খুঁজুন
                               
, ,
           

অপরাধের ঢেউ, পুলিশের ভেতরে নতুন হিসাব

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ
অপরাধের ঢেউ, পুলিশের ভেতরে নতুন হিসাব

অপরাধীর চোখে পুলিশের ভয় কমেছে। আর সাধারণ মানুষের চোখে কমেছে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সাম্প্রতিক চিত্র পর্যালোচনা করতে গিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের মর্নিং মিটিংয়ে এমন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা। তাঁদের আলোচনায় উঠে এসেছে চাঁদাবাজি, মাদক, সন্ত্রাস, জমি দখল, কিশোর গ্যাং থেকে শুরু করে একের পর এক সহিংস ঘটনার চিত্র। একই সঙ্গে উঠে এসেছে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা ফেরানোর তাগিদ।

  • সদর দপ্তরের বৈঠকে সাম্প্রতিক অপরাধের চিত্র নিয়ে তীব্র উদ্বেগ
  • চাঁদাবাজি-মাদক-সন্ত্রাস ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপের আলোচনা
  • ডিটেনশন ও প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ে জোর

মঙ্গলবারের (২৯ সেপ্টেম্বর) ওই বৈঠকে অপরাধ দমনে বিদ্যমান আইনি সীমাবদ্ধতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। ‘ক্রসফায়ার’ না থাকায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের ডিটেনশনে নেওয়ার প্রস্তাব আসে। দ্রুত জামিন পাওয়া আসামিদের ক্ষেত্রে তদন্তের দুর্বলতা চিহ্নিত করার পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা বাড়ানোর পরামর্শও দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুলিশের গোপনীয় শাখার উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির। উপস্থিত ছিলেন সব অতিরিক্ত আইজিপি, বিভিন্ন ইউনিটপ্রধান, ডিআইজি (ক্রাইম), ডিআইজি (প্রশাসন)সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বৈঠকের টেবিলে উঠে এল ‘ডিটেনশন’ প্রস্তাব
অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে কীভাবে আরও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়, আলোচনার একটি বড় অংশজুড়ে ছিল সেই প্রশ্ন। অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ‘ক্রসফায়ার’ নেই। তাই বিশেষ ক্ষমতা আইনের আওতায় অপরাধীদের ডিটেনশনে নেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

তবে ঢালাও আটকের বদলে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে মত দেন রেলওয়ে পুলিশের প্রধান ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড বা অপরাধে জড়িত থাকার নির্ভরযোগ্য তথ্যের ডেটাবেজ তৈরি করে আইন অনুযায়ী ডিটেনশন দেওয়া উচিত। সিআইডিপ্রধান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইনও ডিটেনশনকে কার্যকর একটি পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনার কথা বলেন।

গ্রেফতারের পরও কেন ফিরে আসে আসামি
পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক আসামি জামিনে বেরিয়ে আসছেন—বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ পায়। তবে আলোচনায় উঠে আসে এর ভেতরের আইনি ও তদন্তগত বাস্তবতাও। এক অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, আইনি বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি তদন্তে দুর্বলতার কারণেও আসামিরা দ্রুত জামিন পাচ্ছেন। অর্থাৎ শুধু গ্রেফতার বাড়ালেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না; মামলার তদন্ত, প্রমাণ সংগ্রহ ও চার্জশিটের মানও বাড়াতে হবে।

রেলওয়ে পুলিশের প্রধান ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান জানান, ফৌজদারি কার্যবিধির নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা বা বিচার শেষ না হলে আসামির জামিনের সুযোগ তৈরি হয়। ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও সেশন কোর্টে বিচার শেষ করার জন্য নির্ধারিত সময়সীমাও বাস্তবে নানা কারণে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

মাদক নিয়ে পুলিশের ভেতরেই নতুন ভাবনা
অপরাধের নেপথ্যে মাদকের ভূমিকা নিয়ে প্রায় একমত ছিলেন কর্মকর্তারা। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক কেনাবেচা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। মাদক থেকেই বহু অপরাধের জন্ম হচ্ছে। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

রেলওয়ে পুলিশের প্রধান ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে পুলিশের প্রত্যক্ষ কমান্ড বা অধীনে আনার প্রস্তাব দেন। তাঁর পরামর্শ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে একজন অতিরিক্ত আইজিপিকে ডিএনসির মহাপরিচালক করা যেতে পারে। প্রস্তাবটির মূল যুক্তি—মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মাঠপর্যায়ে যে অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা নিয়ে কাজ করে, সেটিকে আরও সমন্বিতভাবে কাজে লাগানো।

