খুঁজুন
                               
, ,
           

মানবপাচারকারীদের ফাঁদে পড়ে লিবিয়ায় দুর্বিষহ জীবন

কূটনৈতিক প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ণ
মানবপাচারকারীদের ফাঁদে পড়ে লিবিয়ায় দুর্বিষহ জীবন

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন ১৭৪ বাংলাদেশি নাগরিক। অনিয়মিতভাবে লিবিয়ায় অবস্থান করা এসব নাগরিককে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সুযোগ করে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় তাদের প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি থেকে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে ১৭৪ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। তারা সবাই স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। উন্নত জীবনের আশায় বিদেশে পাড়ি জমালেও তাদের অনেকের জন্য সেই যাত্রা হয়ে ওঠে দুর্ভোগের।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রত্যাবাসিতদের অনেকে লিবিয়ায় অবস্থানকালে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মানবপাচারকারীদের প্রলোভনে পড়ে অনিয়মিত পথে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা কীভাবে বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে, তাদের অভিজ্ঞতা তারই উদাহরণ। দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের অভ্যর্থনা জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা। ফিরে আসা ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে আইওএমের পক্ষ থেকে প্রত্যেককে যাতায়াত খরচ, খাদ্যসামগ্রী ও প্রাথমিক চিকিৎসার সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে তাদের জন্য অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

মানবপাচার ও অবৈধ পথে বিদেশযাত্রার ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের নিজেদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতারণামূলক প্রস্তাব, অবৈধ অভিবাসনপথ এবং মানবপাচারকারীদের প্রলোভন সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিদেশযাত্রার আগে বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য যাচাই করলে এ ধরনের ঝুঁকি এড়ানো সহজ হতে পারে।

লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশিদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে।দেশে ফিরতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কে নতুন গতি, আসছে বড় বিনিয়োগ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কে নতুন গতি, আসছে বড় বিনিয়োগ

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে প্রায় ৬ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে জাপান। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৬৩৫ কোটি ডলার নয়, বরং ৬৩৫ কোটি মার্কিন ডলার—যা এক ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েনের সমান। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।

২৭ অক্টোবর টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তাকাইচি বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্বের ভিত্তিতে আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে গুরুত্ব দেন।বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি অঞ্চল বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগ। এ উদ্যোগকে আরও সম্প্রসারণের কথা জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমানের সঙ্গে একমত পোষণ করে তাকাইচি ‘সমৃদ্ধি ভাগাভাগি করার বিগ-বি’ ধারণা সামনে এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেন। এর মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য রয়েছে।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগানো গেলে তা বাংলাদেশের পাশাপাশি জাপানের অর্থনৈতিক স্বার্থেও ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাকাইচি। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ত্বরান্বিত করতে ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (ইপিএ) দ্রুত কার্যকর করার বিষয়েও জোর দেন তিনি। এ ছাড়া বাংলাদেশের বাজার ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়াতে নিকট ভবিষ্যতে জাপানি ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল পাঠানোর কথা জানান জাপানের প্রধানমন্ত্রী।

বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শিল্প উৎপাদন, জ্বালানি অবকাঠামো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বিনিয়োগের খাতভিত্তিক বণ্টন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বিস্তারিত তথ্য আলাদাভাবে জানা প্রয়োজন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও জাপানের নতুন কৌশলগত অংশীদারত্ব চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে এগিয়ে নেওয়া হবে। প্রথমত, আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন। দ্বিতীয়ত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করা। তৃতীয়ত, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি এবং প্রয়োজনীয় নিয়মনীতি প্রণয়ন। চতুর্থত, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতা বাড়ানো।

এই চারটি ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাকাইচি। অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি বাংলাদেশের নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে জাপান। সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে সরকারি উন্নয়ন সহায়তা বা ওডিএর আওতায় বাংলাদেশকে টহল জাহাজ দেওয়ার নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানান জাপানের প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া অফিসিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স (ওএসএ) কর্মসূচি এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মাধ্যমে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে।

বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, বঙ্গোপসাগরের গুরুত্ব এবং আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার সম্ভাবনা এ সহযোগিতাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। বৈঠক ও যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই দেশের সম্পর্ককে ভবিষ্যৎমুখী ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, শিল্পায়ন, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এর আগে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান সানায়ে তাকাইচি। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। আগামী পাঁচ বছরে এক ট্রিলিয়ন ইয়েনের বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, ব্যবসায়িক যোগাযোগ সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের পরবর্তী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ঘোষিত বিনিয়োগের বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করবে প্রকল্প নির্বাচন, ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত এবং বিনিয়োগ বাস্তবায়নের ওপর।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৪৩ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৪৩ জন

রাজধানী ঢাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন ঘটনায় ৩৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযানে মাদকদ্রব্য, বিস্ফোরকসদৃশ বস্তু, বিভিন্ন সরঞ্জাম, মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি একজন ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

