খুঁজুন
                               
, ,
           

আজ শুরু জমজমাট ফুটবল বিশ্বকাপ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ণ
আজ শুরু জমজমাট ফুটবল বিশ্বকাপ

ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪৮ দল নিয়ে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হতে যাওয়া ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে যাচ্ছে আজ। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার মাটিতে হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। তিনটি দেশ একসঙ্গে বিশ্বকাপ আয়োজনের ঘটনাও এবারই প্রথম, দল বেড়েছে আগের চেয়ে ১৬টি।

গত বিশ্বকাপের চেয়ে এই বিশ্বকাপের সময়ের দূরত্বটা ৩ বছর ৬ মাস। বছর চারেক পূর্ণ হওয়ার আগেই। অবশ্য কাতারের মাটিতে হওয়া সর্বশেষ বিশ্বকাপটি প্রায় সাড়ে ৪ বছর পর (গরমের কারণে শীতকালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল) হওয়ায় এবার সেই জুন মাসেই শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ।

এবারের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। দেশটির রাজধানী মেক্সিকো সিটির বিখ্যাত আজতেকা স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘এ’ এর খেলায় মাঠে নামবে দুই দল। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

২০১০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দলই। ওই বিশ্বকাপে স্বাগতিক হিসেবে খেলেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচটি শেষ হয়েছিল ১-১ সমতায়।

আয়োজক দেশগুলো যার যার দেশে আয়োজন করতে যাচ্ছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে, কানাডার টরন্টো ও যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে হবে তিনটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। মেক্সিকোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি হবে আজ রাত ১১টা ৩০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়)। কানাডার আয়োজন বাংলাদেশ সময় আগামীকাল রাতে। আর শনিবার ভোর সাড়ে ৫টায় লস অ্যাঞ্জেলেসে হবে তৃতীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

এবারের আসরে মোট ফাইনালসহ মোট ম্যাচ ১০৪টি। সবমিলিয়ে ১৬টি মাঠে আয়োজিত হবে বিশ্বকাপ। কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনালসহ সর্বোচ্চ ৭৮ ম্যাচ হবে আমেরিকায়। সমান ১৩টি করে ম্যাচ মেক্সিকো ও কানাডায়। মেক্সিকোতে ৩টি, কানাডায় দুটি ও সর্বোচ্চ ১১ মাঠে খেলা হবে যুক্তরাষ্ট্রে। মেক্সিকোর আজতেকা (ফিফার অফিসিয়াল স্পন্সরের কারণে শুধু বিশ্বকাপে নাম হবে- মেক্সিকো সিটি) স্টেডিয়ামে শুরু হয়ে আসরের পর্দা নামবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল দিয়ে।

মাঠগুলোর মধ্যে মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামটি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ঐতিহাসিক স্মৃতি ধারণ করে রাখার জন্য। এই মাঠে বিশ্বকাপ জিতেছেন ফুটবল ইতিহাসের দুই কিংবদন্তি ব্রাজিলের পেলে ও আর্জেন্টিনার দিয়েগো ম্যারাডোনা। পেলে জিতেছিলেন ১৯৭০ সালে আর ১৯৮৬ সালে জিতেছিলেন ম্যারাডোনা।

এই মাঠেই ‘হাত দিয়ে গোল’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি করেছিলেন’ আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। এছাড়া এই মাঠে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজিত হতে যাচ্ছে। ইতিহাসের প্রথম স্টেডিয়াম এই রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে। ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালের পর ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচও গড়াবে এই মাঠে।

বিশ্বজুড়ে ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে আবেগ ও উত্তেজনা কমতি নেই। চার বছর ধরে ভক্তদের অপেক্ষা থাকে এই ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ নিয়ে। এবারও হচ্ছে না তার ব্যতিক্রম। বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণার আগেই প্রিয় তারকার দলে ঠাঁই হচ্ছে কিনা, সেটি নিয়ে আগ্রহের কৌতূহলটা ব্যাপক ছিল ভক্তদের মাঝে। যেমন ব্রাজিলের স্কোয়াডে নেইমার শেষ পর্যন্ত থাকবেন কি না, চোটের কারণে লিওনেল মেসিকে পাওয়া নিয়ে শঙ্কা, শেষ বিশ্বকাপে কেমন করবেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এই প্রশ্নগুলোই ছিল সবচেয়ে বেশি।

