খুঁজুন
                               
, ,
           

যুগান্তকারী বলছেন মির্জা ফখরুল, ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
যুগান্তকারী বলছেন মির্জা ফখরুল, ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রস্তাবিত নতুন বাজেট বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তনের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। তিনি মনে করেন, এই বাজেটের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সতর্কবার্তা দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। অন্যদিকে, বাজেট নিয়ে ইতিবাচক মূল্যায়ন করেছেন ব্যবসায়ীরাও।

অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার দৃঢ় সংকল্পের প্রতিফলন
ক্ষমতাসীন দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের দুঃশাসনে বাংলাদেশের অর্থনীতি শুধু ভঙ্গুরই হয়ে পড়েনি, একই সঙ্গে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানও দুর্বল হয়ে পড়েছিল। মাঝখানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও দেশকে সঠিক ট্র্যাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে ব্যর্থ হয়েছে। যার ফলে একটি অগোছালো প্রশাসন এবং চরম দুর্দশাগ্রস্ত অর্থনীতির মধ্য দিয়ে বিএনপিকে সরকার গঠন করে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।’ এই কঠিন প্রেক্ষাপটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী যে বাজেট উপস্থাপন করেছেন, তাকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘এই বাজেটে সরকারের আন্তরিকতা ও অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার দৃঢ় সংকল্পের প্রতিফলন ঘটেছে। বাজেটের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর সৃজনশীলতা। এতে এমন কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা আগে খুব কমই দেখা গেছে।’

বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আগামী অর্থবছরে প্রায় ৪১ লাখ নারী পরিবারপ্রধান এই কর্মসূচির আওতায় আসবেন এবং প্রতি পরিবারকে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। এজন্য ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।’ কৃষিখাতে সহায়তার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে সেচব্যবস্থা, পানি সংরক্ষণ এবং মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। স্থানীয় শিল্প সুরক্ষায় বাজেটের পদক্ষেপের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশীয় উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। যেসব পণ্য দেশে উৎপাদিত হয়, সেগুলোর সুরক্ষায় বিদেশি আমদানির ওপর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কর-সুবিধাও প্রদান করা হয়েছে।’

বাজেটে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ বা সৃজনশীল অর্থনীতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ক্রীড়া খাতে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মাসিক সম্মানী দেওয়া হবে, ‘নতুন কুঁড়ি’র মতো আয়োজন পুনরায় শুরু হবে এবং খেলাধুলার পরিবেশ পুনরুজ্জীবিত করা হবে। এছাড়া ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’

সংস্কৃতি খাতের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে তিনি জানান, ‘একটি গ্রাম, একটি পণ্য’ উদ্যোগের আওতায় মৃৎশিল্প, বুননশিল্প, শীতলপাটিসহ ঐতিহ্যবাহী পণ্য বাজারজাত করা হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে লোকজ ও হস্তশিল্পের প্রসারে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ঢাকার পূর্বাঞ্চলে ১৬০ একর জমির ওপর একটি বিশ্বমানের ‘ক্রিয়েটিভ হাব’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে বাজেটের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এসএমই খাতের বিকাশে সহজ শর্তে ঋণ, প্রবাসী কর্মীদের জন্য ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল ও ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করা হবে। হাইটেক পার্কে ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান এবং গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক নারীর কাজের সুযোগ তৈরি হবে।’

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ বৃদ্ধির তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ১.৩৯ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য খাতে ০.৫৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১.০১ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। এটি মানবসম্পদ উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।’ ব্যবসায়ীদের জন্য সুখবর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসা সহজ করতে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা ও নিয়ন্ত্রণ কমানো হয়েছে। কর প্রদান ও রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয় করা হবে। করের হার না বাড়িয়ে বরং করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং কর প্রশাসন আধুনিকীকরণের মাধ্যমে রাজস্ব আয় বাড়ানো হবে।’ আমদানি সুবিধার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রপ্তানিমুখী ও উৎপাদনমুখী খাতের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এতে শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।’ মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। উৎপাদন বাড়লে মূল্যস্ফীতি স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে। সব মিলিয়ে এই বাজেট সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সুফল বয়ে আনবে।’