২৭ অক্টোবর বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী। তিনি জানান, ২৬ অক্টোবর রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্যও উদ্ধার করা হয়েছে ডিএমপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মিরপুর বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ১৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ওয়ারী বিভাগে ৯৪ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৭৪ জন, গুলশান বিভাগে ৬২ জন, মতিঝিল বিভাগে ৪৮ জন, লালবাগ বিভাগে ৪২ জন, উত্তরা বিভাগে ৩৭ জন এবং রমনা বিভাগে ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোয়েন্দা বিভাগ গ্রেপ্তার করেছে আরও তিনজনকে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানের মাধ্যমে মোট ৫৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে ৩৮টি মামলা দায়েরের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।অভিযানকালে উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ১২১ পিস ইয়াবা, ২৮ গ্রাম হেরোইন, একটি অবিস্ফোরিত ককটেল এবং একটি বিস্ফোরিত ককটেলের অংশবিশেষ।

এ ছাড়া একটি সুইচ গিয়ার, একটি প্লায়ার্স, একটি অ্যান্টি-কাটার, একটি অটোরিকশা, ১৫টি মোবাইল ফোন ও ১৩টি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে একজন ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে কোন মামলায় কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।রাজধানীতে অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডিএমপির নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে বলে পুলিশের দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ডি-থ্রি ট্রফি: নিলাম শেষে কোন দল কতটা শক্তিশালী?

ক্রীড়া ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
ডি-থ্রি ট্রফি: নিলাম শেষে কোন দল কতটা শক্তিশালী?

নিলাম হয়েছে, উঠেছে ক্রিকেটারদের নাম, হয়েছে দরকষাকষিও—তবে কোথাও উচ্চারিত হয়নি টাকার অঙ্ক। বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন সংযোজন ডমেস্টিক থ্রি (ডি-থ্রি) ট্রফির খেলোয়াড় নিলাম ছিল এমনই ব্যতিক্রমী। এখানে ক্রিকেটারদের দলে নিতে ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লড়েছে টাকার বদলে পয়েন্ট নিয়ে। নিলাম শেষে দল গঠনের হিসাবে ফরচুন ও সিটিজেনস ব্যাংককে বেশ ভারসাম্যপূর্ণ মনে হলেও পিছিয়ে নেই ওয়ালটন ও একমিও।

রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত এই নিলামে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন ভারতের পরিচিত নিলাম সঞ্চালক চারু শর্মা। প্রচলিত ফ্র্যাঞ্চাইজি নিলামের আবহ থাকলেও এখানে খেলোয়াড় কেনাবেচার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে কাল্পনিক পয়েন্ট। প্রতিটি দলের জন্য বরাদ্দ ছিল ১০ কোটি পয়েন্ট।

১০ কোটি পয়েন্টে দল গড়ার চ্যালেঞ্জ
ডি-থ্রি ট্রফিতে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক নির্ধারণের প্রচলিত পদ্ধতির বদলে দল গঠনের জন্য পয়েন্টভিত্তিক নিলামের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। খেলোয়াড়দের আয় হবে ম্যাচ ফি থেকে। এদিকে নিলামে প্রতিটি দলকে ২২ জন করে ক্রিকেটার নিতে হয়েছে। ছয়টি দলের জন্য মোট ১৩২ জন ক্রিকেটার নিলাম থেকে দল পেয়েছেন। এর বাইরে ছয়জন আইকন ক্রিকেটারকে আগেই দলে নিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো।

নিলামে ক্রিকেটারদের পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছিল। ‘এ’ শ্রেণির ভিত্তিমূল্য ছিল ৪০ লাখ পয়েন্ট, ‘বি’ শ্রেণির ৩০ লাখ, ‘সি’ শ্রেণির ২০ লাখ, ‘ডি’ শ্রেণির ১০ লাখ এবং ‘ই’ শ্রেণির ৫ লাখ পয়েন্ট। তবে ভিত্তিমূল্যের চেয়ে বেশি পয়েন্টে ক্রিকেটারদের দলে নেওয়ার প্রতিযোগিতা নিলামকে জমিয়ে তোলে।

শরীফুল, তাসকিন ও তানজিদকে নিয়ে লড়াই
নিলামের সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর মধ্যে ছিলেন জাতীয় দলের পেসার শরীফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও ব্যাটার তানজিদ হাসান। সর্বোচ্চ ২ কোটি ৩০ লাখ পয়েন্টে শরীফুলকে দলে নেয় সিটিজেনস ব্যাংক। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২ কোটি ১০ লাখ পয়েন্টে তাসকিনকে নিয়েছে ওয়ালটন। আর ২ কোটি পয়েন্টে তানজিদকে দলে ভিড়িয়েছে ফরচুন।

এ ছাড়া ১ কোটি ৯৫ লাখ পয়েন্টে হাসান মাহমুদকে নিয়েছে ব্লুস্টার। একই পয়েন্টে সাইফ হাসানকে দলে নিয়েছে সেভেন রিংস সিমেন্ট। নিলামের এই দরগুলো থেকেই বোঝা গেছে, কোন ক্রিকেটারকে ঘিরে দলগুলোর আগ্রহ কতটা বেশি।

কোন দলের স্কোয়াড কেমন?
ফরচুন গ্রুপ: আইকন ক্রিকেটার তাওহীদ হৃদয়ের সঙ্গে দলটিতে রয়েছেন রিশাদ হোসেন, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন, তানজিদ হাসান, সাব্বির রহমান ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের মতো ক্রিকেটার। ব্যাটিং, স্পিন ও পেস—তিন বিভাগেই বিকল্প থাকায় দলটিকে ভারসাম্যপূর্ণ মনে হচ্ছে।

ওয়ালটন গ্রুপ: মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে রয়েছেন মুমিনুল হক, লিটন দাস, তাসকিন আহমেদ, নাসুম আহমেদ ও নাহিদুল ইসলামের মতো ক্রিকেটার। অভিজ্ঞ ব্যাটার, অলরাউন্ডার ও পেসারদের সমন্বয়ে দলটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।

ব্লুস্টার: আইকন নুরুল হাসানের সঙ্গে দলটিতে আছেন শেখ মেহেদী হাসান, হাসান মাহমুদ, নাহিদ রানা, এনামুল হক বিজয় ও আফিফ হোসেন। বোলিং আক্রমণে গতি ও বৈচিত্র্য যোগ করার মতো ক্রিকেটার থাকায় দলটি নজর কাড়তে পারে।

সেভেন রিংস সিমেন্ট: মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে তাইজুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, খালেদ আহমেদ, সাদমান ইসলাম, জাকির হাসান ও শামীম হোসেনের মতো ক্রিকেটার রয়েছেন। অভিজ্ঞতা ও বোলিংয়ের বৈচিত্র্য দলটির বড় শক্তি হতে পারে।

একমি গ্রুপ: আইকন মোসাদ্দেক হোসেনের সঙ্গে রয়েছেন নাঈম হাসান, আলিস আল ইসলাম, মাহমুদউল্লাহ, পারভেজ হোসেন, শাহাদাত হোসেন ও রাকিবুল হাসানের মতো ক্রিকেটার। অভিজ্ঞতার সঙ্গে তরুণদের সমন্বয় দলটির পারফরম্যান্সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সিটিজেনস ব্যাংক: আইকন মোহাম্মদ নাঈম শেখের সঙ্গে রয়েছেন শরীফুল ইসলাম, সাইফ হাসান, জাকের আলি, হাসান মুরাদ ও ইয়াসির আলীর মতো ক্রিকেটার। নিলামে সর্বোচ্চ পয়েন্টে শরীফুলকে নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাটিং ও বোলিংয়ে একাধিক বিকল্প পেয়েছে দলটি।

ম্যাচ ফির নতুন কাঠামো
ডি-থ্রি ট্রফিকে ঘিরে ঘরোয়া ক্রিকেটে ক্রিকেটারদের আয় বাড়ানোর উদ্যোগও নিয়েছে বিসিবি। ঘোষিত নতুন কাঠামো অনুযায়ী, চার দিনের ম্যাচে ম্যাচ ফি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৫০ ওভারের ম্যাচে ১ লাখ টাকা এবং টি-টোয়েন্টিতে ৮০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আইকন ক্রিকেটারসহ প্রতিটি দলে ২৩ জন থাকলেও বিসিবি স্কোয়াডের ১৫ জনের ম্যাচ ফি ও অন্যান্য খরচ বহন করবে। ১৫ জনের বেশি ক্রিকেটার রাখলে অতিরিক্ত সদস্যদের খরচ সংশ্লিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজিকে বহন করতে হবে।

দল পেয়েছেন কারা, বাদ পড়েছেন কারা?
নিলামে ২৭৫ জন ক্রিকেটারকে তোলা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ১৩২ জন ছয়টি দলের স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন। আইকন হিসেবে আগেই দল পাওয়া ছয়জনকে যুক্ত করলে মোট ১৩৮ জন ক্রিকেটার দল পেয়েছেন।

অন্যদিকে, ‘ই’ শ্রেণির অনেক ক্রিকেটারই দল পাননি। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন নাসির হোসেন, আলাউদ্দিন বাবু, আশিকুর রহমান শিবলী, সোহাগ গাজী ও সালাউদ্দিন শাকিল।

সব মিলিয়ে ডি-থ্রি ট্রফির নিলাম শুধু ক্রিকেটারদের দল পাওয়ার প্রতিযোগিতা ছিল না; বরং সীমিত পয়েন্টে কীভাবে কার্যকর স্কোয়াড গঠন করা যায়, সেটিও ছিল দলগুলোর জন্য বড় পরীক্ষা। কাগজে-কলমে ফরচুন, সিটিজেনস ব্যাংক ও ওয়ালটনকে শক্তিশালী মনে হলেও মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে কোন দল এগিয়ে থাকবে।

কালের আলো/এএএন/জেএন