নেইমার আছেন ব্রাজিলের স্কোয়াডে। চোট কাটিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচে বুধবার মেসি মাঠে ফিরে গোল করলেন আইসল্যান্ডের বিপক্ষে। নিজের শেষ বিশ্বকাপটা দারুণভাবে রাঙাতে চান রোনালদো। এর বাইরে গত দুই আসরের ফাইনালিস্ট ও গত ফাইনালে হ্যাটট্রিক করা কিলিয়ান এমবাপের দিকে নজর থাকবে সবার।

প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে নামতে যাওয়া লামিনে ইয়ামাল ও আরলিং হালান্ড কেমন করেন সেটি দেখার অপেক্ষায় ভক্তরা। সাম্প্রতিক ফর্মে সবাইকে ছাড়িয়ে যাওয়ার তাড়না হ্যারি কেইনেরও। আর্জেন্টিনা কি শিরোপা ধরে রাখতে পারবে, নাকি ব্রাজিলের হেক্সা মিশন পূরণ হতে যাচ্ছে সেটি নিয়েও চলছে ব্যাপক চর্চা।

একাধিক নিয়মে এবার পরিবর্তন আনা হয়েছে। যেমন এবারই প্রথম রাউন্ড অব থার্টি টু হবে। বদলি খেলোয়াড়দের ১০ সেকেন্ডের মধ্যেই মাঠে নামতে হবে। বদলি হতে যাওয়া খেলোয়াড়কে নিকটবর্তী সীমানা দিয়ে মাঠ ছাড়তে হবে। দেরি হলে তার দলকে পুরো এক মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলতে হবে। যদি রেফারির মনে হয় কোনো দল ৫ সেকেন্ডের বেশি সময় নিচ্ছেন থ্রো ইন করতে, তখন প্রতিপক্ষে সেই থ্রো ইন পেয়ে যাবে।

গোলকিপারের বাদে কারো ছোটখাটো চিকিৎসার প্রয়োজ হলে তাকে এক মিনিটের জন্য মাঠ ছাড়তে হবে। রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে মাঠ ছাড়লে দেখতে হবে লাল কার্ড। মাঠের বাইরে থেকে কেউ প্ররোচিত করলে তিনিও একই শাস্তি পাবেন। পুরো দল মাঠ ছাড়লে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে প্রতিপক্ষকে।

ভিডিও অ্যাসিসট্যান্ট রেফারির নিয়ম-কানুনেও এসেছে নতুন সংযোজন। ভুল করে দেওয়ার কর্নার কিকের রিভিউ করা হবে। তবে খেলা শুরু করতে দেরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে এমনটা করার সুযোগ নেই। প্রথমবারের মতো ফ্রি-কিক বা কর্নার নেওয়ার আগে আবারও বক্সে ফাউল হলে সেটির প্রভাবে গোল বা পেনাল্টি হলে সুযোগ থাকবে ভিএআর সেটি যাচাই করার।

দ্বিতীয় হলুদ কার্ড থেকে লাল কার্ডের বিষয়টিও যাচাই করার সুযোগ থাকছে ভিডিও অ্যাসিসট্যান্ট রেফারির। বিশেষ করে ভুল খেলোয়াড়কে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হলে। কোনো খেলোয়াড় যদি মুখ, বাহু বা জার্সি দিয়ে মুখ আড়াল করে কথা বলে তখন রেফারিরা সেটি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন। উত্তেজনাপূর্ণ কথাবার্তা হলে লাল কার্ডও দেখানো হতে পারে। তবে স্বাভাবিক কথাবার্তায় কোনো বিধিনিষেধ নেই।

তবে বিশ্বকাপের মতো বড় আয়োজনে বিতর্ক থাকবে না, এমনটা হওয়ার নয়। বিতর্ককে সঙ্গী করেইে শুরু হতে যাচ্ছে তিন দেশে হতে যাওয়া বিশ্বকাপ। বিশেষত টিকিটের দাম নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ফুটবল ভক্তদের মাঝে। এছাড়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনায় ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়েও ছিল শঙ্কা। শেষ পর্যন্ত তারা বিশ্বকাপে অংশ নিলেও বেস ক্যাম্প করেছে মেক্সিকোয়। এখনও আমেরিকার ভিসা পায়নি তাদের স্কোয়াডের কয়েকজন সদস্য।

সোমালিয়ার রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতানও ভিসা পেলেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারেননি। নিরাপত্তা তল্লাসীর নামে হেনস্তা করা হয়েছে ইতালির বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ফ্যাবিও ক্যানাভারোকে। ফিফা বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রি করলেও অনেক দেশের দর্শকদের ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। যার ফলে এবারের বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে সবচেয়ে বিতর্কিত এক বিশ্বকাপ।

সবকিছু ছাপিয়ে আজ রাত থেকে ফুটবলপ্রেমীরা মেতে উঠবেন এক দারুণ উন্মাদনায়। প্রিয় দলের জার্সি ও পতাকা নিয়ে প্রস্তুত তারা রাত জেগে প্রতিটা ম্যাচ দেখতে। তিন দেশে আয়োজিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ, উত্তাপ ও উত্তেজনা এখন ছড়িয়ে পড়েছে সমগ্র বিশ্বে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

চেহারা-কণ্ঠ নকল করে অশালীন ভিডিও, ডিপফেকের ঝুঁকিতে শোবিজ তারকারা

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৬ পূর্বাহ্ণ
চেহারা-কণ্ঠ নকল করে অশালীন ভিডিও, ডিপফেকের ঝুঁকিতে শোবিজ তারকারা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অপব্যবহারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে দেশের শোবিজ অঙ্গনে। তারকাদের ছবি ও কণ্ঠ নকল করে তৈরি করা হচ্ছে আপত্তিকর গান ও ভিডিও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব কনটেন্টে এমন বক্তব্য ও পরিবেশনা তুলে ধরা হচ্ছে, যা সংশ্লিষ্ট শিল্পীরা কখনো বলেননি বা করেননি। এতে ব্যক্তিগত সম্মানহানি, মানসিক চাপ ও অনলাইন হয়রানির ঝুঁকি বাড়ছে।

অভিনেত্রী সাবিলা নূর, মেহজাবীন চৌধুরী, সংগীতশিল্পী ও অভিনেত্রী জেফার রহমান, কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির এবং সংগীতশিল্পী তাসরিফ খানকে ঘিরে এ ধরনের এআই-নির্মিত কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা সামনে এসেছে। কোথাও তারকাদের কণ্ঠ ব্যবহার করে আপত্তিকর সংলাপ বলানো হয়েছে, আবার কোথাও কনসার্টের ভিডিওর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে কৃত্রিমভাবে তৈরি গান।

প্রযুক্তির নিখুঁত নকলের কারণে অনেক দর্শক প্রথম দেখায় এসব কনটেন্টকে সত্য বলে মনে করতে পারেন। যাচাই ছাড়াই ভিডিও শেয়ার করার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

আইনি পদক্ষেপ নিতে চান তাসরিফ

সংগীতশিল্পী তাসরিফ খানের একটি কনসার্টের ভিডিও ও কণ্ঠ ব্যবহার করে ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ শিরোনামে একটি গান ছড়িয়ে পড়েছে। এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি গানটিকে তাঁর পরিবেশনা বলে ভুল করছেন অনেকে। বিষয়টি নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন এই সংগীতশিল্পী।

তাসরিফের ভাষ্য, প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিপোর্ট করে গানটি সরানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু গানটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় তা বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এরই মধ্যে কিছু মানুষ গানটিকে কেন্দ্র করে তাঁকে হয়রানি করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

গানটি প্রথম কারা তৈরি করেছেন বা কোথা থেকে ছড়িয়েছেন, তা নিশ্চিতভাবে জানা নেই জানিয়ে তাসরিফ বলেন, ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বিশ্লেষণ করে মূল উৎস শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। এ কারণে তিনি বিষয়টি আইনিভাবে মোকাবিলা করতে চান। তাঁর দাবি, তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।

তাসরিফ আরও জানান, যে কনসার্টের ভিডিও ব্যবহার করে গানটি ছড়ানো হয়েছে, সেটি হয়েছিল ঠাকুরগাঁওয়ে।

মানসিক ট্রমায় সাবিলা নূর

এআই দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিও নিয়ে নিজের এবং সহকর্মীদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী সাবিলা নূর। তাঁর মতে, এসব কনটেন্টের কারণে তিনি ও তাঁর কয়েকজন সহকর্মী মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

সাবিলা নূর মনে করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড অপরাধের শামিল। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

অন্যদিকে, অভিনেত্রী ও সংগীতশিল্পী জেফার রহমানের ছবি ও কণ্ঠ ব্যবহার করেও আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এসব নিয়ে প্রকাশ্যে উদ্বেগ না জানিয়ে নিজের কাজেই মনোযোগী থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি।

‘আমার নেতা’ গান ঘিরে বিতর্ক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী, সাবিলা নূর, জেফার রহমান ও সালমান মুক্তাদিরের কণ্ঠ নকল করে আপত্তিকর বক্তব্য সংযোজন করা হয়েছে। ভিডিওগুলোতে তাঁদের ছবি ও কণ্ঠ ব্যবহার করে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেন তাঁরা নিজেরাই এসব কথা বলছেন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ‘আমার নেতা’ শিরোনামের একটি গানকে কেন্দ্র করে এসব ভিডিও তৈরি করা হয়। গানটি চলতি বছরের জানুয়ারিতে তানজ প্রোডাকশনসের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছিল। পরে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তারকাদের কণ্ঠ ক্লোন করে তৈরি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় তানজিম নূর ও সোহাগ সিদ্দিকীর নামও আলোচনায় এসেছে। গত ৮ অক্টোবর তাঁদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওগুলো ছড়ানোর কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে একাধিক পেজে একই ধরনের ভিডিও শেয়ার করা হয়।

তবে কোনো কনটেন্ট তৈরি বা প্রচারের সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ও যথাযথ তদন্ত ছাড়া কারও দায় চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা যায় না।

ডিপফেক শনাক্তে যেসব অসংগতি

ডিপফেক শনাক্তকারী বিভিন্ন টুলের মাধ্যমে ভিডিও ও অডিও বিশ্লেষণ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ভিডিওগুলোর বিভিন্ন দৃশ্যে ঠোঁটের নড়াচড়া ও কণ্ঠস্বরের মধ্যে অসংগতি, মুখমণ্ডলের চারপাশে আলো-ছায়ার অস্বাভাবিকতা এবং মাথা ও ঘাড়ের নড়াচড়ায় অসামঞ্জস্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাসরিফ খানের কণ্ঠ ব্যবহার করে তৈরি গানটির অডিও পরীক্ষাতেও কণ্ঠ ক্লোনিংয়ের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে কোনো একটি প্রযুক্তিগত লক্ষণ দেখেই ডিপফেকের বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা যায় না। নির্ভরযোগ্য যাচাই, মূল কনটেন্টের সঙ্গে তুলনা এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ।

সচেতনতা ও যাচাইয়ের বিকল্প নেই

গবেষক ও ফ্যাক্টচেকার মিরাজ হোসেনের মতে, ভয়েস ক্লোনিং ও ডিপফেক মানুষের শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তিকে একসঙ্গে বিভ্রান্ত করতে পারে। ফলে প্রযুক্তি ও গণমাধ্যম সম্পর্কে সচেতনতা কম থাকা ব্যক্তিদের পক্ষে আসল-নকলের পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। যাচাই ছাড়াই এসব কনটেন্ট শেয়ার করার কারণে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কোনো ভিডিও বা অডিও অস্বাভাবিক মনে হলে সেটিকে তাৎক্ষণিকভাবে সত্য বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। বক্তব্যের প্রেক্ষাপট, প্রকাশের উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য এবং কনটেন্টের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করতে হবে। সন্দেহজনক কনটেন্ট শেয়ার না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিপোর্ট করা এবং প্রয়োজনে ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

ডিপফেকের শিকার হলে ভুক্তভোগীর উচিত সংশ্লিষ্ট কনটেন্টের লিংক, স্ক্রিনশট ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ করা। পাশাপাশি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দেওয়া এবং প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

অনুমতি ছাড়া ছবি-কণ্ঠ ব্যবহারে আইনি প্রতিকার

বাংলাদেশ সাইবার পুলিশ সেন্টারের মিডিয়া সেলের শাফি উল্লাহর বক্তব্য অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া কারও ছবি, কণ্ঠ বা ভিডিও ক্লোন করে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারের ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের সাইবার অপরাধের শিকার হলে ভুক্তভোগী নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলা করতে পারেন।

স্থানীয় থানা তদন্তে সক্ষম না হলে সংশ্লিষ্ট মামলা পুলিশের বিশেষায়িত সাইবার ইউনিট বা সিআইডিতে পাঠানো হতে পারে। তদন্তের ভিত্তিতে কনটেন্ট তৈরি, প্রচার কিংবা ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা যেতে পারে।

ঢাকা জজকোর্টের আইনজীবী মো. রিয়াজুর রহমান রায়হানের মতে, এআইয়ের সাহায্যে কারও ছবি বা কণ্ঠ ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর কিংবা সম্মানহানিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সুনামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ঘটনার ধরন ও প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করে মানহানিসহ বিভিন্ন আইনি প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।

এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনীয় ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

এআই প্রযুক্তি সৃজনশীল কাজের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও এর অপব্যবহার ব্যক্তির পরিচয়, সম্মান ও নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে পরিচিত ব্যক্তিদের ছবি ও কণ্ঠ ব্যবহার করে ভুয়া কনটেন্ট তৈরি করা হলে তাঁদের সামাজিক মর্যাদা ও দর্শক-ভক্তদের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সংকট মোকাবিলায় আইনগত পদক্ষেপের পাশাপাশি প্রয়োজন ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্যকর নজরদারি এবং ভুক্তভোগীদের দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে যাচাই ছাড়া আপত্তিকর ভিডিও শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

কারও মুখ বা কণ্ঠ দেখা কিংবা শোনা গেলেই সেটিকে সত্য বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। ডিপফেকের যুগে তথ্য যাচাই, দায়িত্বশীল আচরণ এবং ব্যক্তিগত মর্যাদার প্রতি সম্মানই হতে পারে অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধের অন্যতম কার্যকর উপায়।

কালের আলো/জেএন 

ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধীদের নতুন কর্মসূচি, দিল্লিতে বড় পদযাত্রার ডাক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১০ পূর্বাহ্ণ
ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধীদের নতুন কর্মসূচি, দিল্লিতে বড় পদযাত্রার ডাক

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার (১২ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে বড় ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কংগ্রেস ও তাদের মিত্র দলগুলো।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবারের কর্মসূচিতে বিরোধী নেতারা দিল্লিতে প্রতিবাদ পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চেয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার কথাও জানিয়েছে জোটটি।

সিইসির পদত্যাগে অনড় বিরোধীরা

কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা কে সি ভেনুগোপাল শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।

বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক নাম বাদ পড়েছে এবং এতে ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি এসব অভিযোগের বিরোধিতা করে আসছে। বাদ পড়া নামগুলোর ক্ষেত্রে মৃত ভোটার, স্থানান্তরিত ব্যক্তি কিংবা যাচাই করা যায়নি—এমন তথ্যের বিষয়টি তুলে ধরেছে কমিশন।

দিল্লিতে ধরপাকড় ঘিরে উত্তেজনা

এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে একাধিক বিরোধী নেতা পুলিশের হাতে আটক হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার।

এ ছাড়া বামপন্থী নেতা বৃন্দা কারাত, দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, অধিকারকর্মী যোগেন্দ্র যাদব ও আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণসহ আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়। বিরোধী নেতারা পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে, বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার ও চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আটকের ঘটনাকে ‘অপহরণ’ বলে আখ্যা দেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ তাঁকে ও তাঁর দলের নেতাদের দীর্ঘ সময় গাড়িতে আটকে রেখেছিল। তবে এটি তাঁর বক্তব্য; পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বিরোধী ঐক্য আরও জোরদারের চেষ্টা

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর সোমবারের কর্মসূচিকে ঘিরে বিরোধী জোটের তৎপরতা বেড়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতেই অবস্থান করছেন এবং কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বিরোধীদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের অবস্থান হলো—ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করা হচ্ছে।

সোমবারের কর্মসূচিতে কতসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেবেন এবং পদযাত্রা কোন পথে হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশিত হলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে। তবে বিরোধী জোটের এই কর্মসূচি ভারতের নির্বাচনব্যবস্থা ও ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিতে পারে।

কালের আলো/জেএন

শৌচাগারে ঢুকলেই সময় গণনা, বাইরে থেকেই দেখছেন সবাই!

ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০২ পূর্বাহ্ণ
শৌচাগারে ঢুকলেই সময় গণনা, বাইরে থেকেই দেখছেন সবাই!

শৌচাগার ব্যবহারে কতক্ষণ সময় লাগছে, তা এবার বাইরে থেকেই দেখতে পাচ্ছেন অপেক্ষমাণ ব্যক্তিরা। চীনের একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে নারী শৌচাগারের প্রতিটি কক্ষের বাইরে বসানো হয়েছে ডিজিটাল টাইমার। কেউ কক্ষে প্রবেশ করলে ডিসপ্লেতে সময় গণনা শুরু হয়। আর কক্ষ খালি থাকলে দেখা যায় সবুজ সংকেত।

ব্যতিক্রমী এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে চীনের শানসি প্রদেশের দাতং শহরের ইউনগাং গুহামন্দির পর্যটন এলাকায়। ২০২৪ সালের ১ মে থেকে চালু হওয়া এ ব্যবস্থা নিয়ে ওই বছরের জুনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন এবং চীনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, পর্যটকদের চাপ সামলানো ও শৌচাগার ব্যবস্থাপনা উন্নত করার উদ্দেশ্যে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

কক্ষে ঢুকলেই শুরু হয় সময় গণনা

শৌচাগারের প্রতিটি কক্ষের দরজার ওপরে স্থাপন করা হয়েছে এলইডি ডিসপ্লে। কক্ষটি খালি থাকলে সবুজ সংকেত দেখা যায়। কেউ ভেতরে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করলে ডিসপ্লেতে লাল সংকেতের পাশাপাশি মিনিট ও সেকেন্ডের হিসাবে সময় দেখানো হয়।

এতে বাইরে অপেক্ষমাণ ব্যক্তিরা বুঝতে পারেন কোন কক্ষটি খালি, কোনটি ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সেখানে কতক্ষণ ধরে কেউ অবস্থান করছেন। ফলে অযথা দরজায় ধাক্কা দেওয়া বা খালি কক্ষ খুঁজতে গিয়ে সময় নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমতে পারে।

তবে এই টাইমার চালু হওয়ার পর অনেকের মনে প্রশ্ন ওঠে—নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলে কি ব্যবহারকারীকে বের হয়ে আসতে বাধ্য করা হবে?

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পর্যটনকেন্দ্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শৌচাগার ব্যবহারের সময় নিয়ন্ত্রণ করা এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য নয়। পাঁচ বা দশ মিনিটের মতো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়নি। সময় বেশি লাগলে কাউকে মাঝপথে বের করে দেওয়ার প্রশ্নও নেই।

নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো শৌচাগারের ভেতরে কেউ দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন হওয়া। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে বা অন্য কোনো সমস্যায় পড়লে দীর্ঘ সময় ধরে কক্ষে অবস্থানের বিষয়টি নজরে আসতে পারে।

অর্থাৎ, শুধু ভিড় ব্যবস্থাপনা নয়, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও এই প্রযুক্তি চালুর পেছনে বিবেচনায় ছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তবে টাইমার কতক্ষণ ধরে চললে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়, কিংবা এ ব্যবস্থার সঙ্গে কোনো স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ম যুক্ত আছে কি না—প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

পর্যটকেরা দেখছেন সুবিধা ও অস্বস্তি—দুই দিকই

ডিজিটাল টাইমার নিয়ে পর্যটকদের প্রতিক্রিয়াও মিশ্র। কেউ মনে করছেন, এ ব্যবস্থায় কক্ষ খালি আছে কি না সহজে বোঝা যাবে এবং দীর্ঘ অপেক্ষার ভোগান্তি কমতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, শৌচাগার ব্যবহারের সময় প্রকাশ্যে দেখানো অস্বস্তিকর এবং এতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

এক পর্যটক স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রযুক্তিটি উন্নত মনে হলেও ডিসপ্লেতে ব্যবহারের সময় দেখানোর কারণে তাঁর নিজেকে পর্যবেক্ষণের মধ্যে থাকা ব্যক্তির মতো মনে হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, অতিরিক্ত শৌচাগার নির্মাণের পরিবর্তে এ ধরনের ব্যবস্থা কতটা প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে, জরুরি পরিস্থিতিতে কারও খোঁজ নিতে এটি সহায়ক হতে পারে বলেও মত দিয়েছেন অনেকে।

বছরে ৩০ লাখের বেশি পর্যটকের গন্তব্য

চীনের অন্যতম ঐতিহাসিক পর্যটনকেন্দ্র ইউনগাং গুহামন্দির। প্রায় দেড় হাজার বছরের পুরোনো এই স্থাপনায় রয়েছে অসংখ্য বৌদ্ধ ভাস্কর্য ও পাথরে খোদাই করা গুহা। ইউনেস্কো ২০০১ সালে স্থানটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

সিএনএনের ২০২৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে পর্যটনকেন্দ্রটিতে প্রায় ৩০ লাখ দর্শনার্থী গিয়েছিলেন। এর আগে ২০১৯ সালে দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার। পর্যটকের এই উল্লেখযোগ্য চাপের কারণে শৌচাগারসহ দর্শনার্থীদের বিভিন্ন সুবিধা ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়।

সব মিলিয়ে, শৌচাগারের বাইরে ডিজিটাল টাইমার স্থাপনের উদ্যোগটি প্রযুক্তিনির্ভর পর্যটন ব্যবস্থাপনার একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ। তবে এ ধরনের ব্যবস্থায় নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং ব্যবহারকারীর স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: সিএনএন, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

কালের আলো/জেএন