খুঁজুন
                               
, ,
           

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট ঘোষণা

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য, বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৩:৪৭ অপরাহ্ণ
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য, বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও নতুন বাস্তবতার মধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য জাতীয় সংসদে প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেছেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য সামনে রেখে দীর্ঘ ১৯ বছর পর বিএনপি সরকারের এটি প্রথম বাজেট। দেশের ইতিহাসে এই বাজেটকে সবচেয়ে বড় বাজেট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকাল ৩টায় বাজেট বক্তৃতা শুরু করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরুরও প্রথম বাজেট। বাজেট বক্তৃতায় দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকের অবনতি, ব্যাংকিং খাতের সংকট, ঋণের ক্রমবর্ধমান বোঝা, মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব তুলে ধরে অর্থনীতির একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও ভুল নীতির কারণে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে।’

তবে নতুন সরকারের প্রথম বাজেট হওয়ায় এতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও অর্থনৈতিক দর্শনের প্রতিফলন দেখা গেলেও এর সফল বাস্তবায়ন নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকদের মতে, ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট ঘাটতি, উচ্চ রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য, ঋণনির্ভর অর্থায়ন এবং দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠাই হবে এই বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যও ঘোষণা করা হয়েছে।

এর আগে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক শুরু হয়। রীতি অনুযায়ী জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের আগে মন্ত্রিপরিষদের এই বিশেষ সভা হয়। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সংক্রান্ত বিলে অনুমোদন সূচক সই করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর বিকাল তিনটায় বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। জানান, অর্থবছরের শুরু অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নবম বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের কথা। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীরা বিগত প্রায় ১১ বছর যাবৎ একই বেতনকাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। ইতিমধ্যে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিচ্ছি।’ অষ্টম বেতনকাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা; আর সর্বোচ্চ বেতনকাঠামো ৭৮ হাজার টাকা (নির্ধারিত)। নবম বেতন কাঠামোয় সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে।

আগামী অর্থবছরের বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে ৪২ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের জন্য ৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, আগামী অর্থবছরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য ৪২ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গত বছর এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৪০ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। এদিকে আগামী অর্থবছরে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের জন্য ৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত বছর এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৪০ কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, তারেক রহমানের সরকারের এই প্রথম বাজেটে কর ব্যবস্থাপনার প্রস্তাবে নতুনত্ব আছে। করের আওতা বাড়ানোর বাড়ানোর ভিত্তি কি হবে, এ নিয়ে লম্বা সময়ের পরিকল্পনা প্রস্তাব করা হয়েছে। চাল-ডালসহ নিত্যপণ্যের আমদানি শুল্ক কমিয়ে নূনতম পর্যায়ে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। কর কাঠামোর পরিকল্পনাতেই ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগে সুবিধা এবং এক ধরনের নিশ্চয়তা দেওয়ার চেষ্টা রয়েছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদেরা।

নতুন বাজেটের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর কমানো। ধান, চাল, গম, আলু, মাছ, মাংস, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, রসুন, চিনি ও বীজসহ ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে কর কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া খেজুর, জিরা, দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গসহ বিভিন্ন মসলার ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। শিশুখাদ্য উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানো হয়েছে। কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করায় প্রতিবার ডায়ালাইসিসে প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় কমতে পারে বলে সরকারের দাবি। তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে উৎসাহিত করতে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, সার্ভার, মনিটর ও প্রিন্টার আমদানিতে প্রায় সব ধরনের শুল্ক ও কর তুলে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর কর কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার প্রসারে বড় ধরনের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে বাজারে কিছু পণ্যের দাম কমার সুযোগ তৈরি হলেও সেই সুবিধা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার কাছে পৌঁছাবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

স্বস্তির পাশাপাশি কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে বাড়তি ব্যয়ের আশঙ্কাও রয়েছে। সিগারেটের সব স্তরে ন্যূনতম মূল্য বৃদ্ধি করায় এর দাম বাড়বে। নিকোটিন পাউচ ও নিকোটিন গ্র্যানুলসের ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনচালিত মধ্যম সারির গাড়ির করভার বাড়ানো হয়েছে। ফলে এসব গাড়ির দাম বাড়তে পারে। বিদেশি কাজুবাদাম, মধু, সুপারি, পাঙাশ মাছের ফিলে, কম্পোজিট গ্যাস সিলিন্ডার এবং বিভিন্ন আমদানিকৃত খাদ্যপণ্যের ওপরও বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। রড, টাইলস, স্যানিটারিওয়্যার ও কিছু ইলেকট্রনিক পণ্যের দামও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকারের সময় ২০০৫-০৬ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তা ধারাবাহিকভাবে কমে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪ দশমিক ২২ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে। তিনি জানান, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ। কিন্তু তা বেড়ে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। সম্পদের অসম বণ্টন, সুশাসনের অভাব এবং দুর্নীতির কারণে দেশে অর্থনৈতিক বৈষম্যও বেড়েছে। ২০০৫ সালে আয়ভিত্তিক জিনি সহগ ছিল ০ দশমিক ৪৬৭, যা ২০২২ সালের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী বেড়ে ০ দশমিক ৪৯৯ হয়েছে।

রাজস্ব আহরণের দুর্বলতার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত এখনও প্রায় ৮ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে। অন্যদিকে কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৬ দশমিক ৮ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণের হার ছিল ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। কিন্তু ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে তা বেড়ে ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। খেলাপি ঋণের মোট পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। ২০০৫ সালে ব্যাংকিং খাতে মূলধন পর্যাপ্ততার হার ছিল ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। কিন্তু ২০২৫ সালের শেষে তা ঋণাত্মক হয়ে মাইনাস ২ দশমিক ৬৪ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধিও ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

পুঁজিবাজারের প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, লুটপাট, অব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন আর্থিক কেলেঙ্কারি এবং ভুল নীতির কারণে পুঁজিবাজার কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশের ঋণের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০০৬ সালে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। ২০২৪ সালে তা প্রায় সাড়ে ছয় গুণ বেড়ে ৮ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। একই সময়ে অভ্যন্তরীণ ঋণ ৬৫ হাজার কোটি টাকা থেকে ১৬ গুণের বেশি বেড়ে ১০ লাখ ৭৭ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে সুদ পরিশোধে সরকারের ব্যয় ছিল ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা ১৩ গুণের বেশি বেড়ে ১ লাখ ১৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী বাংলাদেশের ঋণঝুঁকির অবস্থান ‘নিম্ন’ ঝুঁকি থেকে ‘মধ্যম’ ঝুঁকির পর্যায়ে নেমে এসেছে। বৈদেশিক বাণিজ্যের চিত্র তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে রপ্তানি ও আমদানির প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ২১ দশমিক ৬ এবং ১২ দশমিক ২ শতাংশ ছিল। কিন্তু ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উভয় সূচকের প্রবৃদ্ধিই ঋণাত্মক হয়েছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার ছিল ৬৮ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছেছে, যা বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।

বাজেট বক্তৃতায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার গঠনের মাত্র ১০ দিনের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা অর্থনীতিতে নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, এলএনজি ও সারের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ, কৃষি, পরিবহন ও শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি ও ভর্তুকির চাপ আরও বেড়েছে। আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য বাংলাদেশের প্রবাসী কর্মীদের সবচেয়ে বড় কর্মক্ষেত্র হওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা প্রবাসী আয় ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, উচ্চ সুদহার, বাণিজ্য শুল্কের অনিশ্চয়তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন নতুন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। এসব বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলা করেও দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

এবার পাল্টা হামলা বন্ধের ঘোষণা দিল ইরান 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ
এবার পাল্টা হামলা বন্ধের ঘোষণা দিল ইরান 

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর বিমান হামলা বন্ধ রাখলে তেহরানও পালটা হামলা চালানো বন্ধ করেছে বলে জানিয়েছে ইরান।

ইরান জানিয়েছে, তারাও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ রেখেছে। খবর আল-জাজিরার।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র পূর্বে আলোচনায় বিশ্বাসঘাতকতা করলেও তেহরান ও ওয়াশিংটন মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা ১৩ রাত ধরে চলা মার্কিন বিমান হামলার পর গত শুক্রবার রাতে অভিযান স্থগিত করে পেন্টাগন।

এরপর শনিবার ও রোববার যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। একই সময়ে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা প্রতিবেশী দেশগুলোতে কোনো পাল্টা হামলা চালায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের অবস্থান একই আছে-হামলার জবাব হামলা। হামলা বন্ধ হলে ইরানও অভিযান বন্ধ রাখবে। এ বার্তা ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে।’

এদিকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনীতির জন্য আরও সময় দিতে হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তার ভাষ্য, আলোচনার জন্য কিছুটা সুযোগ তৈরি করতেই এই বিরতি দেওয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে টানা দুই সপ্তাহের অভিযানে পূর্বনির্ধারিত বেশির ভাগ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শেষ হয়ে এসেছে।

একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এ কারণে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সূত্রের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধের সিদ্ধান্তকে তেহরান এখনো স্থায়ী নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছে না।

ওই সূত্রের দাবি, ইরানে ‘আশার চেয়ে সংশয়ই বেশি’ এবং অনেকের ধারণা, এই বিরতি কৌশলগত, প্রকৃত অর্থে যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত নয়।

এর আগে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে হুমকির জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নিয়মিত হামলা চালানোর কথা জানায়। পাল্টা জবাবে ইরান উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে অবস্থিত পানি লবণমুক্তকরণ স্থাপনায় হামলা চালায়।

বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় অঞ্চলটির পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তবে হামলা আপাতত বন্ধ থাকলেও পরিস্থিতি যে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি, সেটি স্পষ্ট। তেহরানের একজন ব্যবসায়ী রয়টার্সকে বলেন, দেশের সবাই অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে। যুদ্ধ শেষও হচ্ছে না, আবার পুরোপুরি এগোচ্ছেও না। এই পরিস্থিতি খুবই ক্লান্তিকর।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড, শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ণ
শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড, শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

Oplus_131072

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) জমা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।

সোমবার (২৭ জুলাই) বেলা পৌনে ১১টার দিকে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। এ সময় প্রসিকিউটর মার্জিনা রায়হান তার সঙ্গে ছিলেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে আজ এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, শাপলা চত্বরের এই মামলায় বর্তমানে ৯ জন আসামি গ্রেপ্তার আছেন। তারা হলেন—সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু।

তদন্ত সংস্থার বরাতে প্রসিকিউশন জানায়, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে ঢাকাসহ দেশের চারটি স্থানে মোট ৫৮ জন নিহত হন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২, নারায়ণগঞ্জে ২০, চট্টগ্রামে ৫ ও কুমিল্লায় ১ জন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

কালের আলো/এসএকে

দেশের বাজারে আবারও বাড়ল সোনার দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ
দেশের বাজারে আবারও বাড়ল সোনার দাম

Oplus_131072

দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে সোনার গহনার দাম। সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) গহনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি (পাকা) সোনার দাম বৃদ্ধির কারণে নতুন এ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

এর আগে গত ২৪ জুলাই ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমানো হয়েছিল। তবে তিন দিনের ব্যবধানে আবারও দাম বাড়ানো হলো।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি গহনার দাম ২ হাজার ১০০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৮ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম ১ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরির দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, রুপার গহনার দামও বাড়ানো হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরির দাম ৫৯ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেট রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপার দাম ১১৬ টাকা বাড়িয়ে ৩ হাজার ৯০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরির দাম ১১৬ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৯৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুসের ঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে নতুন দামে সোনা ও রুপার গহনা বিক্রি শুরু হয়েছে।

কালের আলো/এসএকে