খুঁজুন
                               
, ,
           

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির পারফরম্যান্সে ‌‘সন্তুষ্ট’ প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির পারফরম্যান্সে ‌‘সন্তুষ্ট’ প্রধানমন্ত্রী

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনিকে আরও এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠনের মাত্র একদিন আগে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ২৬তম মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে তাকে নিয়োগ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। বিএনপি সরকারের প্রথম ৬ মাস এই পদে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে শেষ হয় তাঁর দুই বছরের চুক্তির মেয়াদ। তবে আগে থেকেই গুঞ্জন ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন কাউকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে বেছে নিচ্ছেন না। নতুন সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে সফলভাবে দেশ চালানোর ক্ষেত্রে ১৮০ দিনে কর্মদক্ষতার পরিচয় দেওয়া নাসিমুল গনিকেই তিনি চুক্তিতে রাখছেন।

সোমবার (১৭ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন তাঁর বিষয়ে সরকারপ্রধানের মূল্যায়ন পরিস্কার। যা নাসিমুল গনির ওপর প্রধানমন্ত্রীর গভীর আস্থাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে-সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী ড. নাসিমুল গনি (পরিচিতি নম্বর-৩১০৭)-কে অন্য যেকোনো পেশা এবং সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এক বছর মেয়াদে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে পূর্বের চুক্তির ধারাবাহিকতায় পুন:চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়, মাঠ প্রশাসনের তদারকি এবং প্রশাসনিক সংস্কারের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে এই পদের ভূমিকা অতি গুরুত্বপূর্ণ। চাকরি জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও অতীতেও বিএনপি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজের সুযোগ পেয়েছেন ড.নাসিমুল গনি। বর্তমান প্রশাসন ক্যাডারেও একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ, সৎ, পেশাদার ও যোগ্য কর্মকর্তা হিসেবে সরকারের পছন্দের তালিকার অগ্রভাগে ছিলেন তিনি। প্র্রশাসনের সর্বোচ্চ এই কর্মকর্তা সরকারের প্রথম ৬ মাসে ক্যাবিনেট সেক্রেটারি পদের মর্যাদা ও ওজনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কর্মদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। গতিশীল ও কার্যকর প্রশাসন গড়তে তাঁর পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট হয়েই পুনরায় ১৯৮২ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের এই কর্মকর্তার ওপরেই আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

  • ১৮০ দিনে কর্মদক্ষতার পরিচয় দেওয়া নাসিমুল গনিকেই এক বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ
  • দক্ষ, অভিজ্ঞ, সৎ, পেশাদার ও যোগ্য কর্মকর্তা হিসেবে সরকারের পছন্দের তালিকার অগ্রভাগে ছিলেন
  • অতীতেও বিএনপি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজের সুযোগ পেয়েছেন

একজন নাসিমুল গনির শিক্ষা ও চাকরি জীবন বেশ বর্ণাঢ্য। ছিলেন মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি ছাত্র। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯১ ও ২০০১ সালের সরকারের মেয়াদে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে ছিলেন ভূমি মন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব। ১৯৯৫ সালে তাঁকে বাংলাদেশ দূতাবাস, বাগদাদ, ইরাকে প্রথম সচিব (শ্রম) পদে নিয়োগ করা হয়। এক বছর পর তাঁকে বাগদাদ থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। দেশে ফেরার পর তাঁকে ভোলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে নিয়োগ করা হয় এবং পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে বদলী করা হয়। ১৯৯৯ সালে তাঁকে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক পদে নিয়োগ করা হয়। ২০০০ সালে তিনি উপসচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন। জামালপুরের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে তাকে জাতীয় সংসদের স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের একান্ত সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০০৪ সালে তিনি যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে যুগ্মসচিব হিসেবে কাজ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক ও পরবর্তীতে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সালে তিনি অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন এবং তাঁকে রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব পদে নিয়োগ করা হয়। ২০০৭ সালে তাঁকে নিপোর্টের মহাপরিচালক পদে পদায়ন করা হয়।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। ওই সময় প্রথমে তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। চার বছর ওএসডি থাকার পর ২০১৩ সালে তাঁকে চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হয়। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অন্তবর্তীকালীন সরকার নাসিমুল গনিকে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় জন বিভাগ, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করেন। তিনি ওই বছরের ১৮ আগস্ট সিনিয়র সচিব হিসেবে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে যোগদান করেন।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের পর এক বছর এক মাস ২৩ দিন তিনি দক্ষতার সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের দায়িত্ব পালনকালীন সময়েই একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের আমলা হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখেন তিনি। চলতি বছরের মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নব-নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। এর ঠিক আগেরদিন দুপুর সোয়া ১টায় নতুন পদে যোগ দিতে এসে সচিবালয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নাসিমুল গনি তাঁর গুরুদায়িত্ব প্রাপ্তির উচ্চারণে সুস্পষ্ট করেন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া আমানত ও দায়িত্ব হিসেবে দেখার মানসিকতাকে। তিনি বলেছিলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, দেশের একটা যুগসন্ধিক্ষণে আমার দুর্বল স্কন্ধে (কাঁধে) বিশাল দায়িত্ব পড়েছে। আমি সেটার ভার বহনের চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ, আমার সাধ্যমতো। অতীতে যেভাবে কাজ করেছি, সেভাবেই কাজ করবো।’

নাসিমুল গনি সেদিন যখন এই পদে দায়িত্ব নিয়েছিলেন তখন কেবলই এটি একটি পদ নয় বরং সময়ের কারণে এর দায়িত্বও স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ছিল অনেক বেশি। তিনি তাঁর সেই বক্তব্যের মাধ্যমে দায়িত্বের বিশালত্বের সঙ্গে নিজের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেন গভীর বিনয়ের সঙ্গেই। নতুন সরকারের প্রথম ৬ মাস প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা হিসেবে শক্ত হাতে প্রশাসন সামলেছেন। ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভেঙে পড়া প্রশাসনকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু করেন। তাঁর প্রশাসনিক সক্ষমতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের যোগ্যতা এবং মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়গুলোও মূল্যায়ন করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে তাকে আরও এক বছর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ এই নিয়োগ সরকারপ্রধানের দূরদর্শী সিদ্ধান্তের প্রতিফলন হিসেবেই দেখছেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকরা।

কালের আলো/এমএএমএমকে

মাদকসেবীর সংখ্যা শূন্যে নামাতে হবে: মীর হেলাল

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
মাদকসেবীর সংখ্যা শূন্যে নামাতে হবে: মীর হেলাল

চট্টগ্রাম: মাদক সামাজিক অপরাধ ও পারিবারিক সহিংসতার অন্যতম উৎস উল্লেখ করে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল বলেছেন, মাদকসেবীর সংখ্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে হবে।মাদক চোরাচালান ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) হাটহাজারী সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান-২০২৬ এবং উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মীর হেলাল বলেন, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও অসৎ সঙ্গ তরুণদের অন্ধকার জগতে ঠেলে দিতে পারে। তাই ভবিষ্যৎ গড়ার সময়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকতে হবে। তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু প্রচলিত একাডেমিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। বৈশ্বিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের বাস্তবমুখী, কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ করে তুলতে হবে। পাশাপাশি ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞানের প্রতি তরুণদের আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার প্রসারে সরকার লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ নিয়েছে। আধুনিক, টেকসই ও গুণগত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ চলছে।

পরে হাটহাজারী উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় মাদক ও সন্ত্রাস দমনে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেন মীর হেলাল। একই সঙ্গে শহরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা সুসংহত রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের পক্ষ থেকে হাটহাজারী এলাকার নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ করেন তিনি। মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে পোনামাছও অবমুক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।

এলজিইডির অধীনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের গ্রামীণ সড়ক সৌন্দর্যবর্ধন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের অংশ হিসেবে ৩৫ জন কর্মীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন তিনি। নজরুলবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যেও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

এদিন উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার ওষুধ ছিটানোর ফগার মেশিন বিতরণ করা হয়। জনগণের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে ‘হাটহাজারী হাসপাতাল সড়ক পুনর্বাসন’ কাজের ফলক উন্মোচন ও উদ্বোধনও করেন মীর হেলাল।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

প্রবীণদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০২ অপরাহ্ণ
প্রবীণদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রবীণ নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আগামীকাল ১ অক্টোবর ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য—‘দীর্ঘায়ুর যুগ: দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাপনায় নতুন ভাবনা’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি, চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। দীর্ঘায়ু মানুষের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও দীর্ঘ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও পারিবারিক সহায়তার ব্যবস্থাগুলো সময়োপযোগী করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, প্রবীণদের স্বার্থরক্ষায় সরকার সচেতন ও সতর্ক। একটি কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রবীণদের সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বয়স্ক ভাতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি এর পরিমাণ বৃদ্ধি ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্তিশালী করার কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

তিনি আরও বলেন, প্রবীণদের অবহেলা না করে তাঁদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রাখা এবং সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

প্রবীণ ব্যক্তিদের পরিবার ও সমাজের ভিত্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার ওপর দাঁড়িয়েই আজকের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। তাই পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—তিন স্তরেই প্রবীণদের প্রতি সম্মান, সহানুভূতি ও দায়িত্বশীলতার চর্চা অব্যাহত রাখা জরুরি।

তিনি বলেন, প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং সমাজে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও সুসংহত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে দেশের সব প্রবীণ নাগরিকের প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণ কিংবা প্রবীণ—প্রতিটি মানুষ যেন নিজের সর্বোচ্চ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও পরিপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারে, এমন একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের লক্ষ্য।

তিনি ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস-২০২৬-এর সার্বিক সফলতা কামনা করেন।

সূত্র: বাসস

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ঢাবির ৮০ শিক্ষার্থী পেল আইএফআইসি ব্যাংকের গবেষণা অনুদান ও বৃত্তি

ক্যাম্পাস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ
ঢাবির ৮০ শিক্ষার্থী পেল আইএফআইসি ব্যাংকের গবেষণা অনুদান ও বৃত্তি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহিত করা এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে নিতে বিশেষ আর্থিক অনুদান ও শিক্ষাবৃত্তি দিয়েছে আইএফআইসি ব্যাংক। এর আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০ শিক্ষার্থীকে গবেষণা অনুদান ও শিক্ষাবৃত্তির চেক দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের কনফারেন্স হলে ‘আইএফআইসি ব্যাংক ট্রাস্ট ফান্ড গবেষণা অনুদান ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান-২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব অনুদান ও বৃত্তি হস্তান্তর করা হয়।

গবেষণায় ৫০, বৃত্তি পেলেন ৩০ শিক্ষার্থী

অনুষ্ঠানে ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ৫০ জন শিক্ষার্থীকে গবেষণা অনুদান এবং ৩০ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তির চেক দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গবেষণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের সহায়তা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্যাংকের কর্মকর্তারা

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ও আইএফআইসি ব্যাংক ট্রাস্ট ফান্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইএফআইসি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ ইনফরমেশন অফিসার মো. মনিতুর রহমান, চিফ অব ব্রাঞ্চ বিজনেস হেলাল আহমেদ এবং হেড অব ট্রেজারি মোহাম্মদ শাহীন উদ্দিন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাইফুদ্দিন মো. তারিক, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক আল আমিনসহ বিশ্ববিদ্যালয় ও আইএফআইসি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরাও অংশ নেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ।

২০১২ সালে গঠিত ট্রাস্ট ফান্ড

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণা কার্যক্রমে সহায়তা এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ২০১২ সালে আইএফআইসি ব্যাংক ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা হয়।

ফান্ডটি চালুর পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের সাড়ে চার শতাধিক শিক্ষার্থী গবেষণা অনুদান ও শিক্ষাবৃত্তি পেয়েছেন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গবেষণা পরিচালনা ও উচ্চশিক্ষা অব্যাহত রাখতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী করা এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ যেন বাধাগ্রস্ত না হয়—এ লক্ষ্যেই ট্রাস্ট ফান্ডের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

কালের আলো/এসএ