খুঁজুন
                               
, ,
           

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের স্বর

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের স্বর

চার দিনের সফর। ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি। ১১ দেশের শীর্ষ নেতার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ। জলবায়ু, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য নিয়ে একের পর এক বৈঠক। সব মিলিয়ে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারগুলোই ছিল আলোচনার কেন্দ্রে।

  • চার দিনে ৩০ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত কূটনীতি
  • ১১ দেশের শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠক
  • জাতিসংঘে গণতন্ত্র, রোহিঙ্গা, জলবায়ু ও বিনিয়োগে বাংলাদেশের বার্তা
  • নারী নেতৃত্ব, স্বাস্থ্য ও কূটনীতিতে সক্রিয় ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘ সময় পর জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একটি সরকারপ্রধান বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব বাড়ানোই ছিল সফরের মূল লক্ষ্য। মাহ্দী আমিন বলেন, বৈশ্বিক কূটনীতিতে এই সফরটি ছিল আমাদের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার এক দৃঢ় প্রত্যয়।’

ছোট বহর, ঠাসা কর্মসূচি
প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরে আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিদল ছিল মাত্র ৩৫ সদস্যের। নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে যাতায়াত করেন প্রধানমন্ত্রী। চার দিনে তাঁর ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির পাশাপাশি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা আরও প্রায় ৫০টি বৈঠকে অংশ নেন। ফলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মোট ৮০টির বেশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেশে ফিরেছেন প্রতিনিধিদলের বড় অংশ। তবে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের একটি দল ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থান করে প্রযুক্তি, শিল্প ও শিক্ষা খাতে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব বাড়ানোর বিষয়ে ধারাবাহিক বৈঠক করছে। মাহ্দী আমিনের ভাষায়, ‘অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এই সফরে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে একদিন এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে ফিরতে একদিন সময় লেগেছে। মাঝে চার দিন তিনি সেখানে অবস্থান করেন। এই স্বল্পতম সময়ের সফরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বমোট ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন।’

জাতিসংঘে ‘তিন আর’-এর বার্তা
সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ছিল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন। প্রধানমন্ত্রী সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী পর্বে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে ভাষণ দেন। জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজিত প্রাতরাশ সংবর্ধনাতেও অংশ নেন তিনি। ভাষণে নতুন সরকারের গণতান্ত্রিক যাত্রা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, নারী-যুবক-শিশুর কল্যাণ এবং অর্থনীতি পুনর্গঠনের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। রাষ্ট্র পুনর্গঠনের দর্শন হিসেবে পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠনের ‘তিন আর’ নীতির কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

নাগরিক সুরক্ষায় পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড ও সর্বজনীন কার্ডের পরিকল্পনার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস ও নতুন উদ্যোগের তহবিলের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। মাহ্দী আমিন বলেন, ‘বিশ্বমঞ্চে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণটি ছিল এক অনন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত।’ তাঁর দাবি, ভাষণে বাংলাদেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং নবনির্বাচিত সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

জলবায়ুতে ২৫ কোটি গাছ, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের পরিকল্পনাও বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। জলবায়ু কার্যক্রম ও ন্যায়সংগত রূপান্তর এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে দুটি উচ্চপর্যায়ের আয়োজনে বক্তব্য দেন তিনি। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো, প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং সৌর ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। শিল্পায়নে পরিবেশবান্ধব কারখানা বাড়ানো এবং ক্ষয়ক্ষতি তহবিল কার্যকর করার দাবিও জানানো হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকটে পাঁচ দফা
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানেও ছিল বাংলাদেশের জোরালো অবস্থান। প্রায় ২০টি দেশের প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার নেতাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের জন্য পাঁচটি পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। মাহ্দী আমিন বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে উদ্ভূত এই সমস্যার সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত রয়েছে।’ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে প্রত্যাবাসনের জন্য চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সফরে মিয়ানমারের কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে সরাসরি বৈঠক হয়নি। তবে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