বাজেটকে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) বাজেটকে সামগ্রিকভাবে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, শিল্পের কাঁচামালে উৎসে কর হ্রাস, পাঁচ বছরের কর কাঠামো আগাম ঘোষণা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক যানবাহনে কর সুবিধা এবং অনলাইন ভ্যাট ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে তিনি করমুক্ত আয়সীমা অপরিবর্তিত রাখার সমালোচনা করে বলেন, মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় এটি অন্তত ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করা প্রয়োজন ছিল। ডিসিসিআইর মতে, ঘোষিত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতি নতুন গতি পাবে। তবে বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

অর্থায়ন কাঠামো নিয়ে উদ্বেগ অর্থনীতিবিদদের
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বাজেটের নীতিগত দিককে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও অর্থায়ন কাঠামো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, মানবিক অর্থনীতি, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি এবং যুব উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। কিন্তু এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক কাঠামো এখনো দুর্বল। বিশেষ করে বৈদেশিক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং বড় অঙ্কের থোক বরাদ্দ আর্থিক শৃঙ্খলার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনও বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তার মতে, বাস্তবায়ন সক্ষমতার তুলনায় বড় বাজেট ঘোষণার প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। ফলে ঘোষিত বাজেটের পুরোটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, করের বোঝা না বাড়িয়ে কিছু ক্ষেত্রে কমানোর উদ্যোগ ইতিবাচক। এতে ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আরও সমন্বিত ও কৌশলগত পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

 

আ.লীগ আমলে বঞ্চিত তিন বাহিনীর ১৫০ কর্মকর্তা পেলেন বিশেষ সুবিধা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ
আ.লীগ আমলে বঞ্চিত তিন বাহিনীর ১৫০ কর্মকর্তা পেলেন বিশেষ সুবিধা

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীতে বঞ্চনা, অবিচার ও প্রতিহিংসার শিকার হওয়া ১৫০ জন অবসরপ্রাপ্ত, অপসারণকৃত, অব্যাহতিপ্রাপ্ত ও বরখাস্তকৃত (চাকরিচ্যুত) অফিসারকে পুনর্বাসন, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি এবং বকেয়া আর্থিক সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বুধবার (১ জুলাই ) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনীর তিন শাখায় চাকরিতে বৈষম্য ও প্রতিহিংসার শিকার কর্মকর্তাদের আবেদন পর্যালোচনার জন্য সম্প্রতি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক একটি কমিটি এবং বাহিনী সদর দপ্তরসমূহ কর্তৃক পর্ষদ গঠন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে গত ৩ মে গঠিত আরেকটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি এসব প্রস্তাব ও সুপারিশ বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। সেই কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশের ভিত্তিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এই সরকারি আদেশ জারি করা হয়েছে।

আদেশের আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১১৫ জন, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২১ জন এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ১৪ জনসহ সর্বমোট ১৫০ জন অফিসারকে তাদের যোগ্যতানুযায়ী স্বাভাবিক অবসর, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতিসহ স্বাভাবিক অবসর, অকালীন (বাধ্যতামূলক) অবসর বা পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বিধি অনুযায়ী তাদের বকেয়া বেতন-ভাতা, আর্থিক সুবিধা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনাও দেওয়া হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং এটি বাস্তবায়ন করবে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ।

একই সঙ্গে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এ-সংক্রান্ত আগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়েছে।

এর আগে, অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সশস্ত্র বাহিনী থেকে বরখাস্ত, চাকরিচ্যুত, বাধ্যতামূলক অবসর, অকালীন অবসর ও স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়া ১৪১ জন কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বরখাস্ত, চাকরিচ্যুত, বাধ্যতামূলক অবসর, অকালীন অবসর ও স্বেচ্ছা অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারা চাকরি ফিরে পাওয়ার আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি বিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজের নেতৃত্বে এই কমিটি গঠিত হয়। কমিটি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া আবেদন পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে সুপারিশ পেশ করে। কমিটি ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত পদ্ধতিগত বৈষম্য ও পেশাগত ক্ষতির অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত, অপসারিত বা বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের করা আবেদন পর্যালোচনা করে সুপারিশ পেশ করে।

কমিটির সুপারিশে উল্লেখ করা হয়, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, বৈষম্য ও অন্যায়ের শিকার হওয়া কর্মকর্তাদের মান-মর্যাদা ও প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা পুনর্বহালের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

 

রাজশাহীতে মহাসড়কে ডাকাতি, ১৯ মহিষসহ ট্রাক লুট

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৯:২২ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে মহাসড়কে ডাকাতি, ১৯ মহিষসহ ট্রাক লুট

রাজশাহীর পুঠিয়ায় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ১৯টি মহিষবোঝাই একটি ট্রাক লুট করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় মহাসড়কের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ৩টার দিকে পুঠিয়া উপজেলার তারাপুর ও মাইপাড়া বাজারের মধ্যবর্তী মহাসড়কের নির্জন অংশে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বুধবার বিকেলে ভুক্তভোগীরা পুঠিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

ব্যবসায়ী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী অঞ্চলের সাতজন ব্যবসায়ী যৌথভাবে সিলেট থেকে ১৯টি মহিষ কিনে একটি ট্রাকে করে রাজশাহী সিটি হাটে নিয়ে আসছিলেন। তারাপুর বাজার অতিক্রম করার পর একটি ড্রাম ট্রাক দিয়ে তাদের পথরোধ করে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল।

ডাকাতরা ট্রাকের চালক, হেলপারসহ চারজনকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং মুখে টেপ লাগিয়ে জিম্মি করে। পরে তাদের সিরাজগঞ্জের কাচিকাটা টোলপ্লাজার আগে একটি পাটক্ষেতে ফেলে রেখে মহিষবোঝাই ট্রাকটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

ডাকাতির শিকার ট্রাকচালক রিয়াজউদ্দিন বলেন, “তারাপুর বাজার পার হওয়ার পরই একটি ড্রাম ট্রাক আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়। এরপর কয়েকজন এসে আমাদের মারধর করে, মুখে টেপ লাগিয়ে তুলে নিয়ে যায়। পরে কাচিকাটা এলাকায় একটি পাটক্ষেতে ফেলে রেখে তারা ট্রাক নিয়ে চলে যায়।”

পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘ভুক্তভোগীরা আমাদের কাছে এসে জানিয়েছেন, তাদের ১৯টি মহিষসহ ট্রাক লুণ্ঠন করা হয়েছে। এ ঘটনায় তারা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।’

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানি প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানি প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

Oplus_131072

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপানের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক সংসদীয় ভাইস মিনিস্টার শিমাদা তোমাকির নেতৃত্বে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্টসহ একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করেছে।

বুধবার (১ জুলাই) বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, এমআরটি লাইনসমূহ, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালসহ জাইকার অর্থায়নে বাংলাদেশে চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডিসেম্বরের মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের লক্ষ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ ছাড়া, বৈঠকে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে জাপানের ৩১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তা ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার বিষয়ে জাপান ইতিবাচক সাড়া দেয়।

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ–জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

এ সময় জাপানি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে জাপানের পক্ষ থেকে পাঁচটি পেট্রোল বোট প্রদান করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করে।

এ ছাড়া বৈঠকে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে জাপানের ৩১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তা ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার বিষয়ে জাপান ইতিবাচক সাড়া দেয়।

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ–জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

এ সময় জাপানি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে জাপানের পক্ষ থেকে পাঁচটি পেট্রোল বোট প্রদান করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করে।

কালের আলো/এসএকে