খুঁজুন
                               
, ,
           

ঘরে শুদ্ধি, বাইরে কঠোরতা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৭ অপরাহ্ণ
ঘরে শুদ্ধি, বাইরে কঠোরতা

রাজনীতিতে বার্তাটি এবার শুধু বক্তৃতায় নয়, দৃশ্যমান পদক্ষেপেও। মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের পরদিনই বিমানবন্দরের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার হয়েছেন। দুটি ঘটনা পরস্পরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। কিন্তু একটির পর আরেকটির সময়কাল রাজনৈতিক মহলে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে—অপরাধে রাজনৈতিক পরিচয় কি সত্যিই আর সুরক্ষা দেবে না?

বিএনপির ভেতরের সিদ্ধান্ত ও সরকারের আইনশৃঙ্খলা কৌশল সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের ভাষ্য, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মধ্য দিয়ে একই সঙ্গে দুটি বার্তা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। প্রথমত, নিজ দলের নেতা-কর্মী অপরাধে জড়ালে দলীয় পদ বা রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা তাঁকে রক্ষা করবে না। দ্বিতীয়ত, প্রতিপক্ষ দলের পরিচয়ও কাউকে আইনের আওতার বাইরে রাখবে না। এই অবস্থান কতটা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেটিই এখন বড় পরীক্ষা।

  • মিষ্টির পদত্যাগের পরই আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার
  • দলীয় পরিচয়ে অপরাধে ছাড় নয়
  • রাজনৈতিক পরিচয়ের ঢাল সরানোর বার্তা

রাড্ডা থেকেই শুরু ‘ঘরের শুদ্ধি’

রাড্ডা সেন্টারে হামলার ঘটনা ঘটে গত বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে। হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতা-কর্মীর নাম সামনে আসে। তাঁদের কয়েকজন মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হওয়ায় ঘটনাটি দ্রুত দলীয় অস্বস্তির কারণ হয়ে ওঠে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত মিষ্টিকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি পদত্যাগ করেন বুধবার (১ অক্টোবর)। শুধু তাঁকে সরিয়েই থামেনি দল। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের স্থানীয় কমিটি ভেঙে দেওয়া এবং ১৪ জনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্রগুলোর মতে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য শুধু রাড্ডা সেন্টারের ঘটনার দায় নির্ধারণ নয়। স্থানীয় রাজনীতিতে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার, দখল, চাঁদাবাজি কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাও এর উদ্দেশ্য।

অপরাধের দায় ব্যক্তির, দলের নয়

বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতাদের কাছে ইতিমধ্যে সতর্কবার্তা পৌঁছেছে। কোনো নেতা বা কর্মী অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তাঁকে সাংগঠনিক পরিচয়ের আড়ালে রাখার চেষ্টা না করে দ্রুত কেন্দ্রকে জানাতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে দলের নাম ব্যবহার করে দখল, চাঁদাবাজি, অবৈধ প্রভাব বিস্তার কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

এর পেছনে রাজনৈতিক বাস্তবতাও কাজ করছে। দলের কোনো নেতা-কর্মীর অপরাধের ঘটনা শুধু স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করে না; তা পুরো দলের ভাবমূর্তির ওপর আঘাত করে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারের সুযোগ দেয়। ফলে স্থানীয় পর্যায়ের একটি ঘটনা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জন্যও রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করছে।

মিষ্টির পরদিনই ভিন্ন দলের নেতা গ্রেপ্তার

এই আবহেই মিষ্টির পদত্যাগের পরদিন গ্রেপ্তার হন মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি এবং নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর)।

আখতারুজ্জামান একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি দলটির সহযোগী সদস্য হলেও কোনো পদে নেই। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা, গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের এই প্রক্রিয়া রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে মূলত সময়ের কারণে। তবে দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো সরাসরি প্রশাসনিক যোগসূত্র রয়েছে—এমন তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি।

রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অভিযোগই হবে মাপকাঠি?

সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো রাজনৈতিক পরিচয়কে আইনি দায় থেকে আলাদা করার চেষ্টা। মিষ্টির ক্ষেত্রে দলীয় পদক্ষেপ, আর আখতারুজ্জামানের ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা—দুটি পথ আলাদা হলেও বার্তাটি কাছাকাছি।

তবে এখানেই সরকারের জন্য বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কয়েকটি আলোচিত ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সহজ; একই নীতি নিয়মিতভাবে প্রয়োগ করা কঠিন। ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী কিংবা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ—অভিযোগের ধরন ও প্রমাণের ভিত্তিতে একই মানদণ্ডে ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না, তার ওপরই নির্ভর করবে এই অবস্থানের বিশ্বাসযোগ্যতা।

বিরোধীদের মাঠও নজরদারিতে

বিএনপি-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, নিজ দলের শৃঙ্খলার পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মকাণ্ডও পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। সরকারবিরোধী কর্মসূচি, বক্তব্য এবং মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতির মধ্যে কোনো সংঘাত বা আইনশৃঙ্খলা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কি না, তা দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলের একটি অংশ মনে করছে, সরকারের সামনে এখন দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ। একদিকে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, অন্যদিকে বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক তৎপরতা মোকাবিলায় আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। এই দুইয়ের যেকোনো একটিতে ব্যর্থতা রাজনৈতিকভাবে বড় মূল্য দিতে পারে।

‘গুপ্ত’ ও ‘নিষিদ্ধ’ শক্তি নিয়ে সতর্কবার্তা

বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। একটি বৈঠকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদকেরা ছিলেন। অন্য বৈঠকে অংশ নেন বিএনপিপন্থী টক শোর আলোচকেরা।

সূত্রের দাবি, ওই বৈঠকগুলোতে প্রধানমন্ত্রী ‘গুপ্ত’ ও ‘নিষিদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করা দুটি রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অস্থিরতা তৈরির অভিযোগ তুলে সতর্ক থাকার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে নিজ দলের নেতা-কর্মীদেরও দায়িত্বশীল আচরণের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। এক বৈঠকে উপস্থিত থাকা একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাঁর কাছে মনে হয়েছে, সরকার একই সঙ্গে ‘ঘর’ এবং ‘বাইর’—দুই দিকেই নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে চাইছে।

নীরব অভিযানের কৌশল

সরকার ও বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলোর ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটা করে কোনো বিশেষ অভিযান পরিচালনার বদলে নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক প্রচারণার চেয়ে মাঠপর্যায়ের কার্যকর পদক্ষেপেই গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান যেমন বাড়তে পারে, তেমনি রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়বে।

কালের আলো/জেএন/এমকে

লাগেজ চুরি বন্ধে বিমানবন্দরের কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচারের দাবি

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০১ অপরাহ্ণ
লাগেজ চুরি বন্ধে বিমানবন্দরের কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচারের দাবি

বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ কেটে মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি ও লুটপাট বন্ধে লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের পুরো কার্যক্রম সিসিটিভি মনিটরের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মামুন এ নোটিশ পাঠান।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং দেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক ও ব্যবস্থাপকদের কাছে নোটিশটি পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে দেশে আসা ও বিদেশগামী যাত্রী, পর্যটক, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী এবং বিশেষ করে প্রবাসী শ্রমিকদের লাগেজ থেকে মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগ রয়েছে। একটি অসাধু চক্র তালাবদ্ধ লাগেজ কেটে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করছে। এতে যাত্রীরা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

চুরি বন্ধে লাগেজ পরিবহন প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নোটিশে। এ জন্য উড়োজাহাজের কার্গো হোল্ড থেকে লাগেজ খালাস, ট্রলিতে তোলা, র‍্যাম্প এলাকা দিয়ে পরিবহন এবং ব্যাগেজ বেল্টে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো কার্যক্রম উচ্চমানের সিসিটিভির আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

একই সঙ্গে অ্যারাইভাল লাউঞ্জে বড় পর্দার মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া যাত্রীদের সামনে সরাসরি সম্প্রচারের দাবি জানানো হয়েছে। নিরাপত্তা বা তল্লাশির প্রয়োজনে কাস্টমস কিংবা কোনো নিরাপত্তা সংস্থা যাত্রীর লাগেজ খুললে বা পরীক্ষা করলে সেই কার্যক্রমও ক্যামেরায় ধারণ করে যাত্রীর সামনে সরাসরি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

বাংলাদেশ ও মন্টেনিগ্রোর সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৩ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ ও মন্টেনিগ্রোর সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনের উদ্যোগ

বাংলাদেশ ও মন্টেনিগ্রোর পার্লামেন্টের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যে ‘পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’ বা সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মন্টেনিগ্রো পার্লামেন্টের সদস্য গর্ডান স্টোজোভিক। এ সময় সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়।

মন্টেনিগ্রোর এমপি পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসি, সংসদীয় অভিজ্ঞতা ও বেস্ট প্র্যাকটিস বিনিময়ের জন্য দুই দেশের পার্লামেন্টের মধ্যে মৈত্রী গ্রুপ গঠনের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। প্রস্তাবের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন ডেপুটি স্পিকার।

কায়সার কামাল বলেন, সংসদ বা আইনসভা জনগণের সরাসরি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয়। তাই গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখা, ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা এবং সরকার ও জনগণের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপনে আইনসভার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র চর্চায় নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ যাত্রা দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ও অর্থনৈতিক মুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য বলেও মন্তব্য করেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি বলেন, উন্নত জাতি গঠনে বিরোধী দলের গঠনমূলক ভূমিকা প্রয়োজন। কেবল বিরোধিতার জন্য সংসদে বিরোধী দল থাকা উচিত নয়।

সাক্ষাৎকালে গর্ডান স্টোজোভিক জানান, মন্টেনিগ্রোর পার্লামেন্টও বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মতো এককক্ষবিশিষ্ট। দেশটির পার্লামেন্টে সদস্য সংখ্যা ৮১ জন। সংসদীয় কমিটিগুলো নির্বাহী বিভাগের কর্মকাণ্ড পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নিবিড়ভাবে কাজ করে বলেও জানান তিনি।

এ সময় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস বন্ধ না হলে আন্দোলন চলবে: জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৭ অপরাহ্ণ
চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস বন্ধ না হলে আন্দোলন চলবে: জামায়াত

চাঁদাবাজি হলে সেখানেই বাঁশের লাঠি হাতে লড়াই করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলামোটরে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বন্ধ এবং মাদকমুক্ত নিরাপদ ঢাকা-১২ আসন গড়ার দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

রেজাউল করিম বলেন, ঢাকা-১২ আসনের যেখানেই চাঁদাবাজি হবে, সেখানেই বাঁশের লাঠি দিয়ে লড়াই করা হবে। এই কর্মসূচি সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। তার অভিযোগ, সরকার জনগণের সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে।

একটি স্বাস্থ্য ক্লিনিক ভাঙচুরের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ঘটনায় জড়িতদের শুধু পদত্যাগ করালেই হবে না, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ওই ঘটনা আড়াল করতেই মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, তাদের আন্দোলন চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে। কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না।

তিনি প্রশাসনের প্রতি দ্রুত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানান। একই সঙ্গে নিরপরাধ ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার না করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।

বাংলামোটরে কয়েকজন নিহত হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে সাইফুল আলম খান বলেন, নিহতদের কেউ কোনো রাজনৈতিক দল করতেন না। তাদের কেন হত্যা করা হলো, সেটির জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশকে চাঁদাবাজমুক্ত না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

সোমবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে বাংলামোটর মোড়ে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে বিক্ষোভ মিছিলটি মগবাজার চৌরাস্তায় গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। এতে জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি