খুঁজুন
                               
, ,
           

সরকারকে সহযোগিতা করুন, আহ্বান অতিরিক্ত প্রেস সচিবের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
সরকারকে সহযোগিতা করুন, আহ্বান অতিরিক্ত প্রেস সচিবের

সরকারকে সহযোগিতা না করে বিভিন্নভাবে ‘হাত-পা বেঁধে’ দেওয়া হলে কোনো সরকারের পক্ষেই প্রত্যাশিত সফলতা অর্জন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি সুন্দর ও সফল বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছেন। এ কাজে গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী হলে’ প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর শেষে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রুমন বলেন, সফরের আগে ও পরে বাংলাদেশে কয়েকটি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা’ ঘটে। এসব ঘটনা নিয়ে প্রথমে অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত কিছু অনলাইন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। পরে অন্যান্য অনলাইন সংবাদমাধ্যম, সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমে সেসব খবর গুরুত্ব পায় বলে তিনি দাবি করেন।

রুমন বলেন, নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের কর্মসূচি ছিল অত্যন্ত ব্যস্ত। কোনো কোনো দিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে রাত ১১টা বা ১২টা পর্যন্ত কর্মসূচি চলেছে। কাজের ব্যস্ততার কারণে সফরসঙ্গীদের ঘোরাফেরারও সুযোগ হয়নি বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে দেশে ফেরার পর সফরের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা উল্লেখ করে রুমন বলেন, তখনও আরেকটি ঘটনা সামনে আসে। তাঁর দাবি, এর ফলে প্রধানমন্ত্রীর সফরের কর্মসূচি ও সাফল্যের পরিবর্তে গণমাধ্যমের আলোচনার বড় অংশ অন্য একটি বিষয়কে ঘিরে চলে যায়।

সরকারবিরোধীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে যে সূত্রে সরকার পরিচালিত হয়েছে, বিরোধিতাকারীরাও যেন এখন একই সূত্র অনুসরণ করছে—এমনটা তাঁর মনে হচ্ছে।

সরকারের কাজে প্রতিবন্ধকতা তৈরির প্রসঙ্গ টেনে রুমন উদাহরণ দিয়ে বলেন, একজন মানুষকে যদি সাঁতার কেটে নদী পার হতে বলা হয়, আবার তাঁর হাত-পা বেঁধে দেওয়া হয়, তাহলে তাঁর পক্ষে নদী পার হওয়া সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ‘যদি একটা সরকার এসেই আপনারা হাত-পা বেঁধে দিয়ে বলেন, সাঁতার কেটেই এই নদীটা পার হতে হবে—এসব পরীক্ষায় কিন্তু কেউ পাস করতে পারবে না।’

রুমন বলেন, সরকার গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি সুন্দর ও সফল বাংলাদেশ গড়তে চান উল্লেখ করে তিনি সবাইকে সরকারের কাজে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

গবেষণা-উদ্ভাবনে বুটেক্সে জাতীয় প্রতিযোগিতা

কাম্পাস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
গবেষণা-উদ্ভাবনে বুটেক্সে জাতীয় প্রতিযোগিতা

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা ‘টেক্সভার্স ২.০’। বুটেক্স সায়েন্স ক্লাবের আয়োজনে দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

৩০ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্ব। বুটেক্সের অডিটোরিয়াম, সেমিনার কক্ষ, একাডেমিক ভবন ও কেন্দ্রীয় মাঠে আলাদাভাবে আয়োজন করা হবে বিভিন্ন ইভেন্ট।

গবেষণা ও উদ্ভাবনে তরুণদের আগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্য

আয়োজকদের মতে, শিক্ষার্থীদের গবেষণা, উদ্ভাবন, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশের পাশাপাশি তাদের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চা ও গবেষণার সংস্কৃতি গড়ে তোলাই ‘টেক্সভার্স ২.০’-এর অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে টেক্সটাইল খাতের বাস্তব সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে তরুণদের উৎসাহিত করাও এ আয়োজনের উদ্দেশ্য।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় থাকবে প্রজেক্ট প্রদর্শনী, গবেষণাভিত্তিক পোস্টার উপস্থাপনা, কুইজ, টেক্সটাইল কেস প্রতিযোগিতা, ট্রেজার হান্ট, প্রবন্ধ লেখা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ভিডিও নির্মাণ প্রতিযোগিতা।

অন্যদিকে, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন করা হবে বিজ্ঞান কল্পকাহিনি লেখা, গণিত অলিম্পিয়াড, পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ও রসায়ন অলিম্পিয়াড।

এক ক্যাম্পাসে নানা আয়োজন

আয়োজকেরা জানান, প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্ব বুটেক্স ক্যাম্পাসের পৃথক ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে প্রজেক্ট প্রদর্শনী, পোস্টার উপস্থাপনা ও টেক্সটাইল কেস প্রতিযোগিতা। সেমিনার কক্ষে হবে কুইজের মঞ্চ পর্ব।

একাডেমিক ভবনে অনুষ্ঠিত হবে কুইজের লিখিত পর্ব, বিভিন্ন অলিম্পিয়াড ও বিজ্ঞান কল্পকাহিনি লেখা প্রতিযোগিতা। কেন্দ্রীয় মাঠে আয়োজন করা হবে ট্রেজার হান্ট। এ ছাড়া প্রবন্ধ লেখা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ভিডিও নির্মাণ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে অনলাইনে।

প্রতিযোগিতার প্রতিটি ইভেন্টে অংশগ্রহণকারীদের জন্য থাকবে অংশগ্রহণ সনদ। পাশাপাশি প্রতিটি বিভাগের চ্যাম্পিয়ন, প্রথম রানারআপ ও দ্বিতীয় রানারআপকে সনদ, ক্রেস্ট ও প্রাইজমানি দেওয়া হবে।

‘শুধু প্রতিযোগিতা নয়, গবেষণার সংস্কৃতি গড়াই লক্ষ্য’

বুটেক্স সায়েন্স ক্লাবের সভাপতি ও ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রুবায়েত রশীদ রনি বলেন, ‘টেক্সভার্স ২.০-এর মাধ্যমে আমরা তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, গবেষণা, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা সবার সামনে তুলে ধরতে চাই।’

তিনি বলেন, আয়োজনটির লক্ষ্য শুধু একটি প্রতিযোগিতা আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণা ও উদ্ভাবনের সংস্কৃতি গড়ে তোলার পাশাপাশি টেক্সটাইল শিল্পের বাস্তব সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে তাদের অনুপ্রাণিত করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী কে এম শফিক রাইয়্যান বলেন, ‘টেক্সভার্স ২.০-এর মূল উদ্দেশ্য দেশের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চা ও গবেষণার আগ্রহ সৃষ্টি করা।’

তার ভাষ্য, এ আয়োজনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা দেশের টেক্সটাইল খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সামনে উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন, যা ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারে তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

১৩ অক্টোবর পর্যন্ত নিবন্ধন

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘টেক্সভার্স ২.০’-এ অংশগ্রহণের জন্য আগামী ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত নিবন্ধন করা যাবে। আগ্রহী শিক্ষার্থীরা অনলাইনের পাশাপাশি বুটেক্স ক্যাম্পাসে স্পট নিবন্ধনের মাধ্যমেও অংশ নিতে পারবেন।

প্রতিযোগিতার বিভিন্ন বিভাগ, নিবন্ধন প্রক্রিয়া ও বিস্তারিত নির্দেশনা বুটেক্স সায়েন্স ক্লাবের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে পাওয়া যাবে।

কালের আলো/এসএ

সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমারের সম্পদের হিসাব চায় দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমারের সম্পদের হিসাব চায় দুদক

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদারের সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুদকের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

দুদক জানিয়েছে, প্রলয় কুমার জোয়ারদারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও চোরাচালানে জড়িত থাকা এবং অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে আবাসিক সম্পদ গড়ে তুলে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রলয় কুমারের নামে ৯২ লাখ ১৪ হাজার ৮৭২ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসবহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে দুদক। একই অনুসন্ধানে তার প্রয়াত স্ত্রী বিপ্লবী রানীর নামে ৩৫ লাখ ৫৬ হাজার ৭৩৪ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসবহির্ভূত সম্পদের প্রাথমিক সত্যতাও পেয়েছে সংস্থাটি।

দুদক জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের তথ্য-প্রমাণ পাওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারা অনুযায়ী প্রলয় কুমারের সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর প্রলয় কুমার জোয়ারদারের চার দেশে ছয়টি বাড়ি থাকার অভিযোগের অনুসন্ধান চেয়ে দুদকে আবেদন করেছিলেন এক আইনজীবী।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লটারিতে ভর্তির পরিকল্পনা

শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লটারিতে ভর্তির পরিকল্পনা

প্রথম শ্রেণির পর এবার প্রাথমিকের দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতেও লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির পরিকল্পনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক স্তরের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো ভর্তি পরীক্ষা থাকবে না। লটারির মাধ্যমেই এসব শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতে পারে।

তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি পর্যালোচনা করছে এবং শিক্ষাসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রাথমিকের ভর্তি পদ্ধতিতে আবার পরিবর্তনের ভাবনা

চলতি বছর মার্চ,২০২৬ সরকার ঘোষণা দিয়েছিল, দীর্ঘদিনের লটারি পদ্ধতি বাদ দিয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা চালু করা হবে। এ সিদ্ধান্তের পর শিক্ষাবিদ ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে আপত্তি দেখা দেয়। বিশেষ করে প্রাথমিকের ছোট শিশুদের ভর্তি পরীক্ষার আওতায় আনা হলে তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

পরে ৬ আগস্ট,২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে জানায়, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণিতে কোনো ভর্তি পরীক্ষা হবে না; লটারির মাধ্যমেই ভর্তি নেওয়া হবে। তবে তখন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অন্যান্য শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছিল।

এখন সেই সিদ্ধান্তেও আবার পরিবর্তনের চিন্তা করা হচ্ছে। শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পুরো প্রাথমিক স্তরেই লটারির মাধ্যমে ভর্তি নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

শিশুদের ওপর চাপ নিয়ে উদ্বেগ

শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনেকে মনে করেন, প্রাথমিকের দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিশুদেরও ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির মধ্যে নিয়ে এলে তাদের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি হতে পারে। ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কোচিং ও প্রাইভেটনির্ভরতা বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

এ ছাড়া দেশের বিপুলসংখ্যক শিশুকে নিয়ে প্রাথমিক স্তরের বিভিন্ন শ্রেণিতে নতুন করে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করাও শিক্ষা বিভাগের জন্য বড় ধরনের প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে নীতিনির্ধারকেরা আগের লটারি পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। পরিকল্পনাটি কার্যকর হলে ২০২৭ সালে প্রাথমিকের কোনো শ্রেণিতেই ভর্তি পরীক্ষা থাকবে না।

মাধ্যমিকে ভর্তি পরীক্ষা বহাল

প্রাথমিক স্তরে লটারি চালুর পরিকল্পনা করা হলেও মাধ্যমিক স্তরের অন্যান্য শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কথা এখনো বলা হয়নি। অর্থাৎ প্রাথমিকের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে লটারি এবং মাধ্যমিক স্তরের অন্যান্য শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা—এমন পৃথক ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে।

সরকারের ৬ আগস্টের ঘোষণাতেও প্রথম শ্রেণিতে লটারি এবং অন্যান্য শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার কথা বলা হয়েছিল।

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য

বিষয়টি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, তাঁরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন। শিক্ষাসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অর্থাৎ প্রাথমিকের দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে লটারি ফিরছে—এমন সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয়। তবে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম সামনে রেখে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

লটারির স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন

ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারি পদ্ধতিকে শিশুদের জন্য তুলনামূলক চাপমুক্ত ব্যবস্থা হিসেবে দেখছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্ট অনেকে। তবে লটারির স্বচ্ছতা নিয়েও অভিভাবকদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তারিক মনজুর মনে করেন, প্রাথমিক স্তরে ভর্তি পরীক্ষা হলে অল্প বয়সেই শিশুদের মধ্যে ব্যর্থতার নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হতে পারে। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় লটারিকে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে, তবে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

আগেও ছিল লটারি পদ্ধতি

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তি পদ্ধতি নিয়ে এর আগেও একাধিকবার পরিবর্তন এসেছে। ২০১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হয়। পরের বছর বেসরকারি বিদ্যালয়েও একই পদ্ধতি চালু করা হয়।

তবে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত তখন ভর্তি পরীক্ষা চলত। পরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় ২০২১ শিক্ষাবর্ষে সব শ্রেণিতেই লটারির মাধ্যমে ভর্তি নেওয়া হয়। এরপর কয়েক বছর এই পদ্ধতি অব্যাহত থাকে।

চলতি বছর আবার লটারি বাতিল করে ভর্তি পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রথম শ্রেণির ক্ষেত্রে তা পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিকেও লটারির আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ফলে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রাথমিকের ভর্তি পদ্ধতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকছে।

কালের আলো/এসএ