খুঁজুন
                               
, ,
           

চিকিৎসায় আস্থার সংকটে বিদেশমুখী রোগীর ঢল

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৩ অপরাহ্ণ
চিকিৎসায় আস্থার সংকটে বিদেশমুখী রোগীর ঢল

চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া একসময় ছিল সামর্থ্যবানদের বিষয়। এখন সেই প্রবণতা ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যবিত্তের মধ্যেও, এমনকি নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের কেউ কেউ জটিল রোগের চিকিৎসায় দেশের বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। গুরুতর অসুস্থতার খবর পেলে অনেকে দ্বিতীয় মতামত, উন্নত রোগ নির্ণয় কিংবা অস্ত্রোপচারের নিশ্চয়তার জন্য পাড়ি দিচ্ছেন বিদেশে। সঙ্গে যাচ্ছে পরিবারের সঞ্চয়, কখনো ধার করা অর্থ; আর দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি ঢাকা মেডিকেল কলেজের এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, চিকিৎসার জন্য প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিক, মানবিক আচরণ এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবার ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের তাৎপর্য শুধু অর্থের অঙ্কে নয়। বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া মানুষের সিদ্ধান্তের সঙ্গে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা এবং মানুষের আস্থার বিষয়টিও জড়িয়ে আছে।

বিদেশযাত্রার একাধিক কারণ
ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, চীন, মালয়েশিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে যাচ্ছেন বাংলাদেশি রোগীরা। বিদেশে যাওয়ার পেছনে অবশ্য একাধিক কারণ রয়েছে। বিশেষায়িত চিকিৎসা, উন্নত প্রযুক্তি কিংবা নির্দিষ্ট রোগে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শের জন্যও মানুষ বিদেশে যান। কিন্তু দেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় আস্থার সংকট যদি সেই সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে, তখন বিষয়টি স্বাস্থ্য খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

জটিল রোগেই বিদেশমুখিতা বেশি
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের গবেষণায় বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের রোগভিত্তিক একটি চিত্র পাওয়া যায়। এর মধ্যে হৃদরোগের চিকিৎসায় যাচ্ছেন ১৭ শতাংশ রোগী। কিডনি রোগে ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ, অর্থোপেডিক সার্জারিতে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং লিভার ও ক্যানসারের চিকিৎসায় ১১ শতাংশ করে রোগী বিদেশে যাচ্ছেন।

এ ছাড়া নিউরোলজি, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, ইউরোলজি, নাক-কান-গলা, জেনারেল সার্জারি, গাইনোকলজি, চোখ ও দাঁতের চিকিৎসাতেও রোগীরা দেশের বাইরে যাচ্ছেন। তালিকাটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসবের বড় একটি অংশ এমন রোগ, যেখানে দ্রুত ও নির্ভুল রোগ নির্ণয় এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে রোগীর মনে সামান্য অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও তাঁরা তুলনামূলক বেশি খরচের বিনিময়ে বিদেশে চিকিৎসার নিশ্চয়তা খোঁজেন।

চিকিৎসার ব্যয়ের চাপও বড় বাস্তবতা
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের ৫ মে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, দেশের ২২ শতাংশ মানুষের প্রতি মাসে স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন হয়। অথচ স্বাস্থ্যসেবার মোট ব্যয়ের ৭৯ শতাংশই মানুষকে নিজ পকেট থেকে বহন করতে হচ্ছে। গবেষকেরা বর্তমান স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ‘পশ্চাদ্গামী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ফলে দেশে চিকিৎসা করাতেও পরিবারের ওপর বড় আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। বিদেশে গেলে এর সঙ্গে যুক্ত হয় বিমানভাড়া, ভিসা, থাকা-খাওয়া, যাতায়াত ও সঙ্গীর ব্যয়। তবু অনেকে এই অতিরিক্ত ব্যয় মেনে নিচ্ছেন। এর পেছনে চিকিৎসার পাশাপাশি নিশ্চিততার প্রত্যাশাও কাজ করছে।

বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. মোয়াজ্জেম হোসাইন জানিয়েছেন, দেশে চিকিৎসাসেবায় কিছু উন্নতি হলেও অব্যবস্থাপনা ও মানসম্পন্ন চিকিৎসার ঘাটতি রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পর্যটক ভিসায় বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা ব্যয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। প্রকৃত ব্যয় আরও বেশি হতে পারে।

স্বাস্থ্য খাতে আরও দৃশ্যমান অগ্রগতির প্রত্যাশা
বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা আগের তুলনায় বেড়েছে—এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য সরকারের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এমএ মুহিত। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা কমে গিয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করছে এবং ধীরে ধীরে মানুষের আস্থা ফিরছে। আগামী কয়েক মাসে স্বাস্থ্য খাতে আরও দৃশ্যমান অগ্রগতির প্রত্যাশাও জানিয়েছেন তিনি। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নকে ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা। বিদেশে চিকিৎসার প্রবণতা নিয়ে সুনির্দিষ্ট চিত্র পেতে হলে রোগীর গন্তব্য, রোগের ধরন ও ব্যয়ের বিষয়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহও জরুরি। এতে কোথায় দেশের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন, কোন চিকিৎসায় বিশেষ বিনিয়োগ দরকার এবং কোন সেবাকে আরও সহজলভ্য করা উচিত—তা নির্ধারণ করা সহজ হবে।

জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি
স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ কম বরাদ্দ। জিডিপির তুলনায় স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ১ শতাংশেরও কম। তবে অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি সেই অর্থের কার্যকর ব্যবহার, দক্ষ জনবল, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, রোগ নির্ণয়ের সক্ষমতা এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি। বিপিএমসিএর সাবেক সভাপতি এম এ মুবিন খান জটিল রোগ নির্ণয়ের সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের জোগানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এর সঙ্গে সমান গুরুত্ব পাচ্ছে চিকিৎসক-রোগীর সম্পর্ক।

প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসকদের সময়নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ এবং রোগীর প্রতি আন্তরিক ও মানবিক আচরণের ওপর জোর দিয়েছেন। কারণ একজন রোগীর কাছে চিকিৎসার মান শুধু ওষুধ, পরীক্ষা বা অস্ত্রোপচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। চিকিৎসক তাঁর কথা শুনছেন কি না, রোগের অবস্থা বুঝিয়ে বলছেন কি না এবং চিকিৎসার পুরো প্রক্রিয়ায় তিনি নিরাপদ বোধ করছেন কি না—এসবও আস্থার অংশ।

পাঁচ জায়গায় উন্নতি হলে শক্ত হবে আস্থার ভিত
বিদেশে চিকিৎসা নেওয়া পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়, প্রয়োজনও নেই। বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে রোগী বিদেশে যাবেন। কিন্তু দেশের ভেতরে যে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব, সেটির জন্যও যদি মানুষ বিদেশকে বেশি নির্ভরযোগ্য মনে করেন, তাহলে সেই আস্থার জায়গাটি শক্তিশালী করাই হবে স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম বড় অগ্রাধিকার। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকার হিসাব সেই অগ্রাধিকারের গুরুত্ব স্পষ্ট করেছে। এই অর্থের প্রবাহ কমাতে হলে বিদেশমুখী মানুষকে নিরুৎসাহিত করার চেয়ে দেশের চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়ানো বেশি কার্যকর। সঠিক রোগ নির্ণয়, দক্ষ চিকিৎসা, আধুনিক প্রযুক্তি, স্বচ্ছ ব্যয় এবং রোগীর প্রতি মানবিক আচরণ—এই পাঁচ জায়গায় উন্নতি হলে আস্থার ভিতও শক্ত হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ–আফগানিস্তান টেস্ট, পরিসংখ্যানে এগিয়ে কে?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ–আফগানিস্তান টেস্ট, পরিসংখ্যানে এগিয়ে কে?

বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যকার একমাত্র টেস্ট ম্যাচ শুরু হচ্ছে আগামীকাল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ দিয়ে প্রথমবারের মতো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট ক্রিকেট খেলতে নামবে বাংলাদেশ। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে এখন পর্যন্ত কেউ কারও চেয়ে এগিয়ে নেই।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ না হলেও ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেললেও দেশটির মাটিতে সাদা পোশাকে মাঠে নামেনি টাইগাররা।

নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে বিশ্বের ১১টি দলের। এ তালিকায় সবচেয়ে বেশি ৩৯টি টেস্ট খেলেছে পাকিস্তান। ১৯৯৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এসব ম্যাচের ১৯টিতে জয় পেয়েছে তারা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়া ১৪টি টেস্ট খেলে জিতেছে সাতটিতে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশের নাম।

টেস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের অতীত রেকর্ডও সমানে সমান। এখন পর্যন্ত দুই দল দুটি টেস্ট খেলেছে, দুটিই বাংলাদেশের মাটিতে। ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে প্রথম দেখায় বাংলাদেশকে ২২৪ রানে হারায় আফগানিস্তান। তবে ২০২৩ সালে মিরপুরে ৫৪৬ রানের বিশাল জয় তুলে নিয়ে সেই হারের জবাব দেয় বাংলাদেশ। ফলে দুই দলের জয় একটি করে।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে ব্যাট হাতে এগিয়ে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দুই ইনিংসে দুটি শতকের সাহায্যে তার সংগ্রহ ২৭০ রান। চার ইনিংসে ১৯১ রান নিয়ে পরের অবস্থানে রয়েছেন মুমিনুল হক।

বল হাতে দুই দলের লড়াইয়ে সবার ওপরে আফগানিস্তানের রশিদ খান। দুই ইনিংসে দুটি পাঁচ উইকেটের কৃতিত্বসহ তার শিকার ১১ উইকেট। বাংলাদেশের হয়ে চার ইনিংসে আট উইকেট নিয়ে তালিকায় এগিয়ে রয়েছেন তাইজুল ইসলাম।

টেস্ট শেষে সংযুক্ত আরব আমিরাতেই ব্যস্ত সূচি রয়েছে বাংলাদেশের। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের পর আবুধাবি ও শারজায় জিম্বাবুয়ে এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে টাইগাররা। টেস্টের মতো ওই সিরিজেও স্বাগতিক হিসেবে থাকবে আফগানিস্তান।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

নভেম্বরের আগে ইরানে হামলা নয়, : ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৮ পূর্বাহ্ণ
নভেম্বরের আগে ইরানে হামলা নয়, : ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা চলছে দাবি করে আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশটিতে হামলা চালানো হবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধ বন্ধ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই দেশের মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো হামলা চালানো হবে না বলেও জানান তিনি।

ট্রাম্পের এ বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি করেছে। তবে হামলা না চালানোর ঘোষণার অর্থ যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নয়। দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে—এমন কোনো তথ্যও তাঁর বক্তব্যে পাওয়া যায়নি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধ ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার চেষ্টায় থাকা রিপাবলিকানদের জন্যও পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

রয়টার্স-ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক অসন্তুষ্ট। এমনকি প্রতি চারজন রিপাবলিকানের একজনও তাঁর পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ট্রাম্প বারবার বলেছেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তেলের দাম কমে আসবে। তবে যুদ্ধ থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসা হবে, সে বিষয়ে তিনি এখনো বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি।

যুদ্ধ বন্ধ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধানের বরাতে জানিয়েছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে না তেহরান। একই সঙ্গে নিজেদের ইউরেনিয়ামের মজুতও অন্য কোনো পক্ষের কাছে হস্তান্তর করবে না বলে জানিয়েছে দেশটি।

এর কয়েক দিন আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রয়টার্সকে বলেছিলেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা অর্থবহভাবে কমাতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ করে আসছে। তবে তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা না চালানোর বিষয়ে ট্রাম্পের ঘোষণা সংঘাতের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে যুদ্ধ বন্ধের চূড়ান্ত সমঝোতা, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি না হলে সংকটের স্থায়ী সমাধান অনিশ্চিতই থেকে যাবে।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে উজবেকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ মেয়েরা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৯ পূর্বাহ্ণ
রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে উজবেকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ মেয়েরা

যোগ করা সময়ের গোলে স্বাগতিক উজবেকিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল করেছে বাংলাদেশ। তাসখন্দে বৃহস্পতিবারের ম্যাচে শেষ মুহূর্তে রুনা আক্তারের গোলে রোমাঞ্চকর জয় তুলে নেয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

দোস্তলিক স্টেডিয়ামের অনুশীলন মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সাইফুল বারী টিটুর দল। এর ফলও আসে দ্রুত। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে ফাতেমা আক্তারের বাড়ানো পাস থেকে বল পেয়ে ডান প্রান্তের পূর্ণিমা মারমা উজবেক গোলরক্ষককে পরাস্ত করে চিপ শটে বল জালে পাঠান। তাতে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

তবে বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে পারেনি সফরকারীরা। ১৭ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে গোল করেন উজবেকিস্তানের লারাঙ্গিজ লাকায়েভা। এতে ১-১ গোলে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা।

বিরতির পর দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে গোলের চেষ্টা চালায়। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে আলপি আক্তার ভালো সুযোগ তৈরি করলেও উজবেক গোলরক্ষক তা আটকে দেন। ম্যাচের শেষ দিকে স্বাগতিকরা চাপ বাড়ালেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ দৃঢ়তা দেখায়।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যখন ম্যাচটি ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আসে বাংলাদেশের জয়সূচক গোল। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে, অর্থাৎ ৯০+৩ মিনিটে, সুরভী রানির থ্রু পাস ধরে উজবেকিস্তানের বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান রুনা আক্তার। তার গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

এই হারে বাছাইপর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে উজবেকিস্তান। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ফিলিপাইনের কাছে ৪-০ গোলে হেরেছিল দলটি।

আগামী বছর চীনে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা পেতে বাছাইপর্বের আটটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হতে হবে দলগুলোকে। ‘এইচ’ গ্রুপে বাংলাদেশের পরবর্তী প্রতিপক্ষ ফিলিপাইন। আগামী রোববারের ম্যাচে জয় পেলেই মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের মেয়েদের।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি