খুঁজুন
                               
, ,
           

হলে ঠাঁই নেই, মেসেই ঠিকানা-আবাসন সংকটে চার বিশ্ববিদ্যালয়

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৭ অপরাহ্ণ
হলে ঠাঁই নেই, মেসেই ঠিকানা-আবাসন সংকটে চার বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থাকে পড়াশোনা, গবেষণা ও নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার। কিন্তু দেশের চার শীর্ষ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়-ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থীর সেই স্বপ্নের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আবাসনের দুশ্চিন্তা। কারও থাকার জায়গা নেই, কেউ গাদাগাদি করে থাকছেন গণরুমে, আবার কেউ বাড়তি খরচে মেস বা ভাড়া বাসায় দিন কাটাচ্ছেন। ফলে আবাসন সংকট এখন আর শুধু একটি প্রশাসনিক সমস্যা নয়; এটি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

ঢাবিতে ঠাঁইহীন অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী
দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৪২ হাজার ৮৮১ জন। তাদের জন্য রয়েছে ১৯টি আবাসিক হল। অথচ বৈধভাবে হলে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন ১৮ হাজার ৮১৭ জন। অর্থাৎ ২৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে থাকতে হচ্ছে হলের বাইরে।

যারা হলে জায়গা পেয়েছেন, তাদেরও স্বস্তি নেই। চারজনের কক্ষে আটজনের থাকা, অপরিচ্ছন্ন স্যানিটেশন, দূষিত পানি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে রয়েছে দীর্ঘদিনের অভিযোগ।

বিশেষ করে ছাত্রী হলগুলোতে অতিরিক্ত আবাসিক চাপের কারণে ব্যক্তিগত পরিসর ও মানসিক স্বস্তির সংকট প্রকট। খাবারের মান নিয়েও শিক্ষার্থীদের অভিযোগের শেষ নেই। নিম্নমানের ভাত, পাতলা ডাল, সামান্য সবজি, ব্রয়লার মুরগি কিংবা ছোট মাছের ওপর নির্ভরশীল খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মদ রেজাউল করিমও শিক্ষার্থীদের খাবারে বৈচিত্র্য ও পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

চবিতে ৭৩ শতাংশই হলের বাইরে
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সংকট আরও তীব্র। প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে হলে থাকেন মাত্র ৭ হাজার ৫০০ জন। ৭৩ শতাংশ শিক্ষার্থীই আবাসিক সুবিধার বাইরে। সিট না পেয়ে শিক্ষার্থীদের ১ নম্বর ও ২ নম্বর গেট, ফতেপুর, জোবরা, হাটহাজারীসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসা বা মেস ভাড়া করে থাকতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে মাসিক ব্যয়, যাতায়াতের ভোগান্তি ও নিরাপত্তাঝুঁকি।

ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের বড় অংশকে শাটল ট্রেনে অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে যাতায়াত করতে হয়। বাসে চলাচলের ক্ষেত্রেও নারী শিক্ষার্থীদের নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। অথচ আয়তনে দেশের সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি হলেও শিক্ষার্থীর অনুপাতে আবাসিক সক্ষমতা বাড়েনি।

৭৩ বছরেও রাবিতে কাটেনি সংকট
প্রতিষ্ঠার ৭৩ বছর পেরিয়েও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকটের স্থায়ী সমাধান হয়নি। প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে হলে জায়গা পাচ্ছেন ৯ হাজার ৬৭৩ জন। ৬৮ শতাংশ শিক্ষার্থীকে থাকতে হচ্ছে ক্যাম্পাসের বাইরে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও বিশ্ববিদ্যালয়টির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধার বাইরে থাকার তথ্য উঠে এসেছে।

সংকট সবচেয়ে প্রকট ছাত্রী হলগুলোতে। কোথাও একটি সিঙ্গেল বেডে দুজন করে থাকার অভিযোগ রয়েছে। ১৬০ শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র চারটি গ্যাসের চুলা ও তিনটি ওয়াশরুমের মতো সীমিত সুবিধাও আবাসিক জীবনের দুরবস্থা স্পষ্ট করে।

সমস্যার বড় কারণ শিক্ষার্থী ও একাডেমিক কার্যক্রম বৃদ্ধির সঙ্গে আবাসন সক্ষমতা না বাড়া। গত ২৫ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৩টি নতুন বিভাগ, সাতটি অনুষদ ও চারটি ইনস্টিটিউট চালু হয়েছে। শিক্ষার্থী সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ২১ হাজার থেকে ৩০ হাজারে। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে নতুন আবাসিক হল নির্মিত হয়েছে মাত্র তিনটি।

জবিতে ১৮ হাজারের জন্য এক হল
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র আরও কঠিন। প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে রয়েছে মাত্র একটি আবাসিক হল-নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল। বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র হলটি ছাত্রীদের জন্য। প্রথমে ৬০০ শিক্ষার্থীর ধারণক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে সেখানে প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী থাকছেন। ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ঠিকানা পুরান ঢাকার ছোট ও ব্যয়বহুল মেস। সংকীর্ণ কক্ষে গাদাগাদি করে থাকা, বিশুদ্ধ পানির সংকট, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও সীমিত ব্যক্তিগত পরিসর তাদের নিত্যসঙ্গী। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব হল-সংক্রান্ত তথ্যেও নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলের অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।

একমাত্র হলটিও নানা সমস্যায় জর্জরিত। প্রতি ফ্লোরে ৯০ শিক্ষার্থীর জন্য গ্যাসের চুলা মাত্র চারটি। ১৬ তলা ভবনে চারটি লিফট থাকলেও সচল থাকে দুটি। ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীর জন্য থাকা মেডিকেল সেন্টার বন্ধ থাকার অভিযোগ রয়েছে। খাবারের মান, ওয়াইফাই ও প্রশাসনিক তদারকি নিয়েও শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ রয়েছে।

শিক্ষার্থী বাড়লেও নেই আবাসন পরিকল্পনা
চার বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র এক জায়গায় এনে দেখলে সংকটের মূল কারণ স্পষ্ট হয়-একাডেমিক সম্প্রসারণ হয়েছে, আবাসিক সম্প্রসারণ হয়নি। নতুন বিভাগ ও অনুষদ চালু হয়েছে, শিক্ষার্থী বেড়েছে; কিন্তু তাদের থাকার জায়গা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা সেই অনুপাতে বাড়েনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমানের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়কে তার সক্ষমতা বিবেচনায় শিক্ষার্থী ভর্তি করতে হবে। শ্রেণিকক্ষের পাশাপাশি হল, লাইব্রেরি, ল্যাবরেটরি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার সক্ষমতাও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

এই বাস্তবতায় আবাসনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত কোনো সুবিধা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নিরাপদে থাকার জায়গা একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষা গ্রহণের মৌলিক পূর্বশর্ত।

মেসে খরচ ও হলে ভোগান্তি
হলের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন সংকট মানে বাড়তি অর্থের চাপ। মাসিক ভাড়া, খাবার, বিদ্যুৎ-পানি ও যাতায়াত-সব মিলিয়ে পরিবারের ওপর বাড়ছে ব্যয়ের বোঝা। অনেককে ক্যাম্পাস থেকে দূরে থাকতে হওয়ায় প্রতিদিন দীর্ঘ সময় যাতায়াতেও ব্যয় হচ্ছে।