বাইরে চাপ, ভেতরেও ‘কনফিউশন’
প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার সদস্যের বিশাল বাহিনীকে ঘিরে অভ্যন্তরীণ অস্বস্তির কথাও বৈঠকে উঠে আসে। এক অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, নানা বিষয়ে সদস্যদের মধ্যে দ্বিধা বা ‘কনফিউশন’ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অডিও-ভিডিও প্রচার, নানা গুঞ্জন এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপের প্রভাব পড়ছে বাহিনীর মনোবলেও।

তাঁর মতে, পুরো পুলিশ বাহিনীকে ‘স্ট্রিমলাইনিং’ বা সুসংগঠিত করা এখন জরুরি। একদিনে অলৌকিক পরিবর্তন আসবে না। স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং নীতিগত সংস্কার প্রয়োজন। এই বক্তব্যে পুলিশের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা ও মনোবলকে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

যে ঘটনাগুলো নাড়া দিয়েছে সদর দপ্তরকে
মর্নিং মিটিংয়ে সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি আলোচিত ঘটনাও সামনে আনা হয়। রাড্ডা ম্যাটার্নাল অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ-ফ্যামিলি প্ল্যানিং সেন্টারে হামলা, মোহাম্মদপুরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র মব হামলা, দক্ষিণ মানিকদীতে নিউগিনি প্রোপার্টিজে হামলা, সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর এবং আদাবরে বাড়ি দখলের চেষ্টা—এসব ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়।

এর সঙ্গে যুক্ত হয় ২৫ মামলার আসামি মাদক কারবারি ‘পিচ্চি রাজা’র প্রিজনভ্যান থেকে পালিয়ে যাওয়া, চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষ, লালমাইয়ে স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা, মিরপুরে চলন্ত বাসে অগ্নিসংযোগ এবং ময়মনসিংহ ও নাটোরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ। ঘটনাগুলো আলাদা হলেও কর্মকর্তাদের আলোচনায় একটি অভিন্ন প্রশ্নই সামনে আসে—মাঠপর্যায়ে পুলিশের প্রতিরোধমূলক উপস্থিতি কতটা কার্যকর?

সংখ্যার চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে মানুষের আস্থা
বৈঠকে কর্মকর্তারা মনে করেন, শুধু ছিনতাই-ডাকাতির সংখ্যা কিংবা গ্রেফতারের হিসাব দিয়ে পুলিশের সাফল্য মাপলে বাস্তব চিত্র ধরা পড়বে না। এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, পুলিশি সেবার মূল ভিত্তি জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক। মানুষের অসন্তোষ বা ভুল বোঝাবুঝি কমাতে হলে সরাসরি জনসংযোগ বাড়াতে হবে। পুলিশের কাজের স্বচ্ছতা বাড়লে এবং মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি হলে জনমনে স্বস্তিও ফিরবে। এই জায়গাটিই বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাগুলোর একটি—আইনশৃঙ্খলা শুধু অপরাধী ধরার বিষয় নয়; নাগরিকের মনে নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করাও পুলিশের দায়িত্বের অংশ।

আইজিপির বার্তা—পরিচয় নয়, অপরাধই বিবেচ্য
মর্নিং মিটিংয়ের পর অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা বা ক্রাইম কনফারেন্সেও অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের বার্তা দেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির। মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, অপরাধীর দলীয় পরিচয় বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই। অপরাধীর একমাত্র পরিচয়—সে অপরাধী। কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।

গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের বডি-ওর্ন ক্যামেরার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। অতিরিক্ত আইজি সাইদুর রহমান কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ছায়া আছে কি না, তা খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

সামনে শুধু অপরাধী নয়, আস্থার লড়াইও
পুলিশ সদর দপ্তরের বৈঠকের আলোচনায় যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জটি একমাত্র অপরাধীর বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তদন্তের দুর্বলতা কাটানো, আইনি প্রক্রিয়াকে কার্যকর করা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, বাহিনীর ভেতরের সমন্বয় এবং জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক—সবকিছুকেই একই সূত্রে আনতে হবে।

অপরাধীর কাছে পুলিশের ভয় এবং সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশের ওপর আস্থা—দুটিই আইনশৃঙ্খলার নেপথ্য শক্তি। এই দুই জায়গায় ঘাটতি তৈরি হলে অপরাধের বিস্তার ঠেকানো যেমন কঠিন হয়, তেমনি পুলিশের প্রতিটি পদক্ষেপও পড়ে জনআস্থার কঠিন পরীক্ষায়। সদর দপ্তরের টেবিলে সেই পরীক্ষার কথাই এবার সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/এমএইচ/এমকে

সার সংকট নিয়ে আন্দোলন পরিকল্পিত: মীর শাহে আলম

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
সার সংকট নিয়ে আন্দোলন পরিকল্পিত: মীর শাহে আলম

কুড়িগ্রাম: জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন—এমন আসনগুলোতেই কৃত্রিম সার সংকট তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো কুড়িগ্রাম সফরে গিয়ে জেলা সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব এলাকায় বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, সেসব এলাকায় সারের সংকট হয়নি এবং সার নিয়ে কোনো আন্দোলনও হয়নি। তাঁর দাবি, জামায়াতের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এমন এলাকাগুলোতেই পরিকল্পিতভাবে সারের সংকট তৈরি করে আন্দোলন করা হয়েছে।

কুড়িগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সার সংকট নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, যে সময়ে সার সংকটের কথা বলা হয়েছিল, তখন কোথাও প্রকৃত সংকট ছিল না। তাঁর অভিযোগ, কৃত্রিম সংকট তৈরির সঙ্গে একটি রাজনৈতিক দল এবং আগের সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া কিছু ডিলার জড়িত ছিলেন।

সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং অনিয়ম রোধে সরকার প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে নতুন সার ডিলার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে দেশের চাহিদার তুলনায় দেড়গুণ বেশি সার আমদানির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ৬ জুনের মধ্যে নির্বাচন শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেল নিয়ে বিরোধী দলের কর্মসূচির সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কর্মসূচির নাম ‘লং মার্চ’ না হয়ে ‘রোড মার্চ’ হওয়া উচিত ছিল। তাঁর ভাষ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের সমস্যা সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। সাময়িক বিদ্যুৎ ঘাটতির জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুঃখ প্রকাশ করে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ভক্তদের যুদ্ধ, বন্ধুত্বে অটুট জোভান-তৌসিফ

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ
ভক্তদের যুদ্ধ, বন্ধুত্বে অটুট জোভান-তৌসিফ

পছন্দের অভিনয়শিল্পীকে সেরা প্রমাণ করতে ভক্তদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তর্ক-বিতর্ক নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ কিংবা পোস্টের মন্তব্যে প্রিয় তারকাকে এগিয়ে রাখতে অন্য তারকার ভক্তদের সঙ্গে তর্কে জড়ান অনেকেই। কখনো সেই তর্ক সীমা ছাড়িয়ে কটূক্তি কিংবা ঝগড়াতেও গড়ায়।

তবে এবার যে দুই তারকাকে ঘিরে এমন ভার্চুয়াল প্রতিদ্বন্দ্বিতা, তারা নিজেরাই একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তারা হলেন জনপ্রিয় অভিনেতা ফারহান আহমেদ জোভান ও তৌসিফ মাহবুব। অভিনয়জীবনের শুরু থেকেই একসঙ্গে পথ চলছেন দুজন। ভক্তদের এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেই নিজেদের বন্ধুত্বের জায়গাটি মনে করিয়ে দিয়েছেন জোভান।

‘যুদ্ধটা আপনাদের, বন্ধুত্বটা আমাদের’

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর)  দুপুরে তৌসিফ মাহবুবের সঙ্গে একটি ছবি নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন জোভান। ছবির সঙ্গে ভক্তদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘আমাদের দুজনকে নিয়ে ভক্তদের নিজেদের মধ্যে এত ঝগড়াঝাঁটি, এত ভার্চুয়াল মারামারি করার আগে একটা জিনিস জেনে রাখেন, আমরা একে অপরকে যতটা সম্মান করি, আপনারা একে অপরকে ততটা সম্মান করেন না।’

পরে নিজের বক্তব্য আরও স্পষ্ট করে জোভান বলেন, ‘যুদ্ধটা আপনাদের, বন্ধুত্বটা আমাদের। ভালোবাসাটা আমাদের। আপনারা ফ্যান হয়ে একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধ করেন, আর আমরা প্রতিযোগী হয়ে একসঙ্গে আড্ডা দিই।’

তার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ভক্তদের পারস্পরিক দ্বন্দ্বের বিপরীতে দুই অভিনেতার বন্ধুত্বের বিষয়টি সামনে এসেছে।

১৩ বছরের বন্ধুত্ব

জোভান ও তৌসিফের বন্ধুত্ব বেশ পুরোনো। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে নির্মাতা রেদওয়ান রনির পরিচালনায় ‘ঝালমুড়ি’ ধারাবাহিক নাটকে একসঙ্গে অভিনয় করেন তারা। এরপর নিয়মিত বিভিন্ন কাজে একসঙ্গে যুক্ত হতে হতে গড়ে ওঠে তাদের বন্ধুত্ব।

দেখতে দেখতে সেই সম্পর্কের বয়স প্রায় ১৩ বছর। দুজনের ব্যস্ততা বেড়েছে, কাজের পরিধিও বদলেছে; কিন্তু বন্ধুত্বে তার প্রভাব পড়েনি। সুযোগ পেলেই এখনো একসঙ্গে সময় কাটান, আড্ডা দেন।

এর আগে নিজেদের বন্ধুত্ব নিয়ে জোভান বলেছিলেন, ব্যস্ততা যতই থাকুক, বন্ধুদের সঙ্গে মাঝেমধ্যে দেখা হওয়া জরুরি। বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটালে মন ভালো হয়ে যায়। তাদের আড্ডায় ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত নানা বিষয় নিয়ে খুনসুটি চলতে থাকে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

মন্তব্যে ফুটে উঠল ভক্তদের দ্বন্দ্ব

জোভানের সাম্প্রতিক পোস্টের মন্তব্যেও দেখা গেছে সেই তারকা-প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র। একজন মন্তব্য করেছেন, ‘জোভান ভাই আমার কাছে সেরা।’ এর জবাবে আরেকজন লিখেছেন, ‘তৌসিফ ভাই সেরা।’

রাজীব অভি নামের একজন মন্তব্যে লিখেছেন, ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ বা পোস্টে ভক্তরা যেভাবে একে অপরের সঙ্গে ঝগড়া করেন, বাস্তবে তারকারা নিজেরাই একসঙ্গে আড্ডা দেন।

সব মিলিয়ে জোভানের বক্তব্যে উঠে এসেছে তারকা-ভক্তদের সম্পর্কের একটি পরিচিত বাস্তবতা—পছন্দের শিল্পীকে সমর্থন করা এক বিষয়, আর সেই সমর্থনকে কেন্দ্র করে অন্যের সঙ্গে বিরোধে জড়ানো আরেক বিষয়। দুই অভিনেতার দীর্ঘ বন্ধুত্বের বার্তাটিও তাই স্পষ্ট—পর্দায় প্রতিযোগিতা থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কে থাকতে পারে পারস্পরিক সম্মান ও বন্ধুত্ব।

কালের আলো/এসএ

বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে ঢাবি-বুয়েটের জায়গা ১২০০-এর পর

শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে ঢাবি-বুয়েটের জায়গা ১২০০-এর পর

যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশন (THE) প্রকাশ করেছে ‘ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং ২০২৭’। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এবারের তালিকায় বিশ্বের ১১৮টি দেশ ও অঞ্চলের ২ হাজার ২৯৭টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে এবার মোট ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয় মূল র‍্যাঙ্কিংয়ে জায়গা পেয়েছে। এর মধ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ৮০১-১০০০ ব্যান্ডে নেই। দুটিই ১০০১-১২০০ ব্যান্ডে রয়েছে।

৮০১-১০০০ ব্যান্ডে চার বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ৮০১ থেকে ১০০০ ব্যান্ডে যৌথভাবে রয়েছে চারটি প্রতিষ্ঠান—আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি), ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ)।

এর পরের ১০০১-১২০০ ব্যান্ডে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, আইইউবিএটি, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

THE-এর পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় পেজেও ২০২৭ সালের র‍্যাঙ্কিংয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যান্ড দেখানো হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ১২০১-১৪০০ ব্যান্ডে রয়েছে।

১২০০-এর পর আরও ১৩ বিশ্ববিদ্যালয়

১২০১ থেকে ১৪০০ ব্যান্ডে রয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

১৪০১ থেকে ১৬০০ ব্যান্ডে রয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

এ ছাড়া ১৮০১ থেকে ২০০০ ব্যান্ডে রয়েছে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি ও মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি।

১০টি বিশ্ববিদ্যালয় ‘রিপোর্টার’ তালিকায়

র‍্যাঙ্কিংয়ে অংশ নিলেও মূল র‍্যাঙ্ক পাওয়ার প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না করায় বাংলাদেশের আরও ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় মূল তালিকায় র‍্যাঙ্ক পায়নি। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।

THE-এর পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ না করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মূল র‍্যাঙ্কিংয়ের বাইরে ‘রিপোর্টার’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হতে পারে।

যে সূচকে মূল্যায়ন

টাইমস হায়ার এডুকেশনের ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিংয়ে শিক্ষাদান, গবেষণার পরিবেশ, গবেষণার মান, শিল্পখাতের সঙ্গে সংযোগ এবং আন্তর্জাতিক সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন সূচক বিবেচনা করা হয়। ২০২৭ সালের সংস্করণে নতুন ও আরও বিস্তারিত র‍্যাঙ্কিং ব্যান্ড ব্যবহার করা হয়েছে।

এবারের বৈশ্বিক তালিকায় যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় টানা ১১তমবারের মতো প্রথম অবস্থান ধরে রেখেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটি।

কালের আলো/এসএ