প্রটোকলের চিরায়ত প্রথা ভেঙে লাশ দাফনে নেটিজেনদের প্রশংসায় তথ্য প্রতিমন্ত্রী
তিনি সরকারের প্রতিমন্ত্রী। রাষ্ট্রীয় প্রটোকল তার জন্য স্বাভাবিক। কিন্তু তার রাজনৈতিক জীবন ছকে বাঁধা নয় মোটেও। সবার উর্ধ্বে দায়িত্ব ও মানবিকতাকে স্থান দিয়ে মন্ত্রীত্বের পুরাতন সব রীতি ভেঙে দিয়েছেন। চলাফেরায় নিরাপত্তার কড়াকড়ি নেই। একেবারেই ‘মাটির মানুষ’ হিসেবে মানুষের কাছাকাছি তিনি। প্রটোকলের চিরায়ত প্রথা ভেঙে এবার এক অনন্য মানবিক নজির স্থাপন করলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনের এই সংসদ সদস্য শুক্রবার (২৭ মার্চ) উপজেলার ১২ নম্বর জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নে দুটি উন্নয়নমূলক কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন শেষে উপজেলা সদরে ফিরছিলেন। হঠাৎ তাঁর নজরে আসে স্থানীয় এক সড়কের পাশেই একটি কবরস্থানে এক ব্যক্তির মরদেহ দাফনের চিত্র। প্রতিমন্ত্রী গাড়ি থামিয়ে নিজেই ছুটে গেলেন। ওই ব্যক্তির শেষ বিদায়ে নেমে গেলেন তাকে কবরে শায়িত করতে। সেই ব্যক্তির স্বজনদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও প্রতিমন্ত্রীর এই মানবিকতা ও উদারতা অপার বিস্ময়ে উপভোগ করলেন। মুহুর্তেই সেই ছবি ছড়িয়ে পড়লো সোশ্যাল হ্যাণ্ডেলে। নেটিজেনরা সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন অনন্য মানবিকবোধ নিয়ে মেতে উঠলেন প্রশংসায়। কেউ কেউ বলছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মতোই তার এই প্রতিমন্ত্রীও অতি সাধারণ। যোগ্য ব্যক্তিই ক্যাবিনেটে স্থান পেয়েছে।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নান্দাইল উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. এনামুল কাদির বলেন, ‘সরকারি প্রটোকল উপেক্ষা করে গাড়ি থেকে নেমে সোজা কবরস্থানে চলে যান প্রতিমন্ত্রী। কোনো দ্বিধা বা সংকোচ না করে তিনি নিজেই কবরে নেমে পড়েন। মরদেহ খাটিয়া থেকে নামিয়ে কবরে শায়িত করার কাজে সরাসরি শরিক হন। একজন প্রতিমন্ত্রীকে এভাবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দাফন কাজে অংশ নিতে দেখে সবাই অভিভূত। অতীতেও কোন মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীকে এভাবে দেখেনি মানুষ।’
উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লিটন বলেন, ‘একজন প্রতিমন্ত্রী এভাবে সাধারণ মানুষের লাশের খাটিয়া ধরবেন, কবরে নেমে দাফন করবেন, এটা কখনও ভাবতে পারেনি নান্দাইলের মানুষ। জনতার নেতা হিসেবে সাধারণ মানুষের প্রতি তার এই শ্রদ্ধা-ভালোবাসা আমাদের কাছে এক বিমুগ্ধ বিস্ময়।’
স্থানীয়রা জানায়, দাফন শেষে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় উপস্থিত সবার সঙ্গে মোনাজাতে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। এরপর তিনি পুনরায় তাঁর গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের স্থানীয়রা বলছেন, দেশের রাজনীতি কলুষিত হলেও এখনো অনেক রাজনীতিকের ভেতরে দয়া-মায়া, ভালোবাসা ও সহমর্মিতা আছে। মনুষ্যত্ববোধ যে টিকে আছে তার বড় এক উদাহরণ প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে এই মানবিকবোধ নতুন প্রজন্মের কাছে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
কালের আলো/এমএএএমকে


আপনার মতামত লিখুন
Array