অন্যদিকে হলে থাকা শিক্ষার্থীদের লড়াইটা ভিন্ন। অতিরিক্ত জনসংখ্যা, সীমিত আসন, অপর্যাপ্ত রান্নার ব্যবস্থা, নিম্নমানের খাবার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সঙ্গে প্রতিনিয়ত মানিয়ে নিতে হচ্ছে তাদের। ফলে দুই প্রান্তের শিক্ষার্থীই ক্ষতিগ্রস্ত। কেউ অর্থনৈতিক চাপে, কেউ আবাসিক দুর্ভোগে। এর প্রভাব পড়ছে পড়াশোনায়, বিশ্রামে এবং মানসিক স্বাস্থ্যে।

সমাধান শুধু হল নির্মাণে নয়
নতুন হল নির্মাণ জরুরি। কিন্তু শুধু ভবন বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন শিক্ষার্থী সংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দীর্ঘমেয়াদি আবাসন পরিকল্পনা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন, পুষ্টিকর খাবার ও কার্যকর চিকিৎসাসেবা।

হলে জায়গা না পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ভাতা বা বিকল্প আবাসন ব্যবস্থাও হতে পারে অন্তর্বর্তী সমাধান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সুবিধাবঞ্চিত ছাত্রীদের জন্য ভাতার উদ্যোগ নেওয়ার খবরও এসেছে, যা সংকট মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে আনে।

তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন একটি সমন্বিত নীতি। বিশ্ববিদ্যালয়ে যত শিক্ষার্থী ভর্তি হবে, তাদের থাকার সক্ষমতাও সেই অনুপাতে নিশ্চিত করতে হবে। নতুন বিভাগ খোলার আগে যেমন একাডেমিক অবকাঠামো বিবেচনা করা হয়, তেমনি আবাসন সক্ষমতাকেও পরিকল্পনার অংশ করতে হবে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় শুধু শ্রেণিকক্ষের নাম নয়। নিরাপদে থাকা, স্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাওয়া, বিশ্রাম নেওয়া এবং নির্বিঘ্নে পড়াশোনা করার সুযোগও উচ্চশিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ। অথচ দেশের চার শীর্ষ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজারো শিক্ষার্থীর মাথার ওপর সেই নিরাপদ ছাদই নেই।

কালের আলো/এম/এএইচ

৪৯ বছর পূর্তিতে মঞ্চে ফিরছে হুমায়ূন আহমেদের ‘নৃপতি’

সাহিত্য ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১২ অপরাহ্ণ
৪৯ বছর পূর্তিতে মঞ্চে ফিরছে হুমায়ূন আহমেদের ‘নৃপতি’

নাট্যচর্চার দীর্ঘ ৪৯ বছরের পথচলা উদ্‌যাপন করতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী নাট্য সংগঠন নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায়। সংগঠনটির ৪৯ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী বিশেষ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ রচিত মঞ্চনাটক ‘নৃপতি’। পাশাপাশি উৎসবের দ্বিতীয় দিন প্রদর্শিত হবে সোহেল রানা বয়াতি নির্মিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নয়া মানুষ’।

দুই দিনব্যাপী আয়োজন
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় অনুষ্ঠিত হবে নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায়ের ৪৯ বছর পূর্তি উৎসব। এতে দেশবরেণ্য ব্যক্তিরা অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। নাট্যচর্চার মধ্য দিয়ে সমাজজীবনের নানা চিত্র তুলে ধরা এবং দর্শকদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সচেতনতা সৃষ্টির প্রত্যয় নিয়ে এই আয়োজন করেছে সংগঠনটি।

১৯৭৭ সালের ১৬ অক্টোবর কয়েকজন তরুণের উদ্যোগে যাত্রা শুরু করে নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায়। নানা প্রতিকূলতা ও চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দীর্ঘ ৪৯ বছর ধরে মঞ্চনাটক নিয়ে কাজ করে আসছে সংগঠনটি। এই দীর্ঘ পথচলায় নাট্যচর্চাকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দর্শকদের সঙ্গে সাংস্কৃতিক বন্ধন গড়ে তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছে তারা।

২২ অক্টোবর মঞ্চস্থ হবে ‘নৃপতি’
উৎসবের প্রথম দিন ২২ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে আয়োজন। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতীয় নাট্যশালার মঞ্চে পরিবেশিত হবে হুমায়ূন আহমেদ রচিত নাটক ‘নৃপতি’। কথাসাহিত্যিকের রচনায় নির্মিত এই নাটক উৎসবের সাংস্কৃতিক আয়োজনকে বিশেষ মাত্রা দেবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পরদিন ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টায় আবারও মঞ্চস্থ হবে ‘নৃপতি’। একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রদর্শিত হবে সোহেল রানা বয়াতি নির্মিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নয়া মানুষ’। নাটক ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর সমন্বয়ে দুই দিনের উৎসবটি সাজানো হয়েছে।

সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রায় অংশীদার হতে চায় নান্দনিক
উৎসব প্রসঙ্গে নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায়ের সাধারণ সম্পাদক বদরুদ্দোজা বলেন, নান্দনিক বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সংগঠনটি ৪৯ বছরের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে। ‘নান্দনিক চেতনা জাগ্রত হোক, তোমার আমার সবার প্রাণে’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে তাঁরা আগামী দিনের পথচলা অব্যাহত রাখতে চান। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রার অংশীদার হওয়াই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। দীর্ঘদিনের নাট্যচর্চার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভবিষ্যতেও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অবদান রাখতে চায় সংগঠনটি।

সুস্থ ও সৎ নাট্যচর্চার প্রত্যয়
নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায়ের সভাপতি আ. মা. ম. হাসানুজ্জামান বলেন, নাটকের মাধ্যমে সমাজজীবনের নানা জটিলতা অতিক্রম করে সুস্থ ও সৎ নাট্যচর্চার ক্ষেত্র তৈরি করা তাঁদের দায়িত্ব। সংগঠনটির ৪৯ বছর পূর্তির এই বিশেষ মুহূর্তে তিনি দর্শক ও শুভানুধ্যায়ীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি জানান, দর্শক ও শুভানুধ্যায়ীদের অকুণ্ঠ সহযোগিতা সংগঠনটির বিভিন্ন প্রযোজনা মঞ্চে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁদের এই সমর্থনকে সঙ্গে নিয়েই নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায় ভবিষ্যতে নাট্যচর্চার ধারাকে আরও এগিয়ে নিতে চায়। দীর্ঘ ৪৯ বছরের পথচলা শেষে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই উৎসবের মধ্য দিয়ে নিজেদের নাট্যচর্চার ঐতিহ্য উদ্‌যাপনের পাশাপাশি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টির প্রত্যাশা করছে নান্দনিক নাট্য সম্প্রদায়।

কালের আলো/জেএন/এসএ

২৩৩ বলে নাঈমের ১৭৬, বরিশালের বিপক্ষে চালকের আসনে রাজশাহী

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১২ অপরাহ্ণ
২৩৩ বলে নাঈমের ১৭৬, বরিশালের বিপক্ষে চালকের আসনে রাজশাহী

জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) রাজশাহী ভেন্যুর চার দিনের ম্যাচে বরিশাল বিভাগের বিপক্ষে দ্বিতীয় দিন শেষে বড় সংগ্রহের পথে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ। নাঈম আহমেদের অপরাজিত ১৭৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে দিন শেষে রাজশাহীর সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৫ উইকেটে ৪২৪ রান।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে আগের দিনের ১ উইকেটে ২৪ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে রাজশাহী। দিন শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ৪২৪ রান সংগ্রহ করে দলটি।

আগের দিন ১৩ রানে অপরাজিত থাকা নাঈম আহমেদ দ্বিতীয় দিনেও দুর্দান্ত ব্যাটিং অব্যাহত রাখেন। দিন শেষে তিনি ১৭৬ রানে অপরাজিত রয়েছেন। ৪১০ মিনিট ক্রিজে থেকে ২৩৩ বল মোকাবিলা করে ২৫টি চার মেরে নিজের ইনিংসটি সাজান এই ব্যাটসম্যান।

অন্যদিকে, আগের দিন ৬ রানে অপরাজিত থাকা হাবিবুর সোহান দ্বিতীয় দিনে আরও ৩৩ রান যোগ করে ৩৯ রানে আউট হন। রাজশাহীর হয়ে সাব্বির রোমানও ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। একটি ছক্কা ও ১৩টি চারের সাহায্যে ৮৬ রান করেন তিনি। এ ছাড়া মেহরাব হাসান ৫৭ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন।

বরিশাল বিভাগের বোলারদের মধ্যে রুয়েল মিয়া ৮৯ রান খরচায় ২টি উইকেট শিকার করেন।

নাঈম আহমেদের বড় ইনিংস এবং অন্য ব্যাটসম্যানদের কার্যকর অবদানে দ্বিতীয় দিন শেষে শক্ত অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ। তৃতীয় দিনে ব্যাট হাতে দলটি আরও বড় সংগ্রহ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

কোয়ান্টাম জগতে নতুন রহস্য উন্মোচন বিজ্ঞানীদের

ফিচার ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
কোয়ান্টাম জগতে নতুন রহস্য উন্মোচন বিজ্ঞানীদের

বিজ্ঞানের জগতে পদার্থের অস্বাভাবিক এক নতুন অবস্থা নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ গবেষণার পর অতিশীতল পরমাণুর আচরণ পর্যবেক্ষণ করে এই অবস্থার সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ‘ফ্র্যাকশনাল ফারমি সি’ নামে পরিচিত এই অবস্থায় কণাগুলো চরম উত্তেজনার মধ্যেও সুশৃঙ্খল বিন্যাস বজায় রাখে। কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে কণার পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া এবং অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে তাদের আচরণ বোঝার ক্ষেত্রে এই গবেষণা নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘ফিজিক্যাল রিভিউ লেটার্স’-এ। গবেষকেরা আশা করছেন, এই আবিষ্কার জটিল কোয়ান্টাম সিস্টেমের আচরণ বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যতের কোয়ান্টাম সিমুলেশন গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অতিশীতল পরমাণুতে অস্বাভাবিক আচরণ
গবেষণাটির নেতৃত্ব দেন হ্যান্স-ক্রিস্টোফ নাগেরল। এতে সিএনআরএস এবং ইউনিভার্সিটি প্যারিস-ডাউফাইনের তাত্ত্বিক পদার্থবিদ অ্যালভিসে বাস্টিয়ানেলোও যুক্ত ছিলেন। গবেষণায় অতিশীতল পরমাণু ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কণাগুলোর আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হয়।

গবেষকেরা দেখেন, পরমাণুগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক বল বারবার পরিবর্তিত হলে পুরো কোয়ান্টাম সিস্টেমটি স্বাভাবিক অবস্থা থেকে সরে যায়। সাধারণভাবে এমন চরম পরিবর্তনে কণাগুলোর আচরণ অনুমান করা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু পরীক্ষায় দেখা যায়, কণাগুলো অত্যন্ত উত্তেজিত অবস্থাতেও একটি নির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল বিন্যাস বজায় রাখছে। বিজ্ঞানীদের কাছে এই পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি দেখায় যে চরম পরিস্থিতিতেও কোয়ান্টাম কণার মধ্যে এমন কিছু সংগঠিত আচরণ তৈরি হতে পারে, যা সাধারণ ধারণা দিয়ে সহজে ব্যাখ্যা করা যায় না।

ফার্মিয়ন কণার আচরণ নিয়ে নতুন তথ্য
গবেষণাটিতে মূলত ফার্মিয়ন নামের এক শ্রেণির কণা নিয়ে কাজ করা হয়েছে। ইলেকট্রন এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, একই ধরনের দুটি অভিন্ন ফার্মিয়ন একই সময়ে একই কোয়ান্টাম অবস্থায় থাকতে পারে না। এই বৈশিষ্ট্য তাদের আচরণ ও শক্তির অবস্থাগুলো কীভাবে পূরণ হবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় পরমাণুগুলোকে ঠান্ডা করার পর গবেষকেরা কণাগুলোর শক্তির অবস্থায় একটি নির্দিষ্ট বিন্যাস লক্ষ্য করেন। এই বিন্যাসের সঙ্গে ফারমি-সংক্রান্ত কোয়ান্টাম বৈশিষ্ট্যের সম্পর্ক রয়েছে। তবে নতুন অবস্থাটির বিশেষত্ব হলো, কণাগুলোর পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া চরমভাবে পরিবর্তিত হলেও তাদের মধ্যে একটি সংগঠিত প্যাটার্ন বজায় থাকে। এখানে ‘ফ্র্যাকশনাল’ শব্দটি দিয়ে পরমাণু ভেঙে ছোট ছোট অংশে পরিণত হওয়ার কথা বোঝানো হয়নি। বরং এটি সিস্টেমটির কোয়ান্টাম অবস্থার বিশেষ বিন্যাস ও আচরণকে নির্দেশ করে।

বিকর্ষণ থেকে আকর্ষণ পরিবর্তন করে পরীক্ষা
পরীক্ষায় গবেষকেরা সিজিয়াম পরমাণুকে একটি নির্দিষ্ট দিকে চালিত করেন। এরপর পরমাণুগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তা পর্যবেক্ষণ করেন। বিশেষ করে বিকর্ষণমূলক বল থেকে আকর্ষণমূলক বলে পরিবর্তনের সময় কোয়ান্টাম সিস্টেমের প্রতিক্রিয়া কেমন হয়, তা ছিল গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সাধারণ পরিস্থিতিতে কণাগুলোর মধ্যকার বলের এমন দ্রুত ও চরম পরিবর্তন সিস্টেমের স্থিতিশীলতা এবং আচরণকে জটিল করে তুলতে পারে। কিন্তু গবেষকেরা দেখতে পান, এই পরিবর্তনের মধ্যেও কণাগুলোর বিন্যাসে উল্লেখযোগ্য শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে। এই ফলাফল থেকে ধারণা পাওয়া যায়, কোয়ান্টাম সিস্টেমকে স্বাভাবিক পরিস্থিতি থেকে অনেক দূরে নিয়ে গেলেও সেখানে অপ্রত্যাশিত সংগঠিত অবস্থা তৈরি হতে পারে। কণাগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক কীভাবে এমন বিন্যাস তৈরি করে, তা জানতে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার?
কোয়ান্টাম জগতে কণাগুলোর আচরণ অনেক সময় প্রচলিত পদার্থবিজ্ঞানের সহজ ধারণা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। বিশেষ করে অতিশীতল পরিবেশে কণাগুলোর পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া ও শক্তির অবস্থার পরিবর্তন নতুন ধরনের পদার্থগত বৈশিষ্ট্য তৈরি করতে পারে।

নতুন এই গবেষণা জটিল কোয়ান্টাম সিস্টেমে কণার পারস্পরিক সম্পর্কের অস্বাভাবিক ধরন বুঝতে বিজ্ঞানীদের সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে কোয়ান্টাম সিমুলেটর ব্যবহার করে ভবিষ্যতে আরও জটিল পরিস্থিতি পরীক্ষা করার পথও তৈরি হতে পারে। তবে এই আবিষ্কারের ব্যবহারিক প্রয়োগ এখনই নিশ্চিত নয়। বরং এর তাৎপর্য হলো, কোয়ান্টাম পদার্থের অস্বাভাবিক আচরণ সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া এবং ভবিষ্যতের গবেষণার জন্য আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসা। সূত্র: এনডিটিভি

কালের আলো/জেএন/এসএ