খুঁজুন
                               
, ,
           

বিইউপির পশ্চিম ক্যাম্পাসে নতুন দিগন্ত, নৈতিক মূল্যবোধে গুরুত্ব সেনাপ্রধানের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
বিইউপির পশ্চিম ক্যাম্পাসে নতুন দিগন্ত, নৈতিক মূল্যবোধে গুরুত্ব সেনাপ্রধানের

উচ্চশিক্ষার পরিসর আরও বিস্তৃত করতে এবং আধুনিক শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ তৈরিতে নতুন অবকাঠামো যুক্ত হলো বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)–এর পশ্চিম ক্যাম্পাসে। বিশ্ববিদ্যালয়টির পশ্চিম ক্যাম্পাসে নবনির্মিত ইউটিলিটি বিল্ডিং, ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এফএসটি) টাওয়ার এবং ফ্যাকাল্টি অব আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস (এফএএসএস) টাওয়ার উদ্বোধন করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

রোববার (৩০ আগস্ট) মিরপুর সেনানিবাসে আয়োজিত এ উদ্বোধনকে শুধু নতুন তিনটি ভবন চালুর আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিইউপির একাডেমিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আরও আধুনিক ও সমন্বিত শিক্ষা পরিবেশ তৈরির ধারাবাহিকতায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

একাডেমিক সম্প্রসারণে নতুন অবকাঠামো
বিইউপির পশ্চিম ক্যাম্পাসে নতুন তিন ভবনের সংযোজন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের পথও সুগম করবে। বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং কলা ও সামাজিক বিজ্ঞানের জন্য পৃথক টাওয়ার প্রতিষ্ঠা সংশ্লিষ্ট অনুষদগুলোর শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমকে আরও সংগঠিত করার সুযোগ তৈরি করবে। আধুনিক অবকাঠামোর সঙ্গে একাডেমিক কার্যক্রমের সমন্বয় ঘটাতে পারলে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণা, উদ্ভাবন ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়বে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উদ্বোধনের পর ক্যাম্পাস পরিদর্শন
নবনির্মিত ভবনগুলোর উদ্বোধন শেষে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ক্যাম্পাসে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। পরে তিনি বিইউপির পশ্চিম ক্যাম্পাস ও শিক্ষার্থীদের আবাসিক এলাকা ঘুরে দেখেন। ক্যাম্পাস পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আবাসন ও সামগ্রিক ক্যাম্পাস পরিবেশের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। একটি পূর্ণাঙ্গ আবাসিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে একাডেমিক অবকাঠামোর সঙ্গে আবাসিক সুবিধার সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি মূল্যবোধ
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান উচ্চশিক্ষার সাফল্যের একটি মৌলিক দিক সামনে আনেন। তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত সাফল্য শুধু একাডেমিক উৎকর্ষে সীমাবদ্ধ নয়; নৈতিকতা, মূল্যবোধ, সততা ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন মানবসম্পদ গড়ে তোলাই এর বড় অর্জন। তাঁর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে নৈতিক মূল্যবোধের সমন্বয়ের বিষয়টিও। প্রযুক্তি ও জ্ঞাননির্ভর বিশ্বে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতার পাশাপাশি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবেও গড়ে ওঠার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি আধুনিক শিক্ষা পরিবেশ তৈরি, গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গঠনে বিইউপির ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

বই প্রকাশ ও ১৪ দলকে সম্মাননা
অনুষ্ঠানে বিইউপি উপাচার্য মেজর জেনারেল মো. মাহবুব-উল আলমের লেখা ‘এডুকেশন মাইন্ডস; এওকেনিং কনসাইন্স’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন সেনাপ্রধান। এরপর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনকারী বিইউপির ১৪টি শিক্ষার্থী দলকে পুরস্কৃত করা হয়। শিক্ষার্থীদের এসব অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সহশিক্ষা, প্রতিযোগিতা ও নেতৃত্ব বিকাশে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের চিত্রও তুলে ধরে।

‘শুধু ভবন নয়, মানুষ তৈরি করতে হবে’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল পর্ব অনুষ্ঠিত হয় বিইউপির স্বাধীনতা মিলনায়তনে। স্বাগত বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মেজর জেনারেল মো. মাহবুব-উল আলম শিক্ষা ও গবেষণায় বিইউপির অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো, গবেষণার পরিধি সম্প্রসারণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিইউপি কাজ করে যাচ্ছে। আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

অবকাঠামো থেকে সক্ষমতায় রূপান্তরের চ্যালেঞ্জ
বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবন নির্মাণ নিঃসন্দেহে সক্ষমতা বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবে এর প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে এসব অবকাঠামো কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে তার ওপর। শুধু আধুনিক শ্রেণিকক্ষ বা গবেষণাগার থাকলেই বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত হয় না। প্রয়োজন যোগ্য শিক্ষক, পর্যাপ্ত গবেষণা বরাদ্দ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, উদ্ভাবনবান্ধব পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তবমুখী গবেষণার সুযোগ। নতুন অবকাঠামোর সঙ্গে এসব বিষয় সমান্তরালে এগিয়ে নিতে পারলে বিইউপির একাডেমিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ভবিষ্যতের বিইউপির ভিত্তি
বিইউপির পশ্চিম ক্যাম্পাসে নতুন তিন ভবনের উদ্বোধন তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সম্প্রসারণের পাশাপাশি একটি বৃহত্তর একাডেমিক লক্ষ্যকেও সামনে আনে। শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি, সৃজনশীলতা এবং নৈতিক মূল্যবোধ—এই পাঁচটি ক্ষেত্রের সমন্বিত বিকাশই ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারে।

অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর কোয়ার্টারমাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ ফয়জুর রহমান, বিইউপি সিনেটের সদস্য, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, বিইউপির সাবেক উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। নতুন ভবনগুলো এখন বিইউপির জন্য শুধু অবকাঠামো নয়—এসব স্থাপনা কতটা কার্যকরভাবে জ্ঞান সৃষ্টি, গবেষণা ও মূল্যবোধসম্পন্ন নেতৃত্ব তৈরির কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে, সেটিই হবে পরবর্তী সময়ের বড় পরীক্ষা, এমনটিই মনে করেন বিশ্লেষকরা।

কালের আলো/এমএএএমকে

‘বিদেশে কিছু পেলে শুধু ১০% দিয়েন’—দুদকের অভিযোগে আসিফ মাহমুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
‘বিদেশে কিছু পেলে শুধু ১০% দিয়েন’—দুদকের অভিযোগে আসিফ মাহমুদ

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারসহ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং ঢাকা ওয়াসা, এলজিইডি ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে কর্মকর্তা নিয়োগে মোট ১৮৭ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

দুদকের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও টেন্ডারে কমিশন নেওয়া এবং নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এসব অভিযোগের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ।

এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে।’

তার এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে দুদকের অভিযোগকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

বন্ধ ইউনিট চালু, জাতীয় গ্রিডে ফিরছে আদানির বিদ্যুৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
বন্ধ ইউনিট চালু, জাতীয় গ্রিডে ফিরছে আদানির বিদ্যুৎ

কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট ফের সচল হয়েছে। ফলে কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে ৭৫৬ মেগাওয়াট এবং দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ২৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ধীরে ধীরে দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন বাড়িয়ে প্রায় ৭৫০ মেগাওয়াটে নেওয়া হবে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে দুটি ইউনিট থেকে বাংলাদেশে ঘণ্টায় এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছিল। একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার পর সরবরাহ কমে প্রায় ৭৫৮ মেগাওয়াটে নেমে আসে।

এর আগে কয়লা সরবরাহ সংকটের কারণেও গোড্ডা কেন্দ্রটির উৎপাদন কমে গিয়েছিল। গত ৭ আগস্ট ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। পরে আগস্টের শেষ দিকে কয়লা সরবরাহ বাড়লে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়তে শুরু করে।

দিনের বেলায় কেন্দ্রটি প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল। একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় ওই সময় দেশের বিদ্যুৎব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছিল।

১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৮০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে। ২০১৭ সালে কেন্দ্রটির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। চাহিদা অনুযায়ী কেন্দ্রটি থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ড রয়েছে।

বর্তমানে দেশে ১৬ থেকে ১৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে পিডিবি প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে। গোড্ডা কেন্দ্রের বন্ধ ইউনিট ফের চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

যোগ্যতা ও সমতার ভিত্তিতে সব নাগরিকের সুযোগ নিশ্চিত করতে চাই: রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
যোগ্যতা ও সমতার ভিত্তিতে সব নাগরিকের সুযোগ নিশ্চিত করতে চাই: রাষ্ট্রপতি

দেশে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মার নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিতে গণতন্ত্রের নিয়মিত চর্চা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা জরুরি। দেশের মানুষ একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চায়।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ দুর্বল হলে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার সুরক্ষিত রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

সাক্ষাৎকালে পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে জন্মাষ্টমী ও রথযাত্রাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে সরকারের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি।

হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন সহায়তা, পুরোহিত ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানী কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন সন্তোষ শর্মা। এসব পদক্ষেপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সন্তুষ্টির বিষয়টি তিনি রাষ্ট্রপতিকে জানান।

এ সময় পরিষদের নেতারা হিন্দু সম্প্রদায়সহ সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের নাগরিকদের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও সমান অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রতিনিধিদল আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের পূজামণ্ডপে উপস্থিত হয়ে ভক্ত ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানায়। রাষ্ট্রপতি সাদরে আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং যোগ্যতা, ন্যায়সঙ্গত অধিকার ও সমতার ভিত্তিতে সব নাগরিকের জন্য ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি হিন্দু সম্প্রদায়সহ দেশের সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন দুর্গাপূজা উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে শারদীয় দুর্গোৎসব দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি