খুঁজুন
                               
, ,
           

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট ঘোষণা

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য, বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৩:৪৭ অপরাহ্ণ
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য, বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও নতুন বাস্তবতার মধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য জাতীয় সংসদে প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেছেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য সামনে রেখে দীর্ঘ ১৯ বছর পর বিএনপি সরকারের এটি প্রথম বাজেট। দেশের ইতিহাসে এই বাজেটকে সবচেয়ে বড় বাজেট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকাল ৩টায় বাজেট বক্তৃতা শুরু করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরুরও প্রথম বাজেট। বাজেট বক্তৃতায় দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকের অবনতি, ব্যাংকিং খাতের সংকট, ঋণের ক্রমবর্ধমান বোঝা, মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব তুলে ধরে অর্থনীতির একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও ভুল নীতির কারণে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে।’

তবে নতুন সরকারের প্রথম বাজেট হওয়ায় এতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও অর্থনৈতিক দর্শনের প্রতিফলন দেখা গেলেও এর সফল বাস্তবায়ন নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকদের মতে, ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট ঘাটতি, উচ্চ রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য, ঋণনির্ভর অর্থায়ন এবং দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠাই হবে এই বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যও ঘোষণা করা হয়েছে।

এর আগে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক শুরু হয়। রীতি অনুযায়ী জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের আগে মন্ত্রিপরিষদের এই বিশেষ সভা হয়। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সংক্রান্ত বিলে অনুমোদন সূচক সই করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর বিকাল তিনটায় বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। জানান, অর্থবছরের শুরু অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নবম বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের কথা। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীরা বিগত প্রায় ১১ বছর যাবৎ একই বেতনকাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। ইতিমধ্যে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিচ্ছি।’ অষ্টম বেতনকাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা; আর সর্বোচ্চ বেতনকাঠামো ৭৮ হাজার টাকা (নির্ধারিত)। নবম বেতন কাঠামোয় সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে।

আগামী অর্থবছরের বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে ৪২ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের জন্য ৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, আগামী অর্থবছরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য ৪২ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গত বছর এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৪০ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। এদিকে আগামী অর্থবছরে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের জন্য ৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত বছর এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৪০ কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, তারেক রহমানের সরকারের এই প্রথম বাজেটে কর ব্যবস্থাপনার প্রস্তাবে নতুনত্ব আছে। করের আওতা বাড়ানোর বাড়ানোর ভিত্তি কি হবে, এ নিয়ে লম্বা সময়ের পরিকল্পনা প্রস্তাব করা হয়েছে। চাল-ডালসহ নিত্যপণ্যের আমদানি শুল্ক কমিয়ে নূনতম পর্যায়ে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। কর কাঠামোর পরিকল্পনাতেই ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগে সুবিধা এবং এক ধরনের নিশ্চয়তা দেওয়ার চেষ্টা রয়েছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদেরা।

নতুন বাজেটের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর কমানো। ধান, চাল, গম, আলু, মাছ, মাংস, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, রসুন, চিনি ও বীজসহ ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে কর কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া খেজুর, জিরা, দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গসহ বিভিন্ন মসলার ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। শিশুখাদ্য উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানো হয়েছে। কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করায় প্রতিবার ডায়ালাইসিসে প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় কমতে পারে বলে সরকারের দাবি। তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে উৎসাহিত করতে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, সার্ভার, মনিটর ও প্রিন্টার আমদানিতে প্রায় সব ধরনের শুল্ক ও কর তুলে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর কর কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার প্রসারে বড় ধরনের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে বাজারে কিছু পণ্যের দাম কমার সুযোগ তৈরি হলেও সেই সুবিধা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার কাছে পৌঁছাবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

স্বস্তির পাশাপাশি কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে বাড়তি ব্যয়ের আশঙ্কাও রয়েছে। সিগারেটের সব স্তরে ন্যূনতম মূল্য বৃদ্ধি করায় এর দাম বাড়বে। নিকোটিন পাউচ ও নিকোটিন গ্র্যানুলসের ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনচালিত মধ্যম সারির গাড়ির করভার বাড়ানো হয়েছে। ফলে এসব গাড়ির দাম বাড়তে পারে। বিদেশি কাজুবাদাম, মধু, সুপারি, পাঙাশ মাছের ফিলে, কম্পোজিট গ্যাস সিলিন্ডার এবং বিভিন্ন আমদানিকৃত খাদ্যপণ্যের ওপরও বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। রড, টাইলস, স্যানিটারিওয়্যার ও কিছু ইলেকট্রনিক পণ্যের দামও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকারের সময় ২০০৫-০৬ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তা ধারাবাহিকভাবে কমে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪ দশমিক ২২ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে। তিনি জানান, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ। কিন্তু তা বেড়ে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। সম্পদের অসম বণ্টন, সুশাসনের অভাব এবং দুর্নীতির কারণে দেশে অর্থনৈতিক বৈষম্যও বেড়েছে। ২০০৫ সালে আয়ভিত্তিক জিনি সহগ ছিল ০ দশমিক ৪৬৭, যা ২০২২ সালের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী বেড়ে ০ দশমিক ৪৯৯ হয়েছে।

রাজস্ব আহরণের দুর্বলতার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত এখনও প্রায় ৮ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে। অন্যদিকে কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৬ দশমিক ৮ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণের হার ছিল ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। কিন্তু ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে তা বেড়ে ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। খেলাপি ঋণের মোট পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। ২০০৫ সালে ব্যাংকিং খাতে মূলধন পর্যাপ্ততার হার ছিল ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। কিন্তু ২০২৫ সালের শেষে তা ঋণাত্মক হয়ে মাইনাস ২ দশমিক ৬৪ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধিও ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

পুঁজিবাজারের প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, লুটপাট, অব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন আর্থিক কেলেঙ্কারি এবং ভুল নীতির কারণে পুঁজিবাজার কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশের ঋণের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০০৬ সালে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। ২০২৪ সালে তা প্রায় সাড়ে ছয় গুণ বেড়ে ৮ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। একই সময়ে অভ্যন্তরীণ ঋণ ৬৫ হাজার কোটি টাকা থেকে ১৬ গুণের বেশি বেড়ে ১০ লাখ ৭৭ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে সুদ পরিশোধে সরকারের ব্যয় ছিল ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা ১৩ গুণের বেশি বেড়ে ১ লাখ ১৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী বাংলাদেশের ঋণঝুঁকির অবস্থান ‘নিম্ন’ ঝুঁকি থেকে ‘মধ্যম’ ঝুঁকির পর্যায়ে নেমে এসেছে। বৈদেশিক বাণিজ্যের চিত্র তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে রপ্তানি ও আমদানির প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ২১ দশমিক ৬ এবং ১২ দশমিক ২ শতাংশ ছিল। কিন্তু ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উভয় সূচকের প্রবৃদ্ধিই ঋণাত্মক হয়েছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার ছিল ৬৮ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছেছে, যা বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।

বাজেট বক্তৃতায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার গঠনের মাত্র ১০ দিনের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা অর্থনীতিতে নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, এলএনজি ও সারের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ, কৃষি, পরিবহন ও শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি ও ভর্তুকির চাপ আরও বেড়েছে। আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য বাংলাদেশের প্রবাসী কর্মীদের সবচেয়ে বড় কর্মক্ষেত্র হওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা প্রবাসী আয় ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, উচ্চ সুদহার, বাণিজ্য শুল্কের অনিশ্চয়তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন নতুন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। এসব বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলা করেও দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বহিষ্কার থেকে দলবদল, জামায়াতে পরিচয় সংকট আখতারুজ্জামানের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ
বহিষ্কার থেকে দলবদল, জামায়াতে পরিচয় সংকট আখতারুজ্জামানের

এক দলের সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, বারবার বহিষ্কার; পরে সেই দল ও নেতৃত্বের প্রকাশ্য সমালোচনা। এরপর নির্বাচনে নিজের মতো করে অবস্থান নেওয়া। সবশেষে যে দলকে একসময় সমালোচনা করেছেন, সেই জামায়াতে যোগদান। আর যোগ দেওয়ার পরও নতুন দলটির পক্ষ থেকেই বলা হলো—তিনি নেতা নন, প্রাথমিক সহযোগী সদস্য। মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনের রাজনৈতিক জীবন যেন একাধিক বাঁকের সমষ্টি।

কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে দুবার সংসদ সদস্য হওয়া, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন এবং পরে পাঁচবার দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একটি বড় অধ্যায়। ২০২২ সালে বিএনপি থেকে সর্বশেষ বহিষ্কারের পরও রাজনীতি থেকে দূরে থাকেননি। বরং প্রকাশ্য বক্তব্য, টকশো ও নির্বাচনী কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান জানান দিয়েছেন। এখন বিমানবন্দরের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁর সেই রাজনৈতিক অতীতই নতুন করে সামনে এসেছে।

  • বিএনপির সাবেক এমপি আখতারুজ্জামানের রাজনৈতিক পথচলায় বারবার বাঁক
  • জামায়াত বলছে, তিনি নেতা নন, প্রাথমিক সহযোগী সদস্য
  • গ্রেপ্তারের পর পুরোনো রাজনৈতিক অধ্যায়গুলোও সামনে

যে দল থেকে পাঁচবার বহিষ্কার

আখতারুজ্জামানের রাজনৈতিক উত্থান বিএনপিকে ঘিরেই। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হয়ে পরপর দুবার সংসদ সদস্য হন তিনি। একসময় কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

কিন্তু দলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনো স্থায়ীভাবে মসৃণ ছিল না। দলীয় শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিরোধের জেরে বিভিন্ন সময়ে বহিষ্কৃত হয়েছেন। ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পঞ্চমবারের মতো বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয় তাঁকে। বহিষ্কারের পরও নিজেকে বিএনপির রাজনীতির বাইরে ভাবেননি—এমন বক্তব্যও তাঁর কাছ থেকে এসেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই রাজনৈতিক পরিচয় আর ধরে রাখেননি। পরবর্তী সময়ে তাঁর গন্তব্য হয় জামায়াতে ইসলামী।

যে জামায়াতকে সমালোচনা, সেখানেই যোগ

আখতারুজ্জামানের রাজনৈতিক যাত্রার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বাঁক আসে জামায়াতে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে। একসময় জামায়াতের সমালোচনা করা এই মুক্তিযোদ্ধা পরে দলটির প্রাথমিক সহযোগী সদস্যের ফরম পূরণ করে সংগঠনটিতে যোগ দেন। জামায়াতে যোগ দেওয়ার ব্যাখ্যাও তিনি নিজেই দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, বিএনপির নেতৃত্বের কিছু বক্তব্যের সঙ্গে তাঁর মতের মিল নেই; সেই অবস্থানের প্রতিবাদেই তিনি জামায়াতে যোগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জামায়াতকে ‘দেশপ্রেমিক’ দল হিসেবে বর্ণনা করেন।

ফলে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে পুরোনো বক্তব্যের তুলনা সামনে আসে। একই ব্যক্তির রাজনৈতিক অবস্থানে এমন পরিবর্তন কেন—এ প্রশ্ন ঘিরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা তৈরি হয়। তবে তাঁর নিজের ব্যাখ্যায়, এটি ছিল রাজনৈতিক মতপার্থক্য থেকে নেওয়া সিদ্ধান্ত।

এবার জামায়াতের কাছেই পরিচয় পরিষ্কার

সাম্প্রতিক ঘটনায় আখতারুজ্জামানের পরিচয় নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য এসেছে জামায়াতের ভেতর থেকেই। গত ৩ অক্টোবর দলটির নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, আখতারুজ্জামান জামায়াতের নেতা নন; তিনি দলের প্রাথমিক সহযোগী সদস্য। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর আখতারুজ্জামান জামায়াতে যোগ দিয়ে প্রাথমিক সহযোগী সদস্যের ফরম পূরণ করেন।

জামায়াতের সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ের সদস্য থেকে পরবর্তী ধাপে কর্মী, সদস্য এবং এরপর নেতৃত্বের পর্যায়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানান আজহারুল ইসলাম। অর্থাৎ সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির জেলা সভাপতির যে রাজনৈতিক পরিচয় আখতারুজ্জামানের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিল, জামায়াতের সাংগঠনিক কাঠামোয় তাঁর বর্তমান অবস্থান সেই পর্যায়ের নয়।

বিমানবন্দরের ঘটনা: নতুন বিতর্কের কেন্দ্র

এর মধ্যেই গত ১ অক্টোবর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মদিনা থেকে আসা ওমরাহযাত্রীদের জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্বকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আখতারুজ্জামানকে বিমানবন্দরের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করতে দেখা যায়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা, হুমকি ও নিরাপত্তাকর্মীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে মামলা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

গত শনিবার আদালতে নেওয়ার সময়ও নতুন করে আলোচনায় আসেন তিনি। প্রিজন ভ্যান থেকে নামানোর আগে মাথায় পরানো হেলমেট ছুড়ে ফেলে দেন। সাংবাদিকদের সামনে এ বিষয়ে নিজের অবস্থানও জানান। পরে তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল।

অবস্থানের ধারাবাহিক পরিবর্তন?

আখতারুজ্জামানের রাজনৈতিক জীবনকে শুধু দলবদলের তালিকা দিয়ে ব্যাখ্যা করলে পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। তাঁর ক্ষেত্রে বারবার দেখা গেছে—দলের সঙ্গে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, সেই মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে এবং শেষ পর্যন্ত সাংগঠনিক সম্পর্কের ওপর তার প্রভাব পড়েছে। বিএনপিতে তিনি ছিলেন সংসদ সদস্য ও জেলা সভাপতি। একই দল থেকে পাঁচবার বহিষ্কৃতও হয়েছেন। বিএনপি ছাড়ার পর নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় থেকেছেন। পরে জামায়াতে যোগ দিয়েছেন। আবার সেই জামায়াতই এখন তাঁর সাংগঠনিক পরিচয়কে ‘নেতা’ হিসেবে স্বীকার করছে না। এখানেই তাঁর বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানের সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি তৈরি হয়েছে।

সামনে এখন কোন পরিচয়?

আখতারুজ্জামানের সাম্প্রতিক গ্রেপ্তার তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ইতিহাসকে আবারও জাতীয় আলোচনায় এনেছে। কিন্তু ঘটনাটির রাজনৈতিক তাৎপর্য শুধু মামলায় সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তাঁর দীর্ঘ দলীয় ইতিহাস, একাধিকবার বহিষ্কার, প্রকাশ্য রাজনৈতিক মতপার্থক্য এবং সর্বশেষ জামায়াতে যোগদানের পর দলটির পক্ষ থেকে নিজের সাংগঠনিক অবস্থান ব্যাখ্যা করার বিষয়টি।

একসময় যিনি সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন, এখন তাঁর নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ও দলীয়ভাবে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে—প্রাথমিক সহযোগী সদস্য। অতীতের রাজনৈতিক পরিচয়, বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থান এবং সাম্প্রতিক আইনি জটিলতা—এই তিনটি বাস্তবতা এখন একই বিন্দুতে এসে মিলেছে। ফলে আখতারুজ্জামানের সামনে প্রশ্নটি শুধু কোন দলে আছেন, তা নয়; নতুন দলে তাঁর ভূমিকা কতটা এবং সেই পরিচয় তিনি কীভাবে প্রতিষ্ঠা করেন, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/এএএন/এমকে

বাংলাদেশের পরিচয় কোনো কৃত্রিমভাবে তৈরি রাষ্ট্রের নয়: এম জে আকবর

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৭ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের পরিচয় কোনো কৃত্রিমভাবে তৈরি রাষ্ট্রের নয়: এম জে আকবর

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে সাময়িক ঝড় বা মেঘ এলেও দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন মুছে যাবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।

এম জে আকবর বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ই সভ্যতাগত রাষ্ট্র। বাংলাদেশের পরিচয় কোনো কৃত্রিমভাবে তৈরি রাষ্ট্রের পরিচয় নয়। ভাষার শক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি সভ্যতাগত রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

দুই দেশের সম্পর্কে উত্থান-পতন থাকবেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশের যেসব প্রশ্ন ও সমস্যা রয়েছে, সেগুলোর সমাধানে শুধু ‘কী সম্ভব’—এ প্রশ্ন করলেই হবে না। বরং ‘কেন এটি অসম্ভব’—এ প্রশ্নও করতে হবে। এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি নতুন সম্ভাবনার পথ খুলে দিতে পারে।

সার্বভৌমত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে ভারতের সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান না থাকলে বিশ্ব ক্রমেই আরও বিশৃঙ্খলার দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

বর্তমান বিশ্বের যুদ্ধ ও সংঘাত প্রসঙ্গে এম জে আকবর বলেন, কোনো যুদ্ধকে অবৈধ বলার আগে এর উৎস ও পটভূমি খুঁজে দেখা জরুরি। বিংশ শতাব্দীকে তিনি তিনটি বিশ্বযুদ্ধের শতাব্দী হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ঠান্ডা যুদ্ধকেও এক ধরনের বিশ্বযুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, ইউরোপে ঠান্ডা যুদ্ধ হলেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকায় এর প্রভাব মোটেও ঠান্ডা ছিল না। বিশ্ব নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে পরাশক্তি ও সাম্রাজ্যগুলোর সংঘাতের কারণেই এসব সংঘাতকে বিশ্বযুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে দেখা হয়।

একবিংশ শতাব্দীর যুদ্ধের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে উল্লেখ করে এম জে আকবর বলেন, বর্তমান সংঘাতকে একটি একক বিশ্বযুদ্ধ হিসেবে দেখা যায় না। বরং এটি বিশ্বব্যাপী চলমান ধারাবাহিক সংঘাত, যা পর্যায়ক্রমে সংঘটিত হলেও পুরোপুরি থেমে যায় না।

সিজিএস আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এ শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ জন বক্তা, ৩০০ জন প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যোগ দিয়েছেন। সম্মেলনে সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, কূটনীতিক, গবেষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, উদ্ভাবক ও তরুণ নেতৃত্ব অংশ নিয়েছেন। সোমবার সম্মেলনটি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

তুমব্রু সীমান্তে ৪ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪২ অপরাহ্ণ
তুমব্রু সীমান্তে ৪ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা জব্দ

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৪ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জব্দ করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

রোববার (৪ অক্টোবর) এক বার্তায় এ তথ্য জানান বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম।

বিজিবি জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তুমব্রু বিওপির পশ্চিমকুল রুহুলের দোকান-কাটাপাহাড় সীমান্ত এলাকা দিয়ে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশের খবর পাওয়া যায়। পরে ৩৪ বিজিবির অধিনায়কের নির্দেশনায় তুমব্রু বিওপির একটি বিশেষ টহলদল সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নয়াপাড়া এলাকায় অবস্থান নেয়।

ভোর সাড়ে ৪টার দিকে অত্যাধুনিক থার্মাল ইমেজারের মাধ্যমে কয়েকজনের সন্দেহজনক গতিবিধি শনাক্ত করে বিজিবি। টহলদল তাদের ধাওয়া করলে চোরাকারবারিরা রাতের অন্ধকার ও পানির সুযোগ নিয়ে মালামাল ফেলে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়।

পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে লুঙ্গিতে মোড়ানো তিনটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ব্যাগগুলোতে ৪ লাখ ২০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় কোনো চোরাকারবারিকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জব্দ করা ইয়াবার বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি