খুঁজুন
                               
, ,
           

চিকিৎসায় আস্থার সংকটে বিদেশমুখী রোগীর ঢল

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৩ অপরাহ্ণ
চিকিৎসায় আস্থার সংকটে বিদেশমুখী রোগীর ঢল

চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া একসময় ছিল সামর্থ্যবানদের বিষয়। এখন সেই প্রবণতা ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যবিত্তের মধ্যেও, এমনকি নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের কেউ কেউ জটিল রোগের চিকিৎসায় দেশের বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। গুরুতর অসুস্থতার খবর পেলে অনেকে দ্বিতীয় মতামত, উন্নত রোগ নির্ণয় কিংবা অস্ত্রোপচারের নিশ্চয়তার জন্য পাড়ি দিচ্ছেন বিদেশে। সঙ্গে যাচ্ছে পরিবারের সঞ্চয়, কখনো ধার করা অর্থ; আর দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি ঢাকা মেডিকেল কলেজের এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, চিকিৎসার জন্য প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিক, মানবিক আচরণ এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবার ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের তাৎপর্য শুধু অর্থের অঙ্কে নয়। বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া মানুষের সিদ্ধান্তের সঙ্গে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা এবং মানুষের আস্থার বিষয়টিও জড়িয়ে আছে।

বিদেশযাত্রার একাধিক কারণ
ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, চীন, মালয়েশিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে যাচ্ছেন বাংলাদেশি রোগীরা। বিদেশে যাওয়ার পেছনে অবশ্য একাধিক কারণ রয়েছে। বিশেষায়িত চিকিৎসা, উন্নত প্রযুক্তি কিংবা নির্দিষ্ট রোগে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শের জন্যও মানুষ বিদেশে যান। কিন্তু দেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় আস্থার সংকট যদি সেই সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে, তখন বিষয়টি স্বাস্থ্য খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

জটিল রোগেই বিদেশমুখিতা বেশি
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের গবেষণায় বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের রোগভিত্তিক একটি চিত্র পাওয়া যায়। এর মধ্যে হৃদরোগের চিকিৎসায় যাচ্ছেন ১৭ শতাংশ রোগী। কিডনি রোগে ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ, অর্থোপেডিক সার্জারিতে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং লিভার ও ক্যানসারের চিকিৎসায় ১১ শতাংশ করে রোগী বিদেশে যাচ্ছেন।

এ ছাড়া নিউরোলজি, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, ইউরোলজি, নাক-কান-গলা, জেনারেল সার্জারি, গাইনোকলজি, চোখ ও দাঁতের চিকিৎসাতেও রোগীরা দেশের বাইরে যাচ্ছেন। তালিকাটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসবের বড় একটি অংশ এমন রোগ, যেখানে দ্রুত ও নির্ভুল রোগ নির্ণয় এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে রোগীর মনে সামান্য অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও তাঁরা তুলনামূলক বেশি খরচের বিনিময়ে বিদেশে চিকিৎসার নিশ্চয়তা খোঁজেন।

চিকিৎসার ব্যয়ের চাপও বড় বাস্তবতা
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের ৫ মে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, দেশের ২২ শতাংশ মানুষের প্রতি মাসে স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন হয়। অথচ স্বাস্থ্যসেবার মোট ব্যয়ের ৭৯ শতাংশই মানুষকে নিজ পকেট থেকে বহন করতে হচ্ছে। গবেষকেরা বর্তমান স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ‘পশ্চাদ্গামী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ফলে দেশে চিকিৎসা করাতেও পরিবারের ওপর বড় আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। বিদেশে গেলে এর সঙ্গে যুক্ত হয় বিমানভাড়া, ভিসা, থাকা-খাওয়া, যাতায়াত ও সঙ্গীর ব্যয়। তবু অনেকে এই অতিরিক্ত ব্যয় মেনে নিচ্ছেন। এর পেছনে চিকিৎসার পাশাপাশি নিশ্চিততার প্রত্যাশাও কাজ করছে।

বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. মোয়াজ্জেম হোসাইন জানিয়েছেন, দেশে চিকিৎসাসেবায় কিছু উন্নতি হলেও অব্যবস্থাপনা ও মানসম্পন্ন চিকিৎসার ঘাটতি রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পর্যটক ভিসায় বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা ব্যয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। প্রকৃত ব্যয় আরও বেশি হতে পারে।

স্বাস্থ্য খাতে আরও দৃশ্যমান অগ্রগতির প্রত্যাশা
বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা আগের তুলনায় বেড়েছে—এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য সরকারের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এমএ মুহিত। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা কমে গিয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করছে এবং ধীরে ধীরে মানুষের আস্থা ফিরছে। আগামী কয়েক মাসে স্বাস্থ্য খাতে আরও দৃশ্যমান অগ্রগতির প্রত্যাশাও জানিয়েছেন তিনি। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নকে ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা। বিদেশে চিকিৎসার প্রবণতা নিয়ে সুনির্দিষ্ট চিত্র পেতে হলে রোগীর গন্তব্য, রোগের ধরন ও ব্যয়ের বিষয়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহও জরুরি। এতে কোথায় দেশের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন, কোন চিকিৎসায় বিশেষ বিনিয়োগ দরকার এবং কোন সেবাকে আরও সহজলভ্য করা উচিত—তা নির্ধারণ করা সহজ হবে।

জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি
স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ কম বরাদ্দ। জিডিপির তুলনায় স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ১ শতাংশেরও কম। তবে অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি সেই অর্থের কার্যকর ব্যবহার, দক্ষ জনবল, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, রোগ নির্ণয়ের সক্ষমতা এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি। বিপিএমসিএর সাবেক সভাপতি এম এ মুবিন খান জটিল রোগ নির্ণয়ের সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের জোগানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এর সঙ্গে সমান গুরুত্ব পাচ্ছে চিকিৎসক-রোগীর সম্পর্ক।

প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসকদের সময়নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ এবং রোগীর প্রতি আন্তরিক ও মানবিক আচরণের ওপর জোর দিয়েছেন। কারণ একজন রোগীর কাছে চিকিৎসার মান শুধু ওষুধ, পরীক্ষা বা অস্ত্রোপচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। চিকিৎসক তাঁর কথা শুনছেন কি না, রোগের অবস্থা বুঝিয়ে বলছেন কি না এবং চিকিৎসার পুরো প্রক্রিয়ায় তিনি নিরাপদ বোধ করছেন কি না—এসবও আস্থার অংশ।

পাঁচ জায়গায় উন্নতি হলে শক্ত হবে আস্থার ভিত
বিদেশে চিকিৎসা নেওয়া পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়, প্রয়োজনও নেই। বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে রোগী বিদেশে যাবেন। কিন্তু দেশের ভেতরে যে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব, সেটির জন্যও যদি মানুষ বিদেশকে বেশি নির্ভরযোগ্য মনে করেন, তাহলে সেই আস্থার জায়গাটি শক্তিশালী করাই হবে স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম বড় অগ্রাধিকার। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকার হিসাব সেই অগ্রাধিকারের গুরুত্ব স্পষ্ট করেছে। এই অর্থের প্রবাহ কমাতে হলে বিদেশমুখী মানুষকে নিরুৎসাহিত করার চেয়ে দেশের চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়ানো বেশি কার্যকর। সঠিক রোগ নির্ণয়, দক্ষ চিকিৎসা, আধুনিক প্রযুক্তি, স্বচ্ছ ব্যয় এবং রোগীর প্রতি মানবিক আচরণ—এই পাঁচ জায়গায় উন্নতি হলে আস্থার ভিতও শক্ত হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

মেহজাবীনের সঙ্গে তুলনাকে যেভাবে দেখেন তটিনী

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ
মেহজাবীনের সঙ্গে তুলনাকে যেভাবে দেখেন তটিনী

ছোট পর্দার অভিনেত্রী তানজিম সাইয়ারা তটিনী। অভিনয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করার পথে প্রায়ই তাঁকে শুনতে হয়, তিনি নাকি অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর মতো। এমন তুলনা একদিকে যেমন ভালো লাগে, অন্যদিকে নিজের পরিচয় ও স্বতন্ত্রতা নিয়েও সচেতন তটিনী। তাঁর স্পষ্ট কথা, শিল্পাঙ্গনে কেউ কারও জায়গা নিতে পারেন না।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে মেহজাবীনের সঙ্গে নিজের তুলনা প্রসঙ্গে কথা বলেন তটিনী। তিনি জানান, এমন মন্তব্যে অস্বস্তি বোধ করেন না। বরং গুণী একজন অভিনেত্রীর সঙ্গে তুলনাকে নিজের জন্য প্রাপ্তি হিসেবেই দেখেন। তবে মেহজাবীনের জায়গায় নিজেকে কল্পনা করার কথা ভাবেন না তিনি।

তুলনা ভালো লাগলেও নিজের পরিচয়েই এগোতে চান
মেহজাবীনের সঙ্গে তুলনার বিষয়ে তটিনী বলেন, ‘অনেকেই বলেন—তুমি মেহজাবীনের মতো, মেহজাবীনের জায়গায় যাচ্ছ। আসলে কেউ কারও জায়গায় যেতে পারে না। আমি কারও সঙ্গে নিজেকে তুলনা করব না, কারও জায়গায় ভাবাটাও ঠিক না। শিল্প অঙ্গনে এই তুলনা হয় না।’

মেহজাবীনকে বড় ও গুণী শিল্পী উল্লেখ করে তটিনী আরও বলেন, ‘তবে, তুলনা করলে ভালো লাগে। তার মতো গুণী অভিনেত্রীর সঙ্গে তুলনাও তো বড় পাওয়া।’

তটিনীর বক্তব্যে উঠে এসেছে, অন্য একজন শিল্পীর সঙ্গে তুলনা তাঁর কাছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয় নয়। বরং অভিজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের কাজ থেকে শেখার সুযোগ হিসেবেই দেখেন তিনি।

নতুন প্রজন্মের জন্য মেহজাবীন উদাহরণ
তটিনীর মতে, মেহজাবীনের দীর্ঘ অভিনয়জীবন, কাজের প্রতি সততা ও পরিশ্রম নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। শুধু অভিনয় নয়, ক্যারিয়ারে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকেও অনেক কিছু শেখার রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তটিনী বলেন, ‘আমাদের জেনারেশন বা পরের জেনারেশনের জন্য মেহজাবীন আপু একটা উদাহরণ। তার ক্যারিয়ারে এগিয়ে চলা, কাজের প্রতি সততা, তার পরিশ্রম, তার অনেক অভিজ্ঞতা, তার কাছ থেকে আমাদের সবার শেখা উচিত।’

শুধু অভিনয় নয়, ব্যক্তিত্ব থেকেও শেখার আছে
অভিনয়জগতে প্রবেশের পর থেকেই মেহজাবীনকে অনুসরণ করার পরামর্শ পেয়েছেন তটিনী। তবে সেই অনুসরণ কেবল অভিনয় কিংবা ক্যারিয়ারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। মেহজাবীনের ব্যক্তিত্ব ও আচরণও ছিল সেই পরামর্শের অংশ।

তটিনী বলেন, ‘আমি যখন অভিনয়ে আসি, তখনই অনেকে আমাকে একটা কথাই বলেছিলেন, যদি কারও মতো হতে চাও, তাহলে মেহজাবীনকে ফলো করো। আর শুধু ক্যারিয়ার নয়, সে মানুষ হিসেবে কেমন, তার আচার-আচরণ সবই ফলো করার কথা বলতেন। কারণ, সিনিয়রদের কাছ থেকেই আমাদের অনুপ্রেরণা নেওয়া উচিত।’

সব মিলিয়ে মেহজাবীনের সঙ্গে তুলনাকে ইতিবাচকভাবে নিলেও নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তোলার দিকেই মনোযোগী তটিনী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, অন্যের সাফল্যকে প্রতিযোগিতা হিসেবে না দেখে সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়াই হতে পারে একজন শিল্পীর এগিয়ে যাওয়ার পথ।

কালের আলো/এমকেএম/জেএন

গোলাপি সাজে মুগ্ধতা ছড়ালেন জয়া আহসান

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ
গোলাপি সাজে মুগ্ধতা ছড়ালেন জয়া আহসান

অভিনয়ে যেমন সাবলীল, ফ্যাশনেও তেমনি স্বতন্ত্র জয়া আহসান। কখনো ঐতিহ্যবাহী শাড়িতে, কখনো আধুনিক পশ্চিমা পোশাকে—নিজের রুচি ও আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতিতে ভক্তদের নজর কাড়েন এই অভিনেত্রী। এবার শ্যাম্পেন পিংক রঙের স্যাটিন ম্যাক্সি গাউনে ধরা দিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তিনি। আর সেই ছবির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া ‘প্রেমে পড়া বারণ’ ক্যাপশনটি বাড়িয়েছে ভক্তদের কৌতূহল।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন জয়া আহসান। গোলাপি ও বেইজের মিশেলে তৈরি স্যাটিন গাউনে তাঁর সাজে ছিল আধুনিকতার ছাপ। ছবিগুলো প্রকাশের পরই অভিনেত্রীর রূপ ও ফ্যাশন নিয়ে মন্তব্য করতে শুরু করেন ভক্তরা।

গোলাপি সাজে জয়ার নজরকাড়া উপস্থিতি
ইনস্টাগ্রামে ছবিগুলো প্রকাশ করে জয়া ক্যাপশনে লেখেন, ‘সেক্সি অ্যাজ পিংক’। অন্যদিকে, ফেসবুকে একটি ছবি শেয়ার করে লেখেন, ‘প্রেমে পড়া বারণ’। আরেকটি ক্যাপশনে তাঁর মন্তব্য, ‘গোলাপির ছোঁয়া, ঝামেলার শেষ নেই।’

জয়ার এই ব্যতিক্রমী ক্যাপশন ও ফ্যাশনেবল উপস্থিতি অনুসারীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। মন্তব্যের ঘরে অনেকেই তাঁর সৌন্দর্য ও সাজের প্রশংসা করেছেন। একজন লিখেছেন, ‘ছবি যখন কথা বলে।’ আরেকজনের মন্তব্য, ‘আপনি দিন দিন আরও সুন্দর হয়ে যাচ্ছেন।’

দুই বাংলার পর্দায় জয়ার ব্যস্ততা
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বাংলাদেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্রেও নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন জয়া আহসান। দুই বাংলার সিনেমায় বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা পেয়েছেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গে তাঁকে সবশেষ দেখা গেছে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমায়। এটি ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমার পরবর্তী অধ্যায়। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় পরিচালিত ছবিটিতে জয়ার সঙ্গে অভিনয় করেছেন কৌশিক সেন, চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় ও অম্বরীশ ভট্টাচার্যসহ আরও অনেকে।

এবার নতুন ভূমিকায়
অভিনয়ের পাশাপাশি এবার রান্নাবিষয়ক রিয়েলিটি শো ‘সেরা রাঁধুনী’র বিচারকের আসনেও দেখা যাবে জয়া আহসানকে। এর আগে বিভিন্ন রিয়েলিটি শোতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করলেও রান্নাবিষয়ক এই অনুষ্ঠানে এবারই প্রথম বিচারক হিসেবে অংশ নিতে যাচ্ছেন তিনি।

একদিকে পর্দার কাজ, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ফ্যাশন ও ব্যক্তিত্বের প্রকাশ—সব মিলিয়ে নানা কারণে আলোচনায় থাকছেন জয়া আহসান। এবার গোলাপি গাউনের সঙ্গে ‘প্রেমে পড়া বারণ’ ক্যাপশনটি যোগ করেছে নতুন মাত্রা।

কালের আলো/এএইচ/জেএন

জীবনসঙ্গী হিসেবে কেমন মানুষ চান সাফা কবির?

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ
জীবনসঙ্গী হিসেবে কেমন মানুষ চান সাফা কবির?

বিয়ে নিয়ে সামাজিক প্রত্যাশা কিংবা মানুষের নানা প্রশ্ন—কোনোটিকেই নিজের জীবনের সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব ফেলতে দিতে চান না ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাফা কবির। বিয়ে করা কিংবা একা থাকা, দুটিই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন তিনি। নিজের জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট এই অভিনেত্রী এবার জানিয়েছেন, জীবনসঙ্গী হিসেবে কেমন মানুষকে পছন্দ তাঁর।

সম্প্রতি এক আড্ডায় নিজের জীবনযাপন, অভিনয় ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন সাফা কবির। সেখানে উঠে আসে বিয়ে ও একক জীবন নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিও। অভিনেত্রীর মতে, প্রত্যেক মানুষেরই নিজের মতো করে জীবন সাজানোর স্বাধীনতা থাকা উচিত।

নিজের জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট সাফা
সাফা কবিরের সমসাময়িক অনেক অভিনয়শিল্পী ইতোমধ্যে বিয়ে করে সংসার শুরু করেছেন। কেউ কেউ সংসার সামলানোর পাশাপাশি অভিনয়ও চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে সাফার বিয়ে নিয়ে প্রায়ই নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। তবে এসব সামাজিক প্রত্যাশার চেয়ে নিজের ভালো থাকাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

বিয়ে নিয়ে নিজের অবস্থান জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘নিজের জীবন নিয়ে আমি বেশ সন্তুষ্ট। সৃষ্টিকর্তার কৃপায় সুন্দর একটি জীবন কাটছে আমার।’ তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যের প্রত্যাশার চেয়ে নিজের পছন্দ ও মানসিক স্বস্তিকে প্রাধান্য দিতে চান তিনি।

যেমন জীবনসঙ্গী চান অভিনেত্রী
জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজের পছন্দের কথাও জানিয়েছেন সাফা কবির। শিক্ষিত, রসবোধসম্পন্ন ও ভালো মনের একজন মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে চান তিনি। অর্থাৎ, তাঁর কাছে জীবনসঙ্গী নির্বাচনে শুধু বাহ্যিক পরিচয় নয়, ব্যক্তিত্ব ও মানসিকতারও গুরুত্ব রয়েছে।

অভিনেত্রীর এই ভাবনার পাশাপাশি উঠে এসেছে বিয়ে নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির প্রসঙ্গও। তাঁর মতে, একজন মানুষ বিয়ে করবেন কি না, তা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এ নিয়ে কাউকে অযথা প্রশ্নের মুখে ফেলা কিংবা সামাজিক চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়।

তারকারাও চান ব্যক্তিগত পরিসর
সাফা কবির মনে করেন, মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে মানুষের আরও সহানুভূতিশীল হওয়া প্রয়োজন। তারকারাও সাধারণ মানুষের মতোই ব্যক্তিগত জীবন, নিজস্ব সময় এবং নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখেন। তাঁদের জীবন নিয়েও অন্যদের এই বাস্তবতা বোঝা জরুরি।

অভিনয়জীবন নিয়েও নিজের উপলব্ধির কথা জানিয়েছেন সাফা। তাঁর ভাষ্য, নিজের অভিনীত কাজ নিয়ে কখনোই শতভাগ সন্তুষ্ট হতে পারেন না তিনি। একজন শিল্পীর মধ্যে নিজের কাজ নিয়ে কিছুটা অতৃপ্তি থাকা প্রয়োজন বলেও মনে করেন এই অভিনেত্রী। কারণ, সেই অতৃপ্তিই আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়।

সব মিলিয়ে বিয়ে নিয়ে সামাজিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে নিজের পছন্দ, আত্মনির্ভরশীলতা ও মানসিক ভালো থাকাকে গুরুত্ব দিতে চান সাফা কবির। তাঁর মতে, জীবনের সিদ্ধান্ত প্রত্যেকের নিজের মতো করে নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত।

কালের আলো/এমএসআইপি/জেএন