‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে বেড়েছে সাড়ে ছয় গুণ
এনআইডি সংশোধনে বছরে ১০ লাখ আবেদন
জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য সংশোধন করতে প্রতি বছর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিভিন্ন কার্যালয়ে ছুটছেন প্রায় ১০ লাখ নাগরিক। দিনে গড়ে এই সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। ভুল তথ্য সংশোধনের জন্য কাউকে উপজেলা, কাউকে জেলা কিংবা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যেতে হচ্ছে। কোনো কোনো নাগরিককে আসতে হচ্ছে ঢাকার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনেও।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, এনআইডি সংশোধনের ছয় ক্যাটাগরি—ক-১, ক, খ-১, খ, গ ও ঘ—মিলে চলতি বছরের ১১ আগস্ট পর্যন্ত মোট আবেদন রয়েছে ৪৯ লাখ ৫৩ হাজার ৩২৮টি। এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ১ জুলাই এ সংখ্যা ছিল ৪২ লাখ ৯২ হাজার ২৬২টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আবেদন বেড়েছে ৬ লাখ ৬১ হাজার ৬৬টি।
এদিকে, এনআইডি সংশোধনের সবচেয়ে জটিল হিসেবে বিবেচিত ‘ঘ’ ক্যাটাগরির আবেদনের সংখ্যা এক বছরে বেড়েছে প্রায় সাড়ে ছয় গুণ। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে এ ক্যাটাগরিতে আবেদন ছিল ৬ হাজার ৮৭টি। চলতি বছরের জুনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার ৭৩টিতে।
সারা দেশের ‘ঘ’ ক্যাটাগরির এসব আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষমতা এককভাবে এনআইডি মহাপরিচালকের (ডিজি) হাতে থাকায় আবেদন জমে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এতে নাগরিকদের ভোগান্তিও বাড়ছে।
নির্বাচন কমিশনের তৈরি করা এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের শুরু থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয় বছরে এনআইডি সংশোধনের আবেদন জমা পড়েছে বিপুলসংখ্যক। এ সময়ে বছরে গড়ে প্রায় ৯ লাখ ৭০ হাজার আবেদন পড়েছে। মাসে গড়ে আবেদন জমা পড়েছে ৮০ হাজারের বেশি। আর দিনে গড়ে আবেদন পড়েছে প্রায় ২ হাজার ৭০০টি।
কর্মকর্তারা বলছেন, জন্মতারিখ, নাম, পিতা-মাতার নাম, ঠিকানা এবং অন্যান্য তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন বাড়লেও অনলাইন সেবা সম্প্রসারণ ও দ্রুত নিষ্পত্তির কারণে দীর্ঘসূত্রতা আগের তুলনায় কমেছে।
তবে নাগরিকদের ভোগান্তি আরও কমাতে বয়স সংশোধনের কিছু ক্ষমতা শর্তসাপেক্ষে মাঠপর্যায়ে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে গত ১৩ আগস্ট একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
পরিপত্র অনুযায়ী, অনলাইনে যাচাইযোগ্য জেএসসি, মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষা সনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন ‘ক’ ক্যাটাগরিভুক্ত হিসেবে উপজেলা বা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা, সিনিয়র জেলা বা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং এনআইডি উইংয়ের সহকারী পরিচালক বা উপপরিচালক নিষ্পত্তি করতে পারবেন।
শিক্ষা সনদের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রমাণাদি গ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ‘এসওপি’ অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে সংশোধনের আবেদন ইলেকট্রনিকভাবে অনুমোদন বা বাতিলের ক্ষেত্রে ‘সিএমএসে’ আবশ্যিকভাবে নোট দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কালের আলো/এম/এএইচ

আপনার মতামত লিখুন
Array