১১ দেশের সঙ্গে বৈঠক
চার দিনে প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, ক্রোয়েশিয়া ও হাইতির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গুরুত্ব পায়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আরও সুযোগ তৈরি, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়। মাহ্দী আমিন বলেন, ‘সমতা, ন্যায্যতা ও পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।’

ওয়াল স্ট্রিটে বিনিয়োগের বার্তা
বিশ্বের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ওয়াল স্ট্রিটের প্রায় ২৫ জন শীর্ষ বিনিয়োগকারীর সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো, আর্থিক খাত সংস্কার এবং নতুন আর্থিক উপকরণ চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, গেটস ফাউন্ডেশন ও আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে। বোয়িং গ্লোবালের সঙ্গে বাংলাদেশের বিমানবহর সম্প্রসারণে নতুন উড়োজাহাজ কেনার বিষয়েও অগ্রগতির কথা জানানো হয়। বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মাহ্দী আমিন বলেন, ‘এটি কোনো পক্ষের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত নয়; বাংলাদেশের স্বার্থ বিবেচনা করেই চুক্তি করা হয়েছে।’

মেলানিয়া ট্রাম্পের সংবর্ধনায় ডা. জুবাইদা
প্রধানমন্ত্রীর সফরের পাশাপাশি ডা. জুবাইদা রহমান আটটি কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং তিনটিতে বক্তব্য দেন। নারী নেতৃত্ব, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি নিয়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন আয়োজনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। তবে তাঁর কর্মসূচির মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পায় মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে আয়োজিত বিশেষ সংবর্ধনা। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান অংশ নেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট লেডি ও শীর্ষ নেতাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর কুশলবিনিময় হয়। মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গেও আন্তরিক সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন ডা. জুবাইদা রহমান।

এর আগে মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আন্তর্জাতিক আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন ডা. জুবাইদা। এবারের সংবর্ধনায় তাঁদের পুনঃসাক্ষাৎ তাই সফরের সামাজিক ও কূটনৈতিক পরিসরে আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। জাতিসংঘের নারী নেতৃত্বের মঞ্চ, বিশ্ব ফার্স্ট স্পাউসেস সংলাপ এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি-সংক্রান্ত আয়োজনে অংশ নিয়ে তিনি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যদর্শন ও নারী নেতৃত্বের বিষয়গুলোও তুলে ধরেন।

স্বাস্থ্য খাতে এক লাখ কর্মী, ২৫ হাজার মিডওয়াইফ
মাতৃ ও শিশুমৃত্যু কমাতে আগামী দিনে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের ৮০ শতাংশ নারী হওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ এবং ইউনিয়ন থেকে বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের কথা বলা হয়। প্রত্যেক নাগরিককে ই-হেলথ কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনাও আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরা হয়েছে।

ফিলিস্তিনে বাংলাদেশের অবস্থান
জাতিসংঘে ভাষণে ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দিতে ওঠার সময় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভাষ্য, ‘এটি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের নীতিগত অবস্থানেরই প্রতিফলন।’

মানবাধিকার নিয়ে জাতিসংঘের সঙ্গে আলোচনা
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে মানবাধিডেন্টের সঙ্গেও বৈঠকে পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজিকার, বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, ‘বিগত সাত মাসে মানবাধিকার রক্ষা, বাকস্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যতে তা সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে।’ বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও বৈঠকে পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যনীতিতে কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতার বিষয় আলোচনা হয়েছে।

জ্বালানির দাম নিয়ে প্রশ্ন
সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। জবাবে মাহ্দী আমিন বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই ন্যূনতম পর্যায়ে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।’

মিরপুরের হামলা নিয়ে প্রশ্ন
মিরপুরের একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলার ঘটনা নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র। তিনি জানান, ঘটনার পরপরই নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কারও রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা সরকারের কারও নাম ব্যবহার করে অপরাধ করলেও ছাড় দেওয়া হবে না—আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। মাহ্দী আমিন বলেন, ‘কেউ রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করুক বা সরকারের কারও নাম ব্যবহার করুক, অপরাধ করলে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।’

