খুঁজুন
                               
, ,
           

জবিতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে রিকশাচালক আটক

ক্যাম্পাস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ
জবিতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে রিকশাচালক আটক

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে এক রিকশাচালককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, রিকশাচালকটি ফটকের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় স্লোগান দিলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে তাকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আটক ব্যক্তি নিজের নাম মনির বলে জানিয়েছেন। তিনি বরগুনার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তবে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কোতোয়ালি থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একজনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন। আটকের পর তাকে মারধর করা হয়ে থাকতে পারে। বর্তমানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সুস্থ হওয়ার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

পুলিশ বা অন্য কোনো সূত্র থেকে ওই রিকশাচালকের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

কালের আলো/এসএ

মেট্রোরেলে উল্টো যাত্রার চেষ্টায় আট যাত্রীর জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৩ অপরাহ্ণ
মেট্রোরেলে উল্টো যাত্রার চেষ্টায় আট যাত্রীর জরিমানা

মেট্রোরেলের শেষ স্টেশন মতিঝিলে পৌঁছানোর পরও ট্রেন থেকে না নেমে একই ট্রেনে উত্তরা উত্তরমুখী হয়ে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে অবস্থান করায় যাত্রীদের বিরুদ্ধে আটটি মামলায় অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) মোবাইল কোর্ট সম্প্রতি এসব মামলা করে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ডিএমটিসিএলের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মতিঝিল স্টেশনে ট্রেন পৌঁছানোর পরও কিছু যাত্রী একই ট্রেনে অবস্থান করেন, যাতে আবার উত্তরা উত্তর অভিমুখে যাত্রা করতে পারেন। এ ঘটনায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সতর্কতামূলক জরিমানা হিসেবে আটটি মামলায় অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।ডিএমটিসিএলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুশফিকুর রহমান এসব মামলার ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। এ সময় এমআরটি পুলিশ ও আনসার সদস্যরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেন।

মেট্রোরেলের নির্ধারিত যাত্রাপথ ও স্টেশন পরিচালনার নিয়ম মেনে চলার গুরুত্ব তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনাটির কথা জানানো হয়। তবে বিজ্ঞপ্তিতে জরিমানার মোট অর্থের পরিমাণ বা কতজন যাত্রীকে এসব মামলায় দণ্ড দেওয়া হয়েছে, তা উল্লেখ করা হয়নি।এদিকে, কারওয়ান বাজার মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন এলাকায়ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে ডিএমটিসিএল। সকাল সাড়ে ১০টায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রফিকুল হকের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়।

অভিযান চলাকালে স্টেশনের আশপাশে থাকা অস্থায়ী দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। যাত্রীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে—এমন ভাসমান দোকানপাট ও অন্যান্য অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হয়।ডিএমটিসিএলের অভিযানের লক্ষ্য ছিল স্টেশন এলাকায় যাত্রীদের চলাচলের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা। স্টেশনের প্রবেশপথ ও আশপাশে অবৈধ স্থাপনা কিংবা ভাসমান দোকানের কারণে চলাচলে বাধা তৈরি হলে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়তে পারে। এ কারণে মেট্রোরেলের স্টেশন এলাকায় নিয়মশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যাত্রীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

পরোক্ষ ধূমপান ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ খাদ্য কর্তৃপক্ষের

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৫ অপরাহ্ণ
পরোক্ষ ধূমপান ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ খাদ্য কর্তৃপক্ষের

পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবা নিতে আসা নাগরিকদের সুরক্ষায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অধীন সব কার্যালয় শতভাগ তামাক ও ধূমপানমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এখন থেকে তামাক নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত জাতীয় নির্দেশিকা অনুসরণ করে এসব কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ঢাকা আহছানিয়া মিশন ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে ‘বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সব কার্যালয় শতভাগ তামাক ও ধূমপানমুক্ত ঘোষণা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ঘোষণা দেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মো. শফিকুল ইসলাম।

মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি প্রতিদিন সেবা নিতে আসা নাগরিকদেরও পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করা জরুরি। এ লক্ষ্যেই সব কার্যালয় শতভাগ তামাক ও ধূমপানমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এ উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা এবং অধূমপায়ীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে তামাক নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও এ পদক্ষেপ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী মো. শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, তামাকের ধোঁয়ায় প্রায় সাত হাজার ধরনের রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫০ ধরনের রাসায়নিক পদার্থ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর এবং বিভিন্ন মারাত্মক রোগ সৃষ্টি ও মৃত্যুর কারণ হতে পারে।তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে প্রতিবছর তামাকের কারণে প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি ধূমপান করেন না—এমন মানুষও পরোক্ষ ধূমপানের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস)-এর তথ্যে আচ্ছাদিত কর্মক্ষেত্রে ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং সরকারি কার্যালয়ে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ অধূমপায়ী নারী-পুরুষের পরোক্ষ ধূমপানের ঝুঁকিতে থাকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।শরিফুল ইসলাম বলেন, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ ধূমপান করেন। অন্যদিকে, প্রায় চার কোটি মানুষ নিজেরা ধূমপান না করেও পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়।

তিনি বলেন, পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকে মানুষকে রক্ষা করতে কর্মক্ষেত্রের পাশাপাশি সব জনসমাগমস্থল শতভাগ ধূমপানমুক্ত রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে অধূমপায়ীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সব কার্যালয় ধূমপানমুক্ত ঘোষণার উদ্যোগ অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানেও একই ধরনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে অনুপ্রেরণা জোগাতে পারে। এ সময় সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০২৬-এর বিধিমালা দ্রুত প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

তাঁদের মতে, বিধিমালা প্রণয়ন করা হলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের বিষয়ে আরও স্পষ্ট নির্দেশনা পাবে। বিধিমালা প্রণয়নে বিলম্ব হলে সংশোধিত আইনে অন্তর্ভুক্ত জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থাগুলোর সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাতেও দেরি হতে পারে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইন কর্মকর্তা ফেরদৌস আরাফাতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কর্তৃপক্ষের সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, অতিরিক্ত পরিচালক কাউছারুল ইসলাম সিকদার এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের সহকারী ডা. নায়লা পারভিন।এ ছাড়া আহছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িংয়ের সদস্য এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।কর্মক্ষেত্রে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের বিধিমালা দ্রুত প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার উদ্যোগ আরও কার্যকর করার আহ্বান জানান বক্তারা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

সীমান্তের বেড়ায় বিপন্ন গারো পাহাড়ের হাতিরা

শেরপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৮ অপরাহ্ণ
সীমান্তের বেড়ায় বিপন্ন গারো পাহাড়ের হাতিরা

শেরপুরের নালিতাবাড়ীর পানিহাটা সীমান্তে গারো পাহাড়ের বনাঞ্চল থেকে খাবার ও পানির সন্ধানে বেরিয়ে আসছে বন্য হাতির দল। ছোট-বড় মিলিয়ে একেক দলে দেখা মিলছে বহু হাতির। কেউ কাদাপানিতে শরীর ভেজাচ্ছে, কেউ শুঁড় দিয়ে পানি তুলছে, আবার মা হাতির পাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে শাবক। দূর থেকে দৃশ্যটি শান্ত মনে হলেও এসব হাতির জীবন এখন নানা ঝুঁকিতে ঘেরা।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের এ বনাঞ্চলে প্রায় ১৩০ থেকে ১৩৫টি বন্য হাতি আটকে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একসময় যেসব হাতি দুই দেশের বনভূমিতে নিয়মিত যাতায়াত করত, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ও গেট নির্মাণের কারণে তাদের চলাচল এখন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ অংশে বনভূমি সংকুচিত হওয়া, খাবারের অভাব এবং কৃষিজমি ও বসতি বাড়তে থাকায় হাতিরা লোকালয়ে ঢুকতে বাধ্য হচ্ছে। এতে মানুষ ও হাতি—উভয়ের জন্যই বাড়ছে বিপদের আশঙ্কা।

জামালপুরের বকশিগঞ্জ থেকে শেরপুর হয়ে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকায় হাতির ঐতিহ্যগত চলাচলের পথ রয়েছে। এসব পথ ধরে একসময় বাংলাদেশ ও ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বনাঞ্চলে যাতায়াত করত হাতির দল। সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে তাদের চলাচলের জন্য ৪৪টি গেট এবং নদী বা ছড়া পার হওয়ার ১১টি পথ ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মেঘালয় অংশের বিভিন্ন স্থানে কাঁটাতারের বেড়া ও গেট নির্মাণের ফলে হাতির চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি হাতির পুরোনো বিচরণক্ষেত্রের কিছু এলাকায় কাজুবাদামের চাষ শুরু হওয়ায় খাবার সংগ্রহের জায়গাও কমেছে। ফলে বাংলাদেশে প্রবেশের পর অনেক হাতির পক্ষে আগের পথে ভারতে ফিরে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক দশক আগে এ অঞ্চলে ৫০টির মতো হাতির বিচরণ ছিল। বর্তমানে বিভিন্ন হিসাবে সেই সংখ্যা বেড়ে ১৩০ থেকে ১৩৫টিতে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু হাতির সংখ্যা বাড়লেও তাদের নিরাপদ আবাসস্থল ও খাবারের জোগান একই অনুপাতে বাড়েনি। একটি এশীয় হাতির প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ কেজি খাবার প্রয়োজন হয়। বিপুল পরিমাণ খাবার ও পানি সংগ্রহের জন্য হাতিকে প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। কিন্তু গারো পাহাড়ের বনাঞ্চলে খাবার ও পানির সংকট দেখা দিলে হাতিরা জঙ্গল ছেড়ে ফসলের মাঠ ও লোকালয়ে চলে আসে। শুষ্ক মৌসুমে এ প্রবণতা আরও বেড়ে যায়।

পানিহাটা সীমান্তের বনেও হাতির দলকে আকাশমণি গাছের বাকল খেতে দেখা গেছে। বনের ভেতরে ছোট ছোট নালায় পানি থাকলেও খাবারের সংকট স্পষ্ট। বনাঞ্চলের ভেতরে ও আশপাশে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ এবং মানুষের বসতি বাড়ায় হাতির বিচরণের জায়গা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। বন্য হাতির আগমন স্থানীয় কৃষকদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাতের আঁধারে হাতির দল ধানক্ষেত ও অন্যান্য ফসলের জমিতে ঢুকে ফসল নষ্ট করে। কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাড়িঘরও। কয়েক মাসের শ্রম ও বিনিয়োগ এক রাতেই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় কৃষকেরা জমির চারপাশে তারের বেড়া দিচ্ছেন। কোথাও কোথাও এসব বেড়ায় অবৈধভাবে বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হচ্ছে।

শেরপুরের এক কৃষক জানান, হাতির হাত থেকে ফসল রক্ষার জন্য তিনি জমির চারপাশে বৈদ্যুতিক তার বসিয়েছেন। হাতি এলে বিদ্যুতের শক খেয়ে সরে যায় বলে তার ধারণা। অন্য কৃষকেরাও হাতি তাড়াতে মশাল জ্বালান, পটকা ফোটান কিংবা চিৎকার করে ভয় দেখান। কখনো হাতির দলকে তাড়াতে ধারালো অস্ত্র নিয়েও জড়ো হন স্থানীয় লোকজন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে হাতি ও মানুষের মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে। ফসল রক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে মানুষের পাশাপাশি বন্য প্রাণীর জীবনও বিপন্ন হচ্ছে।

হাতির চলাচলের পথ বন্ধ হওয়া ও বনভূমি সংকুচিত হওয়ার প্রভাব পড়ছে মানুষ ও প্রাণী—উভয়ের ওপর। লোকালয়ে ঢুকে হাতি ফসল নষ্ট করছে, বাড়িঘর ভাঙছে; অন্যদিকে মানুষের তৈরি বৈদ্যুতিক ফাঁদ ও হামলায় হাতির মৃত্যু হচ্ছে। কখনো হাতির আক্রমণেও প্রাণ হারাচ্ছেন মানুষ।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত এক যুগে শেরপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে অন্তত ৩৫টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। এসব মৃত্যুর পেছনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, গুলিবিদ্ধ হওয়া ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের মতো কারণ রয়েছে। মানুষ ও হাতির সংঘাত কমাতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, প্রাণীটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় মানুষকে সচেতন করার কাজ করছে এসব দল। তবে শুধু হাতি তাড়ানো কিংবা ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

গবেষকদের মতে, হাতি ও মানুষের সংঘাত কমাতে হলে হাতির আবাসস্থল রক্ষা, বনের ভেতরে খাবার ও পানির জোগান বাড়ানো এবং নিরাপদ চলাচলের পথ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে অবৈধ বৈদ্যুতিক ফাঁদ বন্ধ, ফসল রক্ষায় নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হাতির আগমন সম্পর্কে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার ব্যবস্থা প্রয়োজন। বনাঞ্চল ও হাতির বিচরণক্ষেত্র সংরক্ষণ করা গেলে খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে প্রবেশের প্রবণতা কমতে পারে। এতে কৃষকের ফসল ও বসতবাড়ি রক্ষার পাশাপাশি হাতির জীবনও নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে।

সীমান্তে আটকে পড়া হাতির সংকট নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টি ভারতের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রত্যাশা, হাতির ঐতিহ্যগত চলাচলের পথগুলো আবারও উন্মুক্ত করা হবে, যাতে প্রাণীগুলো দুই দেশের বনাঞ্চলে স্বাভাবিকভাবে বিচরণ করতে পারে।

বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। তাঁর মতে, ভারতের পক্ষ থেকে উদ্যোগ না নেওয়া হলে এ সংকটের সমাধান কঠিন হবে। দুই দেশের মধ্যে বাঘের চলাচলের উদাহরণ টেনে তিনি হাতির ক্ষেত্রেও সীমান্তের পথ উন্মুক্ত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। গারো পাহাড়ের হাতিরা শুধু বাংলাদেশের বনাঞ্চলের প্রাণী নয়; তাদের জীবনযাত্রা ও বিচরণ দুই দেশের বনভূমির সঙ্গে যুক্ত। তাই সীমান্তের পথ বন্ধ রেখে কিংবা শুধু বাংলাদেশের ভেতরে তাদের আটকে রেখে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। হাতির নিরাপদ চলাচলের পথ পুনরায় চালু করা এবং বাংলাদেশ অংশের বনভূমিকে তাদের জন্য উপযোগী করে তুলতে দুই দেশের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি