খুঁজুন
                               
, ,
           

হলে ঠাঁই নেই, মেসেই ঠিকানা-আবাসন সংকটে চার বিশ্ববিদ্যালয়

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৭ অপরাহ্ণ
হলে ঠাঁই নেই, মেসেই ঠিকানা-আবাসন সংকটে চার বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থাকে পড়াশোনা, গবেষণা ও নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার। কিন্তু দেশের চার শীর্ষ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়-ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থীর সেই স্বপ্নের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আবাসনের দুশ্চিন্তা। কারও থাকার জায়গা নেই, কেউ গাদাগাদি করে থাকছেন গণরুমে, আবার কেউ বাড়তি খরচে মেস বা ভাড়া বাসায় দিন কাটাচ্ছেন। ফলে আবাসন সংকট এখন আর শুধু একটি প্রশাসনিক সমস্যা নয়; এটি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

ঢাবিতে ঠাঁইহীন অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী
দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৪২ হাজার ৮৮১ জন। তাদের জন্য রয়েছে ১৯টি আবাসিক হল। অথচ বৈধভাবে হলে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন ১৮ হাজার ৮১৭ জন। অর্থাৎ ২৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে থাকতে হচ্ছে হলের বাইরে।

যারা হলে জায়গা পেয়েছেন, তাদেরও স্বস্তি নেই। চারজনের কক্ষে আটজনের থাকা, অপরিচ্ছন্ন স্যানিটেশন, দূষিত পানি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে রয়েছে দীর্ঘদিনের অভিযোগ।

বিশেষ করে ছাত্রী হলগুলোতে অতিরিক্ত আবাসিক চাপের কারণে ব্যক্তিগত পরিসর ও মানসিক স্বস্তির সংকট প্রকট। খাবারের মান নিয়েও শিক্ষার্থীদের অভিযোগের শেষ নেই। নিম্নমানের ভাত, পাতলা ডাল, সামান্য সবজি, ব্রয়লার মুরগি কিংবা ছোট মাছের ওপর নির্ভরশীল খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মদ রেজাউল করিমও শিক্ষার্থীদের খাবারে বৈচিত্র্য ও পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

চবিতে ৭৩ শতাংশই হলের বাইরে
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সংকট আরও তীব্র। প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে হলে থাকেন মাত্র ৭ হাজার ৫০০ জন। ৭৩ শতাংশ শিক্ষার্থীই আবাসিক সুবিধার বাইরে। সিট না পেয়ে শিক্ষার্থীদের ১ নম্বর ও ২ নম্বর গেট, ফতেপুর, জোবরা, হাটহাজারীসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসা বা মেস ভাড়া করে থাকতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে মাসিক ব্যয়, যাতায়াতের ভোগান্তি ও নিরাপত্তাঝুঁকি।

ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের বড় অংশকে শাটল ট্রেনে অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে যাতায়াত করতে হয়। বাসে চলাচলের ক্ষেত্রেও নারী শিক্ষার্থীদের নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। অথচ আয়তনে দেশের সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি হলেও শিক্ষার্থীর অনুপাতে আবাসিক সক্ষমতা বাড়েনি।

৭৩ বছরেও রাবিতে কাটেনি সংকট
প্রতিষ্ঠার ৭৩ বছর পেরিয়েও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকটের স্থায়ী সমাধান হয়নি। প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে হলে জায়গা পাচ্ছেন ৯ হাজার ৬৭৩ জন। ৬৮ শতাংশ শিক্ষার্থীকে থাকতে হচ্ছে ক্যাম্পাসের বাইরে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও বিশ্ববিদ্যালয়টির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধার বাইরে থাকার তথ্য উঠে এসেছে।

সংকট সবচেয়ে প্রকট ছাত্রী হলগুলোতে। কোথাও একটি সিঙ্গেল বেডে দুজন করে থাকার অভিযোগ রয়েছে। ১৬০ শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র চারটি গ্যাসের চুলা ও তিনটি ওয়াশরুমের মতো সীমিত সুবিধাও আবাসিক জীবনের দুরবস্থা স্পষ্ট করে।

সমস্যার বড় কারণ শিক্ষার্থী ও একাডেমিক কার্যক্রম বৃদ্ধির সঙ্গে আবাসন সক্ষমতা না বাড়া। গত ২৫ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৩টি নতুন বিভাগ, সাতটি অনুষদ ও চারটি ইনস্টিটিউট চালু হয়েছে। শিক্ষার্থী সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ২১ হাজার থেকে ৩০ হাজারে। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে নতুন আবাসিক হল নির্মিত হয়েছে মাত্র তিনটি।

জবিতে ১৮ হাজারের জন্য এক হল
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র আরও কঠিন। প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে রয়েছে মাত্র একটি আবাসিক হল-নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল। বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র হলটি ছাত্রীদের জন্য। প্রথমে ৬০০ শিক্ষার্থীর ধারণক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে সেখানে প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী থাকছেন। ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ঠিকানা পুরান ঢাকার ছোট ও ব্যয়বহুল মেস। সংকীর্ণ কক্ষে গাদাগাদি করে থাকা, বিশুদ্ধ পানির সংকট, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও সীমিত ব্যক্তিগত পরিসর তাদের নিত্যসঙ্গী। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব হল-সংক্রান্ত তথ্যেও নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলের অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।

একমাত্র হলটিও নানা সমস্যায় জর্জরিত। প্রতি ফ্লোরে ৯০ শিক্ষার্থীর জন্য গ্যাসের চুলা মাত্র চারটি। ১৬ তলা ভবনে চারটি লিফট থাকলেও সচল থাকে দুটি। ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীর জন্য থাকা মেডিকেল সেন্টার বন্ধ থাকার অভিযোগ রয়েছে। খাবারের মান, ওয়াইফাই ও প্রশাসনিক তদারকি নিয়েও শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ রয়েছে।

শিক্ষার্থী বাড়লেও নেই আবাসন পরিকল্পনা
চার বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র এক জায়গায় এনে দেখলে সংকটের মূল কারণ স্পষ্ট হয়-একাডেমিক সম্প্রসারণ হয়েছে, আবাসিক সম্প্রসারণ হয়নি। নতুন বিভাগ ও অনুষদ চালু হয়েছে, শিক্ষার্থী বেড়েছে; কিন্তু তাদের থাকার জায়গা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা সেই অনুপাতে বাড়েনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমানের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়কে তার সক্ষমতা বিবেচনায় শিক্ষার্থী ভর্তি করতে হবে। শ্রেণিকক্ষের পাশাপাশি হল, লাইব্রেরি, ল্যাবরেটরি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার সক্ষমতাও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

এই বাস্তবতায় আবাসনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত কোনো সুবিধা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নিরাপদে থাকার জায়গা একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষা গ্রহণের মৌলিক পূর্বশর্ত।

মেসে খরচ ও হলে ভোগান্তি
হলের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন সংকট মানে বাড়তি অর্থের চাপ। মাসিক ভাড়া, খাবার, বিদ্যুৎ-পানি ও যাতায়াত-সব মিলিয়ে পরিবারের ওপর বাড়ছে ব্যয়ের বোঝা। অনেককে ক্যাম্পাস থেকে দূরে থাকতে হওয়ায় প্রতিদিন দীর্ঘ সময় যাতায়াতেও ব্যয় হচ্ছে।

অন্যদিকে হলে থাকা শিক্ষার্থীদের লড়াইটা ভিন্ন। অতিরিক্ত জনসংখ্যা, সীমিত আসন, অপর্যাপ্ত রান্নার ব্যবস্থা, নিম্নমানের খাবার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সঙ্গে প্রতিনিয়ত মানিয়ে নিতে হচ্ছে তাদের। ফলে দুই প্রান্তের শিক্ষার্থীই ক্ষতিগ্রস্ত। কেউ অর্থনৈতিক চাপে, কেউ আবাসিক দুর্ভোগে। এর প্রভাব পড়ছে পড়াশোনায়, বিশ্রামে এবং মানসিক স্বাস্থ্যে।

সমাধান শুধু হল নির্মাণে নয়
নতুন হল নির্মাণ জরুরি। কিন্তু শুধু ভবন বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন শিক্ষার্থী সংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দীর্ঘমেয়াদি আবাসন পরিকল্পনা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন, পুষ্টিকর খাবার ও কার্যকর চিকিৎসাসেবা।

হলে জায়গা না পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ভাতা বা বিকল্প আবাসন ব্যবস্থাও হতে পারে অন্তর্বর্তী সমাধান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সুবিধাবঞ্চিত ছাত্রীদের জন্য ভাতার উদ্যোগ নেওয়ার খবরও এসেছে, যা সংকট মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে আনে।

তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন একটি সমন্বিত নীতি। বিশ্ববিদ্যালয়ে যত শিক্ষার্থী ভর্তি হবে, তাদের থাকার সক্ষমতাও সেই অনুপাতে নিশ্চিত করতে হবে। নতুন বিভাগ খোলার আগে যেমন একাডেমিক অবকাঠামো বিবেচনা করা হয়, তেমনি আবাসন সক্ষমতাকেও পরিকল্পনার অংশ করতে হবে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় শুধু শ্রেণিকক্ষের নাম নয়। নিরাপদে থাকা, স্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাওয়া, বিশ্রাম নেওয়া এবং নির্বিঘ্নে পড়াশোনা করার সুযোগও উচ্চশিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ। অথচ দেশের চার শীর্ষ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজারো শিক্ষার্থীর মাথার ওপর সেই নিরাপদ ছাদই নেই।

কালের আলো/এম/এএইচ

মোদি-শি উষ্ণতায় ভারতের পূর্ব সীমান্তে নতুন পরীক্ষা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২৫ অপরাহ্ণ
মোদি-শি উষ্ণতায় ভারতের পূর্ব সীমান্তে নতুন পরীক্ষা

সাত বছর পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নয়াদিল্লি সফরে ভারত-চীন সম্পর্কে নতুন করে গতি আনার বার্তা মিলেছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যোগাযোগব্যবস্থা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে দুই নেতা আলোচনা করেছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সম্পর্ক পুনর্গঠনের আগে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। ফলে পশ্চিম সীমান্তের লাদাখের পাশাপাশি এবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল-বিশেষ করে অরুণাচল প্রদেশ।

অমীমাংসিত পূর্ব সীমান্ত
২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত-চীন সম্পর্কের প্রধান সংকট হিসেবে পূর্ব লাদাখই আলোচনায় ছিল। কিন্তু সীমান্তের পূর্ব প্রান্তে বিরোধের চরিত্র আরও জটিল। চীন অরুণাচল প্রদেশের প্রায় পুরো ভূখণ্ডের ওপর দাবি করে অঞ্চলটিকে ‘জাংনান’ নামে অভিহিত করে আসছে। বিভিন্ন সময় অরুণাচলের বিভিন্ন স্থানের জন্য চীনা নামও ঘোষণা করেছে বেইজিং।

নয়াদিল্লি এসব দাবি বরাবরই প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারতের অবস্থান, অরুণাচল প্রদেশ দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফলে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ যতই এগোক, অরুণাচল প্রশ্নটি দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের বড় অমীমাংসিত ইস্যু হয়ে থাকছে।

উত্তর-পূর্বে একসঙ্গে বহু স্বার্থ
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গুরুত্ব শুধু সীমান্ত নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ নয়। তিব্বত, আন্তঃসীমান্ত নদী, জলবায়ু পরিবর্তন, সীমান্ত অবকাঠামো এবং মিয়ানমার হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ-সবগুলো বিষয় এ অঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বিশেষ করে তিব্বত মালভূমিতে চীনের অবকাঠামো নির্মাণ এবং আন্তঃসীমান্ত নদীর পানিপ্রবাহ নিয়ে ভারতের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে। একই সঙ্গে অরুণাচল সীমান্তে সড়ক, সেতু ও সামরিক স্থাপনা উন্নয়নের প্রতিযোগিতা দুই দেশের নিরাপত্তা হিসাবকে আরও কঠিন করে তুলছে।

সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গিত
শি-মোদি বৈঠকের আগে অবশ্য সম্পর্কের বরফ গলার কিছু ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গত ২৫ আগস্ট বেইজিংয়ে ভারত-চীন সীমান্ত ইস্যু নিয়ে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশ আট দফা ঐকমত্যে পৌঁছায়। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর বৈঠকের পর দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক কমান্ডারদের মধ্যে পতাকা বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। অরুণাচল প্রদেশের তাকসিংকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পটভূমিতে এই যোগাযোগকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা এবং সামরিক পর্যায়ে যোগাযোগ-দুই পথেই উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চলছে।

দিল্লির সামনে কঠিন ভারসাম্য
ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো, চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তায় দৃঢ় অবস্থান ধরে রাখা। মোদির বক্তব্যে সেই দ্বৈত নীতিই স্পষ্ট হয়েছে। সম্পর্ক উন্নয়নের দরজা খোলা, কিন্তু তার চাবি সীমান্তে শান্তি। এই অবস্থায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারতের সীমান্ত অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করা, দ্রুত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে রাষ্ট্রের যোগাযোগ বাড়ানো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

অরুণাচলেই আসল পরীক্ষা
শি জিনপিংয়ের নয়াদিল্লি সফর ভারত-চীন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে কি না, তার সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হবে সীমান্তে। আর সেই পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র অরুণাচল প্রদেশ। কারণ লাদাখে উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি পূর্ব সীমান্তের ভূখণ্ডগত দাবি, আন্তঃসীমান্ত নদী, অবকাঠামো এবং আঞ্চলিক যোগাযোগের প্রশ্নও সমাধানের পথে এগোতে হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

ড্রোনে সীমান্ত পেরিয়ে মাদক আসছে, হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৮ অপরাহ্ণ
ড্রোনে সীমান্ত পেরিয়ে মাদক আসছে, হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে: আইনমন্ত্রী

সীমান্তের ওপার থেকে ড্রোনের মাধ্যমে মাদক দেশে আসছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, মাদক সিন্ডিকেটের হোতারা অনেক সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, মাদক কোনো ব্যবসার অংশ হতে পারে না। মাদক এখন সামাজিক ব্যাধিতে রূপান্তরিত হয়েছে। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। কোনো নেতার পেছনে থেকে কেউ মাদক ব্যবসা করলে তাকেও সতর্ক করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় গুম ও ক্রসফায়ারের মতো ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান সরকার গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শূন্যের কোঠায় নিয়ে এসেছে। গত ১৭ বছরে বিএনপি-জামায়াতকে টার্গেট করে মানুষকে ধরে নিয়ে বিনা বিচারে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এ সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক গায়েবি মামলা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মিরাজ শেখের গুমের অভিযোগ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব ও সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মিরাজ শেখের পরিবার যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, সরকার তা নিশ্চিত করতে চায়।

তিনি বলেন, সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনায় মিরাজ শেখের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার হয়েছিল। আইন মন্ত্রণালয়ের লিগ্যাল এইড ইউনিটের মাধ্যমে ওই পরিবারকে সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে এবং জামিনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তবে মামলা তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

মব জাস্টিসের বিষয়ে সতর্ক করে মন্ত্রী বলেন, কাউকে জামিন দেওয়া বা না দেওয়া আদালতের বিষয়। তবে মব জাস্টিস করে জামিন ঠেকানো বা আদালতের প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাগেরহাটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, জেলায় কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। অভিযোগ যার বিরুদ্ধেই থাকুক, তাকে আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।

মতবিনিময় সভায় বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনের সভাপতিত্বে স্থানীয় সংসদ সদস্য, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি, জেলা পরিষদের প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে জেলা জজ আদালতের সম্মেলনকক্ষে জেলার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আইনমন্ত্রী। পরে বিকেলে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য, সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং জেলা-উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

‘ব্লু স্কাই’য়ে জুবাইদা রহমান, সম্ভাবনার ডানা মেলছে বিশেষ শিশুরা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ অপরাহ্ণ
‘ব্লু স্কাই’য়ে জুবাইদা রহমান, সম্ভাবনার ডানা মেলছে বিশেষ শিশুরা

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন একটি শিশুর ভবিষ্যৎ বদলে দিতে শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠ যথেষ্ট নয়-প্রয়োজন নিবিড় পরিচর্যা, উপযুক্ত থেরাপি, দক্ষতা বিকাশ এবং সমাজের মূলধারায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ। ঢাকা সেনানিবাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী পরিচালিত বিশেষায়িত শিশুদের স্কুল ‘ব্লু স্কাই’ পরিদর্শনে এসে সেই সমন্বিত ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র প্রত্যক্ষ করলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্কুলে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতি (বাফওয়া) ও আদার্স’ উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন ক্লাবের (ওডব্লিউসিসি) সভাপতি সালেহা খান। পরে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় অতিথিকে। পুরো পরিদর্শনজুড়ে ডা. জুবাইদা রহমান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা, চিকিৎসাসহায়ক থেরাপি এবং দক্ষতা তৈরির কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।

শিশুকে সীমাবদ্ধতায় নয়, সম্ভাবনায় দেখার উদ্যোগ
বাফওয়ার উদ্যোগে ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ব্লু স্কাই’ এখন শুধু একটি বিশেষায়িত স্কুল নয়, এটি শিক্ষা ও থেরাপিকে একসঙ্গে নিয়ে শিশুদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের উপযোগী করে গড়ে তোলার একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম। পরিদর্শনকালে ডা. জুবাইদা রহমান বিভিন্ন শ্রেণি কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন এবং হাইড্রোথেরাপি, ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি, সাইকোলজি ও মিউজিক থেরাপির কার্যক্রম সরেজমিনে দেখেন।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের ক্ষেত্রে প্রত্যেকের প্রয়োজন এক নয়। কারও শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি, কারও প্রয়োজন যোগাযোগ দক্ষতা, আবার কারও দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতা কিংবা মানসিক বিকাশে বিশেষ সহায়তা দরকার। ‘ব্লু স্কাই’-এর ছয় ধরনের থেরাপি সেই ভিন্ন প্রয়োজনগুলোকে আলাদা গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২৮ জন শিক্ষক ও থেরাপিস্ট এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

শ্রেণিকক্ষ পেরিয়ে মূলধারায় ফেরার প্রস্তুতি
স্কুলটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো ব্যক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষা। সর্বোচ্চ পাঁচজন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক এবং একজন সিস্টার বা ব্রাদারের মাধ্যমে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ফলে প্রতিটি শিশুর শেখার গতি ও প্রয়োজন অনুযায়ী নিবিড়ভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বহু বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী মূলধারার শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কারিগরি শিক্ষাও। ইতোমধ্যে কিছু শিক্ষার্থীকে সহকারী থেরাপিস্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শিক্ষা ও থেরাপির শেষ লক্ষ্য কেবল শিশুকে সক্ষম করে তোলা নয়। একই সঙ্গে সেই সক্ষমতাকে ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সঙ্গে যুক্ত করা।

জুবাইদা রহমানের প্রশংসায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
পরিদর্শন শেষে ডা. জুবাইদা রহমান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য ‘ব্লু স্কাই’-এর সুযোগ-সুবিধার ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে বাফওয়ার বিভিন্ন উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন তিনি। পরে তিনি বাফওয়া কর্নার পরিদর্শন করে বাফওয়া ক্রাফটস অ্যান্ড বুটিক, দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ প্রকল্প ও বাফওয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল হোমের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন।

এ সময় প্রশিক্ষণার্থীদের তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্প সামগ্রীও ঘুরে দেখেন তিনি। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সক্ষমতা বিকাশের পাশাপাশি নারীদের দক্ষতা অর্জন ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার জন্য বাফওয়ার উদ্যোগগুলোও তাঁর পরিদর্শনে বিশেষ গুরুত্ব পায়। এই দুটি উদ্যোগকে পাশাপাশি দেখলে একটি অভিন্ন সামাজিক দর্শন স্পষ্ট হয়ে ওঠে-সহায়তার ওপর নির্ভরতা নয়, বরং সক্ষমতা তৈরি করাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ। ‘ব্লু স্কাই’ যেখানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা, থেরাপি ও কারিগরি দক্ষতার মাধ্যমে আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে, সেখানে বাফওয়ার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নারীদের দক্ষতাকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করছে।

শিক্ষা ও থেরাপির সমন্বিত ব্যবস্থার গুরুত্ব

পরিদর্শনের শেষপর্বে ‘ব্লু স্কাই’ স্কুলের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু এবং বাফওয়া গোল্ডেন ঈগল নার্সারির শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন ডা. জুবাইদা রহমান। শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের এই আয়োজন যেন ‘ব্লু স্কাই’-এর মূল দর্শনকেই সামনে আনে-বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরাও সমাজের আনন্দ, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক জীবনের সমান অংশীদার।

ডা. জুবাইদা রহমানের এই পরিদর্শন শুধুমাত্র একটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। তাঁর প্রশংসার মধ্য দিয়ে বিশেষ শিশুদের জন্য শিক্ষা ও থেরাপির সমন্বিত ব্যবস্থার গুরুত্ব যেমন সামনে এসেছে, তেমনি নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্বাবলম্বিতার উদ্যোগও পেয়েছে দৃশ্যমান স্বীকৃতি। আর ‘ব্লু স্কাই’ যেন সেই বার্তাই দিচ্ছে-বিশেষ চাহিদা কোনো শিশুর সম্ভাবনার সীমা নয়; প্রয়োজন শুধু তাকে নিজের সক্ষমতা মেলে ধরার উপযুক্ত সুযোগ করে দেওয়া।

কালের আলো/এমএএএমকে