খুঁজুন
                               
, ,
           

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির পারফরম্যান্সে ‌‘সন্তুষ্ট’ প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির পারফরম্যান্সে ‌‘সন্তুষ্ট’ প্রধানমন্ত্রী

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনিকে আরও এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠনের মাত্র একদিন আগে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ২৬তম মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে তাকে নিয়োগ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। বিএনপি সরকারের প্রথম ৬ মাস এই পদে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে শেষ হয় তাঁর দুই বছরের চুক্তির মেয়াদ। তবে আগে থেকেই গুঞ্জন ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন কাউকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে বেছে নিচ্ছেন না। নতুন সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে সফলভাবে দেশ চালানোর ক্ষেত্রে ১৮০ দিনে কর্মদক্ষতার পরিচয় দেওয়া নাসিমুল গনিকেই তিনি চুক্তিতে রাখছেন।

সোমবার (১৭ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন তাঁর বিষয়ে সরকারপ্রধানের মূল্যায়ন পরিস্কার। যা নাসিমুল গনির ওপর প্রধানমন্ত্রীর গভীর আস্থাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে-সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী ড. নাসিমুল গনি (পরিচিতি নম্বর-৩১০৭)-কে অন্য যেকোনো পেশা এবং সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এক বছর মেয়াদে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে পূর্বের চুক্তির ধারাবাহিকতায় পুন:চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়, মাঠ প্রশাসনের তদারকি এবং প্রশাসনিক সংস্কারের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে এই পদের ভূমিকা অতি গুরুত্বপূর্ণ। চাকরি জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও অতীতেও বিএনপি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজের সুযোগ পেয়েছেন ড.নাসিমুল গনি। বর্তমান প্রশাসন ক্যাডারেও একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ, সৎ, পেশাদার ও যোগ্য কর্মকর্তা হিসেবে সরকারের পছন্দের তালিকার অগ্রভাগে ছিলেন তিনি। প্র্রশাসনের সর্বোচ্চ এই কর্মকর্তা সরকারের প্রথম ৬ মাসে ক্যাবিনেট সেক্রেটারি পদের মর্যাদা ও ওজনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কর্মদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। গতিশীল ও কার্যকর প্রশাসন গড়তে তাঁর পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট হয়েই পুনরায় ১৯৮২ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের এই কর্মকর্তার ওপরেই আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

  • ১৮০ দিনে কর্মদক্ষতার পরিচয় দেওয়া নাসিমুল গনিকেই এক বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ
  • দক্ষ, অভিজ্ঞ, সৎ, পেশাদার ও যোগ্য কর্মকর্তা হিসেবে সরকারের পছন্দের তালিকার অগ্রভাগে ছিলেন
  • অতীতেও বিএনপি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজের সুযোগ পেয়েছেন

একজন নাসিমুল গনির শিক্ষা ও চাকরি জীবন বেশ বর্ণাঢ্য। ছিলেন মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি ছাত্র। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯১ ও ২০০১ সালের সরকারের মেয়াদে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে ছিলেন ভূমি মন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব। ১৯৯৫ সালে তাঁকে বাংলাদেশ দূতাবাস, বাগদাদ, ইরাকে প্রথম সচিব (শ্রম) পদে নিয়োগ করা হয়। এক বছর পর তাঁকে বাগদাদ থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। দেশে ফেরার পর তাঁকে ভোলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে নিয়োগ করা হয় এবং পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে বদলী করা হয়। ১৯৯৯ সালে তাঁকে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক পদে নিয়োগ করা হয়। ২০০০ সালে তিনি উপসচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন। জামালপুরের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে তাকে জাতীয় সংসদের স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের একান্ত সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০০৪ সালে তিনি যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে যুগ্মসচিব হিসেবে কাজ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক ও পরবর্তীতে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সালে তিনি অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন এবং তাঁকে রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব পদে নিয়োগ করা হয়। ২০০৭ সালে তাঁকে নিপোর্টের মহাপরিচালক পদে পদায়ন করা হয়।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। ওই সময় প্রথমে তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। চার বছর ওএসডি থাকার পর ২০১৩ সালে তাঁকে চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হয়। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অন্তবর্তীকালীন সরকার নাসিমুল গনিকে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় জন বিভাগ, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করেন। তিনি ওই বছরের ১৮ আগস্ট সিনিয়র সচিব হিসেবে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে যোগদান করেন।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের পর এক বছর এক মাস ২৩ দিন তিনি দক্ষতার সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের দায়িত্ব পালনকালীন সময়েই একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের আমলা হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখেন তিনি। চলতি বছরের মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নব-নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। এর ঠিক আগেরদিন দুপুর সোয়া ১টায় নতুন পদে যোগ দিতে এসে সচিবালয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নাসিমুল গনি তাঁর গুরুদায়িত্ব প্রাপ্তির উচ্চারণে সুস্পষ্ট করেন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া আমানত ও দায়িত্ব হিসেবে দেখার মানসিকতাকে। তিনি বলেছিলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, দেশের একটা যুগসন্ধিক্ষণে আমার দুর্বল স্কন্ধে (কাঁধে) বিশাল দায়িত্ব পড়েছে। আমি সেটার ভার বহনের চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ, আমার সাধ্যমতো। অতীতে যেভাবে কাজ করেছি, সেভাবেই কাজ করবো।’

নাসিমুল গনি সেদিন যখন এই পদে দায়িত্ব নিয়েছিলেন তখন কেবলই এটি একটি পদ নয় বরং সময়ের কারণে এর দায়িত্বও স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ছিল অনেক বেশি। তিনি তাঁর সেই বক্তব্যের মাধ্যমে দায়িত্বের বিশালত্বের সঙ্গে নিজের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেন গভীর বিনয়ের সঙ্গেই। নতুন সরকারের প্রথম ৬ মাস প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা হিসেবে শক্ত হাতে প্রশাসন সামলেছেন। ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভেঙে পড়া প্রশাসনকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু করেন। তাঁর প্রশাসনিক সক্ষমতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের যোগ্যতা এবং মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়গুলোও মূল্যায়ন করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে তাকে আরও এক বছর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ এই নিয়োগ সরকারপ্রধানের দূরদর্শী সিদ্ধান্তের প্রতিফলন হিসেবেই দেখছেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকরা।

কালের আলো/এমএএমএমকে

মেয়ের জন্মদিনে লুইপার বিশেষ উপহার ‘প্রজাপতি’

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
মেয়ের জন্মদিনে লুইপার বিশেষ উপহার ‘প্রজাপতি’

গীতিকার রবিউল ইসলাম জীবনের লেখা বেশ কিছু গানে কণ্ঠ দিয়েছেন সংগীতশিল্পী লুইপা। তাঁদের সৃষ্টিশীল জুটিও শ্রোতাদের কাছে পেয়েছে প্রশংসা। এবার সেই ধারাবাহিকতায় নতুন গান নিয়ে হাজির হয়েছেন দুজন। গানটির নাম ‘প্রজাপতি’।

রবিউল ইসলাম জীবনের কথায় গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন লুইপা। এর সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন সাম্যব্রত দৃপ্ত। গানটির ভিডিও নির্মাণ করেছেন চন্দন রায় চৌধুরী। বিশেষ এই গানটি লুইপা উৎসর্গ করেছেন তাঁর মেয়ে পায়রার জন্মদিনে।

চার বছর আগে ‘পরাণ’ সিনেমার ‘ধীরে ধীরে’ গানে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন লুইপা ও রবিউল ইসলাম জীবন। গানটির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছিলেন জীবন। এরপর তাঁদের একাধিক গান শ্রোতাদের সামনে এসেছে।

‘প্রজাপতি’ গানটির পেছনে রয়েছে বাবা-মেয়ের মিষ্টি এক গল্প। ঘটনাটি এবারের রোজার ঈদের সময়ের। স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন জীবন। এক বিকেলে মেয়েকে নিয়ে হাঁটতে বের হন তিনি। রাস্তার পাশে ছোট ছোট গাছ ও গুল্মে তখন উড়ে বেড়াচ্ছিল অসংখ্য প্রজাপতি।

ছোট্ট মাইজাহর চোখে তখন বিস্ময়। প্রজাপতি ছুঁতে তাদের পেছনে ছুটছিল সে। মেয়ের সেই মুগ্ধতার মুহূর্ত মুঠোফোনে ধারণ করে রেখেছিলেন জীবন।

পরে ঢাকায় ফিরে সেই ভিডিও দেখতে গিয়ে তাঁর মাথায় আসে গানের ভাবনা। সেখান থেকেই লেখা হয় ‘প্রজাপতি’।

জীবন বলেন, ঢাকায় ফিরে মেয়ের সেই ভিডিও দেখতে গিয়ে হঠাৎই গানের ভাবনা মাথায় আসে। সন্তানকে ঘিরে ভাবনাটি তৈরি হলেও গানটি এমনভাবে লেখা হয়েছে, যাতে শ্রোতারা নিজেদের বন্ধু, প্রিয় মানুষ কিংবা যেকোনো সুখের অনুভূতির সঙ্গে এর গল্প মিলিয়ে নিতে পারেন।

গানটির প্রাথমিক সুর ও সংগীতায়োজনের পর লুইপাকে শোনানো হয় ‘প্রজাপতি’। প্রথমবার শুনেই গানটি পছন্দ করেন তিনি। গানটির পাশাপাশি এর পেছনের গল্পও তাঁকে আবেগাপ্লুত করে।

তখনই সিদ্ধান্ত নেন, গানটি হবে তাঁর মেয়ে পায়রার জন্মদিনের বিশেষ উপহার। গত ৫ সেপ্টেম্বর পায়রার জন্মদিন উপলক্ষে গানটি প্রকাশ করেন লুইপা।

গানটির ভিডিওতেও রয়েছে মা-মেয়ের উপস্থিতি। চন্দন রায় চৌধুরীর নির্মাণে ভিডিওটিতে নিজের মেয়ে পায়রাকে নিয়ে অভিনয় করেছেন লুইপা।

‘প্রজাপতি’ নিয়ে লুইপা বলেন, তাঁর মৌলিক গানগুলোর মধ্যে এটি বিশেষ হয়ে থাকবে। তাঁর বিশ্বাস, গানটি শোনার সময় শ্রোতাদের চোখের সামনে নিজেদের প্রিয় ‘প্রজাপতি’র ছবিও ভেসে উঠবে।

একই গান যেন দুই পরিবারের দুই ‘প্রজাপতি’র গল্পকে এক সুতোয় বেঁধেছে। বাবা-মেয়ের মুগ্ধতা থেকে জন্ম নেওয়া সেই গল্প এবার শব্দ, সুর ও কণ্ঠের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে শ্রোতাদের মনেও।

কালের আলো/এসএ

মায়ামি বিমানবন্দরে অ্যামাজনের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩১ অপরাহ্ণ
মায়ামি বিমানবন্দরে অ্যামাজনের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫

যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের একটি কার্গো উড়োজাহাজ রানওয়ে থেকে ছিটকে গিয়ে কয়েকটি যানবাহনে আঘাত করেছে। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত ও আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা সংকটজনক।

স্থানীয় সময় রোববার দুপুর ২টার কিছু আগে প্রাইম এয়ারের ফ্লাইট ৭৫৯৮ বিমানবন্দরের একটি রানওয়ে থেকে বেরিয়ে পাশের সড়কে চলে যায়। এরপর এটি কয়েকটি যানবাহনে আঘাত করে এবং আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার সময় বিমানটির পাইলট ও কো-পাইলট ককপিটে আটকা পড়েছিলেন। কয়েকটি গাড়ির আরোহীকেও উদ্ধার করতে হয়েছে।

মায়ামি-ডেড ফায়ার রেসকিউয়ের প্রধান রে জাদাল্লাহ জানান, দুর্ঘটনার পর ৬০টির বেশি উদ্ধারকারী ইউনিট এবং প্রায় ২০০ জন কর্মী ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করেন। উড়োজাহাজটি থেকে জ্বালানি চুইয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজের পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও কাজ করতে হয় জরুরি বিভাগের কর্মীদের।

দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। উড়োজাহাজে থাকা পাইলট ও কো-পাইলটের অবস্থা সম্পর্কেও প্রাথমিক পর্যায়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

দুর্ঘটনাকবলিত উড়োজাহাজটি ছিল ৩২ বছর পুরোনো বোয়িং ৭৬৭-৩০০ ফ্রেইটার। এটি পুয়ের্তো রিকোর সান জুয়ান থেকে মায়ামিতে যাচ্ছিল। ১৯৯৪ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত উড়োজাহাজটি বিভিন্ন এয়ারলাইনসে যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পরে এটিকে কার্গো বিমানে রূপান্তর করা হয়।

অ্যামাজনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কার্গো এয়ারলাইন ২১ এয়ার উড়োজাহাজটি অ্যামাজনের হয়ে পরিচালনা করছিল। ২১ এয়ার দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে এবং তদন্তে সহযোগিতার কথা বলেছে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান ফ্লাইটরেডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, রানওয়ে ছাড়ার সময় বিমানটির গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১২৯ মাইল বা ১১২ নট। দুর্ঘটনার পর পাওয়া ছবিতে উড়োজাহাজটির সামনের অংশ মাটিতে পড়ে থাকতে এবং পেছনের অংশ উঁচু হয়ে থাকতে দেখা যায়। বিমানটির ডান পাশে পোড়া দাগও দেখা গেছে।

দুর্ঘটনার পর মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে চারটি রানওয়ের মধ্যে দুটি আবার চালু করা হয়। দুর্ঘটনার প্রভাবে ১৬০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল এবং প্রায় ৩২৫টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয় বলে এপি জানিয়েছে।

দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে উড়োজাহাজটির অবতরণের ধরন, আবহাওয়া, রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। দুর্ঘটনার সময় এলাকায় বজ্রঝড় ও ঘণ্টায় প্রায় ৩০ মাইল পর্যন্ত দমকা বাতাস ছিল বলেও এপি জানিয়েছে।

এটি অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের হয়ে পরিচালিত উড়োজাহাজের প্রথম প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা নয়। ২০১৯ সালে অ্যামাজনের হয়ে পরিচালিত অ্যাটলাস এয়ারের একটি বোয়িং ৭৬৭ টেক্সাসে বিধ্বস্ত হলে উড়োজাহাজটিতে থাকা তিনজনই নিহত হয়েছিলেন।

সূত্রঃ রয়টার্স

কালের আলো/এসএ

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ণ
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু

অনিয়ম ও জালিয়াতির কারণে সংকটে পড়া পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তি আমানতকারীদের জমা টাকার মূল অংশ ফেরত দেওয়া শুরু হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে সংশ্লিষ্ট শাখা ও উপশাখার মাধ্যমে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে।

আমানতের অর্থ ফেরত দিতে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রাহকদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হয়। ছয় দিনে মোট ৭৫ হাজার গ্রাহক টাকা ফেরতের জন্য আবেদন করেছেন। এসব আবেদনের বিপরীতে গ্রাহকদের চাহিদার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করেছে। আবেদন যাচাই ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শাখায় অর্থ পাঠানো হচ্ছে। এরপর গ্রাহকরা নিজ নিজ শাখা বা উপশাখা থেকে টাকা তুলতে পারবেন।

তবে আপাতত ব্যক্তি আমানতকারীদের শুধু জমার মূল টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। আমানতের ওপর অর্জিত মুনাফা পরবর্তী সময়ে পরিশোধ করা হবে। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের ঘোষিত স্কিমের বাইরে এখনই অর্থ উত্তোলনের সুযোগ থাকছে না।

সংকটাপন্ন পাঁচটি ব্যাংক—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক—একীভূত করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়।

ব্যাংকগুলোর প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর মোট জমার পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের সঞ্চয়ী হিসাবে রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে ব্যাংকগুলোর মোট প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা ঋণের প্রায় ৮৬ শতাংশই খেলাপি হয়ে পড়েছে।

নবগঠিত ব্যাংকটির ৩০ হাজার কোটি টাকার মূলধনের মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমানতের অর্থ ফেরত না পাওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, টাকা ফেরত দেওয়ার এই উদ্যোগে তা কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি