রেকর্ড হয়েছে। ২০২৫ সালে শ্রীলঙ্কা ২ হাজার ৫৫৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন রুপি রাজস্ব সংগ্রহ করে, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে বিদেশি ঋণ পুনর্গঠনের কাজও এগিয়ে যাচ্ছে।

তবে সংকট পুরোপুরি কাটেনি

অর্থনীতির পুনরুদ্ধার হলেও শ্রীলঙ্কার সামনে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আইএমএফের কর্মসূচির আওতায় রাজস্ব বাড়ানো ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণের কারণে জনগণের ওপর কর এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ রয়েছে। দারিদ্র্য ও আয়বৈষম্যের সমস্যাও পুরোপুরি দূর হয়নি।

এ ছাড়া বৈশ্বিক জ্বালানির দাম, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং পর্যটন খাতে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব দেশটির অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে শ্রীলঙ্কার প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

তবু কয়েক বছর আগের দেউলিয়া অবস্থা থেকে বর্তমান অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড এবং ঋণ পুনর্গঠনের অগ্রগতি দেখাচ্ছে—শ্রীলঙ্কা ধীরে ধীরে সংকটের গভীর খাদ থেকে বেরিয়ে আসছে।

বামপন্থি রাজনৈতিক পরিচয় থাকা সত্ত্বেও দিশানায়েকে যে বাস্তববাদী অর্থনৈতিক নীতি অনুসরণ করছেন, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক মহলে আগ্রহের বিষয়। শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, রাজনৈতিক আদর্শের পাশাপাশি বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক সংস্কারও একটি সংকটাপন্ন দেশকে পুনরুদ্ধারের পথে নিতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এসএ

রিজভীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৩ অপরাহ্ণ
রিজভীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সাক্ষাৎ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে চীনা রাষ্ট্রদূত রুহুল কবির রিজভীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এ সময় বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং দুই দেশের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার বিষয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়।

সাক্ষাতে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

কালের আলো/এমএসআইপি