জাইমার নিয়োগে সরকারের সম্পৃক্ততা নেই
সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জাতিসংঘে চাকরি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। মাহ্দী আমিন স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশ সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তাঁকে কোনো চাকরি দেওয়া হয়নি। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনেও তাঁর কোনো পদায়ন হয়নি। তিনি বলেন, ‘এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের দূরতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

মাহ্দী আমিন জানান, জাইমা রহমান সরাসরি জাতিসংঘ সদরদপ্তরের সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে চাকরি পেয়েছেন। জাতিসংঘের নিজস্ব মানবসম্পদ প্রক্রিয়ায় তাঁর নিয়োগ হয়েছে এবং এর আর্থিক সুবিধাও জাতিসংঘ বহন করে। তাঁর ভাষ্য, জাইমা রহমান পি-৩ পর্যায়ের পদে নিয়োগ পেয়েছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় তিনি এ পদে নির্বাচিত হয়েছেন। মাহ্দী আমিন আরও বলেন, ‘নিজের মেধার জোরে আন্তর্জাতিক পরিসরে এমন একটি অবস্থানে পৌঁছানোকে আমাদের বরং সাধুবাদ জানানো উচিত।’

এলডিসি উত্তরণ নিয়েও আলোচনা
বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা, কোভিড-পরবর্তী চাপ, রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকট এবং সাম্প্রতিক জ্বালানি পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

এখন নজর বাস্তবায়নে
চার দিনের সফরে বক্তব্য ছিল অনেক, বৈঠকও হয়েছে বিস্তর। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অগ্রগতি, বিদেশি বিনিয়োগের বাস্তব প্রবাহ, জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিকল্পনার অর্থায়ন, স্বাস্থ্য খাতে নিয়োগ এবং এলডিসি উত্তরণ—এসব ক্ষেত্রেই এখন নজর থাকবে। মাহ্দী আমিনের ভাষায়, ‘প্রতিটি পদক্ষেপে প্রতিফলিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বার্থ, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের নিরবচ্ছিন্ন অগ্রযাত্রা।’ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভাষায়, সফরের মূল দর্শন ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।

কালের আলো/এমএএএমকে

সাক্ষী না আসায় ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত পেছাল সাক্ষ্যগ্রহণ

আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩২ অপরাহ্ণ
সাক্ষী না আসায় ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত পেছাল সাক্ষ্যগ্রহণ

সাবেক র‍্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ আসামির বিরুদ্ধে নির্ধারিত সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। সাক্ষী উপস্থিত না হওয়ায় বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আগামী ১৩ অক্টোবর সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ মামলায় বৃহস্পতিবার সপ্তম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সাক্ষী উপস্থিত না হওয়ায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সময় চাওয়া হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

মামলার ১৭ আসামির মধ্যে বর্তমানে ১০ জন গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেলে রয়েছেন। তারা হলেন সাবেক র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।

মামলার অপর সাত আসামি পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সাবেক প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, সাবেক র‍্যাব মহাপরিচালক এম খুরশিদ হোসেন, সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ এবং সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. খায়রুল ইসলাম।

আগামী ১৩ অক্টোবর এ মামলায় সপ্তম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি 

স্বৈরাচার ও গুপ্ত আবার এক হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

মুহুরীর পাড়ে উন্নয়নের মহড়া

বিশেষ সংবাদদাতা/ফেনী প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ
মুহুরীর পাড়ে উন্নয়নের মহড়া
বৃষ্টিভেজা বিকেল। সামনে মুহুরী নদী। দুই পাড়ে মানুষের ভিড়। কারও হাতে দলীয় পতাকা, কারও হাতে ফুল; কারও চোখে কৌতূহল—নানাবাড়ির মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কী বলেন? সেই অপেক্ষার মধ্যেই ঘাটঘর-মুহুরী ব্রিজ এলাকায় এসে পৌঁছালেন তিনি। ফলক উন্মোচন করলেন ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের। নদী খননের উদ্বোধন করলেন, রোপণ করলেন গাছের চারা। এরপর মঞ্চে উঠে একে একে বললেন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, কৃষকের কথা, খেটে খাওয়া পরিবারের কথা, স্বাস্থ্যসেবার পরিকল্পনা এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা। ‘ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। এখন আমরা সেটি বাস্তবায়ন করতে এসেছি।’ মুহুরীর পাড়ে প্রধানমন্ত্রীর এই এক বাক্যেই যেন বৃহস্পতিবারের (০১ অক্টোবর) ফেনী সফরের সারাংশ—প্রতিশ্রুতি থেকে প্রকল্প, প্রকল্প থেকে মানুষের জীবনে পরিবর্তনের প্রত্যাশা।
  • ১,৫৪২ কোটি টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প উদ্বোধন
  • ফ্যামিলি কার্ড-কৃষক কার্ডে জনকল্যাণের বার্তা
  • অরাজকতা নিয়ে রাজনৈতিক সতর্কবার্তা

নদীর সঙ্গে যুদ্ধের নতুন অধ্যায়

পরশুরাম ও ফুলগাজীর মানুষের কাছে মুহুরী-কহুয়া নদী শুধু জলধারা নয়; কখনো আশীর্বাদ, কখনো আতঙ্ক। বর্ষায় নদীর পানি বাড়লে বাঁধের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। পানি উপচে পড়লে ডুবে যায় কৃষিজমি, ক্ষতিগ্রস্ত হয় বসতভিটা, থমকে যায় জনজীবন। সেই দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগের মোকাবিলায় এবার ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার বড় প্রকল্প। ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’—বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে এর ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। গত ১৬ জুন একনেকের সভায় অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পে ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ এবং ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন করা হবে। পাশাপাশি ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন ও ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে। কাজ শেষ করার লক্ষ্য ২০৩০ সাল। পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সিলোনিয়া নদীতেও বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।

‘এটি আমাদের নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি’

প্রকল্প উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ভোটের আগে এই নদী খননের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এখন সেটি বাস্তবায়ন করতেই তাঁরা এসেছেন। তিনি স্মরণ করেন, দুই-আড়াই বছর আগে বড় বন্যায় মুহুরী ব্রিজের ওপর দিয়েও পানি প্রবাহিত হয়েছিল। এমন পরিস্থিতি যেন আর না হয়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চার থেকে সাড়ে চার লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। প্রায় ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা তৈরি হবে। বাড়বে কৃষি উৎপাদন। উৎপাদন বাড়লে কৃষকের লাভ বাড়বে, বাজারে খাদ্যের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা সহজ হবে—এমন প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

নদী খনন থেকে কৃষকের গোলা

তারেক রহমানের বক্তব্যে নদী খনন কোনো বিচ্ছিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প নয়; এর সঙ্গে তিনি যুক্ত করেছেন কৃষকের আয় ও খাদ্যনিরাপত্তার প্রশ্ন।তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মানুষের উপকারের জন্য খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। বিএনপি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি করে বলেই সেই কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কৃষকের জন্য সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে সরকারের ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে এবং প্রায় ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন।

ফ্যামিলি কার্ডে পরিবারের মা, কৃষক কার্ডে কৃষক 

ফেনীর দ্বিতীয় পর্বে প্রধানমন্ত্রী কথা বলেন সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে। তিনি জানান, দেশের প্রতিটি পরিবারের মায়েদের কাছে ধীরে ধীরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। খেটে খাওয়া পরিবারের মায়েদের স্বাবলম্বী করে তোলাই এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য। কৃষকদের জন্য চালু করা হচ্ছে কৃষক কার্ড। এদিন, ফেনীতে ৭ হাজার ৬৪৩ জনকে কৃষক কার্ড এবং ৫১০ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়। একই অনুষ্ঠানে ২৩৮ জন ইমাম, পুরোহিত ও সেবায়েতকে সম্মানী দেওয়া হয়। অসহায় ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যেও বিতরণ করা হয় সহায়তার চেক।

উন্নয়নের মঞ্চে রাজনীতির উত্তাপ

তবে ফেনীর মঞ্চ শুধু উন্নয়নের হিসাবেই থেমে থাকেনি। বক্তব্যের একপর্যায়ে রাজনৈতিক সুর তীব্র হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি ১৯৭১ সালে তাদের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে কিছু আসনে জয় পাওয়ার পর তারা নানা ধরনের কর্মকাণ্ড করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিরোধীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা—অন্যকে নসিহত করার আগে নিজেদের দিকে তাকাতে হবে।

‘আগে নিজের ঘরের দিকে নজর দিন’

একটি ‘গুপ্ত রাজনৈতিক দল’-এর নেতাদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা অন্যদের নসিহত করছেন, তাদের আগে নিজেদের ঘরের দিকে নজর দেওয়া উচিত। নারী নির্যাতন ও একটি মৃত্যুর অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না বলেও জানান।

‘স্বৈরাচার ও গুপ্ত আবার এক হয়েছে’

ফুলগাজীর অনুষ্ঠানে আরও কঠোর রাজনৈতিক বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচার’ ও ‘গুপ্ত’ আবার এক হয়েছে এবং তারা মিলেমিশে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে। যারা অরাজকতা তৈরি করে, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ‘এক দফা’ নিয়ে রাজনীতি করা এবং দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর প্রশ্ন—তাদের মানুষের জন্য কী কর্মসূচি আছে? খাল কাটা, ফ্যামিলি কার্ড কিংবা কৃষক কার্ডের মতো কর্মসূচি তাদের আছে কি না। তারেক রহমান বলেন, বিএনপির রাজনীতি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি। বন্ধ কলকারখানাগুলো চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

‘বেহেশতের টিকিট’ নিয়ে সমালোচনা

নির্বাচনের আগে একটি রাজনৈতিক দলের ‘বেহেশতের টিকিট’ বিক্রির প্রচারণার সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বেহেশতের মালিক আল্লাহ—এ কথা উল্লেখ করে তিনি ওই প্রচারণাকে রাজনৈতিক প্রতারণা হিসেবে তুলে ধরেন এবং বলেন, তাদের ‘মুনাফেকি’ প্রকাশ হয়ে গেছে। স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার পর একটি ‘গুপ্ত বাহিনী’ তাদের ফিরে আসাকে স্বাগত জানিয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

উপজেলা হাসপাতাল হবে ১৫০ শয্যার

ফেনীর জনসভায় স্বাস্থ্য খাতের পরিকল্পনাও সামনে আনেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস, শিশু ও মাতৃসেবাসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

নানাবাড়ির স্মৃতিতে ফিরে দেখা

রাজনীতির উত্তাপের মাঝেও ফেনীতে নিজের শিকড়ের কথা স্মরণ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, বহু বছর পর নানাবাড়িতে এসেছেন। সম্ভবত ১৯৮৪ সালে প্রথম এসেছিলেন, এরপর ১৯৯১ সালে। নানাবাড়ির স্মৃতিচারণ করে তাঁর বক্তব্য—‘দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে হবে, নানাবাড়ির জন্যও কাজ করতে হবে।’ ফেনীর ফুলগাজীতে তাঁর নানা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের গ্রামের বাড়ি। ফুলগাজীসহ তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী-১ আসন থেকে খালেদা জিয়া পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

মহাসড়কজুড়ে অভ্যর্থনা

ফেনী যাওয়ার পথও ছিল আলাদা এক দৃশ্যপট। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গুলশানের বাসভবন থেকে বাসে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকেই ফুল, ব্যানার ও দলীয় পতাকা নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন বিএনপি নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার সাইনবোর্ড থেকে সোনারগাঁয়ের মেঘনা ঘাট পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে মানুষের ভিড় দেখা যায়। গাড়িবহর অতিক্রমের সময় স্লোগান, ফুল ছিটিয়ে শুভেচ্ছা—সব মিলিয়ে মহাসড়কজুড়ে তৈরি হয় আলাদা আবহ।

নদীর পাড়ে সকাল থেকেই অপেক্ষা

পরশুরামের ঘাটঘর এলাকার দক্ষিণ কাউতলীতে মুহুরী নদীর পাড়ে সকাল থেকেই মানুষের ঢল নামে। সকাল ১০টার আগেই সমাবেশস্থল পূর্ণ হয়ে যায়। ভেতরে জায়গা না পেয়ে অনেকে আশপাশের সড়ক ও নদীর পাড়ে দিকে সেখানে আসেন। তাঁর কাছে এটি শুধু একজন প্রধানমন্ত্রীর সফর নয়; পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত একজন আপন—মুহুরী নদীর বাঁধ ঠিক হলে প্রতিবছরের বন্যা থেকে রক্ষা মিলবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পূর্ব সাহেবনগরের পঞ্চাশোর্ধ্ব নুরজাহান নাতিকে নিয়ে সকাল ৯টার দিকে সেখানে আসেন। তাঁর কাছে এটি শুধু একজন প্রধানমন্ত্রীর সফর নয়; পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত একজন আপনজনকে দেখার সুযোগও স্থানীয় ষাটোর্ধ্ব কৃষক আবদুল জলিলের প্রত্যাশা আরও বাস্তব—মুহুরী নদীর বাঁধ ঠিক হলে প্রতিবছরের বন্যা থেকে রক্ষা মিলবে।

প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী এবং ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, গৃহায়নমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু।

ফুলগাজীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, কৃষিমন্ত্রী আমীনুর রশিদ, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু এবং পরশুরাম উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল হালিম।

সূর্যের শক্তিও যাবে জাতীয় গ্রিডে

ফেনী সফরের আরেক কর্মসূচিতে ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়ার সরকারি ভবনে স্থাপিত রুফটপ সমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। ছাগলনাইয়ায় ৪১৫, পরশুরামে ২৯৮ এবং ফুলগোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। তিন উপজেলায় মোট ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। ছাগলনাইয়ায় ৪১৫, পরশুরামে ২৯৮ এবং ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে।

শেষ দৃশ্যে মুহুরীর পাড়

দিনের শেষে থেকে যায় মুহুরী নদী, বৃষ্টিভেজা মাঠ আর মানুষের প্রত্যাশা। একদিকে ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার প্রকল্প—বাঁধ মেরামত হবে, নদী খনন হবে, সেচের পানি বাড়বে। অন্যদিকে কৃষকের হাতে কার্ড, পরিবারের মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড, অসহায় মানুষের হাতে সহায়তা। তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বার্তা—অরাজকতার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে, উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে হবে।

কালের আলো/এমএএএমকে

জুলাই-আগস্টের ভ্যাট রিটার্নে এনবিআরের সময় বাড়ল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
জুলাই-আগস্টের ভ্যাট রিটার্নে এনবিআরের সময় বাড়ল

চলতি অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট কর মেয়াদের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো ধরনের জরিমানা ছাড়াই এসব কর মেয়াদের ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এনবিআরের ভ্যাট মনিটরিং, পরিসংখ্যান ও সমন্বয় শাখার জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এর ভ্যাট রিটার্নসংক্রান্ত সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, প্রতি তিন কর মেয়াদ শেষে রিটার্ন দাখিলের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান জুলাই ও আগস্ট কর মেয়াদের ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করেনি।

এ পরিস্থিতিতে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ৬৪ ধারার উপধারা (৩)-এ দেওয়া ক্ষমতাবলে রিটার্ন জমা না দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। নির্ধারিত বর্ধিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর কোনো জরিমানা আরোপ করা হবে না।

এনবিআরের আদেশে আরও বলা হয়েছে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন কর মেয়াদের ভ্যাট রিটার্ন সিস্টেমে দাখিল করতে হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি