খুঁজুন
                               
, ,
           

হলে ঠাঁই নেই, মেসেই ঠিকানা-আবাসন সংকটে চার বিশ্ববিদ্যালয়

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৭ অপরাহ্ণ
হলে ঠাঁই নেই, মেসেই ঠিকানা-আবাসন সংকটে চার বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থাকে পড়াশোনা, গবেষণা ও নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার। কিন্তু দেশের চার শীর্ষ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়-ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থীর সেই স্বপ্নের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আবাসনের দুশ্চিন্তা। কারও থাকার জায়গা নেই, কেউ গাদাগাদি করে থাকছেন গণরুমে, আবার কেউ বাড়তি খরচে মেস বা ভাড়া বাসায় দিন কাটাচ্ছেন। ফলে আবাসন সংকট এখন আর শুধু একটি প্রশাসনিক সমস্যা নয়; এটি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

ঢাবিতে ঠাঁইহীন অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী
দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৪২ হাজার ৮৮১ জন। তাদের জন্য রয়েছে ১৯টি আবাসিক হল। অথচ বৈধভাবে হলে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন ১৮ হাজার ৮১৭ জন। অর্থাৎ ২৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে থাকতে হচ্ছে হলের বাইরে।

যারা হলে জায়গা পেয়েছেন, তাদেরও স্বস্তি নেই। চারজনের কক্ষে আটজনের থাকা, অপরিচ্ছন্ন স্যানিটেশন, দূষিত পানি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে রয়েছে দীর্ঘদিনের অভিযোগ।

বিশেষ করে ছাত্রী হলগুলোতে অতিরিক্ত আবাসিক চাপের কারণে ব্যক্তিগত পরিসর ও মানসিক স্বস্তির সংকট প্রকট। খাবারের মান নিয়েও শিক্ষার্থীদের অভিযোগের শেষ নেই। নিম্নমানের ভাত, পাতলা ডাল, সামান্য সবজি, ব্রয়লার মুরগি কিংবা ছোট মাছের ওপর নির্ভরশীল খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মদ রেজাউল করিমও শিক্ষার্থীদের খাবারে বৈচিত্র্য ও পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

চবিতে ৭৩ শতাংশই হলের বাইরে
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সংকট আরও তীব্র। প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে হলে থাকেন মাত্র ৭ হাজার ৫০০ জন। ৭৩ শতাংশ শিক্ষার্থীই আবাসিক সুবিধার বাইরে। সিট না পেয়ে শিক্ষার্থীদের ১ নম্বর ও ২ নম্বর গেট, ফতেপুর, জোবরা, হাটহাজারীসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসা বা মেস ভাড়া করে থাকতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে মাসিক ব্যয়, যাতায়াতের ভোগান্তি ও নিরাপত্তাঝুঁকি।

ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের বড় অংশকে শাটল ট্রেনে অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে যাতায়াত করতে হয়। বাসে চলাচলের ক্ষেত্রেও নারী শিক্ষার্থীদের নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। অথচ আয়তনে দেশের সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি হলেও শিক্ষার্থীর অনুপাতে আবাসিক সক্ষমতা বাড়েনি।

৭৩ বছরেও রাবিতে কাটেনি সংকট
প্রতিষ্ঠার ৭৩ বছর পেরিয়েও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকটের স্থায়ী সমাধান হয়নি। প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে হলে জায়গা পাচ্ছেন ৯ হাজার ৬৭৩ জন। ৬৮ শতাংশ শিক্ষার্থীকে থাকতে হচ্ছে ক্যাম্পাসের বাইরে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও বিশ্ববিদ্যালয়টির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধার বাইরে থাকার তথ্য উঠে এসেছে।

সংকট সবচেয়ে প্রকট ছাত্রী হলগুলোতে। কোথাও একটি সিঙ্গেল বেডে দুজন করে থাকার অভিযোগ রয়েছে। ১৬০ শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র চারটি গ্যাসের চুলা ও তিনটি ওয়াশরুমের মতো সীমিত সুবিধাও আবাসিক জীবনের দুরবস্থা স্পষ্ট করে।

সমস্যার বড় কারণ শিক্ষার্থী ও একাডেমিক কার্যক্রম বৃদ্ধির সঙ্গে আবাসন সক্ষমতা না বাড়া। গত ২৫ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৩টি নতুন বিভাগ, সাতটি অনুষদ ও চারটি ইনস্টিটিউট চালু হয়েছে। শিক্ষার্থী সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ২১ হাজার থেকে ৩০ হাজারে। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে নতুন আবাসিক হল নির্মিত হয়েছে মাত্র তিনটি।

জবিতে ১৮ হাজারের জন্য এক হল
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র আরও কঠিন। প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে রয়েছে মাত্র একটি আবাসিক হল-নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল। বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র হলটি ছাত্রীদের জন্য। প্রথমে ৬০০ শিক্ষার্থীর ধারণক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে সেখানে প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী থাকছেন। ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ঠিকানা পুরান ঢাকার ছোট ও ব্যয়বহুল মেস। সংকীর্ণ কক্ষে গাদাগাদি করে থাকা, বিশুদ্ধ পানির সংকট, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও সীমিত ব্যক্তিগত পরিসর তাদের নিত্যসঙ্গী। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব হল-সংক্রান্ত তথ্যেও নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলের অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।

একমাত্র হলটিও নানা সমস্যায় জর্জরিত। প্রতি ফ্লোরে ৯০ শিক্ষার্থীর জন্য গ্যাসের চুলা মাত্র চারটি। ১৬ তলা ভবনে চারটি লিফট থাকলেও সচল থাকে দুটি। ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীর জন্য থাকা মেডিকেল সেন্টার বন্ধ থাকার অভিযোগ রয়েছে। খাবারের মান, ওয়াইফাই ও প্রশাসনিক তদারকি নিয়েও শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ রয়েছে।

শিক্ষার্থী বাড়লেও নেই আবাসন পরিকল্পনা
চার বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র এক জায়গায় এনে দেখলে সংকটের মূল কারণ স্পষ্ট হয়-একাডেমিক সম্প্রসারণ হয়েছে, আবাসিক সম্প্রসারণ হয়নি। নতুন বিভাগ ও অনুষদ চালু হয়েছে, শিক্ষার্থী বেড়েছে; কিন্তু তাদের থাকার জায়গা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা সেই অনুপাতে বাড়েনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমানের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়কে তার সক্ষমতা বিবেচনায় শিক্ষার্থী ভর্তি করতে হবে। শ্রেণিকক্ষের পাশাপাশি হল, লাইব্রেরি, ল্যাবরেটরি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার সক্ষমতাও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

এই বাস্তবতায় আবাসনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত কোনো সুবিধা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নিরাপদে থাকার জায়গা একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষা গ্রহণের মৌলিক পূর্বশর্ত।

মেসে খরচ ও হলে ভোগান্তি
হলের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন সংকট মানে বাড়তি অর্থের চাপ। মাসিক ভাড়া, খাবার, বিদ্যুৎ-পানি ও যাতায়াত-সব মিলিয়ে পরিবারের ওপর বাড়ছে ব্যয়ের বোঝা। অনেককে ক্যাম্পাস থেকে দূরে থাকতে হওয়ায় প্রতিদিন দীর্ঘ সময় যাতায়াতেও ব্যয় হচ্ছে।

অন্যদিকে হলে থাকা শিক্ষার্থীদের লড়াইটা ভিন্ন। অতিরিক্ত জনসংখ্যা, সীমিত আসন, অপর্যাপ্ত রান্নার ব্যবস্থা, নিম্নমানের খাবার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সঙ্গে প্রতিনিয়ত মানিয়ে নিতে হচ্ছে তাদের। ফলে দুই প্রান্তের শিক্ষার্থীই ক্ষতিগ্রস্ত। কেউ অর্থনৈতিক চাপে, কেউ আবাসিক দুর্ভোগে। এর প্রভাব পড়ছে পড়াশোনায়, বিশ্রামে এবং মানসিক স্বাস্থ্যে।

সমাধান শুধু হল নির্মাণে নয়
নতুন হল নির্মাণ জরুরি। কিন্তু শুধু ভবন বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন শিক্ষার্থী সংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দীর্ঘমেয়াদি আবাসন পরিকল্পনা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন, পুষ্টিকর খাবার ও কার্যকর চিকিৎসাসেবা।

হলে জায়গা না পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ভাতা বা বিকল্প আবাসন ব্যবস্থাও হতে পারে অন্তর্বর্তী সমাধান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সুবিধাবঞ্চিত ছাত্রীদের জন্য ভাতার উদ্যোগ নেওয়ার খবরও এসেছে, যা সংকট মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে আনে।

তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন একটি সমন্বিত নীতি। বিশ্ববিদ্যালয়ে যত শিক্ষার্থী ভর্তি হবে, তাদের থাকার সক্ষমতাও সেই অনুপাতে নিশ্চিত করতে হবে। নতুন বিভাগ খোলার আগে যেমন একাডেমিক অবকাঠামো বিবেচনা করা হয়, তেমনি আবাসন সক্ষমতাকেও পরিকল্পনার অংশ করতে হবে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় শুধু শ্রেণিকক্ষের নাম নয়। নিরাপদে থাকা, স্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাওয়া, বিশ্রাম নেওয়া এবং নির্বিঘ্নে পড়াশোনা করার সুযোগও উচ্চশিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ। অথচ দেশের চার শীর্ষ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজারো শিক্ষার্থীর মাথার ওপর সেই নিরাপদ ছাদই নেই।

কালের আলো/এম/এএইচ

শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ–আফগানিস্তান টেস্ট, পরিসংখ্যানে এগিয়ে কে?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ–আফগানিস্তান টেস্ট, পরিসংখ্যানে এগিয়ে কে?

বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যকার একমাত্র টেস্ট ম্যাচ শুরু হচ্ছে আগামীকাল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ দিয়ে প্রথমবারের মতো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট ক্রিকেট খেলতে নামবে বাংলাদেশ। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে এখন পর্যন্ত কেউ কারও চেয়ে এগিয়ে নেই।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ না হলেও ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেললেও দেশটির মাটিতে সাদা পোশাকে মাঠে নামেনি টাইগাররা।

নিরপেক্ষ ভেন্যুতে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে বিশ্বের ১১টি দলের। এ তালিকায় সবচেয়ে বেশি ৩৯টি টেস্ট খেলেছে পাকিস্তান। ১৯৯৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এসব ম্যাচের ১৯টিতে জয় পেয়েছে তারা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়া ১৪টি টেস্ট খেলে জিতেছে সাতটিতে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশের নাম।

টেস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের অতীত রেকর্ডও সমানে সমান। এখন পর্যন্ত দুই দল দুটি টেস্ট খেলেছে, দুটিই বাংলাদেশের মাটিতে। ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে প্রথম দেখায় বাংলাদেশকে ২২৪ রানে হারায় আফগানিস্তান। তবে ২০২৩ সালে মিরপুরে ৫৪৬ রানের বিশাল জয় তুলে নিয়ে সেই হারের জবাব দেয় বাংলাদেশ। ফলে দুই দলের জয় একটি করে।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে ব্যাট হাতে এগিয়ে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দুই ইনিংসে দুটি শতকের সাহায্যে তার সংগ্রহ ২৭০ রান। চার ইনিংসে ১৯১ রান নিয়ে পরের অবস্থানে রয়েছেন মুমিনুল হক।

বল হাতে দুই দলের লড়াইয়ে সবার ওপরে আফগানিস্তানের রশিদ খান। দুই ইনিংসে দুটি পাঁচ উইকেটের কৃতিত্বসহ তার শিকার ১১ উইকেট। বাংলাদেশের হয়ে চার ইনিংসে আট উইকেট নিয়ে তালিকায় এগিয়ে রয়েছেন তাইজুল ইসলাম।

টেস্ট শেষে সংযুক্ত আরব আমিরাতেই ব্যস্ত সূচি রয়েছে বাংলাদেশের। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের পর আবুধাবি ও শারজায় জিম্বাবুয়ে এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে টাইগাররা। টেস্টের মতো ওই সিরিজেও স্বাগতিক হিসেবে থাকবে আফগানিস্তান।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

নভেম্বরের আগে ইরানে হামলা নয়, : ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৮ পূর্বাহ্ণ
নভেম্বরের আগে ইরানে হামলা নয়, : ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা চলছে দাবি করে আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশটিতে হামলা চালানো হবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধ বন্ধ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই দেশের মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো হামলা চালানো হবে না বলেও জানান তিনি।

ট্রাম্পের এ বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি করেছে। তবে হামলা না চালানোর ঘোষণার অর্থ যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নয়। দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে—এমন কোনো তথ্যও তাঁর বক্তব্যে পাওয়া যায়নি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধ ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার চেষ্টায় থাকা রিপাবলিকানদের জন্যও পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

রয়টার্স-ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক অসন্তুষ্ট। এমনকি প্রতি চারজন রিপাবলিকানের একজনও তাঁর পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ট্রাম্প বারবার বলেছেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তেলের দাম কমে আসবে। তবে যুদ্ধ থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসা হবে, সে বিষয়ে তিনি এখনো বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি।

যুদ্ধ বন্ধ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধানের বরাতে জানিয়েছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে না তেহরান। একই সঙ্গে নিজেদের ইউরেনিয়ামের মজুতও অন্য কোনো পক্ষের কাছে হস্তান্তর করবে না বলে জানিয়েছে দেশটি।

এর কয়েক দিন আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রয়টার্সকে বলেছিলেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা অর্থবহভাবে কমাতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ করে আসছে। তবে তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা না চালানোর বিষয়ে ট্রাম্পের ঘোষণা সংঘাতের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে যুদ্ধ বন্ধের চূড়ান্ত সমঝোতা, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি না হলে সংকটের স্থায়ী সমাধান অনিশ্চিতই থেকে যাবে।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে উজবেকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ মেয়েরা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৯ পূর্বাহ্ণ
রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে উজবেকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ মেয়েরা

যোগ করা সময়ের গোলে স্বাগতিক উজবেকিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল করেছে বাংলাদেশ। তাসখন্দে বৃহস্পতিবারের ম্যাচে শেষ মুহূর্তে রুনা আক্তারের গোলে রোমাঞ্চকর জয় তুলে নেয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

দোস্তলিক স্টেডিয়ামের অনুশীলন মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সাইফুল বারী টিটুর দল। এর ফলও আসে দ্রুত। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে ফাতেমা আক্তারের বাড়ানো পাস থেকে বল পেয়ে ডান প্রান্তের পূর্ণিমা মারমা উজবেক গোলরক্ষককে পরাস্ত করে চিপ শটে বল জালে পাঠান। তাতে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

তবে বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে পারেনি সফরকারীরা। ১৭ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে গোল করেন উজবেকিস্তানের লারাঙ্গিজ লাকায়েভা। এতে ১-১ গোলে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা।

বিরতির পর দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে গোলের চেষ্টা চালায়। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে আলপি আক্তার ভালো সুযোগ তৈরি করলেও উজবেক গোলরক্ষক তা আটকে দেন। ম্যাচের শেষ দিকে স্বাগতিকরা চাপ বাড়ালেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ দৃঢ়তা দেখায়।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যখন ম্যাচটি ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আসে বাংলাদেশের জয়সূচক গোল। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে, অর্থাৎ ৯০+৩ মিনিটে, সুরভী রানির থ্রু পাস ধরে উজবেকিস্তানের বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান রুনা আক্তার। তার গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

এই হারে বাছাইপর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে উজবেকিস্তান। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ফিলিপাইনের কাছে ৪-০ গোলে হেরেছিল দলটি।

আগামী বছর চীনে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা পেতে বাছাইপর্বের আটটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হতে হবে দলগুলোকে। ‘এইচ’ গ্রুপে বাংলাদেশের পরবর্তী প্রতিপক্ষ ফিলিপাইন। আগামী রোববারের ম্যাচে জয় পেলেই মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের মেয়েদের।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি